

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَرْثٍ بِالْمَدِينَةِ وَهُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى عَسِيبٍ قَالَ فَمَرَّ بِقَوْمٍ مِنْ الْيَهُودِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ سَلُوهُ عَنْ الرُّوحِ قَالَ بَعْضُهُمْ لَا تَسْأَلُوهُ فَسَأَلُوهُ عَنْ الرُّوحِ فَقَالُوا يَا مُحَمَّدُ مَا الرُّوحُ فَقَامَ فَتَوَكَّأَ عَلَى الْعَسِيبِ قَالَ فَظَنَنْتُ أَنَّهُ يُوحَى إِلَيْهِ فَقَالَ وَيَسْأَلُونَكَ عَنْ الرُّوحِ قُلْ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنْ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا قَالَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ قَدْ قُلْنَا لَكُمْ لَا تَسْأَلُوهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মদীনার বসতিহীন এলাকা দিয়ে চলছিলাম। তিনি একখানি খেজুরের ডালে ভর দিয়ে একদল ইয়াহুদীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তারা একজন অন্য জনকে বলতে লাগলো, ‘তাঁকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো।’ আর একজন বললো, ‘তাঁকে কোনো প্রশ্ন করো না, হয়তো তিনি এমন কোনো জবাব দিবেন, যা তোমরা পছন্দ করোনা।’ আবার কেউ কেউ বললো, ‘তাঁকে আমরা প্রশ্ন করবোই।’ অতঃপর তাদের মধ্যে হতে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, ‘হে আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! রূহ কী?’ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ করে রইলেন, আমি মনে মনে বললাম, তাঁর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে। তাই আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। অতঃপর যখন সে অবস্থা কেটে গেল তখন তিনি বললেন,
وَيَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلرُّوحِۖ قُلِ ٱلرُّوحُ مِنۡ أَمۡرِ رَبِّي وَمَآ أُوتِيتُم مِّنَ ٱلۡعِلۡمِ إِلَّا قَلِيلٗا٨٥
তারা আপনাকে আত্মা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, “আত্মা আমার প্রভুর আদেশ ঘটিত। বস্তুত তোমাদেরকে এ বিষয়ে সামান্য জ্ঞান দেওয়া হয়েছে।” (১৭. বনী ইসরাঈল / আল ইসরা : ৮৫)
এ কথা শুনে তারা একে অপরকে বললো, আমরা বলেছিলাম যে, ‘তাঁকে কোনো প্রশ্ন করো না।’ [মুসনাদে আহমাদ : ৪০২৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَمَّارِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الدُّهْنِيِّ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ الْأَشْجَعِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ابْنُ سُمَيَّةَ مَا عُرِضَ عَلَيْهِ أَمْرَانِ قَطُّ إِلَّا اخْتَارَ الْأَرْشَدَ مِنْهُمَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ইবনে সুমাইয়া (আম্মার ইবনে ইয়াসির) রাদিয়াল্লাহু আনহু এমন একজন ব্যক্তি, যাকে দুইটি বিষয়ের মধ্যে এখতিয়ায় দেওয়া হলে, সে অধিকতর হিদায়াতপূর্ণ বিষয়টি গ্রহণ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০২৮]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَجُلًا أَصَابَ مِنْ امْرَأَةٍ قُبْلَةً فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُهُ عَنْ كَفَّارَتِهَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِي هَذِهِ فَقَالَ لِمَنْ عَمِلَ كَذَا مِنْ أُمَّتِي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমু দিলো। অতঃপর অনুতপ্ত হয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কাফফারা সম্পর্কে জানতে চাইলো। সে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি বাগানে একজন মহিলাকে পেলাম। আমি ওকে আমার দিকে টেনে নিয়ে আমার বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছি। ব্যভিচার ছাড়া সব কিছুই করেছি, এখন আমার কি করা উচিত?” তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করলেন,
وَأَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ طَرَفَيِ ٱلنَّهَارِ وَزُلَفٗا مِّنَ ٱلَّيۡلِۚ إِنَّ ٱلۡحَسَنَٰتِ يُذۡهِبۡنَ ٱلسَّيِّـَٔاتِۚ ذَٰلِكَ ذِكۡرَىٰ لِلذَّٰكِرِينَ١١٤
হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ফজর ও আসর আর মাগরীব ও এশার সময় নামায প্রতিষ্ঠিত করুন। নিশ্চয় ভালো কাজ, মন্দ কাজকে দূর করে দেয়। এ কুরআন তাদের জন্যে একটি স্মরণীয় উপদেশ, যারা আল্লাহকে স্মরণ করে। (১১. হুদ : ১১৪)
