

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ حَضَرْنَا مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ جَنَازَةَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَرِفَ قَالَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ هَذِهِ مَيْمُونَةُ إِذَا رَفَعْتُمْ نَعْشَهَا فَلَا تُزَعْزِعُوهَا وَلَا تُزَلْزِلُوهَا فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عِنْدَهُ تِسْعُ نِسْوَةٍ وَكَانَ يَقْسِمُ لِثَمَانٍ وَوَاحِدَةٌ لَمْ يَكُنْ لِيَقْسِمَ لَهَا قَالَ عَطَاءٌ الَّتِي لَمْ يَكُنْ يَقْسِمُ لَهَا صَفِيَّةُ
হজরত আতা ইবনে আবী রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সরফ নামক স্থানে উম্মুল মুমিনীন হজরত মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “ইনি হলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহু। সুতরাং যখন তোমরা জানাজাটি উপরে তুলবে, তখন তোমরা এটিকে বেশি নড়াচড়া করবেন না বা তোমাদের পা তাড়াতাড়ি চালাবে না। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নয়জন স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাঁর সময়কে আটজন স্ত্রীদের মধ্যে ভাগ করতেন (হযরত মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও তাদের মধ্যে ছিলেন) এবং তিনি তাঁর সময়কে একজন স্ত্রীর জন্যে (বৃদ্ধা হওয়ার কারণে) ভাগ করতেন না।” হজরত আতা ইবনে আবী রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যে স্ত্রীর জন্যে পালা নির্ধারিত ছিলো না, তিনি ছিলেন হযরত সাফিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু। (তবে জনপ্রিয় গবেষকদের মতে, তিনি ছিলেন হযরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহু। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।)” [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৯১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خُثَيْمٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ ذَكْوَانُ حَاجِبُ عَائِشَةَ أَنَّهُ جَاءَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ يَسْتَأْذِنُ عَلَى عَائِشَةَ فَجِئْتُ وَعِنْدَ رَأْسِهَا ابْنُ أَخِيهَا عَبْدُ اللَّهِ بِنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقُلْتُ هَذَا ابْنُ عَبَّاسٍ يَسْتَأْذِنُ فَأَكَبَّ عَلَيْهَا ابْنُ أَخِيهَا عَبْدُ اللَّهِ فَقَالَ هَذَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ يَسْتَأْذِنُ وَهِيَ تَمُوتُ فَقَالَتْ دَعْنِي مِنْ ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ يَا أُمَّتَاهُ إِنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ مِنْ صَالِحِي بَنِيكِ لِيُسَلِّمْ عَلَيْكِ وَيُوَدِّعْكِ فَقَالَتْ ائْذَنْ لَهُ إِنْ شِئْتَ قَالَ فَأَدْخَلْتُهُ فَلَمَّا جَلَسَ قَالَ أَبْشِرِي فَقَالَتْ أَيْضًا فَقَالَ مَا بَيْنَكِ وَبَيْنَ أَنْ تَلْقَيْ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْأَحِبَّةَ إِلَّا أَنْ تَخْرُجَ الرُّوحُ مِنْ الْجَسَدِ كُنْتِ أَحَبَّ نِسَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ إِلَّا طَيِّبًا وَسَقَطَتْ قِلَادَتُكِ لَيْلَةَ الْأَبْوَاءِ فَأَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى يُصْبِحَ فِي الْمَنْزِلِ وَأَصْبَحَ النَّاسُ لَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَكَانَ ذَلِكَ فِي سَبَبِكِ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ مِنْ الرُّخْصَةِ وَأَنْزَلَ اللَّهُ بَرَاءَتَكِ مِنْ فَوْقِ سَبْعِ سَمَوَاتٍ جَاءَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ فَأَصْبَحَ لَيْسَ لِلَّهِ مَسْجِدٌ مِنْ مَسَاجِدِ اللَّهِ يُذْكَرُ اللَّهُ فِيهِ إِلَّا يُتْلَى فِيهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ فَقَالَتْ دَعْنِي مِنْكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ نَسْيًا مَنْسِيًّا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আয়েশার দারোয়ান ঝাকওয়ান তাকে বলেছিলেন যে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। আমি (ঝাকওয়ান) এসে দেখি তার ভাইয়ের ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর-রহমান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আছেন। আমি বললাম, ইবনে আব্বাস এখানে এসেছেন, ভেতরে আসার অনুমতি চাইছেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভাতিজা আবদুল্লাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে মাথা নিচু করে বললেন, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ভেতরে আসার অনুমতি চাইছেন। এটা ছিলো ঐ সময়, যখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু মারা যাচ্ছিলেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “ইবনে আব্বাসকে আমার থেকে দূরে রাখুন।” আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর-রহমান বললেন, “হে আমার মা, ইবনে আব্বাস আপনার নেককার পুত্রদের একজন। তিনি আপনাকে অভিবাদন জানাবেন এবং আপনাকে বিদায় জানাবেন।” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি চাইলে তাকে ঢুকতে দাও।” তাই আমি তাকে অনুমতি দিলাম এবং যখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বসলেন, তখন তিনি বললেন, “ভালো থাকুন।” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমিও ভালো থাকো।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আপনার এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাত ও প্রিয় জনদের সাথে সাক্ষাতের মধ্যে শরীর থেকে আত্মার প্রস্থান ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। আপনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকেই ভালোবাসতেন না। আল-আবওয়ার রাতে আপনার গলার হার হারিয়ে গিয়েছিলো এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা খুঁজতে থাকলেন। অথচো সকালে লোকদের কাছে নামাযের ওযুর জন্যে পানি ছিলো না। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাজিল করলেন।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَقۡرَبُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَنتُمۡ سُكَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَعۡلَمُواْ مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغۡتَسِلُواْۚ وَإِن كُنتُم مَّرۡضَىٰٓ أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوۡ جَآءَ أَحَدٞ مِّنكُم مِّنَ ٱلۡغَآئِطِ أَوۡ لَٰمَسۡتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَلَمۡ تَجِدُواْ مَآءٗ فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدٗا طَيِّبٗا فَٱمۡسَحُواْ بِوُجُوهِكُمۡ وَأَيۡدِيكُمۡۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا٤٣
ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাকো, তখন তোমরা নামাযের ধারের কাছেও যেয়ো না, যে পর্যন্ত না, তোমরা বুঝতে পারো যে, তোমরা কি বলছো, অথবা যৌন সম্ভোগ করার পরবর্তী অবস্থায়, যে পর্যন্ত না, তোমরা গোসল করেছো। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা ভ্রমণে থাকো অথবা তোমাদের মধ্যে কেউ শৌচস্থান থেকে এসেছো অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস করেছো আর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে তোমরা বিশুদ্ধ মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো। তারপর তোমাদের মুখমন্ডল ও তোমাদের হাত সমূহ মাসেহ করো। নিশ্চয় আল্লাহ হচ্ছেন মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল। (৪. আন নিসা : ৪৩)
আপনার কারণেই আল্লাহ এই উম্মতকে এই ছাড় দিয়েছেন। এবং আল্লাহ আপনার নির্দোষতাকে সাত আসমানের উপর থেকে প্রকাশ করেছেন এবং জিবরাঈল তা নিয়ে এসেছেন এবং এমন কোন মসজিদ নেই যেখানে আল্লাহকে স্মরণ করা হয় না, কিন্তু এই আয়াতটি সেখানে দিন-রাত পাঠ করা হয়।” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে ইবনে আব্বাস, আমাকে একা ছেড়ে দিন। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, আমি যদি কোনো রূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং আমি যদি মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতাম!”
فَأَجَآءَهَا ٱلۡمَخَاضُ إِلَىٰ جِذۡعِ ٱلنَّخۡلَةِ قَالَتۡ يَٰلَيۡتَنِي مِتُّ قَبۡلَ هَٰذَا وَكُنتُ نَسۡيٗا مَّنسِيّٗا٢٣
তখন প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর গাছের গুড়ির নিকটে নিয়ে এলো। মারইয়াম বললো, “হায় আমার দুর্ভোগ! আমি যদি কোনো রূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং আমি যদি মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতাম!” (১৯. মারইয়াম : ২৩) [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৯২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ أَنَّ طَاوُسًا قَالَ حَدَّثَنِي مَنْ هُوَ أَعْلَمُ بِهِ مِنْهُمْ يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَأَنْ يَمْنَحَ الرَّجُلُ أَخَاهُ أَرْضَهُ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَأْخُذَ عَلَيْهَا خَرْجًا مَعْلُومًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের একজন তার ভাইকে তার জমি উপহার হিসেবে পেশ করা, তার কাছ থেকে নির্ধারিত খাজনা আদায়ের চেয়ে উত্তম।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৯৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ أَخْبَرَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ أَخْبَرَنَا قَيْسُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ قَالَ كَتَبَ نَجْدَةُ بْنُ عَامِرٍ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ أَشْيَاءَ فَشَهِدْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ حِينَ قَرَأَ كِتَابَهُ وَحِينَ كَتَبَ جَوَابَهُ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَاللَّهِ لَوْلَا أَنْ أَرُدَّهُ عَنْ شَرٍّ يَقَعُ فِيهِ مَا كَتَبْتُ إِلَيْهِ وَلَا نَعْمَةَ عَيْنٍ قَالَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ إِنَّكَ سَأَلْتَنِي عَنْ سَهْمِ ذَوِي الْقُرْبَى الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ هُمْ وَإِنَّا كُنَّا نُرَى قَرَابَةَ رَسُولِ اللَّهِ هُمْ فَأَبَى ذَلِكَ عَلَيْنَا قَوْمُنَا وَسَأَلَهُ عَنْ الْيَتِيمِ مَتَى يَنْقَضِي يُتْمُهُ وَإِنَّهُ إِذَا بَلَغَ النِّكَاحَ وَأُونِسَ مِنْهُ رُشْدٌ دُفِعَ إِلَيْهِ مَالُهُ وَقَدْ انْقَضَى يُتْمُهُ وَسَأَلَهُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْتُلُ مِنْ صِبْيَانِ الْمُشْرِكِينَ أَحَدًا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَقْتُلْ مِنْهُمْ أَحَدًا وَأَنْتَ فَلَا تَقْتُلْ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تَعْلَمُ مَا عَلِمَ الْخَضِرُ مِنْ الْغُلَامِ الَّذِي قَتَلَهُ وَسَأَلَهُ عَنْ الْمَرْأَةِ وَالْعَبْدِ هَلْ كَانَ لَهُمَا سَهْمٌ مَعْلُومٌ إِذَا حَضَرُوا الْبَأْسَ وَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ سَهْمٌ مَعْلُومٌ إِلَّا أَنْ يُحْذَيَا مِنْ غَنَائِمِ الْمُسْلِمِينَ
হজরত ইয়াযীদ বিন হুরমুজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
নাজদাহ বিন আমীর রাদিয়াল্লাহু আনহু হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কিছু প্রশ্ন করে চিঠি লিখেছিলেন। আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি তাঁর চিঠি পড়েছেন এবং যখন তিনি তাঁর উত্তর লিখেছেন। তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি যদি তাকে পাপাচারে পতিত হওয়া থেকে বিরত করতে না চাইতাম, তবে আমি তাকে চিঠি লিখতাম না। তিনি যেনো কখনো সম্মানিত না হন।” তিনি তাকে লিখেছিলেন (বলেছিলেন), “আপনি আত্মীয়দের অংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যাদের আল্লাহ উল্লেখ করেছেন - তারা কারা? আমরা মনে করতাম, যে আত্মীয়দের কথা বলা হয়েছে তারা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আত্মীয়, কিন্তু আমাদের লোকেরা তা অস্বীকার করেছে। আপনি এতিম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং কখন তাকে আর এতিম গণ্য করা হয় না। যখন সে বিবাহের বয়সে পৌঁছে এবং মানসিক পরিপক্কতা অর্জন করে, তখন তার সম্পদ তাকে দেওয়া যেতে পারে এবং তাকে আর এতিম হিসাবে গণ্য করা হয় না। আপনি জিজ্ঞেস করলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি মুশরিকদের কোন শিশুকে হত্যা করেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাউকে হত্যা করেননি। তাই আপনি তাদের কাউকে হত্যা করবেন না, যদি না আপনি তাদের সম্পর্কে জানতে পারেন যে, হযরত খিজীর (আঃ) যে শিশুটিকে হত্যা করেছিলেন, তার সম্পর্কে তিনি কি জানতেন। আপনি নারী এবং ক্রীতদাসদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং যদি তারা যুদ্ধে উপস্থিত থাকে, তবে তাদের গনীমতের কোন অংশ ছিল কিনা? তাদের কোন গনীমতের অংশ দেওয়া হয়নি, তবে তাদেরকে গনীমতের কিছু সম্পদ হাদিয়া হিসেবে দেওয়া হয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৯৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ زَيْدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِالْمَدِينَةِ فِي غَيْرِ خَوْفٍ وَلَا مَطَرٍ قِيلَ لِابْنِ عَبَّاسٍ وَمَا أَرَادَ إِلَى ذَلِكَ قَالَ أَرَادَ أَنْ لَا يُحْرِجَ أُمَّتَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় যোহর ও আছর এবং মাগরিব ও এশার একত্রে পড়লেন। অথচ তখন সেখানে কোনো শত্রুর ভয় বা বৃষ্টি ছিলো না আর তিনি কোনো সফরেও ছিলেন না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করা হলো এর দ্বারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য কী ছিলো? তিনি উত্তরে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য ছিলো তাঁর উম্মত যেনো কোনো কষ্টের মধ্যে না থাকে। [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৯৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَيْتُهُ بِعَرَفَةَ فَوَجَدْتُهُ يَأْكُلُ رُمَّانًا فَقَالَ ادْنُ فَكُلْ لَعَلَّكَ صَائِمٌ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَا يَصُومُهُ وَقَالَ مَرَّةً إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَصُمْ هَذَا الْيَوْمَ
হজরত সাঈদ ইবনু যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আরাফাহ নামক স্থানে উপস্থিত হলাম এবং তাকে একটি ডালিম খেতে দেখলাম। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “এসো খেয়ে নাও, সম্ভবত তুমি রোজা রেখেছো? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা এই দিনে রাখেননি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৯৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ بْنُ بَكْرِ بْنِ خُنَيْسٍ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ حَاصَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهْلَ الطَّائِفِ فَخَرَجَ إِلَيْهِ عَبْدَانِ فَأَعْتَقَهُمَا أَحَدُهُمَا أَبُو بَكْرَةَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْتِقُ الْعَبِيدَ إِذَا خَرَجُوا إِلَيْهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তায়েফের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তায়েফবাসীদের অবরোধ করলেন। তখন তাদের দুজন ক্রীতদাস বেরিয়ে এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এলো। তিনি তাদেরকে মুক্ত করে দেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন আবু বাকরাহ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুশরিকদের সকল দাস-দাসীকে মুক্ত করে দিতেন, যদি তারা তাঁর কাছে তাদের মনিবের আগে মুসলিম হয়ে আসতো। [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৯৭]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَلِيٍّ الْعُقَيْلِيُّ حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مُزَاحِمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ سَافَرَ رَكْعَتَيْنِ وَحِينَ أَقَامَ أَرْبَعًا قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَمَنْ صَلَّى فِي السَّفَرِ أَرْبَعًا كَمَنْ صَلَّى فِي الْحَضَرِ رَكْعَتَيْنِ قَالَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَمْ تُقْصَرْ الصَّلَاةُ إِلَّا مَرَّةً حَيْثُ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ وَصَلَّى النَّاسُ رَكْعَةً رَكْعَةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে দুই রাকাত এবং সফরে না গেলে চার রাকাত নামায পড়তেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যে ব্যক্তি সফরে চার রাকাত নামায পড়ে, সে সেই ব্যক্তির মতো, যে ব্যক্তি সফরে না গিয়ে দুই রাকাত নামায পড়ে।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “নামায কখনোই (দুই রাকাতের চেয়ে) সংক্ষিপ্ত করা হয়নি, তবে একবার যুদ্ধের সময় ভয়ের নামাযে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই রাকাত নামায পড়লেন, তখন দুই দলের প্রত্যেক লোকেরা এক রাকাত নামায পড়লো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৯৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ لَنَا مَثَلُ السُّوءِ الْعَائِدُ فِي هِبَتِهِ كَالْكَلْبِ يَعُودُ فِي قَيْئِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “মন্দ উদাহরণ আমাদের জন্যে নয়। যে ব্যক্তি কাউকে উপহার দেওয়ার পর, তা পুনরায় ফেরত নেয়, তার উদাহরণ হলো ঐ কুকুরের মতো, যে বমি করে আবার চেটে খায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩০৯৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ زَائِدَةَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ سِتَّةَ عَشَرَ شَهْرًا ثُمَّ صُرِفَتْ الْقِبْلَةُ بَعْدُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ বায়তুল-মাকদিসের দিকে মুখ করে ষোল (১৬) মাস সালাত আদায় করেছিলেন, পরে কেবলার দিক পরিবর্তন করা হয়েছিলো। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১০০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَامَ مِنْ اللَّيْلِ فَاسْتَنَّ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ نَامَ ثُمَّ قَامَ فَاسْتَنَّ وَتَوَضَّأَ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى صَلَّى سِتًّا ثُمَّ أَوْتَرَ بِثَلَاثٍ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ
মুহাম্মদ বিন আলী থেকে, তার পিতা থেকে, তার দাদা থেকে থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে উঠে দাঁত পরিষ্কার করলেন, তারপর দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, তারপর ঘুমালেন। অতঃপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন, দাঁত পরিষ্কার করলেন এবং ওযু করলেন, তারপর তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, যতক্ষণ না তিনি ছয় (৬) রাকাত সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি তিন (৩) রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং দুই (২) রাকাত সালাত আদায় করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১০১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهُوَ يُفْتِي النَّاسَ لَا يُسْنِدُ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا مِنْ فُتْيَاهُ حَتَّى جَاءَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَقَالَ إِنِّي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ وَإِنِّي أُصَوِّرُ هَذِهِ التَّصَاوِيرَ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ ادْنُهْ إِمَّا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا فَدَنَا فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ صَوَّرَ صُورَةً فِي الدُّنْيَا يُكَلَّفُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنْ يَنْفُخَ فِيهِ الرُّوحَ وَلَيْسَ بِنَافِخٍ
হজরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
নাদর বিন আনাস বলেছেন, আমি একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে বসে ছিলাম, তিনি লোকদেরকে ফতোয়া দিচ্ছিলেন এবং তিনি তার কোনো ফতোয়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আরোপ করছিলেন না, যতক্ষণ না ইরাকের এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললো, আমি ইরাক থেকে এসেছি এবং আমি ছবি তৈরি করে থাকি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে দুই বা তিনবার বললেন, কাছে এসো। তাই সে আরো কাছে এলো। অতঃপর হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি এই পৃথিবীতে কোন মূর্তি বানায় বা ছবি বানায়, তাকে কিয়ামতের দিন বলা হবে, সে যেনো তাতে রূহ ফুঁকে দেয়, কিন্তু সে এটা করতে পারবে না।” যদি তুমি ছবি তৈরি করা ছাড়া বাঁচতে না পারো, তবে তুমি গাছ বা এমন বস্তুর ছবি তৈরি করো যার আত্মা নেই। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১০২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ قَيْسِ بْنِ حَبْتَرٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ثَمَنِ الْخَمْرِ وَمَهْرِ الْبَغِيِّ وَثَمَنِ الْكَلْبِ وَقَالَ إِذَا جَاءَ صَاحِبُهُ يَطْلُبُ ثَمَنَهُ فَامْلَأْ كَفَّيْهِ تُرَابًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বেশ্যার উপার্জন, কুকুরের মূল্য এবং মদের মূল্য ব্যবহার করা হারাম। যদি কেউ তোমার কাছে কুকুরের দাম চাইতে আসে, তাহলে তার হাতের তালুতে মাটি ভরে দাও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩১০৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ وَعَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ قَيْسِ بْنِ حَبْتَرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْكُمْ الْخَمْرَ وَالْمَيْسِرَ وَالْكُوبَةَ وَقَالَ كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তোমাদের জন্যে মদ, জুয়া, বাদ্য বাজানো এবং প্রত্যেক নেশাদ্রব্য হারাম করেছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩১০৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلَّمَ رَجُلًا فِي شَيْءٍ فَقَالَ إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তির সাথে কিছু কথা বললেন, এরপর বললেন,
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
“নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে। আমরা তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর সাহায্য চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, কেউ তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না এবং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রসূল।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩১০৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ الْعَبْدِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْمُتَوَكِّلِ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ حَدَّثَ أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ اللَّيْلِ فَخَرَجَ فَنَظَرَ فِي السَّمَاءِ ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ الَّتِي فِي آلِ عِمْرَانَ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ حَتَّى بَلَغَ سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى الْبَيْتِ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى ثُمَّ اضْطَجَعَ ثُمَّ رَجَعَ أَيْضًا فَنَظَرَ فِي السَّمَاءِ ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ ثُمَّ رَجَعَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى ثُمَّ اضْطَجَعَ ثُمَّ رَجَعَ أَيْضًا فَنَظَرَ فِي السَّمَاءِ ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ ثُمَّ رَجَعَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট কোন এক রাত কাটালাম। তখন দেখলাম তিনি ঘুম থেকে জেগে উযুর পানি নিয়ে মিসওয়াক করলেন। অতঃপর তিনি নিন্মোক্ত আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেন,
إِنَّ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَٱخۡتِلَٰفِ ٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ لَأٓيَٰتٖ لِّأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ١٩٠
নিশ্চয় নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টির মধ্যে এবং রাত ও দিনের আবর্তনের মধ্যে অবশ্যই জ্ঞানের অধিকারীদের জন্যে নিদর্শন সমূহ রয়েছে। (৩. আল ইমরান : ১৯০)
ٱلَّذِينَ يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمۡ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ هَٰذَا بَٰطِلٗا سُبۡحَٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ١٩١
জ্ঞানের অধিকারীরা হচ্ছে তারা, যারা আল্লাহকে দাঁড়ানো, বসা ও তাদের পার্শ্বের উপরে শায়িত অবস্থায় স্মরণ করে আর নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টির বিষয়ে গভীর চিন্তা করে। তারা বলে যে, “হে আমাদের প্রভু! এসব আপনি বৃথা সৃষ্টি করেননি, আপনারই সব পবিত্রতা। সুতরাং আপনি আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। (৩. আল ইমরান : ১৯১)
তিনি সূরাটি প্রায় শেষ পর্যন্ত পড়লেন অথবা শেষ করলেন। এরপর তিনি উযু করে জায়নামাযে গিয়ে দুই রাকআত সলাত আদায় করে বিছানায় গেলেন এবং আল্লাহ যতক্ষণ চাইলেন ততক্ষণ ঘুমিয়ে পুনরায় জাগলেন। এরপর পূর্বের ন্যায় ঐ কাজগুলো করে আবারো বিছানায় গিয়ে ঘুমালেন। অতঃপর জেগে উঠে আবার আগের মতো করলেন। তারপর বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে আবার জাগলেন ও আগের মতো করলেন। প্রত্যেকবারই তিনি (ঘুম থেকে জেগে) মিসওয়াক ও দুই রাকআত সলাত আদায় করলেন। অতঃপর (সর্বশেষে) বিতর সলাত পড়লেন। সলাত শেষে শুয়ে পড়লেন। পুনরায় কিছুক্ষন পরে উঠে বাইরে গেলেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে উক্ত আয়াতটি পাঠ করলেন। অতঃপর ফিরে এসে আবার মিসওয়াক করে ওযূ করলেন; অতঃপর ফাজরের সলাত আদায় করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১০৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُ عَلَيْكُمْ رَجُلٌ يَنْظُرُ بِعَيْنِ شَيْطَانٍ أَوْ بِعَيْنَيْ شَيْطَانٍ قَالَ فَدَخَلَ رَجُلٌ أَزْرَقُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ عَلَامَ سَبَبْتَنِي أَوْ شَتَمْتَنِي أَوْ نَحْوَ هَذَا قَالَ وَجَعَلَ يَحْلِفُ قَالَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي الْمُجَادَلَةِ وَيَحْلِفُونَ عَلَى الْكَذِبِ وَهُمْ يَعْلَمُونَ وَالْآيَةُ الْأُخْرَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের কাছে এমন এক ব্যক্তি আসবে যে শয়তানের দুই চোখ দিয়ে দেখে।” কিছুক্ষণ পর নীলবর্ণের এক ব্যক্তি এসে বললো, “হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কেনো আমাকে গালি দিলেন বা আপনি কেনো আমাকে অপমান করলেন?” সে শপথ করে ঐ কথাগুলো বলতে লাগলো, তখন এই ঝগড়ার ব্যাপারে এই আয়াত নাযিল হলো,
۞أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ تَوَلَّوۡاْ قَوۡمًا غَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِم مَّا هُم مِّنكُمۡ وَلَا مِنۡهُمۡ وَيَحۡلِفُونَ عَلَى ٱلۡكَذِبِ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ١٤
আপনি কি দ্বিমুখীদের প্রতি লক্ষ্য করেননি, যারা এমন এক জাতির সাথে বন্ধুত্ব করে, যে ইহুদীদের উপরে আল্লাহ রাগান্নিত হয়েছেন? দ্বিমুখীরা তোমাদের মুসলমানদের দলভুক্ত নয় আর ঐ ইহুদীদেরও দলভূক্ত নয়। আর তারা জেনে-শুনে মিথ্যা বিষয়ের উপর শপথ করে। [৫৮ : ১৪] [মুসনাদে আহমাদ : ৩১০৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ قَالَ أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ فَلَمْ نَسْمَعْ مِنْهُ حَرْفًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্যগ্রহণের সালাত আদায় করেছিলেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তেলাওয়াত করার সময়, আমরা তাঁর কাছ থেকে উচ্চস্বরে কুরআনের একটি অক্ষরও শুনতে পাইনি। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১০৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هَاشِمٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ حَتَّى أَتَى قُدَيْدًا فَأُتِيَ بِقَدَحٍ مِنْ لَبَنٍ فَأَفْطَرَ وَأَمَرَ النَّاسَ أَنْ يُفْطِرُوا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন কুদাইদে না আসা পর্যন্ত রোযা রেখেছিলেন। তার কাছে একটি দুধের পাত্র আনা হলো এবং তিনি তার রোজা ভঙ্গ করলেন এবং লোকদেরকে রোজা ভাঙার নির্দেশ দিলেন। (পরে এই রোজাটি কাযা আদায় করেছিলেন।) [মুসনাদে আহমাদ : ৩১০৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُؤَمَّلِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ وَظَهْرُهُ إِلَى الْمُلْتَزَمِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হারাম শরীফে খুতবা দিলেন, সেই সময় তাঁর পিঠ মুলতাযামের দিকে ছিলো। (মুলতাযাম হলো কাবা ঘরের কালো পাথর ও দরজার মধ্যবর্তী অংশ।) [মুসনাদে আহমাদ : ৩১১০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَوْبَانَ قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ دِينَارٍ يَقُولُ أَخْبَرَنِي مَنْ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الدِّينُ النَّصِيحَةُ قَالُوا لِمَنْ قَالَ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُؤْمِنِينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “দ্বীন হলো আন্তরিকতা (নসীহা)।” আমরা বললাম, “কার জন্যে আন্তরিকতা?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর জন্যে, তাঁর রসূলের জন্যে এবং মুমিনদের নেতাদের জন্যে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩১১১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ قَالَ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ صَائِمٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইহরাম ও রোযা অবস্থায় থাকতেন, তখনও তিনি শিঙ্গা লাগাতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১১২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ نَكَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ الْهِلَالِيَّةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার খালা হযরত মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইহরাম অবস্থায় বিয়ে করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১১৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ خَالِدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَعْطَاهُ أَجْرَهُ وَلَوْ كَانَ حَرَامًا مَا أَعْطَاهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিঙ্গা লাগিয়ে শ্রমিককে তার মজুরি দিয়েছিলেন, যদি এই মজুরি হারাম হতো, তাহলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তা দিতেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১১৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ مَطَرٍ عَنْ عَطَاءٍ أَنَّ ابْنَ الزُّبَيْرِ صَلَّى الْمَغْرِبَ فَسَلَّمَ فِي رَكْعَتَيْنِ وَنَهَضَ لِيَسْتَلِمَ الْحَجَرَ فَسَبَّحَ الْقَوْمُ فَقَالَ مَا شَأْنُكُمْ قَالَ فَصَلَّى مَا بَقِيَ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ قَالَ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ مَا أَمَاطَ عَنْ سُنَّةِ نَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হজরত আতা ইবনে আবী রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু মাগরিবের সালাত আদায় করলেন এবং দুই রাকাত পড়ার পর সালাম দিলেন, এবং তিনি কালো পাথর স্পর্শ করার জন্যে উঠে দাঁড়ালেন। লোকেরা সুবহানাল্লাহ বললো। তিনি বললেন, “তোমাদের কি হয়েছে?” (অতঃপর তিনি নিজে থেকে বুঝতে পারলেন এবং ফিরে এসে) তিনি বাকী সালাত আদায় করলেন এবং শেষে দুটি সাহু সিজদা করলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এটি উল্লেখ করা হয়েছিলো এবং তিনি বললেন, “হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু কখনও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাননি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩১১৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ عَنْ زَمْعَةَ عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ وَأَعْطَى الْحَجَّامَ أَجْرَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন এবং তিনি শিঙ্গা লাগানোকারীকে তার পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১১৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى ضُبَاعَةَ بِنْتِ الزُّبَيْرِ فَأَكَلَ عِنْدَهَا كَتِفًا مِنْ لَحْمٍ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ وَلَمْ يُحْدِثْ وُضُوءًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাবাআ বিনতে আয-যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনি রান্না করা ভেড়ার কাঁধের গোশত খেয়ে নিলেন এবং তিনি নামাযের জন্য বের হলেন। অথচো তিনি নতুন করে ওযু করলেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ৩১১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ عَنِ الْحَجَّاجِ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَسَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمَعَ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ فِي السَّفَرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করতেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ৩১১৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ لَا يَرَى أَنْ يَنْزِلَ الْأَبْطَحَ وَيَقُولُ إِنَّمَا قَامَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى عَائِشَةَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু মনে করতেন না যে, আল-আবতাহ-এ থামতে হবে। এবং তিনি বলতেন যে, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল মাত্র এখানে হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্যে অপেক্ষা করার জন্যেই থেমেছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩১১৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْنَبَ ابْنَتَهُ عَلَى زَوْجِهَا أَبِي الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيعِ بِالنِّكَاحِ الْأَوَّلِ وَلَمْ يُحْدِثْ شَيْئًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কন্যা হজরত জয়নব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার স্বামী আবু আল-আস বিন আল-রাবির কাছে (তার ইসলাম গ্রহণের কারণে) তাদের প্রথম বিবাহের চুক্তির ভিত্তিতে পুনরায় ফেরত পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি তাদেরকে পুনরায় নতুন বিবাহ দেননি।
[মুসনাদে আহমাদ : ৩১২০]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস