

حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ فَقَالَ نَاوِلْنِي أَحْجَارًا قَالَ فَنَاوَلْتُهُ سَبْعَةَ أَحْجَارٍ فَقَالَ لِي خُذْ بِزِمَامِ النَّاقَةِ قَالَ ثُمَّ عَادَ إِلَيْهَا فَرَمَى بِهَا مِنْ بَطْنِ الْوَادِي بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ وَهُوَ رَاكِبٌ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ وَقَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ حَجًّا مَبْرُورًا وَذَنْبًا مَغْفُورًا ثُمَّ قَالَ هَاهُنَا كَانَ يَقُومُ الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
হজরত আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজ উপলক্ষে আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে ছিলাম। যখন তিনি জামরাহ আকাবার কাছে পৌঁছলেন, তিনি বললেন, “আমাকে কিছু নুড়ি দাও।” আমি তাকে সাতটি নুড়ি দিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, “উটের লাগাম ধরো।” অতঃপর তিনি পিছু হটলেন এবং বাতিন ওয়াদী থেকে জামরাহ আকাবার দিকে সওয়ারী অবস্থায় সাতটি নুড়ি নিক্ষেপ করলেন এবং প্রতিটি নুড়ির উপর তাকবীর বলতে থাকলেন। এবং দোয়া করতে থাকলেন, “হে আল্লাহ! এটাকে কবুল হজ্জ করুন এবং গুনাহ মাফ করুন।” তারপর বাম হাতের দিকে বাইতুল্লাহ এবং ডান হাতের দিকে মিনা রেখে বললেন, “এটি সেই স্থান, যেখানে সূরা বাকারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে উপর নাযিল হয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯০৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سُلَيْمَانُ وَبَعْضُ الْحَدِيثِ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْرَأْ عَلَيَّ قَالَ قُلْتُ أَقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ إِنَّنِي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي فَقَرَأْتُ حَتَّى إِذَا بَلَغْتُ فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا قَالَ رَأَيْتُ عَيْنَيْهِ تَذْرِفَانِ دُمُوعًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, “আমার কাছে কুরআন পাঠ করো।” আমি বললাম, “আমি আপনার কাছে কুরআন পাঠ করবো? অথচ আপনার কাছেই তা অবতীর্ণ হয়েছে।” তিনি বললেন, “অন্যের মুখ থেকে কুরআন শুনতে আমি পছন্দ করি।” এরপর আমি তাঁর নিকট সূরাহ নিসা পাঠ করলাম, যখন আমি এই আয়াতে পৌঁছলাম, তখন তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়েছিলো।
فَكَيۡفَ إِذَا جِئۡنَا مِن كُلِّ أُمَّةِۭ بِشَهِيدٖ وَجِئۡنَا بِكَ عَلَىٰ هَٰٓؤُلَآءِ شَهِيدٗا٤١
সুতরাং তখন তাদের অবস্থা কেমন হবে, যখন আমি কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষীকে আনবো আর আমি আপনাকে তাদের সবার উপরে সাক্ষী রূপে আনবো? (৪. আন নিসা : ৪১) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯০৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ مِسْعَرٍ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْيَشْكُرِيِّ عَنْ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ ابْنَةُ أَبِي سُفْيَانَ اللَّهُمَّ أَمْتِعْنِي بِزَوْجِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِأَبِي أَبِي سُفْيَانَ وَبِأَخِي مُعَاوِيَةَ قَالَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكِ سَأَلْتِ اللَّهَ لِآجَالٍ مَضْرُوبَةٍ وَأَيَّامٍ مَعْدُودَةٍ وَأَرْزَاقٍ مَقْسُومَةٍ لَنْ يُعَجَّلَ شَيْءٌ قَبْلَ حِلِّهِ أَوْ يُؤَخَّرَ شَيْءٌ عَنْ حِلِّهِ وَلَوْ كُنْتِ سَأَلْتِ اللَّهَ أَنْ يُعِيذَكِ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ كَانَ أَخْيَرَ أَوْ أَفْضَلَ قَالَ وَذُكِرَ عِنْدَهُ الْقِرَدَةُ قَالَ مِسْعَرٌ أُرَاهُ قَالَ وَالْخَنَازِيرُ إِنَّهُ مِمَّا مُسِخَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَمْسَخْ شَيْئًا فَيَدَعَ لَهُ نَسْلًا أَوْ عَاقِبَةً وَقَدْ كَانَتْ الْقِرَدَةُ أَوْ الْخَنَازِيرُ قَبْلَ ذَلِكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন সঙ্গী উম্মু হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে আল্লাহ! আমার স্বামী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার পিতা আবূ সুফইয়ান ও আমার ভাই মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আমাকে সাচ্ছন্দ্য জীবন দান করুন।” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি তো আল্লাহর নিকট নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল, দিন-কাল সুনির্ধারিত কয়েক দিন এবং বন্টনকৃত জীবন উপরকণ সম্পর্কে মুনাজাত করলে। এ বিষয় গুলো কখনো যথা সময়ের আগে বাড়বে না বা যথা সময়ের পরে বিলম্ব হবে না। যদি তুমি আল্লাহর নিকটে জাহান্নামের শাস্তি হতে মুক্তি লাভের জন্যে অথবা কবরের আযাব হতে মুক্তির জন্যে দুআ করতে, তাহলে তাই উত্তম হতো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকটে বানী ইসরাঈলের বানরে পরিণত হওয়ার কথা আলোচনা করা হলো। মিসআর বলেন, আমি মনে করি , শূকরে পরিণত হওয়ার কথাও আলোচনা করা হয়। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহ তাআলা যাদের আকৃতি বিকৃতি করেছেন, তাদের কোনো বংশ বা উত্তরাধিকারী রাখেননি। ঐ আকৃতি বিকৃতির পূর্বেও পৃথিবীতে বানর ও শূকর ছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯০৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ الْقِرَدَةُ وَالْخَنَازِيرُ هِيَ مِمَّا مُسِخَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَمْسَخْ اللَّهُ قَوْمًا أَوْ يُهْلِكْ قَوْمًا فَيَجْعَلَ لَهُمْ نَسْلًا وَلَا عَاقِبَةً وَإِنَّ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ قَدْ كَانَتْ قَبْلَ ذَلِكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো যে, “বানর কি মানুষের বিকৃত রূপ?” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহ তাআলা যাদের আকৃতি বিকৃতি করেছেন, তাদের কোনো বংশ বা উত্তরাধিকারী রাখেননি। ঐ আকৃতি বিকৃতির পূর্বেও পৃথিবীতে বানর ও শূকর ছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯১০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَى كُلِّ خَلِيلٍ مِنْ خُلَّتِهِ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا وَإِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি বলে যে, আমি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আমি তার বন্ধুত্বকে অস্বীকার করি। আমি যদি একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু (খলীল) গ্রহণ করতাম, তবে আমি হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতাম। কিন্তু তোমাদের সঙ্গী (অর্থাৎ তিনি নিজেই) আল্লাহর একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু (খলীল)।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯১১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ ذَرٍّ عَنْ وَائِلِ بْنِ مَهَانَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَصَدَّقْنَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ فَقَامَتْ امْرَأَةٌ لَيْسَتْ مِنْ عِلْيَةِ النِّسَاءِ فَقَالَتْ لِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لِأَنَّكُنَّ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হে নারীগণ, তোমরা দান করো, যদিও তা তোমাদের গহনা থেকেও হয়, কেননা তোমরাই জাহান্নামীদের মধ্যে অধিকাংশ হবে।” একজন মহিলা যে বিশিষ্ট মহিলাদের মধ্যে ছিলো না, সে দাঁড়িয়ে বললো, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তা কেনো হলো?” তিনি বললেন, “কারণ তোমরা তামাদের স্বামীদেরকে প্রচুর অভিশাপ দিয়ে থাকো এবং তোমার স্বামীদের প্রতি অকৃতজ্ঞ হও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯১২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا إِلَّا كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الْأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا لِأَنَّهُ كَانَ أَوَّلَ مَنْ سَنَّ الْقَتْلَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুনিয়াতে যখন কাউকে অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয়, তখন তার পাপের একটি অংশ হজরত আদম (আঃ)-এর প্রথম পুত্র কাবিলের উপরও বর্তায়, কারণ সেই হত্যার প্রথা প্রথম চালু করেছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯১৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ قَالَ أَخْبَرَنِي زِيَادُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْقِلِ بْنِ مُقَرِّنٍ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أَبِي عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَ أَنْتَ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ النَّدَمُ تَوْبَةٌ قَالَ نَعَمْ وَقَالَ مَرَّةً سَمِعْتُهُ يَقُولُ النَّدَمُ تَوْبَةٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাকিল ইবনে মুকাররিন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি এবং আমার পিতা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে উপস্থিত হলাম। “আমার পিতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, ‘অনুশোচনা করাও হলো তওবা’?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯১৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ عَنْ جَابِرٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ قَالَ بَيْعُ الْمُحَفَّلَاتِ خِلَابَةٌ وَلَا تَحِلُّ الْخِلَابَةُ لِمُسْلِمٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি সবচেয়ে সত্যবাদী, বলেছেন, “পশুর দুধের থলিতে দুধ আটকিয়ে রেখে, ঐ পশুকে বিক্রি করা প্রতারণা এবং কোন মুসলমানের জন্যে প্রতারণা করা জায়েজ নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯১৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي زُبَيْدٌ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ قَالَ قُلْتُ لِأَبِي وَائِلٍ أَنْتَ سَمِعْتَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ نَعَمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া হচ্ছে মন্দ কাজ এবং তার সঙ্গে যুদ্ধ করা হচ্ছে কুফরী।” বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবু ওয়াইলকে জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনি কি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এ কথা শুনেছেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯১৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهُ سَيَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ وَتَرَوْنَ أَثَرَةً قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا يَصْنَعُ مَنْ أَدْرَكَ ذَاكَ مِنَّا قَالَ أَدُّوا الْحَقَّ الَّذِي عَلَيْكُمْ وَسَلُوا اللَّهَ الَّذِي لَكُمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অচিরেই তোমরা আমার পরে পছন্দ-অপছন্দ দেখতে পাবে। তোমাদের উপর এমন শাসক থাকবে, যারা তোমাদের প্রাপ্য হক দেবে না।” সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের মাঝে কেউ ঐ সময় পেলে, তার কি করা উচিত?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার তোমাদের শাসকদের প্রাপ্য হক আদায় করতে থাকবে এবং তোমার আল্লাহর কাছে তোমাদের হক প্রার্থনা করতে থাকবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ شُعْبَةَ عَنِ السُّدِّيِّ عَنْ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا قَالَ يَدْخُلُونَهَا أَوْ يَلِجُونَهَا ثُمَّ يَصْدُرُونَ مِنْهَا بِأَعْمَالِهِمْ قُلْتُ لَهُ إِسْرَائِيلُ حَدَّثَهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ هُوَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ كَلَامًا هَذَا مَعْنَاهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