লোকটি জিজ্ঞেস করলো, “হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই আদেশ কি শুধু মাত্র আমার জন্যে?” রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “না। বরং এই বিধান আমার উম্মতের এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যে, যে ব্যক্তি এ ধরনের কাজ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০২৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قُبَّةٍ نَحْوٌ مِنْ أَرْبَعِينَ فَقَالَ أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا رُبُعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ قُلْنَا نَعَمْ قَالَ أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ قُلْنَا نَعَمْ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ تَكُونُوا نِصْفَ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَذَاكَ أَنَّ الْجَنَّةَ لَا يَدْخُلُهَا إِلَّا نَفْسٌ مُسْلِمَةٌ وَمَا أَنْتُمْ فِي الشِّرْكِ إِلَّا كَالشَّعْرَةِ الْبَيْضَاءِ فِي جِلْدِ ثَوْرٍ أَسْوَدَ أَوْ السَّوْدَاءِ فِي جِلْدِ ثَوْرٍ أَحْمَرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা প্রায় চল্লিশ জনের মতো একটি তাঁবুতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর সাথে অবস্থান করছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে?” আমরা বললাম, “হ্যাঁ।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরা জান্নাতীদের এক তৃতীয়াংশ হবে?” আমরা বললাম, “হ্যাঁ।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি আশা করি যে, অবশ্যই তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। কেননা, কেবল মাত্র মুসলমানরাই সেখানে প্রবেশের অনুমতি লাভ করবে। আর মুশরিকদের মধ্যে তোমাদের অবস্থান হবে, যেমন কাল ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশম অথবা লাল ষাঁড়ের গায়ে একটি কালো পশমের মতো। কেয়ামতের দিন জান্নাতীদের একশত বিশটি দল হবে। যার মধ্যে শুধুমাত্র তোমাদেরই আটটি দল থাকবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৩০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا أَبُو هَمَّامٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَسَّانَ عَنْ فُلْفُلَةَ الْجُعْفِيِّ قَالَ فَزِعْتُ فِيمَنْ فَزِعَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ فِي الْمَصَاحِفِ فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ إِنَّا لَمْ نَأْتِكَ زَائِرِينَ وَلَكِنْ جِئْنَاكَ حِينَ رَاعَنَا هَذَا الْخَبَرُ فَقَالَ إِنَّ الْقُرْآنَ نَزَلَ عَلَى نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ سَبْعَةِ أَبْوَابٍ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ أَوْ قَالَ حُرُوفٍ وَإِنَّ الْكِتَابَ قَبْلَهُ كَانَ يَنْزِلُ مِنْ بَابٍ وَاحِدٍ عَلَى حَرْفٍ وَاحِدٍ
হজরত ফুল্ল জাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
লোকেরা কুরআনের পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেদমতে এসেছিলো। আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। আমরা তার বাড়িতে প্রবেশ করি এবং আমাদের একজন বললো যে, “আমরা আপনার সাথে দেখা করতে এসেছি, এই খবর শোনার পর আতঙ্কিত হয়ে যে, হযরত উসমান গণি রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কাছে থাকা কোরআনের পাণ্ডুলিপি ছাড়া, অন্য সব পাণ্ডুলিপি ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা আতঙ্কিত হয়ে আপনার কাছে এসেছি।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “এই কোরআন সাতটি পদ্ধতিতে ও সাতটি আঞ্চলিক ভাষায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর অবতীর্ণ হয়েছে। অথচো পূর্ববর্তী বইগুলি একটি পদ্ধতিতে ও একটি আঞ্চলিক ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিলো। (তাই আমাদের কোরআন অনেক বেশি সুরক্ষিত রয়েছে, যা অন্য বই গুলিতে ছিলো না। তাই আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই।)” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৩১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَمَةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ أُوتِيَ نَبِيُّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَفَاتِيحَ كُلِّ شَيْءٍ غَيْرَ خَمْسٍ إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঁচটি জিনিস ছাড়া সবকিছুর জ্ঞানের চাবি দেওয়া হয়েছিলো। অতঃপর হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন,
إِنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥ عِلۡمُ ٱلسَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ ٱلۡغَيۡثَ وَيَعۡلَمُ مَا فِي ٱلۡأَرۡحَامِۖ وَمَا تَدۡرِي نَفۡسٞ مَّاذَا تَكۡسِبُ غَدٗاۖ وَمَا تَدۡرِي نَفۡسُۢ بِأَيِّ أَرۡضٖ تَمُوتُۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرُۢ٣٤
নিশ্চয় কেবল মাত্র আল্লাহর কাছেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন ও মায়ের গর্ভাশয়ের মধ্যে যা আছে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না যে, আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে। আর কেউ জানে না যে, কোন দেশে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, পূর্ণ অবগত। (৩১. লোকমান : ৩৪) [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৩২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ مِسْعَرٍ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْيَشْكُرِيِّ عَنْ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ ابْنَةُ أَبِي سُفْيَانَ اللَّهُمَّ أَمْتِعْنِي بِزَوْجِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِأَبِي أَبِي سُفْيَانَ وَبِأَخِي مُعَاوِيَةَ قَالَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكِ سَأَلْتِ اللَّهَ لِآجَالٍ مَضْرُوبَةٍ وَأَيَّامٍ مَعْدُودَةٍ وَأَرْزَاقٍ مَقْسُومَةٍ لَنْ يُعَجَّلَ شَيْءٌ قَبْلَ حِلِّهِ أَوْ يُؤَخَّرَ شَيْءٌ عَنْ حِلِّهِ وَلَوْ كُنْتِ سَأَلْتِ اللَّهَ أَنْ يُعِيذَكِ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ كَانَ أَخْيَرَ أَوْ أَفْضَلَ قَالَ وَذُكِرَ عِنْدَهُ الْقِرَدَةُ قَالَ مِسْعَرٌ أُرَاهُ قَالَ وَالْخَنَازِيرُ إِنَّهُ مِمَّا مُسِخَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَمْسَخْ شَيْئًا فَيَدَعَ لَهُ نَسْلًا أَوْ عَاقِبَةً وَقَدْ كَانَتْ الْقِرَدَةُ أَوْ الْخَنَازِيرُ قَبْلَ ذَلِكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন সঙ্গী উম্মু হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে আল্লাহ! আমার স্বামী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার পিতা আবূ সুফইয়ান ও আমার ভাই মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে আমাকে সাচ্ছন্দ্য জীবন দান করুন।” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি তো আল্লাহর নিকট নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল, দিন-কাল সুনির্ধারিত কয়েক দিন এবং বন্টনকৃত জীবন উপরকণ সম্পর্কে মুনাজাত করলে। এ বিষয় গুলো কখনো যথা সময়ের আগে বাড়বে না বা যথা সময়ের পরে বিলম্ব হবে না। যদি তুমি আল্লাহর নিকটে জাহান্নামের শাস্তি হতে মুক্তি লাভের জন্যে অথবা কবরের আযাব হতে মুক্তির জন্যে দুআ করতে, তাহলে তাই উত্তম হতো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকটে বানী ইসরাঈলের বানরে পরিণত হওয়ার কথা আলোচনা করা হলো। মিসআর বলেন, আমি মনে করি , শূকরে পরিণত হওয়ার কথাও আলোচনা করা হয়। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহ তাআলা যাদের আকৃতি বিকৃতি করেছেন, তাদের কোনো বংশ বা উত্তরাধিকারী রাখেননি। ঐ আকৃতি বিকৃতির পূর্বেও পৃথিবীতে বানর ও শূকর ছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৩৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ الْقِرَدَةُ وَالْخَنَازِيرُ هِيَ مِمَّا مُسِخَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَمْسَخْ اللَّهُ قَوْمًا أَوْ يُهْلِكْ قَوْمًا فَيَجْعَلَ لَهُمْ نَسْلًا وَلَا عَاقِبَةً وَإِنَّ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ قَدْ كَانَتْ قَبْلَ ذَلِكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো যে, “বানর কি মানুষের বিকৃত রূপ?” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহ তাআলা যাদের আকৃতি বিকৃতি করেছেন, তাদের কোনো বংশ বা উত্তরাধিকারী রাখেননি। ঐ আকৃতি বিকৃতির পূর্বেও পৃথিবীতে বানর ও শূকর ছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৩৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


عَبْد اللَّهِ بْن أَحْمَد قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي مِنْ هَاهُنَا إِلَى الْبَلَاغِ فَأَقَرَّ بِهِ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ أَبِي النَّجُودِ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَاهُ بَيْنَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعَبْدُ اللَّهِ يُصَلِّي فَافْتَتَحَ النِّسَاءَ فَسَحَلَهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَقْرَأَ الْقُرْآنَ غَضًّا كَمَا أُنْزِلَ فَلْيَقْرَأْهُ عَلَى قِرَاءَةِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ ثُمَّ تَقَدَّمَ يَسْأَلُ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ سَلْ تُعْطَهْ سَلْ تُعْطَهْ سَلْ تُعْطَهْ فَقَالَ فِيمَا سَأَلَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ إِيمَانًا لَا يَرْتَدُّ وَنَعِيمًا لَا يَنْفَدُ وَمُرَافَقَةَ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَعْلَى جَنَّةِ الْخُلْدِ قَالَ فَأَتَى عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ عَبْدَ اللَّهِ لِيُبَشِّرَهُ فَوَجَدَ أَبَا بَكْرٍ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ قَدْ سَبَقَهُ فَقَالَ إِنْ فَعَلْتَ لَقَدْ كُنْتَ سَبَّاقًا بِالْخَيْرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি নামায আদায় করছিলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আবূ বকর এবং উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু -ও উপস্থিত ছিলেন। আমি (শেষ বৈঠকে) বসলাম, প্রথমে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করলাম, তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাম নিবেদন করলাম, তারপর নিজের জন্যে দুআ করলাম। আমি সূরা নিসা তিলাওয়াত শুরু করনাম এবং দক্ষতার সাথে তিলাওয়াত করতে থাকলাম। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “কুরআন যেভাবে নাযিল হয়েছে, যে ব্যক্তি সেভাবেই তিলাওয়াত করতে চায়, সে যেন ইবনু উম্মে আবদের মতো করে তা পাঠ করে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বললেন, “তুমি প্রার্থনা করতে থাকো, তোমাকে দেওয়া হবে, তুমি প্রার্থনা করতে থাকো, তোমাকে দেওয়া হবে।” আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু দৌড়ে গেলেন (তাঁর দোয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্যে)। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি যখনি আবু বকরের সাথে কোনো বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি, তিনি আমাকে প্রতিবারই পরাজিত করেছেন।” আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে তার দোয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমার দোয়ার একটি অংশ, যা আমি কখনো পরিত্যাগ করি না। ”
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَبِيدُ وَقُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْفَدُ وَمُرَافَقَةَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُحَمَّدٍ فِي أَعْلَى الْجَنَّةِ جَنَّةِ الْخُلْدِ
“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এমন আশীর্বাদ চাই, যা কখনো শেষ হবে না এবং এমন চোখের শীতলতা চাই, যা কখনো শেষ হবে না এবং আমি জান্নাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য কামনা করছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৩৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي حَدَّثَكُمْ عَمْرُو بْنُ مُجَمِّعٍ أَبُو الْمُنْذِرِ الْكِنْدِيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ جَعَلَ حَسَنَةَ ابْنِ آدَمَ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ إِلَّا الصَّوْمَ وَالصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ إِفْطَارِهِ وَفَرْحَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালা রোজা ব্যতীত, আদম সন্তানের একটি নেক আমলকে দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমি নিজেই রোজার প্রতিদান দিবো। একজন রোজাদারের জন্যে দুই সময়ে অধিক সুখবর রয়েছে। এক রোজা ভাঙার সময়, দুই কেয়ামতের দিন আল্লাহ সাথে সাক্ষাতের সময়ে সে আনন্দিত হবে। আর রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে কস্তুরির গন্ধের চেয়েও প্রিয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৩৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنِ الْهَجَرِيِّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَاءَ خَادِمُ أَحَدِكُمْ بِطَعَامِهِ فَلْيَبْدَأْ بِهِ فَلْيُطْعِمْهُ أَوْ لِيُجْلِسْهُ مَعَهُ فَإِنَّهُ وَلِيَ حَرَّهُ وَدُخَانَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কারো খাদেম যখন তার খাবার নিয়ে আসে, তখন সে যেনো তাকে দিয়ে শুরু করে এবং তাকে খাওয়ায় অথবা তাকে তার সাথে বসাবে, কারণ সে এর উত্তাপ ও ধোঁয়া সহ্য করেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৩৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي حَدَّثَكَ عَمْرُو بْنُ مُجَمِّعٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ أَوَّلَ مَنْ سَيَّبَ السَّوَائِبَ وَعَبَدَ الْأَصْنَامَ أَبُو خُزَاعَةَ عَمْرُو بْنُ عَامِرٍ وَإِنِّي رَأَيْتُهُ يَجُرُّ أَمْعَاءَهُ فِي النَّارِ حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي حَدَّثَكَ حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَجَرِيِّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ وَعَبَدَ الْأَصْنَامَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “প্রথম যে ব্যক্তি ‘সাইবা’ বলে পশু ত্যাগ করে ও মূর্তি পূজা শুরু করে, সে হলো আমর বিন আমির আল-খুযায়ী। আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে তার নিড়ি-ভুড়ি টেনে হেচড়ে বেরাতে দেখেছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৩৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُسْلِمٍ الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ الْمِسْكِينُ بِالطَّوَّافِ وَلَا بِالَّذِي تَرُدُّهُ التَّمْرَةُ وَلَا التَّمْرَتَانِ وَلَا اللُّقْمَةُ وَلَا اللُّقْمَتَانِ وَلَكِنْ الْمِسْكِينُ الْمُتَعَفِّفُ الَّذِي لَا يَسْأَلُ النَّاسَ شَيْئًا وَلَا يُفْطَنُ لَهُ فَيُتَصَدَّقَ عَلَيْهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ঐ ব্যক্তি প্রকৃত মিসকীন নয়, যে ব্যক্তি এক বা দুইটি খেজুর খেয়ে ভিক্ষা করে বেড়ায় অথবা এক বা দুইটি খেজুর খেয়ে খুশি হয়। বরং প্রকৃত মিসকীন হলো ঐ নম্র ব্যক্তি, যে ব্যক্তি মানুষের কাছে কিছু চাইতে অনিচ্ছুক। আর মানুষকে বুঝতে দেয় না যে, সে একজন অভাবী ব্যক্তি, যাতে কেউ তাকে দান করে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৪০৩৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي حَدَّثَكُمْ الْقَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ أَخْبَرَنَا الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَيْدِي ثَلَاثَةٌ فَيَدُ اللَّهِ الْعُلْيَا وَيَدُ الْمُعْطِي الَّتِي تَلِيهَا وَيَدُ السَّائِلِ السُّفْلَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হাত হলো তিন প্রকার। (১) আল্লাহর হাত, যা সবার উপরে, (২) দাতার হাত, যা আল্লাহর হাতের নীচে, এবং (৩) গ্রহণকারীর হাত, যা সবার নীচে।” অন্য বর্ণনায় রয়েছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অতএব, তোমরা বেশি বেশি দান করো এবং নিজেকে অভাবী বানিয়ো না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৪০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي حَدَّثَكَ عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِبَابُ الْمُسْلِمِ أَخَاهُ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ وَحُرْمَةُ مَالِهِ كَحُرْمَةِ دَمِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া হচ্ছে মন্দ কাজ এবং তার সঙ্গে যুদ্ধ করা হচ্ছে কুফরী। আর তার সম্পদের পবিত্রতা তার জীবনের পবিত্রতার সমান।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৪১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِيَّاكُمْ وَهَاتَانِ الْكَعْبَتَانِ الْمَوْسُومَتَانِ اللَّتَانِ تُزْجَرَانِ زَجْرًا فَإِنَّهُمَا مَيْسِرُ الْعَجَمِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিক্ষেপ করা এই দুটি চিহ্নিত গুটি (অর্থাৎ পাশা) থেকে নিজেকে বাঁচাও, কারণ এগুলো অনারবদের জুয়া।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৪২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ قَالَ أَخْبَرَنَا الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التَّوْبَةُ مِنْ الذَّنْبِ أَنْ يَتُوبَ مِنْهُ ثُمَّ لَا يَعُودَ فِيهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো গুনাহ থেকে তাওবা করার অর্থ হলো যে, কোনো ব্যক্তি তাওবা করার পর, যেনো পুনরায় সেই পাপ না করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৪৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَتَّقِ أَحَدُكُمْ وَجْهَهُ النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা এক টুকরো খেজুর দান করে হলেও, তোমরা তোমাদের মুখ মণ্ডলকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنِ الْهَجَرِيِّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَاءَ خَادِمُ أَحَدِكُمْ بِطَعَامِهِ فَلْيَبْدَأْ بِهِ فَلْيُطْعِمْهُ أَوْ لِيُجْلِسْهُ مَعَهُ فَإِنَّهُ وَلِيَ حَرَّهُ وَدُخَانَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কারো খাদেম যখন তার খাবার নিয়ে আসে, তখন সে যেনো তাকে দিয়ে শুরু করে এবং তাকে খাওয়ায় অথবা তাকে তার সাথে বসাবে, কারণ সে এর উত্তাপ ও ধোঁয়া সহ্য করেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاءً إِلَّا قَدْ أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা যত প্রকারের রোগ সৃষ্টি করেছেন, তিনি প্রতিটি রোগেরই প্রতিষেধক সৃষ্টি করেছেন। যারা তা জানে, তারা তা জানে আর যারা তা জানে না, তারা তা জানে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৪৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا كَانَ ثُلُثُ اللَّيْلِ الْبَاقِي يَهْبِطُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا ثُمَّ تُفْتَحُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ ثُمَّ يَبْسُطُ يَدَهُ فَيَقُولُ هَلْ مِنْ سَائِلٍ يُعْطَى سُؤْلَهُ فَلَا يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, তখন মহান আল্লাহ স্বীয় মহিমা অনুযায়ী আসমান ও জগতে অবতরণ করেন। তারপর বেহেশতের দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয়। তারপর আল্লাহ স্বীয় হাত প্রসারিত করেন এবং বলেন, ‘এমন কেউ কি আছে, যে কিছু চাইবে, যাতে তাকে তা দেওয়া হয়?’ এবং ভোর না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেভাবেই থাকেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৪৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ الْحَدَّادُ قَالَ حَدَّثَنَا سُكَيْنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْعَبْدِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا عَالَ مَنْ اقْتَصَدَ قَالَ عَبْد اللَّهِ بْن أَحْمَد إِلَى هُنَا قَرَأْتُ عَلَى أَبِي وَمِنْ هُنَا حَدَّثَنِي أَبِي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে, সে কখনই দরিদ্র হবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৪৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شِقَّتَيْنِ حَتَّى نَظَرُوا إِلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اشْهَدُوا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে চাঁদ দুভাগ হয়ে গিয়েছিলো এবং সবাই তা দেখতে পেলো। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা সাক্ষী থাকো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৪৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بِمِنًى فَلَقِيَهُ عُثْمَانُ فَقَامَ مَعَهُ يُحَدِّثُهُ فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَلَا نُزَوِّجُكَ جَارِيَةً شَابَّةً لَعَلَّهَا أَنْ تُذَكِّرَكَ مَا مَضَى مِنْ زَمَانِكَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَمَا لَئِنْ قُلْتَ ذَاكَ لَقَدْ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ
হজরত আলকামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে মিনায় হেঁটে যাচ্ছিলাম, তখন উসমানের সাথে তার দেখা হয়েছিলো। তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে কথা বললেন এবং উসমান তাঁকে বললেন, “হে আবু আবদুর-রহমান, আমরা কি তোমাকে এমন এক তরুণীর সাথে বিয়ে দেবো না, যে তোমাকে অতীতের কথা মনে করিয়ে দেবে?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “যদি তুমি আমাকে এটাই বলছো, (আমি তোমাকে বলি যে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন যে, ‘হে যুবকরা! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেনো বিয়ে করে নেয়, কেননা তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং চরিত্র রক্ষায় অধিক কার্যকরী। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেনো রোজা রাখে, কেননা তা তার জন্যে ঢাল স্বরূপ হবে’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৫০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّ الْأَسْوَدَ وَعَلْقَمَةَ كَانَا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ فِي الدَّارِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ صَلَّى هَؤُلَاءِ قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَصَلَّى بِهِمْ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ وَقَامَ وَسَطَهُمْ وَقَالَ إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَاصْنَعُوا هَكَذَا فَإِذَا كُنْتُمْ أَكْثَرَ فَلْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ وَلْيَضَعْ أَحَدُكُمْ يَدَيْهِ بَيْنَ فَخِذَيْهِ إِذَا رَكَعَ فَلْيَحْنَأْ فَكَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى اخْتِلَافِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হজরত ইবরাহীম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আলকামাহ ও আসওয়াদ উভয়েই হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেদমতে উপস্থিত ছিলেন। নামাযের সময় হলে আলকামাহ ও আসওয়াদ পিছনে দাঁড়ালো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের হাত ধরে একজনকে তার ডান পাশে এবং অন্যজনকে তার বাম পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাযের আযান ও ইকামা ছাড়াই তাদের ইমামতি করলেন এবং তিনি নিজেই তাদের মাঝখানে দাঁড়ালেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “যখন তোমরা তিনজন হয়ে যাবে, তখন তোমরা একইভাবে করবে এবং যখন তিনজনের বেশি হবে? তোমাদের মধ্যে একজন ব্যক্তি ইমামতি করবে।” অতঃপর যখন তারা উভয়ে রুকু করলো, তখন তারা তাদের হাঁটুর উপর হাত রাখলো। এটা দেখে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের দুই হাতে আঘাত করলেন এবং আঙ্গুলগুলো পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ করালেন এবং উভয় হাত তার উরুর মাঝে রেখে বললেন, “আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন আচরণ করতে দেখেছি।”
[টীকাঃ এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় উলাফ। পরবর্তীতে এই রায় রহিত করা হয়। কিন্তু হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু শেষ পর্যন্ত এর প্রত্যাখ্যানে বিশ্বাসী হননি।] [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৫১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ خِلَاسٍ وَعَنْ أَبِي حَسَّانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ سُبَيْعَةَ بِنْتَ الْحَارِثِ وَضَعَتْ حَمْلَهَا بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِخَمْسَ عَشْرَةَ لَيْلَةً فَدَخَلَ عَلَيْهَا أَبُو السَّنَابِلِ فَقَالَ كَأَنَّكِ تُحَدِّثِينَ نَفْسَكِ بِالْبَاءَةِ مَا لَكِ ذَلِكَ حَتَّى يَنْقَضِيَ أَبْعَدُ الْأَجَلَيْنِ فَانْطَلَقَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَتْهُ بِمَا قَالَ أَبُو السَّنَابِلِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَذَبَ أَبُو السَّنَابِلِ إِذَا أَتَاكِ أَحَدٌ تَرْضَيْنَهُ فَأْتِينِي بِهِ أَوْ قَالَ فَأَنْبِئِينِي فَأَخْبَرَهَا أَنَّ عِدَّتَهَا قَدْ انْقَضَتْ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ خِلَاسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ أَنَّ سُبَيْعَةَ بِنْتَ الْحَارِثِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ وَقَالَ فِيهِ وَإِذَا أَتَاكِ كُفُؤٌ فَأْتِينِي أَوْ أَنْبِئِينِي وَلَيْسَ فِيهِ ابْنُ مَسْعُودٍ و قَالَ عَبْدُ الْوَهَّابِ عَنْ خِلَاسٍ عَنِ ابْنِ عُتْبَةَ مُرْسَلٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সাবিয়া বিনতে হারিছ রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্বামীর মৃত্যুর মাত্র পনের দিন পর একটি সন্তানের জন্ম হয়। এদিকে আবুল সানাবল তার কাছে গিয়ে বললো, “মনে হচ্ছে তুমি আবার বিয়ে করতে চাও। তুমি তা করতে পারো না, যতক্ষণ না, তুমি দুটি মাসিক পার করে ইদ্দত পূর্ণ করো। এর অন্যথা করা তোমার জন্যে জায়েজ নয়।” সাবিয়া রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে আবু সানাবলের কথা বললো। তখন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন যে, “আবু সানাবল ভুল বলেছে। যদি তোমার কাছে এমন কোনো সম্পর্ক আসে, যা তুমি পছন্দ করো, তবে তুমি এসে আমাকে বলো। তোমার ইদ্দত তো পূর্ণ হয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৫২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


قَالَ قَرَأْتُ عَلَى يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ هِشَامٍ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ خِلَاسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ قَالَ أُتِيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ فَسُئِلَ عَنْ رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَلَمْ يَكُنْ سَمَّى لَهَا صَدَاقًا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَلَمْ يَقُلْ فِيهَا شَيْئًا فَرَجَعُوا ثُمَّ أَتَوْهُ فَسَأَلُوهُ فَقَالَ سَأَقُولُ فِيهَا بِجَهْدِ رَأْيِي فَإِنْ أَصَبْتُ فَاللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يُوَفِّقُنِي لِذَلِكَ وَإِنْ أَخْطَأْتُ فَهُوَ مِنِّي لَهَا صَدَاقُ نِسَائِهَا وَلَهَا الْمِيرَاثُ وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ أَشْجَعَ فَقَالَ أَشْهَدُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَضَى بِذَلِكَ قَالَ هَلُمَّ مَنْ يَشْهَدُ لَكَ بِذَلِكَ فَشَهِدَ أَبُو الْجَرَّاحِ بِذَلِكَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا هِشَامٌ الْمَعْنَى إِلَّا أَنَّهُ قَالَ فِي بَرْوَعَ بِنْتِ وَاشِقٍ فَقَالَ هَلُمَّ شَاهِدَاكَ عَلَى هَذَا فَشَهِدَ أَبُو سِنَانٍ وَالْجَرَّاحُ رَجُلَانِ مِنْ أَشْجَعَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার কিছু লোক আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো, যে একজন মহিলাকে বিয়ে করেছে এবং মহর নির্ধারন করেনি। তারপর তার সাথে সহবাস করার আগেই সে মারা গেলো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাতে কোনো সাড়া না দেওয়ায়, তারা চলে গেলো। অতঃপর তারা ফিরে এসে তাঁকে আবার জিজ্ঞাসা করলে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমি আমার নিজের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কথা বলবো। যদি আমি তা সঠিক হয়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, এবং যদি আমি ভুল করি, তবে তা আমার পক্ষ থেকে। সে তার সমবয়সীদের মতো মহরের অধিকারী হবে, তার মিরাছেরও অধিকার রয়েছে এবং তাকে ইদ্দাহ পালন করতে হবে।” আশজার এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এ ব্যাপারে একটি রায় দিয়েছেন।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমার কাছে এমন কাউকে নিয়ে এসো, যে তোমার সাথে এর সাক্ষ্য দেবে।” তখন আবুল জাররাহ এর সাক্ষ্য দিয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৫৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَلِيَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يُوَاطِئُ اسْمُهُ اسْمِي قَالَ أَبِي حَدَّثَنَا بِهِ فِي بَيْتِهِ فِي غُرْفَتِهِ أُرَاهُ سَأَلَهُ بَعْضُ وَلَدِ جَعْفَرِ بْنِ يَحْيَى أَوْ يَحْيَى بْنِ خَالِدِ بْنِ يَحْيَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ততক্ষণ পর্যন্ত এই পৃথিবী শেষ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না, আরবরা এমন একজন ব্যক্তির দ্বারা শাসিত হবে, যার নাম আমার নামের সঙ্গে মিলে যাবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৫৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ جَابِرٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَا نَسِيتُ فِيمَا نَسِيتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ حَتَّى يُرَى أَوْ نَرَى بَيَاضَ خَدَّيْهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি অনেক বিষয় ভুলে গেছি, কিন্তু আমি এই বিষয় ভুলে যাইনি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযের শেষে তার ডানে ও বামে সালাম দিতেন ও বলতেন السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ যতক্ষণ না, তাঁর গালের শুভ্রতা দেখা যেতো। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৫৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عَشِيَّةَ الْجُمُعَةِ فِي الْمَسْجِدِ قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ أَحَدُنَا رَأَى مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا فَقَتَلَهُ قَتَلْتُمُوهُ وَإِنْ تَكَلَّمَ جَلَدْتُمُوهُ وَإِنْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى غَيْظٍ وَاللَّهِ لَئِنْ أَصْبَحْتُ صَالِحًا لَأَسْأَلَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَسَأَلَهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَحَدُنَا رَأَى مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا فَقَتَلَهُ قَتَلْتُمُوهُ وَإِنْ تَكَلَّمَ جَلَدْتُمُوهُ وَإِنْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى غَيْظٍ اللَّهُمَّ احْكُمْ قَالَ فَأُنْزِلَتْ آيَةُ اللِّعَانِ قَالَ فَكَانَ ذَاكَ الرَّجُلُ أَوَّلَ مَنْ ابْتُلِيَ بِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা আমরা শুক্রবার সন্ধ্যায় মসজিদে নববীতে বসেছিলাম। এমন সময় এক আনসারী (আজলান গোত্রের ওয়াইমির আজলানী) এসে বললো, “কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে অপর কোনো ব্যক্তিকে (অপকর্মে লিপ্ত) পেয়ে তাকে হত্যা করে, তাহলে তোমরা তাকে হত্যা করবে! আর যদি যেনার অপবাদ দেয়, তাহলে তোমরা তাকে অবশ্যই বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর শপথ! আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে বিষয়টি তুলে ধরবো।” অতএব সে তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে পেশ করলে আল্লাহ তাআলা লিয়ান সংক্রান্ত আয়াত নাযিল করেন। সর্বপ্রথম এই ব্যক্তিই এই ধরনের পরীক্ষায় পতিত হয়েছিলো। অতঃপর লোকটি তার স্ত্রীর প্রতি যেনার অপবাদসহ হাযির হলে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের উভয়কে লিয়ান করান। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হয়তো সে একটি কৃষ্ণকায় সন্তান প্রসব করবে।” পরে সে একটি কৃষ্ণকায় ও কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট একটি বাচ্চা প্রসব করে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৫৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস