(২৬) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৩৩৬৮-৪২১৬), সর্বমোট হাদিসঃ ৮৪৯টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৬৯টি]



4147 OK

(৪১৪৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৮৫৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ فَقَالَ نَاوِلْنِي أَحْجَارًا قَالَ فَنَاوَلْتُهُ سَبْعَةَ أَحْجَارٍ فَقَالَ لِي خُذْ بِزِمَامِ النَّاقَةِ قَالَ ثُمَّ عَادَ إِلَيْهَا فَرَمَى بِهَا مِنْ بَطْنِ الْوَادِي بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ وَهُوَ رَاكِبٌ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ وَقَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ حَجًّا مَبْرُورًا وَذَنْبًا مَغْفُورًا ثُمَّ قَالَ هَاهُنَا كَانَ يَقُومُ الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ


হজরত আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার হজ উপলক্ষে আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে ছিলাম। যখন তিনি জামরাহ আকাবার কাছে পৌঁছলেন, তিনি বললেন, “আমাকে কিছু নুড়ি দাও।” আমি তাকে সাতটি নুড়ি দিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, “উটের লাগাম ধরো।” অতঃপর তিনি পিছু হটলেন এবং বাতিন ওয়াদী থেকে জামরাহ আকাবার দিকে সওয়ারী অবস্থায় সাতটি নুড়ি নিক্ষেপ করলেন এবং প্রতিটি নুড়ির উপর তাকবীর বলতে থাকলেন। এবং দোয়া করতে থাকলেন, “হে আল্লাহ! এটাকে কবুল হজ্জ করুন এবং গুনাহ মাফ করুন।” তারপর বাম হাতের দিকে বাইতুল্লাহ এবং ডান হাতের দিকে মিনা রেখে বললেন, “এটি সেই স্থান, যেখানে সূরা বাকারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে উপর নাযিল হয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৪৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4148 OK

(৪১৪৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنِ الْحَارِثِ أَظُنُّهُ يَعْنِي ابْنَ فُضَيْلٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمِسْوَرِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ نَبِيٍّ بَعَثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إِلَّا كَانَ لَهُ مِنْ أُمَّتِهِ حَوَارِيُّونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ আমার পূর্বে যে কোনো জাতির কাছে একজন নবী পাঠিয়েছেন। তাঁর উম্মতের মধ্যে থেকে তিনি এমন শিষ্য ও সাহাবীও তৈরি করেছিলেন, যারা নবীর সুন্নাহ অনুসরণ করেছিলেন এবং তাঁর আদেশ অনুসরণ করেছিলেন। কিন্তু তাদের পরে এমন কিছু অবিশ্বাসী আসবে, যারা এমন কথা বলবে, যা তারা নিজেরা করে না। আর তারা এমন কাজ করবে, যা করতে তাদেরকে আদেশ দেওয়া হয়নি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৪৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4149 OK

(৪১৪৯)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ صَالِحٍ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ قَالَ بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قَرِيبٍ مِنْ ثَمَانِينَ رَجُلًا مِنْ قُرَيْشٍ لَيْسَ فِيهِمْ إِلَّا قُرَشِيٌّ لَا وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ صَفْحَةَ وُجُوهِ رِجَالٍ قَطُّ أَحْسَنَ مِنْ وُجُوهِهِمْ يَوْمَئِذٍ فَذَكَرُوا النِّسَاءَ فَتَحَدَّثُوا فِيهِنَّ فَتَحَدَّثَ مَعَهُمْ حَتَّى أَحْبَبْتُ أَنْ يَسْكُتَ قَالَ ثُمَّ أَتَيْتُهُ فَتَشَهَّدَ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ فَإِنَّكُمْ أَهْلُ هَذَا الْأَمْرِ مَا لَمْ تَعْصُوا اللَّهَ فَإِذَا عَصَيْتُمُوهُ بَعَثَ إِلَيْكُمْ مَنْ يَلْحَاكُمْ كَمَا يُلْحَى هَذَا الْقَضِيبُ لِقَضِيبٍ فِي يَدِهِ ثُمَّ لَحَا قَضِيبَهُ فَإِذَا هُوَ أَبْيَضُ يَصْلِدُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমরা কুরেশি সম্প্রদায়ের আশে-পাশে ছিলাম, যাদের মধ্যে কুরাইশ ছাড়া অন্য কোনো গোত্রের সদস্য ছিলো না। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে বসা ছিলাম। আমি ঐদিন পুরুষদের মুখের উজ্জ্বল দিক দেখেছি। কথোপকথনের সময়, মহিলাদের উল্লেখ করা হয়েছিলো এবং লোকেরা মহিলাদের সম্পর্কে কথা বলতে শুরু করেছিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাদের সাথে কথোপকথনে অংশ নেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ থাকতেই আমি তাঁর সামনে উপস্থিত হলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা অনুভব করলেন এবং শাহাদাত বাণী পাঠ করার পর বললেন, “অতঃপর, হে কুরাইশ দল! তোমরা এই সরকারের লোক, যদি তোমরা আল্লাহর নাফরমানি করো, তখন আল্লাহ তোমাদের উপরে এমন এক ব্যক্তিকে চাপিয়ে দেবেন যে, যে ব্যক্তি তোমাদেরকে গাছের খোসার মতো ছাড়িয়ে দেবে।” সেই সময় তাঁর বরকতময় হাতে একটি ডাল ছিলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডালটির খোসা ছাড়ালে তা সাদা, শক্ত ও মসৃণ হয়ে বেরিয়ে আসে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৪৯]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



4150 OK

(৪১৫০)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ ابْنِ إِسْحَاقَ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عُمَيْسٍ عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ أَبِي فَزَارَةَ عَنْ أَبِي زَيْدٍ مَوْلَى عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ الْمَخْزُومِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَكَّةَ وَهُوَ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذْ قَالَ لِيَقُمْ مَعِي رَجُلٌ مِنْكُمْ وَلَا يَقُومَنَّ مَعِي رَجُلٌ فِي قَلْبِهِ مِنْ الْغِشِّ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ قَالَ فَقُمْتُ مَعَهُ وَأَخَذْتُ إِدَاوَةً وَلَا أَحْسَبُهَا إِلَّا مَاءً فَخَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِأَعْلَى مَكَّةَ رَأَيْتُ أَسْوِدَةً مُجْتَمِعَةً قَالَ فَخَطَّ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطًّا ثُمَّ قَالَ قُمْ هَاهُنَا حَتَّى آتِيَكَ قَالَ فَقُمْتُ وَمَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِمْ فَرَأَيْتُهُمْ يَتَثَوَّرُونَ إِلَيْهِ قَالَ فَسَمَرَ مَعَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلًا طَوِيلًا حَتَّى جَاءَنِي مَعَ الْفَجْرِ فَقَالَ لِي مَا زِلْتَ قَائِمًا يَا ابْنَ مَسْعُودٍ قَالَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوَلَمْ تَقُلْ لِي قُمْ حَتَّى آتِيَكَ قَالَ ثُمَّ قَالَ لِي هَلْ مَعَكَ مِنْ وَضُوءٍ قَالَ فَقُلْتُ نَعَمْ فَفَتَحْتُ الْإِدَاوَةَ فَإِذَا هُوَ نَبِيذٌ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَقَدْ أَخَذْتُ الْإِدَاوَةَ وَلَا أَحْسَبُهَا إِلَّا مَاءً فَإِذَا هُوَ نَبِيذٌ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَمْرَةٌ طَيِّبَةٌ وَمَاءٌ طَهُورٌ قَالَ ثُمَّ تَوَضَّأَ مِنْهَا فَلَمَّا قَامَ يُصَلِّي أَدْرَكَهُ شَخْصَانِ مِنْهُمْ قَالَا لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نُحِبُّ أَنْ تَؤُمَّنَا فِي صَلَاتِنَا قَالَ فَصَفَّهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَلْفَهُ ثُمَّ صَلَّى بِنَا فَلَمَّا انْصَرَفَ قُلْتُ لَهُ مَنْ هَؤُلَاءِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ هَؤُلَاءِ جِنُّ نَصِيبِينَ جَاءُوا يَخْتَصِمُونَ إِلَيَّ فِي أُمُورٍ كَانَتْ بَيْنَهُمْ وَقَدْ سَأَلُونِي الزَّادَ فَزَوَّدْتُهُمْ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ وَهَلْ عِنْدَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ تُزَوِّدُهُمْ إِيَّاهُ قَالَ فَقَالَ قَدْ زَوَّدْتُهُمْ الرَّجْعَةَ وَمَا وَجَدُوا مِنْ رَوْثٍ وَجَدُوهُ شَعِيرًا وَمَا وَجَدُوهُ مِنْ عَظْمٍ وَجَدُوهُ كَاسِيًا قَالَ وَعِنْدَ ذَلِكَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَنْ يُسْتَطَابَ بِالرَّوْثِ وَالْعَظْمِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার মক্কার যুগে আমরা কয়েকজন সাহাবীসহ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসা ছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের একজনকে আমার সাথে যেতে দাও। কিন্তু যে মানুষটির অন্তরে এক বিন্দুও অহংকার নেই। সে যেনো আমার সাথে আসে।” একথা শুনে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হাঁটতে উঠলাম এবং আমার সাথে একটি পাত্র নিলাম, যাতে পানি আছে আমি মনে করলাম। আমি নবীজীর সাথে রওনা হলাম। আমরা যখন মক্কার চূড়ায় পৌঁছলাম, দেখলাম কালো মানুষের ভিড়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি চিঠি বের করে আমাকে বললেন, “আমি না আসা পর্যন্ত এখানেই থাকবে।” মহানবী অত্যন্ত উৎসাহ নিয়ে তাদের দিকে অগ্রসর হলেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা রাত তাদের সাথে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করলেন এবং ভোর বেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে এসে বললেন, “হে ইবনে মাসউদ! কতক্ষণ থেকে দাঁড়িয়ে আছো?” আমি বললাম, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনিই তো বলেছিলেন, আমি না আসা পর্যন্ত এখানে দাঁড়াও।” অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কাছে কি ওযুর পানি আছে?” আমি বললাম, “হ্যাঁ!” যখন আমি পাত্র খুললাম, তাতে নবিজ ছিলো। আমি বললাম, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যখন এই পাত্রটি নিয়েছিলাম, তখন ভেবেছিলাম এতে পানি আছে, কিন্তু এতে নবিজ রয়েছে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “নাবিজ সুস্বাদু পানীয় এবং পবিত্রতার মাধ্যম।” এবং তিনি তা দিয়ে ওযু করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়ালেন, তখন দুজন লোক এসে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আমাদের নামাযের নেতৃত্ব দিবেন এটাই আমাদের কামনা।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালেন এবং আমাদেরকে নামায পড়ালেন। সালাত শেষ হলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এরা কারা?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এরা ছিলো সৌভাগ্যবান জ্বীন। তাদের কিছু বিরোধ নিষ্পত্তি করতে আমার কাছে এসেছিলো। তারা আমার কাছে খাদ্য চেয়েছিলো, যা আমি তাদেরকে দিয়েছিলাম।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার কাছে এমন কি ছিলো, যা আপনি তাদেরকে উপহার হিসাবে দিয়েছেন?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি তাদেরকে বলেছি, তারা যা গোবর ও হাড় পায়, তা আল্লাহর নামে স্পর্শ করলে, তা তাদের জন্যে মাংসে পরিণত হবে।” এ কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোবর ও হাড় কুলুক হিসাবে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৫০]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



4151 OK

(৪১৫১)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৮১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا خُصَيْفٌ الْجَزَرِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ عَلَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التَّشَهُّدَ وَأَمَرَهُ أَنْ يُعَلِّمَ النَّاسَ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তাশাহহুদ শিখিয়েছিলেন এবং লোকদেরকে শেখাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন,

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“সকল সম্ভাষণ (মৌখিক ইবাদত), সকল (শারিরিক) ইবাদত ও সকল পবিত্রতা (আর্থিক ইবাদত) আল্লাহর জন্যে। হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো প্রভু নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রসূল।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৫১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4152 OK

(৪১৫২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ قَالَ حَدَّثَنِي عَنْ انْصِرَافِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ النَّخَعِيُّ عَنْ أَبِيهِ سَمِعْتُ رَجُلًا يَسْأَلُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ عَنْ انْصِرَافِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ صَلَاتِهِ عَنْ يَمِينِهِ كَانَ يَنْصَرِفُ أَوْ عَنْ يَسَارِهِ قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْصَرِفُ حَيْثُ أَرَادَ كَانَ أَكْثَرُ انْصِرَافِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ صَلَاتِهِ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْسَرِ إِلَى حُجْرَتِهِ


হজরত আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি এক ব্যক্তিকে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায পড়ে ডান দিক থেকে, না বাম দিক থেকে ফিরতেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দিক থেকে চাইতেন সেই দিকেই ফিরতেন। তবে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেশির ভাগ সময়ই বাম দিক থেকে ফিরে, তাঁর কক্ষের দিকে যেতে দেখেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৫২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4153 OK

(৪১৫৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৪১৫২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ قَالَ حَدَّثَنِي عَنْ انْصِرَافِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ النَّخَعِيُّ عَنْ أَبِيهِ سَمِعْتُ رَجُلًا يَسْأَلُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ عَنْ انْصِرَافِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ صَلَاتِهِ عَنْ يَمِينِهِ كَانَ يَنْصَرِفُ أَوْ عَنْ يَسَارِهِ قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْصَرِفُ حَيْثُ أَرَادَ كَانَ أَكْثَرُ انْصِرَافِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ صَلَاتِهِ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْسَرِ إِلَى حُجْرَتِهِ


হজরত আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি এক ব্যক্তিকে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায পড়ে ডান দিক থেকে, না বাম দিক থেকে ফিরতেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দিক থেকে চাইতেন সেই দিকেই ফিরতেন। তবে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেশির ভাগ সময়ই বাম দিক থেকে ফিরে, তাঁর কক্ষের দিকে যেতে দেখেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৫৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4154 OK

(৪১৫৪)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَعْبٍ الْقُرَظِيُّ عَمَّنْ حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ بَيْنَا نَحْنُ مَعَهُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي مَسْجِدِ الْكُوفَةِ وَعَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ أَمِيرٌ عَلَى الْكُوفَةِ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ عَلَى بَيْتِ الْمَالِ إِذْ نَظَرَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ إِلَى الظِّلِّ فَرَآهُ قَدْرَ الشِّرَاكِ فَقَالَ إِنْ يُصِبْ صَاحِبُكُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجْ الْآنَ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا فَرَغَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ مِنْ كَلَامِهِ حَتَّى خَرَجَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ يَقُولُ الصَّلَاةَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার জুমার দিনে কুফার মসজিদে লোক সমবেত হয়েছিলো। সে সময় সাইয়্যিদনা আম্মার বিন ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন কুফার গভর্নর এবং সাইয়্যিদনা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সাইয়্যিদুনা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর অর্থমন্ত্রী। ছায়াটি বন্ধনীর সমান ছিলো এবং হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতে লাগলেন যে, “আপনার সাহাবীরা যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ করতে চান, তবে তারা এখনই বের হয়ে আসবে।”আল্লাহর কসম! সায়্যিদনা ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তখনো কথা শেষ করেননি, যখন সাইয়্যেদনা আম্মার ইবনে ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাজ পড়ে বেরিয়ে এলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৫৪]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



4155 OK

(৪১৫৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৪০৫১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّ الْأَسْوَدَ وَعَلْقَمَةَ كَانَا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ فِي الدَّارِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ صَلَّى هَؤُلَاءِ قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَصَلَّى بِهِمْ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ وَقَامَ وَسَطَهُمْ وَقَالَ إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَاصْنَعُوا هَكَذَا فَإِذَا كُنْتُمْ أَكْثَرَ فَلْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ وَلْيَضَعْ أَحَدُكُمْ يَدَيْهِ بَيْنَ فَخِذَيْهِ إِذَا رَكَعَ فَلْيَحْنَأْ فَكَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى اخْتِلَافِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


হজরত ইবরাহীম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আলকামাহ ও আসওয়াদ উভয়েই হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেদমতে উপস্থিত ছিলেন। নামাযের সময় হলে আলকামাহ ও আসওয়াদ পিছনে দাঁড়ালো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের হাত ধরে একজনকে তার ডান পাশে এবং অন্যজনকে তার বাম পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাযের আযান ও ইকামা ছাড়াই তাদের ইমামতি করলেন এবং তিনি নিজেই তাদের মাঝখানে দাঁড়ালেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “যখন তোমরা তিনজন হয়ে যাবে, তখন তোমরা একইভাবে করবে এবং যখন তিনজনের বেশি হবে? তোমাদের মধ্যে একজন ব্যক্তি ইমামতি করবে।” অতঃপর যখন তারা উভয়ে রুকু করলো, তখন তারা তাদের হাঁটুর উপর হাত রাখলো। এটা দেখে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের দুই হাতে আঘাত করলেন এবং আঙ্গুলগুলো পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ করালেন এবং উভয় হাত তার উরুর মাঝে রেখে বললেন, “আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন আচরণ করতে দেখেছি।”

[টীকাঃ এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় উলাফ। পরবর্তীতে এই রায় রহিত করা হয়। কিন্তু হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু শেষ পর্যন্ত এর প্রত্যাখ্যানে বিশ্বাসী হননি।] [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৫৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4156 OK

(৪১৫৬)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ ابْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ فُضَيْلٍ الْأَنْصَارِيُّ ثُمَّ الْخَطْمِيُّ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ أَبِي الْعَوْجَاءِ السُّلَمِيِّ عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ قَالَ كَسَفَتْ الشَّمْسُ فِي عَهْدِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَبِالْمَدِينَةِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ قَالَ فَخَرَجَ عُثْمَانُ فَصَلَّى بِالنَّاسِ تِلْكَ الصَّلَاةَ رَكْعَتَيْنِ وَسَجْدَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ قَالَ ثُمَّ انْصَرَفَ عُثْمَانُ فَدَخَلَ دَارَهُ وَجَلَسَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ إِلَى حُجْرَةِ عَائِشَةَ وَجَلَسْنَا إِلَيْهِ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُنَا بِالصَّلَاةِ عِنْدَ كُسُوفِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ قَدْ أَصَابَهُمَا فَافْزَعُوا إِلَى الصَّلَاةِ فَإِنَّهَا إِنْ كَانَتْ الَّتِي تَحْذَرُونَ كَانَتْ وَأَنْتُمْ عَلَى غَيْرِ غَفْلَةٍ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ كُنْتُمْ قَدْ أَصَبْتُمْ خَيْرًا وَاكْتَسَبْتُمُوهُ


হজরত আবু শরীহ আল-খুযায়ী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হযরত উসমান গনি রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফত কালে একবার সূর্যগ্রহণ হয়েছিলো। হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও সে সময় মদিনায় ছিলেন। হজরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বের হয়ে জনগণকে সূর্যগ্রহণের নামাজ পড়িয়ে, প্রতি রাকাতে দুটি রুকু ও দুটি সিজদা দিয়ে নামাজ আদায় করে, নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। তখন হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহু রুমের পাশে বসে ছিলেন। আমরাও তার চারপাশে বসলাম। তিনি বলেন, “রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় নামায পড়ার নির্দেশ দিতেন। অতএব, তোমরা যখন উভয়কে গ্রহন হতে দেখবেন, তখনই নামাযের দিকে ফিরে যাবে। কারণ যদি এই একই জিনিস ঘটে, যে সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তবে তোমরা গাফিলতি করবে না। আর যদি কিয়ামতের জন্যে এই গ্রহণ না ঘটে, তবে তোমরা ভালো কাজ করেছো এবং ভালো উপার্জন করেছো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৫৬]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



4157 OK

(৪১৫৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৭৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعْبَةَ قَالَ حَدَّثَنِي سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ كَأَنَّهُ عَلَى الرَّضْفِ قُلْتُ حَتَّى يَقُومَ قَالَ حَتَّى يَقُومَ


আবূ উবাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে তার পিতা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে, “রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই রাকাত নামাযের পর (অর্থাৎ প্রথম তাশাহহুদে) এমন ভাবে বসতেন, যেনো তিনি গরম পাথরের ওপর বসে আছেন।” আমি (বর্ণনাকারী) বললাম, “যতক্ষণ না তিনি পুনরায় দাঁড়াতেন, ততক্ষণ বসে থাকতেন?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হ্যাঁ।”

[মুসনাদে আহমাদ : ৪১৫৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4158 OK

(৪১৫৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৭৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعْبَةَ قَالَ حَدَّثَنِي سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ كَأَنَّهُ عَلَى الرَّضْفِ قُلْتُ حَتَّى يَقُومَ قَالَ حَتَّى يَقُومَ


আবূ উবাইদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে তার পিতা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে, “রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই রাকাত নামাযের পর (অর্থাৎ প্রথম তাশাহহুদে) এমন ভাবে বসতেন, যেনো তিনি গরম পাথরের ওপর বসে আছেন।” আমি (বর্ণনাকারী) বললাম, “যতক্ষণ না তিনি পুনরায় দাঁড়াতেন, ততক্ষণ বসে থাকতেন?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হ্যাঁ।”

[মুসনাদে আহমাদ : ৪১৫৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4159 OK

(৪১৫৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪১৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّنِي لَأَعْرِفُ آخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا مِنْ النَّارِ رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنْهَا زَحْفًا فَيُقَالُ لَهُ انْطَلِقْ فَادْخُلْ الْجَنَّةَ قَالَ فَيَذْهَبُ يَدْخُلُ فَيَجِدُ النَّاسَ قَدْ أَخَذُوا الْمَنَازِلَ قَالَ فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ قَدْ أَخَذَ النَّاسُ الْمَنَازِلَ قَالَ فَيُقَالُ لَهُ أَتَذْكُرُ الزَّمَانَ الَّذِي كُنْتَ فِيهِ قَالَ فَيَقُولُ نَعَمْ فَيُقَالُ لَهُ تَمَنَّهْ فَيَتَمَنَّى فَيُقَالُ إِنَّ لَكَ الَّذِي تَمَنَّيْتَ وَعَشَرَةَ أَضْعَافِ الدُّنْيَا قَالَ فَيَقُولُ أَتَسْخَرُ بِي وَأَنْتَ الْمَلِكُ قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে লোক সবার শেষে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে, আমি তাকে জানি। সে নিতম্বের উপর ভর দিয়ে জাহান্নাম থেকে হেঁচড়িয়ে বের হয়ে আসবে। সে বলবে, ‘হে প্রভু! জান্নাতের জায়গাগুলো তো মানুষজন দখল করে নিয়েছে’।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তাকে বলা হবে, ‘তুমি জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও এবং তাতে প্রবেশ করো।’ তখন সে জান্নাতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হবে এবং দেখতে পাবে যে, সম্পূর্ণ জায়গা মানুষজন দখল করে নিয়েছে। সে ফিরে এসে বলবে, ‘হে প্রভু! সমস্ত জায়গা তো মানুষজন দখল করে নিয়েছে’!” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তাকে বলা হবে, ‘তোমার ঐ সময়ের কথা স্মরণ আছে কি, যাতে তুমি অবস্থান করছিলে?’ সে বলবে, ‘হ্যাঁ স্মরণ আছে।’ বলা হবে, ‘তুমি আকাঙ্ক্ষা করো।’ সে তখন আকাঙ্ক্ষা পেশ করবে। বলা হবে, ‘তুমি যা আকাঙ্ক্ষা করেছো তা দেয়া হলো, তদুপারি দুনিয়ার দশ গুণ দেয়া হলো’।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “এ কথা শোনার পর সে বলবে, ‘আপনি বাদশাহ হয়ে আমার সাথে উপহাস করছেন’?” (কথিত আছে যে, এই ব্যক্তি হবে সকল জান্নাতীদের মধ্যে সর্বনিম্ন মর্যাদার ব্যক্তি।) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “এ কথা বলার পর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হাসতে দেখলাম, এমনকি তাঁর মুখের দাঁত প্রকাশিত হলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৫৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4160 OK

(৪১৬০)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৬৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنْ الْجِنِّ وَقَرِينُهُ مِنْ الْمَلَائِكَةِ قَالُوا وَإِيَّاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ وَإِيَّايَ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَلَا يَأْمُرُنِي إِلَّا بِحَقٍّ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যে শয়তান জিনদের মধ্যে থেকে একজন সঙ্গী এবং ফেরেশতাদের মধ্যে থেকে একজন সঙ্গী নিযুক্ত করা হয়েছে।” সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটা কি আপনার ক্ষেত্রেও নিযুক্ত করা হয়েছে?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ! কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করেছেন এবং আমার শয়তান জিন আমার অধীন হয়ে গেছে এবং সে মুসলমান হয়ে গেছে, তাই এখন সে আমাকে শুধু সঠিক কাজ করার নির্দেশ দেয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৬০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4161 OK

(৪১৬১)

সহিহ হাদিস

قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ وَسَمِعَ عَبْدُ اللَّهِ بِخَسْفٍ قَالَ كُنَّا أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعُدُّ الْآيَاتِ بَرَكَةً وَأَنْتُمْ تَعُدُّونَهَا تَخْوِيفًا إِنَّا بَيْنَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَيْسَ مَعَنَا مَاءٌ فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اطْلُبُوا مَنْ مَعَهُ يَعْنِي مَاءً فَفَعَلْنَا فَأُتِيَ بِمَاءٍ فَصَبَّهُ فِي إِنَاءٍ ثُمَّ وَضَعَ كَفَّيْهِ فَجَعَلَ الْمَاءُ يَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ ثُمَّ قَالَ حَيَّ عَلَى الطَّهُورِ الْمُبَارَكِ وَالْبَرَكَةُ مِنْ اللَّهِ فَمَلَأْتُ بَطْنِي مِنْهُ وَاسْتَسْقَى النَّاسُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَدْ كُنَّا نَسْمَعُ تَسْبِيحَ الطَّعَامِ وَهُوَ يُؤْكَلُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে আমরা অলৌকিক ঘটনাকে আশীর্বাদ মনে করতাম, অথচো আজ তোমরা এগুলোকে ভয় করো। আসলে হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু শত্রুর মাটিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর শুনেছিলেন। তিনি আরও বর্ণনা করেন যে, একবার আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সফরে ছিলাম। পানি পাওয়া যাচ্ছলো না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পানির পাত্র দেওয়া হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে তাঁর বরকতময় হাত ঢুকিয়ে আঙ্গুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে খুলে দিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আঙ্গুল থেকে পানির ঝরনা প্রবাহিত হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছিলেন, “তোমরা ওযূ করতে এসো। এই নেয়ামত আল্লাহর পক্ষ থেকে।” আমি তা দিয়ে আমার পেট ভরেছিলাম এবং লোকেরাও তা পান করেছিলো। তিনি আরও বলেন যে, আমরা খাবারের তাসবীহ শুনতাম, যখন লোকেরা তা খায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৬১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4162 OK

(৪১৬২)

হাদিস দেখুন [৩১:১৪৩৭] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِتَالُ الْمُؤْمِنِ كُفْرٌ وَسِبَابُهُ فُسُوقٌ وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ


হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো মুসলমানের সাথে যুদ্ধ করা কুফরী এবং তাকে গালি দেওয়া ফাসেকি এবং কোনো মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথা বলা বন্ধ রাখা বৈধ নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৬২]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



4163 OK

(৪১৬৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯৬১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجَ اثْنَانِ دُونَ صَاحِبِهِمَا أَجْلَ يُحْزِنُهُ وَلَا تُبَاشِرْ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ أَجْلَ تَنْعَتُهَا لِزَوْجِهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা তিনজন পুরুষ হবে, তখন তৃতীয় পুরুষকে একা রেখে দুইজন পুরুষ ফিসফিস করে কথা বলো না, কারণ এতে তৃতীয় পুরুষ দুঃখ পাবে। আর কোনো নারীর জন্যে উচিত নয় যে, অন্য মহিলাকে তার নগ্ন শরীরে স্পর্শ করা। কোনো মহিলা যেনো, অন্য কোনো মহিলার সম্পর্কে তার স্বামীর কাছে এমন ভাবে তার শারীরিক গঠন বর্ণনা না করে, যেনো সে তাকে নিজের চোখে দেখছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৬৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4164 OK

(৪১৬৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬৭০] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي الْكَهْتَلَةِ قَالَ مُحَمَّدٌ أَظُنُّهُ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ قَالَ إِنَّ مُحَمَّداً لَمْ يَرَ جِبْرِيلَ فِي صُورَتِهِ إِلَّا مَرَّتَيْنِ أَمَّا مَرَّةٌ فَإِنَّهُ سَأَلَهُ أَنْ يُرِيَهُ نَفْسَهُ فِي صُورَتِهِ فَأَرَاهُ صُورَتَهُ فَسَدَّ الْأُفُقَ وَأَمَّا الْأُخْرَى فَإِنَّهُ صَعِدَ مَعَهُ حِينَ صَعِدَ بِهِ وَقَوْلُهُ وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَى ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّى فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى قَالَ فَلَمَّا أَحَسَّ جِبْرِيلُ رَبَّهُ عَادَ فِي صُورَتِهِ وَسَجَدَ فَقَوْلُهُ وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى عِنْدَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَى إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغَى لَقَدْ رَأَى مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَى قَالَ خَلْقَ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَام


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হজরত জিবরীল (আঃ)-কে তার আসল রূপে দুইবার দেখেছেন। একবার তিনি তাকে তার আসল রূপ দেখাতে বললেন, তাই তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার আসল রূপ দেখালেন এবং হজরত জিবরীল (আঃ) দিগন্ত পূর্ণ করে দাড়িয়ে ছিলেন।

وَهُوَ بِٱلۡأُفُقِ ٱلۡأَعۡلَىٰ٧
আর ফেরেশতা জিবরিল ছিলেন উর্ধ্ব দিগন্তে, (৫৩. আন নাজম : ৭)
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ٨
তারপর তিনি নিকটবর্তী হলেন, তারপর তিনি রসূলের দিকে ঝুঁকে গেলেন। (৫৩. আন নাজম : ৮)
فَكَانَ قَابَ قَوۡسَيۡنِ أَوۡ أَدۡنَىٰ٩
তখন তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান ছিলো অথবা আরো কম। (৫৩. আন নাজম : ৯)
فَأَوۡحَىٰٓ إِلَىٰ عَبۡدِهِۦ مَآ أَوۡحَىٰ١٠
তখন আল্লাহ রসূলের প্রতি যা ওহী করবার, তা ওহী করলেন। (৫৩. আন নাজম : ১০)

দ্বিতীয়বার, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিরাজের রাতে আকাশে আরোহণ করেছিলেন, তখন তিনি হজরত জিবরীল (আঃ)-কে দেখেছিলেন।

وَلَقَدۡ رَءَاهُ نَزۡلَةً أُخۡرَىٰ١٣
অবশ্যই রসূল ফেরেশতা জিবরিল কে অবতরণের সময় আরেকবার দেখেছিলেন, (৫৩. আন নাজম : ১৩)
عِندَ سِدۡرَةِ ٱلۡمُنتَهَىٰ١٤
দিগন্তের গাছের নিকটে, (৫৩. আন নাজম : ১৪)
عِندَهَا جَنَّةُ ٱلۡمَأۡوَىٰٓ١٥
ঐ গাছের নিকটে রয়েছে বসবাসের বেহেশত। (৫৩. আন নাজম : ১৫)
إِذۡ يَغۡشَى ٱلسِّدۡرَةَ مَا يَغۡشَىٰ١٦
যখন গাছটি ফেরেশতাগণ দ্বারা আচ্ছন্ন ছিলো, যে ফেরেশতাগণ দ্বারা গাছটিকে আচ্ছন্ন করা হয়। (৫৩. আন নাজম : ১৬)
مَا زَاغَ ٱلۡبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ١٧
রসূলের দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি এবং তিনি সীমালঙ্ঘনও করেননি। (৫৩. আন নাজম : ১৭)
لَقَدۡ رَأَىٰ مِنۡ ءَايَٰتِ رَبِّهِ ٱلۡكُبۡرَىٰٓ١٨
অবশ্যই রসূল তাঁর প্রভুর নিদর্শন গুলোর মধ্যে বড় নিদর্শন গুলো দেখেছেন। (৫৩. আন নাজম : ১৮) [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৬৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4165 OK

(৪১৬৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ قَيْسٍ وَلَمْ يَسْمَعْهُ مِنْهُ وَسَأَلَهُ رَجُلٌ عَنْ حَدِيثِ عَلْقَمَةَ فَهُوَ هَذَا الْحَدِيثُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ أَتَى أَبَا مُوسَى الْأَشْعَرِيَّ فِي مَنْزِلِهِ فَحَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَقَالَ أَبُو مُوسَى تَقَدَّمْ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَإِنَّكَ أَقْدَمُ سِنًّا وَأَعْلَمُ قَالَ لَا بَلْ تَقَدَّمْ أَنْتَ فَإِنَّمَا أَتَيْنَاكَ فِي مَنْزِلِكَ وَمَسْجِدِكَ فَأَنْتَ أَحَقُّ قَالَ فَتَقَدَّمَ أَبُو مُوسَى فَخَلَعَ نَعْلَيْهِ فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ مَا أَرَدْتَ إِلَى خَلْعِهِمَا أَبِالْوَادِي الْمُقَدَّسِ أَنْتَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي الْخُفَّيْنِ وَالنَّعْلَيْنِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার সাইয়্যিদুনা ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সাইয়্যিদনা আবু মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর বাড়িতে দেখতে গেলেন, যখন নামাযের সময় হল, তখন সায়্যিদনা আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে আবূ আবদ আল-রহমান! আপনি নামায়ের জন্যে এগিয়ে যান, কারণ আপনি জ্ঞানে ও বয়সে আমাদের চেয়ে বড়।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আপনি এগিয়ে যান, আমরা আপনার বাড়িতে এবং আপনার মসজিদে এসেছি, তাই আপনার অধিকার বেশি।” তাই সাইয়্যিদুনা আবু মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু এগিয়ে গিয়ে জুতা খুলে ফেললেন, সালাত শেষ হলে তিনি সালাম দিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “জুতা খুলে ফেলার কি দরকার ছিলো? আপনি কি পবিত্র উপত্যকায় ছিলেন? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মোজা ও জুতা পরে সালাত আদায় করতে দেখেছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৬৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4166 OK

(৪১৬৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬২৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِقَوْمٍ يَتَخَلَّفُونَ عَنْ الْجُمُعَةِ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ أُحَرِّقَ عَلَى رِجَالٍ يَتَخَلَّفُونَ عَنْ الْجُمُعَةِ بُيُوتَهُمْ قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقُ أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْ أَبِي الْأَحْوَصِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার ইচ্ছা হয় যে, এক ব্যক্তিকে আদেশ করি যেনো, সে লোকদের জুম্মার নামাযের ইমামতি করে। অতঃপর লাকড়ি বহনকারী কিছু লোককে সাথে নিয়ে আমি বেরিয়ে পড়ি, তারপর আমি সেগুলো দ্বারা ঐসব লোকের ঘর-বাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দেই, যারা জুম্মার নামাযের জামাআতে উপস্থিত হয়নি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৬৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4167 OK

(৪১৬৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬৯৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ حَجَجْنَا مَعَ ابْنِ مَسْعُودٍ فِي خِلَافَةِ عُثْمَانَ قَالَ فَلَمَّا وَقَفْنَا بِعَرَفَةَ قَالَ فَلَمَّا غَابَتْ الشَّمْسُ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ لَوْ أَنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَفَاضَ الْآنَ كَانَ قَدْ أَصَابَ قَالَ فَلَا أَدْرِي كَلِمَةُ ابْنِ مَسْعُودٍ كَانَتْ أَسْرَعَ أَوْ إِفَاضَةُ عُثْمَانَ قَالَ فَأَوْضَعَ النَّاسُ وَلَمْ يَزِدْ ابْنُ مَسْعُودٍ عَلَى الْعَنَقِ حَتَّى أَتَيْنَا جَمِيعًا فَصَلَّى بِنَا ابْنُ مَسْعُودٍ الْمَغْرِبَ ثُمَّ دَعَا بِعَشَائِهِ ثُمَّ تَعَشَّى ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ ثُمَّ رَقَدَ حَتَّى إِذَا طَلَعَ أَوَّلُ الْفَجْرِ قَامَ فَصَلَّى الْغَدَاةَ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ مَا كُنْتَ تُصَلِّي الصَّلَاةَ هَذِهِ السَّاعَةَ قَالَ وَكَانَ يُسْفِرُ بِالصَّلَاةِ قَالَ إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْيَوْمِ وَهَذَا الْمَكَانِ يُصَلِّي هَذِهِ السَّاعَةَ


হজরত আবদুর-রহমান বিন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার হজরত উসমান গনি রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফত কালে আমরা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে হজ করেছিলাম। আমরা যখন আরাফাতে দাঁড়ালাম, যখন সূর্য ডুবে গেলো, তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমীরুল মুমিনীন যদি এখন অগ্রসর হন, তবে তিনি সঠিক কাজটিই করবেন।” আমি জানি না, কোনটি প্রথমে হয়েছিলো, হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাক্যটি প্রথম পূর্ণ হয়েছিলো, নাকি হজরত উসমান গণি রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রত্যাবর্তন প্রথম শুরু হয়েছিলো। লোকেরা প্রচণ্ড গতিতে পশু চালাতে শুরু করলো, কিন্তু হযরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার যাত্রাকে শুধুমাত্র মাপা গতিতে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন, যতক্ষণ না আমরা মুযদালিফায় পৌঁছলাম। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে মাগরিবের নামায পড়ালেন। তারপর তিনি তার নৈশভোজের জন্যে খাদেমকে ডাকলেন এবং তার নৈশভোজ করলেন। তারপর তিনি উঠে এশার সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি ঘুমাতে গেলেন, যতক্ষণ না ফজর হলো। তিনি উঠে ফজরের সালাত আদায় করলেন। আমি তাকে বললাম, “আপনি সাধারণত এই সময়ে নামাজ পড়েন না।” তিনি বললেন, “আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই দিনে, এই সময়ে, এই স্থানে সালাত আদায় করতে দেখেছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৬৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4168 OK

(৪১৬৮)

হাদিস দেখুন [৩১:১৬৪৯] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ الْمَخْزُومِيِّ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ابْنَةِ أَبِي أُمَيَّةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ لَمَّا نَزَلْنَا أَرْضَ الْحَبَشَةِ جَاوَرْنَا بِهَا خَيْرَ جَارٍ النَّجَاشِيَّ أَمِنَّا عَلَى دِينِنَا وَعَبَدْنَا اللَّهَ لَا نُؤْذَى وَلَا نَسْمَعُ شَيْئًا نَكْرَهُهُ فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ قُرَيْشًا ائْتَمَرُوا أَنْ يَبْعَثُوا إِلَى النَّجَاشِيِّ فِينَا رَجُلَيْنِ جَلْدَيْنِ وَأَنْ يُهْدُوا لِلنَّجَاشِيِّ هَدَايَا مِمَّا يُسْتَطْرَفُ مِنْ مَتَاعِ مَكَّةَ وَكَانَ مِنْ أَعْجَبِ مَا يَأْتِيهِ مِنْهَا إِلَيْهِ الْأَدَمُ فَجَمَعُوا لَهُ أَدَمًا كَثِيرًا وَلَمْ يَتْرُكُوا مِنْ بَطَارِقَتِهِ بِطْرِيقًا إِلَّا أَهْدَوْا لَهُ هَدِيَّةً ثُمَّ بَعَثُوا بِذَلِكَ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ الْمَخْزُومِيِّ وَعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ بْنِ وَائِلٍ السَّهْمِيِّ وَأَمَرُوهُمَا أَمْرَهُمْ وَقَالُوا لَهُمَا ادْفَعُوا إِلَى كُلِّ بِطْرِيقٍ هَدِيَّتَهُ قَبْلَ أَنْ تُكَلِّمُوا النَّجَاشِيَّ فِيهِمْ ثُمَّ قَدِّمُوا لِلنَّجَاشِيِّ هَدَايَاهُ ثُمَّ سَلُوهُ أَنْ يُسْلِمَهُمْ إِلَيْكُمْ قَبْلَ أَنْ يُكَلِّمَهُمْ قَالَتْ فَخَرَجَا فَقَدِمَا عَلَى النَّجَاشِيِّ وَنَحْنُ عِنْدَهُ بِخَيْرِ دَارٍ وَعِنْدَ خَيْرِ جَارٍ فَلَمْ يَبْقَ مِنْ بَطَارِقَتِهِ بِطْرِيقٌ إِلَّا دَفَعَا إِلَيْهِ هَدِيَّتَهُ قَبْلَ أَنْ يُكَلِّمَا النَّجَاشِيَّ ثُمَّ قَالَا لِكُلِّ بِطْرِيقٍ مِنْهُمْ إِنَّهُ قَدْ صَبَا إِلَى بَلَدِ الْمَلِكِ مِنَّا غِلْمَانٌ سُفَهَاءُ فَارَقُوا دِينَ قَوْمِهِمْ وَلَمْ يَدْخُلُوا فِي دِينِكُمْ وَجَاءُوا بِدِينٍ مُبْتَدَعٍ لَا نَعْرِفُهُ نَحْنُ وَلَا أَنْتُمْ وَقَدْ بَعَثَنَا إِلَى الْمَلِكِ فِيهِمْ أَشْرَافُ قَوْمِهِمْ لِيَرُدَّهُمْ إِلَيْهِمْ فَإِذَا كَلَّمْنَا الْمَلِكَ فِيهِمْ فَتُشِيرُوا عَلَيْهِ بِأَنْ يُسْلِمَهُمْ إِلَيْنَا وَلَا يُكَلِّمَهُمْ فَإِنَّ قَوْمَهُمْ أَعَلَى بِهِمْ عَيْنًا وَأَعْلَمُ بِمَا عَابُوا عَلَيْهِمْ فَقَالُوا لَهُمَا نَعَمْ ثُمَّ إِنَّهُمَا قَرَّبَا هَدَايَاهُمْ إِلَى النَّجَاشِيِّ فَقَبِلَهَا مِنْهُمَا ثُمَّ كَلَّمَاهُ فَقَالَا لَهُ أَيُّهَا الْمَلِكُ إِنَّهُ قَدْ صَبَا إِلَى بَلَدِكَ مِنَّا غِلْمَانٌ سُفَهَاءُ فَارَقُوا دِينَ قَوْمِهِمْ وَلَمْ يَدْخُلُوا فِي دِينِكَ وَجَاءُوا بِدِينٍ مُبْتَدَعٍ لَا نَعْرِفُهُ نَحْنُ وَلَا أَنْتَ وَقَدْ بَعَثَنَا إِلَيْكَ فِيهِمْ أَشْرَافُ قَوْمِهِمْ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَعْمَامِهِمْ وَعَشَائِرِهِمْ لِتَرُدَّهُمْ إِلَيْهِمْ فَهُمْ أَعَلَى بِهِمْ عَيْنًا وَأَعْلَمُ بِمَا عَابُوا عَلَيْهِمْ وَعَاتَبُوهُمْ فِيهِ قَالَتْ وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ أَبْغَضَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ وَعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ مِنْ أَنْ يَسْمَعَ النَّجَاشِيُّ كَلَامَهُمْ فَقَالَتْ بَطَارِقَتُهُ حَوْلَهُ صَدَقُوا أَيُّهَا الْمَلِكُ قَوْمُهُمْ أَعَلَى بِهِمْ عَيْنًا وَأَعْلَمُ بِمَا عَابُوا عَلَيْهِمْ فَأَسْلِمْهُمْ إِلَيْهِمَا فَلْيَرُدَّاهُمْ إِلَى بِلَادِهِمْ وَقَوْمِهِمْ قَالَ فَغَضِبَ النَّجَاشِيُّ ثُمَّ قَالَ لَا هَا اللَّهِ ايْمُ اللَّهِ إِذَنْ لَا أُسْلِمُهُمْ إِلَيْهِمَا وَلَا أُكَادُ قَوْمًا جَاوَرُونِي وَنَزَلُوا بِلَادِي وَاخْتَارُونِي عَلَى مَنْ سِوَايَ حَتَّى أَدْعُوَهُمْ فَأَسْأَلَهُمْ مَاذَا يَقُولُ هَذَانِ فِي أَمْرِهِمْ فَإِنْ كَانُوا كَمَا يَقُولَانِ أَسْلَمْتُهُمْ إِلَيْهِمَا وَرَدَدْتُهُمْ إِلَى قَوْمِهِمْ وَإِنْ كَانُوا عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ مَنَعْتُهُمْ مِنْهُمَا وَأَحْسَنْتُ جِوَارَهُمْ مَا جَاوَرُونِي قَالَتْ ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَعَاهُمْ فَلَمَّا جَاءَهُمْ رَسُولُهُ اجْتَمَعُوا ثُمَّ قَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ مَا تَقُولُونَ لِلرَّجُلِ إِذَا جِئْتُمُوهُ قَالُوا نَقُولُ وَاللَّهِ مَا عَلَّمَنَا وَمَا أَمَرَنَا بِهِ نَبِيُّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَائِنٌ فِي ذَلِكَ مَا هُوَ كَائِنٌ فَلَمَّا جَاءُوهُ وَقَدْ دَعَا النَّجَاشِيُّ أَسَاقِفَتَهُ فَنَشَرُوا مَصَاحِفَهُمْ حَوْلَهُ سَأَلَهُمْ فَقَالَ مَا هَذَا الدِّينُ الَّذِي فَارَقْتُمْ فِيهِ قَوْمَكُمْ وَلَمْ تَدْخُلُوا فِي دِينِي وَلَا فِي دِينِ أَحَدٍ مِنْ هَذِهِ الْأُمَمِ قَالَتْ فَكَانَ الَّذِي كَلَّمَهُ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَقَالَ لَهُ أَيُّهَا الْمَلِكُ كُنَّا قَوْمًا أَهْلَ جَاهِلِيَّةٍ نَعْبُدُ الْأَصْنَامَ وَنَأْكُلُ الْمَيْتَةَ وَنَأْتِي الْفَوَاحِشَ وَنَقْطَعُ الْأَرْحَامَ وَنُسِيءُ الْجِوَارَ يَأْكُلُ الْقَوِيُّ مِنَّا الضَّعِيفَ فَكُنَّا عَلَى ذَلِكَ حَتَّى بَعَثَ اللَّهُ إِلَيْنَا رَسُولًا مِنَّا نَعْرِفُ نَسَبَهُ وَصِدْقَهُ وَأَمَانَتَهُ وَعَفَافَهُ فَدَعَانَا إِلَى اللَّهِ لِنُوَحِّدَهُ وَنَعْبُدَهُ وَنَخْلَعَ مَا كُنَّا نَعْبُدُ نَحْنُ وَآبَاؤُنَا مِنْ دُونِهِ مِنْ الْحِجَارَةِ وَالْأَوْثَانِ وَأَمَرَنَا بِصِدْقِ الْحَدِيثِ وَأَدَاءِ الْأَمَانَةِ وَصِلَةِ الرَّحِمِ وَحُسْنِ الْجِوَارِ وَالْكَفِّ عَنْ الْمَحَارِمِ وَالدِّمَاءِ وَنَهَانَا عَنْ الْفَوَاحِشِ وَقَوْلِ الزُّورِ وَأَكْلِ مَالَ الْيَتِيمِ وَقَذْفِ الْمُحْصَنَةِ وَأَمَرَنَا أَنْ نَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ لَا نُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَأَمَرَنَا بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصِّيَامِ قَالَ فَعَدَّدَ عَلَيْهِ أُمُورَ الْإِسْلَامِ فَصَدَّقْنَاهُ وَآمَنَّا بِهِ وَاتَّبَعْنَاهُ عَلَى مَا جَاءَ بِهِ فَعَبَدْنَا اللَّهَ وَحْدَهُ فَلَمْ نُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا وَحَرَّمْنَا مَا حَرَّمَ عَلَيْنَا وَأَحْلَلْنَا مَا أَحَلَّ لَنَا فَعَدَا عَلَيْنَا قَوْمُنَا فَعَذَّبُونَا وَفَتَنُونَا عَنْ دِينِنَا لِيَرُدُّونَا إِلَى عِبَادَةِ الْأَوْثَانِ مِنْ عِبَادَةِ اللَّهِ وَأَنْ نَسْتَحِلَّ مَا كُنَّا نَسْتَحِلُّ مِنْ الْخَبَائِثِ فَلَمَّا قَهَرُونَا وَظَلَمُونَا وَشَقُّوا عَلَيْنَا وَحَالُوا بَيْنَنَا وَبَيْنَ دِينِنَا خَرَجْنَا إِلَى بَلَدِكَ وَاخْتَرْنَاكَ عَلَى مَنْ سِوَاكَ وَرَغِبْنَا فِي جِوَارِكَ وَرَجَوْنَا أَنْ لَا نُظْلَمَ عِنْدَكَ أَيُّهَا الْمَلِكُ قَالَتْ فَقَالَ لَهُ النَّجَاشِيُّ هَلْ مَعَكَ مِمَّا جَاءَ بِهِ عَنْ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ قَالَتْ فَقَالَ لَهُ جَعْفَرٌ نَعَمْ فَقَالَ لَهُ النَّجَاشِيُّ فَاقْرَأْهُ عَلَيَّ فَقَرَأَ عَلَيْهِ صَدْرًا مِنْ كهيعص قَالَتْ فَبَكَى وَاللَّهِ النَّجَاشِيُّ حَتَّى أَخْضَلَ لِحْيَتَهُ وَبَكَتْ أَسَاقِفَتُهُ حَتَّى أَخْضَلُوا مَصَاحِفَهُمْ حِينَ سَمِعُوا مَا تَلَا عَلَيْهِمْ ثُمَّ قَالَ النَّجَاشِيُّ إِنَّ هَذَا وَاللَّهِ وَالَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَى لَيَخْرُجُ مِنْ مِشْكَاةٍ وَاحِدَةٍ انْطَلِقَا فَوَاللَّهِ لَا أُسْلِمُهُمْ إِلَيْكُمْ أَبَدًا وَلَا أُكَادُ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ فَلَمَّا خَرَجَا مِنْ عِنْدِهِ قَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ وَاللَّهِ لَأُنَبِّئَنَّهُمْ غَدًا عَيْبَهُمْ عِنْدَهُمْ ثُمَّ أَسْتَأْصِلُ بِهِ خَضْرَاءَهُمْ قَالَتْ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي رَبِيعَةَ وَكَانَ أَتْقَى الرَّجُلَيْنِ فِينَا لَا تَفْعَلْ فَإِنَّ لَهُمْ أَرْحَامًا وَإِنْ كَانُوا قَدْ خَالَفُونَا قَالَ وَاللَّهِ لَأُخْبِرَنَّهُ أَنَّهُمْ يَزْعُمُونَ أَنَّ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ عَبْدٌ قَالَتْ ثُمَّ غَدَا عَلَيْهِ الْغَدَ فَقَالَ لَهُ أَيُّهَا الْمَلِكُ إِنَّهُمْ يَقُولُونَ فِي عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ قَوْلًا عَظِيمًا فَأَرْسِلْ إِلَيْهِمْ فَاسْأَلْهُمْ عَمَّا يَقُولُونَ فِيهِ قَالَتْ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمْ يَسْأَلُهُمْ عَنْهُ قَالَتْ وَلَمْ يَنْزِلْ بِنَا مِثْلُهُ فَاجْتَمَعَ الْقَوْمُ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ مَاذَا تَقُولُونَ فِي عِيسَى إِذَا سَأَلَكُمْ عَنْهُ قَالُوا نَقُولُ وَاللَّهِ فِيهِ مَا قَالَ اللَّهُ وَمَا جَاءَ بِهِ نَبِيُّنَا كَائِنًا فِي ذَلِكَ مَا هُوَ كَائِنٌ فَلَمَّا دَخَلُوا عَلَيْهِ قَالَ لَهُمْ مَا تَقُولُونَ فِي عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ فَقَالَ لَهُ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ نَقُولُ فِيهِ الَّذِي جَاءَ بِهِ نَبِيُّنَا هُوَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَرُوحُهُ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ الْعَذْرَاءِ الْبَتُولِ قَالَتْ فَضَرَبَ النَّجَاشِيُّ يَدَهُ إِلَى الْأَرْضِ فَأَخَذَ مِنْهَا عُودًا ثُمَّ قَالَ مَا عَدَا عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ مَا قُلْتَ هَذَا الْعُودَ فَتَنَاخَرَتْ بَطَارِقَتُهُ حَوْلَهُ حِينَ قَالَ مَا قَالَ فَقَالَ وَإِنْ نَخَرْتُمْ وَاللَّهِ اذْهَبُوا فَأَنْتُمْ سُيُومٌ بِأَرْضِي وَالسُّيُومُ الْآمِنُونَ مَنْ سَبَّكُمْ غُرِّمَ ثُمَّ مَنْ سَبَّكُمْ غُرِّمَ فَمَا أُحِبُّ أَنَّ لِي دَبْرًا ذَهَبًا وَأَنِّي آذَيْتُ رَجُلًا مِنْكُمْ وَالدَّبْرُ بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ الْجَبَلُ رُدُّوا عَلَيْهِمَا هَدَايَاهُمَا فَلَا حَاجَةَ لَنَا بِهَا فَوَاللَّهِ مَا أَخَذَ اللَّهُ مِنِّي الرِّشْوَةَ حِينَ رَدَّ عَلَيَّ مُلْكِي فَآخُذَ الرِّشْوَةَ فِيهِ وَمَا أَطَاعَ النَّاسَ فِيَّ فَأُطِيعَهُمْ فِيهِ قَالَتْ فَخَرَجَا مِنْ عِنْدِهِ مَقْبُوحَيْنِ مَرْدُودًا عَلَيْهِمَا مَا جَاءَا بِهِ وَأَقَمْنَا عِنْدَهُ بِخَيْرِ دَارٍ مَعَ خَيْرِ جَارٍ قَالَتْ فَوَاللَّهِ إِنَّا عَلَى ذَلِكَ إِذْ نَزَلَ بِهِ يَعْنِي مَنْ يُنَازِعُهُ فِي مُلْكِهِ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْنَا حُزْنًا قَطُّ كَانَ أَشَدَّ مِنْ حُزْنٍ حَزِنَّاهُ عِنْدَ ذَلِكَ تَخَوُّفًا أَنْ يَظْهَرَ ذَلِكَ عَلَى النَّجَاشِيِّ فَيَأْتِيَ رَجُلٌ لَا يَعْرِفُ مِنْ حَقِّنَا مَا كَانَ النَّجَاشِيُّ يَعْرِفُ مِنْهُ قَالَتْ وَسَارَ النَّجَاشِيُّ وَبَيْنَهُمَا عُرْضُ النِّيلِ قَالَتْ فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ رَجُلٌ يَخْرُجُ حَتَّى يَحْضُرَ وَقْعَةَ الْقَوْمِ ثُمَّ يَأْتِيَنَا بِالْخَبَرِ قَالَتْ فَقَالَ الزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ أَنَا قَالَتْ وَكَانَ مِنْ أَحْدَثِ الْقَوْمِ سِنًّا قَالَتْ فَنَفَخُوا لَهُ قِرْبَةً فَجَعَلَهَا فِي صَدْرِهِ ثُمَّ سَبَحَ عَلَيْهَا حَتَّى خَرَجَ إِلَى نَاحِيَةِ النِّيلِ الَّتِي بِهَا مُلْتَقَى الْقَوْمِ ثُمَّ انْطَلَقَ حَتَّى حَضَرَهُمْ قَالَتْ وَدَعَوْنَا اللَّهَ لِلنَّجَاشِيِّ بِالظُّهُورِ عَلَى عَدُوِّهِ وَالتَّمْكِينِ لَهُ فِي بِلَادِهِ وَاسْتَوْسَقَ عَلَيْهِ أَمْرُ الْحَبَشَةِ فَكُنَّا عِنْدَهُ فِي خَيْرِ مَنْزِلٍ حَتَّى قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِمَكَّةَ


উম্মুল মুমিনীন হজরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমরা যখন আবিসিনিয়া ভূমিতে আসি, তখন আমরা সেখানে শ্রেষ্ঠ রক্ষক, নাজাশীর আশ্রয়ে থাকতাম এবং আমরা আমাদের ধর্ম পালন করতে নিরাপদ বোধ করতাম এবং আমরা বিরক্ত না হয়ে বা আমাদের অপছন্দের কিছু না শুনে আল্লাহর ইবাদত করতাম। এ খবর কুরাইশদের কাছে পৌঁছলে তারা আমাদের ব্যাপারে নাজাশীর কাছে দুজন কঠোর লোক পাঠানোর এবং মক্কার কিছু মালামাল নাজাশীকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মক্কার জিনিসপত্রের মধ্যে যেটি নাজাশী সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন তা ছিলো চামড়া, তাই তারা প্রচুর পরিমাণে চামড়া সংগ্রহ করেছিল এবং তারা নাজাশীর প্রত্যেক সর্দারের জন্য একটি করে উপহার সংগ্রহ করে এবং হস্তান্তর করে। অতঃপর তারা আবদুল্লাহ ইবনে আবি রাবীআহ ইবনে আল-মুগীরাহ আল-মাখজুমী এবং আমর ইবনে আল আস ইবনে ওয়াইল আস-সাহমির সাথে উপহার পাঠাল এবং তারা তাদের কী করতে হবে তা জানিয়ে দিল। তারা তাদেরকে বললো, নাজাশীর সাথে মুসলিমদের বিষয়ে কথা বলার আগে প্রত্যেক সর্দারকে একটি করে উপহার দাও, তারপর নাজাশীকে তার উপহার দাও। তারপর নাজাশী মুসলিমদের সাথে কথা বলার আগে তাকে মুসলিমদেরকে তোমাদের কাছে হস্তান্তর করতে বলো। তারা রওনা হল এবং নাজাশীর কাছে এল, যখন আমরা সর্বোত্তম দেশে এবং সর্বোত্তম সুরক্ষার অধীনে ছিলাম এবং তারা নাজাশীর সাথে মুসলিমদের বিষয়ে কথা বলার আগে প্রত্যেক সর্দারকে একটি করে উপহার দিলো এবং তারা প্রত্যেক সর্দারকে বলেছিল, আমাদের কিছু বোকা যুবক এখানে পালিয়ে এসেছে, তারা তাদের নিজ জাতির ধর্ম ত্যাগ করেছে এবং তারা এমন একটি ধর্ম উদ্ভাবন করেছে যা আমরা বা আপনি কেউ সেই ধর্ম সম্পর্কে জানি না। তাদের সম্বন্ধে রাজার সাথে কথা বলুন যেনো আমরা তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে পারি। তাকে তাদেরকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করার পরামর্শ দিন এবং তাদের সাথে কথা না বলুন, কারণ তাদের লোকেরা তাদের সম্পর্কে এবং কীভাবে তাদের পরিচালনা করতে হয় এবং তারা তাদের দোষ সম্পর্কে ভাল জানে। সর্দাররা তাদেরকে বললেন, হ্যাঁ আমরা তা করব। তারপর তারা নাজাশীর কাছে তাদের উপহার নিয়ে এলো এবং তিনি তাদের কাছ থেকে সেগুলি গ্রহণ করলেন, তারপর তারা তার সাথে কথা বললো এবং বললো, হে মহারাজ, আমাদের কিছু বোকা যুবক আপনার দেশে এসেছে; তারা তাদের সম্প্রদায়ের ধর্ম ত্যাগ করেছে এবং তারা আপনার ধর্মে প্রবেশ করেনি। তারা এমন একটি ধর্ম উদ্ভাবন করেছে যে সম্পর্কে আমরা বা আপনি পরিচিত নই। তাদের লোকদের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা, তাদের পিতা, চাচা এবং গোষ্ঠী, তাদের সম্পর্কে আমাদেরকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য, কারণ তারা তাদের সাথে কীভাবে আচরণ করতে হবে তা তারাই ভাল জানেন এবং তারা তাদের দোষ সম্পর্কে ভাল জানেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাবী এবং আমর ইবনুলের কাছে এর চেয়ে ঘৃণ্য আর কিছুই ছিল না যে, নাজাশী মুসলিমদের সাথে কথা বলবে। তার চারপাশের সর্দাররা বললো, ওরা সত্য বলেছে, হে মহারাজ; তাদের লোকেরা কীভাবে তাদের পরিচালনা করতে হয় তা ভাল জানে এবং তারা তাদের দোষ সম্পর্কে ভাল জানে। সুতরাং মুসলিমদেরকে তাদের হাতে তুলে দিন এবং তারা তাদেরকে তাদের দেশে এবং তাদের লোকেদের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যাক। কিন্তু নাজাশী রাগান্বিত হয়ে বললো, না, আল্লাহর কসম, আমি কখনোই তাদের হাতে তুলে দেব না; আমি কখনই এমন লোকদের বহিষ্কার করব না যারা আমার সুরক্ষা পেতে এসেছে এবং আমার দেশে বসতি স্থাপন করেছে এবং আমাকে অন্য সকলের উপরে বেছে নিয়েছে, যতক্ষণ না আমি তাদের ডেকে তাদের জিজ্ঞাসা করি যে, এই দুজন তাদের সম্পর্কে কী বলছে। তারপর যদি তারা এই দুজনের কথার মতো হয় তবে আমি তাদেরকে তাদের হাতে তুলে দেব, যাতে তাদেরকে তাদের লোকেদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু যদি তারা এমন না হয় তবে আমি তাদেরকে তাদের থেকে দূরে রাখব এবং যতক্ষণ তারা থাকবে ততক্ষণ আমি আমার সুরক্ষার অধীনে তাদের প্রতি সদয় থাকব। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদেরকে ডেকে পাঠালেন। যখন তার দূত তাদের কাছে এলো, তখন তারা একত্রিত হলেন এবং একে অপরকে বললেন, যখন তোমরা রাজার কাছে যাবে তখন তোমরা তাকে কি বলবে? তারা বললো, আল্লাহর কসম, আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে যা শিখিয়েছেন এবং আমাদের প্রতি যা নির্দেশ দিয়েছেন তা আমরা বলবো, ফলাফল যাই হোক না কেন। যখন তারা তার কাছে এসেছিল, নাজাশী তার সর্দারদেরকেও ডেকেছিল এবং তারা তাদের ধর্ম গ্রন্থ তার চারপাশে ছড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ কি ধর্ম যার জন্য তোমরা তোমাদের জাতি ত্যাগ করেছো এবং তোমরা আমার দ্বীন বা এ জাতির কোন ধর্মে প্রবেশ করনি? যিনি কথা বলছিলেন তিনি হলেন জাফর ইবনে আবি তালিব, তিনি তাকে বললেন, হে বাদশাহ, আমরা মূর্তিপূজা করতাম, মৃত মাংস ভক্ষণ করতাম, অনৈতিক কাজ করতাম, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতাম এবং প্রতিবেশীদের সাথে দুর্ব্যবহার করতাম; আমরা এমনই ছিলাম যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেন, আমরা তার বংশ, তার আমানতদারি এবং তার মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারি। তিনি আমাদেরকে একমাত্র আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং আল্লাহর ইবাদত করার জন্য এবং আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষরা যে পাথর ও মূর্তিগুলির উপাসনা করতো তা ত্যাগ করতে এবং তিনি আমাদেরকে সত্য কথা বলতে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে, প্রতিবেশীদের সাথে ভাল ব্যবহার করতে এবং অপরাধ ও রক্তপাত থেকে বিরত থাকতে আদেশ করেছিলেন। অনৈতিক কাজ করা, মিথ্যা কথা বলা, এতিমদের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করা এবং পবিত্র নারীদের অপবাদ দেওয়া থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদেরকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি আমাদেরকে ইসলামের নির্দেশাবলী তালিকাভুক্ত করেছেন নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমরা তার প্রতি ঈমান এনেছি এবং তিনি যা নিয়ে এসেছে তার অনুসরণ করেছি। তাই আমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করেছি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করিনি। তিনি আমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তা আমরা হারাম মনে করতাম এবং তিনি আমাদের জন্য যা হালাল করেছেন তা আমরা হালাল মনে করতাম। কিন্তু আমাদের লোকেরা আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেল, তারা আমাদের উপর অত্যাচার করেছিল এবং আমাদেরকে আমাদের ধর্ম থেকে পৃথক করার চেষ্টা করেছিল এবং আমরা যেনো আল্লাহর উপাসনা না করে মূর্তি পূজায় ফিরে যাই এবং যাতে আমরা মন্দ জিনিসগুলোকে হালাল মনে করি। কিন্তু যখন তারা আমাদের উপর অত্যাচার ও দুর্ব্যবহার করেছে এবং আমাদেরকে ধর্ম থেকে পৃথক করার চেষ্টা করেছে, তখন আমরা আপনার দেশে এসেছি এবং আপনাকে অন্য সকলের উপর মনোনীত করেছি; আমরা আপনার সুরক্ষা চেয়েছি এবং আশা করেছি যে হে রাজা, আপনার দেশে আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হবে না। নাজাশী তাকে বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে কি তোমার কাছে কিছু আছে? জাফর তাকে বললেন, হ্যাঁ। নাজাশী তাকে বলল, এটা আমাকে শুনাও। অতঃপর তিনি তাকে সূরা মারইয়ামের শুরুর আয়াত শুনালেন। আল্লাহর কসম, নাজাশী কাঁদলেন যতক্ষণ না তার দাড়ি ভিজে গেল এবং তার সর্দাররাও কাঁদলেন। তিনি তাদের কাছে যা শুনালেন তা শুনে ধর্ম গ্রন্থগুলো ভিজে গেলো। তার উপস্থিতি ত্যাগ করে আমর ইবনুল-আস বললো, আগামীকাল আমি তাকে এমন কিছু বলব যা তিনি গুরুতর মনে করবেন এবং এর মাধ্যমে আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাবীআহকে নির্মূল করতে সক্ষম হব, যিনি আমাদের মধ্যে বেশি যুক্তিযুক্ত ছিলেন। রাবীআহ বললো, এটা করবেন না, কারণ আমাদের সাথে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, যদিও তারা আমাদের থেকে ভিন্ন ধর্মে আছে। আমর বললো, আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই তাকে বলব যে, তারা দাবি করে যে ঈসা ইবনে মরিয়ম আল্লাহর একজন দাস। অতঃপর পরের দিন তিনি তার কাছে এসে তাকে বললো, হে বাদশাহ, তারা ঈসা ইবনে মরিয়ম সম্পর্কে খুব গুরুতর কিছু বলছে; তাদের ডেকে পাঠান এবং তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন যে তারা তার সম্পর্কে কী বলে, তাই তিনি তাদের কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য তাদের ডেকে পাঠালেন। আমাদের সাথে এর আগে এমন কিছুই ঘটেনি, তাই লোকেরা একত্রিত হয়ে একে অপরকে বললো, ঈসা সম্পর্কে আপনি কি বলবেন, যখন তিনি আপনাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে? তারা বললো, আল্লাহর কসম, আমরা তার সম্পর্কে বলবো যে, আল্লাহ তার সম্পর্কে যা বলেছেন এবং আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সম্পর্কে যা বলেছেন, ফলাফল যাই হোক না কেনো। যখন তারা তার কাছে প্রবেশ করলো, তখন তিনি তাদের বললেন, তোমরা ঈসা ইবনে মারিয়াম সম্পর্কে কি বলো? জাফর ইবনে আবী তালিব তাকে বললেন, আমরা তার সম্পর্কে আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা শিখিয়েছেন তাই বলি। তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রসূল, তাঁর দ্বারা সৃষ্ট একটি আত্মা এবং তাঁর শব্দ যা তিনি কুমারী মরিয়মকে দান করেছিলেন। নাজাশী তার হাত মাটিতে মারল এবং একটি লাঠি তুলে নিল, তারপর বলল, ঈসা ইবনে মরিয়ম তুমি যা বলেছ তার চেয়ে আলাদা নয়, এমনকি এই লাঠির মতোও নয়। তখন তার চারপাশের সর্দাররা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তিনি বললেন, আপনি যদি কান্নাকাটি করেন তবে আল্লাহর কসম! যান, আপনি এই দেশে নিরাপদ। যে আপনাকে বিরক্ত করবে সে শাস্তি পাবে, তারপর যে আপনাকে বিরক্ত করবে সে শাস্তি পাবে, তারপর যে আপনাকে বিরক্ত করবে সে শাস্তি পাবে। তোমাদের কারো ক্ষতি করার বিনিময়ে আমি সোনার পাহাড় পেতে চাই না। তাদের উপহার তাদের ফিরিয়ে দাও; আমাদের এগুলোর কোন প্রয়োজন নেই। আল্লাহর কসম, আল্লাহ যখন আমার রাজত্ব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, তখন আমার কাছ থেকে ঘুষ নেননি, তাহলে আমি কেন তাঁর বিরুদ্ধে তাদের ব্যাপারে ঘুষ নেব? এবং তিনি আমার সম্পর্কে লোকেদের কথা শোনেননি, তাহলে আমি কেন তাদের কথা শুনব এবং তাঁর বিরুদ্ধে যাব? তাই তারা তাকে ছেড়ে চলে যায়, পরাজিত হয় এবং তাদের উপহার নিয়ে তাদের কাছে ফিরে আসে এবং আমরা তার দেশে সর্বোত্তম সুরক্ষায় রয়ে যাই। আল্লাহর কসম, আমরা এমনই রয়েছি যতক্ষণ না তার উপর কোন বিপদ এসে পড়ে, অর্থাৎ কেউ তার রাজ্যের জন্য তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং আল্লাহর শপথ আমাদের উপর যে এই প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয়ী হবে এই ভয়ে আমাদের উপর যে দুঃখ বা দুশ্চিন্তা হয়েছিল তার চেয়ে খারাপ কোন দুঃখ বা উদ্বেগ আমরা জানতাম না। নাজাশীর পর এমন একজন লোক আসবে যে নাজাশীর মতো আমাদের মর্যাদা চিনতে পারবে না। নাজাশী যুদ্ধের জন্য অগ্রসর হয় এবং তারা নীল নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীগণকে বললেন, কে বের হবে এবং যুদ্ধ দেখবে, তারপর আমাদের খবর দেবে? আয-যুবায়ের বিন আল-আওয়াম বললেন, আমি করব। তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ লোকদের একজন। তারা একটি জলের চামড়া ফুলিয়ে তা তার বুকে বেঁধে দিলো, তারপর সে সাঁতার কেটে তা নিয়ে ভাসতে থাকল, যতক্ষণ না সে নীল নদের অন্য প্রান্তে পৌঁছে গেল। যেখানে লোকেরা যুদ্ধে মিলিত হয়েছিল, তারপর তিনি গিয়েছিলেন এবং তাদের দেখেছিলেন এবং আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম যে নাজাশীকে তার শত্রুদের উপর বিজয় দান করুন এবং তাকে তার ভূমিতে আরও শক্তিশালী করুন এবং তাকে আবিসিনিয়ার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রদান করুন। আমরা নাজাশীর সাথে সর্বোত্তম অবস্থায় ছিলাম, যতক্ষণ না আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ফিরে আসি, তখনও তিনি মক্কায় ছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৬৮]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



4169 OK

(৪১৬৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫৬৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْأَسْوَدِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ أَقْرَأَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ فَقَالَ رَجُلٌ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُدَّكِرٍ أَوْ مُذَّكِّرٍ قَالَ أَقْرَأَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُدَّكِرٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এই আয়াতটি শিখিয়েছেন,
وَلَقَدۡ يَسَّرۡنَا ٱلۡقُرۡءَانَ لِلذِّكۡرِ فَهَلۡ مِن مُّدَّكِرٖ١٧
আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি? (৫৪. আল ক্বামার : ১৭)
এক ব্যক্তি বললো, হে আবু আবদ আল-রহমান! مُّدَّكِرٖ শব্দটি কি د না ذ -এর সাথে? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে مُّدَّكِرٖ বলা শিখিয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৬৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4170 OK

(৪১৭০)

হাদিস দেখুন [৩১:৪১৪৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنِ الْحَارِثِ أَظُنُّهُ يَعْنِي ابْنَ فُضَيْلٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمِسْوَرِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ نَبِيٍّ بَعَثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إِلَّا كَانَ لَهُ مِنْ أُمَّتِهِ حَوَارِيُّونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ আমার পূর্বে যে কোনো জাতির কাছে একজন নবী পাঠিয়েছেন। তাঁর উম্মতের মধ্যে থেকে তিনি এমন শিষ্য ও সাহাবীও তৈরি করেছিলেন, যারা নবীর সুন্নাহ অনুসরণ করেছিলেন এবং তাঁর আদেশ অনুসরণ করেছিলেন। কিন্তু তাদের পরে এমন কিছু অবিশ্বাসী আসবে, যারা এমন কথা বলবে, যা তারা নিজেরা করে না। আর তারা এমন কাজ করবে, যা করতে তাদেরকে আদেশ দেওয়া হয়নি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৭০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4171 OK

(৪১৭১)

হাদিস দেখুন [৩১:৪০৫৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي قَيْسٍ عَنْ الْهُزَيْلِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَاشِمَةَ وَالْمُوتَشِمَةَ وَالْوَاصِلَةَ وَالْمَوْصُولَةَ وَالْمُحِلَّ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ وَآكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক ঐ ব্যক্তির উপর, যে সুদ খায়, যে সুদ প্রদান করে, যে সুদ প্রত্যক্ষ করে (সুদ লিখায় সাক্ষী দেয়) এবং যে সুদ লিখে রাখে (অর্থাৎ, সুদখোর, সুদদাতা, সুদের সাক্ষী, সুদের লেখক)। যে ব্যক্তি হিল্লা করে, যার জন্যে হিল্লা করা হয়, যে ব্যক্তি যাকাত দেয় না, যে ব্যক্তি উল্কি অঙ্কন করে, যে ব্যক্তি উল্কি করায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৭১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4172 OK

(৪১৭২)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৯৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَارٍ فَنَزَلَتْ عَلَيْهِ وَالْمُرْسَلَاتِ عُرْفًا فَأَخَذْتُهَا مِنْ فِيهِ وَإِنَّ فَاهُ لَرَطْبٌ بِهَا فَلَا أَدْرِي بِأَيِّهَا خَتَمَ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ أَوْ قِيلَ لَهُمْ ارْكَعُوا لَا يَرْكَعُونَ سَبَقَتْنَا حَيَّةٌ فَدَخَلَتْ فِي جُحْرٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ وُقِيتُمْ شَرَّهَا وَوُقِيَتْ شَرَّكُمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমরা একটি গুহায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। ফেরেশতাগণ একের পর এক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে প্রেরিত হয়েছিলো। তখন সুরা ৭৭. আল-মুরসালাত তাঁর কাছে নাযিল হয়। আমি তখন তাঁর মুখ থেকে তা শিখে নিলাম, যখন আয়াত গুলো সবে মাত্র নাযিল হয়েছিলো। কিন্তু আমি জানি না যে, কোন শব্দে তিনি এটি শেষ করেছেন, এই আয়াত দিয়ে,

وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱرۡكَعُواْ لَا يَرۡكَعُونَ٤٨
যখন তাদেরকে বলা হয়, “তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেজদা করো”, তখন তারা সেজদা করে না। (৭৭. আল মুরসালাত : ৪৮)

নাকি এই আয়াত দিয়ে,

فَبِأَيِّ حَدِيثِۭ بَعۡدَهُۥ يُؤۡمِنُونَ٥٠
সুতরাং কুরআনের পরে আর কোন কথার উপরে, অবিশ্বাসীরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করবে? (৭৭. আল মুরসালাত : ৫০)


এরপর আমাদের কাছ দিয়ে একটি সাপ চলে গেলো এবং একটি গর্তে প্রবেশ করলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেয়েছো এবং তোমাদের অনিষ্ট থেকে সে রক্ষা করা পেয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৭২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4173 OK

(৪১৭৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৯৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ بِالنَّجْمِ وَسَجَدَ الْمُسْلِمُونَ إِلَّا رَجُلًا مِنْ قُرَيْشٍ أَخَذَ كَفًّا مِنْ تُرَابٍ فَرَفَعَهُ إِلَى جَبْهَتِهِ فَسَجَدَ عَلَيْهِ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَرَأَيْتُهُ بَعْدُ قُتِلَ كَافِرًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা নাজমের শেষে সিজদা করলেন এবং সকল মুসলমানও সেজদা করলেন। কুরাইশের একজন ব্যক্তি ব্যতীত, যে এক মুঠো মাটি নিয়ে তার কপালের দিকে উঠলো এবং তার উপর সিজদা করলো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, পরে আমি তাকে কাফির হিসাবে নিহত হতে দেখেছি।

[মুসনাদে আহমাদ : ৪১৭৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4174 OK

(৪১৭৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৭১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا سَيَّارٌ وَمُغِيرَةُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ خَصْلَتَانِ يَعْنِي إِحْدَاهُمَا سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْأُخْرَى مِنْ نَفْسِي مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَجْعَلُ لِلَّهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ وَأَنَا أَقُولُ مَنْ مَاتَ وَهُوَ لَا يَجْعَلُ لِلَّهِ نِدًّا وَلَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

দুটি কথা এমন আছে, যার একটি আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি এবং অন্যটি আমি নিজের পক্ষ থেকে বলেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো, তাহলে তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” আর আমি বলেছি, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৭৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4175 OK

(৪১৭৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯৬১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجَ اثْنَانِ دُونَ صَاحِبِهِمَا أَجْلَ يُحْزِنُهُ وَلَا تُبَاشِرْ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ أَجْلَ تَنْعَتُهَا لِزَوْجِهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা তিনজন পুরুষ হবে, তখন তৃতীয় পুরুষকে একা রেখে দুইজন পুরুষ ফিসফিস করে কথা বলো না, কারণ এতে তৃতীয় পুরুষ দুঃখ পাবে। আর কোনো নারীর জন্যে উচিত নয় যে, অন্য মহিলাকে তার নগ্ন শরীরে স্পর্শ করা। কোনো মহিলা যেনো, অন্য কোনো মহিলার সম্পর্কে তার স্বামীর কাছে এমন ভাবে তার শারীরিক গঠন বর্ণনা না করে, যেনো সে তাকে নিজের চোখে দেখছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৭৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4176 OK

(৪১৭৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪১৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا أَحْسَنْتُ فِي الْإِسْلَامِ أُؤَاخَذُ بِمَا عَمِلْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ إِذَا أَحْسَنْتَ فِي الْإِسْلَامِ لَمْ تُؤَاخَذْ بِمَا عَمِلْتَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَإِذَا أَسَأْتَ فِي الْإِسْلَامِ أُخِذْتَ بِالْأَوَّلِ وَالْآخِرِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদা এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে বললো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি ইসলাম গ্রহণ করি এবং ভালো কাজ করি, তাহলে কি জাহিলিয়াতের সময় আমি যা করেছি, তার জন্যে আমাকে দোষারোপ করা হবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যখন তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছো এবং নেক আমল করেছো, তখন জাহেলিয়াতের আমলের জন্যে তোমাকে দোষারোপ করা হবে না। তবে তুমি যদি ইসলাম গ্রহণের পর খারাপ কাজ করো, তবে তোমাকে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল খারাপ কাজের জন্যে দায়ী করা হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৭৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস