Loading...


৩১. মুসনাদে আহমাদ : ২৫৭৩

Edit
حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ وَيُونُسُ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي عَاصِمٍ الْغَنَوِيِّ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ يَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَمَلَ بِالْبَيْتِ وَأَنَّ ذَلِكَ سُنَّةٌ فَقَالَ صَدَقُوا وَكَذَبُوا قُلْتُ وَمَا صَدَقُوا وَمَا كَذَبُوا قَالَ صَدَقُوا رَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْبَيْتِ وَكَذَبُوا لَيْسَ بِسُنَّةٍ إِنَّ قُرَيْشًا قَالَتْ زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ دَعُوا مُحَمَّدًا وَأَصْحَابَهُ حَتَّى يَمُوتُوا مَوْتَ النَّغَفِ فَلَمَّا صَالَحُوهُ عَلَى أَنْ يَقْدَمُوا مِنْ الْعَامِ الْمُقْبِلِ وَيُقِيمُوا بِمَكَّةَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمُشْرِكُونَ مِنْ قِبَلِ قُعَيْقِعَانَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَصْحَابِهِ ارْمُلُوا بِالْبَيْتِ ثَلَاثًا وَلَيْسَ بِسُنَّةٍ قُلْتُ وَيَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّهُ طَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ عَلَى بَعِيرٍ وَأَنَّ ذَلِكَ سُنَّةٌ فَقَالَ صَدَقُوا وَكَذَبُوا فَقُلْتُ وَمَا صَدَقُوا وَكَذَبُوا فَقَالَ صَدَقُوا قَدْ طَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ عَلَى بَعِيرٍ وَكَذَبُوا لَيْسَ بِسُنَّةٍ كَانَ النَّاسُ لَا يُدْفَعُونَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا يُصْرَفُونَ عَنْهُ فَطَافَ عَلَى بَعِيرٍ لِيَسْمَعُوا كَلَامَهُ وَلَا تَنَالُهُ أَيْدِيهِمْ قُلْتُ وَيَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَأَنَّ ذَلِكَ سُنَّةٌ قَالَ صَدَقُوا إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَمَّا أُمِرَ بِالْمَنَاسِكِ عَرَضَ لَهُ الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَسْعَى فَسَابَقَهُ فَسَبَقَهُ إِبْرَاهِيمُ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِ جِبْرِيلُ إِلَى جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ فَعَرَضَ لَهُ شَيْطَانٌ قَالَ يُونُسُ الشَّيْطَانُ فَرَمَاهُ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ حَتَّى ذَهَبَ ثُمَّ عَرَضَ لَهُ عِنْدَ الْجَمْرَةِ الْوُسْطَى فَرَمَاهُ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ قَالَ قَدْ تَلَّهُ لِلْجَبِينِ قَالَ يُونُسُ وَثَمَّ تَلَّهُ لِلْجَبِينِ وَعَلَى إِسْمَاعِيلَ قَمِيصٌ أَبْيَضُ وَقَالَ يَا أَبَتِ إِنَّهُ لَيْسَ لِي ثَوْبٌ تُكَفِّنُنِي فِيهِ غَيْرُهُ فَاخْلَعْهُ حَتَّى تُكَفِّنَنِي فِيهِ فَعَالَجَهُ لِيَخْلَعَهُ فَنُودِيَ مِنْ خَلْفِهِ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا فَالْتَفَتَ إِبْرَاهِيمُ فَإِذَا هُوَ بِكَبْشٍ أَبْيَضَ أَقْرَنَ أَعْيَنَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَقَدْ رَأَيْتُنَا نَبِيعُ هَذَا الضَّرْبَ مِنْ الْكِبَاشِ قَالَ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِ جِبْرِيلُ إِلَى الْجَمْرَةِ الْقُصْوَى فَعَرَضَ لَهُ الشَّيْطَانُ فَرَمَاهُ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ حَتَّى ذَهَبَ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِ جِبْرِيلُ إِلَى مِنًى قَالَ هَذَا مِنًى قَالَ يُونُسُ هَذَا مُنَاخُ النَّاسِ ثُمَّ أَتَى بِهِ جَمْعًا فَقَالَ هَذَا الْمَشْعَرُ الْحَرَامُ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِ إِلَى عَرَفَةَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ هَلْ تَدْرِي لِمَ سُمِّيَتْ عَرَفَةَ قُلْتُ لَا قَالَ إِنَّ جِبْرِيلَ قَالَ لِإِبْرَاهِيمَ عَرَفْتَ قَالَ يُونُسُ هَلْ عَرَفْتَ قَالَ نَعَمْ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَمِنْ ثَمَّ سُمِّيَتْ عَرَفَةَ ثُمَّ قَالَ هَلْ تَدْرِي كَيْفَ كَانَتْ التَّلْبِيَةُ قُلْتُ وَكَيْفَ كَانَتْ قَالَ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَمَّا أُمِرَ أَنْ يُؤَذِّنَ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ خَفَضَتْ لَهُ الْجِبَالُ رُءُوسَهَا وَرُفِعَتْ لَهُ الْقُرَى فَأَذَّنَ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الْغَنَوِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الطُّفَيْلِ فَذَكَرَهُ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ لَا تَنَالُهُ أَيْدِيهِمْ وَقَالَ وَثَمَّ تَلَّ إِبْرَاهِيمُ إِسْمَاعِيلَ لِلْجَبِينِ

হজরত আবুত তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, “আপনার সম্প্রদায়ের ধারনা, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বায়তুল্লাহ তাওয়াফের সময় দ্রুতপদে হেটেঁছেন এবং এরূপ করা সুন্নাত।” তিনি বললেন, “তারা সত্য বলেছে এবং মিথ্যাও বলেছে।” আমি বললাম, “তারা কি সত্যি বলেছে এবং কি মিথ্যা বলেছে?” তিনি বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘রমল’ করেছেন, এ কথা সত্য কিন্তু একে সুন্নাত বলা মিথ্যা। হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় কুরাইশগণ মুসলিমদেরকে তিরস্কার স্বরূপ বলেছিলো যে, ‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাথীদের এভাবেই থাকতে দাও। এমনকি তারা উট ও বকরীর মত মৃত্যুবরন করে নিঃশেষ হবে।’ অতঃপর তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সন্ধি চুক্তি করলো, মুসলিমরা আগামি বছর এসে মক্কায় তিন দিন অবস্থান করবে। সুতরাং পরবর্তী বছর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন। মুশরিকরা কুয়াইকিয়ান পাহাড়ের পাদদেশে সমবেত হলো (মুসলিমদের অবস্থান লক্ষ্য করতে)। এ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন যে, তাওয়াফের মধ্যে তিনবার রমল করো। সুতরাং তারা তাই করলেন। এরূপ করা মুলতঃ সুন্নাত নয়।” আমি আবার বললাম, “আপনার সম্প্রদায়ের ধারনা, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উটে চড়েই সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন। আর এরূপ নাকি সুন্নাত।” তিনি বললেন, “তারা সত্যও বলেছে এবং মিথ্যাও বলেছে।” আমি বললাম, “তারা কি সত্যি বলেছে এবং কি মিথ্যা বলেছে?” তিনি বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উটে সওয়ারী হয়ে সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন, তাদের এ কথা সত্য। কিন্তু এটাকে সুন্নাত বলা মিথ্যা। প্রকৃত ব্যাপার হলো, তখন লোকদের অবস্থা এরূপ ছিলো যে, তাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে সরানো যেতনা এবং তিনিও তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারতেন না। সুতরাং তিনি উটে আরোহী অবস্থায় তাওয়াফ (সাঈ) করেছেন। যাতে প্রতিটি লোক তাঁর কথা শুনতে পায়, তাঁকে সরাসরি দেখতে পায় এবং তাদের হাত তাঁর শরীরে না লাগে।” আমি বললাম, “আর আপনার লোকেরা দাবী করছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে ঘুরেছেন এবং এটাই সুন্নাহ।” তিনি বললেন, “তারা সত্য কথা বলছে। ইব্রাহিমের উপর আচার-অনুষ্ঠান ফরজ করা হলে শয়তান সায়ীর স্থানে তার সামনে হাজির হয় এবং তার সাথে দৌড়াতে শুরু করে, কিন্তু ইব্রাহিম তাকে দৌড়ে পরাজিত করেন। অতঃপর জিবরীল (আঃ) তাকে জামরাতাল-আকাবায় নিয়ে গেলেন, যেখানে একটি শয়তান তার কাছে উপস্থিত হয়েছিলো, তাই সে চলে যাওয়া পর্যন্ত তিনি তাকে সাতটি নুড়ি দিয়ে মেরেছিলেন। অতঃপর তিনি তাকে আল-জামরাতাল-উস্তাতে হাজির করেন এবং তিনি তাকে সাতটি নুড়ি মেরেছিলেন। এবং যখন তিনি ইসমাঈলকে তার মুখের উপর শুইয়ে দিলেন এবং ইসমাঈল একটি সাদা পোশাক পরেছিলেন। ইসমাঈল বললেন, হে আমার পিতা, আমার কাছে এটি ছাড়া অন্য কোনো পোশাক নেই, যা আপনি আমাকে কাফন দিতে পারেন, তাই আমাকে এটি খুলে ফেলতে দিন। যাতে আপনি এ দিয়ে আমাকে কাফন দিতে পারেন। সুতরাং, যখন তিনি তা খুলে ফেলতে লাগলেন, তখন তার পিছন থেকে একটি আওয়াজ উঠলো: “হে ইব্রাহীম! আপনি স্বপ্ন পূরণ করেছেন!”
وَنَٰدَيۡنَٰهُ أَن يَٰٓإِبۡرَٰهِيمُ١٠٤
তখন আমি ইব্রাহীম ডেকে বললাম যে, “হে ইব্রাহীম! (৩৭. আস ছাফফাত : ১০৪)
قَدۡ صَدَّقۡتَ ٱلرُّءۡيَآۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُحۡسِنِينَ١٠٥
অবশ্যই তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করলে।” নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। (৩৭. আস ছাফফাত : ১০৫)
ইব্রাহিম ঘুরে দাঁড়ালো এবং একটি চওড়া চোখ, শিংওয়ালা, সাদা মেষ দেখতে পেলো।” ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমার মনে আছে আমরা এই ধরনের মেষ (কুরবানীর জন্য) খুঁজতাম।” তিনি বললেন, “তারপর জিবরীল তাকে আল-জামরাতাল-কুসওয়ায় নিয়ে গেলেন এবং শয়তান তার সামনে হাজির হলো এবং সে তাকে সাতটি কঙ্কর দিয়ে পাথর মারলো, যতক্ষণ না সে চলে গেলো। অতঃপর জিবরীল (আঃ) তাকে মিনায় নিয়ে গেলেন এবং বললেন, ‘এটা মিনা। এখানেই মানুষ থামে।’ অতঃপর তিনি তাকে মুযদালিফায় নিয়ে গেলেন এবং বললেন, ‘এটি আল-মাশআর আল-হারাম।’ অতঃপর তিনি তাকে আরাফাহ-এ নিয়ে গেলেন।” ইবনে আব্বাস (রা) বললেন, “তুমি কি জানো এটাকে কেনো আরাফাহ বলা হয়?” আমি বললাম, “না।” তিনি বললেন, “জিবরীল ইব্রাহীমকে বললেন, ‘আরাফতা (তুমি কি বুঝতে পেরেছো)?’ ইব্রাহীম বললেন, ‘হ্যাঁ’।” ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “এজন্য একে আরাফাহ বলা হয়।” তারপর বললেন, “তুমি কি জানো তালবিয়াহ কিভাবে এসেছে?” আমি বললাম, “এটা কিভাবে হলো?” তিনি বলেন, “যখন ইব্রাহীমকে মানুষের কাছে হজের ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো, তখন পাহাড়গুলো তার জন্যে মাথা নিচু করে ফেলেছিলো এবং তার জন্যে শহরগুলোকে উত্থিত করা হয়েছিলো এবং তিনি মানুষের কাছে হজের ঘোষণা করেছিলেন।”


সর্বমোট হাদিস পাওয়া গিয়েছেঃ ১টি


(১)

হাদিস নং ২৫৭৩ দেখুন
(৩১. মুসনাদে আহমাদ : ২৬৯৯) Edit