
حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ سَلْمٍ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا مُسَاعَاةَ فِي الْإِسْلَامِ مَنْ سَاعَى فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَدْ أَلْحَقْتُهُ بِعَصَبَتِهِ وَمَنْ ادَّعَى وَلَدَهُ مِنْ غَيْرِ رِشْدَةٍ فَلَا يَرِثُ وَلَا يُورَثُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ইসলামে দাসীর কোনো পতিতাবৃত্তি নেই। (ইসলামে ব্যভিচারের কোনো সুযোগ নেই।) যে কেউ জাহিলিয়াতের সময় এই ধরনের পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত হয়েছিলো (এবং এর ফলে একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলো), তবে সন্তানটি (দাসীর) মালিকদের কাছে দায়ী করা হবে এবং ঐ সন্তানকে আমি তার আসাবা বলে ঘোষণা করছি। যে ব্যক্তি যেনার সন্তানকে নিজের সন্তান বলে দাবি করে, (এবং সে বলে যে, এটি আমার সন্তান, যদিও সে সন্তানের মায়ের সাথে বিবাহিত নয়) তবে ঐ সন্তান তার হবে এবং তাদের কেউই একে অন্যের সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৪১]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ الصَّعْبَ بْنَ جَثَّامَةَ الْأَسْدِيَّ أَهْدَى إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رِجْلَ حِمَارِ وَحْشٍ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَرَدَّهُ وَقَالَ إِنَّا مُحْرِمُونَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। হজরত সাব ইবনে জাথামা আসাদি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভূনা করা এক বন্য গাধার পা উপহার দিয়েছিলেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৪২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ حَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَخَّصَ فِي الثَّوْبِ الْمَصْبُوغِ مَا لَمْ يَكُنْ بِهِ نَفْضٌ وَلَا رَدْعٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাফরান দিয়ে রং করা কাপড় পরিধান করার অনুমতি দিয়েছেন, যতক্ষণ না তাতে কোনো রঙের কণা বা রঙের কোনো চিহ্ন না থাকে। [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৪৩]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ يَعْنِي الْأَعْمَشَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرِضَ أَبُو طَالِبٍ فَأَتَتْهُ قُرَيْشٌ وَأَتَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُهُ وَعِنْدَ رَأْسِهِ مَقْعَدُ رَجُلٍ فَقَامَ أَبُو جَهْلٍ فَقَعَدَ فِيهِ فَقَالُوا إِنَّ ابْنَ أَخِيكَ يَقَعُ فِي آلِهَتِنَا قَالَ مَا شَأْنُ قَوْمِكَ يَشْكُونَكَ قَالَ يَا عَمِّ أُرِيدُهُمْ عَلَى كَلِمَةٍ وَاحِدَةٍ تَدِينُ لَهُمْ بِهَا الْعَرَبُ وَتُؤَدِّي الْعَجَمُ إِلَيْهِمْ الْجِزْيَةَ قَالَ مَا هِيَ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَامُوا فَقَالُوا أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا قَالَ وَنَزَلَ ص وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ فَقَرَأَ حَتَّى بَلَغَ إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ و حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا عَبَّادٌ فَذَكَرَ نَحْوَهُ و قَالَ أَبِي قَالَ الْأَشْجَعِيُّ يَحْيَى بْنُ عَبَّادٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আবু তালিব অসুস্থ হয়ে পড়লে কুরাইশের কিছু লোক তাঁকে দেখতে আসেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাঁকে দেখতে আসেন। আবু তালিবের মাথার কাছে একজন ব্যক্তি বসার মতো জায়গা ফাঁকা ছিলো, তাই সেখানে আবু জেহেল এসে বসলো। কুরাইশের লোকেরা আবু তালিবকে বললো, তোমার ভাইয়ের ছেলে আমাদের দেবতাদের সমালোচনা করছে। আবু তালিব বললেন, তোমার লোকেরা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে কেনো? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “চাচা! আমি তাদেরকে এমন একটি বাক্যের দিকে আনতে চাই, যার কারণে সমগ্র আরব তাদের আনুগত্য করবে এবং সমগ্র বিশ্বের অনারবরা তাদেরকে জিযিয়া প্রদান করবে।” আবু তালিব জিজ্ঞেস করলেন, সেটি কোন বাক্য? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।” একথা শুনে কুরাইশের লোকেরা উঠে দাঁড়ালো এবং বললো, সে কি সব উপাস্যকে এক ইলাহ বানাতে চায়। তখন এই আয়াতটি নাযিল হলো,
أَجَعَلَ ٱلۡأٓلِهَةَ إِلَٰهٗا وَٰحِدًاۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيۡءٌ عُجَابٞ٥
সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে এক উপাস্যের উপাসনা স্থির করেছে। নিশ্চয় এ তো এক আশ্চর্যজনক ব্যাপার।” [৩৮ : ৫]
وَٱنطَلَقَ ٱلۡمَلَأُ مِنۡهُمۡ أَنِ ٱمۡشُواْ وَٱصۡبِرُواْ عَلَىٰٓ ءَالِهَتِكُمۡۖ إِنَّ هَٰذَا لَشَيۡءٞ يُرَادُ٦
তাদের মধ্যে প্রধান ব্যক্তিরা একথা বলে সরে পড়ে যে, “তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের উপাস্যদের প্রতি পূজায় দৃঢ় থাকো। নিশ্চয় এ কুরআন হচ্ছে এমন এক ব্যাপার, যা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য মূলক। (৩৮. ছোয়াদ : ৬)
مَا سَمِعۡنَا بِهَٰذَا فِي ٱلۡمِلَّةِ ٱلۡأٓخِرَةِ إِنۡ هَٰذَآ إِلَّا ٱخۡتِلَٰقٌ٧
আমরা পূর্বর্তী ধর্মের মধ্যে এ ধরনের কথা শুনিনি। এ কুরআন মনগড়া বাণী ব্যতীত অন্য কিছুই নয়। (৩৮. ছোয়াদ : ৭)
أَءُنزِلَ عَلَيۡهِ ٱلذِّكۡرُ مِنۢ بَيۡنِنَاۚ بَلۡ هُمۡ فِي شَكّٖ مِّن ذِكۡرِيۚ بَل لَّمَّا يَذُوقُواْ عَذَابِ٨
আমাদের মধ্যে কি কেবল মাত্র তাঁর প্রতিই উপদেশ বাণী অবতীর্ণ হলো?” বরং তারা আমার উপদেশ সম্পর্কে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। বরং তারা এখনো আমার শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করেনি। (৩৮. ছোয়াদ : ৮) [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৪৪]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَقْضِي عَنْهَا قَالَ فَقَالَ أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ أَمَا كُنْتِ تَقْضِينَهُ قَالَتْ بَلَى قَالَ فَدَيْنُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَحَقُّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক মহিলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে বললো, “হে আল্লাহর রসূল, আমার মা এক মাসের রোজা বাকি রেখে ইন্তেকাল করেছেন।” আমি কি তার পক্ষ থেকে এটা পূরণ করতে পারি? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি আমাকে বলো, তোমার মায়ের ঋণ থাকলে, তুমি তা পরিশোধ করবে কি না?” মহিলা বললো, “অবশ্যই, কেনো নয়।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাহলে তো আল্লাহর ঋণ পরিশোধের অধিকতর যোগ্য।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْمَرُ فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “পূর্ব বিবাহিত একজন মহিলার তার অভিভাবকের চেয়ে নিজের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বেশি অধিকার রয়েছে। একজন কুমারী মহিলার কাছ থেকে তার বিবাহের বিষয়ে তার অনুমতি নেওয়া উচিত এবং তার নীরবতাই হচ্ছে তার অনুমতি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৪৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ أَيُّ الْقِرَاءَتَيْنِ كَانَتْ أَخِيرًا قِرَاءَةُ عَبْدِ اللَّهِ أَوْ قِرَاءَةُ زَيْدٍ قَالَ قُلْنَا قِرَاءَةُ زَيْدٍ قَالَ لَا إِلَّا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَعْرِضُ الْقُرْآنَ عَلَى جَبْرَائِيلَ كُلَّ عَامٍ مَرَّةً فَلَمَّا كَانَ فِي الْعَامِ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ عَرَضَهُ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ وَكَانَتْ آخِرَ الْقِرَاءَةِ قِرَاءَةُ عَبْدِ اللَّهِ
হজরত মুজাহিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, দুটি তিলাওয়াতের মধ্যে, শেষ তিলাওয়াত কোনটি, হজরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর তিলাওয়াত নাকি হজরত যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর তিলাওয়াত? আমরা বললাম, হজরত যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর তিলাওয়াত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, না, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর জিবরীলের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন, তিনি তাঁর সাথে দুবার কুরআন তিলাওয়াত করেছেন এবং সর্বশেষ তেলাওয়াতটি ছিলো হজরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর তিলাওয়াত। [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৪৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمُكَاتَبِ يَعْتِقُ مِنْهُ بِقَدْرِ مَا أَدَّى دِيَةَ الْحُرِّ وَبِقَدْرِ مَا رَقَّ مِنْهُ دِيَةَ الْعَبْدِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন মুকাতাব (মুকাতাব হচ্ছে একজন ক্রীতদাস যে তার মনিবের সাথে মুক্ত হওয়ার চুক্তি করেছে এবং তার স্বাধীনতা কিস্তিতে ক্রয় করেছে) সম্পর্কে বলেছেন, (যদি কেউ একজন মুকাতাবকে হত্যা করে তবে,) “মুকাতাব যে পরিমাণ অর্থ তার মনিবকে প্রদান করেছে, সে অনুযায়ী মুকাতাবকে একজন স্বাধীন ব্যক্তির রক্তপন দেওয়া হবে এবং একজন ক্রীতদাসের রক্তপন মুকাতাবকে দেওয়া হবে, পাওনা পরিশোধের অবশিষ্ট অংশের কারণে যে পরিমাণ সে এখনও ক্রীতদাস রয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৪৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ الصَّوَّافُ عَنْ يَحْيَى عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ زَيْدِ بْنِ عَلِيٍّ بِالْمَدِينَةِ فَمَرَّ شَيْخٌ يُقَالُ لَهُ شُرَحْبِيلُ أَبُو سَعْدٍ فَقَالَ يَا أَبَا سَعْدٍ مِنْ أَيْنَ جِئْتَ فَقَالَ مِنْ عِنْدِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ حَدَّثْتُهُ بِحَدِيثٍ فَقَالَ لَأَنْ يَكُونَ هَذَا الْحَدِيثُ حَقًّا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَكُونَ لِي حُمْرُ النَّعَمِ قَالَ حَدِّثْ بِهِ الْقَوْمَ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ تُدْرِكُ لَهُ ابْنَتَانِ فَيُحْسِنُ إِلَيْهِمَا مَا صَحِبَتَاهُ أَوْ صَحِبَهُمَا إِلَّا أَدْخَلَتَاهُ الْجَنَّةَ
হজরত ইকরিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি মদীনায় যায়েদ বিন আলীর সাথে বসে ছিলাম, এমন সময় শুরাহবীল আবু সাদ নামে এক বৃদ্ধ লোক আমাদের কাছে এলো। যায়েদ বিন আলী বললো, “হে আবু সাদ, তুমি কোথা থেকে এসেছো?” শুরাহবীল আবু সাদ বললো, “আমি আমিরুল মুমিনীন থেকে এসেছি।” আমি তার নিকট একটি হাদীছ বর্ণনা করলাম এবং শুরাহবীল আবু সাদ বললো, “যদি এই হাদীসটি সত্য হয়, তবে তা আমার কাছে লাল উটের চেয়েও প্রিয়। তুমি লোকদেরকে এই হাদীছ জানিয়ে দাও।” আমি বললাম, আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোন ব্যক্তির দুটি কন্যা সন্তান থাকলে এবং সে তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করলে, যত দিন তারা একত্রে বসবাস করবে, ফলে তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৪৯]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْرِضُ الْكِتَابَ عَلَى جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَام فِي كُلِّ رَمَضَانَ فَإِذَا أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ اللَّيْلَةِ الَّتِي يَعْرِضُ فِيهَا مَا يَعْرِضُ أَصْبَحَ وَهُوَ أَجْوَدُ مِنْ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ لَا يُسْأَلُ عَنْ شَيْءٍ إِلَّا أَعْطَاهُ فَلَمَّا كَانَ فِي الشَّهْرِ الَّذِي هَلَكَ بَعْدَهُ عَرَضَ عَلَيْهِ عَرْضَتَيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমজান মাসে হজরত জিবরাইল (আঃ)-এর সঙ্গে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করতেন। যে রাতে তিনি কোরআন তেলাওয়াত করতেন, সেই দিন সকালে তিনি প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি উদার হতেন। তার কাছে কোনো কিছু চাওয়া হলেই, তিনি তা সাথে সাথেই দিয়ে দিয়েছেন। যে রমজান মাসে তিনি মারা গেলেন, সেই রমজান মাসে তিনি হজরত জিবরাইল (আঃ)-এর সঙ্গে দুই খতম পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৫০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَلِيٌّ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمْ الْبَيَاضَ فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ وَإِنَّ مِنْ خَيْرِ أَكْحَالِكُمُ الْإِثْمِدَ يَجْلُو الْبَصَرَ وَيُنْبِتُ الشَّعَرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করবে, কারণ সাদা কাপড়ই সবচেয়ে ভাল। আর তোমরা মুর্দাকে সাদা কাপড় দিয়েই কাফন দিবে। তোমাদের জন্যে সুরমা হলো এক ধরনের উপকারী ধাতু, যা ব্যবহারে তোমাদের চোখের পাপড়ি নতুন করে গজায় ও চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায়।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৩২৫১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ كَتَبَ إِلَيَّ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ أَنَّ النَّاسَ أُعْطُوا بِدَعْوَاهُمْ ادَّعَى نَاسٌ مِنْ النَّاسِ دِمَاءَ نَاسٍ وَأَمْوَالَهُمْ وَلَكِنَّ الْيَمِينَ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ
হজরত ইবনে আবী মালিকাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মানুষের দাবির ভিত্তিতে যদি দান করা হতো, তবে কিছু লোক অন্যের জান ও মাল মিথ্যা দাবি করতো। সুতরাং যার বিরুদ্ধে দাবী করা হয়, তার শপথ করা উচিত।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৫২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ بِنِصْفِ دِينَارٍ وَلَمْ يَرْفَعْهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَلَا بَهْزٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঋতুস্রাব অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাসকারী ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, “সে যেনো এক দিনার বা অর্ধ দিনার সদকা করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৫৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ قَالَ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ وَابْنُ جَعْفَرٍ قَالَ ثَنَا هِشَامٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بُعِثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعِينَ سَنَةً فَمَكَثَ بِمَكَّةَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ سَنَةً وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ قَالَ فَمَاتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর (কুরআন অবতীর্ণের জন্যে) ওহী নাজিল শুরু হয়, তখন তাঁর বয়স ছিলো চল্লিশ (৪০) বছর। তিনি মক্কায় তেরো (১৩) বছর এবং মদীনায় দশ (১০) বছর অবস্থান করেছিলেন। তিনি যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স ছিলো তেষট্টি (৬৩) বছর। [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৫৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ أَخْبَرَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَخْطُبُ إِلَى جِذْعٍ قَبْلَ أَنْ يَتَّخِذَ الْمِنْبَرَ فَلَمَّا اتَّخَذَ الْمِنْبَرَ وَتَحَوَّلَ إِلَيْهِ حَنَّ عَلَيْهِ فَأَتَاهُ فَاحْتَضَنَهُ فَسَكَنَ قَالَ وَلَوْ لَمْ أَحْتَضِنْهُ لَحَنَّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
মিম্বর স্থাপনের পূর্বে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি খেজুর গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে খুতবা দিতেন। যখন মিম্বর স্থাপন করা হলো এবং তিনি তা সরিয়ে দিলেন, তখন গাছের গুঁড়িটি বিচ্ছেদের দুঃখে কাঁদতে লাগলো। তাই তিনি এটির কাছে এসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং এটি শান্ত হয়ে গেলো। তিনি বললেন, “আমি যদি একে আলিঙ্গন না করতাম, তবে তা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত কাঁদতে থাকতো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৫৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ حَدَّثَنِي وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ وَحَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَلَ لَحْمًا أَوْ عَرْقًا فَصَلَّى وَلَمْ يَمَسَّ مَاءً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাড়সহ কিছু গোশত বা শুধু গোশত খেলেন ও নামাজ পড়লেন এবং নতুন করে পানি স্পর্শ করলেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৫৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي الْعَبَّاسِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَنْزَلَ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الْكَافِرُونَ وَ أُولَئِكَ هُمْ الظَّالِمُونَ وَ أُولَئِكَ هُمْ الْفَاسِقُونَ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنْزَلَهَا اللَّهُ فِي الطَّائِفَتَيْنِ مِنْ الْيَهُودِ وَكَانَتْ إِحْدَاهُمَا قَدْ قَهَرَتْ الْأُخْرَى فِي الْجَاهِلِيَّةِ حَتَّى ارْتَضَوْا أَوْ اصْطَلَحُوا عَلَى أَنَّ كُلَّ قَتِيلٍ قَتَلَهُ الْعَزِيزَةُ مِنْ الذَّلِيلَةِ فَدِيَتُهُ خَمْسُونَ وَسْقًا وَكُلَّ قَتِيلٍ قَتَلَهُ الذَّلِيلَةُ مِنْ الْعَزِيزَةِ فَدِيَتُهُ مِائَةُ وَسْقٍ فَكَانُوا عَلَى ذَلِكَ حَتَّى قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ فَذَلَّتْ الطَّائِفَتَانِ كِلْتَاهُمَا لِمَقْدَمِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَوْمَئِذٍ لَمْ يَظْهَرْ وَلَمْ يُوطِئْهُمَا عَلَيْهِ وَهُوَ فِي الصُّلْحِ فَقَتَلَتْ الذَّلِيلَةُ مِنْ الْعَزِيزَةِ قَتِيلًا فَأَرْسَلَتْ الْعَزِيزَةُ إِلَى الذَّلِيلَةِ أَنْ ابْعَثُوا إِلَيْنَا بِمِائَةِ وَسْقٍ فَقَالَتْ الذَّلِيلَةُ وَهَلْ كَانَ هَذَا فِي حَيَّيْنِ قَطُّ دِينُهُمَا وَاحِدٌ وَنَسَبُهُمَا وَاحِدٌ وَبَلَدُهُمَا وَاحِدٌ دِيَةُ بَعْضِهِمْ نِصْفُ دِيَةِ بَعْضٍ إِنَّا إِنَّمَا أَعْطَيْنَاكُمْ هَذَا ضَيْمًا مِنْكُمْ لَنَا وَفَرَقًا مِنْكُمْ فَأَمَّا إِذْ قَدِمَ مُحَمَّدٌ فَلَا نُعْطِيكُمْ ذَلِكَ فَكَادَتْ الْحَرْبُ تَهِيجُ بَيْنَهُمَا ثُمَّ ارْتَضَوْا عَلَى أَنْ يَجْعَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ ذَكَرَتْ الْعَزِيزَةُ فَقَالَتْ وَاللَّهِ مَا مُحَمَّدٌ بِمُعْطِيكُمْ مِنْهُمْ ضِعْفَ مَا يُعْطِيهِمْ مِنْكُمْ وَلَقَدْ صَدَقُوا مَا أَعْطَوْنَا هَذَا إِلَّا ضَيْمًا مِنَّا وَقَهْرًا لَهُمْ فَدُسُّوا إِلَى مُحَمَّدٍ مَنْ يَخْبُرُ لَكُمْ رَأْيَهُ إِنْ أَعْطَاكُمْ مَا تُرِيدُونَ حَكَّمْتُمُوهُ وَإِنْ لَمْ يُعْطِكُمْ حَذِرْتُمْ فَلَمْ تُحَكِّمُوهُ فَدَسُّوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَاسًا مِنْ الْمُنَافِقِينَ لِيَخْبُرُوا لَهُمْ رَأْيَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَ اللَّهُ رَسُولَهُ بِأَمْرِهِمْ كُلِّهِ وَمَا أَرَادُوا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنْ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا إِلَى قَوْلِهِ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الْفَاسِقُونَ ثُمَّ قَالَ فِيهِمَا وَاللَّهِ نَزَلَتْ وَإِيَّاهُمَا عَنَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহ তাআলা ইহুদীদের দুটি দলের (বনু নাযীর গোত্র ও বনু কুরাইযাহ গোত্র) ব্যাপারে (৫). আল মায়েদার ৪১ থেকে ৪৭ পর্যন্ত আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। জাহিলিয়াতের সময় তাদের একজন অপরজনকে পরাজিত করেছিলো। যতক্ষণ না তারা একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছিলো। সে অনুসারে পরাজিত দলের মধ্যে কোন ব্যক্তির দিয়াহ নির্ধারন করা হবে। শীর্ষস্থানীয় দলের দ্বারা নিহত পরাজিত দলের মধ্যে যে কোন ব্যক্তির দিয়াহ হবে পঞ্চাশ ওয়াসক। আর পরাজিত দলের দ্বারা নিহত শীর্ষস্থানীয় দলের মধ্যে যে কোন ব্যক্তির দিয়াহ হবে একশত ওয়াসক। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় না আসা পর্যন্ত তারা তা মেনে চলে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনে উভয় দলকেই দমন করা হয় এবং তখনও তিনি তাদের উপর জয়লাভ করেননি এবং উভয় দলের সাথেই তাঁর শান্তির চুক্তি ছিলো। অতঃপর পরাজিত দলটি শীর্ষস্থানীয় দলের (বনু নাযীর গোত্রের) একজন সদস্যকে হত্যা করে এবং যে দলটি শীর্ষস্থানীয় ছিলো তারা পরাজিত দলের (বনু কুরাইযাহ গোত্রের) কাছে এই বলে বার্তা পাঠায়, আমাদেরকে একশত ওয়াসক দিয়াহ পাঠাও। পরাজিত দলটি (বনু কুরাইযাহ গোত্র) বললো, একই ধর্মের অনুসারী এবং একই বংশের অংশীদার এবং একই শহরে বসবাসকারী দুটি উপজাতির মধ্যে কি কখনো কোনো চুক্তি হয়েছিলো যে, সে অনুসারে কারো দিয়াহ অন্যের দিয়াহর অর্ধেক হবে? আমরা শুধুমাত্র এই চুক্তি মেনে নিয়েছিলাম কারণ তোমরা আমাদের উপর এটি বাধ্য করেছিলেন এবং আমরা তোমাদেরকে ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন এবং আমরা আর এই চুক্তি মেনে নেবো না। তাদের মধ্যে প্রায় যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিলো, তারপর তারা তাদের মধ্যে বিচার করার জন্যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়োগ করতে রাজি হলো। অতঃপর যে দলটির শীর্ষস্থানীয় (বনু নাযীর গোত্র) ছিলো তারা বুঝতে পেরেছিলো, আল্লাহর কসম, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদেরকে এমন কোনো ফয়সালা দেবেন না, যাতে তারা তাদেরকে যা দিয়েছে, তার দ্বিগুণ দিতে হবে। আর তারা ঠিক ছিলো। তারা কেবল এই চুক্তিটি গ্রহণ করেছিলো, কারণ আমরা তাদের উপর এটি বাধ্যতামূলক করেছি। সুতরাং তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এই বিচার পাঠাও যাতে তিনি কী ফয়সালা করেন, আমরা তা জানতে পারি। তিনি যদি তোমাদেরকে তা দেন, যা তোমরা চাও, তবে তাঁকে বিচারক মেনে নিবে। আর তিনি যদি তোমাদেরকে তা না দেন, যা তোমরা চাও, তবে তাঁকে বিচারক মেনে নিবে না। তারা একজন মুনাফিককে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পাঠালো যাতে তারা জানতে পারে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মতামত কি। ঐ মুনাফিক যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলেন, তখন আল্লাহ তাঁর রসূলকে অবহিত করলেন যে, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি এবং আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত গুলো অবতীর্ণ করলেন,
۞يَٰٓأَيُّهَا ٱلرَّسُولُ لَا يَحۡزُنكَ ٱلَّذِينَ يُسَٰرِعُونَ فِي ٱلۡكُفۡرِ مِنَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓاْ ءَامَنَّا بِأَفۡوَٰهِهِمۡ وَلَمۡ تُؤۡمِن قُلُوبُهُمۡۛ وَمِنَ ٱلَّذِينَ هَادُواْۛ سَمَّٰعُونَ لِلۡكَذِبِ سَمَّٰعُونَ لِقَوۡمٍ ءَاخَرِينَ لَمۡ يَأۡتُوكَۖ يُحَرِّفُونَ ٱلۡكَلِمَ مِنۢ بَعۡدِ مَوَاضِعِهِۦۖ يَقُولُونَ إِنۡ أُوتِيتُمۡ هَٰذَا فَخُذُوهُ وَإِن لَّمۡ تُؤۡتَوۡهُ فَٱحۡذَرُواْۚ وَمَن يُرِدِ ٱللَّهُ فِتۡنَتَهُۥ فَلَن تَمۡلِكَ لَهُۥ مِنَ ٱللَّهِ شَيۡـًٔاۚ أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَمۡ يُرِدِ ٱللَّهُ أَن يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمۡۚ لَهُمۡ فِي ٱلدُّنۡيَا خِزۡيٞۖ وَلَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٞ٤١
হে প্রিয় রসূল! যারা অবিশ্বাসের মধ্যে দ্রুত ধাবিত হয়, তারা যেনো আপনাকে দুঃখ না দেয়। তাদের মধ্যে যারা তাদের মুখ দিয়ে বলে যে, “আমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করি”, কিন্তু তাদের হৃদয় আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেনি। আর তাদের মধ্যে যারা ইহুদী, তারা মিথ্যার জন্যে শ্রবণকারী। তারা অন্য এমন এক জাতির জন্যে শ্রবণকারী, যে জাতি আপনার কাছে আসে না। তারা আল্লাহর কথাগুলোকে তার প্রকৃত স্থান থেকে সরিয়ে দেয়, সেগুলোকে তার প্রকৃত স্থানে স্থাপনের পরেও। ইহুদীরা বলে, “তোমাদেরকে যদি বিচারের রায় এই দেওয়া হয়, তবে তোমরা তা গ্রহণ করো আর যদি তোমাদেরকে এই দেওয়া না হয়, তবে তা থেকে তোমরা বিরত থেকো।” আল্লাহ যাকে পরীক্ষায় ফেলতে চান, তাহলে তাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাচানোর জন্যে আপনার কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই। এরাই তারা, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ চান না যে, তাদের হৃদয় সমূহ পবিত্র হোক। এদের জন্যে এই দুনিয়ার মধ্যে লাঞ্ছনা রয়েছে আর পরকালে এদের জন্যে আরো কঠোর শাস্তি রয়েছে। [৫ : ৪১]
سَمَّٰعُونَ لِلۡكَذِبِ أَكَّٰلُونَ لِلسُّحۡتِۚ فَإِن جَآءُوكَ فَٱحۡكُم بَيۡنَهُمۡ أَوۡ أَعۡرِضۡ عَنۡهُمۡۖ وَإِن تُعۡرِضۡ عَنۡهُمۡ فَلَن يَضُرُّوكَ شَيۡـٔٗاۖ وَإِنۡ حَكَمۡتَ فَٱحۡكُم بَيۡنَهُم بِٱلۡقِسۡطِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ٤٢
ইহুদীরা অতি আগ্রহের সাথে মিথ্যা শোনে এবং প্রাণভরে হারাম খায়। সুতরাং তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে আপনি তাদের মধ্যে বিচার করুন অথবা আপনি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকুন তাতে আপনার কোনো অপরাধ হবে না। আপনি যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তারা কখনোই আপনার সামান্যতম ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি আপনি তাদের মধ্যে বিচার করেন, তবে ন্যায় ভাবে বিচার করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালোবাসেন। [৫ : ৪২]
وَكَيۡفَ يُحَكِّمُونَكَ وَعِندَهُمُ ٱلتَّوۡرَىٰةُ فِيهَا حُكۡمُ ٱللَّهِ ثُمَّ يَتَوَلَّوۡنَ مِنۢ بَعۡدِ ذَٰلِكَۚ وَمَآ أُوْلَٰٓئِكَ بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ٤٣
কেমন করে তারা আপনাকে বিচারক মানবে অথচ তাদের কাছে তাওরাত রয়েছে, যার মধ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে সকল বিষয়ের বিচার করার বিধান আছে? তবুও তারা এসবের পরেও সত্য থেকে ফিরে যায়! বস্তুত এরাই তারা, যারা আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী নয়। [৫ : ৪৩]
إِنَّآ أَنزَلۡنَا ٱلتَّوۡرَىٰةَ فِيهَا هُدٗى وَنُورٞۚ يَحۡكُمُ بِهَا ٱلنَّبِيُّونَ ٱلَّذِينَ أَسۡلَمُواْ لِلَّذِينَ هَادُواْ وَٱلرَّبَّٰنِيُّونَ وَٱلۡأَحۡبَارُ بِمَا ٱسۡتُحۡفِظُواْ مِن كِتَٰبِ ٱللَّهِ وَكَانُواْ عَلَيۡهِ شُهَدَآءَۚ فَلَا تَخۡشَوُاْ ٱلنَّاسَ وَٱخۡشَوۡنِ وَلَا تَشۡتَرُواْ بِـَٔايَٰتِي ثَمَنٗا قَلِيلٗاۚ وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡكَٰفِرُونَ٤٤
নিশ্চয় আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যার মধ্যে পথ প্রদর্শন ও আলো রয়েছে। যারা ইহুদী ছিলো, তাদেরকে আল্লাহর অনুগত নবীগণ তাওরাত দ্বারা বিধান দিতেন। আল্লাহ ভক্ত ও আলেমরা তাওরাত দ্বারা মানুষদেরকে বিধান দিতেন, যা তারা আল্লাহর গ্রন্থ থেকে নিজেদের হৃদয়ের মধ্যে সংরক্ষণ করতো। আর ইহুদীরা এসবের সাক্ষী ছিলো। সুতরাং হে ইহুদীরা, তোমরা মানুষকে ভয় করো না বরং তোমরা আমাকে ভয় করো। আর তোমরা আমার বাণী সমূহের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য ক্রয় করো না। আল্লাহ যে বিধান অবতীর্ণ করেছেন, তার দ্বারা যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে বিচার করে না, তবে এরাই তারা, যারা আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী। [৫ : ৪৪]
وَكَتَبۡنَا عَلَيۡهِمۡ فِيهَآ أَنَّ ٱلنَّفۡسَ بِٱلنَّفۡسِ وَٱلۡعَيۡنَ بِٱلۡعَيۡنِ وَٱلۡأَنفَ بِٱلۡأَنفِ وَٱلۡأُذُنَ بِٱلۡأُذُنِ وَٱلسِّنَّ بِٱلسِّنِّ وَٱلۡجُرُوحَ قِصَاصٞۚ فَمَن تَصَدَّقَ بِهِۦ فَهُوَ كَفَّارَةٞ لَّهُۥۚ وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ٤٥
আমি ইহুদীদের জন্যে তাওরাতের মধ্যে লিখে দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চোখের বিনিময়ে চোখ, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং জখম সমূহের বিনিময়ে সমান জখম। আর যে কেউ এ বিনিময়কে ক্ষমা করে দেয়, তবে তা তার জন্যে পাপের প্রায়শ্চিত্ত হবে। আল্লাহ যে বিধান অবতীর্ণ করেছেন, যে ব্যক্তি ঐ বিধান দ্বারা বিচার করে না, তাহলে এরাই হচ্ছে অন্যায়কারী। [৫ : ৪৫]
وَقَفَّيۡنَا عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِم بِعِيسَى ٱبۡنِ مَرۡيَمَ مُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ مِنَ ٱلتَّوۡرَىٰةِۖ وَءَاتَيۡنَٰهُ ٱلۡإِنجِيلَ فِيهِ هُدٗى وَنُورٞ وَمُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ مِنَ ٱلتَّوۡرَىٰةِ وَهُدٗى وَمَوۡعِظَةٗ لِّلۡمُتَّقِينَ٤٦
নবীগণের পরে আমি মারইয়ামের পুত্র ঈসাকে পাঠিয়ে ছিলাম, ঈসার পূর্বে তাওরাতের মধ্যে যা ছিলো তার সত্যায়নকারী রূপে। তাঁকে আমি ইঞ্জীল দিয়েছিলাম, যার মধ্যে পথ প্রদর্শন ও আলো ছিলো। ইঞ্জীল ছিলো এমন যে, এর পূর্বে তাওরাতের সত্যায়নকারী আর পরহেযগারদের জন্যে পথ প্রদর্শন ও উপদেশ স্বরূপ। [৫ : ৪৬]
وَلۡيَحۡكُمۡ أَهۡلُ ٱلۡإِنجِيلِ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فِيهِۚ وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡفَٰسِقُونَ٤٧
যারা ইঞ্জীলের অধিকারী তাদের উচিত যে, আল্লাহ ইঞ্জীলের মধ্যে যে বিধান অবতীর্ণ করেছেন, ঐ বিধান দ্বারা তারা যেনো মানুষের মধ্যে বিচার করে। আল্লাহ যে বিধান অবতীর্ণ করেছেন, ঐ বিধান দ্বারা যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে বিচার করে না, তাহলে এরাই হচ্ছে আল্লাহর প্রতি অবাধ্য। [৫ : ৪৭]
[মুসনাদে আহমাদ : ৩২৫৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ شُجَاعٍ حَدَّثَنِي خُصَيْفٌ عَنْ عِكْرِمَةَ وَمُجَاهِدٍ وَعَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ النُّفَسَاءَ وَالْحَائِضَ تَغْتَسِلُ وَتُحْرِمُ وَتَقْضِي الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا غَيْرَ أَنْ لَا تَطُوفَ بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “একজন ঋতুমতী মহিলাকে গোসল করতে হবে এবং ইহরাম বাঁধতে হবে এবং হজের যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে হবে। তবে সে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত, আল্লাহর ঘর কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৫৮]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ فِي ص
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সূরা ৩৮. ছোয়াদ-এর সেজদা আবশ্যক নয়, তবে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সূরা ৩৮. ছোয়াদ-এ সেজদা করতে দেখেছি।
[মুসনাদে আহমাদ : ৩২৫৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ عَبْد اللَّهِ بْن أَحْمَد وَسَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ ثَنَا جَرِيرٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنِ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ كُرَيْبٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قُمْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ عَنْ شِمَالِهِ فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ سُمَيْعٍ الزَّيَّاتِ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مِثْلَ ذَلِكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি নামাযে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাম পাশে দাঁড়ালাম, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর ডান দিকে সরিয়ে দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৬০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ كُلُوا فِي الْقَصْعَةِ مِنْ جَوَانِبِهَا وَلَا تَأْكُلُوا مِنْ وَسَطِهَا فَإِنَّ الْبَرَكَةَ تَنْزِلُ فِي وَسَطِهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা পাত্রের কিনারা থেকে খাও, মাঝখান থেকে খেয়ো না। কারণ খাবারের পাত্রের মাঝখানে বরকত নাযিল হয় (এবং সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে)।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৬১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ وَابْنُ بَكْرٍ قَالَا أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ أَنَّهُ سَمِعَ طَاوُسًا يُخْبِرُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ شَهِدَ قَضَاءَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ فَجَاءَ حَمَلُ بْنُ مَالِكِ بْنِ النَّابِغَةِ فَقَالَ كُنْتُ بَيْنَ امْرَأَتَيْنِ فَضَرَبَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى بِمِسْطَحٍ فَقَتَلَتْهَا وَجَنِينَهَا فَقَضَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنِينِهَا بِغُرَّةٍ عَبْدٍ وَأَنْ تُقْتَلَ فَقُلْتُ لِعَمْرٍو أَخْبَرَنِي ابْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ كَذَا وَكَذَا فَقَالَ لَقَدْ شَكَّكْتَنِي قَالَ ابْنُ بَكْرٍ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ امْرَأَتَيَّ فَضَرَبَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রায় প্রত্যক্ষ করেছিলেন। হামাল ইবনে মালিক ইবনে নাবীগাহ এসে বললেন, আমি দুইজন মহিলার মাঝে ছিলাম এবং তাদের একজন তাঁবুর খুঁটি দিয়ে অন্যজনকে আঘাত করেছিলো এবং তাকে ও তার ভ্রূণকে হত্যা করেছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ভ্রূণের জন্যে একজন পুরুষ বা নারী ক্রীতদাসীকে (দিয়াহ হিসাবে) প্রদান করার এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৬২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنَا عَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ خِذَامًا أَبَا وَدِيعَةَ أَنْكَحَ ابْنَتَهُ رَجُلًا فَأَتَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاشْتَكَتْ إِلَيْهِ أَنَّهَا أُنْكِحَتْ وَهِيَ كَارِهَةٌ فَانْتَزَعَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ زَوْجِهَا وَقَالَ لَا تُكْرِهُوهُنَّ قَالَ فَنَكَحَتْ بَعْدَ ذَلِكَ أَبَا لُبَابَةَ الْأَنْصَارِيَّ وَكَانَتْ ثَيِّبًا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ نَحْوَهُ وَزَادَ ثُمَّ جَاءَتْهُ بَعْدُ فَأَخْبَرَتْهُ أَنْ قَدْ مَسَّهَا فَمَنَعَهَا أَنْ تَرْجِعَ إِلَى زَوْجِهَا الْأَوَّلِ وَقَالَ اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ إِيمَانُهُ أَنْ يُحِلَّهَا لِرَفَاعَةَ فَلَا يَتِمَّ لَهُ نِكَاحُهَا مَرَّةً أُخْرَى ثُمَّ أَتَتْ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ فِي خِلَافَتِهِمَا فَمَنَعَاهَا كِلَاهُمَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
খিদাম আবু ওয়াদিয়াহ তার মেয়েকে এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিয়েছিলো। মেয়েটি নরসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে অভিযোগ করলো যে, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তার স্বামীর কাছ থেকে আলাদা করে দিলেন এবং বললেন, “তাদের প্রতি জোর করো না।” এর পরে ঐ মেয়েটি আবু লুবাবাহ আল আনসারীকে বিয়ে করেছিলেন এবং তিনি পূর্বে বিবাহিত ছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৬৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ الْأَحْوَلُ أَنَّ طَاوُسًا أخْبَرَهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ وَهُوَ يَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ بِإِنْسَانٍ يَقُودُ إِنْسَانًا بِخِزَامَةٍ فِي أَنْفِهِ فَقَطَعَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ فَأَمَرَهُ أَنْ يَقُودَهُ بِيَدِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন তিনি কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করছিলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে তার নাকে একটি দড়ি দিয়ে আরেকজনকে নিয়ে যাচ্ছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা কেটে দিলেন এবং তাকে হাত ধরে নিয়ে যেতে বললেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ الْأَحْوَلُ أَنَّ طَاوُسًا أخْبَرَهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ وَهُوَ يَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ بِإِنْسَانٍ يَقُودُ إِنْسَانًا بِخِزَامَةٍ فِي أَنْفِهِ فَقَطَعَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ فَأَمَرَهُ أَنْ يَقُودَهُ بِيَدِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন তিনি কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করছিলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে তার নাকে একটি দড়ি দিয়ে আরেকজনকে নিয়ে যাচ্ছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা কেটে দিলেন এবং তাকে হাত ধরে নিয়ে যেতে বললেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৬৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ زِيَادِ بْنِ حُصَيْنٍ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسِ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَفَرٍ يَرْمُونَ فَقَالَ رَمْيًا بَنِي إِسْمَاعِيلَ فَإِنَّ أَبَاكُمْ كَانَ رَامِيًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যারা তীর নিক্ষেপ করছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে ইসমাঈলের সন্তানগণ, তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, কারণ তোমাদের পিতা ছিলেন একজন তীরন্দাজ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৬৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمَّارٍ عَنْ سَالِمٍ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ رَجُلٍ قَتَلَ مُؤْمِنًا ثُمَّ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى قَالَ وَيْحَكَ وَأَنَّى لَهُ الْهُدَى سَمِعْتُ نَبِيَّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَجِيءُ الْمَقْتُولُ مُتَعَلِّقًا بِالْقَاتِلِ يَقُولُ يَا رَبِّ سَلْ هَذَا فِيمَ قَتَلَنِي وَاللَّهِ لَقَدْ أَنْزَلَهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا نَسَخَهَا بَعْدَ إِذْ أَنْزَلَهَا قَالَ وَيْحَكَ وَأَنَّى لَهُ الْهُدَى
হজরত সেলিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এমন এক ব্যক্তির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, যে ব্যক্তি একজন মুসলমানকে হত্যা করে, তারপর তাওবা করে এবং ঈমান গ্রহণ করে, সৎকাজ করে এবং সঠিক পথে চলে। তিনি বললেন, তোমার প্রতি আফসোস! সে কিভাবে সত্য পথের অনুসরণ করতে পারে? আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “মৃত ব্যক্তিকে এমন অবস্থায় আনা হবে যে, সে তার হত্যাকারীকে আঁকড়ে ধরে বলবে, হে আমার প্রভু! তাকে জিজ্ঞাসা করুন, কি অপরাধে সে আমাকে হত্যা করেছে?” আল্লাহর কসম, আল্লাহ এই আয়াত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর নাযিল করেছেন এবং তিনি নাযিল করার পর এই আয়াত রহিত করেননি। তোমার প্রতি আফসোস! সে কিভাবে সঠিক পথের অনুসরণ করবে?
وَمَن يَقۡتُلۡ مُؤۡمِنٗا مُّتَعَمِّدٗا فَجَزَآؤُهُۥ جَهَنَّمُ خَٰلِدٗا فِيهَا وَغَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِ وَلَعَنَهُۥ وَأَعَدَّ لَهُۥ عَذَابًا عَظِيمٗا٩٣
যে কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে একজন বিশ্বাসীকে হত্যা করে, তবে তার প্রতিদান হচ্ছে দোযখ। এ দোযখের মধ্যে সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার উপরে ক্রুদ্ধ হবেন ও তাকে অভিশাপ করবেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত করবেন। [৪ : ৯৩]
ফায়দা: এটি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর অভিমত, জাহমুরের উম্মত একমত যে, খুনি যদি তাওবা করার পর ঈমান ও সৎকাজ দ্বারা সুশোভিত হয়, তাহলে তার তওবা কবুল হয়। বান্দার হক আদায় বা শাস্তির পরেও কালেমার বরকতে সে কোন না কোন সময় জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৬৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ شُعْبَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا سَجَدَ يُرَى بَيَاضُ إِبْطَيْهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন, তখন তাঁর বরকতময় বগলের শুভ্রতা দেখা যেতো। (অর্থাৎ তাঁর হাত দুটি শরীল থেকে আলাদা থাকতো।) [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৬৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَمِعْتُ لَيْثًا سَمِعْتُ طَاوُسًا يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ عَلِّمُوا وَيَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا وَإِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْكُتْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা লোকদেরকে ইসলামের জ্ঞান শিক্ষা দাও। শিক্ষা দানে সহজতা সৃষ্টি করো, কাঠিন্যতা সৃষ্টি করো না।” তারপর তিনি তিনবার বললেন যে, “যখন তোমাদের কেউ রাগান্বিত হয়, তখন সে যেনো চুপ থাকে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৬৯]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَاعَنَ بَيْنَ الْعَجْلَانِيِّ وَامْرَأَتِهِ قَالَ وَكَانَتْ حُبْلَى فَقَالَ وَاللَّهِ مَا قَرَبْتُهَا مُنْذُ عَفَرْنَا وَالْعَفْرُ أَنْ يُسْقَى النَّخْلُ بَعْدَ أَنْ يُتْرَكَ مِنْ السَّقْيِ بَعْدَ الْإِبَارِ بِشَهْرَيْنِ قَالَ وَكَانَ زَوْجُهَا حَمْشَ السَّاقَيْنِ وَالذِّرَاعَيْنِ أَصْهَبَ الشَّعَرَةِ وَكَانَ الَّذِي رُمِيَتْ بِهِ ابْنَ السَّحْمَاءِ قَالَ فَوَلَدَتْ غُلَامًا أَسْوَدَ أَجْلَى جَعْدًا عَبْلَ الذِّرَاعَيْنِ قَالَ فَقَالَ ابْنُ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ لِابْنِ عَبَّاسٍ أَهِيَ الْمَرْأَةُ الَّتِي قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ كُنْتُ رَاجِمًا بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ لَرَجَمْتُهَا قَالَ لَا تِلْكَ امْرَأَةٌ قَدْ أَعْلَنَتْ فِي الْإِسْلَامِ حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ وَقَالَ فِيهِ عَبْلَ الذِّرَاعَيْنِ خَدْلَ السَّاقَيْنِ وَقَالَ الْهَاشِمِيُّ خَدْلٌ وَقَالَ بَعْدَ الْإِبَارِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আল-আজলানীর স্ত্রী গর্ভবতী ছিলো। আল-আজলানী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললো, “হে আল্লাহর রসূল, আল্লাহর কসম! খেজুর গাছে পানি দেওয়ার পর থেকে আমি আমার স্ত্রীর কাছে আসিনি। আর আমি আমার স্ত্রীর সাথে একজন লোককে পেলাম।” খেজুর গাছকে পানি দেওয়া মানে যখন সেগুলো পরাগায়ন করা হয় এবং চল্লিশ দিন রেখে দেওয়া হয় এবং পরাগায়নের পর পানি দেওয়া হয়নি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আল্লাহ আমাদেরকে পথ দেখাও।” এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল-আজলানী ও তার স্ত্রীকে লিয়ানে লিপ্ত হওয়ার নির্দেশ দিলেন। আল-আজলানীর পাতলা পা ও বাহু এবং লালচে চুল ছিলো এবং যার বিরুদ্ধে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিলো, সে ছিলো ইবনে আস-সাহমা। আল-আজলানীর স্ত্রী কালো চামড়া, উচু কপাল, কোঁকড়া চুল এবং নিটোল বাহু বিশিষ্ট একটি ছেলের জন্ম দিয়েছিলো। ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আল-হাদ, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন, “তিনি কি সেই মহিলা ছিলেন, যার সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি যদি প্রমাণ ছাড়া কাউকে পাথর মারতাম, তবে আমি তাকে পাথর মেরে ফেলতাম’?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “না। সে অন্য একজন মহিলা ছিলো, যে ইসলামের সময় অনৈতিকতার জন্যে পরিচিত ছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩২৭০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস