অর্থঃ আল্লাহ হচ্ছেন এমন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি চির জীবন্ত, চির বিদ্যমান। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সব কিছুই তাঁর জন্যে। কে আছে এমন যে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে? মানুষ ও জ্বিনদের সামনের ভবিষ্যৎ ও তাদের পিছনের অতীতে যা কিছু আছে, সব কিছুই আল্লাহ ভালো ভাবে জানেন। আর মানুষ ও জ্বিন আল্লাহর জ্ঞানের মধ্যে থেকে কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তা ব্যতীত, তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন ও কর্তৃত্ব নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে পরিবেষ্টন করে আছে। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল উভয়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না এবং তিনি সবচাইতে উচ্চে অধিষ্ঠিত, সর্বাপেক্ষা মহান।
উপকারিতাঃ যে কেউ ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী পড়বে, তাহলে আল্লাহর তরফ হতে তার জন্যে একজন রক্ষক ফেরেশতা নিযুক্ত হবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না।
উপকারিতাঃ এই দুটি বাক্য যা জবানে অতি হালকা, মীযানে ভারী আর আল্লাহর নিকট খুবই পছন্দনীয় বাক্য। যে লোক প্রতিদিন একশ বার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ বলবে তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও।
অর্থঃ এক আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই। রাজ্য তাঁরই। যাবতীয় প্রশংসা তাঁরই। তিনিই সব কিছুর উপরে শক্তিমান। যাবতীয় হামদ আল্লাহর জন্যে, আল্লাহ পবিত্র, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান। গুনাহ হতে বাঁচার এবং নেক কাজ করার কোন শক্তি নেই আল্লাহর তাওফীক ব্যতীত। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।
উপকারিতাঃ যে ব্যক্তি রাতে জেগে ওঠে এই দুয়া পড়ে তাঁর দুয়া কবুল হয়
অর্থঃ আল্লাহ ব্যতিত কোন ইলাহা নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তাঁরই জন্যে আর তিনি সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।
উপকারিতাঃ যে লোক একশ বার এ দুয়াটি পড়বে, দশটি গোলাম আযাদ করার সমান সওয়াব তার হবে। তার জন্য একশটি সওয়াব লেখা হবে এবং আর একশটি গুনাহ মিটিয়ে ফেলা হবে। ঐদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান হতে মাহফুজ থাকবে।
অর্থঃ কষ্ট দূর করে দাও। হে মানুষের রব, আরোগ্য দান কর, তুমিই একমাত্র আরোগ্যদানকারী। তোমার আরোগ্য ছাড়া অন্য কোন আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য দান কর যা সামান্যতম রোগকেও অবশিষ্ট না রাখে।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনিই আমার রব্ব। আপনি ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমি আপনারই গোলাম। আর আমি আমার সাধ্য মত আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর সুদৃঢ়ভাবে কায়িম আছি। আমি আমার প্রতি আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং কৃত গুনাহ সমূহকে স্বীকার করছি। সুতরাং আমাকে মাফ করে দিন। কারণ আপনি ব্যতীত মাফ করার আর কেউ নেই। আমি আমার কৃত গুনাহের মন্দ ফলাফল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।
উপকারিতাঃ যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইসতিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হবার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দু’আ পড়ে নেবে আর সে ভোর হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে।
অর্থঃ পবিত্র আল্লাহ, যিনি এদেরকে আমাদের জন্যে বশীভূত করে দিয়েছেন এবং আমরা কখনোই এদেরকে বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না। নিশ্চয় আমরা আমাদের প্রভুর দিকে ফিরে যাবো।
অর্থঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই। তিনি সর্বজ্ঞ ও ধৈর্যশীল। তিনি ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই, তিনি মহান আরশের রব। তিনি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, তিনি আসমান যমীনের রব এবং সম্মানিত আরশের রব।
অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো প্রভু নাই। তিনি এক। তাঁর কোন অংশীদার নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত বান্দা ও রসূল।
উপকারিতাঃ যে ব্যক্তি উত্তম ও পূর্ণরূপে ওযু করে এ দুআ পড়বে তার জন্যে জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।
অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো প্রভু নাই। তিনি এক। তাঁর কোন অংশীদার নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত বান্দা ও রসূল। আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রসূল হিসেবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।
উপকারিতাঃ আযান শুনে যে ব্যক্তি এই দুয়া বলে, তার গুনাহ মাফ করা হবে।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার জন্য ঐ পরিমাণ প্রশংসা, যা আসমান ও জমিনকে পরিপূর্ণ করে দেয়। অতঃপর তুমি যা চাও তা দিয়ে পরিপূর্ণ করো। হে আল্লাহ! আমাকে বরফ, কুয়াশা, ঠাণ্ডা পানি দিয়ে পবিত্র করে দাও। হে আল্লাহ! সাদা কাপড় যেভাবে ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়ে ধবধবে সাদা হয়ে যায়, আমাকেও তদ্রুপ যাবতীয় গুনাহ থেকে পবিত্র করে দাও।