
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَاعَنَ بَيْنَ الْعَجْلَانِيِّ وَامْرَأَتِهِ قَالَ وَكَانَتْ حُبْلَى فَقَالَ وَاللَّهِ مَا قَرَبْتُهَا مُنْذُ عَفَرْنَا وَالْعَفْرُ أَنْ يُسْقَى النَّخْلُ بَعْدَ أَنْ يُتْرَكَ مِنْ السَّقْيِ بَعْدَ الْإِبَارِ بِشَهْرَيْنِ قَالَ وَكَانَ زَوْجُهَا حَمْشَ السَّاقَيْنِ وَالذِّرَاعَيْنِ أَصْهَبَ الشَّعَرَةِ وَكَانَ الَّذِي رُمِيَتْ بِهِ ابْنَ السَّحْمَاءِ قَالَ فَوَلَدَتْ غُلَامًا أَسْوَدَ أَجْلَى جَعْدًا عَبْلَ الذِّرَاعَيْنِ قَالَ فَقَالَ ابْنُ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ لِابْنِ عَبَّاسٍ أَهِيَ الْمَرْأَةُ الَّتِي قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ كُنْتُ رَاجِمًا بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ لَرَجَمْتُهَا قَالَ لَا تِلْكَ امْرَأَةٌ قَدْ أَعْلَنَتْ فِي الْإِسْلَامِ حَدَّثَنَا سُرَيْجٌ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ وَقَالَ فِيهِ عَبْلَ الذِّرَاعَيْنِ خَدْلَ السَّاقَيْنِ وَقَالَ الْهَاشِمِيُّ خَدْلٌ وَقَالَ بَعْدَ الْإِبَارِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আল-আজলানীর স্ত্রী গর্ভবতী ছিলো। আল-আজলানী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললো, “হে আল্লাহর রসূল, আল্লাহর কসম! খেজুর গাছে পানি দেওয়ার পর থেকে আমি আমার স্ত্রীর কাছে আসিনি। আর আমি আমার স্ত্রীর সাথে একজন লোককে পেলাম।” খেজুর গাছকে পানি দেওয়া মানে যখন সেগুলো পরাগায়ন করা হয় এবং চল্লিশ দিন রেখে দেওয়া হয় এবং পরাগায়নের পর পানি দেওয়া হয়নি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আল্লাহ আমাদেরকে পথ দেখাও।” এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল-আজলানী ও তার স্ত্রীকে লিয়ানে লিপ্ত হওয়ার নির্দেশ দিলেন। আল-আজলানীর পাতলা পা ও বাহু এবং লালচে চুল ছিলো এবং যার বিরুদ্ধে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিলো, সে ছিলো ইবনে আস-সাহমা। আল-আজলানীর স্ত্রী কালো চামড়া, উচু কপাল, কোঁকড়া চুল এবং নিটোল বাহু বিশিষ্ট একটি ছেলের জন্ম দিয়েছিলো। ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আল-হাদ, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন, “তিনি কি সেই মহিলা ছিলেন, যার সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি যদি প্রমাণ ছাড়া কাউকে পাথর মারতাম, তবে আমি তাকে পাথর মেরে ফেলতাম’?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “না। সে অন্য একজন মহিলা ছিলো, যে ইসলামের সময় অনৈতিকতার জন্যে পরিচিত ছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৪১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِكٍ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَلَ كَتِفًا ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভেড়ার গোশত খেয়েছিলেন, তারপর তিনি নতুন করে অযু না করে, পূর্বের অযু দ্বারা সালাত আদায় করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৪২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


হাদিস নং ১৮১৯ দেখুন
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْبُسْرِ وَالتَّمْرِ أَنْ يُخْلَطَا جَمِيعًا وَعَنْ الزَّبِيبِ وَالتَّمْرِ أَنْ يُخْلَطَا جَمِيعًا قَالَ وَكَتَبَ إِلَى أَهْلِ جُرَشٍ أَنْ لَا يَخْلِطُوا الزَّبِيبَ وَالتَّمْرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাজা খেজুর ও শুকনো খেজুর মিশিয়ে এবং কিসমিস ও শুকনো খেজুর মিশিয়ে নাবীজ হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি জুরাশের লোকদেরকে (চিঠিতে) লিখেছিলেন, “কিসমিস এবং শুকনো খেজুর মিশিয়ে নাবীজ হিসেবে ব্যবহার করবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ سَمِعْتُ يُونُسَ يُحَدِّثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا حَضَرَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَفَاةُ قَالَ هَلُمَّ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ وَفِي الْبَيْتِ رِجَالٌ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ عُمَرُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ غَلَبَهُ الْوَجَعُ وَعِنْدَكُمْ الْقُرْآنُ حَسْبُنَا كِتَابُ اللَّهِ قَالَ فَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْبَيْتِ فَاخْتَصَمُوا فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ يَكْتُبُ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ قَالَ قَرِّبُوا يَكْتُبْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ مَا قَالَ عُمَرُ فَلَمَّا أَكْثَرُوا اللَّغَطَ وَالِاخْتِلَافَ وَغُمَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قُومُوا عَنِّي فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ إِنَّ الرَّزِيَّةَ كُلَّ الرَّزِيَّةِ مَا حَالَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ أَنْ يَكْتُبَ لَهُمْ ذَلِكَ الْكِتَابَ مِنْ اخْتِلَافِهِمْ وَلَغَطِهِمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার আমার কাছে লেখার জন্যে কিছু নিয়ে এসো। আমি তোমাদের জন্যে এমন কিছু লিখবো, যাতে আমি চলে যাওয়ার পর তোমরা বিপথগামী না হও।” সে সময় বাড়িতে অনেক লোক ছিলো, যাদের মধ্যে হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও ছিলেন। হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন যে, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রচণ্ড ব্যথায় কাবু হয়েছে এবং আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব পবিত্র কুরআন আছে, যা আমাদের জন্যে যথেষ্ট।” কিন্তু তারা এ বিষয়ে তর্ক করেছিলো এবং মতবিরোধ দেখা দিলো, যদিও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতিতে তা উপযুক্ত ছিলো না। তারা বললো, তাঁর কি হলো? তিনি কি প্রলাপ করছেন? তাঁর কাছ থেকে পুনরায় জানার চেষ্টা করুন, তাঁর উদ্দেশ্য কি? তাই তারা তাঁর কাছে এটি পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন, কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এখন তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও। আমি এখন যে অবস্থায় আছি তা, তোমরা আমাকে যা করাতে চাও তার চেয়ে উত্তম।” দুর্ভাগ্য আমাদের! জনগণের মতানৈক্য ও কোলাহলের কারণে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লেখা বাধাগ্রস্ত হয়। হযরত সাঈদ বিন জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করলেন, “(১) তোমরা মুশরিকদেরকে আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দাও এবং (২) তোমরা আগন্তক প্রতিনিধিদেরকে সেইভাবে সম্মান করো, যেভাবে আমি তাদেরকে সম্মান করতাম।” এবং তৃতীয় বিষয়ে সাঈদ বিন জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু নীরব থাকলেন অথবা তিনি ভুলে গেছেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ২৯৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ فَرَأَى الْيَهُودَ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي تَصُومُونَ قَالُوا هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ هَذَا يَوْمٌ نَجَّى اللَّهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ قَالَ فَصَامَهُ مُوسَى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ قَالَ فَصَامَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَمَرَ بِصَوْمِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় এসে ইহুদীদেরকে আশুরার দিনে রোযা রাখতে দেখলেন। তিনি তাদেরকে বললেন যে, “এটি এমন কোন দিন, যেদিন তোমরা রোযা রাখো?” তারা বললো, “এটি একটি উত্তম দিন। যে দিন আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তাই এই দিনে হজরত মূসা (আঃ) রোজা রেখেছিলেন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি তোমাদের চেয়ে হজরত মূসা (আঃ)-এর নিকটবর্তী হওয়ার অধিক হকদার।” অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেদিন রোযা রাখলেন এবং সাহবীদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৪৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي الْمُطَّلِبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ كَانَ يَتَوَضَّأُ مَرَّةً مَرَّةً وَيُسْنِدُ ذَاكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আল-মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হানতাব থেকে বর্ণিতঃ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু অযু করার সময় প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একবার করে ধৌত করতেন এবং তিনি বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এরূপ করতে দেখেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৪৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي حُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَدَاوُدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ يَزِيدُ أَحَدُهُمَا عَلَى صَاحِبِهِ أَنَّ رَجُلًا نَادَى ابْنَ عَبَّاسٍ وَالنَّاسُ حَوْلَهُ فَقَالَ أَسُنَّةً تَبْتَغُونَ بِهَذَا النَّبِيذِ أَمْ هُوَ أَهْوَنُ عَلَيْكُمْ مِنْ اللَّبَنِ وَالْعَسَلِ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبَّاسًا فَقَالَ اسْقُونَا فَقَالَ إِنَّ هَذَا النَّبِيذَ شَرَابٌ قَدْ مُغِثَ وَمُرِثَ أَفَلَا نَسْقِيكَ لَبَنًا أَوْ عَسَلًا قَالَ اسْقُونَا مِمَّا تَسْقُونَ مِنْهُ النَّاسَ فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ أَصْحَابُهُ مِنْ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ بِسِقَاءَيْنِ فِيهِمَا النَّبِيذُ فَلَمَّا شَرِبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَجِلَ قَبْلَ أَنْ يَرْوَى فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ أَحْسَنْتُمْ هَكَذَا فَاصْنَعُوا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَرِضَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَلِكَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ تَسِيلَ شِعَابُهَا لَبَنًا وَعَسَلًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসকে ডেকে বললো, যখন তার আশেপাশে লোকজন ছিলো, “আপনি কি এই নাবীজ সম্পর্কে সুন্নাহ অনুসরণ করছেন, নাকি দুধ ও মধুর চেয়েও আপনার জন্যে নাবীজ সংগ্রহ করা সহজ?” ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কাছে এসে বললেন, “আমাদেরকে পান করার জন্যে কিছু দাও।” তিনি বললেন, “এই নাবীজ এমন একটি জিনিস, যা ভিজিয়ে রাখা হয়েছিলো, আমরা কি আপনাকে নাবীজ দিবো নাকি দুধ বা মধু দিবো?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি আমাদেরকে তাই দাও, যা তুমি অন্যদেরকে দাও।” অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নাবীজ ভরা দুটি চামড়ার পাত্র আনা হলো, তাঁর সাথে মুহাজির ও আনসারগণও ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন পান করলেন, তখন তৃষ্ণা নিবারণের আগেই, পান করা বন্ধ করে দিলেন। তিনি মাথা তুলে বললেন, “তুমি খুব ভালো করেছো এপং ভবিষ্যতেও তোমার এমনি করা উচিত।” ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “এই পাহাড়ি গিরি পথ গুলোকে দুধ ও মধু প্রবাহিত হওয়া দেখার চেয়ে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপদেশ আমার কাছে অধিক প্রিয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৪৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ إِذَا لَمْ يَجِدْ الْمُحْرِمُ إِزَارًا فَلْيَلْبَسْ السَّرَاوِيلَ وَإِذَا لَمْ يَجِدْ النَّعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ الْخُفَّيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার খুতবা দেওয়ার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “যদি মুহরিম ইজার (কোমর মোড়ানো) না পায়, তবে তার প্যান্ট পরা উচিত এবং যদি সে স্যান্ডেল না পায় তবে তার চামড়ার মোজা পরা উচিত।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৪৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ عَمْرٌو قَالَ أَبُو الشَّعْثَاءِ مَنْ هِيَ قَالَ قُلْتُ يَقُولُونَ مَيْمُونَةُ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكَحَ مَيْمُونَةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মায়মুনা বিনতে আল হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বিয়ে করেছিলেন, যখন তারা উভয়েই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৫০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ طَاوُسًا وَعِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يُخْبِرَانِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ جَاءَتْ ضُبَاعَةُ بِنْتُ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ إِنِّي امْرَأَةٌ ثَقِيلَةٌ وَإِنِّي أُرِيدُ الْحَجَّ فَكَيْفَ تَأْمُرُنِي كَيْفَ أُهِلُّ قَالَ أَهِلِّي وَاشْتَرِطِي أَنَّ مَحِلِّي حَيْثُ حَبَسْتَنِي قَالَ فَأَدْرَكَتْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার জাবাআ বিনতে জুবায়ের ইবনে আবদুল মুত্তালিব রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি একজন ভারী মহিলা (হাঁটা আমার জন্য কঠিন) কিন্তু আমি হজ্জ করতে চাই। আমি কিভাবে ইহরাম বাঁধবো?” রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি ইহরামে প্রবেশ করো এবং শর্ত করো যে, হে আল্লাহ! আমি সেখানেই হালাল হয়ে যাবো, যেখানে আপনি আমার চলার পথ থামিয়ে দিবেন।” ফলে এভাবে ঐ মহিলা হজ করতে সক্ষম হয়েছিলো। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৫১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَوَكِيعٌ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ يُحَدِّثُ بَعْدَمَا كَبِرَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَائِرَاتِ الْقُبُورِ وَالْمُتَّخِذِينَ عَلَيْهَا الْمَسَاجِدَ وَالسُّرُجَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবর যিয়ারতকারী মহিলাদেরকে (যারা অবৈধ কাজ করে), যারা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করে এবং যারা কবরের ওপর প্রদীপ জ্বালায়, তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ২৯৫২]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


قَالَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ قَالَ أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ عَنْ مُوسَى بْنِ سَلَمَةَ أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ الصَّلَاةِ بِالْبَطْحَاءِ إِذَا لَمْ يُدْرِكْ الصَّلَاةَ مَعَ الْإِمَامِ قَالَ رَكْعَتَانِ سُنَّةَ أَبِي الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হজরত মূসা বিন সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, “আপনি যখন মসজিদে জামাতে নামায পড়তে সক্ষম নন এবং আপনি মুসাফির, তখন আপনি কত রাকাত নামায পড়বেন?” তিনি বললেন, “দুই রাকাত, কারণ এটি আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৫৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَجْنَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَيْمُونَةُ فَاغْتَسَلَتْ مَيْمُونَةُ فِي جَفْنَةٍ وَفَضَلَتْ فَضْلَةٌ فَأَرَادَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَغْتَسِلَ مِنْهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ اغْتَسَلْتُ مِنْهُ فَقَالَ يَعْنِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْمَاءَ لَيْسَتْ عَلَيْهِ جَنَابَةٌ أَوْ قَالَ إِنَّ الْمَاءَ لَا يَنْجُسُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী হযরত মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহু জানাবাতের জন্যে গোসল করেছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করতে চাইলে, হযরত মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আমি এটি দিয়ে গোসল করেছি।” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “কোনো কিছুই পানিকে অপবিত্র করে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৫৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنِ الْفُضَيْلِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ أُرَاهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ تَمَتَّعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ نَهَى أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ عَنْ الْمُتْعَةِ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مَا يَقُولُ عُرَيَّةُ قَالَ يَقُولُ نَهَى أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ عَنْ الْمُتْعَةِ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أُرَاهُمْ سَيَهْلِكُونَ أَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَقُولُ نَهَى أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজ্জের সাথে ওমরাহ যোগ করেছেন। উরওয়াহ বিন আয-যুবাইর বললেন, “হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হজ্জের সাথে ওমরাহ যোগ করতে নিষেধ করেছেন।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “উরওয়াহ বিন আয-যুবাইর কি বলছে?” লোকেরা বললো, “সে বলছে যে, হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হজ্জের সাথে ওমরাহ যোগ করতে নিষেধ করেছেন।” ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমি মনে করি সে ধ্বংস হয়ে যাবে! আমি বলছি, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন আর সে বলছে, হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৫৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنِي يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ أَخْبَرَنَا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ التَّمِيمِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ بِالسِّوَاكِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَوْ حَسِبْتُ أَنْ سَيَنْزِلُ فِيهِ قُرْآنٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাকে এতো বেশি মেসওয়াক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো যে, আমি ভয় করতে লাগলাম যে, আমার ওপর (মেসওয়াক করার ব্যাপারে ) কুরআনের একটি আয়াত নাজিল হবে। (আর তখন আমার উম্মত এই আদেশ পালন করতে পারবে না)।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৫৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَرِبَ لَبَنًا فَمَضْمَضَ وَقَالَ إِنَّ لَهُ دَسَمًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার দুধ পান করলেন এবং মুখ ধুয়ে ফেলার পর বললেন যে, “দুধে চর্বি রয়েছে (দুধ কিছুটা চর্বিযুক্ত)।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৫৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي يَعْلَى بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ نَزَلَتْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُذَافَةَ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَدِيٍّ السَّهْمِيِّ إِذْ بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي السَّرِيَّةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ وَأُوْلِي ٱلۡأَمۡرِ مِنكُمۡۖ فَإِن تَنَٰزَعۡتُمۡ فِي شَيۡءٖ فَرُدُّوهُ إِلَى ٱللَّهِ وَٱلرَّسُولِ إِن كُنتُمۡ تُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ ذَٰلِكَ خَيۡرٞ وَأَحۡسَنُ تَأۡوِيلًا٥٩
ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! তোমরা আল্লাহ ও রসূলকে অনুসরণ করো। আর তোমাদের মধ্যে যারা আদেশ দেবার অধিকারী, এমন শাসকদেরকে তোমরা অনুসরণ করো। তারপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে মতভেদ করো ও তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকলে, তোমরা তা আল্লাহ ও রসূলের উপরে ন্যস্ত করো। এটিই হচ্ছে উত্তম পন্থা ও পরিণামের দিক থেকেও শুভ। (৪. আন নিসা : ৫৯)
এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফাহ ইবনু ক্বায়স ইবনু আদী সম্পর্কে, যখন তাঁকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি সৈন্য দলের দলনায়ক করে প্রেরণ করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৫৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ الْمُفَصَّلَ هُوَ الْمُحْكَمُ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا ابْنُ عَشْرِ سِنِينَ وَقَدْ قَرَأْتُ الْمُحْكَمَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যে সূরা গুলোকে তোমরা আল-মুফাস্সাল বলো, সেগুলো আসলে আল-মুহকাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন আমার বয়স ছিলো দশ বছর এবং ততক্ষণে আমি আল-মুহকাম সূরা গুলোকে শিখেছিলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৫৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ وَهُوَ التُّسْتَرِيُّ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ نُبِّئْتُ أَنَّ جِنَازَةً مَرَّتْ عَلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فَقَامَ الْحَسَنُ وَقَعَدَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فَقَالَ الْحَسَنُ لِابْنِ عَبَّاسٍ أَلَمْ تَرَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّتْ بِهِ جِنَازَةٌ فَقَامَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ بَلَى وَقَدْ جَلَسَ فَلَمْ يُنْكِرْ الْحَسَنُ مَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا
হযরত ইবনু সিরীন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি জানতে পেরেছি যে, একবার হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সামনে একটি জানাজা যাচ্ছিলো, হযরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু উঠে দাঁড়ালেন এবং হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বসে রইলেন। হযরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি কি জানো না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানাজা দেখলে মাঝে মাঝে দাঁড়াতেন?” হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হ্যাঁ জানি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও কখনও বসেও থাকতেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৬০]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَأْذَنُ لِأَهْلِ بَدْرٍ وَيَأْذَنُ لِي مَعَهُمْ فَقَالَ بَعْضُهُمْ يَأْذَنُ لِهَذَا الْفَتَى مَعَنَا وَمِنْ أَبْنَائِنَا مَنْ هُوَ مِثْلُهُ فَقَالَ عُمَرُ إِنَّهُ مَنْ قَدْ عَلِمْتُمْ قَالَ فَأَذِنَ لَهُمْ ذَاتَ يَوْمٍ وَأَذِنَ لِي مَعَهُمْ فَسَأَلَهُمْ عَنْ هَذِهِ السُّورَةِ إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ فَقَالُوا أَمَرَ نَبِيَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فُتِحَ عَلَيْهِ أَنْ يَسْتَغْفِرَهُ وَيَتُوبَ إِلَيْهِ فَقَالَ لِي مَا تَقُولُ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ قُلْتُ لَيْسَتْ كَذَلِكَ وَلَكِنَّهُ أَخْبَرَ نَبِيَّهُ عَلَيْهِ الصَّلَاة وَالسَّلَامُ بِحُضُورِ أَجَلِهِ فَقَالَ إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ فَتْحُ مَكَّةَ وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا فَذَلِكَ عَلَامَةُ مَوْتِكَ فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا فَقَالَ لَهُمْ كَيْفَ تَلُومُونِي عَلَى مَا تَرَوْنَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বদর যুদ্ধে যোগদানকারী প্রবীণ সহাবীদের সঙ্গে আমাকেও শামিল করতেন। এ কারণে কারো কারো মনে প্রশ্ন দেখা দিলো। একজন বললেন, “আপনি তাকে আমাদের সঙ্গে কেনো শামিল করছেন। আমাদের তো তার মতো সন্তানই রয়েছে।” হজরত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “এর কারণ তো আপনারাও অবগত আছেন।” সুতরাং একদিন তিনি আমাকে ডাকলেন এবং তাঁদের সঙ্গে বসালেন। আমি বুঝতে পারলাম, আজকে তিনি আমাকে ডেকেছেন এজন্যে যে, তিনি আমার প্রজ্ঞা তাঁদেরকে দেখাবেন। হজরত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে বললেন, “আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা সম্পর্কে আপনারা কী বলেন?”
إِذَا جَآءَ نَصۡرُ ٱللَّهِ وَٱلۡفَتۡحُ١
যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে (১১০. আন নছর : ১)
তখন তাঁদের কেউ বললেন, “আমরা আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্ত হলে এবং আমরা বিজয় লাভ করলে, এ আয়াতে আমাদেরকে আল্লাহর প্রশংসা এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্যে আদেশ করা হয়েছে।” আবার কেউ কিছু না বলে চুপ করে থাকলেন। এরপর হজরত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেন, “হে ইবনু আব্বাস! তুমিও কি তাই বলো?” আমি বললাম, “না।” হজরত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তাহলে তুমি কী চলতে চাও?” উত্তরে আমি বললাম, “এ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর ইন্তিকালের সংবাদ জানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসলে’ এটিই হবে আপনার মৃত্যুর নিদর্শন।”
فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّكَ وَٱسۡتَغۡفِرۡهُۚ إِنَّهُۥ كَانَ تَوَّابَۢا٣
তখন আপনি আপনার প্রভুর প্রশংসার সহিত পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাশীল। (১১০. আন নছর : ৩)
এ কথা শুনে হজরত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি যা বলছো, এ আয়াতের ব্যাখ্যা আমিও তাই জানি।” হজরত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু লোকদেরকে বললেন, “তোমরা কি নিজেদের চোখে এখন ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখতে পাচ্ছো না, অথচ তোমরা কীভাবে আমাকে দোষ দিতে পারো (এই ছেলেটিকে আমাদের সাথে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে)?” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৬১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنِ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ أَهَلَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَجِّ فَلَمَّا قَدِمَ طَافَ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَلَمْ يُقَصِّرْ وَلَمْ يُحِلَّ مِنْ أَجْلِ الْهَدْيِ وَأَمَرَ مَنْ لَمْ يَكُنْ سَاقَ الْهَدْيَ أَنْ يَطُوفَ وَأَنْ يَسْعَى وَيُقَصِّرَ أَوْ يَحْلِقَ ثُمَّ يُحِلَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজ্জের নিয়তে ইহরাম বেঁধে মক্কায় পৌঁছে কাবা গৃহ প্রদক্ষিণ করেন, সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী করেন। কিন্তু তিনি চুল কাটেননি বা ইহরাম খুলে হালাল হননি, কারণ তাঁর সাথে কুরবানীর পশু ছিলো। যারা তাদের সাথে কুরবানীর পশু নিয়ে আসেনি, তাদেরকে তিনি কাবা গৃহের প্রদক্ষিণ করতে এবং সাফা ও আল মারওয়ার মধ্যে সায়ী করতে এবং তাদের চুল কাটতে বা মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম খুলে হালাল হতে বলেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৬২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ عَنْ رَجُلٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ أَيُّ الشَّرَابِ أَطْيَبُ قَالَ الْحُلْوُ الْبَارِدُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, “কোন পানীয়টি সর্বোত্তম?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যে পানীয়টি মিষ্টি এবং ঠান্ডা।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৬৩]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا هَاشِمٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً مِنْ اللَّيْلِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে ১৩ রাকাত নামায পড়তেন (৮ রাকাত তাহাজ্জুদ, ৩ রাকাত বিতর এবং ২ রাকাত ফজরের সুন্নত)। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ فَاخْتَبَأْتُ مِنْهُ خَلْفَ بَابٍ فَدَعَانِي فَحَطَأَنِي حَطْأَةً ثُمَّ بَعَثَ بِي إِلَى مُعَاوِيَةَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি সেই সময় শিশুদের সঙ্গে খেলছিলাম। আমি একটি দরজার পিছনে গিয়ে লুকিয়ে পড়লাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ডাকলেন এবং আমার কাঁধে মৃদু আঘাত করলেন। তারপর তিনি আমাকে হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে পাঠালেন। তারপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ফিরে এসে বললাম, “হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু খাবার খাচ্ছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৬৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أُهْدِيَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَجُزُ حِمَارٍ أَوْ قَالَ رِجْلُ حِمَارٍ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَرَدَّهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ভুনা করা একটি গাধার পা হাদিয়া দেওয়া হলে, তিনি তা ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, আমরা ইহরাম আবস্থায় আছি। [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৬৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ قَالَ مَرَرْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ فِي طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَإِذَا فِتْيَةٌ قَدْ نَصَبُوا دَجَاجَةً يَرْمُونَهَا لَهُمْ كُلُّ خَاطِئَةٍ قَالَ فَغَضِبَ وَقَالَ مَنْ فَعَلَ هَذَا قَالَ فَتَفَرَّقُوا فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يُمَثِّلُ بِالْحَيَوَانِ
হজরত সাঈদ বিন যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি, ইবনে ওমর ও ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু মদীনার একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটেছিলাম এবং আমরা কিছু অল্প বয়স্ক ছেলেকে দেখলাম যে, তারা একটি মুরগিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নিয়ে, সেটিকে লক্ষ্য করে তীর ছুড়ছিলো। তাদের নিক্ষেপকৃত যে তীর গুলো মুরগির গায়ে লাগবে না, ঐ প্রতিটি তীর মুরগির মালিকদের থাকবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাগান্বিত হয়ে বললেন, “কে করেছে এটা?” ফলে ঐ ছেলেরা বিক্ষিপ্ত হয়ে গেলো। ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে অভিসম্পাত করেছেন, যে কোনো প্রাণীকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গ্রহণ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৬৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ الشَّيْبَانِيَّ قَالَ سَمِعْتُ الشَّعْبِيَّ قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْ مَرَّ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى قَبْرٍ مَنْبُوذٍ فَأَمَّهُمْ وَصَفُّوا خَلْفَهُ فَقُلْتُ يَا أَبَا عَمْرٍو مَنْ حَدَّثَكَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ
হজরত ইমাম শাবি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যে ব্যক্তি অন্য সাহাবীদের থেকে আলাদা হয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে একটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, সে আমাকে বললো যে, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদেরকে জানাযার সালাত পড়াচ্ছিলেন এবং সাহাবীগণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে সারিবদ্ধ হয়েছিলো।” আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “হে আবু আমর, তোমাকে এ কথা কে বলেছে?” আবু আমর বললো, “হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৬৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ أَنَّ طَاوُسًا قَالَ حَدَّثَنِي مَنْ هُوَ أَعْلَمُ بِهِ مِنْهُمْ يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَأَنْ يَمْنَحَ الرَّجُلُ أَخَاهُ أَرْضَهُ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَأْخُذَ عَلَيْهَا خَرْجًا مَعْلُومًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের একজন তার ভাইকে তার জমি উপহার হিসেবে পেশ করা, তার কাছ থেকে নির্ধারিত খাজনা আদায়ের চেয়ে উত্তম।” [মুসনাদে আহমাদ : ২৯৬৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ عَنْ مُجَاهِدٍ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا يَطُوفُونَ بِالْبَيْتِ وَابْنُ عَبَّاسٍ جَالِسٌ مَعَهُ مِحْجَنٌ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ وَلَوْ أَنَّ قَطْرَةً مِنْ الزَّقُّومِ قُطِرَتْ لَأَمَرَّتْ عَلَى أَهْلِ الْأَرْضِ عَيْشَهُمْ فَكَيْفَ مَنْ لَيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا الزَّقُّومُ
হজরত মুজাহিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
লোকেরা কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করছিলো এবং হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বসে ছিলেন এবং তাঁর সাথে একটি বাঁকা লাঠি ছিলো, যা দিয়ে তিনি কালো পাথরকে স্পর্শ করছিলেন এবং চুমু খাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, “একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন, তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যাক্কুম বৃক্ষের একটি বিন্দুও যদি দুনিয়াতে পতিত হতো, তাহলে দুনিয়া বাসীদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে যেতো। আর এটা যাদের খাদ্য হবে, তাদের অবস্থা কি হবে’?”
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ١٠٢
ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যেমন তাঁকে ভয় করা উচিত। আর তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (৩. আল ইমরান : ১০২)
[মুসনাদে আহমাদ : ২৯৭০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস