(২৫) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (১৭৪২-৩৩৬৭), সর্বমোট হাদিসঃ ১৬২৬টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৪৫৬টি]



2911 OK

(২৯১১)

হাদিস দেখুন [৩১:১৯৬৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ آدَمَ بْنِ سُلَيْمَانَ مَوْلَى خَالِدِ بْنِ خَالِدٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ إِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ قَالَ دَخَلَ قُلُوبَهُمْ مِنْهَا شَيْءٌ لَمْ يَدْخُلْ قُلُوبَهُمْ مِنْ شَيْءٍ قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَسَلَّمْنَا فَأَلْقَى اللَّهُ الْإِيمَانَ فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ آدَمُ هَذَا هُوَ أَبُو يَحْيَى بْنُ آدَمَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

যখন এই আয়াতটি নাযিল হয়,

لِّلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ وَإِن تُبۡدُواْ مَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ أَوۡ تُخۡفُوهُ يُحَاسِبۡكُم بِهِ ٱللَّهُۖ فَيَغۡفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ٢٨٤
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সব কিছুই আল্লাহর জন্যে। তোমাদের অন্তর সমূহের মধ্যে যা আছে তা যদি তোমরা প্রকাশ করো, অথবা তোমরা তা লুকিয়ে রাখো, আল্লাহ সেই কারণে তোমাদের হিসাব নিবেন। সুতরাং তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন ও যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন। বস্তুত আল্লাহ সব কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান। [২ : ২৮৪]

তখন সাহাবীদের অন্তর সমূহ কষ্টে ও যন্ত্রণায় ভরে গিয়েছিলো। এমন যন্ত্রণা যেমন আগে কখনো হয়নি। সাহাবীরা বললো, “হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তো ধ্বংস হয়ে যাবো, যদি আমাদেরকে আমাদের হৃদয়ের জন্যে জবাবদিহি করতে হয়, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। (আমরা যা বলি এবং যা করি, তার জন্যেও কি আমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে?)” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদেরকে বললেন, “তোমরা বলো, আমরা শুনলাম, আনুগত্য করলাম এবং বশ্যতা স্বীকার করলাম।” অতঃপর আল্লাহ তাদের অন্তরে ঈমানের সঞ্চার করলেন এবং তিনি নাযিল করলেন,

ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِۦۚ وَقَالُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيۡكَ ٱلۡمَصِيرُ٢٨٥
রসূল মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও বিশ্বাসীগণ ঐ সকল বিষয় বিশ্বাস করেন, যা তাঁর প্রভুর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। বিশ্বাসীগণ সবাই আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর গ্রন্থ সমূহের প্রতি, তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাস করে। বিশ্বাসীগণ বলে, “আমরা তাঁর রসূলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না।” আর তারা বলে, “আমরা আল্লাহর বাণী শুনি ও পালন করি। হে আমাদের প্রভু! আমরা আপনার কাছে ক্ষমা চাই। আমাদেরকে আপনার কাছেই ফিরে যেতে হবে।” [২ : ২৮৫]

لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦۖ وَٱعۡفُ عَنَّا وَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَآۚ أَنتَ مَوۡلَىٰنَا فَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَٰفِرِينَ٢٨٦
আল্লাহ কোনো ব্যক্তির উপরে এমন কোনো কাজের ভার চাপিয়ে দেন না, যা তার সামর্থ্যে নেই। সে তাই পায়, যা সে উপার্জন করে আর তাই তার উপরে পতিত হয়, যা সে করে। হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা বলো, “হে আমাদের প্রভু! যদি আমরা ভুলে যাই অথবা আমরা ভুল করি, তবে তুমি আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রভু! আর তুমি আমাদের উপরে তেমন দায়িত্ব-ভার চাপিয়ে দিও না, যেমন দায়িত্ব-ভার তুমি আমাদের পূর্ববর্তীদের উপরে চাপিয়ে দিয়েছিলে। হে আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের উপরে তেমন দায়িত্ব-ভার তুলে দিয়ো না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। অতএব তুমি আমাদেরকে তোমার শাস্তি থেকে রক্ষা করো, আমাদেরকে তুমি ক্ষমা করো ও তুমি আমাদের প্রতি দয়া করো। তুমিই আমাদের অভিভাবক, অতএব তুমি অবিশ্বাসী জাতির বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করো।” [২ : ২৮৬]

সুতরাং লোকদের যে কোনো কাজের নিয়তের কারণে তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না, কিন্তু তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯১১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2912 OK

