
حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا لَيْثٌ عَنِ الْحُكَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ حَدَّثَنَاه قُتَيْبَةُ عَنِ لَيْثٍ عَنِ الْحُكَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের আযান শুনে এই কথাগুলো বলবে,
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তার কোন শরীক বা সহযোগী নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি আল্লাহকে আমার রব, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমার রাসূল এবং ইসলামকে আমার দ্বীন হিসাবে মেনে নিয়ে সন্তুষ্ট।
তবে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৮২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا قَيْسٌ قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ إِنِّي لَأَوَّلُ الْعَرَبِ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَقَدْ أَتَيْنَا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا لَنَا طَعَامٌ نَأْكُلُهُ إِلَّا وَرَقَ الْحُبْلَةِ وَهَذَا السَّمُرَ حَتَّى إِنَّ أَحَدَنَا لَيَضَعُ كَمَا تَضَعُ الشَّاةُ مَا لَهُ خِلْطٌ ثُمَّ أَصْبَحَتْ بَنُو أَسَدٍ يُعَزِّرُونِي عَلَى الدِّينِ لَقَدْ خِبْتُ إِذَنْ وَضَلَّ عَمَلِي
হযরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমিই আরবদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে তীর নিক্ষেপ করেছিলো। একটা সময় ছিলো যখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে অভিযানে বের হতাম এবং সেই সময় আমাদের কাছে আঙ্গুর ও বাবলা গাছের পাতা ছাড়া আমাদের আর কোনো খাবার ছিলো না এবং আমরা প্রত্যেকে তা ছাগলের মতো খেতাম। আমাদের মধ্যে প্রত্যেকে ভেড়ার মতো শুকনো মল ত্যাগ করতো। অথচ আজ বনু আসাদের লোকেরা আমাকে আমার ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষা দিচ্ছে। তাহলে তো আমি বড় ক্ষতির মধ্যে আছি এবং আমার সমস্ত পরিশ্রম নষ্ট হয়ে গেছে। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৮৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ أُنْزِلَتْ فِي أَبِي أَرْبَعُ آيَاتٍ قَالَ قَالَ أَبِي أَصَبْتُ سَيْفًا قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَفِّلْنِيهِ قَالَ ضَعْهُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَفِّلْنِيهِ أُجْعَلْ كَمَنْ لَا غَنَاءَ لَهُ قَالَ ضَعْهُ مِنْ حَيْثُ أَخَذْتَهُ فَنَزَلَتْ يَسْأَلُونَكَ الْأَنْفَالَ قَالَ وَهِيَ فِي قِرَاءَةِ ابْنِ مَسْعُودٍ كَذَلِكَ قُلْ الْأَنْفَالُ وَقَالَتْ أُمِّي أَلَيْسَ اللَّهُ يَأْمُرُكَ بِصِلَةِ الرَّحِمِ وَبِرِّ الْوَالِدَيْنِ وَاللَّهِ لَا آكُلُ طَعَامًا وَلَا أَشْرَبُ شَرَابًا حَتَّى تَكْفُرَ بِمُحَمَّدٍ فَكَانَتْ لَا تَأْكُلُ حَتَّى يَشْجُرُوا فَمَهَا بِعَصًا فَيَصُبُّوا فِيهِ الشَّرَابَ قَالَ شُعْبَةُ وَأُرَاهُ قَالَ وَالطَّعَامَ فَأُنْزِلَتْ وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَقَرَأَ حَتَّى بَلَغَ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ وَدَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا مَرِيضٌ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ فَنَهَانِي قُلْتُ النِّصْفُ قَالَ لَا قُلْتُ الثُّلُثُ فَسَكَتَ فَأَخَذَ النَّاسُ بِهِ وَصَنَعَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ طَعَامًا فَأَكَلُوا وَشَرِبُوا وَانْتَشَوْا مِنْ الْخَمْرِ وَذَاكَ قَبْلَ أَنْ تُحَرَّمَ فَاجْتَمَعْنَا عِنْدَهُ فَتَفَاخَرُوا وَقَالَتْ الْأَنْصَارُ الْأَنْصَارُ خَيْرٌ وَقَالَتْ الْمُهَاجِرُونَ الْمُهَاجِرُونَ خَيْرٌ فَأَهْوَى لَهُ رَجُلٌ بِلَحْيَيْ جَزُورٍ فَفَزَرَ أَنْفَهُ فَكَانَ أَنْفُ سَعْدٍ مَفْزُورًا فَنَزَلَتْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ إِلَى قَوْلِهِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ
মুসআব বিন সাদ থেকে বর্ণিতঃ
আমার পিতার সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আমার পিতা বলেনঃ আমি একটি তরবারি (গনিমত হিসাবে) অর্জন করলাম এবং বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ), এটি আমাকে দান করুন (আমার সম্পদের অংশ ছাড়াও)। তিনি বললেনঃ এটি রেখে দাও। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, আমার সাথে কি এমন আচরণ করা হবে যে ব্যক্তি (যুদ্ধে) কোন কাজে আসে না? তিনি বললেন, যেখান থেকে তরবারটি পেয়েছ, সেটাকে রেখে দাও। অতঃপর এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়:
سۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡأَنفَالِۖ قُلِ ٱلۡأَنفَالُ لِلَّهِ وَٱلرَّسُولِۖ فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَصۡلِحُواْ ذَاتَ بَيۡنِكُمۡۖ وَأَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ١
তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, “যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের বিধান দেয়ার অধিকার আল্লাহ ও রসূলের জন্যে নির্ধারিত রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমরা তোমাদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে নাও। যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো, তবে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো।” [৮ : ১]
আমার মা আমাকে বললেন: আল্লাহ কি তোমাকে আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখতে এবং তোমার পিতামাতার সম্মান করার আদেশ দেননি? আল্লাহর কসম, যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মাদকে অস্বীকার না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কিছু খাব না বা কিছু পান করব না এবং যতক্ষণ না তারা একটি লাঠি দিয়ে তার মুখ খুলে তাতে পানি ঢেলে দেয় ততক্ষণ পর্যন্ত সে খায়নি। শুবাহ বলেন: এবং আমার মনে হয় তিনি বলেছেন: এবং খাবার। অতঃপর এই আয়াতটি নাযিল হয়:
وَوَصَّيۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ بِوَٰلِدَيۡهِ حَمَلَتۡهُ أُمُّهُۥ وَهۡنًا عَلَىٰ وَهۡنٖ وَفِصَٰلُهُۥ فِي عَامَيۡنِ أَنِ ٱشۡكُرۡ لِي وَلِوَٰلِدَيۡكَ إِلَيَّ ٱلۡمَصِيرُ١٤
আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে সৎব্যবহার করার জন্যে জোরালো নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের উপরে কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দুই বছরের মধ্যে হয়। এই বলে নির্দেশ দিয়েছি যে, “তুমি আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। আমার নিকটেই তোমাকে ফিরে আসতে হবে। [৩১ : ১৪]
وَإِن جَٰهَدَاكَ عَلَىٰٓ أَن تُشۡرِكَ بِي مَا لَيۡسَ لَكَ بِهِۦ عِلۡمٞ فَلَا تُطِعۡهُمَاۖ وَصَاحِبۡهُمَا فِي ٱلدُّنۡيَا مَعۡرُوفٗاۖ وَٱتَّبِعۡ سَبِيلَ مَنۡ أَنَابَ إِلَيَّۚ ثُمَّ إِلَيَّ مَرۡجِعُكُمۡ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ١٥
পিতা-মাতা যদি আমার সঙ্গে এমন কিছুকে অংশীদার করতে তোমাকে চাপ দেয়, যে সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই; তাহলে তুমি তাদের উভয়ের অনুগত্য করো না। আর এই দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করবে। যে ব্যক্তি আমার দিকে অভিমুখী হয়, তুমি তার পথ অনুসরণ করবে। তারপর তোমাদেরকে আমার দিকেই ফিরে আসতে হবে, তখন আমি ঐ বিষয়ে তোমাদেরকে জানিয়ে দিবো, যা তোমরা করতে।” [৩১ : ১৫]
অতঃপর একদা আমি অসুস্থ ছিলাম তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে প্রবেশ করলেন। আমি বললামঃ হে রাসূল! আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহর জন্য (দান করার) ওসিয়ত করব? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ থেকে নিষেধ করলেন। অর্ধেক প্রশ্নেও তিনি আমাকে নিষেধ করলেন, কিন্তু এক তৃতীয়াংশের প্রশ্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নীরব থাকলেন এবং এর অনুমতি দিলেন। এরপর লোকেরা তা অনুসরণ করতে লাগল। (এরপর সম্পদ বন্ঠনের আয়াত নাযিল হয়।)
يَسۡتَفۡتُونَكَ قُلِ ٱللَّهُ يُفۡتِيكُمۡ فِي ٱلۡكَلَٰلَةِۚ إِنِ ٱمۡرُؤٌاْ هَلَكَ لَيۡسَ لَهُۥ وَلَدٞ وَلَهُۥٓ أُخۡتٞ فَلَهَا نِصۡفُ مَا تَرَكَۚ وَهُوَ يَرِثُهَآ إِن لَّمۡ يَكُن لَّهَا وَلَدٞۚ فَإِن كَانَتَا ٱثۡنَتَيۡنِ فَلَهُمَا ٱلثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَۚ وَإِن كَانُوٓاْ إِخۡوَةٗ رِّجَالٗا وَنِسَآءٗ فَلِلذَّكَرِ مِثۡلُ حَظِّ ٱلۡأُنثَيَيۡنِۗ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمۡ أَن تَضِلُّواْۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمُۢ ١٧٦
(১৭৬) তারা আপনার নিকট পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন ব্যক্তিদের রেখে যাওয়া সম্পদের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। আপনি তাদেরকে বলুন, “আল্লাহ তোমাদেরকে পিতা-মাতাহীন ও সন্তানহীন ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিধান দিচ্ছেন। যদি কোনো ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার কোনো সন্তান নাই ও পিতা-মাতা নাই, কিন্তু এক বোন আছে, তবে তার বোনের জন্যে সে যে সম্পদ ছেড়ে যায়, ঐ সম্পদের অর্ধেক বোন পাবে। আর যদি তার বোন মারা যায় ও তার বোনের কোনো সন্তান না থাকে, তবে সে নিজে তার বোনের উত্তরাধিকার হবে। আর যদি তারা দুই বোন হয়, তবে তাদের দুইজনের জন্যে সে যে সম্পদ ছেড়ে যায়, তার ঐ সম্পদের দুই তৃতীয়াংশ উভয় বোন পাবে। আর যদি মৃত ব্যক্তির ভাই-বোন উভয়ই থাকে, একজন পুরুষ ও একজন নারী হয়, তবে একজন পুরুষ দুইজন নারীর সমান অংশ হবে।” আল্লাহ তোমাদের জন্যে স্বীয় বিধানকে সুস্পষ্ট করে দিচ্ছেন, যেনো তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। বস্তুত আল্লাহ হচ্ছেন সব কিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
[৪. আন নিসা : ১৭৬]
অতঃপর, মদ্যপানের নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার আগেই, একজন আনসারী কিছু খাবার তৈরি করল এবং তারা খাওয়া-দাওয়া করল এবং মাতাল হল। আমরা তার জায়গায় জড়ো হয়ে একে অপরের কাছে গর্ব করতে লাগলাম। আনসার বলেছেন: আনসাররা উত্তম। মুহাজিরগণ বলেছেনঃ মুহাজিরগণ উত্তম। এমন সময় একজন লোক একটি উটের চোয়ালের হাড় তুলে নিল এবং একজনের নাকে আঘাত করল এবং সাদ (রা) এর নাকে একটি আঘাতের চিহ্ন পরে গেলো। অতঃপর এই আয়াতটি নাযিল হয়ঃ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡخَمۡرُ وَٱلۡمَيۡسِرُ وَٱلۡأَنصَابُ وَٱلۡأَزۡلَٰمُ رِجۡسٞ مِّنۡ عَمَلِ ٱلشَّيۡطَٰنِ فَٱجۡتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ٩٠
ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! তোমরা জেনে রেখো যে, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা ও তীরের মাধ্যমে লটারি খেলা এগুলো হচ্ছে অপবিত্র কাজ ও শয়তানের কাজের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তোমরা এসব এড়িয়ে চলো, যেনো তোমরা সফল হতে পারো। [৫ : ৯০]
إِنَّمَا يُرِيدُ ٱلشَّيۡطَٰنُ أَن يُوقِعَ بَيۡنَكُمُ ٱلۡعَدَٰوَةَ وَٱلۡبَغۡضَآءَ فِي ٱلۡخَمۡرِ وَٱلۡمَيۡسِرِ وَيَصُدَّكُمۡ عَن ذِكۡرِ ٱللَّهِ وَعَنِ ٱلصَّلَوٰةِۖ فَهَلۡ أَنتُم مُّنتَهُونَ٩١
নিশ্চয় শয়তান কেবল মাত্র চায় যে, তোমাদের মধ্যে মদ ও জুয়ার মাধ্যমে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করতে। আর তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে ও নামায থেকে ফিরিয়ে রাখতে। সুতরাং তোমরা কি এসব কাজ থেকে বিরত হবে না? [৫ : ৯১]
[মুসনাদে আহমাদ : ১৪৮৪]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ أَنْبَأَنَا سُلَيْمَانُ يَعْنِي التَّيْمِيَّ حَدَّثَنِي غُنَيْمٌ قَالَ سَأَلْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ الْمُتْعَةِ قَالَ فَعَلْنَاهَا وَهَذَا كَافِرٌ بِالْعُرُشِ يَعْنِي مُعَاوِيَةَ
গণিম থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.)-কে তামাত্তু হজ করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন যে, আমির মুয়াবিয়া (রা.) যখন মক্কায় কাফের ছিলো (তখনও তিনি ইসলাম গ্রহন করেননি), তখন আমরা তামাত্তু হজ করেছি।
[মুসনাদে আহমাদ : ১৪৮৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ وَحَجَّاجٌ حَدَّثَنِي شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ سَعْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ أَحَدِكُمْ قَيْحًا يَرِيهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا قَالَ حَجَّاجٌ سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ جُبَيْرٍ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের কারো জন্য কবিতা দিয়ে পেট ভরানোর চেয়ে পুঁজ দিয়ে পেট ভরা উত্তম।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৮৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ إِسْمَاعِيلَ عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ سَعْدٍ فَقُلْتُ بِيَدَيَّ هَكَذَا وَوَصَفَ يَحْيَى التَّطْبِيقَ فَضَرَبَ بِيَدَيَّ وَقَالَ كُنَّا نَفْعَلُ هَذَا فَأُمِرْنَا أَنْ نَرْفَعَ إِلَى الرُّكَبِ
মুসআব বিন সাদ থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি আমার পিতার সাথে নামায পড়লাম এবং আমি আমার দুই হাত হাঁটুর মাঝে রাখলাম। তিনি আমার হাতে আঘাত করে বললেন: আমরা প্রথমে এমন করতাম, তারপর আমাদেরকে আমাদের হাঁটুর উপর হাত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৮৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا هَاشِمٌ عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَصَبَّحَ بِسَبْعِ تَمَرَاتٍ مِنْ عَجْوَةٍ لَمْ يَضُرَّهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ سُمٌّ وَلَا سِحْرٌ حَدَّثَنَا مَكِّيٌّ حَدَّثَنَا هَاشِمٌ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ سَعْدٍ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ مِثْلَهُ حَدَّثَنَاه أَبُو بَدْرٍ عَنْ هَاشِمٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোন বিষ বা জাদুবিদ্যা তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৮৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ عُثْمَانَ يَعْنِي ابْنَ حَكِيمٍ أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ لَابَتَيْ الْمَدِينَةِ أَنْ يُقْطَعَ عِضَاهُهَا أَوْ يُقْتَلَ صَيْدُهَا وَقَالَ الْمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ لَا يَخْرُجُ مِنْهَا أَحَدٌ رَغْبَةً عَنْهَا إِلَّا أَبْدَلَ اللَّهُ فِيهَا مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ وَلَا يَثْبُتُ أَحَدٌ عَلَى لَأْوَائِهَا وَجَهْدِهَا إِلَّا كُنْتُ لَهُ شَهِيدًا أَوْ شَفِيعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি মদীনা মুনাওয়ারার দুই পাশের এলাকাকে হারাম ঘোষণা করছি, তাই এখানে কোনো গাছ কাটা যাবে না বা কোনো পশুকে হত্যা করা যাবে না।” এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “মদীনা মানুষের জন্য সর্বোত্তম। তাদের বিশ্বাস করা উচিত যে, যদি কোনো ব্যক্তি অনিচ্ছার কারণে এখান থেকে চলে যায়, তবে আল্লাহ তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম কাউকে স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং যে ব্যক্তি এখানে কষ্ট ও পরিশ্রমের ওপর অটল থাকবে, আমি কেয়ামতের দিন তার পক্ষে সুপারিশ করবো।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৮৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَقْبَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى مَرَرْنَا عَلَى مَسْجِدِ بَنِي مُعَاوِيَةَ فَدَخَلَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَصَلَّيْنَا مَعَهُ وَنَاجَى رَبَّهُ عَزَّ وَجَلَّ طَوِيلًا قَالَ سَأَلْتُ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ ثَلَاثًا سَأَلْتُهُ أَنْ لَا يُهْلِكَ أُمَّتِي بِالْغَرَقِ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لَا يُهْلِكَ أُمَّتِي بِالسَّنَةِ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لَا يَجْعَلَ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ فَمَنَعَنِيهَا
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে কোথাও যাচ্ছিলাম। পথে বনু মুয়াবিয়ার মসজিদ পরলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। আমরাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাত আদায় করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘক্ষণ প্রার্থনা করলেন এবং বিশ্রামের পর বললেন, আমি আমার প্রভুর কাছে তিনটি জিনিস চেয়েছি। প্রথম অনুরোধ এই ছিলো যে, আমার উম্মতকে যেনো সাগরে ডুবিয়ে ধ্বংস না করা হয়। আল্লাহ আমার এই অনুরোধটি কবুল করেছেন। দ্বিতীয় অনুরোধটি এই ছিলো যে, আমার উম্মতকে যেনো দুর্ভিক্ষের কারণে ধ্বংস না করা হয়। আল্লাহ আমার এই অনুরোধটিও কবুল করেছেন। তৃতীয় অনুরোধটি এই ছিলো যে, আমার উম্মত যেনো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ না করে, কিন্তু আল্লাহ এ দোয়াটি কবুল করেননি। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৯০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ الْمَعْنَى قَالَا أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْعَيْزَارِ بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَجِبْتُ مِنْ قَضَاءِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ حَمِدَ رَبَّهُ وَشَكَرَ وَإِنْ أَصَابَتْهُ مُصِيبَةٌ حَمِدَ رَبَّهُ وَصَبَرَ الْمُؤْمِنُ يُؤْجَرُ فِي كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى فِي اللُّقْمَةِ يَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِهِ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি মুমিন বান্দার ব্যাপারে আল্লাহর নিয়ত ও ফয়সালা দেখে আশ্চর্য হই যে, সে যদি কোনো কল্যাণ পায়, তবে সে তার রবের শুকরিয়া আদায় করে এবং যদি তার উপর কোন বিপদ আসে, তখন সে ধৈর্য ধরে ও আলহামদুলিল্লাহ বলে (এবং আল্লাহ ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা উভয়কেই পছন্দ করেন)। এমনকি সে তার স্ত্রীর মুখে যে খাবারের লোকমা তুলে দেয় এর বিনিময়েও সে পুরস্কার পায়। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৯১]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ إِسْمَاعِيلَ عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ سَعْدٍ فَقُلْتُ بِيَدَيَّ هَكَذَا وَوَصَفَ يَحْيَى التَّطْبِيقَ فَضَرَبَ بِيَدَيَّ وَقَالَ كُنَّا نَفْعَلُ هَذَا فَأُمِرْنَا أَنْ نَرْفَعَ إِلَى الرُّكَبِ
মুসআব বিন সাদ থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি আমার পিতার সাথে নামায পড়লাম এবং আমি আমার দুই হাত হাঁটুর মাঝে রাখলাম। তিনি আমার হাতে আঘাত করে বললেন: আমরা প্রথমে এমন করতাম, তারপর আমাদেরকে আমাদের হাঁটুর উপর হাত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৯২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا سَلِيمُ بْنُ حَيَّانَ حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ ذُكِرَ الطَّاعُونُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رِجْزٌ أُصِيبَ بِهِ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَإِذَا كَانَ بِأَرْضٍ فَلَا تَدْخُلُوهَا وَإِذَا كَانَ بِهَا وَأَنْتُمْ بِهَا فَلَا تَخْرُجُوا مِنْهَا
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে প্লেগের কথা উল্লেখ করা হলো। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেনঃ “তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর প্লেগের এই আযাব এসেছিল। যদি কোনো এলাকায় এই মহামারী ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেখানে তোমরা যাবে না এবং যদি তোমরা কোন এলাকায় থাকো এবং সেখানে প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তাহলে সেখান থেকে বের হবে না। ” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৯৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ إِلَّا وَصَفَ الدَّجَّالَ لِأُمَّتِهِ وَلَأَصِفَنَّهُ صِفَةً لَمْ يَصِفْهَا أَحَدٌ كَانَ قَبْلِي إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيْسَ بِأَعْوَرَ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক নবীই তার উম্মতের সামনে দাজ্জালের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আমি তোমাদের কাছে তার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করবো যা আমার আগে কোনো নবী বর্ণনা করেননি। মনে রেখো দাজ্জাল হবে কানা (এবং প্রভুত্ব দাবি করবে) অথচ আল্লাহ কানা নন।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৯৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَعْطَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رِجَالًا وَلَمْ يُعْطِ رَجُلًا مِنْهُمْ شَيْئًا فَقَالَ سَعْدٌ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَعْطَيْتَ فُلَانًا وَفُلَانًا وَلَمْ تُعْطِ فُلَانًا شَيْئًا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ مُسْلِمٌ حَتَّى أَعَادَهَا سَعْدٌ ثَلَاثًا وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَوْ مُسْلِمٌ ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي لَأُعْطِي رِجَالًا وَأَدَعُ مَنْ هُوَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْهُمْ فَلَا أُعْطِيهِ شَيْئًا مَخَافَةَ أَنْ يُكَبُّوا فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) কিছু লোককে ধন-সম্পদ দান করলেন এবং তাদের একজনকে কিছুই দিলেন না। হযরত সাদ (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি অমুক অমুককে দিয়েছেন, কিন্তু অমুককে কিছুই দেননি, যদিও সে একজন প্রকৃত মুমিন। রাসূল (সা.) বললেন, বরং বলো সে একজন মুসলিম। এই একই প্রশ্ন তিনবার করা হলো এবং তার উত্তর তিনবার একই দেওয়া হলো। তারপর রাসূল (সা.) বললেন যে, আমি কিছু লোককে দান করি এবং যারা আমার কাছে বেশি প্রিয় তাদেরকে ছেড়ে দেই ও তাদেরকে কিছুই দান করি না, এই ভয় ও উদ্বেগের কারণে যে, তাদেরকে না আবার তাদের মুখের উপর ভর দেয়া অবস্থায় জাহান্নামে টেনে নেওয়া হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৯৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ صَالِحٍ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدٍ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعِنْدَهُ نِسَاءٌ مِنْ قُرَيْشٍ يُكَلِّمْنَهُ وَيَسْتَكْثِرْنَهُ عَالِيَةٌ أَصْوَاتُهُنَّ فَلَمَّا اسْتَأْذَنَ قُمْنَ يَبْتَدِرْنَ الْحِجَابَ فَأَذِنَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي فَدَخَلَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَضْحَكُ فَقَالَ عُمَرُ أَضْحَكَ اللَّهُ سِنَّكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَجِبْتُ مِنْ هَؤُلَاءِ اللَّاتِي كُنَّ عِنْدِي فَلَمَّا سَمِعْنَ صَوْتَكَ ابْتَدَرْنَ الْحِجَابَ قَالَ عُمَرُ فَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كُنْتَ أَحَقَّ أَنْ يَهَبْنَ ثُمَّ قَالَ عُمَرُ أَيْ عَدُوَّاتِ أَنْفُسِهِنَّ أَتَهَبْنَنِي وَلَا تَهَبْنَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْنَ نَعَمْ أَنْتَ أَغْلَظُ وَأَفَظُّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا لَقِيَكَ الشَّيْطَانُ قَطُّ سَالِكًا فَجًّا إِلَّا سَلَكَ فَجًّا غَيْرَ فَجِّكَ و قَالَ يَعْقُوبُ مَا أُحْصِي مَا سَمِعْتُهُ يَقُولُ حَدَّثَنَا صَالِحٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে প্রবেশের সম্মতি চাইলেন। তখন কুরায়শ নারীরা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কথোপকথনে লিপ্ত ছিল এবং তারা উচ্চৈঃস্বরে বেশি বেশি কথা বলছিল। যখন ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু অনুমতি চাইলেন এরা উঠে অভ্যন্তরে চলে গেল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসছিলেন। ‘উমার বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ আপনার মুখকে হাস্যোজ্জ্বল রাখুন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃআমি তাদের ব্যাপারে অবাক হচ্ছি যারা আমার নিকট উপবিষ্ট ছিল; আর ‘তোমার’ শব্দ শুনামাত্রই তারা অভ্যন্তরে চলে গেল। ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকেই তো এদের অধিক ভয় করা উচিত।
তারপর ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ওহে! নিজের প্রাণের শত্রুরা! তোমরা আমাকে ভয় করো এবং আল্লাহর রসূলকে ভয় করো না। তারা বলল, হ্যাঁ, তুমি তো আল্লাহর রসূলের চাইতে অধিক তেজস্বী এবং রাগী। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর কসম! যখন শাইতান তোমাকে কোন রাস্তায় চলতে দেখে তখন সে তোমার রাস্তা বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ ধরে চলে।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৯৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عِكْرِمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَبِيبَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنَّا نُكْرِي الْأَرْضَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَا عَلَى السَّوَاقِي مِنْ الزَّرْعِ وَبِمَا سَعِدَ بِالْمَاءِ مِنْهَا فَنَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ وَأَذِنَ لَنَا أَوْ رَخَّصَ بِأَنْ نُكْرِيَهَا بِالذَّهَبِ وَالْوَرِقِ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াকাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে আমাদের ক্ষেত ভাড়া দিতাম এবং বিনিময়ে নালার ওপরে যে ফসল উৎপন্ন হতো ও পানি সেচের দ্বারা যে ফসল উৎপন্ন হতো, তা আমরা নিয়ে নিতাম। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তা করতে নিষেধ করলেন এবং সোনা বা রৌপ্যের বিনিময়ে জমি ভাড়া দিতে অনুমতি দিলেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ১৪৯৭]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ حَدَّثَنَا الْجُعَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهَا أَنَّ عَلِيًّا خَرَجَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى جَاءَ ثَنِيَّةَ الْوَدَاعِ وَعَلِيٌّ يَبْكِي يَقُولُ تُخَلِّفُنِي مَعَ الْخَوَالِفِ فَقَالَ أَوَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلَّا النُّبُوَّةَ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাবুক যুদ্ধের সময় হযরত আলী ( রা.)-কে মদীনা মুনওয়ারায় তাঁর সহকারী হিসেবে রেখে যান, তখন হজরত আলী (রা.) কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি কি আমাকে শিশু ও নারীদের সঙ্গে রেখে যাচ্ছেন?” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেনঃ “হে আলী! তুমি কি এতে খুশি নও যে, তোমার মর্যাদা আমার নিকট মূসা (আঃ)-এর নিকট হারূন (আঃ)-এর মতই? কিন্তু (পার্থক্য এই যে,) আমার পরে কোন নবী নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৯৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ زِيَادِ بْنِ مِخْرَاقٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَبَايَةَ عَنْ مَوْلًى لِسَعْدٍ أَنَّ سَعْدًا سَمِعَ ابْنًا لَهُ يَدْعُو وَهُوَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَنَعِيمَهَا وَإِسْتَبْرَقَهَا وَنَحْوًا مِنْ هَذَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ النَّارِ وَسَلَاسِلِهَا وَأَغْلَالِهَا فَقَالَ لَقَدْ سَأَلْتَ اللَّهَ خَيْرًا كَثِيرًا وَتَعَوَّذْتَ بِاللَّهِ مِنْ شَرٍّ كَثِيرٍ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّهُ سَيَكُونُ قَوْمٌ يَعْتَدُونَ فِي الدُّعَاءِ وَقَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ وَإِنَّ حَسْبَكَ أَنْ تَقُولَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত সাদ (রা.) তাঁর এক ছেলেকে এই দোয়া করতে শুনলেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَنَعِيمَهَا وَإِسْتَبْرَقَهَا وَنَحْوًا مِنْ هَذَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ النَّارِ وَسَلَاسِلِهَا وَأَغْلَالِهَا
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত, এর বরকত এবং এর রেশমী কাপড় এবং এই জাতীয় জিনিসের জন্য প্রার্থনা করি এবং আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আগুন, তার বেড়ি এবং তার শিকল থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”
তখন হজরত সাদ (রা.) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “শীঘ্রই এমন এক সম্প্রদায় আসবে যারা প্রার্থনায় সীমা ছাড়িয়ে যাবে।” এবং এই আয়াতটি পাঠ করলেন:
ٱدۡعُواْ رَبَّكُمۡ تَضَرُّعٗا وَخُفۡيَةًۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُعۡتَدِينَ ٥٥
(৫৫) তোমরা তোমাদের প্রভুকে বিনীত ভাবে ও চুপিসারে ডাকো। নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘন-কারীদেরকে ভালোবাসেন না। [৭. আল আরাফ : ৫৫]
তোমার জন্য এটুকু বলাই যথেষ্ট যে,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ
“হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে জান্নাত এবং সেই কথা ও কাজ যা এর নিকটবর্তী করে তা প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নাম ও সেই কথা ও কাজ যা এর নিকটবর্তী করে তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৪৯৯]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ مُصْعَبٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ بِهَؤُلَاءِ الْخَمْسِ وَيُخْبِرُ بِهِنَّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ الْجُبْنِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
মুসআব থেকে বর্ণিতঃ
হজরত সাদ (রা.) এই পাঁচটি শব্দের ওপর জোর দিতেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: “হে আল্লাহ, (১) আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, (২) আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কাপুরুষতা থেকে, (৩) আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি বার্ধক্য থেকে, (৪) আমি এই পৃথিবীর পরীক্ষা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই এবং (৫) কবরের শাস্তি থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৫০০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ وَسَعْدٌ قَالَا حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ صَالِحٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ جَارِيَةَ أَنَّ يُوسُفَ بْنَ الْحَكَمِ أَبَا الْحَجَّاجِ أَخْبَرَهُ أَنَّ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ يُرِدْ هَوَانَ قُرَيْشٍ أَهَانَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি কুরাইশদের অপমান করতে চায়, আল্লাহ তাকে অপমানিত করবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৫০১]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ وَسَعْدٌ قَالَا حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ صَالِحٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ جَارِيَةَ أَنَّ يُوسُفَ بْنَ الْحَكَمِ أَبَا الْحَجَّاجِ أَخْبَرَهُ أَنَّ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ يُرِدْ هَوَانَ قُرَيْشٍ أَهَانَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি কুরাইশদের অপমান করতে চায়, আল্লাহ তাকে অপমানিত করবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৫০২]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ أَنْبَأَنَا لَيْثٌ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ سَمِعَ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ أَرَادَ عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ أَنْ يَتَبَتَّلَ فَنَهَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَوْ أَجَازَ ذَلِكَ لَهُ لَاخْتَصَيْنَا
হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত উসমান ইবনে মাযূন (রা.) রাসূল (সা.)-এর কাছে অবিবাহিত থাকার অনুমতি চাইলেন, কিন্তু রাসূল (সা.) তাকে অনুমতি দেননি। যদি রাসূল (সা.) তাকে অনুমতি দিতেন, তাহলে আমরাও নিজেদেরকে খাসি করে নিতাম। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫০৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثٍ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো মুসলমানের জন্য তিন দিনের বেশি তার ভাই থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা বৈধ নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৫০৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ حَلَفْتُ بِاللَّاتِ وَالْعُزَّى فَقَالَ أَصْحَابِي قَدْ قُلْتَ هُجْرًا فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ قَرِيبًا وَإِنِّي حَلَفْتُ بِاللَّاتِ وَالْعُزَّى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ ثَلَاثًا ثُمَّ انْفُثْ عَنْ يَسَارِكَ ثَلَاثًا وَتَعَوَّذْ وَلَا تَعُدْ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি লাত ও উজ্জার নামে শপথ করেছিলাম, আমার সঙ্গীরা আমাকে বললেন, তুমি একটি অপ্রীতিকর কথা বলেছো। তাই আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বললাম: আমি সদ্য মুসলমান হয়েছি এবং আমি লাত ও উজ্জার নামে শপথ করেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তিনবার
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ
একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই
বলো এবং তিনবার বাম দিকে থুথু ফেলো এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এমন করো না। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫০৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَنْبَأَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِقَصْعَةٍ فَأَكَلَ مِنْهَا فَفَضَلَتْ فَضْلَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجِيءُ رَجُلٌ مِنْ هَذَا الْفَجِّ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَأْكُلُ هَذِهِ الْفَضْلَةَ قَالَ سَعْدٌ وَكُنْتُ تَرَكْتُ أَخِي عُمَيْرًا يَتَوَضَّأُ قَالَ فَقُلْتُ هُوَ عُمَيْرٌ قَالَ فَجَاءَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ فَأَكَلَهَا
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর খেদমতে একটি পাত্রে খাবার আনা হলো, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) খাবার খেলেন এবং কিছু অবশিষ্ট থাকলো। রাসুলুল্লাহ ( সাঃ ) বললেন, “এই পথ দিয়ে একজন জান্নাতী লোক আসবে, যে এই অবশিষ্ট খাবার খাবে।” হজরত সাদ (রা.) বলেন, আমি আমার ভাই উমাইরকে ওজু করা অবস্থায় রেখে এসেছিলাম এবং আমি মনে মনে ভাবলাম যে, এই পথ দিয়ে উমাইর আসবেন কিন্তু সেই পথ দিয়ে হযরত আবদুল্লাহ বিন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু এলেন এবং তিনি সেই অবশিষ্ট খাবারটি খেয়ে নিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫০৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا أُسَامَةُ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْقَرَّاظُ أَنَّهُ سَمِعَ سَعْدَ بْنَ مَالِكٍ وَأَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولَانِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ فِي مَدِينَتِهِمْ وَبَارِكْ لَهُمْ فِي صَاعِهِمْ وَبَارِكْ لَهُمْ فِي مُدِّهِمْ اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَإِنِّي عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ وَإِنَّ إِبْرَاهِيمَ سَأَلَكَ لِأَهْلِ مَكَّةَ وَإِنِّي أَسْأَلُكَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ كَمَا سَأَلَكَ إِبْرَاهِيمُ لِأَهْلِ مَكَّةَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ إِنَّ الْمَدِينَةَ مُشَبَّكَةٌ بِالْمَلَائِكَةِ عَلَى كُلِّ نَقْبٍ مِنْهَا مَلَكَانِ يَحْرُسَانِهَا لَا يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلَا الدَّجَّالُ مَنْ أَرَادَهَا بِسُوءٍ أَذَابَهُ اللَّهُ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার দোয়া করলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহ, মদীনাবাসীদেরকে তাদের শহরে বরকত দান করুন, তাদের সা-তে (ওজনে) বরকত দিন, তাদের মুদে (পরিমাপে) বরকত দিন। হে আল্লাহ! ইব্রাহীম (আ.) ছিলেন আপনার বান্দা ও খলিল এবং আমি আপনার বান্দা ও রসূল। ইব্রাহীম (আ.) তোমার কাছে মক্কাবাসীদের জন্য চেয়েছিল এবং আমি মদিনার লোকদের জন্য তোমার কাছে চেয়েছি, যেমনটি ইব্রাহিম তোমার কাছে মক্কাবাসীদের জন্য চেয়েছিল। মদীনা ফেরেশতা দ্বারা পরিবেষ্টিত; শহরের প্রতিটি পথে দুইজন ফেরেশতা পাহারা দিচ্ছে; এতে প্লেগ বা দাজ্জালও প্রবেশ করবে না। যে ব্যক্তি এতে কোন গুনাগের কাজ করবে, আল্লাহ তাকে এমনভাবে গলিয়ে দেবেন যেভাবে লবণ পানিতে গলে যায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ১৫০৭]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ سَعْدٍ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَضْرِبُ بِإِحْدَى يَدَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى وَهُوَ يَقُولُ الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا ثُمَّ نَقَصَ أُصْبُعَهُ فِي الثَّالِثَةِ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন এবং সেই সময় তিনি এক হাত অপর হাতের উপর আঘাত করলেন এবং বললেন, “মাস এমন এবং এই রকম হয়”, তারপর তিনি তৃতীয়বার তার বুড়ো আঙ্গুল বন্ধ করলেন। (অর্থাৎ, মাস কোনো কোনো সময় উনত্রিশ (২৯) দিনেও হয়, আবার ত্রিশ (৩০) দিনেও হয়)। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫০৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ سَعْدٍ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَضْرِبُ بِإِحْدَى يَدَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى وَهُوَ يَقُولُ الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا ثُمَّ نَقَصَ أُصْبُعَهُ فِي الثَّالِثَةِ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন এবং সেই সময় তিনি এক হাত অপর হাতের উপর আঘাত করলেন এবং বললেন, “মাস এমন এবং এই রকম হয়”, তারপর তিনি তৃতীয়বার তার বুড়ো আঙ্গুল বন্ধ করলেন। (অর্থাৎ, মাস কোনো কোনো সময় উনত্রিশ (২৯) দিনেও হয়, আবার ত্রিশ (৩০) দিনেও হয়)। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫০৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ سَعْدٍ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَضْرِبُ بِإِحْدَى يَدَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى وَهُوَ يَقُولُ الشَّهْرُ هَكَذَا وَهَكَذَا ثُمَّ نَقَصَ أُصْبُعَهُ فِي الثَّالِثَةِ
হজরত সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন এবং সেই সময় তিনি এক হাত অপর হাতের উপর আঘাত করলেন এবং বললেন, “মাস এমন এবং এই রকম হয়”, তারপর তিনি তৃতীয়বার তার বুড়ো আঙ্গুল বন্ধ করলেন। (অর্থাৎ, মাস কোনো কোনো সময় উনত্রিশ (২৯) দিনেও হয়, আবার ত্রিশ (৩০) দিনেও হয়)। [মুসনাদে আহমাদ : ১৫১০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ يَعْنِي الدَّرَاوَرْدِيَّ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ قَوْمٌ يَأْكُلُونَ بِأَلْسِنَتِهِمْ كَمَا يَأْكُلُ الْبَقَرُ بِأَلْسِنَتِهَا
সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “কিয়ামত শুরু হবে না যতক্ষণ না এমন কিছু লোকের আগমন ঘটবে যারা তাদের জিভ দিয়ে (উপার্জিত) খাবার খাবে, যেভাবে গরু তার জিভ দিয়ে মাটি থেকে খাবার খায়।”
[মুসনাদে আহমাদ : ১৫১১]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস