হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট কোন এক রাত কাটালাম। তখন দেখলাম তিনি ঘুম থেকে জেগে উযুর পানি নিয়ে মিসওয়াক করলেন। অতঃপর তিনি নিন্মোক্ত আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেন,
إِنَّ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَٱخۡتِلَٰفِ ٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ لَأٓيَٰتٖ لِّأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ١٩٠
নিশ্চয় নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টির মধ্যে এবং রাত ও দিনের আবর্তনের মধ্যে অবশ্যই জ্ঞানের অধিকারীদের জন্যে নিদর্শন সমূহ রয়েছে। (৩. আল ইমরান : ১৯০)
ٱلَّذِينَ يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمۡ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ هَٰذَا بَٰطِلٗا سُبۡحَٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ١٩١
জ্ঞানের অধিকারীরা হচ্ছে তারা, যারা আল্লাহকে দাঁড়ানো, বসা ও তাদের পার্শ্বের উপরে শায়িত অবস্থায় স্মরণ করে আর নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টির বিষয়ে গভীর চিন্তা করে। তারা বলে যে, “হে আমাদের প্রভু! এসব আপনি বৃথা সৃষ্টি করেননি, আপনারই সব পবিত্রতা। সুতরাং আপনি আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। (৩. আল ইমরান : ১৯১)
তিনি সূরাটি প্রায় শেষ পর্যন্ত পড়লেন অথবা শেষ করলেন। এরপর তিনি উযু করে জায়নামাযে গিয়ে দুই রাকআত সলাত আদায় করে বিছানায় গেলেন এবং আল্লাহ যতক্ষণ চাইলেন ততক্ষণ ঘুমিয়ে পুনরায় জাগলেন। এরপর পূর্বের ন্যায় ঐ কাজগুলো করে আবারো বিছানায় গিয়ে ঘুমালেন। অতঃপর জেগে উঠে আবার আগের মতো করলেন। তারপর বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে আবার জাগলেন ও আগের মতো করলেন। প্রত্যেকবারই তিনি (ঘুম থেকে জেগে) মিসওয়াক ও দুই রাকআত সলাত আদায় করলেন। অতঃপর (সর্বশেষে) বিতর সলাত পড়লেন। সলাত শেষে শুয়ে পড়লেন। পুনরায় কিছুক্ষন পরে উঠে বাইরে গেলেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে উক্ত আয়াতটি পাঠ করলেন। অতঃপর ফিরে এসে আবার মিসওয়াক করে ওযূ করলেন; অতঃপর ফাজরের সলাত আদায় করলেন।