(২৯১২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ وَالْأَسْوَدُ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ قُرَيْشًا أَتَوْا كَاهِنَةً فَقَالُوا لَهَا أَخْبِرِينَا بِأَقْرَبِنَا شَبَهًا بِصَاحِبِ هَذَا الْمَقَامِ فَقَالَتْ إِنْ أَنْتُمْ جَرَرْتُمْ كِسَاءً عَلَى هَذِهِ السَّهْلَةِ ثُمَّ مَشَيْتُمْ عَلَيْهَا أَنْبَأْتُكُمْ فَجَرُّوا ثُمَّ مَشَى النَّاسُ عَلَيْهَا فَأَبْصَرَتْ أَثَرَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ هَذَا أَقْرَبُكُمْ شَبَهًا بِهِ فَمَكَثُوا بَعْدَ ذَلِكَ عِشْرِينَ سَنَةً أَوْ قَرِيبًا مِنْ عِشْرِينَ سَنَةً أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ بُعِثَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

কুরাইশরা একজন মহিলা গণকের কাছে গিয়ে বললো, “তুমি আমাদেরকে বলে দাও যে, আমাদের মধ্যে কে হযরত ইব্রাহিম রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ?” মহিলা গণক বললো, “তোমরা যদি এই ময়দানে একটি চাদর বিছিয়ে দাও, আর তোমরা তার উপর দিয়ে হেঁটে যাও, তবে আমি তোমাদেরকে তা বলতে পারবো।” তাই তারা একটা চাদর বিছিয়ে দিলো এবং লোকেরা তার উপর দিয়ে হেঁটে গেলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পদচিহ্ন দেখে মহিলা গণকটি বললো, “তোমাদের মধ্যে ইনিই হযরত ইব্রাহিম রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।” অতঃপর বিশ বছর বা প্রায় বিশ বছর বা যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করেন ততদিন অতিবাহিত হলো। তারপর তিনি রসূল হিসেবে প্রেরিত হলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯১২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2913 OK

(২৯১৩)

হাদিস দেখুন [৩১:১৯৬৮] view_link


সহিহ হাদিস


হাদিস নং ১৭৯১ দেখুন


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2914 OK

(২৯১৪)

হাদিস দেখুন [৩১:১৭৮১] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ شُجَاعٍ حَدَّثَنِي خُصَيْفٌ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ طَافَ مَعَ مُعَاوِيَةَ بِالْبَيْتِ فَجَعَلَ مُعَاوِيَةُ يَسْتَلِمُ الْأَرْكَانَ كُلَّهَا فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ لِمَ تَسْتَلِمُ هَذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ وَلَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَلِمُهُمَا فَقَالَ مُعَاوِيَةُ لَيْسَ شَيْءٌ مِنْ الْبَيْتِ مَهْجُورًا فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فَقَالَ مُعَاوِيَةُ صَدَقْتَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

তিনি একবার আমির মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আল্লাহর ঘর প্রদক্ষিণ করছিলেন। তখন হযরত আমীর মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু কাবার চারটি কোণ স্পর্শ করতে লাগলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, “আপনি কেনো এই দুই কোণ স্পর্শ করছেন অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র হাজরে আসওয়াদের কোণ স্পর্শ করেছেন?” মুআবিয়া (রা.) বললেন, “আল্লাহর ঘরের কোনো অংশই পরিত্যাগ করা যাবে না।” তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াতটি পাঠ করলেন,

لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِي رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأٓخِرَ وَذَكَرَ ٱللَّهَ كَثِيرٗا٢١

অবশ্যই তোমাদের জন্যে আল্লাহর রসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। তাদের জন্যে আদর্শ রয়েছে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। [৩৩ : ২১]

মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন যে, আপনি সত্য বলেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯১৪]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



2915 OK

(২৯১৫)

হাদিস দেখুন [৩১:১৭৫২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ قَالَ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ صَائِمٌ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইহরাম ও রোযা অবস্থায় থাকতেন, তখনও তিনি শিঙ্গা লাগাতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯১৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2916 OK

(২৯১৬)

হাদিস দেখুন [৩১:১৭৫৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا أَبُو بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا كَانَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَقَصَتْهُ نَاقَتُهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَمَاتَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْهِ وَلَا تَمَسُّوهُ بِطِيبٍ وَلَا تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হজে অংশ নিয়েছিলো, সে ইহরাম অবস্থায় উট থেকে পড়ে গেলো এবং মারা গেলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল দাও এবং তাকে তার ইহরামের দুই কাপড়ে কাফন দাও এবং তার গায়ে কোন সুগন্ধি লাগিও না এবং তার মাথা ঢেকেও না, কেননা সে কিয়ামতের দিন তালবিয়া বলতে বলতে উঠবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯১৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2917 OK

(২৯১৭)

হাদিস দেখুন [৩১:২০৪৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ جَابِرٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا احْتَجَمَ احْتَجَمَ فِي الْأَخْدَعَيْنِ قَالَ فَدَعَا غُلَامًا لِبَنِي بَيَاضَةَ فَحَجَمَهُ وَأَعْطَى الْحَجَّامَ أَجْرَهُ مُدًّا وَنِصْفًا قَالَ وَكَلَّمَ مَوَالِيَهُ فَحَطُّوا عَنْهُ نِصْفَ مُدٍّ وَكَانَ عَلَيْهِ مُدَّانِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শিঙ্গা দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছিলো, তখন তাঁর ঘাড়ের পাশের দুটি শিরায় চিকিৎসা করা হয়েছিলো। তিনি বনু বায়দাহর ক্রীতদাসকে ডেকেছিলেন, যে তাঁকে শিঙ্গা দিয়ে চিকিৎসা করেছিলো। তিনি মজুরি হিসেবে তাকে দেড় মুদ গম প্রদান করেছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ক্রীতদাসের মালিকদের সাথে কথা বলেছিলেন। তাই তারা ক্রীতদাসের মজুরি অর্ধেক মুদ মওকুফ করে এত মুদ নির্ধারন করেছিলো। অন্যথায় ইতিপূর্বে ঐ ক্রীতদাসকে তার মালিকদেরকে পুরো দুই মুদ মজুরি দিতে হতো। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯১৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2918 OK

(২৯১৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ النُّعْمَانِ الْأَفْطَسِ قَالَ سَمِعْتُ وَهْبًا يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ مِنْ عَدَنِ أَبْيَنَ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا يَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ هُمْ خَيْرُ مَنْ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ قَالَ لِي مَعْمَرٌ اذْهَبْ فَاسْأَلْهُ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আদান আবিয়ান (ইয়েমেনের একটি স্থান) থেকে এমন বারো হাজার (১২,০০০) লোক বের হবে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দ্বীনের সমর্থন করবে। তারাই হবে আমাদের ও তাদের মধ্যে সকল মানুষের চেয়ে সর্বোত্তম।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯১৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2919 OK

(২৯১৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ وَابْنُ بَكْرٍ قَالَا أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي يَعْلَى أَنَّهُ سَمِعَ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَقُولُ أَنْبَأَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ قَالَ ابْنُ بَكْرٍ أَخَا بَنِي سَاعِدَةَ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهُوَ غَائِبٌ عَنْهَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا فَهَلْ يَنْفَعُهَا إِنْ تَصَدَّقْتُ بِشَيْءٍ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطَ الْمَخْرَفِ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا وَقَالَ ابْنُ بَكْرٍ الْمِخْرَافِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত সাদ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর মা যখন মারা যান, তখন তিনি তার থেকে দূরে ছিলেন। হজরত সাদ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার মা যখন মারা গেলেন, তখন আমি তার থেকে দূরে ছিলাম। আমি যদি তার পক্ষ থেকে কিছু দান করি, তাহলে কি তার উপকার হবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ।” হজরত সাদ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো, “তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষ্যি রেখে বলছি যে, আমি আমার মায়ের পক্ষ থেকে আল-মাখরাসের বাগান (দুই সারি খেজুর গাছ) আল্লাহর পথে দান করলাম।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯১৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2920 OK

(২৯২০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ حَدَّثَنِي حَكِيمُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَّنِي جِبْرِيلُ عِنْدَ الْبَيْتِ فَصَلَّى بِي الظُّهْرَ حِينَ زَالَتْ الشَّمْسُ فَكَانَتْ بِقَدْرِ الشِّرَاكِ ثُمَّ صَلَّى بِي الْعَصْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَيْهِ ثُمَّ صَلَّى بِي الْمَغْرِبَ حِينَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ ثُمَّ صَلَّى بِي الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ ثُمَّ صَلَّى بِي الْفَجْرَ حِينَ حَرُمَ الطَّعَامُ وَالشَّرَابُ عَلَى الصَّائِمِ ثُمَّ صَلَّى الْغَدَ الظُّهْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَهُ ثُمَّ صَلَّى بِي الْعَصْرَ حِينَ صَارَ ظِلُّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَيْهِ ثُمَّ صَلَّى بِي الْمَغْرِبَ حِينَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ ثُمَّ صَلَّى بِي الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ الْأَوَّلِ ثُمَّ صَلَّى بِي الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَيَّ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ هَذَا وَقْتُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِكَ الْوَقْتُ فِيمَا بَيْنَ هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ حَدَّثَنِي أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حَكِيمِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ حُنَيْفٍ فَذَكَرَهُ بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ فِي الْفَجْرِ فِي الْيَوْمِ الثَّانِي لَا أَدْرِي أَيَّ شَيْءٍ قَالَ وَقَالَ فِي الْعِشَاءِ صَلَّى بِي حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ الْأَوَّلِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হজরত জিবরাইল (আঃ) কাবা শরীফের চত্বরে দুইবার আমার নামাযে ইমামতি করেছেন। হজরত জিবরাইল (আঃ) (১) প্রথমবার যুহরের নামায আদায় করালেন, যখন প্রতিটি জিনিসের ছায়া জুতার ফিতার মতো ছিলো। অতঃপর তিনি আসরের নামায আদায় করালেন, যখন কোনো বস্তুর ছায়া তার সমান ছিলো। অতঃপর মাগরিবের নামায আদায় করালেন, যখন র্সূয ডুবে গেলো এবং যে সময়ে রোযাদার ইফতার করে। অতঃপর ইশার নামায আদায় করালেন, যখন আকাশের লাল বর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেলো। অতঃপর ফযরের নামায আদায় করালেন, যখন ভোর বিদ্যুতের মত আলোকিত হলো এবং যে সময় রোযাদারের উপর পানাহার হারাম হয়। হজরত জিবরাইল (আঃ) (২) দ্বিতীয় বার যুহরের নামায আদায় করালেন, যখন কোনো বস্তুর ছায়া তার সমান হলো এবং পূর্ববর্তী দিন ঠিক যে সময় আসরের নামায আদায় করেছিলেন। অতঃপর আসরের নামায আদায় করালেন, যখন কোনো বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হলো। অতঃপর মাগরিবের নামায আদায় করালেন, পূর্বের দিনের সময়ে। অতঃপর ইশার নামায আদায় করালেন, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ চলে গেলো এবং ফযরের নামায আদায় করালেন, যখন যমিন আলোকিত হয়ে গেলো। অতঃপর জিবরাইল (আঃ) আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটাই হলো আপনার পূর্ববতী নাবীজের নামাযের ওয়াক্ত। আর এই দুই সময়ের মধ্যেই নামাযের ওয়াক্ত রয়েছে’।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯২০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2921 OK

(২৯২১)

হাদিস দেখুন [৩১:২৩১৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَحْسِبُهُ رَفَعَهُ قَالَ كَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاءِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রুকু থেকে মাথা উঠাতেন, তখন বলতেন,

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاءِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ

“আল্লাহ তার প্রশংসা শোনেন, যে তাঁর প্রশংসা করে। হে আল্লাহ, আমাদের পালনকর্তা, আপনার প্রশংসা আসমানকে পূর্ণ করে, পৃথিবীকে পূর্ণ করে এবং আপনি যা ইচ্ছা করেন, তা পূর্ণ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯২১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2922 OK

(২৯২২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَعْطَى الْحَجَّامَ أَجْرَهُ وَلَوْ كَانَ سُحْتًا لَمْ يُعْطِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বনু বায়দাহর এক ক্রীতদাসকে শিঙ্গা লাগানোর জন্যে ডাকলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেড় মণ গম মজুরি দিয়েছিলেন। যদি এই মজুরি হারাম হতো, তাহলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনোই তা দিতেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯২২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2923 OK

(২৯২৩)

হাদিস দেখুন [৩১:২৩৬৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالْمُزَفَّتِ وَالنَّقِيرِ وَأَنْ يُخْلَطَ الْبَلَحُ وَالزَّهْوُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুব্বা (লাউয়ের খোলের পাত্র), হান্তাম (মাটির সবুজ পাত্র), মুজাফত (এক রকম তৈলাক্ত পাত্র) ও নাকির (কাঠের পাত্র) ব্যবহার করতে নিষিদ্ধ করেছেন (কেননা, এই সব পাত্রগুলো মদ তৈরি ও মদ পানের জন্যে ব্যবহৃত হতো)। আর কিসমিস এবং খেজুর একত্রে মিশিয়ে নাবীজ তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯২৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2924 OK

(২৯২৪)

হাদিস দেখুন [৩১:১৭৯০] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْمَرُ فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “পূর্ব বিবাহিত একজন মহিলার তার অভিভাবকের চেয়ে নিজের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বেশি অধিকার রয়েছে। একজন কুমারী মহিলার কাছ থেকে তার বিবাহের বিষয়ে তার অনুমতি নেওয়া উচিত এবং তার নীরবতাই হচ্ছে তার অনুমতি।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯২৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2925 OK

(২৯২৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ مُعَتِّبٍ عَنْ مَوْلَى بَنِي نَوْفَلٍ يَعْنِي أَبَا الْحَسَنِ قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ عَبْدٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ بِطَلْقَتَيْنِ ثُمَّ عَتَقَا أَيَتَزَوَّجُهَا قَالَ نَعَمْ قِيلَ عَمَّنْ قَالَ أَفْتَى بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِيلَ لِمَعْمَرٍ يَا أَبَا عُرْوَةَ مَنْ أَبُو حَسَنٍ هَذَا لَقَدْ تَحَمَّلَ صَخْرَةً عَظِيمَةً


হজরত আবুল-হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে একজন ক্রীতদাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, যে তার স্ত্রীকে দুইবার তালাক দিয়েছিলো, তারপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো। “সে কি তাকে বিয়ে করতে পারবে?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” তাকে বলা হলো, “আপনি এই ফতোয়া কার কাছ থেকে পেয়েছেন?” তিনি বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে একটি ফতোয়া জারি করেছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯২৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2926 OK

(২৯২৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ قَالَ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَأَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ فِي رَمَضَانَ مِنْ الْمَدِينَةِ مَعَهُ عَشْرَةُ آلَافٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ وَذَلِكَ عَلَى رَأْسِ ثَمَانِ سِنِينَ وَنِصْفٍ مِنْ مَقْدَمِهِ الْمَدِينَةَ فَسَارَ بِمَنْ مَعَهُ مِنْ الْمُسْلِمِينَ إِلَى مَكَّةَ يَصُومُ وَيَصُومُونَ حَتَّى إِذَا بَلَغَ الْكَدِيدَ وَهُوَ مَا بَيْنَ عُسْفَانَ وَقُدَيْدٍ أَفْطَرَ وَأَفْطَرَ الْمُسْلِمُونَ مَعَهُ فَلَمْ يَصُمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, তখন রমজান মাস ছিলো, তাঁর সঙ্গে দশ হাজার মুসলমান ছিলো। তিনি মদীনায় আসার সাড়ে আট বছর পর মক্কা বিজয় করেন। তিনি এবং সকল মুসলমান রোজা রেখেছিলেন, কিন্তু তিনি যখন উসফান ও কুদাইদের মধ্যবর্তী স্থান কাদিদ নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন তিনি রোজা ভঙ্গ করলেন। আর তাঁর সাথে থাকা সকল মুসলমানরাও রোজা ভেঙে দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯২৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2927 OK

(২৯২৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يُحَدِّثُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَعُمَرُ يُحَدِّثُ النَّاسَ فَمَضَى حَتَّى أَتَى الْبَيْتَ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي بَيْتِ عَائِشَةَ فَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ بُرْدَ حِبَرَةٍ كَانَ مُسَجًّى بِهِ فَنَظَرَ إِلَى وَجْهِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ أَكَبَّ عَلَيْهِ يُقَبِّلُهُ ثُمَّ قَالَ وَاللَّهِ لَا يَجْمَعُ اللَّهُ عَلَيْهِ مَوْتَتَيْنِ لَقَدْ مِتَّ الْمَوْتَةَ الَّتِي لَا تَمُوتُ بَعْدَهَا حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَمِّهِ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ الْمَسْجِدَ وَعُمَرُ يُكَلِّمُ النَّاسَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আবু বকর আস-সিদ্দীক মসজিদে প্রবেশ করলেন, যখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকদের সাথে কথা বলছিলেন। তিনি এগিয়ে গেলেন, যতক্ষণ না তিনি সেই বাড়িতে আসেন, যেখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মারা গিয়েছিলেন, যেটি ছিলো আয়েশার ঘর। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখ থেকে ডোরাকাটা চাদরটি সরিয়ে ফেললেন, যা দিয়ে তাঁকে ঢাকা হয়েছিলো। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখের দিকে তাকালেন, তারপর তাঁর উপের ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে চুম্বন করলেন। তারপর বললেন, “আল্লাহর কসম। আল্লাহ আপনাকে দুইবার মৃত্যু দিবেন না। আপনি এমন মৃত্যু বরণ করেছেন, যার পরে আপনি আর মরবেন না।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯২৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2928 OK
View Quran

(২৯২৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ لَمْ يَكُنْ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ قَالَ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا أُمِرَ أَنْ يَقْرَأَ فِيهِ وَسَكَتَ فِيمَا أُمِرَ أَنْ يَسْكُتَ فِيهِ قَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا


হজরত ইকরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু জোহর ও আসরে নামাযে জোরে কোরআন পাঠ করতেন না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে নামাযে জোরে কোরআন তিলাওয়াত করতে আদেশ করা হয়েছিলো, তিনি তাতে জোরে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। আর যে নামাযে শান্তভাবে কোরআন তিলাওয়াত করতে আদেশ করা হয়েছিলো, তিনি তাতে চুপচাপ কোরআন তিলাওয়াত করতেন। এবং যে বিষয়ে তাকে নীরব ভাবে তিলাওয়াত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো, তিনি তাতে চুপচাপ পাঠ করতেন। “অবশ্যই তোমাদের জন্যে আল্লাহর রসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” আর “আপনার প্রভু কোনো কিছুই ভুলে যান না।”
لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِي رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأٓخِرَ وَذَكَرَ ٱللَّهَ كَثِيرٗا٢١
অবশ্যই তোমাদের জন্যে আল্লাহর রসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। তাদের জন্যে আদর্শ রয়েছে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। (৩৩. আল আহযাব : ২১)
وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمۡرِ رَبِّكَۖ لَهُۥ مَا بَيۡنَ أَيۡدِينَا وَمَا خَلۡفَنَا وَمَا بَيۡنَ ذَٰلِكَۚ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيّٗا٦٤
জিবরিল বললেন, “আমরা আপনার প্রভুর আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না। যা আমাদের সামনের ভবিষ্যৎ ও যা আমাদের পিছনের অতীত ও যা এই দুইয়ের মধ্যে বর্তমান, সবই আল্লাহর আয়ত্ত্বাধীন। আপনার প্রভু কোনো কিছুই ভুলে যান না। (১৯. মারইয়াম : ৬৪) [মুসনাদে আহমাদ : ২৯২৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2929 OK

(২৯২৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنِي أَبِي أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا قَدِمَ مَكَّةَ أَبَى أَنْ يَدْخُلَ الْبَيْتَ وَفِيهِ الْآلِهَةُ فَأَمَرَ بِهَا فَأُخْرِجَتْ فَأَخْرَجَ صُورَةَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ عَلَيْهِمَا السَّلَام فِي أَيْدِيهِمَا الْأَزْلَامُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاتَلَهُمْ اللَّهُ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ عَلِمُوا مَا اقْتَسَمَا بِهَا قَطُّ قَالَ ثُمَّ دَخَلَ الْبَيْتَ فَكَبَّرَ فِي نَوَاحِي الْبَيْتِ وَخَرَجَ وَلَمْ يُصَلِّ فِي الْبَيْتِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কাবাগৃহে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি তাতে হজরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর একটি মূর্তি ও ইসমাঈল (আঃ)-এর একটি মূর্তি দেখতে পেলেন। ঐ মূর্তি গুলোর হাতে পাশার তীর রাখা ছিলো। তখন তিনি মূর্তির সামনে আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকলেন। তিনি মূর্তি গুলোকে বের করে আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন, “আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিসম্পাত করুন! কাফিররা জানতো যে, তাঁরা কখনোই তীর নিক্ষেপ করেনি। আর কাফিররা জানতো যে, ফেরেশতারা এমন ঘরে প্রবেশ করে না, যেখানে একটি মূর্তি রয়েছে। অথচো কাফিররা এখানে ইব্রাহীম (আঃ)-এর একটি মূর্তি বানিয়েছে, তাঁর কি অবস্থা, আর তিনি কেনোইবা পাশার তীর ধরে আছেন?” অতঃপর তিনি কাবাগৃহে প্রবেশ করলেন এবং ঘরের সকল কোণায় তাকবীর বললেন এবং বাইরে এলেন। তিনি ঘরের ভিতরে সালাত আদায় করেননি। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯২৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2930 OK

(২৯৩০)

হাদিস দেখুন [৩১:২০৯৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الثَّقَلِ مِنْ جَمْعٍ بِلَيْلٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুযদালিফা থেকে রাতে আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মালপত্রসহ পাঠালেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৩০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2931 OK

(২৯৩১)

হাদিস দেখুন [৩১:২৬৮৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ كَانَ يَكْرَهُ الْبُسْرَ وَحْدَهُ وَيَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ عَنْ الْمُزَّاءِ فَأَرْهَبُ أَنْ تَكُونَ الْبُسْرَ


হজরত ইকরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কাঁচা খেজুর খাওয়া অপছন্দ করতেন এবং তিনি বলতেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দলের জন্যে মুজ্জা (সবুজ চকচকে কলসি বা বার্নিশ করা পাত্রে তৈরি নাবীজ) নিষিদ্ধ করেছেন এবং আমি ভয় পাচ্ছি যে, এটি কাঁচা খেজুর (বুসর) হতে পারে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৩১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2932 OK

(২৯৩২)

হাদিস দেখুন [৩১:১৮৮৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي مُخَوَّلٌ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ الم تَنْزِيلُ وَهَلْ أَتَى وَفِي الْجُمُعَةِ بِسُورَةِ الْجُمُعَةِ وَإِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার দিনে ফজরের নামায পড়তেন “আলিফ লাম মীম তানযীল” (অর্থাৎ, সূরা আস-সাজদা) এবং “হাল আতা” অর্থাৎ, (সূরা ৭৬. আদ দাহর / আল ইনসান) এবং জুমুআর নামাযে তিনি সূরা আল-জুমুআহ এবং “ইদা জা'আকাল মুনাফিকুন” (অর্থাৎ, সূরাতাল মুনাফিকুন) পাঠ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৩২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2933 OK

(২৯৩৩)

হাদিস দেখুন [৩১:১৮৮৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي مُخَوَّلٌ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ الم تَنْزِيلُ وَهَلْ أَتَى وَفِي الْجُمُعَةِ بِسُورَةِ الْجُمُعَةِ وَإِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার দিনে ফজরের নামায পড়তেন “আলিফ লাম মীম তানযীল” (অর্থাৎ, সূরা আস-সাজদা) এবং “হাল আতা” অর্থাৎ, (সূরা ৭৬. আদ দাহর / আল ইনসান) এবং জুমুআর নামাযে তিনি সূরা আল-জুমুআহ এবং “ইদা জা'আকাল মুনাফিকুন” (অর্থাৎ, সূরাতাল মুনাফিকুন) পাঠ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৩৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2934 OK

(২৯৩৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ بَارِقٍ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا سِمَاكٌ أَبُو زُمَيْلٍ الْحَنَفِيُّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ كَانَ لَهُ فَرَطَانِ مِنْ أُمَّتِي دَخَلَ الْجَنَّةَ فَقَالَتْ عَائِشَةُ بِأَبِي فَمَنْ كَانَ لَهُ فَرَطٌ فَقَالَ وَمَنْ كَانَ لَهُ فَرَطٌ يَا مُوَفَّقَةُ قَالَتْ فَمَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ فَرَطٌ مِنْ أُمَّتِكَ قَالَ فَأَنَا فَرَطُ أُمَّتِي لَمْ يُصَابُوا بِمِثْلِي


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার উম্মতের মধ্যে যার দুইজন মৃত শিশু সন্তান পূর্বসূরী থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমার পিতা-মাতা আপনার জন্যে কুরবান হোক! যার একজন মৃত শিশু সন্তান পূর্বসূরী আছে, তার কি হবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যার একজন মৃত শিশু সন্তান পূর্বসূরী আছে, সে বরকতময়।” হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আপনার উম্মতের তার কি হবে, যার কোনো পূর্বসূরী নেই?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি আমার উম্মতের জন্যে পূর্বসূরী; তারা কখনই আমার মৃত্যুর মতো কোনো দুর্যোগ ভোগ করবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৩৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2935 OK

(২৯৩৫)

হাদিস দেখুন [৩১:২০২৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَّامٍ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ مِينَاءَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُمَا شَهِدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ وَهُوَ عَلَى أَعْوَادِ الْمِنْبَرِ لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمْ الْجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَلَيُكْتَبَنَّ مِنْ الْغَافِلِينَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে থাকা অবস্থায় বলেছেন, “লোকেরা যেনো জুমআর নামায বর্জন করা থেকে বিরত থাকে, নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিবেন এবং তাদেরকে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত করে দিবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৩৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2936 OK

(২৯৩৬)

হাদিস দেখুন [৩১:১৭৮৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ صَلَّيْتُ الظُّهْرَ بِالْبَطْحَاءِ خَلْفَ شَيْخٍ أَحْمَقَ فَكَبَّرَ ثِنْتَيْنِ وَعِشْرِينَ تَكْبِيرَةً يُكَبِّرُ إِذَا سَجَدَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ قَالَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تِلْكَ صَلَاةُ أَبِي الْقَاسِمِ عَلَيْهِ الصَّلَاة وَالسَّلَامُ


হজরত ইকরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলাম যে, “আজ আমি ওয়াদি আল-বাথায় (মসজিদে নববীতে) এক মূর্খ শাইখের পিছনে যোহরের নামায পড়লাম। তিনি বাইশটি (২২) তাকবীর বললেন, যখন তিনি সিজদা করলেন এবং যখন সিজদা থেকে মাথা উঠালেন তখনও তাকবীর বললেন।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাযও এমনি ছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৩৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2937 OK

(২৯৩৭)

হাদিস দেখুন [৩১:২৮৬৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمٌ حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ سَمِعْتُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي يَزَيْدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْخَلَاءَ فَوَضَعْتُ لَهُ وَضُوءًا فَلَمَّا خَرَجَ قَالَ مَنْ وَضَعَ ذَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ اللَّهُمَّ فَقِّهُّ فِي الدِّينِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হজরত মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘরে ছিলেন। আমি রাতে তাঁর জন্যে ওযুর পানি রেখেছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “এ পানি কে দিয়েছে?” হযরত মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই পানি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আপনার জন্য রেখেছেন।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর বুঝ দান করুন এবং তাকে কুরআনের ব্যাখ্যা বোঝার জ্ঞান দান করুন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৩৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2938 OK

(২৯৩৮)

হাদিস দেখুন [৩১:২০২০] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا مَاتَ عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ قَالَتْ امْرَأَةٌ هَنِيئًا لَكَ الْجَنَّةُ عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهَا نَظَرَ غَضْبَانَ فَقَالَ وَمَا يُدْرِيكِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَارِسُكَ وَصَاحِبُكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاللَّهِ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَمَا أَدْرِي مَا يُفْعَلُ بِي فَأَشْفَقَ النَّاسُ عَلَى عُثْمَانَ فَلَمَّا مَاتَتْ زَيْنَبُ ابْنَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَقِي بِسَلَفِنَا الصَّالِحِ الْخَيْرِ عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ فَبَكَتْ النِّسَاءُ فَجَعَلَ عُمَرُ يَضْرِبُهُنَّ بِسَوْطِهِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ وَقَالَ مَهْلًا يَا عُمَرُ ثُمَّ قَالَ ابْكِينَ وَإِيَّاكُنَّ وَنَعِيقَ الشَّيْطَانِ ثُمَّ قَالَ إِنَّهُ مَهْمَا كَانَ مِنْ الْعَيْنِ وَالْقَلْبِ فَمِنْ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَمِنْ الرَّحْمَةِ وَمَا كَانَ مِنْ الْيَدِ وَاللِّسَانِ فَمِنْ الشَّيْطَانِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

যখন উসমান বিন মাযূন মারা গেলো, তখন তার স্ত্রী বললো, “অভিনন্দন হে উসমান বিন মাযূন, জান্নাত আপনার জন্য।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং রাগান্বিত ভাবে বললেন, “তুমি কিভাবে জানো যে, সে জান্নাতী?” মহিলা বললো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সে ছিলো আপনার ঘোড়সওয়ার এবং আপনার সাহাবী।” রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর রসুল, কিন্তু আমি নিজেও জানি যে, আমার কি হবে।” লোকেরা উসমান বিন মাযূনকে নিয়ে চিন্তিত হলো। তারপর যখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা জয়নাব মারা গেলেন, তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমাদের আগে যে উসমান ইবনে মাযূন চলে গিয়েছিলো, তুমি তার সাথে যোগ দাও।” মহিলারা কাঁদতে লাগলো এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে চাবুক দিয়ে আঘাত করতে লাগলো। কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাত ধরে বললেন, “হে উমর, শান্ত হও।” অতঃপর তিনি মহিলাদেরকে বললেন, “তোমরা কাঁদো, কিন্তু শয়তানের কান্না থেকে সাবধান হও।” তারপর তিনি বললেন, “চোখ ও অন্তর থেকে যা আসে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে এবং এটি একটি করুণার নিদর্শন। কিন্তু হাত ও জিহ্বা থেকে যা আসে তা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।” এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জয়নাবের কবরের পাশে বসলেন। ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পাশে কাঁদছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রতি মমতায় ফাতিমার চোখ তাঁর পোশাক দিয়ে মুছতে লাগলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৩৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2939 OK

(২৯৩৯)

হাদিস দেখুন [৩১:২৫১৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو حَمْزَةَ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ كُنْتُ غُلَامًا أَسْعَى مَعَ الصِّبْيَانِ قَالَ فَالْتَفَتُّ فَإِذَا نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَلْفِي مُقْبِلًا فَقُلْتُ مَا جَاءَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا إِلَيَّ قَالَ فَسَعَيْتُ حَتَّى أَخْتَبِئَ وَرَاءَ بَابِ دَارٍ قَالَ فَلَمْ أَشْعُرْ حَتَّى تَنَاوَلَنِي قَالَ فَأَخَذَ بِقَفَايَ فَحَطَأَنِي حَطْأَةً قَالَ اذْهَبْ فَادْعُ لِي مُعَاوِيَةَ وَكَانَ كَاتِبَهُ قَالَ فَسَعَيْتُ فَقُلْتُ أَجِبْ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنَّهُ عَلَى حَاجَةٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি সেই সময় শিশুদের সঙ্গে খেলছিলাম। আমি একটি দরজার পিছনে গিয়ে লুকিয়ে পড়লাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ডাকলেন এবং আমার কাঁধে মৃদু আঘাত করলেন। তারপর তিনি আমাকে বললেন, “যাও এবং আমার জন্যে ডেকে আনো।” যেহেতু তিনি তার লেখক ছিলেন। তাই আমি দৌড়ে গিয়ে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, “আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যান। তিনি আপনার সাথে কথা বলতে চান।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৩৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



2940 OK

(২৯৪০)

হাদিস দেখুন [৩১:১৮০৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَشْهَدُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى قَبْلَ الْخُطْبَةِ فِي الْعِيدِ ثُمَّ خَطَبَ فَرَأَى أَنَّهُ لَمْ يُسْمِعْ النِّسَاءَ فَأَتَاهُنَّ فَذَكَّرَهُنَّ وَوَعَظَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ فَجَعَلَتْ الْمَرْأَةُ تُلْقِي الْخُرْصَ وَالْخَاتَمَ وَالشَّيْءَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ঈদের দিন খুতবার আগে নামাযের ইমামতি করেছিলেন, তারপর খুতবা প্রদান করেছিলেন। পরে তিনি মনে করলেন যে, মহিলারা হয়তো খুতবা শুনতে পায়নি। তাই তিনি তাদের কাছে গেলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। তাদেরকে নসীহত করলেন এবং তাদেরকে সদকা করতে নির্দেশ দিলেন। এতে মহিলারা তাদের কানের দুল ও আংটি খুলে সদকা করতে লাগলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সেই জিনিসগুলো সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়ে ঘরে ফিরে গেলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৪০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস