
حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنَا عَطَاءٌ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِامْرَأَةٍ مِنْ الْأَنْصَارِ سَمَّاهَا ابْنُ عَبَّاسٍ فَنَسِيتُ اسْمَهَا مَا مَنَعَكِ أَنْ تَحُجِّي مَعَنَا الْعَامَ قَالَتْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّمَا كَانَ لَنَا نَاضِحَانِ فَرَكِبَ أَبُو فُلَانٍ وَابْنُهُ لِزَوْجِهَا وَابْنِهَا نَاضِحًا وَتَرَكَ نَاضِحًا نَنْضَحُ عَلَيْهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا كَانَ رَمَضَانُ فَاعْتَمِرِي فِيهِ فَإِنَّ عُمْرَةً فِيهِ تَعْدِلُ حَجَّةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন আনসারী মহিলাকে বললেন, যার নাম হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু উল্লেখ করেছেন, কিন্তু বর্ণনাকারী তা ভুলে গেছেন, “এ বছর আমাদের সাথে হজ্জ করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?” মহিলা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে দুটি পানি বহনকারী উট আছে, যার একটিতে চড়ে আমার স্বামী ও ছেলে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে এবং একটি উট আমাদের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে, যাতে আমরা তাতে পানি পূর্ণ করতে পারি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যখন রমজান মাস আসবে, তখন তুমি ওমরাহ করো, কারণ রমজান মাসে উমরা করার সওয়াব হজের সমান।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯২১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ قَبَّلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مَيِّتٌ
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মারা যাওয়ার পর হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কপালে চুম্বন করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯২২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سُفْيَانَ قَالَ حَدَّثَنِي الْمُغِيرَةُ بْنُ النُّعْمَانِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُحْشَرُ النَّاسُ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا فَأَوَّلُ مَنْ يُكْسَى إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَام ثُمَّ قَرَأَ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে খালি পায়ে, উলঙ্গ শরীরে এবং খতনাবিহীন অবস্থায় একত্রিত করা হবে এবং সর্বপ্রথম যে ব্যক্তিকে পোশাক পরানো হবে, তিনি হলেন হজরত ইব্রাহীম (আঃ)।” অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন,
يَوۡمَ نَطۡوِي ٱلسَّمَآءَ كَطَيِّ ٱلسِّجِلِّ لِلۡكُتُبِۚ كَمَا بَدَأۡنَآ أَوَّلَ خَلۡقٖ نُّعِيدُهُۥۚ وَعۡدًا عَلَيۡنَآۚ إِنَّا كُنَّا فَٰعِلِينَ١٠٤
সেই দিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নিবো, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেইভাবে আমি সব কিছুকে পুনরায় সৃষ্টি করবো। অঙ্গীকার রক্ষা করা আমার উপরে দায়িত্ব। নিশ্চয় আমিই অঙ্গীকার সম্পাদনকারী। [২১ : ১০৪] [মুসনাদে আহমাদ : ১৯২৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ عُيَيْنَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ إِنِّي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ وَإِنَّ أَرْضَنَا أَرْضٌ بَارِدَةٌ فَذَكَرَ مِنْ ضُرُوبِ الشَّرَابِ فَقَالَ اجْتَنِبْ مَا أَسْكَرَ مِنْ زَبِيبٍ أَوْ تَمْرٍ أَوْ مَا سِوَى ذَلِكَ قَالَ مَا تَقُولُ فِي نَبِيذِ الْجَرِّ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَبِيذِ الْجَرِّ
হজরত উয়াইনা ইবনে আবদুর-রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমার পিতা আমাকে বলেছেন, এক ব্যক্তি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে বললো, আমি আমি খোরাসানের বাসিন্দা এবং আমাদের দেশটি একটি শীতল দেশ। সে বিভিন্ন ধরণের পানীয়ের কথা উল্লেখ করলো। হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, কিসমিস, খেজুর বা যে কোন ধরনের নেশাকারী খাবার এড়িয়ে চলো। ঐ ব্যক্তি বললো, মাটির পাত্রে পানীয় (নাবীজ) তৈরি করা সম্পর্কে আপনি কি বলেন? হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির পাত্রে নাবীজ তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯২৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ فِطْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو الطُّفَيْلِ قَالَ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّ قَوْمَكَ يَزْعُمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ رَمَلَ بِالْبَيْتِ وَأَنَّهَا سُنَّةٌ قَالَ صَدَقُوا وَكَذَبُوا قُلْتُ كَيْفَ صَدَقُوا وَكَذَبُوا قَالَ قَدْ رَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْبَيْتِ وَلَيْسَ بِسُنَّةٍ قَدْ رَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ وَالْمُشْرِكُونَ عَلَى جَبَلِ قُعَيْقِعَانَ فَبَلَغَهُ أَنَّهُمْ يَتَحَدَّثُونَ أَنَّ بِهِمْ هَزْلًا فَأَمَرَ بِهِمْ أَنْ يَرْمُلُوا لِيُرِيَهُمْ أَنَّ بِهِمْ قُوَّةً
হজরত আবু আল-তুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, আপনার সম্প্রদায় বলে যে, কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করার সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমল করেছেন এবং এটা সুন্নাত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তারা সত্য বলছে এবং মিথ্যা বলছে। আমি বললাম, তারা কিভাবে সত্য ও মিথ্যা বলছে? তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করার সময় রমল করেছেন কিন্তু তা সুন্নাত নয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ মক্কায় এসেছিলেন যখন মুশরিকরা কুয়াকিয়ান পর্বতে ছিলো এবং তিনি শুনতে পেলেন যে তারা বলছে যে, মুসলিমরা দুর্বল হয়ে পরেছে, তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে রমল করতে নির্দেশ দিলেন। যেনো মুশরিকদেরকে দেখানো যায় যে, মুসলিমদের শক্তি আছে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯২৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَوَكِيعٌ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ يُحَدِّثُ بَعْدَمَا كَبِرَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَائِرَاتِ الْقُبُورِ وَالْمُتَّخِذِينَ عَلَيْهَا الْمَسَاجِدَ وَالسُّرُجَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবর যিয়ারতকারী মহিলাদেরকে (যারা অবৈধ কাজ করে), যারা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করে এবং যারা কবরের ওপর প্রদীপ জ্বালায়, তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ১৯২৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ مُعَتِّبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا حَسَنٍ مَوْلَى أَبِي نَوْفَلٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ اسْتَفْتَى ابْنَ عَبَّاسٍ فِي مَمْلُوكٍ تَحْتَهُ مَمْلُوكَةٌ فَطَلَّقَهَا تَطْلِيقَتَيْنِ ثُمَّ عَتَقَا هَلْ يَصْلُحُ لَهُ أَنْ يَخْطُبَهَا قَالَ نَعَمْ قَضَى بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হজরত উমর বিন মুতাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
উমর বিন মুতাব বলেন, আবু নওফালের আযাদকৃত ক্রীতদাস আবু হাসান হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে একজন ক্রীতদাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, যদি সে কোনো ক্রীতদাসীকে বিয়ে করে এবং সে তাকে দুই তালাক দিয়ে মুক্ত করে, তাহলে কি সে তাকে আবার বিয়ে করতে পারবে? তিনি বললেন, “হ্যাঁ, পারবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে এমনি রায় দিয়েছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯২৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ بِنِصْفِ دِينَارٍ وَلَمْ يَرْفَعْهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَلَا بَهْزٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঋতুস্রাব অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাসকারী ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, “সে যেনো এক দিনার বা অর্ধ দিনার সদকা করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯২৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ مُجَالِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَكَلَّمَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَهُوَ كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا وَالَّذِي يَقُولُ لَهُ أَنْصِتْ لَيْسَ لَهُ جُمُعَةٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিনে ইমামের খুতবার সময় কথা বলে, তার উদাহরণ এমন একটি গাধার মতো যে বই বহন করে কিন্তু সেগুলো সে বুঝে না। আর যে ব্যক্তি তাকে বলে যে, ‘চুপ থাকো’ তার জন্য জুমআ নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯২৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَوْ أَنَّ النَّاسَ غَضُّوا مِنْ الثُّلُثِ إِلَى الرُّبُعِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الثُّلُثُ كَثِيرٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমার ইচ্ছা যে, মানুষের উচিত তাদের সম্পত্তির অসিয়ত এক-তৃতীয়াংশ থেকে কমিয়ে এক-চতুর্থাংশ করা। কারণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, “এক তৃতীয়াংশও অনেক।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৩০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا الْمِنْهَالُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ أَنَّ رَجُلًا أَتَى ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ أُنْزِلَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرًا بِمَكَّةَ وَعَشْرًا بِالْمَدِينَةِ فَقَالَ مَنْ يَقُولُ ذَلِكَ لَقَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ بِمَكَّةَ عَشْرًا وَخَمْسًا وَسِتِّينَ وَأَكْثَرَ
হজরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে বললো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় দশ বছর এবং মদীনায় দশ বছর ওহী পেয়েছিলেন। তিনি বললেন, “এটা কে বলেছে? প্রকৃতপক্ষে, তিনি মক্কায় পনেরো বছর এবং মদীনায় দশ বছর ওহী পেয়েছিলেন এবং তিনি পঁয়ষট্টি (৬৫) বছর বা আরো বেশি বছর বেঁচে ছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৩১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا فُضَيْلٌ يَعْنِي ابْنَ غَزْوَانَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَيُّ يَوْمٍ هَذَا قَالُوا هَذَا يَوْمٌ حَرَامٌ قَالَ أَيُّ بَلَدٍ هَذَا قَالُوا بَلَدٌ حَرَامٌ قَالَ فَأَيُّ شَهْرٍ هَذَا قَالُوا شَهْرٌ حَرَامٌ قَالَ إِنَّ أَمْوَالَكُمْ وَدِمَاءَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا ثُمَّ أَعَادَهَا مِرَارًا ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ مِرَارًا قَالَ يَقُولُ ابْنُ عَبَّاسٍ وَاللَّهِ إِنَّهَا لَوَصِيَّةٌ إِلَى رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ قَالَ أَلَا فَلْيُبَلِّغْ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ لَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
বিদায় হজের ভাষনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হে লোক সকল! এটা কোন দিন?” সাহাবীরা বললো, এটা একটা পবিত্র দিন। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “এটা কোন শহর?” সাহাবীরা বললো, এটা একটা পবিত্র শহর। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “এটা কোন মাস?” সাহাবীরা বললো, এটা একটা পবিত্র মাস। তিনি বললেন, “তোমরা এটি মনে রেখো যে, তোমাদের ধন-সম্পদ, তোমাদের জীবন ও সম্মান তোমাদের একে অপরের কাছে ঠিক তেমনি পবিত্র, যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিনটি, তোমাদের এই শহরটি এবং তোমাদের এই মাসটি।” তিনি এটি বেশ কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করলেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, “হে আল্লাহ! আমি কি তোমার বার্তা পৌঁছে দিয়েছি?” তিনি এই বাক্য বেশ কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহর কসম, এটা ছিলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আমাদের প্রতি উপদেশ। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা এই বার্তা মনে রেখো, যে ব্যক্তি এখানে উপস্থিত আছে, সে যেনো অনুপস্থিতদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেয়। আমার পরে তোমরা একে অপরের ঘাড়ে আঘাত করে কাফের হয়ে যেও না।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৩২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مُسْلِمٍ الطَّحَّانُ الصَّغِيرُ قَالَ سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ يَرْفَعُ الْحَدِيثَ فِيمَا أُرَى إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَرَكَ الْحَيَّاتِ مَخَافَةَ طَلَبِهِنَّ فَلَيْسَ مِنَّا مَا سَالَمْنَاهُنَّ مُنْذُ حَارَبْنَاهُنَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি এই ভয়ে সাপ মারা পরিত্যাগ করে যে, সাপ তাকে তাড়া করবে, সে আমাদের দলের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা সাপদের সাথে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে, আমরা কখনোই সাপদের সাথে সন্ধি স্থাপন করিনি।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৩৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ يَسَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ فِي أَوَّلِ رَكْعَةٍ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ إِلَى آخِرِ الْآيَةِ وَفِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
ফজরের নামাযের প্রথম রাকাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করতেন,
قُولُوٓاْ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيۡنَا وَمَآ أُنزِلَ إِلَىٰٓ إِبۡرَٰهِـۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ وَإِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَ وَٱلۡأَسۡبَاطِ وَمَآ أُوتِيَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَمَآ أُوتِيَ ٱلنَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمۡ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّنۡهُمۡ وَنَحۡنُ لَهُۥ مُسۡلِمُونَ١٣٦
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা বলো, “আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহর প্রতি আর কুরআনের প্রতি যে গ্রন্থ আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে আর যে গ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছিলো ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং বিভিন্ন গোত্রের প্রতি। আর যে গ্রন্থ দেওয়া হয়েছিলো মূসাকে এবং ঈসাকে আর যে গ্রন্থ সকল নবীদেরকে তাঁদের প্রভুর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিলো। আমরা তাঁদের কোনো একজনের মধ্যেও পার্থক্য করি না। আর আমরা আল্লাহরই অনুগত।” [২ : ১৩৬]
এবং ফজরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে তিনি এই পাঠ করতেন,
۞فَلَمَّآ أَحَسَّ عِيسَىٰ مِنۡهُمُ ٱلۡكُفۡرَ قَالَ مَنۡ أَنصَارِيٓ إِلَى ٱللَّهِۖ قَالَ ٱلۡحَوَارِيُّونَ نَحۡنُ أَنصَارُ ٱللَّهِ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَٱشۡهَدۡ بِأَنَّا مُسۡلِمُونَ٥٢
কিন্তু যখন ঈসা তাদের মধ্যে আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস সম্পর্কে উপলব্ধি করলেন, তখন তিনি বললেন, “কে কে আছে, যারা আল্লাহর পথে আমাকে সাহায্য করবে?” ঈসার সাথীরা বললো, “আমরা আল্লাহর পথে সাহায্যকারী হবো। আমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করি আর আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা অনুগত। [৩ : ৫২] [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৩৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ هِشَامِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كِنَانَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مُتَخَشِّعًا مُتَضَرِّعًا مُتَوَاضِعًا مُتَبَذِّلًا مُتَرَسِّلًا فَصَلَّى بِالنَّاسِ رَكْعَتَيْنِ كَمَا يُصَلِّي فِي الْعِيدِ لَمْ يَخْطُبْ كَخُطْبَتِكُمْ هَذِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনভাবে (বৃষ্টির জন্যে নামাজের ইমামতি করার জন্যে) ঘর থেকে বের হয়েছিলেন যে, তিনি বিনীতভাবে, নম্রতার সাথে, কোনো সাজ-সজ্জা ছাড়াই সাধারন কাপড় পরিধান করে এবং ধীর গতিতে হেটে নামাজের স্থানে গেলেন। তারপর তিনি ঈদের নামাযের মতো লোকদেরকে নিয়ে দুই রাকাত নামায পড়ালেন। কিন্তু তিনি তোমাদের মতো খুতবা দেননি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৩৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ مَكَّةَ خَرَجَ عَلِيٌّ بِابْنَةِ حَمْزَةَ فَاخْتَصَمَ فِيهَا عَلِيٌّ وَجَعْفَرٌ وَزَيْدٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عَلِيٌّ ابْنَةُ عَمِّي وَأَنَا أَخْرَجْتُهَا وَقَالَ جَعْفَرٌ ابْنَةُ عَمِّي وَخَالَتُهَا عِنْدِي وَقَالَ زَيْدٌ ابْنَةُ أَخِي وَكَانَ زَيْدٌ مُؤَاخِيًا لِحَمْزَةَ آخَى بَيْنَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِزَيْدٍ أَنْتَ مَوْلَايَ وَمَوْلَاهَا وَقَالَ لِعَلِيٍّ أَنْتَ أَخِي وَصَاحِبِي وَقَالَ لِجَعْفَرٍ أَشْبَهْتَ خَلْقِي وَخُلُقِي وَهِيَ إِلَى خَالَتِهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কা ছেড়ে চলে যেতে লাগলেন, তখন হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হজরত হামযার রাদিয়াল্লাহু আনহুর কন্যাকে সাথে নিয়ে এলেন। হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু, হজরত জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হজরত যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এই বিষয়ে বিবাদ করছিলো যে, কে এই কন্যার দেখাশোনা করবে? তারা তাদের বিবাদকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উল্লেখ করলো। হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “সে আমার চাচার মেয়ে এবং আমি তাকে আমার সাথে নিয়ে এসেছি।” হজরত জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “সে আমার চাচার মেয়ে এবং তার খালা অর্থাৎ হযরত আসমা বিনতে উমাইস রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার সাথে বিবাহিত। সে আমার ভাতিজি, তাই তাকে লালন-পালন করার অধিকার সব চেয়ে বেশি আমার।” হজরত যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “সে আমার ভাইয়ের মেয়ে।” (হজরত যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হজরত হামযা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভাই হয়েছিলেন, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় হিজরতের পর মুমিনদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেছিলেন।) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, “তুমি আমাদের ভাই এবং আমাদের মুক্তকৃত দাস।” তিনি হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, “তুমি আমার থেকে এবং আমি তোমার থেকে। (তুমি আমার ভাই ও আমার সঙ্গী।)” এবং তিনি হজরত জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, “চেহারা ও চরিত্রে তুমি আমার মতো। (তুমি শারীরিকভাবে এবং আচরণে আমার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।) এবং মেয়েটি তার খালার সাথে থাকবে কারণ খালাও মায়ের মতোই।” (অর্থাৎ, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেয়েটির ব্যাপারে হজরত জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষে ফয়সালা দিলেন।) [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৩৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَعْلَةَ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ بَيْعِ الْخَمْرِ فَقَالَ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدِيقٌ مِنْ ثَقِيفٍ أَوْ مِنْ دَوْسٍ فَلَقِيَهُ بِمَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ بِرَاوِيَةِ خَمْرٍ يُهْدِيهَا إِلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَبَا فُلَانٍ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ اللَّهَ حَرَّمَهَا فَأَقْبَلَ الرَّجُلُ عَلَى غُلَامِهِ فَقَالَ اذْهَبْ فَبِعْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَبَا فُلَانٍ بِمَاذَا أَمَرْتَهُ قَالَ أَمَرْتُهُ أَنْ يَبِيعَهَا قَالَ إِنَّ الَّذِي حَرَّمَ شُرْبَهَا حَرَّمَ بَيْعَهَا فَأَمَرَ بِهَا فَأُفْرِغَتْ فِي الْبَطْحَاءِ
হজরত আবদুর-রহমান ইবনু ওয়ালাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মদ বিক্রির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং তিনি বললেন যে, মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাত করার জন্য সাকীফ বা দাউস গোত্রের একজন ব্যক্তি এসেছিলো। সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বন্ধু ছিলো। সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উপহার হিসাবে দেওয়ার জন্য একটি মদের একটি বড় কলস নিয়ে এসেছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন যে, “হে অমুকের পিতা, তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ মদ হারাম করেছেন?” একথা শুনে লোকটি তার গোলামের দিকে ফিরে ফিসফিস করে বললো, “যাও এবং মদটি বিক্রি করে দাও।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “হে অমুকের পিতা, তুমি তাকে কি করতে বলছো?” সে বললো, “আমি তাকে মদটি বিক্রি করতে বলেছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “যিনি এটা পান করতে নিষেধ করেছেন, তিনি তা বিক্রি করতেও নিষেধ করেছেন।” তাই তিনি তা আল-বাথায় শহরে নিয়ে গিয়ে ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৩৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْرِضُ الْكِتَابَ عَلَى جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَام فِي كُلِّ رَمَضَانَ فَإِذَا أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ اللَّيْلَةِ الَّتِي يَعْرِضُ فِيهَا مَا يَعْرِضُ أَصْبَحَ وَهُوَ أَجْوَدُ مِنْ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ لَا يُسْأَلُ عَنْ شَيْءٍ إِلَّا أَعْطَاهُ فَلَمَّا كَانَ فِي الشَّهْرِ الَّذِي هَلَكَ بَعْدَهُ عَرَضَ عَلَيْهِ عَرْضَتَيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমজান মাসে হজরত জিবরাইল (আঃ)-এর সঙ্গে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করতেন। যে রাতে তিনি কোরআন তেলাওয়াত করতেন, সেই দিন সকালে তিনি প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি উদার হতেন। তার কাছে কোনো কিছু চাওয়া হলেই, তিনি তা সাথে সাথেই দিয়ে দিয়েছেন। যে রমজান মাসে তিনি মারা গেলেন, সেই রমজান মাসে তিনি হজরত জিবরাইল (আঃ)-এর সঙ্গে দুই খতম পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৩৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِجِبْرِيلَ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَزُورَنَا أَكْثَرَ مِمَّا تَزُورُنَا قَالَ فَنَزَلَتْ وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ إِلَى آخِرِ الْآيَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত জিবরিল (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন,
“আপনি আমাদের সাথে যতবার দেখা করতে আসেন, তার চেয়ে বেশিবার আপনি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন না কেনো?” তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়,
وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمۡرِ رَبِّكَۖ لَهُۥ مَا بَيۡنَ أَيۡدِينَا وَمَا خَلۡفَنَا وَمَا بَيۡنَ ذَٰلِكَۚ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيّٗا٦٤
জিবরিল বললেন, “আমরা আপনার প্রভুর আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না। যা আমাদের সামনের ভবিষ্যৎ ও যা আমাদের পিছনের অতীত ও যা এই দুইয়ের মধ্যে বর্তমান, সবই আল্লাহর আয়ত্ত্বাধীন। আপনার প্রভু কোনো কিছুই ভুলে যান না। [১৯ : ৬৪] [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৩৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ حَضَرْنَا مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ جَنَازَةَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَرِفَ قَالَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ هَذِهِ مَيْمُونَةُ إِذَا رَفَعْتُمْ نَعْشَهَا فَلَا تُزَعْزِعُوهَا وَلَا تُزَلْزِلُوهَا فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عِنْدَهُ تِسْعُ نِسْوَةٍ وَكَانَ يَقْسِمُ لِثَمَانٍ وَوَاحِدَةٌ لَمْ يَكُنْ لِيَقْسِمَ لَهَا قَالَ عَطَاءٌ الَّتِي لَمْ يَكُنْ يَقْسِمُ لَهَا صَفِيَّةُ
হজরত আতা ইবনে আবী রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সরফ নামক স্থানে উম্মুল মুমিনীন হজরত মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “ইনি হলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহু। সুতরাং যখন তোমরা জানাজাটি উপরে তুলবে, তখন তোমরা এটিকে বেশি নড়াচড়া করবেন না বা তোমাদের পা তাড়াতাড়ি চালাবে না। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নয়জন স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাঁর সময়কে আটজন স্ত্রীদের মধ্যে ভাগ করতেন (হযরত মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও তাদের মধ্যে ছিলেন) এবং তিনি তাঁর সময়কে একজন স্ত্রীর জন্যে (বৃদ্ধা হওয়ার কারণে) ভাগ করতেন না।” হজরত আতা ইবনে আবী রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যে স্ত্রীর জন্যে পালা নির্ধারিত ছিলো না, তিনি ছিলেন হযরত সাফিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু। (তবে জনপ্রিয় গবেষকদের মতে, তিনি ছিলেন হযরত সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহু। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।)” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৪০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ يَسَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ فِي أَوَّلِ رَكْعَةٍ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ إِلَى آخِرِ الْآيَةِ وَفِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
ফজরের নামাযের প্রথম রাকাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করতেন,
قُولُوٓاْ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيۡنَا وَمَآ أُنزِلَ إِلَىٰٓ إِبۡرَٰهِـۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ وَإِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَ وَٱلۡأَسۡبَاطِ وَمَآ أُوتِيَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَمَآ أُوتِيَ ٱلنَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمۡ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّنۡهُمۡ وَنَحۡنُ لَهُۥ مُسۡلِمُونَ١٣٦
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা বলো, “আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহর প্রতি আর কুরআনের প্রতি যে গ্রন্থ আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে আর যে গ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছিলো ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং বিভিন্ন গোত্রের প্রতি। আর যে গ্রন্থ দেওয়া হয়েছিলো মূসাকে এবং ঈসাকে আর যে গ্রন্থ সকল নবীদেরকে তাঁদের প্রভুর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিলো। আমরা তাঁদের কোনো একজনের মধ্যেও পার্থক্য করি না। আর আমরা আল্লাহরই অনুগত।” [২ : ১৩৬]
এবং ফজরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে তিনি এই পাঠ করতেন,
۞فَلَمَّآ أَحَسَّ عِيسَىٰ مِنۡهُمُ ٱلۡكُفۡرَ قَالَ مَنۡ أَنصَارِيٓ إِلَى ٱللَّهِۖ قَالَ ٱلۡحَوَارِيُّونَ نَحۡنُ أَنصَارُ ٱللَّهِ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَٱشۡهَدۡ بِأَنَّا مُسۡلِمُونَ٥٢
কিন্তু যখন ঈসা তাদের মধ্যে আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস সম্পর্কে উপলব্ধি করলেন, তখন তিনি বললেন, “কে কে আছে, যারা আল্লাহর পথে আমাকে সাহায্য করবে?” ঈসার সাথীরা বললো, “আমরা আল্লাহর পথে সাহায্যকারী হবো। আমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করি আর আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা অনুগত। [৩ : ৫২] [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৪১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لَا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لَا يَصُومُ وَمَا صَامَ شَهْرًا تَامًّا مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ إِلَّا رَمَضَانَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
কখনও কখনও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ধারাবাহিক ভাবে রোজা রাখতেন যে, আমরা বলতাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কখনোই রোযা ভঙ্গ করবেন না এবং কখনও কখনও এমন ভাবে রোজা ভঙ্গ করতেন যে, আমরা বলতাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কখনোই রোজা রাখবেন না। যখন থেকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এসেছেন, তখন থেকে তিনি রমজান মাস ব্যতীত অন্য কোনো মাসে পুরো মাস রোজা রাখেননি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৪২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ أَكْحَالِكُمُ الْإِثْمِدُ يَجْلُو الْبَصَرَ وَيُنْبِتُ الشَّعَرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের জন্যে সুরমা হলো এক ধরনের উপকারী ধাতু, যা ব্যবহারে তোমাদের চোখের পাপড়ি নতুন করে গজায় ও চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৪৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ لَقِيَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَالَ تَزَوَّجْتَ قَالَ قُلْتُ لَا قَالَ تَزَوَّجْ ثُمَّ لَقِيَنِي بَعْدَ ذَلِكَ فَقَالَ تَزَوَّجْتَ قَالَ قُلْتُ لَا قَالَ تَزَوَّجْ فَإِنَّ خَيْرَ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَكْثَرُهَا نِسَاءً
হজরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার সাথে দেখা করলেন এবং বললেন, “তুমি কি বিয়ে করেছো?” আমি বললাম, “না।” তিনি বললেন, “বিয়ে করো।” এরপর বেশ কিছু দিন কেটে গেলো, আবার দেখা হলে তিনি একই কথা জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি বিয়ে করেছো?” আমি বললাম, “না।” তিনি বললেন, “বিয়ে করো, কেননা এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যার স্ত্রী সবচেয়ে বেশি।” (অর্থাৎ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক স্ত্রী ছিলো, তাই তোমার অন্তত একজন স্ত্রী থাকা উচিত। সুতরাং তোমার সামর্থ্য থাকলে চারটি বিয়ে করো, নতুবা একটি বিয়েই তোমার জন্যে উত্তম।) [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيُّ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرْسَلْتَ الْكَلْبَ فَأَكَلَ مِنْ الصَّيْدِ فَلَا تَأْكُلْ فَإِنَّمَا أَمْسَكَ عَلَى نَفْسِهِ وَإِذَا أَرْسَلْتَهُ فَقَتَلَ وَلَمْ يَأْكُلْ فَكُلْ فَإِنَّمَا أَمْسَكَ عَلَى صَاحِبِهِ قَالَ عَبْد اللَّهِ وَكَانَ فِي كِتَابِ أَبِي عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَضَرَبَ عَلَيْهِ أَبِي كَذَا قَالَ أَسْبَاطٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমরা শিকারী কুকুরকে শিকারে ছেড়ে দাও এবং সে শিকারের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে, তখন তোমরা তা খাবে না, কারণ সে শিকারকে নিজের জন্যেই ধরেছে। আর যখন তোমরা শিকারী কুকুরকে শিকারে ছেড়ে দাও এবং সে গিয়ে শিকারটিকে মেরে ফেলে কিন্তু নিজে শিকারের কোন অংশই খায় না, তখন তোমরা তা খাবে, কারণ এখন সে এটাকে তার মালিকের জন্যে শিকার করেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ عَنْ أَبِي جَنَابٍ الْكَلْبِيِّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ ثَلَاثٌ هُنَّ عَلَيَّ فَرَائِضُ وَهُنَّ لَكُمْ تَطَوُّعٌ الْوَتْرُ وَالنَّحْرُ وَصَلَاةُ الضُّحَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “তিনটি জিনিস আমার ওপর ফরজ কিন্তু তোমাদের জন্য নফল, একটি হলো বিতরের নামায, অপরটি হলো কুরবানী এবং তৃতীয়টি হলো চাশতের নামাজ।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৪৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ قَالَ سَمِعْتُ الْأَعْمَشَ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفَاضَ مِنْ مُزْدَلِفَةَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্যোদয়ের পূর্বে মুযদালিফা ত্যাগ করেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ১৯৪৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي تَاسِعَةٍ تَبْقَى أَوْ خَامِسَةٍ تَبْقَى أَوْ سَابِعَةٍ تَبْقَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কদরের রাত সম্পর্কে বলেছেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশদিনে কদরের রাত অনুসন্ধান করো, যখন নয়টি রাত বাকী থাকে, যখন সাত রাত বাকি থাকে, অথবা যখন পাঁচটি রাত বাকি থাকে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৪৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَا قَاتَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَوْمًا حَتَّى يَدْعُوَهُمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো জাতিকে প্রথমে ইসলামের প্রতি দাওয়াত না দেওয়ার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ করেননি।
[মুসনাদে আহমাদ : ১৯৪৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَفْصٌ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُ بَنَاتَهُ وَنِسَاءَهُ أَنْ يَخْرُجْنَ فِي الْعِيدَيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কন্যা ও স্ত্রীদেরকে ঈদের দিন বের হওয়ার নির্দেশ দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৯৫০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস