হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার আমার কাছে লেখার জন্যে কিছু নিয়ে এসো। আমি তোমাদের জন্যে এমন কিছু লিখবো, যাতে আমি চলে যাওয়ার পর তোমরা বিপথগামী না হও।” সে সময় বাড়িতে অনেক লোক ছিলো, যাদের মধ্যে হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও ছিলেন। হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন যে, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রচণ্ড ব্যথায় কাবু হয়েছে এবং আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব পবিত্র কুরআন আছে, যা আমাদের জন্যে যথেষ্ট।” কিন্তু তারা এ বিষয়ে তর্ক করেছিলো এবং মতবিরোধ দেখা দিলো, যদিও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতিতে তা উপযুক্ত ছিলো না। তারা বললো, তাঁর কি হলো? তিনি কি প্রলাপ করছেন? তাঁর কাছ থেকে পুনরায় জানার চেষ্টা করুন, তাঁর উদ্দেশ্য কি? তাই তারা তাঁর কাছে এটি পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন, কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এখন তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও। আমি এখন যে অবস্থায় আছি তা, তোমরা আমাকে যা করাতে চাও তার চেয়ে উত্তম।” দুর্ভাগ্য আমাদের! জনগণের মতানৈক্য ও কোলাহলের কারণে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লেখা বাধাগ্রস্ত হয়। হযরত সাঈদ বিন জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করলেন, “(১) তোমরা মুশরিকদেরকে আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দাও এবং (২) তোমরা আগন্তক প্রতিনিধিদেরকে সেইভাবে সম্মান করো, যেভাবে আমি তাদেরকে সম্মান করতাম।” এবং তৃতীয় বিষয়ে সাঈদ বিন জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু নীরব থাকলেন অথবা তিনি ভুলে গেছেন।