وَإِن مِّنكُمۡ إِلَّا وَارِدُهَاۚ كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ حَتۡمٗا مَّقۡضِيّٗا٧١
তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে এই দোযখের উপরে অবস্থিত পুলসিরাত অতিক্রম করবে না। এটি হচ্ছে আপনার প্রভুর এক অনিবার্য সিদ্ধান্ত। (১৯. মারইয়াম : ৭১)
এই আয়াত সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকেই জাহান্নামের উপরে অবস্থিত পুলসিরাত অতিক্রম করবে। তবে তার কর্ম অনুযায়ী তা পার হয়ে যাবে।” বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, “এই হাদিসটি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হ্যাঁ! এটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯১৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ أَنْبَأَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَزْرَةَ عَنِ الْحَسَنِ الْعُرَنِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ الجَزَّارِ عَنْ مَسْرُوقٍ أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ إِلَى ابْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَتْ أُنْبِئْتُ أَنَّكَ تَنْهَى عَنْ الْوَاصِلَةِ قَالَ نَعَمْ فَقَالَتْ أَشَيْءٌ تَجِدُهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ أَمْ سَمِعْتَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَجِدُهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَعَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ وَاللَّهِ لَقَدْ تَصَفَّحْتُ مَا بَيْنَ دَفَّتَيْ الْمُصْحَفِ فَمَا وَجَدْتُ فِيهِ الَّذِي تَقُولُ قَالَ فَهَلْ وَجَدْتِ فِيهِ مَا آتَاكُمْ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا قَالَتْ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ النَّامِصَةِ وَالْوَاشِرَةِ وَالْوَاصِلَةِ وَالْوَاشِمَةِ إِلَّا مِنْ دَاءٍ قَالَتْ الْمَرْأَةُ فَلَعَلَّهُ فِي بَعْضِ نِسَائِكَ قَالَ لَهَا ادْخُلِي فَدَخَلَتْ ثُمَّ خَرَجَتْ فَقَالَتْ مَا رَأَيْتُ بَأْسًا قَالَ مَا حَفِظْتُ إِذًا وَصِيَّةَ الْعَبْدِ الصَّالِحِ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَى مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহ লানাত করেছেন ঐ সমস্ত নারীর প্রতি, যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকণ করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকণ করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্যে ভূরু-চুল উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। সে সব নারী আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি আনয়ন করে। এরপর বানী আসাদ গোত্রের উম্মু ইয়াকূব নামের এক মহিলার কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে সে এসে বললো, “আমি জানতে পারলাম, আপনি এ ধরনের মহিলাদের প্রতি লানত করেছেন।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার প্রতি লানাত করেছেন, আল্লাহর কিতাবে যার প্রতি লানাত করা হয়েছে, আমি তার প্রতি লানাত করবো না কেনো?” তখন মহিলা বললো, “আমি দুই ফলকের মাঝে যা আছে তা (অর্থাৎ পূর্ণ কুরআন) পড়েছি। কিন্তু আপনি যা বলেছেন, তা তো এতে পাইনি।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “যদি তুমি ভালো ভাবে কুরআন পড়তে, তাহলে অবশ্যই তা পেতে, তুমি কি পড়নি, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে যা দেন, তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন, তা হতে তোমরা বিরত থাকো।”
مَّآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡقُرَىٰ فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَٱبۡنِ ٱلسَّبِيلِ كَيۡ لَا يَكُونَ دُولَةَۢ بَيۡنَ ٱلۡأَغۡنِيَآءِ مِنكُمۡۚ وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ٧
আল্লাহ জনপদ বাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ দিয়েছেন, সুতরাং তা আল্লাহর, রসূলের, রসূলের নিকট-আত্মীয়দের, পিতৃহীনদের, নিঃস্বদের ও পথচারীদের জন্যে। যেনো সম্পদ কেবল মাত্র তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়। রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তবে তোমরা তা গ্রহণ করো আর যা নিষেধ করেন, তবে তোমরা তা থেকে বিরত থাকো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিফল দানে কঠোর। (৫৯. আল হাশর : ৭)
মহিলাটি বললো, “হাঁ, নিশ্চয়ই পড়েছি।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজ করতে নিষেধ করেছেন।” তখন মহিলা বললো, “আমার মনে হয় আপনার পরিবারও এ কাজ করে।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি যাও এবং ভালমতো দেখে এসো।” এরপর মহিলা গেলো এবং ভালভাবে দেখে এলো। কিন্তু তার দেখার কিছুই দেখতে পেলো না। তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “যদি আমার স্ত্রী এমন করতো, তবে সে আমার সঙ্গে একত্র থাকতে পারতো না। আমি চাই না যে, আমি তোমাদের পিছনে আড়ালে গিয়ে, এমন কাজ করি, যে কাজের প্রতি আমি তোমাদেরকে নিষেধ করে থাকি। আমি যতটুকু সাধ্যমত করতে পারি, ততটুকু তোমাদেরকে সংস্কার করতে চাই, এ ছাড়া আমি অন্য কিছুই চাই না।”
قَالَ يَٰقَوۡمِ أَرَءَيۡتُمۡ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٖ مِّن رَّبِّي وَرَزَقَنِي مِنۡهُ رِزۡقًا حَسَنٗاۚ وَمَآ أُرِيدُ أَنۡ أُخَالِفَكُمۡ إِلَىٰ مَآ أَنۡهَىٰكُمۡ عَنۡهُۚ إِنۡ أُرِيدُ إِلَّا ٱلۡإِصۡلَٰحَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُۚ وَمَا تَوۡفِيقِيٓ إِلَّا بِٱللَّهِۚ عَلَيۡهِ تَوَكَّلۡتُ وَإِلَيۡهِ أُنِيبُ٨٨
শুআইব বললেন, “হে আমার জাতি! তোমরা কি ভেবে দেখেছো যে, আমি যদি আমার প্রভু আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম জীবিকা আমাকে দান করে থাকেন, তবে কি আমি আল্লাহর অবাধ্য হবো? আমি চাই না যে, আমি তোমাদের পিছনে আড়ালে গিয়ে, এমন কাজ করি, যে কাজের প্রতি আমি তোমাদেরকে নিষেধ করে থাকি। আমি যতটুকু সাধ্যমত করতে পারি, ততটুকু তোমাদেরকে সংস্কার করতে চাই, এ ছাড়া আমি অন্য কিছুই চাই না। কেবল মাত্র আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত আমার কাজ করার কোনো সামর্থ্য নাই। আমি তাঁর উপরেই নির্ভর করি আর আমি তাঁর দিকেই অভিমুখী। (১১. হুদ : ৮৮) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯১৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ يَأْتِي بَعْدَ ذَلِكَ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَاتُهُمْ أَيْمَانَهُمْ وَأَيْمَانُهُمْ شَهَادَاتِهِمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সর্বোত্তম লোক আমার যুগের লোক (অর্থ্যাৎ সাহাববীগণ)। তারপর তাদের পরবর্তীগণ (অর্থ্যাৎ তাবিঈগণ), তারপর তার পরবর্তীগণ (অর্থ্যাৎ তাবি তাবিঈগণ)। তারপর এরূপ ব্যক্তিদের আগমন ঘটবে, যারা সাক্ষী দেবার আগে শপথ করবে অথবা শপথের আগে সাক্ষ্য দিবে। (অর্থাৎ, তারা তাদের শপথ এবং সাক্ষ্যকে একত্রিত করবে, কখনও কখনও একটিকে অন্যটির আগে রাখবে, যার অর্থ তারা সাক্ষ্য এবং শপথের বিষয়ে উদাসীন থাকবে।)” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯২০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الذَّنْبِ أَكْبَرُ قَالَ أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ قَالَ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ قَالَ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ أَنْ تُزَانِيَ حَلِيلَةَ جَارِكَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقَ ذَلِكَ وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, “আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি?” তিনি বললেন, “কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “এরপর কোনটি?” তিনি জবাব দিলেন, “তোমার সন্তানকে এ আশংকায় হত্যা করা যে, তারা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে।” আমি বললাম, “এরপর কোনটি?” তিনি বললেন, “এরপর হচ্ছে তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা।” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ কথার সমর্থনে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়,
وَٱلَّذِينَ لَا يَدۡعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقۡتُلُونَ ٱلنَّفۡسَ ٱلَّتِي حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلۡحَقِّ وَلَا يَزۡنُونَۚ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ يَلۡقَ أَثَامٗا٦٨
তারাই আল্লাহর প্রকৃত বান্দা, যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্যকে ডাকে না। তারা এমন কোনো লোককে হত্যা করে না, যাকে হত্যা করা আল্লাহ নিষেধ করেছেন, তবে এ ব্যতীত যে, ন্যায় সঙ্গত ভাবে তারা হত্যা করে ও তারা ব্যভিচার করে না। যে ব্যক্তি এ ধরনের কাজ করে, সে বড় ধরনের পাপ অর্জন করে। (২৫. আল ফুরকান : ৬৮) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯২১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعِفَّةَ وَالْغِنَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করতেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعِفَّةَ وَالْغِنَى
“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পথনির্দেশ, আল্লাহভীতি, চারিত্রিক উৎকর্ষতা ও সচ্ছলতার জন্যে প্রার্থনা করছি।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৩৯২২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَى كُلِّ خَلِيلٍ مِنْ خُلَّتِهِ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا وَإِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি বলে যে, আমি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আমি তার বন্ধুত্বকে অস্বীকার করি। আমি যদি একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু (খলীল) গ্রহণ করতাম, তবে আমি হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতাম। কিন্তু তোমাদের সঙ্গী (অর্থাৎ তিনি নিজেই) আল্লাহর একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু (খলীল)।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯২৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى صَلَاةً إِلَّا لِمِيقَاتِهَا إِلَّا صَلَاتَيْنِ صَلَاةَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِجَمْعٍ وَصَلَاةَ الْفَجْرِ يَوْمَئِذٍ قَبْلَ مِيقَاتِهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাধারণত যে সময়ে সালাত আদায় করতেন, ঐ নির্ধারিত সময় ব্যতীত আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কখনোই অন্য কোনো সময়ে সালাত আদায় করতে দেখিনি। তবে একমাত্র মাগরিব ও ইশার সালাত ব্যতীত, যা তিনি মুয্দালিফায় আদায় করেছিলেন। আর সেই দিন তিনি (পূর্ব) নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই ফজরের সালাত আদায় করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯২৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَأَنْ أَحْلِفَ بِاللَّهِ تِسْعًا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُتِلَ قَتْلًا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ وَاحِدَةً وَذَلِك بِأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ اتَّخَذَهُ نَبِيًّا وَجَعَلَهُ شَهِيدًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি নয়বার শপথ করতে পছন্দ করি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শহীদ হয়েছেন। বরং আমি একবার শপথ করেছি এবং এর কারণ এই যে, আল্লাহ তাঁকে তার রসূল বানিয়েছেন এবং তাঁকে শহীদ ঘোষণা করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯২৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَمَّا أُنْزِلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ كَانَ يُكْثِرُ إِذَا قَرَأَهَا وَرَكَعَ أَنْ يَقُولَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ثَلَاثًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
إِذَا جَآءَ نَصۡرُ ٱللَّهِ وَٱلۡفَتۡحُ١
হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যখন আপনার কাছে আল্লাহর সাহায্য ও মক্কা বিজয় আসবে (১১০. আন নছর : ১)
সূরা নাসরের এই আয়াতটি যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাজিল হয়, তখন তিনি নামাযে তা পাঠ করলে, তিনবার রুকুতে বলতেন,
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
“হে আমাদের পালনকর্তা, আপনারই সকল মহিমা ও প্রশংসা। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয় আপনি তওবা কবুলকারী, পরম করুণাময়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯২৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ شُعْبَةَ عَنِ السُّدِّيِّ عَنْ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا قَالَ يَدْخُلُونَهَا أَوْ يَلِجُونَهَا ثُمَّ يَصْدُرُونَ مِنْهَا بِأَعْمَالِهِمْ قُلْتُ لَهُ إِسْرَائِيلُ حَدَّثَهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ هُوَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ كَلَامًا هَذَا مَعْنَاهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
وَإِن مِّنكُمۡ إِلَّا وَارِدُهَاۚ كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ حَتۡمٗا مَّقۡضِيّٗا٧١
তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে এই দোযখের উপরে অবস্থিত পুলসিরাত অতিক্রম করবে না। এটি হচ্ছে আপনার প্রভুর এক অনিবার্য সিদ্ধান্ত। (১৯. মারইয়াম : ৭১)
এই আয়াত সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকেই জাহান্নামের উপরে অবস্থিত পুলসিরাত অতিক্রম করবে। তবে তার কর্ম অনুযায়ী তা পার হয়ে যাবে।” বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, “এই হাদিসটি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হ্যাঁ! এটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯২৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِي يَعْلَى عَنْ رَبِيْعِ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ خَطَّ خَطًّا مُرَبَّعًا وَخَطَّ خَطًّا وَسَطَ الْخَطِّ الْمُرَبَّعِ وَخُطُوطًا إِلَى جَنْبِ الْخَطِّ الَّذِي وَسَطَ الْخَطِّ الْمُرَبَّعِ وَخَطٌّ خَارِجٌ مِنْ الْخَطِّ الْمُرَبَّعِ قَالَ هَلْ تَدْرُونَ مَا هَذَا قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ هَذَا الْإِنْسَانُ الْخَطُّ الْأَوْسَطُ وَهَذِهِ الْخُطُوطُ الَّتِي إِلَى جَنْبِهِ الْأَعْرَاضُ تَنْهَشُهُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ إِنْ أَخْطَأَهُ هَذَا أَصَابَهُ هَذَا وَالْخَطُّ الْمُرَبَّعُ الْأَجَلُ الْمُحِيطُ بِهِ وَالْخَطُّ الْخَارِجُ الْأَمَلُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি বর্গাকৃতির চতুর্ভুজ আঁকলেন, এর মধ্যভাগে একটি সরল রেখা টানলেন। অতঃপর চতুর্ভুজের মধ্যবর্তী এ রেখার দুই দিকে অনেকগুলো ক্ষুদ্র রেখা টানলেন। অতঃপর চতুর্ভুজের বহির্ভাগে একটি সরলরেখা টানলেন যা বর্গক্ষেত্রকে ছেদ করে অন্য প্রান্ত ভেদ করেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা কি জানো, এটা কি?” সাহাবীরা বললো, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এই মধ্যবর্তী রেখাটি হলো মানুষ। আর সরলরেখার দুই দিকে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রেখা আছে, এগুলো হলো বিপদাপদ, যা তাকে অহরহ দংশন করে। সে একটি বিপদ থেকে মুক্তি পেলে আরেকটি বিপদ তার উপর পতিত হয়। বর্গক্ষেত্রটি হলো তার জীবন কালের সীমা, যা তাকে বেষ্টন করে রেখেছে। আর বর্গক্ষেত্র ভেদ করে বাইরে আসা রেখাটি হলো তার কামনা-বাসনা।” তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াতটি পাঠ করলেন,
وَأَنَّ هَٰذَا صِرَٰطِي مُسۡتَقِيمٗا فَٱتَّبِعُوهُۖ وَلَا تَتَّبِعُواْ ٱلسُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمۡ عَن سَبِيلِهِۦۚ ذَٰلِكُمۡ وَصَّىٰكُم بِهِۦ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ١٥٣
তোমরা স্মরণ রেখো যে, এটিই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এ পথেরই অনুসরণ করো। তোমরা অন্য কোনো পথ অনুসরণ করো না, কেননা ঐ সব পথ তোমাদেরকে আল্লাহর সরল পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। এইসব কুরআনের বাণী দিয়ে তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেনো তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। (৬. আল আন-আম : ১৫৩) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯২৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ مِنْ شِرَارِ النَّاسِ مَنْ تُدْرِكُهُ السَّاعَةُ وَهُمْ أَحْيَاءٌ وَمَنْ يَتَّخِذُ الْقُبُورَ مَسَاجِدَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক তারাই হবে, যারা তাদের জীবদ্দশায় কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়কে পাবে অথবা যারা কবরস্থানকে সিজদার স্থান বানিয়ে নিবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯২৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْأَقْمَرِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْأَحْوَصِ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاسِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুনিয়ার সবচেয়ে খারাপ লোকদের উপরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৩০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا نُسَلِّمُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كُنَّا بِمَكَّةَ قَبْلَ أَنْ نَأْتِيَ أَرْضَ الْحَبَشَةِ فَلَمَّا قَدِمْنَا مِنْ أَرْضِ الْحَبَشَةِ أَتَيْنَاهُ فَسَلَّمْنَا عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ فَأَخَذَنِي مَا قَرُبَ وَمَا بَعُدَ حَتَّى قَضَوْا الصَّلَاةَ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُحْدِثُ فِي أَمْرِهِ مَا يَشَاءُ وَإِنَّهُ قَدْ أُحْدِثَ مِنْ أَمْرِهِ أَنْ لَا نَتَكَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আবিসিনিয়া যাওয়ার আগে আমরা যখন মক্কায় ছিলাম, তখন আমরা নামাযের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাম দিতাম, তখন তিনি জবাব দিতেন, কিন্তু আমরা যখন আবিসিনিয়া থেকে ফিরে এসে তাঁকে সালাম দিলাম, তখন তিনি জবাব দেননি। আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম এবং কেনো এমন হলো তা জানার জন্যে, তাঁর নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে লাগলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আগে আমরা নামাযের সময় আপনাকে সালাম দিতাম এবং আপনি সালামের জবাব দিতেন। (কিন্তু এবার তা করলেন না কেনো?)” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আল্লাহ তায়ালা তাঁর দ্বীনেক বিষয়ে যা ইচ্ছা চান, তাই নির্ধারণ করেন। এখন আল্লাহ ফয়সালা করেছেন যে, আমরা যেনো নামাযের সময় কথা না বলি।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৩১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ قَالَ هَاجَتْ رِيحٌ حَمْرَاءُ بِالْكُوفَةِ فَجَاءَ رَجُلٌ لَيْسَ لَهُ هِجِّيرٌ إِلَّا يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ جَاءَتْ السَّاعَةُ قَالَ وَكَانَ مُتَّكِئًا فَجَلَسَ فَقَالَ إِنَّ السَّاعَةَ لَا تَقُومُ حَتَّى لَا يُقْسَمَ مِيرَاثٌ وَلَا يُفْرَحَ بِغَنِيمَةٍ قَالَ عَدُوًّا يَجْمَعُونَ لِأَهْلِ الْإِسْلَامِ وَيَجْمَعُ لَهُمْ أَهْلُ الْإِسْلَامِ وَنَحَّى بِيَدِهِ نَحْوَ الشَّامِ قُلْتُ الرُّومَ تَعْنِي قَالَ نَعَمْ قَالَ وَيَكُونُ عِنْدَ ذَاكُمْ الْقِتَالِ رِدَّةٌ شَدِيدَةٌ قَالَ فَيَشْتَرِطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لَا تَرْجِعُ إِلَّا غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يَحْجِزَ بَيْنَهُمْ اللَّيْلُ فَيَفِيءَ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ ثُمَّ يَشْتَرِطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لَا تَرْجِعُ إِلَّا غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يَحْجِزَ بَيْنَهُمْ اللَّيْلُ فَيَفِيءَ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ ثُمَّ يَشْتَرِطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لَا تَرْجِعُ إِلَّا غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يُمْسُوا فَيَفِيءَ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ فَإِذَا كَانَ الْيَوْمُ الرَّابِعُ نَهَدَ إِلَيْهِمْ بَقِيَّةُ أَهْلِ الْإِسْلَامِ فَيَجْعَلُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الدَّبْرَةَ عَلَيْهِمْ فَيَقْتُلُونَ مَقْتَلَةً إِمَّا قَالَ لَا يُرَى مِثْلُهَا وَإِمَّا قَالَ لَمْ نَرَ مِثْلَهَا حَتَّى إِنَّ الطَّائِرَ لَيَمُرُّ بِجَنَبَاتِهِمْ فَمَا يُخَلِّفُهُمْ حَتَّى يَخِرَّ مَيِّتًا قَالَ فَيَتَعَادُّ بَنُو الْأَبِ كَانُوا مِائَةً فَلَا يَجِدُونَهُ بَقِيَ مِنْهُمْ إِلَّا الرَّجُلُ الْوَاحِدُ فَبِأَيِّ غَنِيمَةٍ يُفْرَحُ أَوْ أَيُّ مِيرَاثٍ يُقَاسَمُ قَالَ بَيْنَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ سَمِعُوا بِنَاسٍ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ جَاءَهُمْ الصَّرِيخُ أَنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَلَفَ فِي ذَرَارِيِّهِمْ فَيَرْفُضُونَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ وَيُقْبِلُونَ فَيَبْعَثُونَ عَشَرَةَ فَوَارِسَ طَلِيعَةً قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَسْمَاءَهُمْ وَأَسْمَاءَ آبَائِهِمْ وَأَلْوَانَ خُيُولِهِمْ هُمْ خَيْرُ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ يَوْمَئِذٍ
হজরত ইউসায়র ইবনু জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার কূফা নগরীতে লাল ঝড় বিশিষ্ট বায়ু প্রবাহিত হলো। এমন সময় জনৈক লোক কূফায় এসে বললো যে, “হে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু! সতর্ক হোন, কেয়ামত সন্নিকটে?” এ সময় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বালিশে হেলান দিয়ে ছিলেন, এ কথা শুনে তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, “কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না উত্তরাধিকার সম্পদ অবণ্টিত থাকবে এবং যতক্ষণ না মানুষেরা গনীমাতের বিষয়ে আনন্দ প্রকাশ না করবে।” তারপর তিনি নিজ হাত দ্বারা সিরিয়ার প্রতি ইশারা করে বললেন, “আল্লাহর শত্রুরা একত্রিত হবে মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্যে এবং মুসলিমগণও তাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্যে একত্রিত হবে।” এ কথা শ্রবণে আমি বললাম, “আল্লাহর শত্রু বলতে, আপনার উদ্দেশ্য হলো রোমীয় (খ্রীষ্টান) সম্প্রদায়।” তিনি বললেন, “হ্যাঁ! এবং তখন ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হবে। তখন মুসলিম জাতি একটি দল অগ্রে প্রেরণ করবে, তারা মৃত্যুর জন্যে সম্মুখে এগিয়ে যাবে। বিজয় অর্জন করা ছাড়া তারা প্রত্যাবর্তন করবে না। এরপর পরস্পর তাদের মধ্যে যুদ্ধ হবে। যুদ্ধ করতে করতে রাত্রি অতিবাহিত হয়ে যাবে। তারপর দুই পক্ষের সৈন্য জয়লাভ করা ছাড়াই ফিরে চলে যাবে। যুদ্ধের জন্য মুসলিমদের যে দলটি এগিয়ে গিয়েছিলো তারা প্রত্যেকেই মৃতুবরণ করবে। অতঃপর পরবর্তী দিন মুসলিমগণ মৃতুর জন্যে অপর একটি দল সামনে পাঠাবে। তারা সবাই মৃতুবরণ করবে। অতঃপর পরবর্তী দিন মুসলিমগণ মৃতুর জন্যে অপর একটি দল সামনে পাঠাবে। তারা বিজয়ী না হয়ে ফিরবে না। এদিনও পরস্পরের মধ্যে মারাত্মক যুদ্ধ হবে। পরিশেষে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। উভয় বাহিনী বিজয়লাভ করা ছড়াই স্বীয় শিবিরে প্রত্যাবর্তন করবে। যে দলটি সামনে ছিলো তারা সরে যাবে। অতঃপর তৃতীয় দিন আবার মুসলিমগণ মৃতু বা বিজয়ের উদ্দেশে অপর একটি বাহিনী পাঠাবে। এ যুদ্ধ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকবে। পরিশেষে বিজয়লাভ করা ছাড়াই উভয় বাহিনী প্রত্যাবর্তন করবে। তবে মুসলিম বাহীনীর সামনের সেনাদলটি শাহীদ হয়ে যাবে। তারপর যুদ্ধের চতুর্থ দিনে অবশিষ্ট মুসলিমগণ সকলেই যুদ্ধের জন্য সামনে এগিয়ে যাবে। সে দিন কাফিরদের উপর আল্লাহ তাআলা অকল্যাণ চক্র চাপিয়ে দিবেন। তারপর এমন যুদ্ধ হবে, যা জীবনে কেউ দেখবে না অথবা জীবনে কেউ দেখেনি। পরিশেষে তাদের শরীরের উপর পাখী উড়তে থাকবে। পাখী তাদেরকে অতিক্রম করবে না; এমতাবস্থায় তা মাটিতে পড়ে নিহত হবে। একশ মানুষ বিশিষ্ট গোত্রে, মাত্র এক লোক বেঁচে থাকবে। এমন সময় কেমন করে গনীমাতের সম্পদ নিয়ে লোকেরা আনন্দোৎসব করবে এবং কেমন করে উত্তরাধিকার সম্পদ ভাগ করা হবে। এমতাবস্থায় মুসলিমগণ আরেকটি ভয়ানক বিপদের খবর শুনতে পাবে এবং এ মর্মে একটি শব্দ তাদের কাছে পৌঁছবে যে, দাজ্জাল তাদের পেছনে তাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে চলে এসেছে। এ সংবাদ শুনতেই তারা হাতের সমস্ত কিছু ফেলে দিয়ে রওনা হয়ে যাবে এবং দশজন অশ্বারোহী ব্যক্তিকে সংবাদ সংগ্রাহক দল হিসেবে প্রেরণ করবে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দাজ্জালের খবর সংগ্রাহক দলের প্রতিটি লোকের নাম, তাদের বাপ-দাদার এবং তাদের ঘোড়ার রং সম্পর্কেও আমি জ্ঞাত আছি। এ পৃথিবীর সর্বোত্তম অশ্বারোহী দল সেদিন তারাই হবে’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৩২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَمْنَعَنَّ أَحَدَكُمْ أَذَانُ بِلَالٍ عَنْ سَحُورِهِ فَإِنَّهُ يُؤَذِّنُ أَوْ قَالَ يُنَادِي لِيَرْجِعَ قَائِمُكُمْ وَيَنْتَبِهَ نَائِمُكُمْ لَيْسَ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا وَضَمَّ يَدَهُ وَرَفَعَهَا وَلَكِنْ حَتَّى يَقُولَ هَكَذَا وَفَرَّقَ يَحْيَى بَيْنَ السَّبَّابَتَيْنِ قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ هَذَا الْحَدِيثُ لَمْ أَسْمَعْهُ مِنْ أَحَدٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বিলালের আযান যেনো তোমাদের কাউকে তার সাহরী খাওয়া থেকে বিরত না রাখে। কেনোনা সে তোমাদের ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগাবার বা সতর্ক করার জন্যে এবং তোমাদের সলাতীকে সলাতে রত বা অবসর হওয়ার জন্যে আযান দিয়ে থাকে। আর এ সময়কে ফজর বলা হয় না, বরং উর্ধাকাশে আড়াআড়ি ভাবে সাদা আভা প্রকাশ পাওয়াই ফজর।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৩৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ قَسْمًا قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ إِنَّ هَذِهِ لَقِسْمَةٌ مَا أُرِيدَ بِهَا وَجْهُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ فَقُلْتُ يَا عَدُوَّ اللَّهِ أَمَا لَأُخْبِرَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَا قُلْتَ قَالَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاحْمَرَّ وَجْهُهُ قَالَ ثُمَّ قَالَ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَى مُوسَى لَقَدْ أُوذِيَ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন কিছু গনীমতের মাল বন্টন করলেন এবং আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললো, “এটা এমন একটি বন্টন যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে করা হয়নি।” আমি বললাম, “হে আল্লাহর দুশমন, তুমি যা বলেছো, তা আমি অবশ্যই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলবো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তা উল্লেখ করলে, তাঁর মুখমন্ডল লাল হয়ে গেলো। তারপর তিনি বললেন, “আল্লাহ হজরত মূসা (আঃ)-এর প্রতি রহম করুন, তাঁকে এর চেয়েও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিলেন এবং তিনি ধৈর্যশীল ছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৩৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا دَاوُدُ وَابْنُ أَبِي زَائِدَةَ الْمَعْنَى قَالَا حَدَّثَنَا دَاوُدُ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ مَسْعُودٍ هَلْ صَحِبَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةَ الْجِنِّ مِنْكُمْ أَحَدٌ فَقَالَ مَا صَحِبَهُ مِنَّا أَحَدٌ وَلَكِنَّا قَدْ فَقَدْنَاهُ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقُلْنَا اغْتِيلَ اسْتُطِيرَ مَا فَعَلَ قَالَ فَبِتْنَا بِشَرِّ لَيْلَةٍ بَاتَ بِهَا قَوْمٌ فَلَمَّا كَانَ فِي وَجْهِ الصُّبْحِ أَوْ قَالَ فِي السَّحَرِ إِذَا نَحْنُ بِهِ يَجِيءُ مِنْ قِبَلِ حِرَاءَ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَكَرُوا الَّذِي كَانُوا فِيهِ فَقَالَ إِنَّهُ أَتَانِي دَاعِي الْجِنِّ فَأَتَيْتُهُمْ فَقَرَأْتُ عَلَيْهِمْ قَالَ فَانْطَلَقَ بِنَا فَأَرَانِي آثَارَهُمْ وَآثَارَ نِيرَانِهِمْ قَالَ وَقَالَ الشَّعْبِيُّ سَأَلُوهُ الزَّادَ قَالَ ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ قَالَ عَامِرٌ فَسَأَلُوهُ لَيْلَتَئِذٍ الزَّادَ وَكَانُوا مِنْ جِنِّ الْجَزِيرَةِ فَقَالَ كُلُّ عَظْمٍ ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ يَقَعُ فِي أَيْدِيكُمْ أَوْفَرَ مَا كَانَ عَلَيْهِ لَحْمًا وَكُلُّ بَعْرَةٍ أَوْ رَوْثَةٍ عَلَفٌ لِدَوَابِّكُمْ فَلَا تَسْتَنْجُوا بِهِمَا فَإِنَّهُمَا زَادُ إِخْوَانِكُمْ مِنْ الْجِنِّ
হজরত আলক্বামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে প্রশ্ন করলাম, “জিনের রাতে আপনাদের কেউ কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথী ছিলেন?” তিনি বললেন, “আমাদের কেউ তাঁর সঙ্গে ছিলো না। তবে তিনি মক্কাতে থাকার সময় এক রাতে আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেলেন। আমরা বলাবলি করলাম, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে অথবা অপহরণ করা হয়েছে, এরকম কিছু করা হয়েছে। আমরা খুবই অশান্তিতে রাত কাটালাম। তারপর খুব ভোরে হঠাৎ দেখলাম তিনি হেরা পর্বতের দিক হতে আসছেন।” রাবী বলেন, “তাঁর নিকটে সকলে বিগত রাতের অস্থিরতার কথা বর্ণনা করলে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমার নিকট জিনদের এক প্রতিনিধি দল এসেছিলো। আমি তাদের কাছে গিয়ে কুরআন পাঠ করেছি।’ তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগিয়ে গিয়ে আমাদেরকে বিভিন্ন প্রমাণ ও আগুনের চিহ্ন দেখান।” শাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “জিনেরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে খাবার চাইলো। তারা ছিলো কোন এক উপদ্বীপের অধিবাসী। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিনদেরকে বলেন, ‘যে সব হাড়ে আল্লাহ তাআলার নাম নেয়া হয়েছে, সেগুলো তোমাদের হাতে আসার সাথে সাথে গোশত পূর্ণ হয়ে যাবে, যেমন পূর্বে তা গোশতে পূর্ণ ছিলো। আর সব রকমের পশুর বিষ্ঠা ও গোবর তোমাদের খাদ্য’।” তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বললেন, “তোমরা এগুলো ঢিলা হিসেবে ব্যবহার করবে না। কেননা এগুলো তোমাদের ভাই জিনদের খাদ্য।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৩৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ فَقَالَ نَاوِلْنِي أَحْجَارًا قَالَ فَنَاوَلْتُهُ سَبْعَةَ أَحْجَارٍ فَقَالَ لِي خُذْ بِزِمَامِ النَّاقَةِ قَالَ ثُمَّ عَادَ إِلَيْهَا فَرَمَى بِهَا مِنْ بَطْنِ الْوَادِي بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ وَهُوَ رَاكِبٌ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ وَقَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ حَجًّا مَبْرُورًا وَذَنْبًا مَغْفُورًا ثُمَّ قَالَ هَاهُنَا كَانَ يَقُومُ الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
হজরত আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজ উপলক্ষে আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে ছিলাম। যখন তিনি জামরাহ আকাবার কাছে পৌঁছলেন, তিনি বললেন, “আমাকে কিছু নুড়ি দাও।” আমি তাকে সাতটি নুড়ি দিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, “উটের লাগাম ধরো।” অতঃপর তিনি পিছু হটলেন এবং বাতিন ওয়াদী থেকে জামরাহ আকাবার দিকে সওয়ারী অবস্থায় সাতটি নুড়ি নিক্ষেপ করলেন এবং প্রতিটি নুড়ির উপর তাকবীর বলতে থাকলেন। এবং দোয়া করতে থাকলেন, “হে আল্লাহ! এটাকে কবুল হজ্জ করুন এবং গুনাহ মাফ করুন।” তারপর বাম হাতের দিকে বাইতুল্লাহ এবং ডান হাতের দিকে মিনা রেখে বললেন, “এটি সেই স্থান, যেখানে সূরা বাকারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে উপর নাযিল হয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৩৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস