(২৫) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (১৭৪২-৩৩৬৭), সর্বমোট হাদিসঃ ১৬২৬টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৬৯৬টি]



2671 OK

(২৬৭১)

হাদিস দেখুন [৩১:২০৫৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهُوَ يُفْتِي النَّاسَ لَا يُسْنِدُ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا مِنْ فُتْيَاهُ حَتَّى جَاءَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَقَالَ إِنِّي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ وَإِنِّي أُصَوِّرُ هَذِهِ التَّصَاوِيرَ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ ادْنُهْ إِمَّا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا فَدَنَا فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ صَوَّرَ صُورَةً فِي الدُّنْيَا يُكَلَّفُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنْ يَنْفُخَ فِيهِ الرُّوحَ وَلَيْسَ بِنَافِخٍ


হজরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

নাদর বিন আনাস বলেছেন, আমি একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে বসে ছিলাম, তিনি লোকদেরকে ফতোয়া দিচ্ছিলেন এবং তিনি তার কোনো ফতোয়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আরোপ করছিলেন না, যতক্ষণ না ইরাকের এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললো, আমি ইরাক থেকে এসেছি এবং আমি ছবি তৈরি করে থাকি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে দুই বা তিনবার বললেন, কাছে এসো। তাই সে আরো কাছে এলো। অতঃপর হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি এই পৃথিবীতে কোন মূর্তি বানায় বা ছবি বানায়, তাকে কিয়ামতের দিন বলা হবে, সে যেনো তাতে রূহ ফুঁকে দেয়, কিন্তু সে এটা করতে পারবে না।” যদি তুমি ছবি তৈরি করা ছাড়া বাঁচতে না পারো, তবে তুমি গাছ বা এমন বস্তুর ছবি তৈরি করো যার আত্মা নেই। [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৭১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2672 OK

(২৬৭২)

হাদিস দেখুন [৩১:২১২৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ أَخْبَرَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ أَخْبَرَنَا قَيْسُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ قَالَ كَتَبَ نَجْدَةُ بْنُ عَامِرٍ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ أَشْيَاءَ فَشَهِدْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ حِينَ قَرَأَ كِتَابَهُ وَحِينَ كَتَبَ جَوَابَهُ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَاللَّهِ لَوْلَا أَنْ أَرُدَّهُ عَنْ شَرٍّ يَقَعُ فِيهِ مَا كَتَبْتُ إِلَيْهِ وَلَا نَعْمَةَ عَيْنٍ قَالَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ إِنَّكَ سَأَلْتَنِي عَنْ سَهْمِ ذَوِي الْقُرْبَى الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ هُمْ وَإِنَّا كُنَّا نُرَى قَرَابَةَ رَسُولِ اللَّهِ هُمْ فَأَبَى ذَلِكَ عَلَيْنَا قَوْمُنَا وَسَأَلَهُ عَنْ الْيَتِيمِ مَتَى يَنْقَضِي يُتْمُهُ وَإِنَّهُ إِذَا بَلَغَ النِّكَاحَ وَأُونِسَ مِنْهُ رُشْدٌ دُفِعَ إِلَيْهِ مَالُهُ وَقَدْ انْقَضَى يُتْمُهُ وَسَأَلَهُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْتُلُ مِنْ صِبْيَانِ الْمُشْرِكِينَ أَحَدًا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَقْتُلْ مِنْهُمْ أَحَدًا وَأَنْتَ فَلَا تَقْتُلْ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تَعْلَمُ مَا عَلِمَ الْخَضِرُ مِنْ الْغُلَامِ الَّذِي قَتَلَهُ وَسَأَلَهُ عَنْ الْمَرْأَةِ وَالْعَبْدِ هَلْ كَانَ لَهُمَا سَهْمٌ مَعْلُومٌ إِذَا حَضَرُوا الْبَأْسَ وَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ سَهْمٌ مَعْلُومٌ إِلَّا أَنْ يُحْذَيَا مِنْ غَنَائِمِ الْمُسْلِمِينَ


হজরত ইয়াযীদ বিন হুরমুজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

নাজদাহ বিন আমীর রাদিয়াল্লাহু আনহু হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কিছু প্রশ্ন করে চিঠি লিখেছিলেন। আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি তাঁর চিঠি পড়েছেন এবং যখন তিনি তাঁর উত্তর লিখেছেন। তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি যদি তাকে পাপাচারে পতিত হওয়া থেকে বিরত করতে না চাইতাম, তবে আমি তাকে চিঠি লিখতাম না। তিনি যেনো কখনো সম্মানিত না হন।” তিনি তাকে লিখেছিলেন (বলেছিলেন), “আপনি আত্মীয়দের অংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যাদের আল্লাহ উল্লেখ করেছেন - তারা কারা? আমরা মনে করতাম, যে আত্মীয়দের কথা বলা হয়েছে তারা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আত্মীয়, কিন্তু আমাদের লোকেরা তা অস্বীকার করেছে। আপনি এতিম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং কখন তাকে আর এতিম গণ্য করা হয় না। যখন সে বিবাহের বয়সে পৌঁছে এবং মানসিক পরিপক্কতা অর্জন করে, তখন তার সম্পদ তাকে দেওয়া যেতে পারে এবং তাকে আর এতিম হিসাবে গণ্য করা হয় না। আপনি জিজ্ঞেস করলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি মুশরিকদের কোন শিশুকে হত্যা করেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাউকে হত্যা করেননি। তাই আপনি তাদের কাউকে হত্যা করবেন না, যদি না আপনি তাদের সম্পর্কে জানতে পারেন যে, হযরত খিজীর (আঃ) যে শিশুটিকে হত্যা করেছিলেন, তার সম্পর্কে তিনি কি জানতেন। আপনি নারী এবং ক্রীতদাসদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং যদি তারা যুদ্ধে উপস্থিত থাকে, তবে তাদের গনীমতের কোন অংশ ছিল কিনা? তাদের কোন গনীমতের অংশ দেওয়া হয়নি, তবে তাদেরকে গনীমতের কিছু সম্পদ হাদিয়া হিসেবে দেওয়া হয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৭২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2673 OK

(২৬৭৩)

হাদিস দেখুন [৩১:২৫৭৫] view_link


সহিহ হাদিস

قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ يَقُولُ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মধ্যরাতে সালাতে উঠতেন তখন বলতেন,

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ

“হে আল্লাহ, তোমারই সকল প্রশংসা, তুমি আকাশ ও পৃথিবীর আলো। তোমারই সকল প্রশংসা, তুমি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা। তোমারই সকল প্রশংসা, তুমি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং তাদের মধ্যে সকলের পালনকর্তা। তুমি সত্য, তোমার ওয়াদা সত্য, তোমার কথা সত্য, তোমার সাথে সাক্ষাৎ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, কেয়ামত সত্য। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার উপর আমি বিশ্বাস করেছি, আপনার উপর আমি আমার ভরসা রেখেছি, আপনার কাছে আমি অনুতপ্ত হয়েছি, আপনার সাহায্যে আমি আমার প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই করেছি। আমি আপনাকে বিচারক মানছি। কাজেই আমার অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহ, যা আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে করেছি ক্ষমা করে দিন। আপনিই সেই একক, যিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৭৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2674 OK

(২৬৭৪)

হাদিস দেখুন [৩১:২৩০০] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَأَبُو سَعِيدٍ قَالَا حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا سِمَاكٌ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي عَلَى الْخُمْرَةِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর গাছের পাতা দিয়ে তৈরি চাটাইয়ের উপর নামায পড়তেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৭৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2675 OK

(২৬৭৫)

হাদিস দেখুন [৩১:২২৯৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا سِمَاكٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ الشِّعْرِ حُكْمًا وَمِنْ الْبَيَانِ سِحْرًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কিছু কবিতা প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ এবং কিছু বক্তব্যে যাদুর প্রভাব রয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৭৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2676 OK

(২৬৭৬)

হাদিস দেখুন [৩১:২৪৮১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَّرَ طَوَافَ يَوْمِ النَّحْرِ إِلَى اللَّيْلِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানীর দিন তাওয়াফে জিয়ারত রাত পর্যন্ত বিলম্ব করেছিলেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ২৬৭৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2677 OK

(২৬৭৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ زُهَيْرٍ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ أَبِي عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللَّهِ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ غَيَّرَ تُخُومَ الْأَرْضِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ كَمَهَ الْأَعْمَى عَنْ السَّبِيلِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ سَبَّ وَالِدَهُ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে পশু জবাই করে, সে অভিশপ্ত। যে সীমানা চিহ্নিতকারী পরিবর্তন করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে ব্যক্তি একজন অন্ধকে ভুল রাস্তা দেখায়, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে তার পিতা-মাতাকে গালি দেয়, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে দাস তার মালিক ব্যতীত অন্য কারো মালিকানা দাবি করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দেন। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিক। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিক। যে ব্যক্তি লুতের সম্প্রদায়ের মতো আচরণ করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিক।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৭৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2678 OK

(২৬৭৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ النَّفْخِ فِي الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবারের পাত্রে (খাদ্য ও পানীয়ের পাত্রে) শ্বাস নিতে বা তাতে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৭৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2679 OK

(২৬৭৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ حَبِيبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُبْغِضُ الْأَنْصَارَ رَجُلٌ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ أَوْ إِلَّا أَبْغَضَهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনে, সে আনসারদেরকে ঘৃণা করতে পারে না। সুতরাং, যে ব্যক্তি আনসারদেরকে ঘৃণা করবে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাকে ঘৃণা করবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৭৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2680 OK

(২৬৮০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ وَرَوْحٌ الْمَعْنَى قَالَا حَدَّثَنَا عَوْفٌ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا كَانَ لَيْلَةُ أُسْرِيَ بِي وَأَصْبَحْتُ بِمَكَّةَ فَظِعْتُ بِأَمْرِي وَعَرَفْتُ أَنَّ النَّاسَ مُكَذِّبِيَّ فَقَعَدَ مُعْتَزِلًا حَزِينًا قَالَ فَمَرَّ عَدُوُّ اللَّهِ أَبُو جَهْلٍ فَجَاءَ حَتَّى جَلَسَ إِلَيْهِ فَقَالَ لَهُ كَالْمُسْتَهْزِئِ هَلْ كَانَ مِنْ شَيْءٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ قَالَ مَا هُوَ قَالَ إِنَّهُ أُسْرِيَ بِي اللَّيْلَةَ قَالَ إِلَى أَيْنَ قَالَ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ قَالَ ثُمَّ أَصْبَحْتَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْنَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَلَمْ يُرِ أَنَّهُ يُكَذِّبُهُ مَخَافَةَ أَنْ يَجْحَدَهُ الْحَدِيثَ إِذَا دَعَا قَوْمَهُ إِلَيْهِ قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ دَعَوْتُ قَوْمَكَ تُحَدِّثُهُمْ مَا حَدَّثْتَنِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ فَقَالَ هَيَّا مَعْشَرَ بَنِي كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ قَالَ فَانْتَفَضَتْ إِلَيْهِ الْمَجَالِسُ وَجَاءُوا حَتَّى جَلَسُوا إِلَيْهِمَا قَالَ حَدِّثْ قَوْمَكَ بِمَا حَدَّثْتَنِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي أُسْرِيَ بِي اللَّيْلَةَ قَالُوا إِلَى أَيْنَ قُلْتُ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ قَالُوا ثُمَّ أَصْبَحْتَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْنَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَمِنْ بَيْنِ مُصَفِّقٍ وَمِنْ بَيْنِ وَاضِعٍ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ مُتَعَجِّبًا لِلْكَذِبِ زَعَمَ قَالُوا وَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَنْعَتَ لَنَا الْمَسْجِدَ وَفِي الْقَوْمِ مَنْ قَدْ سَافَرَ إِلَى ذَلِكَ الْبَلَدِ وَرَأَى الْمَسْجِدَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَهَبْتُ أَنْعَتُ فَمَا زِلْتُ أَنْعَتُ حَتَّى الْتَبَسَ عَلَيَّ بَعْضُ النَّعْتِ قَالَ فَجِيءَ بِالْمَسْجِدِ وَأَنَا أَنْظُرُ حَتَّى وُضِعَ دُونَ دَارِ عِقَالٍ أَوْ عُقَيْلٍ فَنَعَتُّهُ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهِ قَالَ وَكَانَ مَعَ هَذَا نَعْتٌ لَمْ أَحْفَظْهُ قَالَ فَقَالَ الْقَوْمُ أَمَّا النَّعْتُ فَوَاللَّهِ لَقَدْ أَصَابَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছে, “যে রাতে আমাকে আকাশে ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো, পরদিন সকালে আমি মক্কায় ছিলাম এবং আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম, কারণ আমি জানতাম যে লোকেরা আমাকে বিশ্বাস করবে না।” তিনি লোকেদের থেকে দূরে গিয়ে মন খারাপ করে বসে রইলেন। তখন আল্লাহর শত্রু আবু জেহেল তাঁর পাশ দিয়ে চলে গেলো। সে এসে তাঁর কাছে বসলো এবং তাঁকে উপহাসকারীর মতো বললো, “কিছু কি হয়েছে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ।” আবু জেহেল বললো, “কি হয়েছে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “গত রাতে আমাকে আকাশে ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।” আবু জেহেল বললো, “কোথায়?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “বাইতুল-মাকদিস (জেরুজালেম)।” আবু জেহেল বললো, “তাহলে আপনি সকালে আমাদের কাছে ফিরে আসেন?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ।” আবু জেহেল দেখাননি যে, সে তাঁকে বিশ্বাস করেনি, এই ভয়ে যে, সে কুরাইশদেরকে তার কথা শোনার জন্যে ডাকলে, তিনি যা বলেছিলেন, তা তিনি অস্বীকার করতে পারেন। আবু জেহেল বললো, “আপনি কি মনে করেন, আমি যদি আপনার লোকদেরকে ডাকি যে, আপনি আমাকে যা বলেছেন, আপনি তা তাদেরকেও বলবেন?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ।” তাই আবু জেহেল বললো, “এসো হে দল, বনু কাব, বনু লুই!” তার ডাক শুনে সমস্ত লোক তার কাছে এসে তাদের উভয়ের সামনে বসলো। আবু জেহেল বললো, “আপনি আমাকে যা বলেছেন, তা আপনার লোকদেরকেও বলুন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “গত রাতে আমাকে আকাশে ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।” তারা বললো, “কোথায়?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “বাইতাল-মাকদিসে (জেরুজালেমে)।” তারা বললো, “তাহলে আপনি সকালে আমাদের কাছে ফিরে এসেছেন?! ”রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ।” তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাত তালি দিলো (অবিশ্বাসের চিহ্ন হিসাবে) এবং কেউ কেউ তাদের হাত মাথায় রাখলো, এই বিস্ময়ে যে, তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা গুলোকে মিথ্যা বলে মনে করেছিলো। লোকদের মধ্যে এমন কিছু লোক ছিলো যারা ঐ দেশে ভ্রমণ করেছিলো এবং মসজিদটি দেখেছিলো, তারা বললো, “আপনি কি আমাদের কাছে মসজিদের বর্ণনা দিতে পারবেন?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি তা বর্ণনা করতে শুরু করলাম, এবং বর্ণনা করতে থাকলাম, যতক্ষণ না আমি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেলাম, যেখানে আমি নিশ্চিত ছিলাম না। অতঃপর মসজিদটিকে আমার চোখের সামনে তুলে ধরা হলো, তখন আমি তা স্পষ্ট দেখছিলাম। এবং এটি আকল বা আকিলের ঘরের চেয়েও অতি নিকটে আমার চোখের সামনে তুলে ধরা হয়েছিলো। আমি এটি দেখে দেখে বর্ণনা করলাম। এবং আমি এমন জিনিস বর্ণনা করলাম, যা আমার মনে ছিলো না।” লোকেরা বললো, “আল্লাহর কসম! বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি ঠিক বলেছেন।” (কিন্তু কেউ ইসলাম গ্রহণ করতে আগ্রহী ছিলো না।)

[মুসনাদে আহমাদ : ২৬৮০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2681 OK

(২৬৮১)

হাদিস দেখুন [৩১:২০৯৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَالَ فِرْعَوْنُ آمَنْتُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الَّذِي آمَنَتْ بِهِ بَنُو إِسْرَائِيلَ قَالَ قَالَ لِي جِبْرِيلُ يَا مُحَمَّدُ لَوْ رَأَيْتَنِي وَقَدْ أَخَذْتُ حَالًا مِنْ حَالِ الْبَحْرِ فَدَسَّيْتُهُ فِي فِيهِ مَخَافَةَ أَنْ تَنَالَهُ الرَّحْمَةُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ফিরআউনকে যখন পানিতে ডুবিয়ে দিলেন, তখন সে বললো, ‘আমি বিশ্বাস করছি যে, ইসরাঈলের সন্তানেরা যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছে, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছি।’
۞وَجَٰوَزۡنَا بِبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ ٱلۡبَحۡرَ فَأَتۡبَعَهُمۡ فِرۡعَوۡنُ وَجُنُودُهُۥ بَغۡيٗا وَعَدۡوًاۖ حَتَّىٰٓ إِذَآ أَدۡرَكَهُ ٱلۡغَرَقُ قَالَ ءَامَنتُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱلَّذِيٓ ءَامَنَتۡ بِهِۦ بَنُوٓاْ إِسۡرَٰٓءِيلَ وَأَنَا۠ مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ٩٠
আমি ইসরাঈলের সন্তানদেরকে সমূদ্র পার করালাম। তারপর ফিরআউন ও তার সৈন্যদল তাদেরকে নির্যাতনের উদ্দেশ্যে ও শত্রুতা বশত তাদের পিছনে ধাওয়া করলো। এমনকি যখন ফিরআউন ডুবে মরার সম্মুখীন হলো, তখন সে বললো, “আমি বিশ্বাস করছি যে, ইসরাঈলের সন্তানেরা যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছে, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছি।” (১০. ইউনুস : ৯০)

হজরত জিব্রাইল (আঃ) আমাকে বললেন যে, ‘হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার ইচ্ছা হয়! ঐ সময় যদি আপনি আমাকে দেখতে পেতেন, যখন আমি সমুদ্র থেকে কালো কাদামাটি তুলে নিয়ে ফেরাউনের মুখে ভরে দিচ্ছিলাম, যেনো সে কালিমা উচ্চারণ না করতে পারে’।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৮১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2682 OK

(২৬৮২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا كَانَتْ اللَّيْلَةُ الَّتِي أُسْرِيَ بِي فِيهَا أَتَتْ عَلَيَّ رَائِحَةٌ طَيِّبَةٌ فَقُلْتُ يَا جِبْرِيلُ مَا هَذِهِ الرَّائِحَةُ الطَّيِّبَةُ فَقَالَ هَذِهِ رَائِحَةُ مَاشِطَةِ ابْنَةِ فِرْعَوْنَ وَأَوْلَادِهَا قَالَ قُلْتُ وَمَا شَأْنُهَا قَالَ بَيْنَا هِيَ تُمَشِّطُ ابْنَةَ فِرْعَوْنَ ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ سَقَطَتْ الْمِدْرَى مِنْ يَدَيْهَا فَقَالَتْ بِسْمِ اللَّهِ فَقَالَتْ لَهَا ابْنَةُ فِرْعَوْنَ أَبِي قَالَتْ لَا وَلَكِنْ رَبِّي وَرَبُّ أَبِيكِ اللَّهُ قَالَتْ أُخْبِرُهُ بِذَلِكَ قَالَتْ نَعَمْ فَأَخْبَرَتْهُ فَدَعَاهَا فَقَالَ يَا فُلَانَةُ وَإِنَّ لَكِ رَبًّا غَيْرِي قَالَتْ نَعَمْ رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ فَأَمَرَ بِبَقَرَةٍ مِنْ نُحَاسٍ فَأُحْمِيَتْ ثُمَّ أَمَرَ بِهَا أَنْ تُلْقَى هِيَ وَأَوْلَادُهَا فِيهَا قَالَتْ لَهُ إِنَّ لِي إِلَيْكَ حَاجَةً قَالَ وَمَا حَاجَتُكِ قَالَتْ أُحِبُّ أَنْ تَجْمَعَ عِظَامِي وَعِظَامَ وَلَدِي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ وَتَدْفِنَنَا قَالَ ذَلِكَ لَكِ عَلَيْنَا مِنْ الْحَقِّ قَالَ فَأَمَرَ بِأَوْلَادِهَا فَأُلْقُوا بَيْنَ يَدَيْهَا وَاحِدًا وَاحِدًا إِلَى أَنْ انْتَهَى ذَلِكَ إِلَى صَبِيٍّ لَهَا مُرْضَعٍ وَكَأَنَّهَا تَقَاعَسَتْ مِنْ أَجْلِهِ قَالَ يَا أُمَّهْ اقْتَحِمِي فَإِنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الْآخِرَةِ فَاقْتَحَمَتْ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تَكَلَّمَ أَرْبَعَةٌ صِغَارٌ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَام وَصَاحِبُ جُرَيْجٍ وَشَاهِدُ يُوسُفَ وَابْنُ مَاشِطَةِ ابْنَةِ فِرْعَوْنَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ أَخْبَرَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا أُسْرِيَ بِهِ مَرَّتْ بِهِ رَائِحَةٌ طَيِّبَةٌ فَذَكَرَ نَحْوَهُ حَدَّثَنَا حَسَنٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا أُسْرِيَ بِهِ مَرَّتْ بِهِ رَائِحَةٌ طَيِّبَةٌ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ مَنْ رَبُّكِ قَالَتْ رَبِّي وَرَبُّكَ مَنْ فِي السَّمَاءِ وَلَمْ يَذْكُرْ قَوْلَ ابْنِ عَبَّاسٍ تَكَلَّمَ أَرْبَعَةٌ حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে রাতে আমাকে আকাশ ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো, সে রাতে আমার কাছে একটি সুন্দর সুগন্ধ ভেসে এসেছিলো।” আমি বললাম, “হে জিবরাঈল! এই সুন্দর সুগন্ধ কিসের?” জিবরাঈল বললেন, “এই সুগন্ধি এক কেশ বিন্যাস-কারিনী, তার পুত্রের ও তার স্বামীর কবর থেকে ভেসে আসছে।” আমি বললাম, “তাদের গল্প কি?” জিবরাঈল বললেন, “একদিন সে যখন ফেরাউনের মেয়ের চুল আঁচড়াচ্ছিলো, তখন তার হাত থেকে লোহার চিরুনি পড়ে গেলো এবং সে বলল, ‘বিসমিল্লাহ (আল্লাহর নামে)।’ ফেরাউনের কন্যা বললো, ‘আমার পিতার নামে?’ সে বললো, ‘না। আমার প্রভু এবং তোমার পিতার প্রভু, আল্লাহর নামে।’ ফেরাউনের কন্যা বললো, ‘আমি আমার পিতাকে এটি সম্পর্কে বলবো।’ সে বললো, ‘হ্যাঁ।’ অতঃপর ফেরাউনের কন্যা ফেরাউনকে বললো এবং ফেরাউন তাকে ডেকে বললো, ‘হে অমুক, আমি ছাড়া তোমার কি আর কোনো প্রভু আছে?’ সে বললো, ‘হ্যাঁ, আমার ও তোমাদের পালনকর্তা, আল্লাহ।’ ফেরাউন তামার তৈরি একটি গরুর আকৃতির পাত্রকে গরম করার নির্দেশ দিলো, তারপর সে তাকে এবং তার সন্তানদেরকে তাতে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দিলেো। ফেরাউন বললো, ‘তোমার কি কোনো অনুরোধ আছে?’ সে বললো, ‘আমি চাই আমার হাড় এবং আমার বাচ্চাদের হাড়গুলো এক কাপড়ে জড়ো করে কবর দেওয়া হোক।’ ফেরাউন বললো, ‘আমি তোমাকে তা দিবো।’ ফেরাউন আদেশ দিলো যে, তার সন্তানদের একে একে তার সামনে নিক্ষেপ করো, যতক্ষণ না তারা শেষ একজনের কাছে আসে। যেটি একটি শিশু বালক ছিলো, যে এখনও বুকের দুধ খাচ্ছিলো। যদি সে তার কারণে বিচলিত হয়। কিন্তু শিশুটি বললো, ‘হে মা, তুমি এগিয়ে যাও, কারণ আখেরাতের শাস্তির চেয়ে দুনিয়ার শাস্তি সহ্য করা সহজ।’ তাই সে এগিয়ে গেলো।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “চারটি শিশু কথা বলেছিলো, ঈসা ইবনে মারিয়াম (আঃ), জুরাইজের সঙ্গী, ইউসুফের সঙ্গী এবং ফেরাউনের কন্যার কেশ বিন্যাস-কারিনীর পুত্র।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৮২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2683 OK

(২৬৮৩)

হাদিস দেখুন [৩১:২৩৫৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنِ الْجَعْدِ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي رَجَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ رَأَى مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلْيَصْبِرْ فَإِنَّهُ مَنْ خَالَفَ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا فَمَاتَ فَمِيتَتُهُ جَاهِلِيَّةٌ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার নেতার মধ্যে এমন কিছু দেখতে পায়, যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেনো ধৈর্য ধারণ করে। কেননা যে ব্যক্তি মুসলমানদের মূল অংশ (জামাআত) থেকে এক হাতের ব্যবধানেও দূরে থাকে এবং সে ঐ অবস্থায় মারা যায়, তবে তার মৃত্যু হবে জাহিলিয়াতের মৃত্যু।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৮৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2684 OK

(২৬৮৪)

হাদিস দেখুন [৩১:১৮৯৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ ذَكْوَانَ عَنْ أَبِي رَجَاءٍ حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَعَمِلَهَا كُتِبَتْ عَشْرًا وَإِنْ لَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ حَسَنَةً وَإِنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَعَمِلَهَا كُتِبَتْ سَيِّئَةً وَإِنْ لَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ حَسَنَةً


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি একটি ভালো কাজ করার নিয়ত করে এবং ঐ কাজটি করে, তবে তার জন্য দশটি নেক আমলের সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। অথবা সাতশত গুন বা তার চেয়েও বেশি সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। যদি সে ঐ কাজটি না করে, তবে শুধুমাত্র নিয়তের উপরই একটি নেক কাজের সওয়াব লেখা হয়। আর কেউ যদি কোনো পাপ কাজ করার নিয়ত করে এবং তা করে, তবে তার জন্য একটি গুনাহ লেখা হয়। আর যদি সে তা না করে, তবে তার জন্য একটি নেকী লেখা হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৮৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2685 OK

(২৬৮৫)

হাদিস দেখুন [৩১:২০২৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أُخْتَهُ نَذَرَتْ أَنْ تَمْشِيَ إِلَى الْبَيْتِ وَشَكَا إِلَيْهِ ضَعْفَهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْ نَذْرِ أُخْتِكَ فَلْتَرْكَبْ وَلْتُهْدِ بَدَنَةً


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার হজরত উকবা ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন যে, তাঁর বোন মানত করেছিলো যে, সে পায়ে হেঁটে বায়তুল্লাহ শরীফে যাবে, কিন্তু এখন সে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার বোনের মানতের আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। সে যেনো সওয়ারীর উপর আরোহণ করে যায় এবং একটি উট কুরবানী করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৮৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2686 OK

(২৬৮৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ قَالَ أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَافَ بِالْبَيْتِ سَبْعًا وَسَعَى سَبْعًا وَإِنَّمَا سَعَى أَحَبَّ أَنْ يُرِيَ النَّاسَ قُوَّتَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর ঘরের তাওয়াফে সাত প্রদক্ষিণ করেছেন এবং সায়ী করার সময়ও সাত চক্কর করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৮৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2687 OK

(২৬৮৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ كَانَ يَكْرَهُ الْبُسْرَ وَحْدَهُ وَيَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ عَنْ الْمُزَّاءِ فَأَرْهَبُ أَنْ تَكُونَ الْبُسْرَ


হজরত ইকরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কাঁচা খেজুর খাওয়া অপছন্দ করতেন এবং তিনি বলতেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দলের জন্যে মুজ্জা (সবুজ চকচকে কলসি বা বার্নিশ করা পাত্রে তৈরি নাবীজ) নিষিদ্ধ করেছেন এবং আমি ভয় পাচ্ছি যে, এটি কাঁচা খেজুর (বুসর) হতে পারে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৮৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2688 OK

(২৬৮৮)

হাদিস দেখুন [৩১:২৫১২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ فَرَأَى الْيَهُودَ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي تَصُومُونَ قَالُوا هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ هَذَا يَوْمٌ نَجَّى اللَّهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ قَالَ فَصَامَهُ مُوسَى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ قَالَ فَصَامَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَمَرَ بِصَوْمِهِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় এসে ইহুদীদেরকে আশুরার দিনে রোযা রাখতে দেখলেন। তিনি তাদেরকে বললেন যে, “এটি এমন কোন দিন, যেদিন তোমরা রোযা রাখো?” তারা বললো, “এটি একটি উত্তম দিন। যে দিন আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তাই এই দিনে হজরত মূসা (আঃ) রোজা রেখেছিলেন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি তোমাদের চেয়ে হজরত মূসা (আঃ)-এর নিকটবর্তী হওয়ার অধিক হকদার।” অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেদিন রোযা রাখলেন এবং সাহবীদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৮৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2689 OK

(২৬৮৯)

হাদিস দেখুন [৩১:২৫১৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ قَالَ فَأَوْمَأَ بِيَدِهِ وَقَالَ لَا حَرَجَ وَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَبَحْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ قَالَ فَأَوْمَأَ بِيَدِهِ وَقَالَ لَا حَرَجَ قَالَ فَمَا سُئِلَ يَوْمَئِذٍ عَنْ شَيْءٍ مِنْ التَّقْدِيمِ وَالتَّأْخِيرِ إِلَّا أَوْمَأَ بِيَدِهِ وَقَالَ لَا حَرَجَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

বিদায় হজ্জের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি কোরবানি করার পূর্বে, আমার মাথা মুন্ডন করেছি।” তিনি হাতের ইশারায় বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই। এখন কোরবানি করো।” আরেক ব্যক্তি বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি জামরাকে পাথর মারার আগেই, আমার কোরবানি দিয়েছি।” তিনি হাতের ইশারায় বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই।” কোরবানি দেওয়া, জামরায় পাথর মেরে মাথা মুণ্ডন করা এবং হজ্জের বিভিন্ন নিয়মে মধ্যে অন্য কোনো পরিবর্তন থাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৮৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2690 OK

(২৬৯০)

হাদিস দেখুন [৩১:২০১৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَطَاءٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكَعْبَةَ وَفِيهَا سِتُّ سَوَارٍ فَقَامَ عِنْدَ كُلِّ سَارِيَةٍ وَلَمْ يُصَلِّ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবার ভিতরে প্রবেশ করলেন, তখন কাবায় ছয়টি স্তম্ভ ছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিটি স্তম্ভের পাশে দাঁড়িয়ে দুয়া করলেন, কিন্তু সালাত আদায় করলেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৯০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2691 OK

(২৬৯১)

হাদিস দেখুন [৩১:২০২৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أُخْتَهُ نَذَرَتْ أَنْ تَمْشِيَ إِلَى الْبَيْتِ وَشَكَا إِلَيْهِ ضَعْفَهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْ نَذْرِ أُخْتِكَ فَلْتَرْكَبْ وَلْتُهْدِ بَدَنَةً


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার হজরত উকবা ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন যে, তাঁর বোন মানত করেছিলো যে, সে পায়ে হেঁটে বায়তুল্লাহ শরীফে যাবে, কিন্তু এখন সে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার বোনের মানতের আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। সে যেনো সওয়ারীর উপর আরোহণ করে যায় এবং একটি উট কুরবানী করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৯১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2692 OK

(২৬৯২)

হাদিস দেখুন [৩১:২৬৮৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ قَالَ أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَافَ بِالْبَيْتِ سَبْعًا وَسَعَى سَبْعًا وَإِنَّمَا سَعَى أَحَبَّ أَنْ يُرِيَ النَّاسَ قُوَّتَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর ঘরের তাওয়াফে সাত প্রদক্ষিণ করেছেন এবং সায়ী করার সময়ও সাত চক্কর করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৯২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2693 OK

(২৬৯৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ الْوَتْرِ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رَكْعَةٌ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ وَسَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رَكْعَةٌ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ


হজরত আবু মাজালজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “রাতের শেষ অংশে এক রাকাত বিতর আদায় করতে হয়।” তখন আমি হজরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনিও একই উত্তর দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৯৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2694 OK

(২৬৯৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ شِهَابٍ الْعَنْبَرِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ أَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ أَنَا وَصَاحِبٌ لِي فَلَقِينَا أَبَا هُرَيْرَةَ عِنْدَ بَابِ ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ مَنْ أَنْتُمَا فَأَخْبَرْنَاهُ فَقَالَ انْطَلِقَا إِلَى نَاسٍ عَلَى تَمْرٍ وَمَاءٍ إِنَّمَا يَسِيلُ كُلُّ وَادٍ بِقَدَرِهِ قَالَ قُلْنَا كَثُرَ خَيْرُكَ اسْتَأْذِنْ لَنَا عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ فَاسْتَأْذَنَ لَنَا فَسَمِعْنَا ابْنَ عَبَّاسٍ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ تَبُوكَ فَقَالَ مَا فِي النَّاسِ مِثْلُ رَجُلٍ أَخَذَ بِعِنَانِ فَرَسِهِ فَيُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَيَجْتَنِبُ شُرُورَ النَّاسِ وَمِثْلُ رَجُلٍ بَادٍ فِي غَنَمِهِ يَقْرِي ضَيْفَهُ وَيُؤَدِّي حَقَّهُ قَالَ قُلْتُ أَقَالَهَا قَالَ قَالَهَا قَالَ قُلْتُ أَقَالَهَا قَالَ قَالَهَا قَالَ قُلْتُ أَقَالَهَا قَالَ قَالَهَا فَكَبَّرْتُ اللَّهَ وَحَمِدْتُ اللَّهَ وَشَكَرْتُ


হজরত হাবীব বিন শিহাব আল-আনবারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, আমি আমার এক সঙ্গীকে নিয়ে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এলাম এবং আমরা হজরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর দরজায় দেখা করলাম। হজরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তোমরা কারা?” আমরা তাকে আমাদের পরিচয় দিলাম। তিনি বললেন, “তোমরা এমন কিছু লোকের কাছে যাও, যাদের কাছে খেজুর ও পানি আছে, কারণ প্রতিটি উপত্যকা তার আয়তন অনুযায়ী পানি বহন করে।” আমরা বললাম, “আমাদের জন্যে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে প্রবেশের অনুমতি চান।” অতঃপর তিনি আমাদের জন্যে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন এবং আমরা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তাবুকের যুদ্ধের দিনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মানুষের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে, ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে, যে ব্যক্তি তার ঘোড়ার লাগাম ধরে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে জিহাদ করে, মানুষের অনিষ্ট থেকে দূরে থাকে; অথবা মরুভূমিতে তার ভেড়ার সাথে একাকী থাকে ও তার অতিথিকে সম্মান করে এবং তার অতিথিকে তার প্রাপ্য দেয়।” আমি বললাম, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এ কথা বলেছেন?” তিনি বললেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছেন।” আমি বললাম, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এ কথা বলেছেন?” তিনি বললেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছেন।” আমি বললাম, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এ কথা বলেছেন?” তিনি বললেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছেন।” তারপর আমি আল্লাহর প্রশংসা করলাম এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৯৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2695 OK

(২৬৯৫)

হাদিস দেখুন [৩১:২০৬০] view_link


সহিহ হাদিস

قَالَ قَرَأْتُ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ عَنْ طَاوُسٍ الْيَمَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُهُمْ السُّورَةَ مِنْ الْقُرْآنِ يَقُولُ قُولُوا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে এই দোয়াটি এমনভাবে শেখাতেন যেনো তিনি পবিত্র কোরআনের কোনো সূরা শিক্ষা দিচ্ছেন এবং বলতেন, এভাবে বলো,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ

“হে আল্লাহ, আমি জাহান্নামের আযাব থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং আমি আপনার কাছে জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৯৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2696 OK

(২৬৯৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ قَالَ عَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّ عَلَيَّ بَدَنَةً وَأَنَا مُوسِرٌ لَهَا وَلَا أَجِدُهَا فَأَشْتَرِيَهَا فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَبْتَاعَ سَبْعَ شِيَاهٍ فَيَذْبَحَهُنَّ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললো, “আমার উপর একটি উট কোরবানী ওয়াজিব, এবং আমার এর আর্থিক সামর্থ্যও আছে, কিন্তু ক্রয় করার জন্যে আমি একটি উট পাচ্ছি না।” তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সাতটি ছাগল কিনে জবাই করার নির্দেশ দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৯৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2697 OK

(২৬৯৭)

হাদিস দেখুন [৩১:১৮৯৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَخْنَسِ قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا اقْتَبَسَ رَجُلٌ عِلْمًا مِنْ النُّجُومِ إِلَّا اقْتَبَسَ بِهَا شُعْبَةً مِنْ السِّحْرِ مَا زَادَ زَادَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জ্যোতিষশাস্ত্র শিখে, সে জাদুবিদ্যার একটি শাখা শিখে। সে যত বেশি জ্যোতিষশাস্ত্রে অগ্রসর হয়, ততই সে জাদুবিদ্যায় অগ্রসর হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৯৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2698 OK

(২৬৯৮)

হাদিস দেখুন [৩১:১৯৭৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَمِسْعَرٌ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنِ الْحَسَنِ الْعُرَنِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَدَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُغَيْلِمَةَ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَى حُمُرَاتٍ لَنَا مِنْ جَمْعٍ قَالَ سُفْيَانُ بِلَيْلٍ فَجَعَلَ يَلْطَحُ أَفْخَاذَنَا وَيَقُولُ أُبَيْنَى لَا تَرْمُوا الْجَمْرَةَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَزَادَ سُفْيَانُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مَا إِخَالُ أَحَدًا يَعْقِلُ يَرْمِي حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমরা, বনু আব্দুল মুত্তালিবের গোত্রের যুবকরা, মুযদালিফা থেকে আমাদের লাল উটে চড়ে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসেছিলাম। তিনি আমাদের উরুতে স্পর্শ করার সময় বলতে লাগলেন, “হে আমার যুবকরা! সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত জামরাহকে পাথর মারবে না।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি মনে করি না যে, সূর্যোদয়ের আগে কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি জামরাকে পাথর মারবে। [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৯৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2699 OK

(২৬৯৯)

হাদিস দেখুন [৩১:২৫৭৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ وَيُونُسُ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي عَاصِمٍ الْغَنَوِيِّ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ يَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَمَلَ بِالْبَيْتِ وَأَنَّ ذَلِكَ سُنَّةٌ فَقَالَ صَدَقُوا وَكَذَبُوا قُلْتُ وَمَا صَدَقُوا وَمَا كَذَبُوا قَالَ صَدَقُوا رَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْبَيْتِ وَكَذَبُوا لَيْسَ بِسُنَّةٍ إِنَّ قُرَيْشًا قَالَتْ زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ دَعُوا مُحَمَّدًا وَأَصْحَابَهُ حَتَّى يَمُوتُوا مَوْتَ النَّغَفِ فَلَمَّا صَالَحُوهُ عَلَى أَنْ يَقْدَمُوا مِنْ الْعَامِ الْمُقْبِلِ وَيُقِيمُوا بِمَكَّةَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمُشْرِكُونَ مِنْ قِبَلِ قُعَيْقِعَانَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَصْحَابِهِ ارْمُلُوا بِالْبَيْتِ ثَلَاثًا وَلَيْسَ بِسُنَّةٍ قُلْتُ وَيَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّهُ طَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ عَلَى بَعِيرٍ وَأَنَّ ذَلِكَ سُنَّةٌ فَقَالَ صَدَقُوا وَكَذَبُوا فَقُلْتُ وَمَا صَدَقُوا وَكَذَبُوا فَقَالَ صَدَقُوا قَدْ طَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ عَلَى بَعِيرٍ وَكَذَبُوا لَيْسَ بِسُنَّةٍ كَانَ النَّاسُ لَا يُدْفَعُونَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا يُصْرَفُونَ عَنْهُ فَطَافَ عَلَى بَعِيرٍ لِيَسْمَعُوا كَلَامَهُ وَلَا تَنَالُهُ أَيْدِيهِمْ قُلْتُ وَيَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَأَنَّ ذَلِكَ سُنَّةٌ قَالَ صَدَقُوا إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَمَّا أُمِرَ بِالْمَنَاسِكِ عَرَضَ لَهُ الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَسْعَى فَسَابَقَهُ فَسَبَقَهُ إِبْرَاهِيمُ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِ جِبْرِيلُ إِلَى جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ فَعَرَضَ لَهُ شَيْطَانٌ قَالَ يُونُسُ الشَّيْطَانُ فَرَمَاهُ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ حَتَّى ذَهَبَ ثُمَّ عَرَضَ لَهُ عِنْدَ الْجَمْرَةِ الْوُسْطَى فَرَمَاهُ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ قَالَ قَدْ تَلَّهُ لِلْجَبِينِ قَالَ يُونُسُ وَثَمَّ تَلَّهُ لِلْجَبِينِ وَعَلَى إِسْمَاعِيلَ قَمِيصٌ أَبْيَضُ وَقَالَ يَا أَبَتِ إِنَّهُ لَيْسَ لِي ثَوْبٌ تُكَفِّنُنِي فِيهِ غَيْرُهُ فَاخْلَعْهُ حَتَّى تُكَفِّنَنِي فِيهِ فَعَالَجَهُ لِيَخْلَعَهُ فَنُودِيَ مِنْ خَلْفِهِ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا فَالْتَفَتَ إِبْرَاهِيمُ فَإِذَا هُوَ بِكَبْشٍ أَبْيَضَ أَقْرَنَ أَعْيَنَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَقَدْ رَأَيْتُنَا نَبِيعُ هَذَا الضَّرْبَ مِنْ الْكِبَاشِ قَالَ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِ جِبْرِيلُ إِلَى الْجَمْرَةِ الْقُصْوَى فَعَرَضَ لَهُ الشَّيْطَانُ فَرَمَاهُ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ حَتَّى ذَهَبَ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِ جِبْرِيلُ إِلَى مِنًى قَالَ هَذَا مِنًى قَالَ يُونُسُ هَذَا مُنَاخُ النَّاسِ ثُمَّ أَتَى بِهِ جَمْعًا فَقَالَ هَذَا الْمَشْعَرُ الْحَرَامُ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِ إِلَى عَرَفَةَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ هَلْ تَدْرِي لِمَ سُمِّيَتْ عَرَفَةَ قُلْتُ لَا قَالَ إِنَّ جِبْرِيلَ قَالَ لِإِبْرَاهِيمَ عَرَفْتَ قَالَ يُونُسُ هَلْ عَرَفْتَ قَالَ نَعَمْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَمِنْ ثَمَّ سُمِّيَتْ عَرَفَةَ ثُمَّ قَالَ هَلْ تَدْرِي كَيْفَ كَانَتْ التَّلْبِيَةُ قُلْتُ وَكَيْفَ كَانَتْ قَالَ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَمَّا أُمِرَ أَنْ يُؤَذِّنَ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ خَفَضَتْ لَهُ الْجِبَالُ رُءُوسَهَا وَرُفِعَتْ لَهُ الْقُرَى فَأَذَّنَ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الْغَنَوِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الطُّفَيْلِ فَذَكَرَهُ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ لَا تَنَالُهُ أَيْدِيهِمْ وَقَالَ وَثَمَّ تَلَّ إِبْرَاهِيمُ إِسْمَاعِيلَ لِلْجَبِينِ


হজরত আবুত তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, “আপনার সম্প্রদায়ের ধারনা, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বায়তুল্লাহ তাওয়াফের সময় দ্রুতপদে হেটেঁছেন এবং এরূপ করা সুন্নাত।” তিনি বললেন, “তারা সত্য বলেছে এবং মিথ্যাও বলেছে।” আমি বললাম, “তারা কি সত্যি বলেছে এবং কি মিথ্যা বলেছে?” তিনি বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘রমল’ করেছেন, এ কথা সত্য কিন্তু একে সুন্নাত বলা মিথ্যা। হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় কুরাইশগণ মুসলিমদেরকে তিরস্কার স্বরূপ বলেছিলো যে, ‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাথীদের এভাবেই থাকতে দাও। এমনকি তারা উট ও বকরীর মত মৃত্যুবরন করে নিঃশেষ হবে।’ অতঃপর তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সন্ধি চুক্তি করলো, মুসলিমরা আগামি বছর এসে মক্কায় তিন দিন অবস্থান করবে। সুতরাং পরবর্তী বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন। মুশরিকরা কুয়াইকিয়ান পাহাড়ের পাদদেশে সমবেত হলো (মুসলিমদের অবস্থান লক্ষ্য করতে)। এ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন যে, তাওয়াফের মধ্যে তিনবার রমল করো। সুতরাং তারা তাই করলেন। এরূপ করা মুলতঃ সুন্নাত নয়।” আমি আবার বললাম, “আপনার সম্প্রদায়ের ধারনা, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উটে চড়েই সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন। আর এরূপ নাকি সুন্নাত।” তিনি বললেন, “তারা সত্যও বলেছে এবং মিথ্যাও বলেছে।” আমি বললাম, “তারা কি সত্যি বলেছে এবং কি মিথ্যা বলেছে?” তিনি বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উটে সওয়ারী হয়ে সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন, তাদের এ কথা সত্য। কিন্তু এটাকে সুন্নাত বলা মিথ্যা। প্রকৃত ব্যাপার হলো, তখন লোকদের অবস্থা এরূপ ছিলো যে, তাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে সরানো যেতনা এবং তিনিও তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারতেন না। সুতরাং তিনি উটে আরোহী অবস্থায় তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন। যাতে প্রতিটি লোক তাঁর কথা শুনতে পায়, তাঁকে সরাসরি দেখতে পায় এবং তাদের হাত তাঁর শরীরে না লাগে।” আমি বললাম, “আর আপনার লোকেরা দাবী করছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে ঘুরেছেন এবং এটাই সুন্নাহ।” তিনি বললেন, “তারা সত্য কথা বলছে। ইব্রাহিমের উপর আচার-অনুষ্ঠান ফরজ করা হলে শয়তান সায়ীর স্থানে তার সামনে হাজির হয় এবং তার সাথে দৌড়াতে শুরু করে, কিন্তু ইব্রাহিম তাকে দৌড়ে পরাজিত করেন। অতঃপর জিবরীল (আঃ) তাকে জামরাতাল-আকাবায় নিয়ে গেলেন, যেখানে একটি শয়তান তার কাছে উপস্থিত হয়েছিলো, তাই সে চলে যাওয়া পর্যন্ত তিনি তাকে সাতটি নুড়ি দিয়ে মেরেছিলেন। অতঃপর তিনি তাকে আল-জামরাতাল-উস্তাতে হাজির করেন এবং তিনি তাকে সাতটি নুড়ি মেরেছিলেন। এবং যখন তিনি ইসমাঈলকে তার মুখের উপর শুইয়ে দিলেন এবং ইসমাঈল একটি সাদা পোশাক পরেছিলেন। ইসমাঈল বললেন, হে আমার পিতা, আমার কাছে এটি ছাড়া অন্য কোনো পোশাক নেই, যা আপনি আমাকে কাফন দিতে পারেন, তাই আমাকে এটি খুলে ফেলতে দিন। যাতে আপনি এ দিয়ে আমাকে কাফন দিতে পারেন। সুতরাং, যখন তিনি তা খুলে ফেলতে লাগলেন, তখন তার পিছন থেকে একটি আওয়াজ উঠলো: “হে ইব্রাহীম! আপনি স্বপ্ন পূরণ করেছেন!”
وَنَٰدَيۡنَٰهُ أَن يَٰٓإِبۡرَٰهِيمُ١٠٤
তখন আমি ইব্রাহীম ডেকে বললাম যে, “হে ইব্রাহীম! (৩৭. আস ছাফফাত : ১০৪)
قَدۡ صَدَّقۡتَ ٱلرُّءۡيَآۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُحۡسِنِينَ١٠٥
অবশ্যই তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করলে।” নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। (৩৭. আস ছাফফাত : ১০৫)
ইব্রাহিম ঘুরে দাঁড়ালো এবং একটি চওড়া চোখ, শিংওয়ালা, সাদা মেষ দেখতে পেলো।” ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমার মনে আছে আমরা এই ধরনের মেষ (কুরবানীর জন্য) খুঁজতাম।” তিনি বললেন, “তারপর জিবরীল তাকে আল-জামরাতাল-কুসওয়ায় নিয়ে গেলেন এবং শয়তান তার সামনে হাজির হলো এবং সে তাকে সাতটি কঙ্কর দিয়ে পাথর মারলো, যতক্ষণ না সে চলে গেলো। অতঃপর জিবরীল (আঃ) তাকে মিনায় নিয়ে গেলেন এবং বললেন, ‘এটা মিনা। এখানেই মানুষ থামে।’ অতঃপর তিনি তাকে মুযদালিফায় নিয়ে গেলেন এবং বললেন, ‘এটি আল-মাশআর আল-হারাম।’ অতঃপর তিনি তাকে আরাফাহ-এ নিয়ে গেলেন।” ইবনে আব্বাস (রা) বললেন, “তুমি কি জানো এটাকে কেনো আরাফাহ বলা হয়?” আমি বললাম, “না।” তিনি বললেন, “জিবরীল ইব্রাহীমকে বললেন, ‘আরাফতা (তুমি কি বুঝতে পেরেছো)?’ ইব্রাহীম বললেন, ‘হ্যাঁ’।” ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “এজন্য একে আরাফাহ বলা হয়।” তারপর বললেন, “তুমি কি জানো তালবিয়াহ কিভাবে এসেছে?” আমি বললাম, “এটা কিভাবে হলো?” তিনি বলেন, “যখন ইব্রাহীমকে মানুষের কাছে হজের ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো, তখন পাহাড়গুলো তার জন্যে মাথা নিচু করে ফেলেছিলো এবং তার জন্যে শহরগুলোকে উত্থিত করা হয়েছিলো এবং তিনি মানুষের কাছে হজের ঘোষণা করেছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৬৯৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2700 OK

(২৭০০)

হাদিস দেখুন [৩১:১৯২৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ بِنِصْفِ دِينَارٍ وَلَمْ يَرْفَعْهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَلَا بَهْزٌ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঋতুস্রাব অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাসকারী ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, “সে যেনো এক দিনার বা অর্ধ দিনার সদকা করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৭০০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস