(২৬) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৩৩৬৮-৪২১৬), সর্বমোট হাদিসঃ ৮৪৯টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ১২৯টি]



4087 OK

(৪০৮৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৭৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا الْعَوَّامُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مُحَمَّدٍ مَوْلًى لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يَمُوتُ لَهُمَا ثَلَاثَةٌ مِنْ الْوَلَدِ لَمْ يَبْلُغُوا الْحِنْثَ إِلَّا كَانُوا لَهُ حِصْنًا حَصِينًا مِنْ النَّارِ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنْ كَانَ اثْنَيْنِ قَالَ وَإِنْ كَانَا اثْنَيْنِ فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أُقَدِّمْ إِلَّا اثْنَيْنِ قَالَ وَإِنْ كَانَا اثْنَيْنِ قَالَ فَقَالَ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ أَبُو الْمُنْذِرِ سَيِّدُ الْقُرَّاءِ لَمْ أُقَدِّمْ إِلَّا وَاحِدًا قَالَ فَقِيلَ لَهُ وَإِنْ كَانَ وَاحِدًا فَقَالَ إِنَّمَا ذَاكَ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الْأُولَى


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার তিনটি সন্তান বয়ঃসন্ধির আগেই মারা যায়, তবে তারা তার জন্যে জাহান্নামের আগুনের প্রতিবন্ধক হবে”। বলা হলো যে, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যদি দুইজন সন্তান হয়?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “দুইজন সন্তান হলেও।” আবূ যার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আমি আমার আগে শুধু দুইজন সন্তানকে পাঠিয়েছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদিও তারা দুইজন সন্তান হয়।” বিশিষ্ট আলেমদের নেতা উবাই ইবনে কাব আবু-মুন্দির বললেন, “আমি কেবল একজন সন্তানকে পাঠিয়েছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদিও একজন সন্তান হয় তবুও। এই পুরস্কার কেবল মাত্র ঐ ব্যক্তি পাবে, যে ব্যক্তি বিপদের সময় প্রথম ধাক্কায় ধৈর্যশীল হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৮৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4088 OK

(৪০৮৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫২৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَنْبَأَنَا الْعَوَّامُ حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيُّ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَدُورُ رَحَى الْإِسْلَامِ عَلَى رَأْسِ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ أَوْ سِتٍّ وَثَلَاثِينَ أَوْ سَبْعٍ وَثَلَاثِينَ فَإِنْ هَلَكُوا فَسَبِيلُ مَنْ هَلَكَ وَإِنْ بَقُوا يَقُمْ لَهُمْ دِينُهُمْ سَبْعِينَ سَنَةً


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ইসলামের বিজয়ের সময়সীমা পঁয়ত্রিশ বছর (৩৫) বা ছত্রিশ বছর (৩৬) বা সাঁইত্রিশ বছর (৩৭) ধরে চলতে থাকবে। তারপর যদি তারা (বিচ্যুত হওয়ার পরে) ধ্বংস হয়ে যায়, তবে তাদেরও ঐ পরিণতিই হবে যারা তাদের পূর্বে ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু তারা যদি (সঠিক পথে) অবিচল থাকে, তাহলে তারা সত্তর বছর (৭০) ভালো অবস্থায় থাকবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৮৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4089 OK

(৪০৮৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৮৬৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ السُّدِّيِّ أَنَّهُ سَمِعَ مُرَّةَ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ قَالَ لِي شُعْبَةُ وَرَفَعَهُ وَلَا أَرْفَعُهُ لَكَ يَقُولُ فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ وَمَنْ يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ قَالَ لَوْ أَنَّ رَجُلًا هَمَّ فِيهِ بِإِلْحَادٍ وَهُوَ بِعَدَنِ أَبْيَنَ لَأَذَاقَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَذَابًا أَلِيمًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ ٱلَّذِي جَعَلۡنَٰهُ لِلنَّاسِ سَوَآءً ٱلۡعَٰكِفُ فِيهِ وَٱلۡبَادِۚ وَمَن يُرِدۡ فِيهِ بِإِلۡحَادِۭ بِظُلۡمٖ نُّذِقۡهُ مِنۡ عَذَابٍ أَلِيمٖ٢٥
নিশ্চয় যারা আল্লাহকে অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দেয় ও পবিত্র মসজিদ যেতে বাধা দেয়, যে মসজিদকে আমি সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের ও বহিরাগত সকল মানুষের জন্যে সমভাবে বানিয়েছি। আর যে কেউ ঐ মসজিদে অন্যায় ভাবে কোনো ধর্মদ্রোহী কাজ করতে চায়, তাহলে আমি তাকে যন্ত্রানাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাবো। (২২. আল হাজ্জ্ব : ২৫)

কোরআনের এই আয়াতের তাফসীরে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, “যে ব্যক্তি মক্কার হারামে নাস্তিকতা করতে চায়, যদিও সে আদান আবিয়ানে বসবাস করে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৮৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4090 OK

(৪০৯০)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬২৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِيلَ لَهُ كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَرَكَ مِنْ أُمَّتِكَ فَقَالَ إِنَّهُمْ غُرٌّ مُحَجَّلُونَ بُلْقٌ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার কেউ একজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো যে, “আপনার উম্মতের মধ্যে যারা আপনাকে দেখেনি, তাদেরকে আপনি কিয়ামতের দিন কিভাবে চিনবেন?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “কিয়ামতের দিন ওযুর চিহ্নের কারণে তাদের মুখমন্ডল ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উজ্জ্বল হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৯০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4091 OK

(৪০৯১)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫২৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَنْبَأَنَا فُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ الْجُهَنِيُّ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَصَابَ أَحَدًا قَطُّ هَمٌّ وَلَا حَزَنٌ فَقَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ نَاصِيَتِي بِيَدِكَ مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ أَوْ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي وَنُورَ صَدْرِي وَجِلَاءَ حُزْنِي وَذَهَابَ هَمِّي إِلَّا أَذْهَبَ اللَّهُ هَمَّهُ وَحُزْنَهُ وَأَبْدَلَهُ مَكَانَهُ فَرَجًا قَالَ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا نَتَعَلَّمُهَا فَقَالَ بَلَى يَنْبَغِي لِمَنْ سَمِعَهَا أَنْ يَتَعَلَّمَهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন ব্যক্তি দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা বা বিপদে পতিত হলে অথবা শাসকের অত্যাচারের ভয়ে শংকিত হলে, সে যেনো নিম্নোক্ত বাক্যে দোয়া করে, তবে আল্লাহ তার কষ্ট ও শোক দূর করে দিবেন এবং আনন্দে প্রতিস্থাপন করবেন।” বলা হলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমরা কি এটা (মন দিয়ে) শিখে নিবো না?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “অবশ্যই। যারা এটা শুনেছে তাদের উচিত (মন দিয়ে) এটা শেখা।”


اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ نَاصِيَتِي بِيَدِكَ مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ أَوْ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي وَنُورَ صَدْرِي وَجِلَاءَ حُزْنِي وَذَهَابَ هَمِّي


“হে আল্লাহ, আমি তোমার বান্দা, তোমার বান্দার পুত্র, তোমার দাসীর পুত্র; আমার অগ্রভাগ তোমার কাছে রয়েছে। আমার উপর আপনার আদেশ চিরকালের জন্য কার্যকর এবং আমার উপর আপনার আদেশ ন্যায়সঙ্গত, আমি আপনার কাছে আপনার নাম দিয়েছি, অথবা আপনি আপনার কোন সৃষ্টিকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনি আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন। আপনার কাছে অদৃশ্যের জ্ঞানে সংরক্ষণ করেছি, যে আপনি কুরআনকে আমার হৃদয়ের জীবন এবং আমার বুকের আলো এবং আমার দুঃখের জন্য বিদায় এবং আমার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ করে তুলুন।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৪০৯১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4092 OK

(৪০৯২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا فَرْقَدٌ السَّبَخِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ يَزِيدَ أَنَّهُ سَمِعَ مَسْرُوقًا يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ إِنِّي كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا وَنَهَيْتُكُمْ أَنْ تَحْبِسُوا لُحُومَ الْأَضَاحِيِّ فَوْقَ ثَلَاثٍ فَاحْبِسُوا وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ الظُّرُوفِ فَانْبِذُوا فِيهَا وَاجْتَنِبُوا كُلَّ مُسْكِرٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি আগে তোমাদেরকে কবরস্থানে যেতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু এখন আমি তোমাদেরকে অনুমতি দিচ্ছি, তোমরা কবরস্থানে যাও। আমি আগে তোমাদেরকে তিন দিনের বেশি কোরবানির গোশত, তোমাদের কাছে রাখতে নিষেধ করেছি। কিন্তু এখন আমি তোমাদেরকে অনুমতি দিচ্ছি, তোমরা তা রাখতে পারো। এছারাও আমি আগে তোমাদেরকে বিভিন্ন পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু এখন আমি তোমাদেরকে অনুমতি দিচ্ছি, তোমরা তা ব্যবহার করতে পারো। তোমরা নাবীজ পান করতে পারো, তবে তোমরা সমস্ত নেশা থেকে দূরে থাকো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৯২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4093 OK

(৪০৯৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৮৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ زَاذَانَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً فِي الْأَرْضِ سَيَّاحِينَ يُبَلِّغُونِي مِنْ أُمَّتِي السَّلَامَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর কিছু ফেরেশতা রয়েছে, যারা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং আমার প্রত্যেক উম্মতের সালাম আমাকে পৌঁছে দিচ্ছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৯৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4094 OK

(৪০৯৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاذٌ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ حَدَّثَنِي مُسْلِمٌ الْبَطِينُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ قَالَ مَا أَخْطَأَنِي أَوْ قَلَّمَا أَخْطَأَنِي ابْنُ مَسْعُودٍ خَمِيسًا قَالَ ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَشِيَّةَ خَمِيسٍ إِلَّا أَتَيْتُهُ قَالَ فَمَا سَمِعْتُهُ لِشَيْءٍ قَطُّ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا كَانَ ذَاتَ عَشِيَّةٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فَنَكَسَ قَالَ فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ قَائِمٌ مَحْلُولٌ أَزْرَارُ قَمِيصِهِ قَدْ اغْرَوْرَقَتْ عَيْنَاهُ وَانْتَفَخَتْ أَوْدَاجُهُ فَقَالَ أَوْ دُونَ ذَاكَ أَوْ فَوْقَ ذَاكَ أَوْ قَرِيبًا مِنْ ذَاكَ أَوْ شَبِيهًا بِذَاكَ


হজরত আমর ইবনে মায়মন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এমনটি খুব কমই ঘটেছে যে, বৃহস্পতিবার এসেছে এবং আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেদমতে উপস্থিত হইনি। এই সমাবেশে আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনিনি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (এই সমাবেশে তিনি হাদীস বর্ণনা করেননি) একথা বলার পর তিনি মাথা নতো করলেন। আমি দেখলাম যে, তারা উঠে দাঁড়িয়েছে, তার জামার বোতাম খোলা ছিলো, চোখ ফুলে গেলো এবং শিরা ফুলে গেলো এবং তারা বললো যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেয়ে কম বলেছেন, এর চেয়ে বেশি বলেছেন বা এর কাছাকাছি কিছু বলেছেন, অথবা এর অনুরূপ কিছু বলেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৯৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4095 OK

(৪০৯৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫৩৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ عَنِ النَّزَّالِ بْنِ سَبْرَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَجُلًا يَقْرَأُ آيَةً وَسَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرَهَا فَأَتَيْتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَغَيَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ عَرَفْتُ فِي وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكَرَاهِيَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كِلَاكُمَا مُحْسِنٌ إِنَّ مَنْ قَبْلَكُمْ اخْتَلَفُوا فِيهِ فَأَهْلَكَهُمْ قَالَ شُعْبَةُ وَحَدَّثَنِي مِسْعَرٌ عَنْهُ وَرَفَعَهُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَا تَخْتَلِفُوا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমি এক ব্যক্তিকে সূরা আহকাফ পাঠ করতে শুনলাম। অথচ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অন্যভাবে তা পড়তে শুনেছি। আমি তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে গেলাম। তাঁকে এ খবর জানালাম। আমি তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারায় বিরক্তির ভাব লক্ষ্য করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা দুজনেই শুদ্ধ ভাবে পড়েছো। এ নিয়ে তোমরা কলহ বিবাদ করো না। তোমাদের পূর্বেকার জাতিগুলো তাদের পারস্পরিক বিভেদের জন্যেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৯৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4096 OK

(৪০৯৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৮৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ الْجَمِيعِ تَفْضُلُ عَلَى صَلَاةِ الرَّجُلِ وَحْدَهُ خَمْسَةً وَعِشْرِينَ ضِعْفًا كُلُّهَا مِثْلُ صَلَاتِهِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত, একাকী নামাজ পড়ার চেয়ে পঁচিশ (২৫) গুণ বেশি। আর তার প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাযের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৯৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4097 OK

(৪০৯৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৭১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَجُلًا أَصَابَ مِنْ امْرَأَةٍ قُبْلَةً فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُهُ عَنْ كَفَّارَتِهَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِي هَذِهِ فَقَالَ لِمَنْ عَمِلَ كَذَا مِنْ أُمَّتِي


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমু দিলো। অতঃপর অনুতপ্ত হয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কাফফারা সম্পর্কে জানতে চাইলো। সে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি বাগানে একজন মহিলাকে পেলাম। আমি ওকে আমার দিকে টেনে নিয়ে আমার বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছি। ব্যভিচার ছাড়া সব কিছুই করেছি, এখন আমার কি করা উচিত?” তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করলেন,

وَأَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ طَرَفَيِ ٱلنَّهَارِ وَزُلَفٗا مِّنَ ٱلَّيۡلِۚ إِنَّ ٱلۡحَسَنَٰتِ يُذۡهِبۡنَ ٱلسَّيِّـَٔاتِۚ ذَٰلِكَ ذِكۡرَىٰ لِلذَّٰكِرِينَ١١٤
হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ফজর ও আসর আর মাগরীব ও এশার সময় নামায প্রতিষ্ঠিত করুন। নিশ্চয় ভালো কাজ, মন্দ কাজকে দূর করে দেয়। এ কুরআন তাদের জন্যে একটি স্মরণীয় উপদেশ, যারা আল্লাহকে স্মরণ করে। (১১. হুদ : ১১৪)

লোকটি জিজ্ঞেস করলো, “হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই আদেশ কি শুধু মাত্র আমার জন্যে?” রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “না। বরং এই বিধান আমার উম্মতের এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যে, যে ব্যক্তি এ ধরনের কাজ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৯৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4098 OK

(৪০৯৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৮৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْهَيْثَمِ أَبُو قَطَنٍ حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَتَى لَيْلَةُ الْقَدْرِ قَالَ مَنْ يَذْكُرُ مِنْكُمْ لَيْلَةَ الصَّهْبَاوَاتِ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَنَا بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي وَإِنَّ فِي يَدِي لَتَمَرَاتٍ أَسْتَحِرُ بِهِنَّ مُسْتَتِرًا بِمُؤْخِرَةِ رَحْلِي مِنْ الْفَجْرِ وَذَلِكَ حِينَ طَلَعَ الْقَمَرُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদা এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, “লাইলাতুল কদর কখন?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের মধ্যে কার সেই রাতের কথা মনে আছে, যে রাতে আকাশ লাল ও সাদা হয়ে বেশি উজ্বল হয়ে গিয়েছিলো?” আমি বললাম, “আমার পিতামাতা আপনার জন্যে কোরবান হোক! আমার ঐ রাতের কথা মনে আছে। আমার হাতে তখন কিছু খেজুর ছিলো। আমি গোপনে আমার বাড়ির পিছনে ঐ খেজুর দিয়ে সেহরী খাচ্ছিলাম, ভোর হওয়ার আগেই সেগুলি খাওয়ার জন্যে এবং তখনই চাঁদ উঠেছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৯৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4099 OK

(৪০৯৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫৩৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ قَالَ لَا تَصْلُحُ سَفْقَتَانِ فِي سَفْقَةٍ وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَعَنَ اللَّهُ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَشَاهِدَهُ وَكَاتِبَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একটি বিষয়ে দুইটি চুক্তি করা বৈধ নয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক ঐ ব্যক্তির উপর, যে সুদ খায়, যে সুদ প্রদান করে, যে সুদ প্রত্যক্ষ করে (সুদ লিখায় সাক্ষী দেয়) এবং যে সুদ লিখে রাখে। (অর্থাৎ, সুদখোর, সুদদাতা, সুদের সাক্ষী, সুদের লেখক।)” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৯৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4100 OK

(৪১০০)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৭৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قُبَّةٍ نَحْوٌ مِنْ أَرْبَعِينَ فَقَالَ أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا رُبُعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ قُلْنَا نَعَمْ قَالَ أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ قُلْنَا نَعَمْ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ تَكُونُوا نِصْفَ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَذَاكَ أَنَّ الْجَنَّةَ لَا يَدْخُلُهَا إِلَّا نَفْسٌ مُسْلِمَةٌ وَمَا أَنْتُمْ فِي الشِّرْكِ إِلَّا كَالشَّعْرَةِ الْبَيْضَاءِ فِي جِلْدِ ثَوْرٍ أَسْوَدَ أَوْ السَّوْدَاءِ فِي جِلْدِ ثَوْرٍ أَحْمَرَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমরা প্রায় চল্লিশ জনের মতো একটি তাঁবুতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর সাথে অবস্থান করছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে?” আমরা বললাম, “হ্যাঁ।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরা জান্নাতীদের এক তৃতীয়াংশ হবে?” আমরা বললাম, “হ্যাঁ।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি আশা করি যে, অবশ্যই তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। কেননা, কেবল মাত্র মুসলমানরাই সেখানে প্রবেশের অনুমতি লাভ করবে। আর মুশরিকদের মধ্যে তোমাদের অবস্থান হবে, যেমন কাল ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশম অথবা লাল ষাঁড়ের গায়ে একটি কালো পশমের মতো। কেয়ামতের দিন জান্নাতীদের একশত বিশটি দল হবে। যার মধ্যে শুধুমাত্র তোমাদেরই আটটি দল থাকবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১০০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4101 OK

(৪১০১)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬২৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِيلَ لَهُ كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَرَكَ مِنْ أُمَّتِكَ فَقَالَ إِنَّهُمْ غُرٌّ مُحَجَّلُونَ بُلْقٌ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার কেউ একজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো যে, “আপনার উম্মতের মধ্যে যারা আপনাকে দেখেনি, তাদেরকে আপনি কিয়ামতের দিন কিভাবে চিনবেন?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “কিয়ামতের দিন ওযুর চিহ্নের কারণে তাদের মুখমন্ডল ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উজ্জ্বল হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১০১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4102 OK

(৪১০২)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫১৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ خُمَيْرِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَرَأْتُ مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْعِينَ سُورَةً وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ لَهُ ذُؤَابَةٌ فِي الْكُتَّابِ


হজরত আবূ ওয়ায়ল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, “তোমরা আমাকে হজরত যায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো কুরআন পড়তে বলছো কি করে? অথচ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বরকতময় মুখ থেকে শুনে সওরেরও (৭০) অধিক সূরা পাঠ শিখেছি, অথচো হজরত যায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তখনো ছোট ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করতো ও তখন তার মাথায় দুইটি চুলের ঝুঁটি ছিলো। (অর্থাৎ সে তখন নিতান্তই শিশু, আর তোমরা আমাকে সেই সেদিনের যায়দের মতো করে কুরআন পড়তে বলছো?)” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১০২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4103 OK

(৪১০৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪২৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ قَسْمًا قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ إِنَّ هَذِهِ لَقِسْمَةٌ مَا أُرِيدَ بِهَا وَجْهُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ فَقُلْتُ يَا عَدُوَّ اللَّهِ أَمَا لَأُخْبِرَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَا قُلْتَ قَالَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاحْمَرَّ وَجْهُهُ قَالَ ثُمَّ قَالَ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَى مُوسَى لَقَدْ أُوذِيَ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন কিছু গনীমতের মাল বন্টন করলেন এবং আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললো, “এটা এমন একটি বন্টন যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে করা হয়নি।” আমি বললাম, “হে আল্লাহর দুশমন, তুমি যা বলেছো, তা আমি অবশ্যই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলবো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তা উল্লেখ করলে, তাঁর মুখমন্ডল লাল হয়ে গেলো। তারপর তিনি বললেন, “আল্লাহ হজরত মূসা (আঃ)-এর প্রতি রহম করুন, তাঁকে এর চেয়েও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিলেন এবং তিনি ধৈর্যশীল ছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১০৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4104 OK

(৪১০৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৫৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ وَلَأُنَازَعَنَّ أَقْوَامًا ثُمَّ لَأُغْلَبَنَّ عَلَيْهِمْ فَأَقُولُ يَا رَبِّ أَصْحَابِي فَيَقُولُ إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আমি হাউজে কাউসারে তোমাদের আগে থাকবো এবং তোমাদের জন্যে অপেক্ষা করবো। কিছু লোককে আমার কাছে আনা হবে, তারপর আমাকে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। আমি বলবো, “হে আমার প্রভু! এরা আমার অনুসারী।” আমাকে বলা হবে, “আপনি জানেন না, তারা আপনার পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পরে কী বিদআত উদ্ভাবন করেছে (ইসলাম বিরোধী কী কাজ করেছে)। আপনি তাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তারা মুরতাদ হয়ে গেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১০৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4105 OK

(৪১০৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ فِرَاسٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ رُبَّمَا حَدَّثَنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَكْبُو وَيَتَغَيَّرُ لَوْنُهُ وَهُوَ يَقُولُ هَكَذَا أَوْ قَرِيبًا مِنْ هَذَا


হজরত মাসরূক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। এ কথা বলার সাথে সাথে তাঁর মুখের রং ফিকে হয়ে গেলো এবং তিনি বললেন, তিনি বলেছেন, এরূপ কথা, বা এটির কাছাকাছি কিছু। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১০৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4106 OK

(৪১০৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৯৭] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاءً إِلَّا قَدْ أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা যত প্রকারের রোগ সৃষ্টি করেছেন, তিনি প্রতিটি রোগেরই প্রতিষেধক সৃষ্টি করেছেন। যারা তা জানে, তারা তা জানে আর যারা তা জানে না, তারা তা জানে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১০৬]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



4107 OK

(৪১০৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৮৬২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَارٍ وَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ وَالْمُرْسَلَاتِ عُرْفًا قَالَ فَنَحْنُ نَأْخُذُهَا مِنْ فِيهِ رَطْبَةً إِذْ خَرَجَتْ عَلَيْنَا حَيَّةٌ فَقَالَ اقْتُلُوهَا فَابْتَدَرْنَاهَا لِنَقْتُلَهَا فَسَبَقَتْنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَاهَا اللَّهُ شَرَّكُمْ كَمَا وَقَاكُمْ شَرَّهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে একটি পাহাড়ী গুহায় বসে ছিলাম। সে সময় ‘সূরা ৭৭. আল মুরসালাত’ তাঁর উপরে অবতীর্ণ হয়েছিলো। আর আমরা তাঁর কণ্ঠ থেকে সরাসরি শুনছিলাম। অকস্মাৎ একটি সাপ আমাদের সম্মুখে বের হয়ে আসলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা ওটাকে হত্যা করো।” আমরা উঠে পড়লাম এবং একটি খেজুরের ডাল নিয়ে তাতে আগুন লাগানো হলো এবং আমরা একটি লাঠি নিয়ে কিছু পাথর সরিয়ে ফেললাম, কিন্তু আমরা সাপটিকে পেলাম না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহ তাআলা তাকে তোমাদের অনিষ্ট থেকে হিফাযাত করেছেন, যেমন তিনি তোমাদেরকে তার অনিষ্ট হতে হিফাযাত করেছেন। ” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১০৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4108 OK

(৪১০৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ حَصِيرَةَ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ حُنَيْنٍ قَالَ فَوَلَّى عَنْهُ النَّاسُ وَثَبَتَ مَعَهُ ثَمَانُونَ رَجُلًا مِنْ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ فَنَكَصْنَا عَلَى أَقْدَامِنَا نَحْوًا مِنْ ثَمَانِينَ قَدَمًا وَلَمْ نُوَلِّهِمْ الدُّبُرَ وَهُمْ الَّذِينَ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهِمْ السَّكِينَةَ قَالَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى بَغْلَتِهِ يَمْضِي قُدُمًا فَحَادَتْ بِهِ بَغْلَتُهُ فَمَالَ عَنْ السَّرْجِ فَقُلْتُ لَهُ ارْتَفِعْ رَفَعَكَ اللَّهُ فَقَالَ نَاوِلْنِي كَفًّا مِنْ تُرَابٍ فَضَرَبَ بِهِ وُجُوهَهُمْ فَامْتَلَأَتْ أَعْيُنُهُمْ تُرَابًا ثُمَّ قَالَ أَيْنَ الْمُهَاجِرُونَ وَالْأَنْصَارُ قُلْتُ هُمْ أُولَاءِ قَالَ اهْتِفْ بِهِمْ فَهَتَفْتُ بِهِمْ فَجَاءُوا وَسُيُوفُهُمْ بِأَيْمَانِهِمْ كَأَنَّهَا الشُّهُبُ وَوَلَّى الْمُشْرِكُونَ أَدْبَارَهُمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি হুনায়নের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। আমি এবং আবূ সুফইয়ান ইবনু হারিস ইবনু আবদুল মুত্তালিব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একেবারে সঙ্গেই ছিলাম। আমরা কখনও তাঁর থেকে আলাদা হইনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি সাদা বর্ণের খচ্চরের উপর আরোহণ করেছিলেন। সে খচ্চরটি ফারওয়াহ্‌ ইবনু নুফাসাহ হুযামী তাঁকে হাদইয়্যাহ স্বরূপ দিয়েছিলেন। (তাকে দুলদুল নামে ডাকা হতো।) যখন মুসলিম এবং কাফির পরস্পর সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হল তখন মুসলিমগণ (যুদ্ধের এক পর্যায়ে) পেছনের দিকে পলায়ন করতে লাগলেন। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় পায়ের গোড়ালি দিয়ে নিজের খচ্চরকে আঘাত করে কাফিরদের দিকে ধাবিত করছিলেন। আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি তাঁর খচ্চরের লাগাম ধরে রেখেছিলাম এবং একে থামিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম, যেনো দ্রুত গতিতে অগ্রসর হতে না পারে। আর আবূ সুফইয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর খচ্চরের ‘রেকাব’ (হাউদাজের বন্ধনের পট্টি) ধরে রেখেছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আব্বাস! আসহাবে সামুরাকে আহবান করো। আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (আর তিনি ছিলেন উচ্চ আওয়াজের অধিকারী ব্যক্তি) তখন আমি উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ দিয়ে বললাম, হে আসহাবে সামুরাহ! তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তা শুনামাত্র তারা এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করতে শুরু করলেন যেমনভাবে গাভী তার বাচ্চার আওয়াজ শুনে দ্রুত দৌড়ে আসে। এবং তারা বলতে লাগলো, আমরা আপনার নিকট হাযির, আমরা আপনার নিকট হাযির। রাবী বলেন, এরপর তারা কাফিরদের সাথে পুনরায় যুদ্ধে লিপ্ত হন। তিনি আনসারদেরকেও এমনিভাবে আহবান করলেন যে, হে আনসারগণ! রাবী বলেন, এরপর আহবান সমাপ্ত করা হলো বানী হারিস ইবনু খাযরাজের মাধ্যমে। (তাঁরা আহবান করলেন, হে বানী হারিস ইবনুল খাযরাজ।) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় খচ্চরের উপর আরোহিত অবস্থায় আপন ঘাড় উচুঁ করে তাদের যুদ্ধের অবস্থা দেখেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটাই হলো যুদ্ধের উত্তেজনা পূর্ণ চরম মুহূর্ত। রাবী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকটি পাথরের টুকরা হাতে নিলেন এবং এগুলো তিনি বিধর্মীদের মুখের উপর ছুঁড়ে মারলেন। এরপর বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রবের কসম! তারা পরাজিত হয়েছে। আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধের অবস্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখলাম যে, যথারীতি যুদ্ধ চলছে। এমন সময় তিনি পাথরের টুকরাগুলো নিক্ষেপ করলেন। আল্লাহর শপথ! তখন হঠাৎ দেখি যে, কাফিরদের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেলো এবং তাদের যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেলো। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১০৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4109 OK

(৪১০৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ وَحَسَنُ بْنُ مُوسَى قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ حَسَنٌ عَنْ عَطَاءٍ وَقَالَ عَفَّانُ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ حَسَنٌ إِنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ حَدَّثَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَكُونُ قَوْمٌ فِي النَّارِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكُونُوا ثُمَّ يَرْحَمُهُمْ اللَّهُ فَيُخْرِجُهُمْ مِنْهَا فَيَكُونُونَ فِي أَدْنَى الْجَنَّةِ فَيَغْتَسِلُونَ فِي نَهَرٍ يُقَالُ لَهُ الْحَيَوَانُ يُسَمِّيهِمْ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَهَنَّمِيُّونَ لَوْ ضَافَ أَحَدُهُمْ أَهْلَ الدُّنْيَا لَفَرَشَهُمْ وَأَطْعَمَهُمْ وَسَقَاهُمْ وَلَحَفَهُمْ وَلَا أَظُنُّهُ إِلَّا قَالَ وَلَزَوَّجَهُمْ قَالَ حَسَنٌ لَا يَنْقُصُهُ ذَلِكَ شَيْئًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জাহান্নামে এমন কিছু লোক থাকবে, যারা আল্লাহর ইচ্ছা পর্যন্ত জাহান্নামে থাকবে। তারপর আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করবেন এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দিবেন। তারপর এই লোকেরা জান্নাতের নিকটবর্তী স্থানে থাকবে। তারপর তারা আল-হায়াত নামক একটি নহরে গোসল করবে। জান্নাতবাসী তাদেরকে জাহান্নামী বলে ডাকবে। তাদের মধ্যে কেউ যদি সারা বিশ্বের লোকদের আমন্ত্রণ জানাতে চায়, সে তাদের জন্য বিছানার ব্যবস্থাও করবে। খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থাও করবে এবং তাদের জন্যও ব্যবস্থা করবে।” সম্ভবত বর্ণনাকারী আরও বলেছিলেন যে, সে যদি কাউকে বিয়ে করতে চায়, তবে আল্লাহ তায়ালা তা ব্যবস্থা করে দিবেন এবং তার চাহিদার কিছুই বাদ থাকবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১০৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4110 OK

(৪১১০)

হাদিস দেখুন [৩১:৫৫১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ حَبِيبٍ عَنْ ثَعْلَبَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে, সে জাহান্নামে তার ঠিকানা করে নিবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১১০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4111 OK

(৪১১১)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬১৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ أَكْثَرْنَا الْحَدِيثَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ ثُمَّ غَدَوْنَا إِلَيْهِ فَقَالَ عُرِضَتْ عَلَيَّ الْأَنْبِيَاءُ اللَّيْلَةَ بِأُمَمِهَا فَجَعَلَ النَّبِيُّ يَمُرُّ وَمَعَهُ الثَّلَاثَةُ وَالنَّبِيُّ وَمَعَهُ الْعِصَابَةُ وَالنَّبِيُّ وَمَعَهُ النَّفَرُ وَالنَّبِيُّ لَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ حَتَّى مَرَّ عَلَيَّ مُوسَى مَعَهُ كَبْكَبَةٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَأَعْجَبُونِي فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ فَقِيلَ لِي هَذَا أَخُوكَ مُوسَى مَعَهُ بَنُو إِسْرَائِيلَ قَالَ قُلْتُ فَأَيْنَ أُمَّتِي فَقِيلَ لِيَ انْظُرْ عَنْ يَمِينِكَ فَنَظَرْتُ فَإِذَا الظِّرَابُ قَدْ سُدَّ بِوُجُوهِ الرِّجَالِ ثُمَّ قِيلَ لِيَ انْظُرْ عَنْ يَسَارِكَ فَنَظَرْتُ فَإِذَا الْأُفُقُ قَدْ سُدَّ بِوُجُوهِ الرِّجَالِ فَقِيلَ لِي أَرَضِيتَ فَقُلْتُ رَضِيتُ يَا رَبِّ رَضِيتُ يَا رَبِّ قَالَ فَقِيلَ لِي إِنَّ مَعَ هَؤُلَاءِ سَبْعِينَ أَلْفًا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِدًا لَكُمْ أَبِي وَأُمِّي إِنْ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَكُونُوا مِنْ السَّبْعِينَ الْأَلْفِ فَافْعَلُوا فَإِنْ قَصَّرْتُمْ فَكُونُوا مِنْ أَهْلِ الظِّرَابِ فَإِنْ قَصَّرْتُمْ فَكُونُوا مِنْ أَهْلِ الْأُفُقِ فَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ ثَمَّ نَاسًا يَتَهَاوَشُونَ فَقَامَ عُكَّاشَةُ بْنُ مِحْصَنٍ فَقَالَ ادْعُ اللَّهَ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْ السَّبْعِينَ فَدَعَا لَهُ فَقَامَ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ ادْعُ اللَّهَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَقَالَ قَدْ سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ قَالَ ثُمَّ تَحَدَّثْنَا فَقُلْنَا مَنْ تَرَوْنَ هَؤُلَاءِ السَّبْعُونَ الْأَلْفُ قَوْمٌ وُلِدُوا فِي الْإِسْلَامِ لَمْ يُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا حَتَّى مَاتُوا فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ هُمْ الَّذِينَ لَا يَكْتَوُونَ وَلَا يَسْتَرْقُونَ وَلَا يَتَطَيَّرُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদা রাতে আমরা লোকেরা দীর্ঘ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কথা বললাম। যখন সকাল হলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আজ রাতে বিভিন্ন নবীগণকে তাদের উম্মতসহ আমার সামনে পেশ করা হয়েছে। অতঃপর তখন কোন কোন নবীকে দেখলাম যে, তাঁর সঙ্গে ছোট্ট একটি দল রয়েছে; আর কাউকে দেখলাম, তাঁর সঙ্গে একজন কিংবা দুজন লোক আবার কেউ এমনও ছিলেন যে, তাঁর সাথে কেউ নেই। হঠাৎ আমার সামনে এক বিরাট দল দেখা গেলো। মনে হলো, এরা আমার উম্মাত। যা দেখে আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? আমাকে বলা হলো, ইনি আপনার ভাই মূসা এবং তার সাথে বনী ইসরাঈলের লোকেরা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমার উম্মত কোথায়? আমাকে আমার ডানদিকে তাকাতে বলা হলো। তখন একটা ঢিবি মানুষের মুখে পূর্ণ হয়ে উঠলো। আমাকে তখন আমার বাম দিকে তাকাতে বলা হলো। আমি বাম দিকে তাকিয়ে দেখলাম দিগন্ত ভরা মানুষের মুখে। তারপর আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি সন্তুষ্ট? আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমি সন্তুষ্ট, আমি সন্তুষ্ট। তখন আমাকে বলা হলো, এদের মধ্যে সত্তর হাজার এমন লোক আছে, যারা শাস্তি ব্যতীত ও হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে।” এ বলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়ালেন, অতঃপর তাঁর ঘরে চলে গেলেন। তারা উপস্থিত সহাবাগণ তখন এ হিসাব ও আযাব বিহীন জান্নাতে প্রবেশকারী কারা হবেন? এ নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। কেউ বললেন, তাঁরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহাবা। কেউ বললেন, তারা সে সব লোক যারা ইসলামের উপর জন্মলাভ করেছে এবং আল্লাহর সঙ্গে কোন প্রকার শিরক করেনি এবং তাঁরা বহু জিনিসের উল্লেখ করলেন। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের কাছে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন, “তোমরা কী নিয়ে আলোচনা করছিলে?” সবাই বিষয়টি খুলে বললেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের বললেন, “এরা সে সব লোক যারা ঝাড়ফুঁক করে না বা তা গ্রহণও করে না, পাখি উড়িয়ে শুভা-শুভের লক্ষণ মানে না বরং সর্বদাই আল্লাহর উপর নির্ভর করে।” তখন উক্কাশাহ ইবনু মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললো, “হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্যে দুআ করুন, আল্লাহ যেনো আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি তাদেরই একজন থাকবে।” তারপর আরেক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, “হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্যও দুআ করুন, আল্লাহ যেনো আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এ সুযোগ লাভে উক্কাশাহ ইবনু মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহু তোমার চাইতে অগ্রগামী হয়ে গেছে।”

[মুসনাদে আহমাদ : ৪১১১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4112 OK

(৪১১২)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৮০] view_link


সহিহ হাদিস

عَبْد اللَّهِ بْن أَحْمَد قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي مِنْ هَاهُنَا إِلَى الْبَلَاغِ فَأَقَرَّ بِهِ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ أَبِي النَّجُودِ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَاهُ بَيْنَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعَبْدُ اللَّهِ يُصَلِّي فَافْتَتَحَ النِّسَاءَ فَسَحَلَهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَقْرَأَ الْقُرْآنَ غَضًّا كَمَا أُنْزِلَ فَلْيَقْرَأْهُ عَلَى قِرَاءَةِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ ثُمَّ تَقَدَّمَ يَسْأَلُ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ سَلْ تُعْطَهْ سَلْ تُعْطَهْ سَلْ تُعْطَهْ فَقَالَ فِيمَا سَأَلَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ إِيمَانًا لَا يَرْتَدُّ وَنَعِيمًا لَا يَنْفَدُ وَمُرَافَقَةَ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَعْلَى جَنَّةِ الْخُلْدِ قَالَ فَأَتَى عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ عَبْدَ اللَّهِ لِيُبَشِّرَهُ فَوَجَدَ أَبَا بَكْرٍ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ قَدْ سَبَقَهُ فَقَالَ إِنْ فَعَلْتَ لَقَدْ كُنْتَ سَبَّاقًا بِالْخَيْرِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি নামায আদায় করছিলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আবূ বকর এবং উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু -ও উপস্থিত ছিলেন। আমি (শেষ বৈঠকে) বসলাম, প্রথমে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করলাম, তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাম নিবেদন করলাম, তারপর নিজের জন্যে দুআ করলাম। আমি সূরা নিসা তিলাওয়াত শুরু করনাম এবং দক্ষতার সাথে তিলাওয়াত করতে থাকলাম। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “কুরআন যেভাবে নাযিল হয়েছে, যে ব্যক্তি সেভাবেই তিলাওয়াত করতে চায়, সে যেন ইবনু উম্মে আবদের মতো করে তা পাঠ করে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বললেন, “তুমি প্রার্থনা করতে থাকো, তোমাকে দেওয়া হবে, তুমি প্রার্থনা করতে থাকো, তোমাকে দেওয়া হবে।” আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু দৌড়ে গেলেন (তাঁর দোয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্যে)। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি যখনি আবু বকরের সাথে কোনো বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি, তিনি আমাকে প্রতিবারই পরাজিত করেছেন।” আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে তার দোয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমার দোয়ার একটি অংশ, যা আমি কখনো পরিত্যাগ করি না। ”


اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَبِيدُ وَقُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْفَدُ وَمُرَافَقَةَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُحَمَّدٍ فِي أَعْلَى الْجَنَّةِ جَنَّةِ الْخُلْدِ


“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এমন আশীর্বাদ চাই, যা কখনো শেষ হবে না এবং এমন চোখের শীতলতা চাই, যা কখনো শেষ হবে না এবং আমি জান্নাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য কামনা করছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১১২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4113 OK

(৪১১৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا قَيْسٌ أَخْبَرَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبِيدَةَ السَّلْمَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ مِنْ الْبَيَانِ سِحْرًا وَشِرَارُ النَّاسِ الَّذِينَ تُدْرِكُهُمْ السَّاعَةُ أَحْيَاءً وَالَّذِينَ يَتَّخِذُونَ قُبُورَهُمْ مَسَاجِدَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কিছু বক্তিতার মধ্যে যাদুর প্রভাব রয়েছে। মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক তারাই হবে, যাদের জীবদ্দশায় কিয়ামত সমগঠিত হবে এবং যারা তাদের কবরস্থানকে সিজদারস্থান হিসেবে গ্রহণ করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১১৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4114 OK

(৪১১৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৭৪৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ أَنْبَأَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَزْرَةَ عَنِ الْحَسَنِ الْعُرَنِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ الجَزَّارِ عَنْ مَسْرُوقٍ أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ إِلَى ابْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَتْ أُنْبِئْتُ أَنَّكَ تَنْهَى عَنْ الْوَاصِلَةِ قَالَ نَعَمْ فَقَالَتْ أَشَيْءٌ تَجِدُهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ أَمْ سَمِعْتَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَجِدُهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَعَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ وَاللَّهِ لَقَدْ تَصَفَّحْتُ مَا بَيْنَ دَفَّتَيْ الْمُصْحَفِ فَمَا وَجَدْتُ فِيهِ الَّذِي تَقُولُ قَالَ فَهَلْ وَجَدْتِ فِيهِ مَا آتَاكُمْ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا قَالَتْ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ النَّامِصَةِ وَالْوَاشِرَةِ وَالْوَاصِلَةِ وَالْوَاشِمَةِ إِلَّا مِنْ دَاءٍ قَالَتْ الْمَرْأَةُ فَلَعَلَّهُ فِي بَعْضِ نِسَائِكَ قَالَ لَهَا ادْخُلِي فَدَخَلَتْ ثُمَّ خَرَجَتْ فَقَالَتْ مَا رَأَيْتُ بَأْسًا قَالَ مَا حَفِظْتُ إِذًا وَصِيَّةَ الْعَبْدِ الصَّالِحِ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَى مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহ লানাত করেছেন ঐ সমস্ত নারীর প্রতি, যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকণ করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকণ করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্যে ভূরু-চুল উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। সে সব নারী আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি আনয়ন করে। এরপর বানী আসাদ গোত্রের উম্মু ইয়াকূব নামের এক মহিলার কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে সে এসে বললো, “আমি জানতে পারলাম, আপনি এ ধরনের মহিলাদের প্রতি লানত করেছেন।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার প্রতি লানাত করেছেন, আল্লাহর কিতাবে যার প্রতি লানাত করা হয়েছে, আমি তার প্রতি লানাত করবো না কেনো?” তখন মহিলা বললো, “আমি দুই ফলকের মাঝে যা আছে তা (অর্থাৎ পূর্ণ কুরআন) পড়েছি। কিন্তু আপনি যা বলেছেন, তা তো এতে পাইনি।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “যদি তুমি ভালো ভাবে কুরআন পড়তে, তাহলে অবশ্যই তা পেতে, তুমি কি পড়নি, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে যা দেন, তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন, তা হতে তোমরা বিরত থাকো।”

مَّآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡقُرَىٰ فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَٱبۡنِ ٱلسَّبِيلِ كَيۡ لَا يَكُونَ دُولَةَۢ بَيۡنَ ٱلۡأَغۡنِيَآءِ مِنكُمۡۚ وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ٧
আল্লাহ জনপদ বাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ দিয়েছেন, সুতরাং তা আল্লাহর, রসূলের, রসূলের নিকট-আ‌ত্মীয়দের, পিতৃহীনদের, নিঃস্বদের ও পথচারীদের জন্যে। যেনো সম্পদ কেবল মাত্র তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়। রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তবে তোমরা তা গ্রহণ করো আর যা নিষেধ করেন, তবে তোমরা তা থেকে বিরত থাকো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিফল দানে কঠোর। (৫৯. আল হাশর : ৭)

মহিলাটি বললো, “হাঁ, নিশ্চয়ই পড়েছি।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজ করতে নিষেধ করেছেন।” তখন মহিলা বললো, “আমার মনে হয় আপনার পরিবারও এ কাজ করে।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি যাও এবং ভালমতো দেখে এসো।” এরপর মহিলা গেলো এবং ভালভাবে দেখে এলো। কিন্তু তার দেখার কিছুই দেখতে পেলো না। তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “যদি আমার স্ত্রী এমন করতো, তবে সে আমার সঙ্গে একত্র থাকতে পারতো না। আমি চাই না যে, আমি তোমাদের পিছনে আড়ালে গিয়ে, এমন কাজ করি, যে কাজের প্রতি আমি তোমাদেরকে নিষেধ করে থাকি। আমি যতটুকু সাধ্যমত করতে পারি, ততটুকু তোমাদেরকে সংস্কার করতে চাই, এ ছাড়া আমি অন্য কিছুই চাই না।”

قَالَ يَٰقَوۡمِ أَرَءَيۡتُمۡ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٖ مِّن رَّبِّي وَرَزَقَنِي مِنۡهُ رِزۡقًا حَسَنٗاۚ وَمَآ أُرِيدُ أَنۡ أُخَالِفَكُمۡ إِلَىٰ مَآ أَنۡهَىٰكُمۡ عَنۡهُۚ إِنۡ أُرِيدُ إِلَّا ٱلۡإِصۡلَٰحَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُۚ وَمَا تَوۡفِيقِيٓ إِلَّا بِٱللَّهِۚ عَلَيۡهِ تَوَكَّلۡتُ وَإِلَيۡهِ أُنِيبُ٨٨
শুআইব বললেন, “হে আমার জাতি! তোমরা কি ভেবে দেখেছো যে, আমি যদি আমার প্রভু আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম জীবিকা আমাকে দান করে থাকেন, তবে কি আমি আল্লাহর অবাধ্য হবো? আমি চাই না যে, আমি তোমাদের পিছনে আড়ালে গিয়ে, এমন কাজ করি, যে কাজের প্রতি আমি তোমাদেরকে নিষেধ করে থাকি। আমি যতটুকু সাধ্যমত করতে পারি, ততটুকু তোমাদেরকে সংস্কার করতে চাই, এ ছাড়া আমি অন্য কিছুই চাই না। কেবল মাত্র আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত আমার কাজ করার কোনো সামর্থ্য নাই। আমি তাঁর উপরেই নির্ভর করি আর আমি তাঁর দিকেই অভিমুখী। (১১. হুদ : ৮৮) [মুসনাদে আহমাদ : ৪১১৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4115 OK

(৪১১৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৬৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي زُبَيْدٌ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ قَالَ قُلْتُ لِأَبِي وَائِلٍ أَنْتَ سَمِعْتَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ نَعَمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া হচ্ছে মন্দ কাজ এবং তার সঙ্গে যুদ্ধ করা হচ্ছে কুফরী।” বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবু ওয়াইলকে জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনি কি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এ কথা শুনেছেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১১৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4116 OK

(৪১১৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৩৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُوعَكُ فَمَسِسْتُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ لَتُوعَكُ وَعْكًا شَدِيدًا قَالَ أَجَلْ إِنِّي أُوعَكُ كَمَا يُوعَكُ رَجُلَانِ مِنْكُمْ قُلْتُ إِنَّ لَكَ أَجْرَيْنِ قَالَ نَعَمْ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا عَلَى الْأَرْضِ مُسْلِمٌ يُصِيبُهُ أَذًى مِنْ مَرَضٍ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حَطَّ اللَّهُ عَنْهُ بِهِ خَطَايَاهُ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرُ وَرَقَهَا حَدَّثَنَاه يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ مِثْلَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘরে প্রবেশ করলাম, তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি আমার হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করে বললাম, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার তো প্রচন্ড জ্বর হয়েছে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ, তোমাদের দুই জনের মতো, আমার জ্বর হয়ে থাকে।” আমি বললাম, “তাহলে তো, এর জন্যে আপনি দ্বিগুণ সওয়াব পেয়ে থাকেন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ। সেই সত্তরা কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! পৃথিবীতে এমন কোনো মুসলমান নেই, যে কষ্ট পায়, অথবা অসুস্থ হয় বা অন্য কোনো বিপদ হয়, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার আশীর্বাদে তার গুনাহ গুলো এমন ভাবে ঝেড়ে ফেলবেন, যেভাবে গাছ থেকে পাতা ঝরে যায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১১৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস