
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ قَالَ عَبْد اللَّهِ وَسَمِعْتُهُ أَنَا مِنْ هَارُونَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنِي مَخْرَمَةُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعْدًا وَنَاسًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُونَ كَانَ رَجُلَانِ أَخَوَانِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ أَحَدُهُمَا أَفْضَلَ مِنْ الْآخَرِ فَتُوُفِّيَ الَّذِي هُوَ أَفْضَلُهُمَا ثُمَّ عُمِّرَ الْآخَرُ بَعْدَهُ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ تُوُفِّيَ فَذُكِرَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضْلُ الْأَوَّلِ عَلَى الْآخَرِ فَقَالَ أَلَمْ يَكُنْ يُصَلِّي فَقَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَانَ لَا بَأْسَ بِهِ فَقَالَ مَا يُدْرِيكُمْ مَاذَا بَلَغَتْ بِهِ صَلَاتُهُ ثُمَّ قَالَ عِنْدَ ذَلِكَ إِنَّمَا مَثَلُ الصَّلَوَاتِ كَمَثَلِ نَهَرٍ جَارٍ بِبَابِ رَجُلٍ غَمْرٍ عَذْبٍ يَقْتَحِمُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ فَمَا تُرَوْنَ يُبْقِي ذَلِكَ مِنْ دَرَنِهِ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং অন্যান্য সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময় এমন দুই ভাই ছিল, যাদের একজন অন্যজনের চেয়ে উত্তম ছিল। উত্তম ভাইটি প্রথমে মারা যায় এবং অন্যজন চল্লিশ দিন পর্যন্ত জীবিত থাকার পর সেও মারা যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে লোকেরা উল্লেখ করল যে, আগের ভাইটিই উত্তম ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই অন্য ভাইটি কি নামাজ পড়েনি? লোকেরা বলল, কেন নয়, কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি জানো তার নামাজ তাকে কতদূর নিয়ে গেছে? অতঃপর তিনি বললেন, নামাযের দৃষ্টান্ত হচ্ছে প্রবাহিত স্রোতের মত যার পানি মিষ্টি ও এই মিষ্টি পানি কারো ঘরের দরজার সামনে দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সে তাতে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে, এমন ব্যক্তির সম্পর্কে তোমাদের কি মনে হয়? তার শরীলে কি কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে? [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৫২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ وَحَجَّاجٌ حَدَّثَنِي شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ سَعْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ أَحَدِكُمْ قَيْحًا يَرِيهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا قَالَ حَجَّاجٌ سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ جُبَيْرٍ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের কারো জন্য কবিতা দিয়ে পেট ভরানোর চেয়ে পুঁজ দিয়ে পেট ভরা উত্তম।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৫৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ ذُكِرَ الطَّاعُونُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رِجْزٌ أُصِيبَ بِهِ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَإِذَا كَانَ بِأَرْضٍ فَلَا تَدْخُلُوهَا وَإِذَا كَانَ بِهَا وَأَنْتُمْ بِهَا فَلَا تَخْرُجُوا مِنْهَا
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে প্লেগের কথা উল্লেখ করা হলো। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেনঃ “তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর প্লেগের এই আযাব এসেছিল। যদি কোনো এলাকায় এই মহামারী ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেখানে তোমরা যাবে না এবং যদি তোমরা কোন এলাকায় থাকো এবং সেখানে প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তাহলে সেখান থেকে বের হবে না। ” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৫৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قِتَالُ الْمُؤْمِنِ كُفْرٌ وَسِبَابُهُ فُسُوقٌ وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো মুসলমানের সাথে যুদ্ধ করা কুফরী এবং তাকে গালি দেওয়া ফাসেকি এবং কোনো মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথা বলা বন্ধ রাখা বৈধ নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৫৫]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ شَفَانِي اللَّهُ مِنْ الْمُشْرِكِينَ فَهَبْ لِي هَذَا السَّيْفُ قَالَ إِنَّ هَذَا السَّيْفَ لَيْسَ لَكَ وَلَا لِي ضَعْهُ قَالَ فَوَضَعْتُهُ ثُمَّ رَجَعْتُ قُلْتُ عَسَى أَنْ يُعْطَى هَذَا السَّيْفُ الْيَوْمَ مَنْ لَمْ يُبْلِ بَلَائِي قَالَ إِذَا رَجُلٌ يَدْعُونِي مِنْ وَرَائِي قَالَ قُلْتُ قَدْ أُنْزِلَ فِيَّ شَيْءٌ قَالَ كُنْتَ سَأَلْتَنِي السَّيْفَ وَلَيْسَ هُوَ لِي وَإِنَّهُ قَدْ وُهِبَ لِي فَهُوَ لَكَ قَالَ وَأُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ يَسْأَلُونَكَ عَنْ الْأَنْفَالِ قُلْ الْأَنْفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হযরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার রাসূল (সা.)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.), আমি আনন্দ অনুভব করছি কারণ আল্লাহ আমাকে মুশরিকদের প্রতি প্রতিশোধ নিতে সক্ষম করেছেন, আমাকে এই তলোয়ারটি দিন। রাসূল (সা.) বললেন, এই তলোয়ার তোমার জন্য নয় এবং আমারও নয়; এটাকে ছেড়ে দাও। তাই আমি তা নামিয়ে রাখলাম। তারপর আমি ফিরে এসে ভাবলাম, আজ হয়তো এই তরবারি এমন কাউকে দেওয়া হবে, যে আমার মতো ভালো কাজ করেনি। তখন আমি পেছন থেকে একজন লোককে ডাকতে শুনলাম এবং আমি ভাবলাম, আজ হয়তো আমার সম্পর্কে কোনো ওহী নাযিল হবে। আমি যখন সেখানে পৌঁছলাম তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি আমার কাছে এই তরবারি চেয়েছিলে। প্রকৃতপক্ষে এই তরবারিটি আমার ছিল না, কিন্তু এখন আমি এটি উপহার হিসেবে পেয়েছি, তাই আমি তা তোমাকে দিচ্ছি।” তিনি আরো বললেন এই আয়াতটি নাযিল হয়েছে,
يَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡأَنفَالِۖ قُلِ ٱلۡأَنفَالُ لِلَّهِ وَٱلرَّسُولِۖ فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَصۡلِحُواْ ذَاتَ بَيۡنِكُمۡۖ وَأَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ١
তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, “যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের বিধান দেয়ার অধিকার আল্লাহ ও রসূলের জন্যে নির্ধারিত রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমরা তোমাদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে নাও। যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো, তবে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো।” [৮ : ১]
[মুসনাদে আহমাদ : ১৪৫৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ وَجَدْتُ هَذَا الْحَدِيثَ فِي كِتَابِ أَبِي بِخَطِّ يَدِهِ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمُتَعَالِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأُمَوِيُّ قَالَ أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ وَحَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا الْمُجَالِدُ عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ جَاءَتْهُ جُهَيْنَةُ فَقَالُوا إِنَّكَ قَدْ نَزَلْتَ بَيْنَ أَظْهُرِنَا فَأَوْثِقْ لَنَا حَتَّى نَأْتِيَكَ وَتُؤْمِنَّا فَأَوْثَقَ لَهُمْ فَأَسْلَمُوا قَالَ فَبَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَجَبٍ وَلَا نَكُونُ مِائَةً وَأَمَرَنَا أَنْ نُغِيرَ عَلَى حَيٍّ مِنْ بَنِي كِنَانَةَ إِلَى جَنْبِ جُهَيْنَةَ فَأَغَرْنَا عَلَيْهِمْ وَكَانُوا كَثِيرًا فَلَجَأْنَا إِلَى جُهَيْنَةَ فَمَنَعُونَا وَقَالُوا لِمَ تُقَاتِلُونَ فِي الشَّهْرِ الْحَرَامِ فَقُلْنَا إِنَّمَا نُقَاتِلُ مَنْ أَخْرَجَنَا مِنْ الْبَلَدِ الْحَرَامِ فِي الشَّهْرِ الْحَرَامِ فَقَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ مَا تَرَوْنَ فَقَالَ بَعْضُنَا نَأْتِي نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنُخْبِرُهُ وَقَالَ قَوْمٌ لَا بَلْ نُقِيمُ هَاهُنَا وَقُلْتُ أَنَا فِي أُنَاسٍ مَعِي لَا بَلْ نَأْتِي عِيرَ قُرَيْشٍ فَنَقْتَطِعُهَا فَانْطَلَقْنَا إِلَى الْعِيرِ وَكَانَ الْفَيْءُ إِذْ ذَاكَ مَنْ أَخَذَ شَيْئًا فَهُوَ لَهُ فَانْطَلَقْنَا إِلَى الْعِيرِ وَانْطَلَقَ أَصْحَابُنَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرُوهُ الْخَبَرَ فَقَامَ غَضْبَانًا مُحْمَرَّ الْوَجْهِ فَقَالَ أَذَهَبْتُمْ مِنْ عِنْدِي جَمِيعًا وَجِئْتُمْ مُتَفَرِّقِينَ إِنَّمَا أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ الْفُرْقَةُ لَأَبْعَثَنَّ عَلَيْكُمْ رَجُلًا لَيْسَ بِخَيْرِكُمْ أَصْبَرُكُمْ عَلَى الْجُوعِ وَالْعَطَشِ فَبَعَثَ عَلَيْنَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَحْشٍ الْأَسَدِيَّ فَكَانَ أَوَّلَ أَمِيرٍ أُمِّرَ فِي الْإِسْلَامِ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন জাহিনা গোত্রের লোকেরা তাঁর কাছে এসে বললো, আপনি আমাদের মধ্যে বসতি স্থাপন করেছেন; এটি আমাদের জন্য একটি নথিতে লিখুন যাতে আমরা আপনার কাছে আসতে পারি এবং আপনি আমাদের জন্য নিরাপত্তা দিতে পারেন। তাই তিনি তাদের জন্য একটি দলিল লিখলেন এবং তারা মুসলমান হয়ে গেল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে রজব মাসে একটি অভিযানে প্রেরণ করেছিলেন এবং আমরা একশর কম লোক ছিলাম। তিনি আমাদেরকে জুহাইনার পাশে বসবাসকারী বনু কিনানার একটি গোত্রকে আক্রমণ করার নির্দেশ দেন, তাই আমরা তাদের আক্রমণ করি এবং তারা সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল। আমরা জুহাইনার শরণাপন্ন হলাম এবং তারা আমাদের নিরাপত্তা দেয়, কিন্তু তারা বলল: কেন আপনারা পবিত্র মাসে যুদ্ধ করছেন? হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বললেনঃ আমরা শুধু তাদের সাথে যুদ্ধ করছি যারা পবিত্র মাসে আমাদেরকে পবিত্র ভূমি থেকে বের করে দিয়েছে। আর আমরা একে অপরকে বললাম। “আপনি কি মনে করেন?” আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বললো, আমরা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যাব এবং তাঁকে বলব। আর কিছু লোক বললঃ না; বরং আমরা এখানেই থাকব। আমি এবং আমার সাথে কয়েকজন লোক বললামঃ না, বরং আমরা কুরাইশদের কাফেলার কাছে গিয়ে বাধা দেব। তাই আমরা কাফেলা বন্দী করার জন্য রওনা দিলাম। সে সময় যেভাবে লুণ্ঠন করা হতো তা হলো, যে কিছু নিবে, সেটা তার। অতঃপর আমরা কাফেলার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং আমাদের সঙ্গীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলেন এবং ঘটনাটি বললেন। তিনি রাগান্বিতভাবে উঠে গেলেন এবং তার মুখ লাল হয়ে গেল এবং তিনি বললেন: “তোমরা একসাথে আমার কাছ থেকে গেলে অথচ আলাদাভাবে ফিরে এলে? তোমাদের পূর্ববর্তীরা বিভক্তির কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। আমি অবশ্যই তোমাদের উপরে একজন ব্যক্তিকে সেনাপতি হিসাবে নিযুক্ত করবো যে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম নয় কিন্তু ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করার ক্ষেত্রে সে সবচেয়ে ধৈর্যশীল।” সুতরাং তিনি আমাদের সেনাপতি হিসাবে আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন জাহশ আল-আসাদীকে নিযুক্ত করলেন। তিনি ছিলেন ইসলামে নিযুক্ত প্রথম সেনাপতি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৫৭]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ عَنْ زَائِدَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ وَعَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَعَنْ نَافِعِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُقَاتِلُونَ جَزِيرَةَ الْعَرَبِ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ لَكُمْ ثُمَّ تُقَاتِلُونَ فَارِسَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ لَكُمْ ثُمَّ تُقَاتِلُونَ الرُّومَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ لَكُمْ ثُمَّ تُقَاتِلُونَ الدَّجَّالَ فَيَفْتَحُهُ اللَّهُ لَكُمْ قَالَ فَقَالَ جَابِرٌ لَا يَخْرُجُ الدَّجَّالُ حَتَّى يُفْتَتَحَ الرُّومُ
হজরত নাফি ইবনে উতবাহ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
“তোমরা আরবে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে সেখানে বিজয় দান করবেন, তারপর তোমরা পারস্যের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে সেখানে বিজয় দান করবেন, তারপর তোমরা রোমানদের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে সেখানে বিজয় দান করবেন। তারপর তোমরা দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ তোমাকে তার উপর বিজয় দান করবেন।” জাবির (রা.) বলেনঃ দাজ্জালের আবির্ভাব হবে না যতক্ষণ না রোম বিজয় হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৫৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ عَنْ زَائِدَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ وَعَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَعَنْ نَافِعِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُقَاتِلُونَ جَزِيرَةَ الْعَرَبِ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ لَكُمْ ثُمَّ تُقَاتِلُونَ فَارِسَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ لَكُمْ ثُمَّ تُقَاتِلُونَ الرُّومَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ لَكُمْ ثُمَّ تُقَاتِلُونَ الدَّجَّالَ فَيَفْتَحُهُ اللَّهُ لَكُمْ قَالَ فَقَالَ جَابِرٌ لَا يَخْرُجُ الدَّجَّالُ حَتَّى يُفْتَتَحَ الرُّومُ
হজরত নাফি ইবনে উতবাহ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
“তোমরা আরবে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে সেখানে বিজয় দান করবেন, তারপর তোমরা পারস্যের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে সেখানে বিজয় দান করবেন, তারপর তোমরা রোমানদের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে সেখানে বিজয় দান করবেন। তারপর তোমরা দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে এবং আল্লাহ তোমাকে তার উপর বিজয় দান করবেন।” জাবির (রা.) বলেনঃ দাজ্জালের আবির্ভাব হবে না যতক্ষণ না রোম বিজয় হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৫৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عِكْرِمَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ لَبِيبَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّ أَصْحَابَ الْمَزَارِعِ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوا يُكْرُونَ مَزَارِعَهُمْ بِمَا يَكُونُ عَلَى السَّوَاقِي مِنْ الزُّرُوعِ وَمَا سَعِدَ بِالْمَاءِ مِمَّا حَوْلَ النَّبْتِ فَجَاءُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاخْتَصَمُوا فِي بَعْضِ ذَلِكَ فَنَهَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُكْرُوا بِذَلِكَ وَقَالَ أَكْرُوا بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াকাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে কিছু লোক যাদের চাষের জমি ছিল তারা নদীর ধারে এবং কূপের চারপাশে পানির মাধ্যমে যা জন্মে তার বিনিময়ে (উপন্ন ফসলের বিনিময়ে) তাদের কৃষিজমি ভাড়া দিত। তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ করে, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে সেভাবে জমি ভাড়া দিতে নিষেধ করলেন এবং তিনি বললেনঃ সোনা ও রৌপ্যের বিনিময়ে জমি ভাড়া দাও। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৬০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوُبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ بْنِ أَبِي عَتِيقٍ قَالَ يَعْقُوبُ ابْنُ أَبِي عَتِيقٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ سَعْدٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا تَنَخَّمَ أَحَدُكُمْ فِي الْمَسْجِدِ فَلْيُغَيِّبْ نُخَامَتَهُ أَنْ تُصِيبَ جِلْدَ مُؤْمِنٍ أَوْ ثَوْبَهُ فَتُؤْذِيَهُ
আমির ইবনে সাদ থেকে বর্ণিতঃ
তার পিতা সাদ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি:
“যদি তোমাদের কেউ মসজিদে থুথু ফেলে, তবে সে যেন তার থুথু পুঁতে দেয়, যাতে তা কোনো মুমিনের চামড়া বা পোশাকে না পড়ে এবং তাকে বিরক্ত করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৬১]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ مَوْلَى الْأَسْوَدِ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي عَيَّاشٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الرُّطَبِ بِالتَّمْرِ فَقَالَ أَلَيْسَ يَنْقُصُ الرُّطَبُ إِذَا يَبِسَ قَالُوا بَلَى فَكَرِهَهُ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা কেউ রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করল, শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করা জায়েজ কি না? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটা কি এমন নয় যে, তাজা খেজুর শুকানোর পর ওজনে কমে যায়? লোকেরা বলল, এটা এমনই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ধরনের বিক্রিয় নিষিদ্ধ ঘোষনা করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৬২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ أَكْبَرِ الْمُسْلِمِينَ فِي الْمُسْلِمِينَ جُرْمًا رَجُلًا سَأَلَ عَنْ شَيْءٍ وَنَقَّرَ عَنْهُ حَتَّى أُنْزِلَ فِي ذَلِكَ الشَّيْءِ تَحْرِيمٌ مِنْ أَجْلِ مَسْأَلَتِهِ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অপরাধী হলো সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে এবং অতীতের অপ্রীতিকর বিষয়গুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে। এমনকি তার প্রশ্ন করার কারনে ঐ জিনিস হারাম হওয়ার ব্যপারে ওহী নাযিল হয় (অথচ তা ইতিপূর্বে হালাল ছিলো)।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৬৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَمَرِضْتُ مَرَضًا أَشْفَيْتُ عَلَى الْمَوْتِ فَعَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي مَالًا كَثِيرًا وَلَيْسَ يَرِثُنِي إِلَّا ابْنَةٌ لِي أَفَأُوصِي بِثُلُثَيْ مَالِي قَالَ لَا قُلْتُ بِشَطْرِ مَالِي قَالَ لَا قُلْتُ فَثُلُثُ مَالِي قَالَ الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ يَا سَعْدُ أَنْ تَدَعَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ إِنَّكَ يَا سَعْدُ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى إِلَّا أُجِرْتَ عَلَيْهَا حَتَّى اللُّقْمَةَ تَجْعَلُهَا فِي فِي امْرَأَتِكَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُخَلَّفُ بَعْدَ أَصْحَابِي قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَتَخَلَّفَ فَتَعْمَلَ عَمَلًا تَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ إِلَّا ازْدَدْتَ بِهِ دَرَجَةً وَرِفْعَةً وَلَعَلَّكَ تُخَلَّفُ حَتَّى يَنْفَعَ اللَّهُ بِكَ أَقْوَامًا وَيَضُرَّ بِكَ آخَرِينَ اللَّهُمَّ أَمْضِ لِأَصْحَابِي هِجْرَتَهُمْ وَلَا تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ لَكِنْ الْبَائِسُ سَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ رَثَى لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ مَاتَ بِمَكَّةَ
আমির ইবনু সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে তার বাবার সূত্রে থেকে বর্ণিতঃ
তিনি (সা’দ) বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমি গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে গেলাম এবং মৃত্যুর আশংকা করলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখতে এলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমার প্রচুর ধন-সম্পদ রয়েছে। মাত্র একটি মেয়ে সন্তান ব্যতীত আমার আর কোন উত্তরাধিকারী নেই। আমি আমার সমস্ত সম্পদের ওয়াসিয়াত করবো কি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম, তবে দুই-তৃতীয়াংশ সম্পদ ওয়াসিয়াত করব কি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ এক তৃতীয়াংশ করতে পার, তবে এক-তৃতীয়াংশও অনেক। তোমার উত্তরাধিকারীদেরকে দরিদ্র এবং অন্যকারো নিকট হাত পতাতে বাধ্য অবস্থায় রেখে যাওয়ার চাইতে তাদেরকে সম্পদশালী অবস্থায় রেখে যাওয়া অধিক উত্তম। তুমি যেটুকু খরচ কর না কেন নেকী অবশ্যই পাবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে গ্রাসটি তুলে দাও তুমি তার জন্যও নেকী পাবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! আমি কি আমার হিজরাত হতে পিছনে পড়ে থাকব (মাদীনায় ফিরে যেতে পারব না)? তিনি বললেনঃ তুমি আমার পরেও যদি জীবিত থাক এবং আল্লাহ্ তা’আলার সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে যে কোন কাজই কর তাতে তোমার মর্যাদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। আশা করি আমার পরবর্তীতেও তুমি জীবিত থাকবে। তোমার মাধ্যমে বহু লোকের উপকার হবে এবং অসংখ্য লোকের ক্ষতি সাধিত হবে। হে আল্লাহ! আমার সাহাবীদের হিজরাত পূর্ণ করে দাও, তাদেরকে পিছনে ফিরিয়ে দিও না। সা’দ ইবনু খাওলা হতভাগ্য। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সা’দ ইবনু খাওলার জন্য অনেক দুঃখ প্রকাশ করতেন। তিনি মক্কাতে মারা যান। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ حَدَّثَنَا الْجُعَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهَا أَنَّ عَلِيًّا خَرَجَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى جَاءَ ثَنِيَّةَ الْوَدَاعِ وَعَلِيٌّ يَبْكِي يَقُولُ تُخَلِّفُنِي مَعَ الْخَوَالِفِ فَقَالَ أَوَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلَّا النُّبُوَّةَ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাবুক যুদ্ধের সময় হযরত আলী ( রা.)-কে মদীনা মুনওয়ারায় তাঁর সহকারী হিসেবে রেখে যান, তখন হজরত আলী (রা.) কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি কি আমাকে শিশু ও নারীদের সঙ্গে রেখে যাচ্ছেন?” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেনঃ “হে আলী! তুমি কি এতে খুশি নও যে, তোমার মর্যাদা আমার নিকট মূসা (আঃ)-এর নিকট হারূন (আঃ)-এর মতই? কিন্তু (পার্থক্য এই যে,) আমার পরে কোন নবী নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৬৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ شَكَا أَهْلُ الْكُوفَةِ سَعْدًا إِلَى عُمَرَ فَقَالُوا لَا يُحْسِنُ يُصَلِّي قَالَ فَسَأَلَهُ عُمَرُ فَقَالَ إِنِّي أُصَلِّي بِهِمْ صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْكُدُ فِي الْأُولَيَيْنِ وَأَحْذِفُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ قَالَ ذَلِكَ الظَّنُّ بِكَ يَا أَبَا إِسْحَاقَ
হজরত জাবির ইবনে সামরা থেকে বর্ণিতঃ
একবার কুফাবাসীরা হজরত ওমর ফারুক (রা.)-এর কাছে হজরত সাদ (রা.)-এর ব্যাপারে অভিযোগ করলেন যে, তিনি ভালো ভাবে নামায পড়ান না। হজরত ওমর (রা.) হজরত সাদ (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন হজরত সাদ (রা.) বললেন, আমি প্রথম দুই রাকাত অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ আদায় করি এবং দ্বিতীয় দুই রাকাত অপেক্ষাকৃত ছোট আদায় করি এবং আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করে নামায পড়েছি। আর আমি তা পালন করতে কোন ভুল করি না। হজরত ওমর (রা.) বললেন, আমি আপনার কাছে এমনটাই আশা করি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৬৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ حَسَّانَ الْمَخْزُومِيُّ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَهِيكٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ قَالَ وَكِيعٌ يَعْنِي يَسْتَغْنِي بِهِ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি উত্তম কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৬৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسٍ سَمِعْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ وَطَلْحَةَ وَالزُّبَيْرِ وَسَعْدٍ نَشَدْتُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي تَقُومُ بِهِ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ أَعَلِمْتُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّا لَا نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ
হজরত তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত ফারুক আযম (রা.) হজরত আবদুল রহমান ইবনে আউফ, হজরত তালহা, হজরত যুবায়ের ও হজরত সাদ (রা.) কে বললেন, আমি আপনাদেরকে সেই আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, যাঁর নির্দেশে আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত, আপনারা কি জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, “আমাদের সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হয়না, আমরা যা রেখে যাই তা হল সাদকা?” সকলেই বললো, “হে আল্লাহ, হ্যাঁ।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৬৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْعَلَاءِ يَعْنِي ابْنَ أَبِي الْعَبَّاسِ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ بَكْرِ بْنِ قِرْوَاشٍ عَنْ سَعْدٍ قِيلَ لِسُفْيَانَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ قَالَ شَيْطَانُ الرَّدْهَةِ يَحْتَدِرُهُ يَعْنِي رَجُلًا مِنْ بَجِيلَةَ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “পাহাড় বা পাথরের গর্তের অকল্যাণ ও অসুবিধা হলো এই যে, বাজিলা গোত্রের একজন লোকও উঁচু থেকে নিচু স্থানে পড়ে যায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৬৯]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي عَيَّاشٍ قَالَ سُئِلَ سَعْدٌ عَنْ بَيْعِ سُلْتٍ بِشَعِيرٍ أَوْ شَيْءٍ مِنْ هَذَا فَقَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ تَمْرٍ بِرُطَبٍ فَقَالَ تَنْقُصُ الرَّطْبَةُ إِذَا يَبِسَتْ قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَلَا إِذَنْ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার কেউ তাকে জিজ্ঞেস করল, সাধারণ যবের পরিবর্তে ভুসি ছাড়া যব বিক্রি করা জায়েজ কি না? তিনি বলেন, একবার কেউ রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করল, শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করা জায়েজ কি না? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটা কি এমন নয় যে, তাজা খেজুর শুকানোর পর ওজনে কমে যায়? লোকেরা বলল, এটা এমনই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ধরনের বিক্রিয় নিষিদ্ধ ঘোষনা করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৭০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عُثْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ سَعْدًا وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَبَا بَكْرَةَ تَسَوَّرَ حِصْنَ الطَّائِفِ فِي نَاسٍ فَجَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَا سَمِعْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ مَنْ ادَّعَى إِلَى أَبٍ غَيْرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ
আবু উসমান থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত সাদ (রা.)-এর কাছে শুনেছি, যিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছিলেন এবং হজরত আবু বকর (রা.)-এর কাছে শুনেছি, যিনি তায়েফ দুর্গে আরোহণ করেছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, “যে ব্যক্তি তার পিতা ব্যতীত অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করে, যদিও সে জানে যে সে ব্যক্তি তার পিতা নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৭১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ أَنْبَأَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً قَالَ الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ حَتَّى يُبْتَلَى الْعَبْدُ عَلَى قَدْرِ دِينِهِ ذَاكَ فَإِنْ كَانَ صُلْبَ الدِّينِ ابْتُلِيَ عَلَى قَدْرِ ذَاكَ وَقَالَ مَرَّةً أَشَدُّ بَلَاءً وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَّةٌ ابْتُلِيَ عَلَى قَدْرِ ذَاكَ وَقَالَ مَرَّةً عَلَى حَسَبِ دِينِهِ قَالَ فَمَا تَبْرَحُ الْبَلَايَا عَنْ الْعَبْدِ حَتَّى يَمْشِيَ فِي الْأَرْضِ يَعْنِي وَمَا إِنْ عَلَيْهِ مِنْ خَطِيئَةٍ قَالَ أَبِي وَقَالَ مَرَّةً عَنْ سَعْدٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ
হজরত সাঈদ ইবনে মুসাইব ( রা.) থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-কে শুভ-অশুভ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, এ হাদিস তোমার কাছে কে বর্ণনা করেছে? যে ব্যক্তি আমাকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছে তার নাম উল্লেখ করা আমি সঙ্গত মনে করিনি। এরপর হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) আমাকে বললেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “কোনও আদওয়া [ছোঁয়াচে রোগ, আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সংক্রামক রোগের সংক্রমণ] নেই, কোন তিয়ারাহ [পাখির শকুনে কুসংস্কারপূর্ণ বিশ্বাস] এবং কোন হাম নেই [একটি জাহিলি আরব ঐতিহ্যকে উল্লেখ করে যা বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে: একটি কীট যা কবরে সংক্রমিত করে, একটি হত্যার শিকার যতক্ষণ না সে একটি পেঁচা, বা একটি মৃত ব্যক্তির হাড় উড়াতে পারে]। অর্থৎ কোনো শুভ-অশুভ বলতে কিছু নেই। যদি শুভ-অশুভ বলতে কিছু থাকতো তবে তা হতো মহিলা, ঘোড়া বা বাড়ির মধ্যে। কোন দেশে মহামারীর কথা শুনলে সেখানে যেও না এবং যদি তা সেই দেশেই হয় যেখানে তুমি আছো, তাহলে সেখান থেকে পালিয়ে যেও না।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৭২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً قَالَ الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الصَّالِحُونَ ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ مِنْ النَّاسِ يُبْتَلَى الرَّجُلُ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ فَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ صَلَابَةٌ زِيدَ فِي بَلَائِهِ وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَّةٌ خُفِّفَ عَنْهُ وَمَا يَزَالُ الْبَلَاءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَمْشِيَ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ لَيْسَ عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ
সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একবার জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর নাবী! কোন লোককে বিপদাপদ দিয়ে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। জবাবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নবীদেরকে। তারপর তাদের পরে যারা উত্তম তাদেরকে। মানুষকে আপন আপন দ্বীনদারীর অনুপাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। দ্বীনদারীতে যে যত বেশি মজবুত হয় তার বিপদ-মুসীবাত তত বেশি কঠিন হয়। দ্বীনের ব্যাপারে যদি মানুষের দুর্বলতা থাকে, তার বিপদও ছোট ও সহজ হয়। এভাবে তার বিপদ হতে থাকে। এ নিয়েই সে পৃথিবীতে চলাফেরা করতে থাকে। অবশেষে তার কোন গুনাহখাতা থাকে না। [১] [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৭৩]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيِّ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ قُتِلَ أَخِي عُمَيْرٌ وَقَتَلْتُ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ وَأَخَذْتُ سَيْفَهُ وَكَانَ يُسَمَّى ذَا الْكَتِيفَةِ فَأَتَيْتُ بِهِ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اذْهَبْ فَاطْرَحْهُ فِي الْقَبَضِ قَالَ فَرَجَعْتُ وَبِي مَا لَا يَعْلَمُهُ إِلَّا اللَّهُ مِنْ قَتْلِ أَخِي وَأَخْذِ سَلَبِي قَالَ فَمَا جَاوَزْتُ إِلَّا يَسِيرًا حَتَّى نَزَلَتْ سُورَةُ الْأَنْفَالِ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اذْهَبْ فَخُذْ سَيْفَكَ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
বদরের দিন আমার ভাই উমাইরকে হত্যা করা হয় এবং আমি সাঈদ ইবনে আসকে হত্যা করে তার তরবারি নিয়ে যাই, যাকে “যুল-কাতিফা” বলা হয় এবং তা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে এলাম। তিনি বললেন, “যাও এবং এই তরবারিটি গনিমতের মালামালের মধ্যে রেখে দাও।” আমি ফিরে গেলাম, আমার ভাইকে হত্যা এবং আমার গনিমতের মাল নিয়ে নেয়ার কারণে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না আমি কেমন কষ্ট অনুভব করছিলাম। সূরা আল-আনফাল নাযিল হওয়ার খুব বেশি সময় হয়নি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেনঃ “যাও এবং তোমার তরবারি নিয়ে নাও।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৭৪]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ شَكَا أَهْلُ الْكُوفَةِ سَعْدًا إِلَى عُمَرَ فَقَالُوا لَا يُحْسِنُ يُصَلِّي قَالَ فَسَأَلَهُ عُمَرُ فَقَالَ إِنِّي أُصَلِّي بِهِمْ صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْكُدُ فِي الْأُولَيَيْنِ وَأَحْذِفُ فِي الْأُخْرَيَيْنِ قَالَ ذَلِكَ الظَّنُّ بِكَ يَا أَبَا إِسْحَاقَ
হজরত জাবির ইবনে সামরা থেকে বর্ণিতঃ
একবার কুফাবাসীরা হজরত ওমর ফারুক (রা.)-এর কাছে হজরত সাদ (রা.)-এর ব্যাপারে অভিযোগ করলেন যে, তিনি ভালো ভাবে নামায পড়ান না। হজরত ওমর (রা.) হজরত সাদ (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন হজরত সাদ (রা.) বললেন, আমি প্রথম দুই রাকাত অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ আদায় করি এবং দ্বিতীয় দুই রাকাত অপেক্ষাকৃত ছোট আদায় করি এবং আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করে নামায পড়েছি। আর আমি তা পালন করতে কোন ভুল করি না। হজরত ওমর (রা.) বললেন, আমি আপনার কাছে এমনটাই আশা করি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৭৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ نُبَيْهٍ حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْقَرَّاظُ قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ أَرَادَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ بِدَهْمٍ أَوْ بِسُوءٍ أَذَابَهُ اللَّهُ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি মদীনাবাসীর জন্য বড় ধরনের বিপদ-আপদ কামনা করে বা মন্দ কামনা করে, আল্লাহ তাকে এমনভাবে গলে দেবেন যেভাবে লবণ পানিতে গলে যায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৭৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَبِيبَةَ عَنْ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ الذِّكْرِ الْخَفِيُّ وَخَيْرُ الرِّزْقِ مَا يَكْفِي حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ أُسَامَةَ قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَبِيبَةَ أَخْبَرَهُ قَالَ أَبِي و قَالَ يَحْيَى يَعْنِي الْقَطَّانَ ابْنَ أَبِي لَبِيبَةَ أَيْضًا إِلَّا أَنَّهُ قَالَ عَنْ أُسَامَةَ قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ لَبِيبَةَ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সর্বোত্তম যিকির হলো যা নীরবতার সহিত করা হয় আর সর্বোত্তম রিযিক হলো যা যথেষ্ট হয়ে যায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৭৭]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ حَدَّثَنِي مُصْعَبُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ أَعْرَابِيًّا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عَلِّمْنِي كَلَامًا أَقُولُهُ قَالَ قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ خَمْسًا قَالَ هَؤُلَاءِ لِرَبِّي فَمَا لِي قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَارْزُقْنِي وَاهْدِنِي وَعَافِنِي
হজরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক বেদুইন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললঃ “আমাকে কিছু দোয়া শিখিয়ে দিন যা আমি পাঠ করব।” তিনি বললেন: বলো,
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ
“আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি এক তার কোন শরীক নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য সকল মহিমা, আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি ও কোন সামর্থ নেই। আল্লাহ সর্বশক্তিমান ও প্রজ্ঞাময়।”
এটা পাঁচবার বলো। বেদুইন বললো, “এটা তো আমার প্রভুর জন্য, আমার জন্য কি আছে?” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে বললেন: বলো,
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَارْزُقْنِي وَاهْدِنِي وَعَافِنِي
“হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে রিজিক দিন, আমাকে পথ দেখান এবং আমাকে ক্ষমা করুন।”
[মুসনাদে আহমাদ : ১৪৭৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيَّ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يَقُولُ سَمِعْتُ سَعْدًا يَقُولُ جَمَعَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَوَيْهِ يَوْمَ أُحُدٍ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উহুদ যুদ্ধের দিন তাঁর পিতা-মাতা উভয়কে আমার জন্য একত্রে উল্লেখ করে বলেছিলেন, “আমার পিতা-মাতা তোমার উপর কোরবান হোক”। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৭৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مَوْلَى جُهَيْنَةَ قَالَ سَمِعْتُ مُصْعَبَ بْنَ سَعْدٍ يُحَدِّثُ عَنْ سَعْدٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكْسِبَ فِي الْيَوْمِ أَلْفَ حَسَنَةٍ قَالَ وَمَنْ يُطِيقُ ذَلِكَ قَالَ يُسَبِّحُ مِائَةَ تَسْبِيحَةٍ فَيُكْتَبُ لَهُ أَلْفُ حَسَنَةٍ وَتُمْحَى عَنْهُ أَلْفُ سَيِّئَةٍ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে একদিনে এক হাজার নেকী অর্জন করতে পারে? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল ! এই শক্তি কি কারো আছে? রাসুল (সাঃ) বললেনঃ কোনো ব্যক্তি যদি একশত বার ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করে তাহলে তার আমলনামায় এক হাজার নেকী লেখা হয় এবং এক হাজার গুনাহ মুছে ফেলা হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৮০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ وَأَبُو سَعِيدٍ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدِّهِ وَعَنْ يَسَارِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدِّهِ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন ভাবে সালাম দিতেন যে, যখন তিনি ডান দিকে সালাম দিতেন তখন তার ডান মুখের শুভ্রতা দেখা যেতো এবং যখন তিনি বাম দিকে সালাম দিতেন, তখন তার বাম মুখের শুভ্রতা দেখা যেতো। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৮১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস