হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন উসমান বিন মাযূন মারা গেলো, তখন তার স্ত্রী বললো, “অভিনন্দন হে উসমান বিন মাযূন, জান্নাত আপনার জন্য।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং রাগান্বিত ভাবে বললেন, “তুমি কিভাবে জানো যে, সে জান্নাতী?” মহিলা বললো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সে ছিলো আপনার ঘোড়সওয়ার এবং আপনার সাহাবী।” রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর রসুল, কিন্তু আমি নিজেও জানি যে, আমার কি হবে।” লোকেরা উসমান বিন মাযূনকে নিয়ে চিন্তিত হলো। তারপর যখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা জয়নাব মারা গেলেন, তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমাদের আগে যে উসমান ইবনে মাযূন চলে গিয়েছিলো, তুমি তার সাথে যোগ দাও।” মহিলারা কাঁদতে লাগলো এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে চাবুক দিয়ে আঘাত করতে লাগলো। কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাত ধরে বললেন, “হে উমর, শান্ত হও।” অতঃপর তিনি মহিলাদেরকে বললেন, “তোমরা কাঁদো, কিন্তু শয়তানের কান্না থেকে সাবধান হও।” তারপর তিনি বললেন, “চোখ ও অন্তর থেকে যা আসে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে এবং এটি একটি করুণার নিদর্শন। কিন্তু হাত ও জিহ্বা থেকে যা আসে তা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।” এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জয়নাবের কবরের পাশে বসলেন। ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পাশে কাঁদছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রতি মমতায় ফাতিমার চোখ তাঁর পোশাক দিয়ে মুছতে লাগলেন।