

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّ الْأَسْوَدَ وَعَلْقَمَةَ كَانَا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ فِي الدَّارِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ صَلَّى هَؤُلَاءِ قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَصَلَّى بِهِمْ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ وَقَامَ وَسَطَهُمْ وَقَالَ إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَاصْنَعُوا هَكَذَا فَإِذَا كُنْتُمْ أَكْثَرَ فَلْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ وَلْيَضَعْ أَحَدُكُمْ يَدَيْهِ بَيْنَ فَخِذَيْهِ إِذَا رَكَعَ فَلْيَحْنَأْ فَكَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى اخْتِلَافِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হজরত ইবরাহীম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আলকামাহ ও আসওয়াদ উভয়েই হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেদমতে উপস্থিত ছিলেন। নামাযের সময় হলে আলকামাহ ও আসওয়াদ পিছনে দাঁড়ালো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের হাত ধরে একজনকে তার ডান পাশে এবং অন্যজনকে তার বাম পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাযের আযান ও ইকামা ছাড়াই তাদের ইমামতি করলেন এবং তিনি নিজেই তাদের মাঝখানে দাঁড়ালেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “যখন তোমরা তিনজন হয়ে যাবে, তখন তোমরা একইভাবে করবে এবং যখন তিনজনের বেশি হবে? তোমাদের মধ্যে একজন ব্যক্তি ইমামতি করবে।” অতঃপর যখন তারা উভয়ে রুকু করলো, তখন তারা তাদের হাঁটুর উপর হাত রাখলো। এটা দেখে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের দুই হাতে আঘাত করলেন এবং আঙ্গুলগুলো পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ করালেন এবং উভয় হাত তার উরুর মাঝে রেখে বললেন, “আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন আচরণ করতে দেখেছি।”
[টীকাঃ এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় উলাফ। পরবর্তীতে এই রায় রহিত করা হয়। কিন্তু হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু শেষ পর্যন্ত এর প্রত্যাখ্যানে বিশ্বাসী হননি।] [মুসনাদে আহমাদ : ৪১১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةً فَلَا أَدْرِي زَادَ أَمْ نَقَصَ فَلَمَّا سَلَّمَ قِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ حَدَثَ فِي الصَّلَاةِ شَيْءٌ قَالَ لَا وَمَا ذَاكَ قَالُوا صَلَّيْتَ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَثَنَى رِجْلَيْهِ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْ السَّهْوِ فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ وَإِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَتَحَرَّ الصَّلَاةَ فَإِذَا سَلَّمَ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নামায পড়ালেন এবং আমি জানি না, তিনি নামাযে কোনো রাকাত যোগ করেছেন, নাকি বাদ দিয়েছেন। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, তখন তাঁকে বলা হলো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নামাযে কি নতুন কিছু যোগ করা হয়েছে?” তিনি বললেন, “না। তোমরা কেনো তা জিজ্ঞেস করছো?” সাহাবীরা বললো, “আপনি নামাযে অমুক অমুক করেছেন।” তিনি কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন, তারপর তিনি দুইবার সাহু সিজদা করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তারপর বললেন, “আমি মানুষ, আমিও ভুলে যাই, যেমন তোমরা ভুলে যাও। যদি তোমাদের কেউ তার নামাযের ব্যাপারে অনিশ্চিত হয়, তাহলে সে যেনো, সঠিকটা বের করার চেষ্টা করে। এবং সেই ভিত্তিতেই এগিয়ে যায়, তারপর দুইবার সাহু সেজদা করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১১৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَعْلَى وَابْنُ أَبِي زَائِدَةَ قَالَا حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ دَخَلَ الْأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَهُوَ يَتَغَدَّى فَقَالَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ ادْنُ لِلْغَدَاءِ قَالَ أَوَلَيْسَ الْيَوْمُ عَاشُورَاءَ قَالَ وَتَدْرِي مَا يَوْمُ عَاشُورَاءَ إِنَّمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُهُ قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ رَمَضَانُ فَلَمَّا أُنْزِلَ رَمَضَانُ تُرِكَ
হজরত আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার মহররমের ১০ তারিখে আশুরার দিনে আল-আশআত বিন কায়স, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসেন। হজরত আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। হজরত আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে আবু মুহাম্মাদ, এসো দুপুরের খাবার খাও।” আশআস বললেন, “আজ কি আশুরার দিন নয়?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি কি জানো আশুরার দিন কী? রমজানের রোজা রাখার হুকুম নাযিল হওয়ার পূর্বে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দিনে রোজা রাখতেন। যখন রমজানের রোজা রাখার হুকুম নাযিল হয়, তখন এই রোজা অচল হয়ে যায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১১৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ إِنِّي لَأَعْلَمُ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ يَقْرَؤُهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثِنْتَيْنِ فِي رَكْعَةٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি এমন উদাহরণ জানি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক রাকাতে দুটি সূরা পাঠ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১২০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ وَلَأُنَازَعَنَّ أَقْوَامًا ثُمَّ لَأُغْلَبَنَّ عَلَيْهِمْ فَأَقُولُ يَا رَبِّ أَصْحَابِي فَيَقُولُ إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আমি হাউজে কাউসারে তোমাদের আগে থাকবো এবং তোমাদের জন্যে অপেক্ষা করবো। কিছু লোককে আমার কাছে আনা হবে, তারপর আমাকে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। আমি বলবো, “হে আমার প্রভু! এরা আমার অনুসারী।” আমাকে বলা হবে, “আপনি জানেন না, তারা আপনার পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পরে কী বিদআত উদ্ভাবন করেছে (ইসলাম বিরোধী কী কাজ করেছে)। আপনি তাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তারা মুরতাদ হয়ে গেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১২১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَمَّا أُنْزِلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ كَانَ يُكْثِرُ إِذَا قَرَأَهَا وَرَكَعَ أَنْ يَقُولَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ثَلَاثًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
إِذَا جَآءَ نَصۡرُ ٱللَّهِ وَٱلۡفَتۡحُ١
হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যখন আপনার কাছে আল্লাহর সাহায্য ও মক্কা বিজয় আসবে (১১০. আন নছর : ১)
সূরা নাসরের এই আয়াতটি যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাজিল হয়, তখন তিনি নামাযে তা পাঠ করলে, তিনবার রুকুতে বলতেন,
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
“হে আমাদের পালনকর্তা, আপনারই সকল মহিমা ও প্রশংসা। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয় আপনি তওবা কবুলকারী, পরম করুণাময়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১২২]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ قَيْسِ بْنِ الْحَجَّاجِ عَنْ حَنَشٍ الصَّنْعَانِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةَ الْجِنِّ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عَبْدَ اللَّهِ أَمَعَكَ مَاءٌ قَالَ مَعِي نَبِيذٌ فِي إِدَاوَةٍ فَقَالَ اصْبُبْ عَلَيَّ فَتَوَضَّأَ قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ شَرَابٌ وَطَهُورٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
জিনদের রাতে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, “হে আবদুল্লাহ, তোমার কাছে কি পানি আছে?” আমি বললাম, “আমার কাছে একটি পাত্রে কিছু নাবীদ আছে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমার জন্যে তা ঢেলে দাও।” তিনি তা দিয়ে উযূ করলেন এবং আমাদেরকে নামায পড়ালেন। তিনি বললেন, “হে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ! এটি পানযোগ্য ও পবিত্রতার মাধ্যম উভয়ই।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১২৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَى كُلِّ خَلِيلٍ مِنْ خُلَّتِهِ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا وَإِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি বলে যে, আমি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আমি তার বন্ধুত্বকে অস্বীকার করি। আমি যদি একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু (খলীল) গ্রহণ করতাম, তবে আমি হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতাম। কিন্তু তোমাদের সঙ্গী (অর্থাৎ তিনি নিজেই) আল্লাহর একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু (খলীল)।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১২৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُسْلِمٍ الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلَاءِ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ سُنَنَ الْهُدَى وَمَا مِنْكُمْ إِلَّا وَلَهُ مَسْجِدٌ فِي بَيْتِهِ وَلَوْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ وَلَقَدْ رَأَيْتُنِي وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلَّا مُنَافِقٌ مَعْلُومٌ نِفَاقُهُ وَلَقَدْ رَأَيْتُ الرَّجُلَ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ رَجُلٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَأْتِي مَسْجِدًا مِنْ الْمَسَاجِدِ فَيَخْطُو خُطْوَةً إِلَّا رُفِعَ بِهَا دَرَجَةً أَوْ حُطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ أَوْ كُتِبَتْ لَهُ بِهَا حَسَنَةٌ حَتَّى إِنْ كُنَّا لَنُقَارِبُ بَيْنَ الْخُطَى وَإِنَّ فَضْلَ صَلَاةِ الرَّجُلِ فِي جَمَاعَةٍ عَلَى صَلَاتِهِ وَحْدَهُ بِخَمْسٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আগামীকাল কিয়ামাতের দিন মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ পেতে আনন্দবোধ করে, সে যেনো ঐ সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করে, যেসব সালাতের জন্যে আযান দেওয়া হয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবীর জন্যে হিদায়াতের পন্থা বিধিবদ্ধ করেছেন। আর এসব সালাতও হিদায়াতের পন্থা, যেমন জনৈক ব্যক্তি সালাতের জামাআতে উপস্থিত না হয়ে, বাড়ীতে সালাত আদায় করে থাকে, অনুরূপ তোমরাও যদি তোমাদের বাড়ীতে সালাত আদায় করো, তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত বা পন্থা পরিত্যাগ করলে। আর তোমরা যদি এভাবে তোমাদের নবীর সুন্নাত বা পন্থা পরিত্যাগ করো, তাহলে অবশ্যই তোমরা পথ হারিয়ে ফেলবে। কেউ যদি অতি উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সালাত আদায় করার জন্যে) কোনো একটি মসজিদে উপস্থিত হয়, তাহলে মসজিদে যেতে, সে যতবার পদক্ষেপ ফেলবে, তার প্রতিটি পদক্ষেপের পরিবর্তে আল্লাহ তাআলা তার জন্যে একটি নেকী লিখে দেন, তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন এবং একটি করে পাপ দূর করে দেন।” হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “এজন্যে আমরা নামাযের জন্যে মসজিদে যাবার সময় ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতাম এবং জামাতের সাথে নামাজ পড়ার ফজিলত, একা নামাজ পড়ার চেয়ে পঁচিশ গুন বেশি। আমরা মনে করি যার মুনাফিক্বী সর্বজন বিদিত এমন মুনাফিক্ব ছাড়া কেউই জামাআতে সালাত আদায় করা ছেড়ে দেয় না। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যামানায় এমন ব্যক্তি জামাআতে উপস্থিত হতো, যাকে দুইজন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে এসে, সালাতের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হতো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১২৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَمَّا أُنْزِلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ كَانَ يُكْثِرُ إِذَا قَرَأَهَا وَرَكَعَ أَنْ يَقُولَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ثَلَاثًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
إِذَا جَآءَ نَصۡرُ ٱللَّهِ وَٱلۡفَتۡحُ١
হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যখন আপনার কাছে আল্লাহর সাহায্য ও মক্কা বিজয় আসবে (১১০. আন নছর : ১)
সূরা নাসরের এই আয়াতটি যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাজিল হয়, তখন তিনি নামাযে তা পাঠ করলে, তিনবার রুকুতে বলতেন,
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
“হে আমাদের পালনকর্তা, আপনারই সকল মহিমা ও প্রশংসা। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয় আপনি তওবা কবুলকারী, পরম করুণাময়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১২৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَارٍ وَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ وَالْمُرْسَلَاتِ عُرْفًا قَالَ فَنَحْنُ نَأْخُذُهَا مِنْ فِيهِ رَطْبَةً إِذْ خَرَجَتْ عَلَيْنَا حَيَّةٌ فَقَالَ اقْتُلُوهَا فَابْتَدَرْنَاهَا لِنَقْتُلَهَا فَسَبَقَتْنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَاهَا اللَّهُ شَرَّكُمْ كَمَا وَقَاكُمْ شَرَّهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে একটি পাহাড়ী গুহায় বসে ছিলাম। সে সময় ‘সূরা ৭৭. আল মুরসালাত’ তাঁর উপরে অবতীর্ণ হয়েছিলো। আর আমরা তাঁর কণ্ঠ থেকে সরাসরি শুনছিলাম। অকস্মাৎ একটি সাপ আমাদের সম্মুখে বের হয়ে আসলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা ওটাকে হত্যা করো।” আমরা উঠে পড়লাম এবং একটি খেজুরের ডাল নিয়ে তাতে আগুন লাগানো হলো এবং আমরা একটি লাঠি নিয়ে কিছু পাথর সরিয়ে ফেললাম, কিন্তু আমরা সাপটিকে পেলাম না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহ তাআলা তাকে তোমাদের অনিষ্ট থেকে হিফাযাত করেছেন, যেমন তিনি তোমাদেরকে তার অনিষ্ট হতে হিফাযাত করেছেন। ” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১২৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَهُمَا بَعْدَ السَّلَامِ وَقَالَ مَرَّةً إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ السَّجْدَتَيْنِ فِي السَّهْوِ بَعْدَ السَّلَامِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযের সালামের পরে, ভুলে যাওয়া নামাযের রাকাতের জন্যে দুইটি সাহু সিজদা করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১২৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ فَقَالَ نَاوِلْنِي أَحْجَارًا قَالَ فَنَاوَلْتُهُ سَبْعَةَ أَحْجَارٍ فَقَالَ لِي خُذْ بِزِمَامِ النَّاقَةِ قَالَ ثُمَّ عَادَ إِلَيْهَا فَرَمَى بِهَا مِنْ بَطْنِ الْوَادِي بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ وَهُوَ رَاكِبٌ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ وَقَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ حَجًّا مَبْرُورًا وَذَنْبًا مَغْفُورًا ثُمَّ قَالَ هَاهُنَا كَانَ يَقُومُ الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
হজরত আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজ উপলক্ষে আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে ছিলাম। যখন তিনি জামরাহ আকাবার কাছে পৌঁছলেন, তিনি বললেন, “আমাকে কিছু নুড়ি দাও।” আমি তাকে সাতটি নুড়ি দিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, “উটের লাগাম ধরো।” অতঃপর তিনি পিছু হটলেন এবং বাতিন ওয়াদী থেকে জামরাহ আকাবার দিকে সওয়ারী অবস্থায় সাতটি নুড়ি নিক্ষেপ করলেন এবং প্রতিটি নুড়ির উপর তাকবীর বলতে থাকলেন। এবং দোয়া করতে থাকলেন, “হে আল্লাহ! এটাকে কবুল হজ্জ করুন এবং গুনাহ মাফ করুন।” তারপর বাম হাতের দিকে বাইতুল্লাহ এবং ডান হাতের দিকে মিনা রেখে বললেন, “এটি সেই স্থান, যেখানে সূরা বাকারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে উপর নাযিল হয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১২৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شِقَّتَيْنِ حَتَّى نَظَرُوا إِلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اشْهَدُوا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে চাঁদ দুভাগ হয়ে গিয়েছিলো এবং সবাই তা দেখতে পেলো। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা সাক্ষী থাকো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৩০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنِي زُبَيْدٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ وَشَقَّ الْجُيُوبَ وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ
হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “ঐ ব্যক্তি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি (মৃত ব্যক্তির জন্যে শোক প্রকাশে) গাল চাপড়িয়ে কাঁদে, জামা ছিঁড়ে চিৎকার করে কাঁদে ও জাহেলিয়াতের মতো চিৎকার করে কাঁদে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৩১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ عَنْ أَبِي نَهْشَلٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَضَلَ النَّاسَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ بِأَرْبَعٍ بِذِكْرِ الْأَسْرَى يَوْمَ بَدْرٍ أَمَرَ بِقَتْلِهِمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَوْلَا كِتَابٌ مِنْ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ وَبِذِكْرِهِ الْحِجَابَ أَمَرَ نِسَاءَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَحْتَجِبْنَ فَقَالَتْ لَهُ زَيْنَبُ وَإِنَّكَ عَلَيْنَا يَا ابْنَ الْخَطَّابِ وَالْوَحْيُ يَنْزِلُ فِي بُيُوتِنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ وَبِدَعْوَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَهُ اللَّهُمَّ أَيِّدْ الْإِسْلَامَ بِعُمَرَ وَبِرَأْيِهِ فِي أَبِي بَكْرٍ كَانَ أَوَّلَ النَّاسِ بَايَعَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু চারটি বিষয়ে মানুষকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন। (১) যখন তিনি বদরের যুদ্ধের দিনে বন্দীদের বিষয়ে বলেছিলেন যে, “তাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা উচিত।” এবং আল্লাহ তায়ালা বাণী নাজিল করলেন,
لَّوۡلَا كِتَٰبٞ مِّنَ ٱللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمۡ فِيمَآ أَخَذۡتُمۡ عَذَابٌ عَظِيمٞ٦٨
যদি ইতিপূর্বে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট লিখিত বিধান না থাকতো, তাহলে যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণ হিসেবে তোমরা যে সম্পদ গ্রহণ করেছো, ঐ কারণে তোমাদেরকে অবশ্যই মহা শাস্তি স্পর্শ করতো। (৮. আল আনফাল : ৬৮)
(২) যখন তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদেরকে হিজাব পালন করতে বললেন এবং জয়নব তাঁকে বললেন, “হে আল-খাত্তাবের পুত্র, আপনি কি আমাদেরকে শিখাতে চান যে, আমাদের কি করতে হবে, অথচো আমাদের ঘরেই ওহী নাযিল হয়?” অতঃপর আল্লাহ তায়ালা বাণী নাযিল করলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَدۡخُلُواْ بُيُوتَ ٱلنَّبِيِّ إِلَّآ أَن يُؤۡذَنَ لَكُمۡ إِلَىٰ طَعَامٍ غَيۡرَ نَٰظِرِينَ إِنَىٰهُ وَلَٰكِنۡ إِذَا دُعِيتُمۡ فَٱدۡخُلُواْ فَإِذَا طَعِمۡتُمۡ فَٱنتَشِرُواْ وَلَا مُسۡتَـٔۡنِسِينَ لِحَدِيثٍۚ إِنَّ ذَٰلِكُمۡ كَانَ يُؤۡذِي ٱلنَّبِيَّ فَيَسۡتَحۡيِۦ مِنكُمۡۖ وَٱللَّهُ لَا يَسۡتَحۡيِۦ مِنَ ٱلۡحَقِّۚ وَإِذَا سَأَلۡتُمُوهُنَّ مَتَٰعٗا فَسۡـَٔلُوهُنَّ مِن وَرَآءِ حِجَابٖۚ ذَٰلِكُمۡ أَطۡهَرُ لِقُلُوبِكُمۡ وَقُلُوبِهِنَّۚ وَمَا كَانَ لَكُمۡ أَن تُؤۡذُواْ رَسُولَ ٱللَّهِ وَلَآ أَن تَنكِحُوٓاْ أَزۡوَٰجَهُۥ مِنۢ بَعۡدِهِۦٓ أَبَدًاۚ إِنَّ ذَٰلِكُمۡ كَانَ عِندَ ٱللَّهِ عَظِيمًا٥٣
ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! তোমরা নবীর ঘরে প্রবেশ করো না, তবে এ ব্যতীত যে, যদি তোমাদেরকে খাওয়ার জন্যে অনুমতি দেওয়া হয়, আর রান্না শেষ হবার অপেক্ষা না করে তোমরা খাওয়ার জন্যে আগেই নবীর ঘরে প্রবেশ করো না। বরং তোমাদেরকে যখন ডাকা হয়, তখন তোমরা ঘরে প্রবেশ করো। তারপর যখন তোমরা খাওয়া শেষ করো, তখন দ্রুত চলে যেও এবং তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় তোমাদের এ আচরণ নবীকে কষ্ট দেয়। অথচ নবী তোমাদের কাছে এইসব কথা বলতে লজ্জা বোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ সত্য কথা বলতে লজ্জা বোধ করেন না। যখন তোমরা নবীর স্ত্রীদের কাছে কোনো কিছু চাও, তখন তোমরা তাঁদের কাছে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটিই তোমাদের হৃদয়ের জন্যে ও তাঁদের হৃদয়ের জন্যে অধিক পবিত্র। তোমাদের জন্যে বৈধ নয় যে, তোমার আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দিবে। তোমাদের জন্যে কখনোই বৈধ নয় যে, তোমরা নবীর মৃত্যুর পরে তাঁর স্ত্রীদেরকে বিবাহ করবে। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে এটি হচ্ছে গুরুতর অপরাধ। (৩৩. আল আহযাব : ৫৩)
(৩) যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জন্যে প্রার্থনা করেছিলেন এই বলে যে, “হে আল্লাহ, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাধ্যমে আপনি ইসলামকে শক্তিশালী করুন।” আর (৪) যখন তিনি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে খলিফা মনোনীত করেছিলেন এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি তাঁর হাতে খলিফার বায়াত গ্রহন করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৩২]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَامِرِ بْنِ السِّمْطِ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَيَكُونُ أُمَرَاءُ بَعْدِي يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “শীঘ্রই আমার পরে এমন শাসক আসবে, যারা এমন কথা বলবে, যা তারা নিজেরা করে না। আর তারা এমন কাজ করবে, যা করতে তাদেরকে আদেশ দেওয়া হয়নি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৩৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ عَنِ النَّزَّالِ بْنِ سَبْرَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَجُلًا يَقْرَأُ آيَةً وَسَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرَهَا فَأَتَيْتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَغَيَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ عَرَفْتُ فِي وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكَرَاهِيَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كِلَاكُمَا مُحْسِنٌ إِنَّ مَنْ قَبْلَكُمْ اخْتَلَفُوا فِيهِ فَأَهْلَكَهُمْ قَالَ شُعْبَةُ وَحَدَّثَنِي مِسْعَرٌ عَنْهُ وَرَفَعَهُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَا تَخْتَلِفُوا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি এক ব্যক্তিকে সূরা আহকাফ পাঠ করতে শুনলাম। অথচ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অন্যভাবে তা পড়তে শুনেছি। আমি তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে গেলাম। তাঁকে এ খবর জানালাম। আমি তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারায় বিরক্তির ভাব লক্ষ্য করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা দুজনেই শুদ্ধ ভাবে পড়েছো। এ নিয়ে তোমরা কলহ বিবাদ করো না। তোমাদের পূর্বেকার জাতিগুলো তাদের পারস্পরিক বিভেদের জন্যেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৩৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ عَنْ زُبَيْدٍ عَنْ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَبَسُونَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتْ الشَّمْسُ مَلَأَ اللَّهُ بُطُونَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
খন্দকের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ কাফির মুশরিকদের ঘর ও কবর গুলোকে আগুন দিয়ে পূর্ণ করেদিন, কারণ তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমাদেরকে আসরের নামাজ পড়তে দেয়নি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৩৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَنَائِمَ حُنَيْنٍ بِالْجِعِرَّانَةِ قَالَ فَازْدَحَمُوا عَلَيْهِ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِ اللَّهِ بَعَثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى قَوْمِهِ فَكَذَّبُوهُ وَشَجُّوهُ فَجَعَلَ يَمْسَحُ الدَّمَ عَنْ جَبِينِهِ وَيَقُولُ رَبِّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ جَبْهَتَهُ يَحْكِي الرَّجُلَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জারানা নামক স্থানে হুনাইনের অভিযানের গনীমতের মাল বণ্টন করছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক নবীর কথা বর্ণনা করছিলেন, যাকে তার সম্প্রদায়ের দ্বারা প্রহার করা হয়েছিলো এবং তিনি তার মুখ থেকে রক্ত মুছে দিয়ে বলেছিলেন, “প্রভু আমার সম্প্রদায়কে ক্ষমা করুন, কারণ তারা আমাকে চেনে না।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “সেই দৃশ্য এখনও আমার চোখের সামনে রয়েছে যে, ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কপাল মুছছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৩৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَحِقَ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدٌ أَسْوَدُ فَمَاتَ فَأُوذِنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ انْظُرُوا هَلْ تَرَكَ شَيْئًا فَقَالُوا تَرَكَ دِينَارَيْنِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيَّتَانِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সুফফাবাসীর মধ্যে থেকে একজন কালো দাস এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলো। কিছুক্ষণ পর ঐ দাসটি মারা গেলো। এই বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানানো হলো। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা দেখো সে কিছু রেখে গেছে কি না?” লোকেরা বললো, “সে তার চাদরের মধ্যে দুই দিনার রেখে গেছে।” রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এ দুটি দিনার জাহান্নামের দুটি কয়লা।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৩৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ حَسَنٍ الْأَشْقَرُ حَدَّثَنَا أَبُو كُدَيْنَةَ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ يَهُودِيٌّ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ جَالِسٌ قَالَ كَيْفَ تَقُولُ يَا أَبَا الْقَاسِمِ يَوْمَ يَجْعَلُ اللَّهُ السَّمَاءَ عَلَى ذِهْ وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ وَالْأَرْضَ عَلَى ذِهْ وَالْمَاءَ عَلَى ذِهْ وَالْجِبَالَ عَلَى ذِهْ وَسَائِرَ الْخَلْقِ عَلَى ذِهْ كُلُّ ذَلِكَ يُشِيرُ بِأَصَابِعِهِ قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ইহুদি পাদরী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, যখন তিনি বসে ছিলেন। ঐ ইহুদি পাদরী বললো, “হে আবুল কাসিম, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা আকাশ মণ্ডলীকে এক আঙ্গুলে, জমিন সমূহকে এক আঙ্গুলে, পাহাড় ও গাছপালাকে এক আঙ্গুলে; পানি ও মাটি এক আঙ্গুলে এবং সকল প্রকার সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলে তুলে ধরবেন। তারপর এগুলো দুলিয়ে বলবেন, আমিই বাদশাহ, আমিই অধিপতি।” আর সে প্রতিবার তার আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলো। পাদরীর কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিস্ময়ের সাথে তার সত্যায়ন স্বরূপ হাসলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি অবতীর্ণ করলেন,
وَمَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦ وَٱلۡأَرۡضُ جَمِيعٗا قَبۡضَتُهُۥ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَٱلسَّمَٰوَٰتُ مَطۡوِيَّٰتُۢ بِيَمِينِهِۦۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ٦٧
তারা আল্লাহকে যথার্থ রূপে সম্মান করে না। অথচ কিয়ামতের দিনে সব ভূমন্ডল থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং নভোমন্ডল ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে থাকবে। আল্লাহ পবিত্র আর তারা যাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করে, তা থেকে আল্লাহ অনেক উর্ধ্বে। [৩৯ : ৬৭]
[মুসনাদে আহমাদ : ৪১৩৮]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ فَقَالَ نَاوِلْنِي أَحْجَارًا قَالَ فَنَاوَلْتُهُ سَبْعَةَ أَحْجَارٍ فَقَالَ لِي خُذْ بِزِمَامِ النَّاقَةِ قَالَ ثُمَّ عَادَ إِلَيْهَا فَرَمَى بِهَا مِنْ بَطْنِ الْوَادِي بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ وَهُوَ رَاكِبٌ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ وَقَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ حَجًّا مَبْرُورًا وَذَنْبًا مَغْفُورًا ثُمَّ قَالَ هَاهُنَا كَانَ يَقُومُ الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
হজরত আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজ উপলক্ষে আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে ছিলাম। যখন তিনি জামরাহ আকাবার কাছে পৌঁছলেন, তিনি বললেন, “আমাকে কিছু নুড়ি দাও।” আমি তাকে সাতটি নুড়ি দিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, “উটের লাগাম ধরো।” অতঃপর তিনি পিছু হটলেন এবং বাতিন ওয়াদী থেকে জামরাহ আকাবার দিকে সওয়ারী অবস্থায় সাতটি নুড়ি নিক্ষেপ করলেন এবং প্রতিটি নুড়ির উপর তাকবীর বলতে থাকলেন। এবং দোয়া করতে থাকলেন, “হে আল্লাহ! এটাকে কবুল হজ্জ করুন এবং গুনাহ মাফ করুন।” তারপর বাম হাতের দিকে বাইতুল্লাহ এবং ডান হাতের দিকে মিনা রেখে বললেন, “এটি সেই স্থান, যেখানে সূরা বাকারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে উপর নাযিল হয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৩৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا نَمْشِي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَرَّ بِابْنِ صَيَّادٍ فَقَالَ إِنِّي قَدْ خَبَأْتُ لَكَ خَبْئًا قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ دُخٌّ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اخْسَأْ فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ دَعْنِي أَضْرِبْ عُنُقَهُ قَالَ لَا إِنْ يَكُنْ الَّذِي نَخَافُ فَلَنْ تَسْتَطِيعَ قَتْلَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হাঁটছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইবনু সাইয়্যাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “তোমার বিষয়ে আমি আমার হৃদয়ে একটি কথা লুক্কায়িত রেখেছি।” ইবনু সাইয়্যাদ বললো, “আপনার হৃদয়ে আরবি دُخٌّ (ধুয়া) শব্দটি লুক্কায়িত রয়েছে।” এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “চলে যা অভিশপ্ত, তুই তোর নিজের অবস্থান থেকে এগোতে পারবি না।” তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর! আমাকে ছেড়ে দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিবো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাকে ছাড়ো, যার সম্বন্ধে তুমি আশঙ্কা করছো, সে যদি ঐ (দাজ্জালই) হয়ে থাকে, তবে তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৪০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ خُمَيْرِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَرَأْتُ مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْعِينَ سُورَةً وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ لَهُ ذُؤَابَةٌ فِي الْكُتَّابِ
হজরত আবূ ওয়ায়ল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, “তোমরা আমাকে হজরত যায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো কুরআন পড়তে বলছো কি করে? অথচ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বরকতময় মুখ থেকে শুনে সওরেরও (৭০) অধিক সূরা পাঠ শিখেছি, অথচো হজরত যায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তখনো ছোট ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করতো ও তখন তার মাথায় দুইটি চুলের ঝুঁটি ছিলো। (অর্থাৎ সে তখন নিতান্তই শিশু, আর তোমরা আমাকে সেই সেদিনের যায়দের মতো করে কুরআন পড়তে বলছো?)” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৪১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِيَلِيَنِّي مِنْكُمْ أُولُو الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ وَلَا تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ وَإِيَّاكُمْ وَهَوْشَاتِ الْأَسْوَاقِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান তারা যেনো নামাজে আমার কাছাকাছি থাকে। তারপর যারা তাদের পরে আসবে। অতঃপর, যারা তাদের পরে আসবে, তাদের মধ্যে তোমরা কোনো পদমর্যাদায় পার্থক্য করবেন না। অন্যথায় তোমাদের অন্তরে মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হবে। আর তোমরা বাজারের মতো মসজিদে আওয়াজ করা থেকে বিরত থাকবে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৪১৪২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ يَعْنِي شَيْبَانَ عَنْ أَبِي الْيَعْفُورِ عَنْ أَبِي الصَّلْتِ عَنْ أَبِي عَقْرَبٍ قَالَ غَدَوْتُ إِلَى ابْنِ مَسْعُودٍ ذَاتَ غَدَاةٍ فِي رَمَضَانَ فَوَجَدْتُهُ فَوْقَ بَيْتِهِ جَالِسًا فَسَمِعْنَا صَوْتَهُ وَهُوَ يَقُولُ صَدَقَ اللَّهُ وَبَلَّغَ رَسُولُهُ فَقُلْنَا سَمِعْنَاكَ تَقُولُ صَدَقَ اللَّهُ وَبَلَّغَ رَسُولُهُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي النِّصْفِ مِنْ السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ غَدَاتَئِذٍ صَافِيَةً لَيْسَ لَهَا شُعَاعٌ فَنَظَرْتُ إِلَيْهَا فَوَجَدْتُهَا كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ حَدَّثَنَا أَبُو يَعْفُورٍ عَنْ أَبِي الصَّلْتِ عَنْ أَبِي عَقْرَبٍ الْأَسَدِيِّ قَالَ غَدَوْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ
হজরত আবু আকরাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রমজান মাসে এক সকালে আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেদমতে হাজির হলাম। আমি তাকে তার বাড়ির ছাদে বসে থাকতে দেখলাম। আমরা তার কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম এবং তিনি বলেছিলেন, “আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা পৌঁছে দিয়েছেন।” আমরা তাঁর খেদমতে এসে জিজ্ঞাসা করলাম যে, “আমরা আপনাকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা পৌঁছে দিয়েছেন। এ দ্বারা আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন?” তিনি উত্তরে বলেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কদরের রাত রমযানের শেষ সাত রাতের মধ্যভাগে এবং সেই রাতের পর যখন সূর্য উদিত হয়, তখন তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়।’ আমি শুধু এটি দেখছিলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন বলেছিলেন আমি ঠিক তেমনটি দেখতে পেলাম।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৪৩]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَتَّابٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ وَعَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَاهُ لَيْلَةَ الْجِنِّ وَمَعَهُ عَظْمٌ حَائِلٌ وَبَعْرَةٌ وَفَحْمَةٌ فَقَالَ لَا تَسْتَنْجِيَنَّ بِشَيْءٍ مِنْ هَذَا إِذَا خَرَجْتَ إِلَى الْخَلَاءِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জ্বীনের রাতে আমার কাছে এসেছিলেন। আমার কাছে একটি পুরানো হাড়, এক টুকরো গোবর এবং এক টুকরো কাঠ কয়লা ছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, “তুমি যখন ইস্তিনজা করতে বের হবে, তখন এগুলোর কোনোটি কুলুক হিসেবে ব্যবহার করবে না। কেননা এগুলো তোমাদের ভাই, জ্বীনদের খাদ্য।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ أَبُو سَعِيدٍ يَعْنِي الْعَنْقَزِيَّ أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ وَأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ وَحَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ مُخَارِقٍ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ شَهِدْتُ مِنْ الْمِقْدَادِ قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ ابْنِ الْأَسْوَدِ مَشْهَدًا لَأَنْ أَكُونَ أَنَا صَاحِبَهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا عُدِلَ بِهِ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَدْعُو عَلَى الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَا نَقُولُ كَمَا قَالَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ لِمُوسَى اذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ وَلَكِنْ نُقَاتِلُ عَنْ يَمِينِكَ وَعَنْ يَسَارِكَ وَمِنْ بَيْنِ يَدَيْكَ وَمِنْ خَلْفِكَ فَرَأَيْتُ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُشْرِقُ وَسَرَّهُ ذَلِكَ قَالَ أَسْوَدُ فَرَأَيْتُ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُشْرِقُ لِذَلِكَ وَسَرَّهُ ذَلِكَ قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشْرَقَ وَجْهُهُ وَسَرَّهُ ذَاكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর এমন একটি বিষয় দেখেছি, যা আমি করলে তা দুনিয়ার সব কিছুর তুলনায় আমার নিকট প্রিয় হতো। তিনি বদরের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুশরিকদের বিরুদ্ধে দুআ করছিলেন। হজরত মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মূসা (আঃ) এর কাওম যেমন বলেছিলো যে, ‘আপনি ও আপনার প্রভু এগিয়ে যান এবং আপনারা দুজনে যুদ্ধ করুন।’ আমরা তেমন বলবো না, বরং আমরা আপনার সাথে থেকে আপনার ডানে, বামে, সামনে, পিছনে সর্বদিক থেকে যুদ্ধ করবো।”
قَالُواْ يَٰمُوسَىٰٓ إِنَّا لَن نَّدۡخُلَهَآ أَبَدٗا مَّا دَامُواْ فِيهَا فَٱذۡهَبۡ أَنتَ وَرَبُّكَ فَقَٰتِلَآ إِنَّا هَٰهُنَا قَٰعِدُونَ٢٤
তারা বললো, “হে মূসা! আমরা নিশ্চয় কখনো ঐ শহরে প্রবেশ করবো না, যে পর্যন্ত না, তারা সেখানে অবস্থান করে। সুতরাং আপনি ও আপনার প্রভু এগিয়ে যান এবং আপনারা দুজনে যুদ্ধ করুন, নিশ্চয় আমরা এখানেই বসে পড়লাম।” (৫. আল মায়েদাহ : ২৪)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি দেখলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো এবং তার কথা তাঁকে খুব আনন্দিত করলো। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَارٍ وَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ وَالْمُرْسَلَاتِ عُرْفًا قَالَ فَنَحْنُ نَأْخُذُهَا مِنْ فِيهِ رَطْبَةً إِذْ خَرَجَتْ عَلَيْنَا حَيَّةٌ فَقَالَ اقْتُلُوهَا فَابْتَدَرْنَاهَا لِنَقْتُلَهَا فَسَبَقَتْنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَاهَا اللَّهُ شَرَّكُمْ كَمَا وَقَاكُمْ شَرَّهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে একটি পাহাড়ী গুহায় বসে ছিলাম। সে সময় ‘সূরা ৭৭. আল মুরসালাত’ তাঁর উপরে অবতীর্ণ হয়েছিলো। আর আমরা তাঁর কণ্ঠ থেকে সরাসরি শুনছিলাম। অকস্মাৎ একটি সাপ আমাদের সম্মুখে বের হয়ে আসলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা ওটাকে হত্যা করো।” আমরা উঠে পড়লাম এবং একটি খেজুরের ডাল নিয়ে তাতে আগুন লাগানো হলো এবং আমরা একটি লাঠি নিয়ে কিছু পাথর সরিয়ে ফেললাম, কিন্তু আমরা সাপটিকে পেলাম না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহ তাআলা তাকে তোমাদের অনিষ্ট থেকে হিফাযাত করেছেন, যেমন তিনি তোমাদেরকে তার অনিষ্ট হতে হিফাযাত করেছেন। ” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৪৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস