
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو الْفُقَيْمِيِّ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ وَلَكِنَّ الْوَاصِلَ مَنْ إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতিশোধ নেয়, তাকে আত্মীয়তার রক্ষক হিসেবে গণ্য করা হয় না। প্রকৃত আত্মীয়তার রক্ষক হলো সেই ব্যক্তি, যে যদি কেউ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক পুনস্থাপন করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৯৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُذُوا الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةٍ مِنْ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَسَالِمٍ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَذَاكَ رَجُلٌ لَا أَزَالُ أُحِبُّهُ مُنْذُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَدَأَ بِهِ
হজরত মাসরুর্ক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার সাইয়্যিদুনা ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু, সাইয়্যিদুনা ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা উল্লেখ করে বললেন, “সে এমন একজন মানুষ, যাকে আমি সর্বদা ভালোবাসবো। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, চার ব্যক্তির কাছ থেকে কুরআন শিখো, তাদের মধ্যে প্রথম ছিলেন (১) ইবনে মাসউদ, তারপর (২) উবাই ইবনে কাব, তারপর (৩) মুয়ায ইবনে জাবাল, তারপর (৪) আবু হুযাইফা, যিনি সালিমের মুক্ত দাস ছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৯৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ هِشَامٍ أَمْلَاهُ عَلَيْنَا حَدَّثَنِي أَبِي سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو مِنْ فِيهِ إِلَى فِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنْ النَّاسِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يَتْرُكْ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُؤَسَاءَ جُهَّالًا فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে জ্ঞান কেড়ে নিয়ে, ইলম কেড়ে নিবেন না, বরং তিনি আলেমদের কেড়ে নিয়ে ইলম কেড়ে নিবেন। যাতে যখন কোন আলেম অবশিষ্ট না থাকে, তখন লোকেরা অজ্ঞদের তাদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাদের সমস্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। কিন্তু তারা জ্ঞান ছাড়াই তাদের ফতোয়া দিবে, যার ফলে তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৯৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَمِسْعَرٌ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ الْمَكِّيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلُ الصَّوْمِ صَوْمُ أَخِي دَاوُدَ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَلَا يَفِرُّ إِذَا لَاقَى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا صَامَ مَنْ صَامَ الْأَبَدَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সর্বাধিক প্রিয় রোজা দাউদ আলাইহি ওয়া সাল্লামের পদ্ধতি। তিনি একদিন রোজা রাখতেন এবং অন্যদিন রাখতেন না। আর শত্রুর মুখোমুখি হলে পালিয়ে যেতেন না। যে ব্যক্তি সর্বদা রোজা রাখে, সে প্রকৃত রোজাদার নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৯৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ يُحَدِّثُ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اسْتَقْرِئُوا الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةٍ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَسَالِمٍ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ
হজরত মাসরুক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে বসে ছিলাম, তিনি ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা উল্লেখ করে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “তোমরা চার ব্যক্তির কাছ থেকে কুরআন শিখো।” তাদের মধ্যে প্রথম ছিলেন (১) ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু, তারপর (২) মুয়ায ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু, তারপর (৩) আবু হুযাইফার মুক্ত দাস সালিম রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং (৪) উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫০০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ يَزِيدَ أَبِي الْخَطَّابِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ شَرِبَهَا فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ شَرِبَهَا فَاجْلِدُوهُ فَقَالَ فِي الرَّابِعَةِ أَوْ الْخَامِسَةِ فَاقْتُلُوهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মদ পান করে, তাকে তোমরা বেত্রাঘাত করো, সে যদি আবার পান করে, তাহলে তাকে আবার বেত্রাঘাত করো। তারপর তাকে আবার বেত্রাঘাত করো। তারপর তাকে আবার বেত্রাঘাত করো। তারপর তাকে আবার বেত্রাঘাত করো।” আর চতুর্থ বা পঞ্চমবার তিনি বলেছেন, “তাকে তোমরা হত্যা করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫০১]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَإِيَّاكُمْ وَالْفُحْشَ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفُحْشَ وَلَا التَّفَحُّشَ وَإِيَّاكُمْ وَالشُّحَّ فَإِنَّ الشُّحَّ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ أَمَرَهُمْ بِالْقَطِيعَةِ فَقَطَعُوا وَأَمَرَهُمْ بِالْبُخْلِ فَبَخِلُوا وَأَمَرَهُمْ بِالْفُجُورِ فَفَجَرُوا قَالَ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْإِسْلَامِ أَفْضَلُ قَالَ أَنْ يَسْلَمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِكَ وَيَدِكَ فَقَامَ ذَاكَ أَوْ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ قَالَ أَنْ تَهْجُرَ مَا كَرِهَ رَبُّكَ وَالْهِجْرَةُ هِجْرَتَانِ هِجْرَةُ الْحَاضِرِ وَالْبَادِي فَهِجْرَةُ الْبَادِي أَنْ يُجِيبَ إِذَا دُعِيَ وَيُطِيعَ إِذَا أُمِرَ وَالْحَاضِرِ أَعْظَمُهُمَا بَلِيَّةً وَأَفْضَلُهُمَا أَجْرًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, “কিয়ামতের দিন অবিচার অন্ধত্বের আকারে থাকবে। অশ্লীলতা থেকে নিজেদের রক্ষা করো, কারণ আল্লাহ কোন ধরণের অশ্লীলতা পছন্দ করেন না, তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য। কৃপণতা থেকে নিজেদের রক্ষা করো, কারণ কৃপণতা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছিলো। এই কৃপণতাই তাদেরকে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার পথ দেখিয়েছিলো, তাই তারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলো। এই কৃপণতাই তাদেরকে তাদের সম্পদ ও সম্পদ জমা করে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলো। এই কৃপণতাই তাদেরকে পাপের পথ দেখিয়েছিলো, তাই তারা পাপ করতে শুরু করেছিলো।” ইতিমধ্যে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কোন ইসলাম ভালো?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যাতে অন্য মুসলিমরা তোমার জিহ্বা এবং হাত থেকে নিরাপদ থাকে।” আরেকজন লোক দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কোন পরহেযগারীতা ভালো?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের পালনকর্তাকে অসন্তুষ্ট করে এমন কাজ ত্যাগ করা। আর হিজরত দুই প্রকার, নগরবাসীর হিজরত এবং গ্রামবাসীর হিজরত। গ্রামবাসীর হিজরত হলো, যখন তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, তখন সে তা গ্রহণ করে এবং যখন তাকে আদেশ করা হয়, তখন সে তা পালন করে। আর নগরবাসীর পরীক্ষা অনেক বড় এবং তার প্রতিদানও অনেক বড়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫০২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ رَبِّ الْكَعْبَةِ قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ بَيْنَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ إِذْ نَزَلَ مَنْزِلًا فَمِنَّا مَنْ يَضْرِبُ خِبَاءَهُ وَمِنَّا مَنْ هُوَ فِي جَشَرِهِ وَمِنَّا مَنْ يَنْتَضِلُ إِذْ نَادَى مُنَادِيهِ الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ قَالَ فَاجْتَمَعْنَا قَالَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخَطَبَنَا فَقَالَ إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ قَبْلِي إِلَّا دَلَّ أُمَّتَهُ عَلَى مَا يَعْلَمُهُ خَيْرًا لَهُمْ وَيُحَذِّرُهُمْ مَا يَعْلَمُهُ شَرًّا لَهُمْ وَإِنَّ أُمَّتَكُمْ هَذِهِ جُعِلَتْ عَافِيَتُهَا فِي أَوَّلِهَا وَإِنَّ آخِرَهَا سَيُصِيبُهُمْ بَلَاءٌ شَدِيدٌ وَأُمُورٌ تُنْكِرُونَهَا تَجِيءُ فِتَنٌ يُرَقِّقُ بَعْضُهَا لِبَعْضٍ تَجِيءُ الْفِتْنَةُ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ مُهْلِكَتِي ثُمَّ تَنْكَشِفُ ثُمَّ تَجِيءُ الْفِتْنَةُ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ ثُمَّ تَنْكَشِفُ فَمَنْ سَرَّهُ مِنْكُمْ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنْ النَّارِ وَأَنْ يُدْخَلَ الْجَنَّةَ فَلْتُدْرِكْهُ مَوْتَتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ وَمَنْ بَايَعَ إِمَامًا فَأَعْطَاهُ صَفْقَةَ يَدِهِ وَثَمَرَةَ قَلْبِهِ فَلْيُطِعْهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنْ جَاءَ آخَرُ يُنَازِعُهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَ الْآخَرِ قَالَ فَأَدْخَلْتُ رَأْسِي مِنْ بَيْنِ النَّاسِ فَقُلْتُ أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ آنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى أُذُنَيْهِ فَقَالَ سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ وَوَعَاهُ قَلْبِي قَالَ فَقُلْتُ هَذَا ابْنُ عَمِّكَ مُعَاوِيَةُ يَعْنِي يَأْمُرُنَا بِأَكْلِ أَمْوَالِنَا بَيْنَنَا بِالْبَاطِلِ وَأَنْ نَقْتُلَ أَنْفُسَنَا وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ قَالَ فَجَمَعَ يَدَيْهِ فَوَضَعَهُمَا عَلَى جَبْهَتِهِ ثُمَّ نَكَسَ هُنَيَّةً ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ أَطِعْهُ فِي طَاعَةِ اللَّهِ وَاعْصِهِ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত আব্দুর রহমান বিন আব্দু-রব্ব আল-কাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি সাইয়্যিদিনা ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলাম, যিনি কাবার ছায়ায় বসে ছিলেন। আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, একবার আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর সাথে এক সফরে ছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি স্থানে পৌঁছালেন এবং তাঁবু স্থাপন করলেন। আমাদের মধ্যে কেউ তাঁবু স্থাপন করলেন, কেউ তৃণভূমিতে গেলেন, আবার কেউ তীর ছুঁড়তে লাগলেন। হঠাৎ একজন আহবানকারী ডাক দিলেন যে, নামাজ প্রস্তুত। আমরা সেই মুহূর্তে জড়ো হলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে খুতবার সময় বললেন, “আমার পূর্বে আগত সকল নবী তাদের উম্মতকে তাদের জন্যে যা ভালো বলে মনে করেছিলেন, তা বলেছিলেন এবং তাদের মন্দ মনে করেছিলেন, ঐ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই উম্মতের কল্যাণ তার প্রথম অংশে রয়েছে এবং এই উম্মতের শেষ লোকেরা কঠোর, কষ্ট ও অদ্ভুত এবং অদ্ভুত জিনিসের মুখোমুখি হবে। এমন পরীক্ষা আসবে, যা একে অপরের জন্যে নরম করে তুলবে। যখন একজন মুসলিমকে পরীক্ষা করা হবে, তখন সে বলবে, ‘এটি আমার মৃত্যুর কারণ হতে চলেছে।’ এবং কিছুক্ষণ পরে, এটিও শেষ হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পেতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চায়, সে যেনো আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে। আর যে ব্যক্তি কোন ইমামের প্রতি আনুগত্য করে এবং তাকে তার হাতের কাজ এবং তার হৃদয় দিয়ে স্বমর্থন করে, সে যেনো যথাসম্ভব তার আনুগত্য করে। আর যদি অন্য কেউ তার সাথে তর্ক করতে আসে, তাহলে সে যেনো অন্যের ঘাড় কেটে ফেলে।” বর্ণনাকারী বলেন, আমি লোকদের মধ্যে মাথা রেখে সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললাম, “আল্লাহর কসম, আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এটি শুনেছেন?” তিনি তার হাত দিয়ে তার কানের দিকে ইশারা করে বললেন, “আমার কান এটা শুনেছে এবং আমার হৃদয় এটা সংরক্ষণ করেছে।” আমি বললাম, তোমার এই চাচাতো ভাই (তিনি তার ধারণা অনুযায়ী সাইয়েদা আমির মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা বলছিলেন, অথচ বাস্তবতা ছিল এর বিপরীত) আমাদের একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে খাওয়ার এবং একে অপরকে হত্যা করার আদেশ দেয়, অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেও না।” এই কথা শুনে সাইয়েদুনা আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাত একত্র করে কপালে রাখলেন এবং কিছুক্ষণ মাথা নিচু করলেন, তারপর মাথা তুলে বললেন, “আল্লাহর আনুগত্যের কাজে তার আনুগত্য করো এবং আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে তার অবাধ্যতা করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫০৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُذُوا الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةٍ مِنْ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَسَالِمٍ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَذَاكَ رَجُلٌ لَا أَزَالُ أُحِبُّهُ مُنْذُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَدَأَ بِهِ
হজরত মাসরুর্ক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার সাইয়্যিদুনা ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু, সাইয়্যিদুনা ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা উল্লেখ করে বললেন, “সে এমন একজন মানুষ, যাকে আমি সর্বদা ভালোবাসবো। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, চার ব্যক্তির কাছ থেকে কুরআন শিখো, তাদের মধ্যে প্রথম ছিলেন (১) ইবনে মাসউদ, তারপর (২) উবাই ইবনে কাব, তারপর (৩) মুয়ায ইবনে জাবাল, তারপর (৪) আবু হুযাইফা, যিনি সালিমের মুক্ত দাস ছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫০৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي خُطْبَتِهِ وَهُوَ مُسْنِدٌ ظَهْرَهُ إِلَى الْكَعْبَةِ لَا يُقْتَلُ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ وَلَا ذُو عَهْدٍ فِي عَهْدِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর খুতবার সময় কাবার দিকে পিঠ হেলান দিয়ে বলেছিলেন, “কোনো মুসলিমকে অমুসলিমের জন্যে হত্যা করা উচিত নয়, এবং চুক্তির মেয়াদকালেও কোন অমুসলিমকে হত্যা করা উচিত নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫০৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنِي خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي خُطْبَتِهِ وَهُوَ مُسْنِدٌ ظَهْرَهُ إِلَى الْكَعْبَةِ الْمُسْلِمُونَ تَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ وَيَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবার দিকে হেলান দিয়ে খুতবা দেওয়ার সময় বলেছিলেন, “সকল মুসলমানের রক্ত সমান, এবং তাদের মধ্যে ক্ষুদ্রতম ব্যক্তির দায়িত্বও পূর্ণ হবে, এবং তারা নিজেদের ছাড়া সকলের উপর বিধান সমান। তাদের ব্যতীত অন্যদের থেকে তাদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। একজন নীচ মুসলিমও কাউকে আশ্রয় দিতে পারে, যা শেষ মুসলিমের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫০৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ رَيْحَانَ بْنِ يَزِيدَ الْعَامِرِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ وَلَا لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো ধনী ব্যক্তি অথবা শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্যে, যাকাত গ্রহণ করা জায়েজ নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫০৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْقَ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَتَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কুরআন তেলাওয়াতকারীকে বলা হবে, ‘কুরআন তেলাওয়াত করতে থাকো এবং জান্নাতের স্তরে আরোহণ করো, এবং তা অবিরাম তিলাওয়াত করো, যেমন তুমি পৃথিবীতে তিলাওয়াত করতে, কারণ তোমার গন্তব্য হবে, তুমি যে শেষ আয়াতটি পাঠ করবে সেখানে’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫০৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ قَالَ فَأَوْمَأَ بِيَدِهِ وَقَالَ لَا حَرَجَ وَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَبَحْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ قَالَ فَأَوْمَأَ بِيَدِهِ وَقَالَ لَا حَرَجَ قَالَ فَمَا سُئِلَ يَوْمَئِذٍ عَنْ شَيْءٍ مِنْ التَّقْدِيمِ وَالتَّأْخِيرِ إِلَّا أَوْمَأَ بِيَدِهِ وَقَالَ لَا حَرَجَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
বিদায় হজ্জের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি কোরবানি করার পূর্বে, আমার মাথা মুন্ডন করেছি।” তিনি হাতের ইশারায় বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই। এখন কোরবানি করো।” আরেক ব্যক্তি বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি জামরাকে পাথর মারার আগেই, আমার কোরবানি দিয়েছি।” তিনি হাতের ইশারায় বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই।” কোরবানি দেওয়া, জামরায় পাথর মেরে মাথা মুণ্ডন করা এবং হজ্জের বিভিন্ন নিয়মে মধ্যে অন্য কোনো পরিবর্তন থাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫০৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ قَالَ كَتَبَ إِلَيَّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبَاحٍ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ هَجَّرْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَإِنَّا لَجُلُوسٌ إِذْ اخْتَلَفَ رَجُلَانِ فِي آيَةٍ فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا فَقَالَ إِنَّمَا هَلَكَتْ الْأُمَمُ قَبْلَكُمْ بِاخْتِلَافِهِمْ فِي الْكِتَابِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদিন আমি বিকেলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এলাম। আমরা বসে ছিলাম, এমন সময় দুইজন ব্যক্তি একটি আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হলো এবং তাদের কণ্ঠস্বর ক্রমশ উচ্চতর হতে থাকে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলি তাদের কিতাবের পার্থক্যের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫১০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَخْنَسِ أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ كُنْتُ أَكْتُبُ كُلَّ شَيْءٍ أَسْمَعُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرِيدُ حِفْظَهُ فَنَهَتْنِي قُرَيْشٌ فَقَالُوا إِنَّكَ تَكْتُبُ كُلَّ شَيْءٍ تَسْمَعُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَشَرٌ يَتَكَلَّمُ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَا فَأَمْسَكْتُ عَنْ الْكِتَابِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ اكْتُبْ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا خَرَجَ مِنِّي إِلَّا حَقٌّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর কাছ থেকে যা শুনতেন তা লিখে রাখতেন, যাতে তিনি তা মনে রাখতে পারেন। কুরাইশরা আমাকে তা করতে নিষেধ করেছিলো এবং বলেছিলো, “তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে যা কিছু শুনতে পাও, তা লিখে রাখো, যদিও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও একজন মানুষ। কখনও তিনি রাগের সাথে কথা বলেন, কখনও আনন্দের সাথে।” এই লোকেরা এই কথা বলার পর, আমি লেখা বন্ধ করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর কাছে এটি উল্লেখ করি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তুমি লিখতে থাকো। যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার শপথ, আমার জিহ্বা থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫১১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ شُعْبَةُ حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ عَنْ هِلَالِ بْنِ يِسَافٍ عَنْ أَبِي يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ الْجَالِسِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ صَلَاةِ الْقَائِمِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বসে সালাত আদায়ের সওয়াব, দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ের সওয়াবের অর্ধেক।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫১২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنِ التَّيْمِيِّ عَنْ أَسْلَمَ عَنْ أَبِي مُرَيَّةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ النَّفَّاخَانِ فِي السَّمَاءِ الثَّانِيَةِ رَأْسُ أَحَدِهِمَا بِالْمَشْرِقِ وَرِجْلَاهُ بِالْمَغْرِبِ أَوْ قَالَ رَأْسُ أَحَدِهِمَا بِالْمَغْرِبِ وَرِجْلَاهُ بِالْمَشْرِقِ يَنْتَظِرَانِ مَتَى يُؤْمَرَانِ يَنْفُخَانِ فِي الصُّورِ فَيَنْفُخَانِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দ্বিতীয় আসমানে শিঙ্গা ফুঁ দেওয়ার জন্যে এমন একজন ফেরেশতা আছেন, যার মাথা পূর্ব দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে। আর সে শিঙ্গা ফুঁ দেওয়ার আদেশ শোনার জন্যে অপেক্ষা করছে, যাতে সে শিঙ্গায় ফুঁ দিতে পারে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫১৩]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ عَنْ أَسْلَمَ الْعِجْلِيِّ عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ أَعْرَابِيٌّ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الصُّورُ قَالَ قَرْنٌ يُنْفَخُ فِيهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক গ্রামবাসী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহা-শব্দ কী?” তিনি বললেন, “একটি শিঙ্গা যার মধ্যে কিয়ামতের সময় ফুঁ দেওয়া হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫১৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ قَالَ أَخْبَرَنِي عَامِرٌ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعِنْدَهُ الْقَوْمُ فَتَخَطَّى إِلَيْهِ فَمَنَعُوهُ فَقَالَ دَعُوهُ فَأَتَى حَتَّى جَلَسَ عِنْدَهُ فَقَالَ أَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ حَفِظْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি সাইয়্যিদিনা ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে এলেন, যখন কিছু লোক ইতিমধ্যেই তার সাথে বসে ছিল। সে তাদের ঘাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে উঠতে শুরু করলো। লোকেরা তাকে থামিয়ে দিলো, তাই সাইয়্যিদিনা ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “ওকে ছেড়ে দাও।” তিনি এসে তার সাথে বসলেন এবং বললেন, “আমাকে এমন একটি হাদিস বলুন যা আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সংরক্ষিত করেছেন?” তিনি বললেন, “আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘মুসলিম হলো সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে, আর মুহাজির হলো সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ যা নিষিদ্ধ করেছেন তা ত্যাগ করে’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫১৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ رَبِّ الْكَعْبَةِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنْ النَّارِ وَيَدْخُلَ الْجَنَّةَ فَلْتُدْرِكْهُ مَنِيَّتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَأْتِي إِلَى النَّاسِ مَا يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চায়, তার মৃত্যু হোক আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর ঈমান রেখে এবং সে যা পছন্দ করে, তা যেনো মানুষকে দান করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫১৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ شُعْبَةُ حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ عَنْ هِلَالِ بْنِ يِسَافٍ عَنْ أَبِي يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ الْجَالِسِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ صَلَاةِ الْقَائِمِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বসে সালাত আদায়ের সওয়াব, দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ের সওয়াবের অর্ধেক।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ هِلَالِ بْنِ يَسَافٍ عَنْ أَبِي يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَوْمًا يَتَوَضَّئُونَ وَأَعْقَابُهُمْ تَلُوحُ فَقَالَ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ أَسْبِغُوا الْوُضُوءَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু লোককে অযু করতে দেখলেন এবং তাদের পায়ের গোড়ালি উজ্জ্বল হয়ে উঠছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “অযু করার সময় গোড়ালি জাহান্নামের অভিশাপ, তাই তোমরা অযুর অংশগুলো ভালোভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে ধুয়ে ফেলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫১৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنِي هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثٍ لَمْ يَفْقَهْهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কুরআন খতম করে, সে কুরআনের কিছুই বুঝতে পারেনি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫১৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا مِسْعَرٌ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَأْذِنُهُ فِي الْجِهَادِ فَقَالَ أَحَيٌّ وَالِدَاكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাঁকে সালাম করে বললেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার সাথে জিহাদে যেতে চাই, এবং আমার একমাত্র লক্ষ্য হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখেরাতের আবাস লাভ করা।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার পিতামাতার কেউ কি জীবিত আছে?” সে বললো, “হ্যাঁ, উভয়েই জীবিত।” তিনি বললেন, “ফিরে যাও এবং তোমার পিতামাতার সাথে ভালো ব্যবহার করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫২০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ الْمُكْتِبِ عَنْ أَبِي كَثِيرٍ الزُّبَيْدِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ قَالَ أَنْ تَهْجُرَ مَا كَرِهَ رَبُّكَ وَهُمَا هِجْرَتَانِ هِجْرَةُ الْحَاضِرِ وَهِجْرَةُ الْبَادِي فَأَمَّا هِجْرَةُ الْبَادِي فَيُطِيعُ إِذَا أُمِرَ وَيُجِيبُ إِذَا دُعِيَ وَأَمَّا هِجْرَةُ الْحَاضِرِ فَهِيَ أَشَدُّهُمَا بَلِيَّةً وَأَعْظَمُهُمَا أَجْرًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একজন ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কোন পরহেযগারীতা ভালো?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের পালনকর্তাকে অসন্তুষ্ট করে এমন কাজ ত্যাগ করা। আর হিজরত দুই প্রকার, নগরবাসীর হিজরত এবং গ্রামবাসীর হিজরত। গ্রামবাসীর হিজরত হলো, যখন তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, তখন সে তা গ্রহণ করে এবং যখন তাকে আদেশ করা হয়, তখন সে তা পালন করে। আর নগরবাসীর হিজরত অনেক বড় এবং তার প্রতিদানও অনেক বড়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫২১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا عَنْ عَامِرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ الْمُهَاجِرُ قَالَ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আসল মুহাজির কে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “একজন মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তি আল্লাহ যা নিষিদ্ধ করেছেন, তা ত্যাগ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫২২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ رَبِّ الْكَعْبَةِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ بَايَعَ إِمَامًا فَأَعْطَاهُ صَفْقَةَ يَدِهِ وَثَمَرَةَ قَلْبِهِ فَلْيُطِعْهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنْ جَاءَ آخَرُ يُنَازِعُهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَ الْآخَرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন ইমামের প্রতি আনুগত্য করে এবং তাকে তার হাতের কাজ এবং তার হৃদয় দিয়ে সমর্থন করে, তার উচিত যথাসম্ভব তার আনুগত্য করা। আর যদি অন্য কেউ তার সাথে তর্ক করতে আসে, তাহলে অন্য ব্যক্তির মাথা কেটে ফেলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫২৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو يُوسُفَ الْمُؤَدِّبُ يَعْقُوبُ جَارُنَا حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ الْمُطَّلِبِ عَنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ زَيْدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫২৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا الرَّدَّادِ اللَّيْثِيَّ أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَا الرَّحْمَنُ خَلَقْتُ الرَّحِمَ وَشَقَقْتُ لَهَا مِنْ اسْمِي اسْمًا فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُّهُ
হজরত আবদ আল-রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ বলেছেন, “আমি আর-রহমান এবং আমি আর-রহিম (আত্মীয়তার বন্ধন) সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম থেকে এ নামটি তৈরি করেছি, যে ব্যক্তি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবো এবং যে ব্যক্তি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবো এবং আমি ঐ ব্যক্তিকে টুকরো টুকরো করে দিবো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫২৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস