(৩) হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৩৭৬-৫০৫), সর্বমোট হাদিসঃ ১৩০টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ১৩০টি]



376 OK

(৩৭৬)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَوْفٌ حَدَّثَنَا يَزِيدُ يَعْنِي الْفَارِسِيَّ قَالَ أَبِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ و حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا عَوْفٌ عَنْ يَزِيدَ قَالَ قَالَ لَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قُلْتُ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ مَا حَمَلَكُمْ عَلَى أَنْ عَمَدْتُمْ إِلَى الْأَنْفَالِ وَهِيَ مِنْ الْمَثَانِي وَإِلَى بَرَاءَةٌ وَهِيَ مِنْ الْمِئِينَ فَقَرَنْتُمْ بَيْنَهُمَا وَلَمْ تَكْتُبُوا قَالَ ابْنُ جَعْفَرٍ بَيْنَهُمَا سَطْرًا بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَوَضَعْتُمُوهَا فِي السَّبْعِ الطِّوَالِ مَا حَمَلَكُمْ عَلَى ذَلِكَ قَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ مِمَّا يَأْتِي عَلَيْهِ الزَّمَانُ يُنْزَلُ عَلَيْهِ مِنْ السُّوَرِ ذَوَاتِ الْعَدَدِ وَكَانَ إِذَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ الشَّيْءُ يَدْعُو بَعْضَ مَنْ يَكْتُبُ عِنْدَهُ يَقُولُ ضَعُوا هَذَا فِي السُّورَةِ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا كَذَا وَكَذَا وَيُنْزَلُ عَلَيْهِ الْآيَاتُ فَيَقُولُ ضَعُوا هَذِهِ الْآيَاتِ فِي السُّورَةِ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا كَذَا وَكَذَا وَيُنْزَلُ عَلَيْهِ الْآيَةُ فَيَقُولُ ضَعُوا هَذِهِ الْآيَةَ فِي السُّورَةِ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا كَذَا وَكَذَا وَكَانَتْ الْأَنْفَالُ مِنْ أَوَائِلِ مَا أُنْزِلَ بِالْمَدِينَةِ وَبَرَاءَةٌ مِنْ آخِرِ الْقُرْآنِ فَكَانَتْ قِصَّتُهَا شَبِيهًا بِقِصَّتِهَا فَقُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ يُبَيِّنْ لَنَا أَنَّهَا مِنْهَا وَظَنَنْتُ أَنَّهَا مِنْهَا فَمِنْ ثَمَّ قَرَنْتُ بَيْنَهُمَا وَلَمْ أَكْتُبْ بَيْنَهُمَا سَطْرًا بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قَالَ ابْنُ جَعْفَرٍ وَوَضَعْتُهَا فِ السَّبْعِ الطِّوَالِ


ইবনুল আব্বাস থেকে বর্ণিতঃ

আমি উসমান বিন আফফানকে জিজ্ঞাসা করলাম, আল আনফালের মত ছোট সূরা ও আত তাওবার মত বৃহৎ সূরাকে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করলেন কেন? কেনইবা এই দুটোর মধ্যে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম” লিখলেন না, অথচ বৃহৎ সাতটি সূরায় বিসমিল্লাহ লিখেছেন? উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ কখনো কখনো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বহু আয়াত সম্বলিত সূরা নাযিল হতো। যখন কোন সূরার অংশ বিশেষ নাযিল হতো তখন তিনি তার নিকটে অবস্থানরত এমন কাউকে ডাকতেন, যিনি লিখতে জানতেন। তাঁকে বলতেন, এই অংশটা অমুক বিষয় সম্বলিত সূরার অন্তর্ভুক্ত কর। কখনো কখনো তাঁর ওপর কতিপয় আয়াত নাযিল হতো। তখন তিনি বলতেন, এ আয়াতগুলিকে অমুক বিষয় সম্বলিত সূরায় লিপিবদ্ধ কর। আবার কখনো একটি আয়াত নাযিল হতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, এ আয়াতটিকে অমুক বিষয় সম্বলিত সূরায় অন্তর্ভুক্ত কর।

সূরা আল আনফাল ছিল মদীনায় নাযিলকৃত প্রাথমিক সূরাগুলির অন্যতম। আর আত তাওবা ছিল আল কুরআনের শেষাংশের সূরা। উভয় সূরার ঘটনাবলীতে সাদৃশ্য রয়েছে। সহসা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন সূরা আত তাওবা কোথায় থাকবে সে সম্পর্কে কিছু না জানিয়েই। আমি মনে করলাম এটি আল আনফালেরই অংশ। তাই দুটিকে সংযুক্ত করলাম এবং উভয়ের মধ্যে বিসমিল্লাহও লিখিনি। (ইবনে জাফরের বর্ণনামতে) তিনি আরো বললেন যে, বড় বড় সাতটি সূরায় বিসমিল্লাহ উল্লেখ করেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৬]


[ইবনু হিব্বান, আল হাকেম, তিরমিযী, আবু দাউদ সানাদ যঈফ, মতন মুনকার।]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



377 OK

(৩৭৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَخْبَرَنِي أَبِي أَنَّ حُمْرَانَ أَخْبَرَهُ قَالَ تَوَضَّأَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَى الْبَلَاطِ ثُمَّ قَالَ لَأُحَدِّثَنَّكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْلَا آيَةٌ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا حَدَّثْتُكُمُوهُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ دَخَلَ فَصَلَّى غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلَاةِ الْأُخْرَى حَتَّى يُصَلِّيَهَا


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু পাথরের মেঝের ওপর ওযূ করেছেন। তারপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি এমন একটি হাদীস তোমাদেরকে শুনাবো। আল কুরআনে একটি আয়াত যদি না থাকতো তাহলে শুনাতাম না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি যথাযথভাবে ওযূ করবে, তারপর মসজিদে ঢুকে নামায পড়বে, তার ঐ নামায ও তার পরবর্তী নামাযের মধ্যবর্তী সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে, যতক্ষণ পরবর্তী নামায না পড়ে। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৭]


[বুখারী, মুসলিম, ইবনু হিব্বান, ইবনু খুযাইমা]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



378 OK

(৩৭৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مَالِكٍ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُحْرِمُ لَا يَنْكِحُ وَلَا يُنْكِحُ وَلَا يَخْطُبُ


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইহরাম বেঁধেছে, সে বিয়ে করবে না, করাবেও না এবং বিয়ের প্রস্তাবও পাঠাবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৮]


[মুসলিম, ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



379 OK

(৩৭৯)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ ابْنِ حَرْمَلَةَ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدًا يَعْنِي ابْنَ الْمُسَيَّبِ قَالَ خَرَجَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حَاجًّا حَتَّى إِذَا كَانَ بِبَعْضِ الطَّرِيقِ قِيلَ لِعَلِيٍّ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمَا إِنَّهُ قَدْ نَهَى عَنْ التَّمَتُّعِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَقَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لِأَصْحَابِهِ إِذَا ارْتَحَلَ فَارْتَحِلُوا فَأَهَلَّ عَلِيٌّ وَأَصْحَابُهُ بِعُمْرَةٍ فَلَمْ يُكَلِّمْهُ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ نَهَيْتَ عَنْ التَّمَتُّعِ بِالْعُمْرَةِ قَالَ فَقَالَ بَلَى قَالَ فَلَمْ تَسْمَعْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَمَتَّعَ قَالَ بَلَى


সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব থেকে বর্ণিতঃ

উসমান যখন হজ্জ করতে বেরিয়ে গেলেন, তখন পথিমধ্যে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলা হলো যে, তিনি তামাত্তু’ হজ্জ করতে নিষেধ করেছেন। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার সাথীদেরকে বললেন, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন রওনা হন তখন তোমরাও রওনা হও। তখন আলী ও তার সাথীরা উমরার জন্য যাত্রা শুরু করলেন। উসমান এ বিষয়ে আলীকে কিছু বললেন না। তখন আলী তাকে বললেন, আমাকে যে জানানো হলো আপনি তামাত্তু’ হজ্জ করতে নিষেধ করেছেন তা কি সত্য নয়? উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হ্যাঁ, সত্য। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আপনি কি শোনেননি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামাত্তু’ করেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, শুনেছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৯]


[নাসায়ী হজ্জে তামাত্তু’ হচ্ছে, উমরা ও হজ্জের জন্য পৃথক পৃথক ইহরাম বাধা, অর্থাৎ উমরা আদায় করার পর ইহরাম খুলবে। তারপর হজ্জের পূর্ব মুহুর্তে হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধবে। তামাত্তু’কারীর জন্য কুরবানী ওয়াজিব। কুরবানীর পশু সাথে না এনে থাকলে উমরা করার পর ইহরাম খুলবে। আর কুরবানীর পশু এনে থাকলে ইহরাম খুলবে না। ১০ই জিলহজ্জ কুরবানী করার পর ইহরাম খুলবে। উসমান (রাঃ) তামাত্তু’করতে অর্থাৎ ইহরাম খুলতে এজন্য নিষেধ করেছিলেন যে, তাদের সাথে কুরবানীর পশু আনা হয়েছিল আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামাত্তু’ করেছিল এ কারণে যে, তার সাথে কুরবানীর পশু আনা হয়নি। -সম্পাদক]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



380 OK

(৩৮০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ عَامِرِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযূতে (অঙ্গসমূহ) তিনবার করে ধৌত করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮০]


[ইবনু খুযাইমা, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



381 OK

(৩৮১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي النَّضْرِ عَنْ أَبُو أَنَسٍ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تَوَضَّأَ بِالْمَقَاعِدِ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَعِنْدَهُ رِجَالٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَلَيْسَ هَكَذَا رَأَيْتُمْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ قَالُوا نَعَمْ


আবু আনাস থেকে বর্ণিতঃ

উসমান অঙ্গগুলো তিনবার ধুয়ে ওযূ করলেন। তখন তাঁর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবী ছিল। উসমান বললেন, তোমরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এভাবে ওযূ করতে দেখনি? তারা বললেন, হ্যাঁ। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১]


[মুসলিম]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



382 OK

(৩৮২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে আল কুরআন শেখে ও শেখায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮২]


[বুখারী]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



383 OK

(৩৮৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ قَالَ سَمِعْتُ حُمْرَانَ بْنَ أَبَانَ يُحَدِّثُ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَتَمَّ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَالصَّلَوَاتُ الْمَكْتُوبَاتُ كَفَّارَاتٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ অনুসারে পূর্ণাঙ্গভাবে ওযূ করে, তার (পাঁচ ওয়াক্ত) ফারয নামাযসমূহ তার মধ্যবর্তী সকল গুনাহর জন্য কাফফারা স্বরূপ। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৩]


[মুসলিম, ইবনু হিব্বান]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



384 OK

(৩৮৪)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ قَالَ قَالَ قَيْسٌ فَحَدَّثَنِي أَبُو سَهْلَةَ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ يَوْمَ الدَّارِ حِينَ حُصِرَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَهِدَ إِلَيَّ عَهْدًا فَأَنَا صَابِرٌ عَلَيْهِ قَالَ قَيْسٌ فَكَانُوا يَرَوْنَهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ


কায়েস থেকে বর্ণিতঃ

আবু সাহলা আমাকে জানিয়েছেন যে, যেদিন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে গেলেন, সেদিন বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি ব্যাপারে (ধৈর্য ধারণ) করতে আদেশ করেছেন। তা পালন করতে আমি ধৈর্য ধারণ করবো। কায়েস বলেন, সেদিন জনগণ তাকে সেই আদেশ পালন করতে দেখছিল। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৪]


[ইবনু হিব্বান, আল হাকেম, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



385 OK

(৩৮৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ صَلَّى صَلَاةَ الْعِشَاءِ وَالصُّبْحِ فِي جَمَاعَةٍ فَهُوَ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَهُوَ كَقِيَامِ نِصْفِ لَيْلَةٍ وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَهُوَ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইশা ও ফজরের নামায জামায়াতে পড়বে, সে যেন পুরো রাত জেগে ইবাদাত করলো। আর যে ব্যক্তি ইশার নামায জামায়াতে পড়বে সে যেন অর্ধরাত জেগে ইবাদাত করলো। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাযও জামায়াতে পড়বে, সে যেন গোটা রাত জেগে ইবাদাত করলো। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৫]


[মুসলিম, ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



386 OK

(৩৮৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَهُوَ كَمَنْ قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَهُوَ كَمَنْ قَامَ اللَّيْلَ كُلَّهُ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি ইশার নামায জামায়াতে পড়বে, সে অর্ধরাত জেগে ইবাদতকারীর সমান। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাযও জামায়াতে পড়বে, সে সমগ্র রাত জেগে ইবাদতকারীর সমান। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



387 OK

(৩৮৭)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا يُونُسُ يَعْنِي ابْنَ عُبَيْدٍ حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ فَرُّوخَ مَوْلَى الْقُرَشِيِّينَ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اشْتَرَى مِنْ رَجُلٍ أَرْضًا فَأَبْطَأَ عَلَيْهِ فَلَقِيَهُ فَقَالَ لَهُ مَا مَنَعَكَ مِنْ قَبْضِ مَالِكَ قَالَ إِنَّكَ غَبَنْتَنِي فَمَا أَلْقَى مِنْ النَّاسِ أَحَدًا إِلَّا وَهُوَ يَلُومُنِي قَالَ أَوَ ذَلِكَ يَمْنَعُكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَاخْتَرْ بَيْنَ أَرْضِكَ وَمَالِكَ ثُمَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَدْخَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْجَنَّةَ رَجُلًا كَانَ سَهْلًا مُشْتَرِيًا وَبَائِعًا وَقَاضِيًا وَمُقْتَضِيًا


কুরাইশদের স্বাধীনকৃত দাস আতা থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তির নিকট থেকে জমি কিনলেন। এরপর ঐ ব্যক্তি বিলম্ব করলো। অগত্যা উসমান তার সাথে দেখা করে বললেন, তুমি কী কারণে তোমার অর্থ গ্রহণ করছনা? সে বললো, আপনি আমাকে ঠকিয়েছেন। এখন আমি যার সাথেই দেখা করি, সে আমাকে ভৎসনা করে। উসমান বললেন, এ জন্য তুমি অর্থ গ্রহণ করতে আসনা? সে বললো, হ্যাঁ। উসমান বললেন, তাহলে তুমি তোমার জমি কিংবা অর্থ এই দুটোর একটা গ্রহণ কর। তারপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যে ক্রেতা, বিক্রেতা, পাওনা পরিশোধকারী ও পাওনা দাবীকারী যাই হোক, সর্বাবস্থায় বিনম্র ও উদার হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৭]


[ইবনু মাজাহ, নাসায়ী]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



388 OK

(৩৮৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ كُنْتُ مَعَ ابْنِ مَسْعُودٍ وَهُوَ عِنْدَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَا بَقِيَ لِلنِّسَاءِ مِنْكَ قَالَ فَلَمَّا ذُكِرَتْ النِّسَاءُ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ ادْنُ يَا عَلْقَمَةُ قَالَ وَأَنَا رَجُلٌ شَابٌّ فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى فِتْيَةٍ مِنْ الْمُهَاجِرِينَ فَقَالَ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ ذَا طَوْلٍ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلطَّرْفِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَا فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আলকামাহ (রা.) বলেন, আমি একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর কাছে ছিলাম, যিনি হজরত উসমান (রা.)-এর পাশে বসেছিলেন, হজরত উসমান (রা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি মহিলাদের জন্য কী রেখে গেছেন? যখন নারীদের কথা বলা হলো, তখন হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) আমাকে কাছে আসতে বললেন, আমি তখন যুবক ছিলাম, তখন হজরত উসমান গণি (রা.) নিজেই বলতে শুরু করলেন যে, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) একদল যুবককে দেখতে গেলেন। তিনি মুহাজিরদের নিয়ে এসে বললেন, তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে সে যেন বিয়ে করে, কেননা এটা চোখকে নত করে এবং গোপনাঙ্গকেও রক্ষা করে, আর যে তা করতে পারে না, সে যেন রোজা রাখে, কেননা এতে লালসা ভঙ্গ হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৮]


[নাসায়ী]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



389 OK

(৩৮৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৮২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে আল কুরআন শেখে ও শেখায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



390 OK

(৩৯০)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৮৭] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا يُونُسُ يَعْنِي ابْنَ عُبَيْدٍ حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ فَرُّوخَ مَوْلَى الْقُرَشِيِّينَ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اشْتَرَى مِنْ رَجُلٍ أَرْضًا فَأَبْطَأَ عَلَيْهِ فَلَقِيَهُ فَقَالَ لَهُ مَا مَنَعَكَ مِنْ قَبْضِ مَالِكَ قَالَ إِنَّكَ غَبَنْتَنِي فَمَا أَلْقَى مِنْ النَّاسِ أَحَدًا إِلَّا وَهُوَ يَلُومُنِي قَالَ أَوَ ذَلِكَ يَمْنَعُكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَاخْتَرْ بَيْنَ أَرْضِكَ وَمَالِكَ ثُمَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَدْخَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْجَنَّةَ رَجُلًا كَانَ سَهْلًا مُشْتَرِيًا وَبَائِعًا وَقَاضِيًا وَمُقْتَضِيًا


কুরাইশদের স্বাধীনকৃত দাস আতা থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তির নিকট থেকে জমি কিনলেন। এরপর ঐ ব্যক্তি বিলম্ব করলো। অগত্যা উসমান তার সাথে দেখা করে বললেন, তুমি কী কারণে তোমার অর্থ গ্রহণ করছনা? সে বললো, আপনি আমাকে ঠকিয়েছেন। এখন আমি যার সাথেই দেখা করি, সে আমাকে ভৎসনা করে। উসমান বললেন, এ জন্য তুমি অর্থ গ্রহণ করতে আসনা? সে বললো, হ্যাঁ। উসমান বললেন, তাহলে তুমি তোমার জমি কিংবা অর্থ এই দুটোর একটা গ্রহণ কর। তারপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যে ক্রেতা, বিক্রেতা, পাওনা পরিশোধকারী ও পাওনা দাবীকারী যাই হোক, সর্বাবস্থায় বিনম্র ও উদার হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯০]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



391 OK

(৩৯১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ دَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَذِرَاعَيْهِ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَظَهْرِ قَدَمَيْهِ ثُمَّ ضَحِكَ فَقَالَ لِأَصْحَابِهِ أَلَا تَسْأَلُونِي عَمَّا أَضْحَكَنِي فَقَالُوا مِمَّ ضَحِكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَا بِمَاءٍ قَرِيبًا مِنْ هَذِهِ الْبُقْعَةِ فَتَوَضَّأَ كَمَا تَوَضَّأْتُ ثُمَّ ضَحِكَ فَقَالَ أَلَا تَسْأَلُونِي مَا أَضْحَكَنِي فَقَالُوا مَا أَضْحَكَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا دَعَا بِوَضُوءٍ فَغَسَلَ وَجْهَهُ حَطَّ اللَّهُ عَنْهُ كُلَّ خَطِيئَةٍ أَصَابَهَا بِوَجْهِهِ فَإِذَا غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ كَانَ كَذَلِكَ وَإِنْ مَسَحَ بِرَأْسِهِ كَانَ كَذَلِكَ وَإِذَا طَهَّرَ قَدَمَيْهِ كَانَ كَذَلِكَ


হুমরান বিন আবান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু পানি চাইলেন, তারপর তা দিয়ে ওযূ করলেন, কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, অতঃপর তিনবার তার মুখ ধুলেন, হাত দুখানাও তিনবার করে ধুলেন, তার মাথা ও পায়ের পিঠ মাসেহ করলেন, তারপর হাসলেন। তারপর তার সাথীদেরকে বললেনঃ আমি হাসলাম কেন, তা তোমরা জিজ্ঞাসা করলেনা? তারা বললোঃ হে আমীরুল মুমিনীন, কেন হাসলেন? তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, এই জায়গার নিকটবর্তী জায়গা থেকে পানি চাইলেন, অতঃপর আমি যেভাবে ওযূ করেছি, সেভাবে ওযূ করলেন। তারপর হাসলেন। অতঃপর বললেনঃ তোমরা জিজ্ঞাসা করছনা আমি কেন হাসলাম? লোকেরা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, কেন হাসলেন? তিনি বললেনঃ কোন বান্দা যখন ওযূর পানি চেয়ে নিয়ে মুখ ধোয়, তখন আল্লাহ তার মুখমণ্ডল দ্বারা অর্জিত সমস্ত গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেন। তারপর যখন সে তার হাত ধোয় তখনো তদ্রুপ হয়, যখন মাথা মাসেহ করে তখনো তদ্রুপ হয় এবং যখন পা দু’খানাকে পবিত্র করে তখনো তদ্রুপ হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



392 OK

(৩৯২)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ أَخْبَرَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ مَوْلَى حَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ رَبَاحٍ قَالَ زَوَّجَنِي أَهْلِي أَمَةً لَهُمْ رُومِيَّةً فَوَقَعْتُ عَلَيْهَا فَوَلَدَتْ لِي غُلَامًا أَسْوَدَ مِثْلِي فَسَمَّيْتُهُ عَبْدَ اللَّهِ ثُمَّ وَقَعْتُ عَلَيْهَا فَوَلَدَتْ لِي غُلَامًا أَسْوَدَ مِثْلِي فَسَمَّيْتُهُ عُبَيْدَ اللَّهِ ثُمَّ طَبِنَ لَهَا غُلَامٌ لِأَهْلِي رُومِيٌّ يُقَالُ لَهُ يُوحَنَّسُ فَرَاطَنَهَا بِلِسَانِهِ قَالَ فَوَلَدَتْ غُلَامًا كَأَنَّهُ وَزَغَةٌ مِنْ الْوَزَغَاتِ فَقُلْتُ لَهَا مَا هَذَا قَالَتْ هُوَ لِيُوحَنَّسَ قَالَ فَرُفِعْنَا إِلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مَهْدِيٌّ أَحْسَبُهُ قَالَ سَأَلَهُمَا فَاعْتَرَفَا فَقَالَ أَتَرْضَيَانِ أَنْ أَقْضِيَ بَيْنَكُمَا بِقَضَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى أَنَّ الْوَلَدَ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرَ قَالَ مَهْدِيٌّ وَأَحْسَبُهُ قَالَ جَلَدَهَا وَجَلَدَهُ وَكَانَا مَمْلُوكَيْنِ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ أَبُو مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ رَبَاحٍ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ فَرَفَعْتُهُمَا إِلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى أَنَّ الْوَلَدَ لِلْفِرَاشِ فَذَكَرَ مِثْلَهُ


রাবাহ থেকে বর্ণিতঃ

আমার পরিবার আমাকে তাদের জনৈক রোমক দাসীর সাথে বিয়ে দিল। তার গর্ভে আমারই মত কালো একটা ছেলে জন্ম নিল। আমি তার নাম রাখলাম আবদুল্লাহ। এরপরে পুনরায় তার গর্ভে আমার মত কালো আরো একটা ছেলে ভূমিষ্ঠ হলো। আমি তার নাম রাখলাম উবাইদুল্লাহ। এরপর আমার পরিবারের আর একটি রোমক গোলাম- যার নাম ইউহান্‌স- দাসীটির কাছে সুদর্শন ও উজ্জ্বল মনে হলো। (অর্থাৎ ভালো লাগলো।) গোলামটি দাসীটির সাথে তার ভাষায় কথা বললো। (অর্থাৎ রোমক ভাষায়) এরপর দাসীটি এমন একটি সন্তান জন্ম দিল যেন তা একটি গিরগিটি। আমি বললাম, এ কী? সে বললোঃ এ সন্তান ইউহানসের। এরপর আমরা আমীরুল মুমিনীন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট বিষয়টি নিয়ে গেলাম।

(বর্ণনাকারী বলেনঃ আমার মনে হয়, তিনি গোলাম ও দাসীটিকে জিজ্ঞাসা করলে তারা উভয়ে (ব্যভিচারের কথা) স্বীকার করলো। তখন আমীরুল মুমিনীন বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিচার অনুসারে তোমাদের দু’জনের বিচার করি, এতে রাজী আছ? অতঃপর তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিচার করেছেন এভাবে যে, বিছানা যার সন্তান তার (অর্থাৎ বিবাহিত স্বামীর) আর ব্যভিচারীর জন্য পাথর। (বর্ণনাকারী বলেনঃ আমার যতদূর মনে হয় তিনি উভয়কে বেত্রাঘাত করেছেন। তারা উভয়েই ছিল দাস ও দাসী।)

[অর্থাৎ বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচার প্রমাণিত হলে তাকে রজম করতে হবে। কিন্তু ব্যভিচারজনিত সন্তানের দায়িত্ব স্বামীর ঘাড়েই অপিত হবে অন্যান্য বৈধ সন্তানের মতই। -অনুবাদক।] [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯২]


[আবু দাউদ-২২৭৫]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



393 OK

(৩৯৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ قَالَ دَعَا عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمَاءٍ وَهُوَ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَسَكَبَ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَهَا ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْإِنَاءِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مِرَارٍ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلَاثَ مِرَارٍ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ دَعَا بِإِنَاءٍ فَذَكَرَ نَحْوَهُ


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের আসনে বসা অবস্থায় পানি আনতে বললেন। তারপর পাত্র থেকে পানি ঢেলে ডান হাত ধুলেন। তারপর ডান হাত পাত্রে ঢুকিয়ে নিজের দুই হাতের তালু তিনবার করে ধুলেন। তারপর নিজের মুখমণ্ডল তিনবার করে ধুলেন, তিনবার করে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধুলেন তিনবার করে। তারপর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার এই ওযূর মত ওযূ করবে, তারপর দু’রাকআত নামায এমনভাবে পড়বে যে, নামাযের ভেতরে নিজের সাথে কোন কথা বলবে না, (অর্থাৎ অন্য কোন বিষয়ে চিন্তা করবে না।) তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৩]


[বুখারী-১৫৯, মুসলিম-২২৬, ইবনু হিব্বান-১০৫৮, ইবনু খুযাইমা-৩ ও ১৫৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



394 OK

(৩৯৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ يَعْنِي ابْنَ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ أَشْرَفَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ الْقَصْرِ وَهُوَ مَحْصُورٌ فَقَالَ أَنْشُدُ بِاللَّهِ مَنْ شَهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ حِرَاءٍ إِذْ اهْتَزَّ الْجَبَلُ فَرَكَلَهُ بِقَدَمِهِ ثُمَّ قَالَ اسْكُنْ حِرَاءُ لَيْسَ عَلَيْكَ إِلَّا نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ وَأَنَا مَعَهُ فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ قَالَ أَنْشُدُ بِاللَّهِ مَنْ شَهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ إِذْ بَعَثَنِي إِلَى الْمُشْرِكِينَ إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ قَالَ هَذِهِ يَدِي وَهَذِهِ يَدُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَبَايَعَ لِي فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ قَالَ أَنْشُدُ بِاللَّهِ مَنْ شَهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ يُوَسِّعُ لَنَا بِهَذَا الْبَيْتِ فِي الْمَسْجِدِ بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ فَابْتَعْتُهُ مِنْ مَالِي فَوَسَّعْتُ بِهِ الْمَسْجِدَ فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ قَالَ وَأَنْشُدُ بِاللَّهِ مَنْ شَهِدَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ جَيْشِ الْعُسْرَةِ قَالَ مَنْ يُنْفِقُ الْيَوْمَ نَفَقَةً مُتَقَبَّلَةً فَجَهَّزْتُ نِصْفَ الْجَيْشِ مِنْ مَالِي قَالَ فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ وَأَنْشُدُ بِاللَّهِ مَنْ شَهِدَ رُومَةَ يُبَاعُ مَاؤُهَا ابْنَ السَّبِيلِ فَابْتَعْتُهَا مِنْ مَالِي فَأَبَحْتُهَا لِابْنِ السَّبِيلِ قَالَ فَانْتَشَدَ لَهُ رِجَالٌ


আবু সালামা বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন অবরুদ্ধ, তখন প্রাসাদ থেকে নিচের দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, আমি আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করি, হেরার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কে ছিল, যখন পাহাড় কেঁপে উঠলো? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পা দিয়ে লাথি মারলেন, তারপর বললেন, থামো হেরা, তোমার ওপরে একজন নবী, একজন সিদ্দিক ও একজন শহীদ ছাড়া আর কেউ নেই। তখন আমি তার সাথেই ছিলাম। উসমানের এ কথায় অনেকেই কসম খেয়ে সমর্থন জানালো।

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, বাইয়াতুর রিদওয়ানের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কে ছিল? যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মক্কার মুশরিকদের নিকট পাঠালেন। তিনি বললেন, এটা আমার হাত, আর এটা উসমানের হাত। এভাবে আমার জন্য বাইয়াত নিলেন। এ কথার পক্ষেও সমবেত লোকদের অনেকে সায় দিল। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সেই সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কে ছিল যখন তিনি বললেন, এই বাড়িটি কিনে দিয়ে কে মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ করিয়ে দেবে? এর বিনিময়ে সে জান্নাতে একটা বাড়ি পাবে। তখন আমি নিজের টাকা দিয়ে বাড়িটি কিনে দিলাম এবং তা দ্বারা মসজিদের সম্প্রসারণ করলাম। অনেকেই তার এ কথার পক্ষে সাক্ষ্য দিল।

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু পুনরায় বললেন, মুসিবতের বাহিনীর দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কে ছিল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আজকে কে এমন দান করবে, যা আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে গেছে? আমি তৎক্ষণাত অর্ধেক বাহিনীকে নিজের টাকায় যাবতীয় প্রয়োজনীয় সাজসরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করলাম। আমি আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি সেই জলাশয়টির কাছে কে ছিল, যার পানি পথিকের নিকট বিক্রি করা হতো? আমি নিজের টাকা দিয়ে সেটি কিনে দিয়েছি। এভাবে মুসাফিরের জন্য সেই জলাশয়কে অবাধ করে দিয়েছি। (যার ফলে এখন সে জলাশয় থেকে বিনা মূল্যে পানি পাওয়া যায়) এ সময়ও বহু লোক তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিল। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৪]


[নাসায়ী-২৩৬/৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



395 OK

(৩৯৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ قَالَ دَعَا عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمَاءٍ وَهُوَ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَسَكَبَ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَهَا ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْإِنَاءِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مِرَارٍ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلَاثَ مِرَارٍ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ دَعَا بِإِنَاءٍ فَذَكَرَ نَحْوَهُ


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের আসনে বসা অবস্থায় পানি আনতে বললেন। তারপর পাত্র থেকে পানি ঢেলে ডান হাত ধুলেন। তারপর ডান হাত পাত্রে ঢুকিয়ে নিজের দুই হাতের তালু তিনবার করে ধুলেন। তারপর নিজের মুখমণ্ডল তিনবার করে ধুলেন, তিনবার করে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধুলেন তিনবার করে। তারপর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার এই ওযূর মত ওযূ করবে, তারপর দু’রাকআত নামায এমনভাবে পড়বে যে, নামাযের ভেতরে নিজের সাথে কোন কথা বলবে না, (অর্থাৎ অন্য কোন বিষয়ে চিন্তা করবে না।) তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



396 OK

(৩৯৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ قَالَ أَرْسَلَ عُمَرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ إِلَى أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَيُكَحِّلُ عَيْنَيْهِ وَهُوَ مُحْرِمٌ أَوْ بِأَيِّ شَيْءٍ يُكَحِّلُهُمَا وَهُوَ مُحْرِمٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ أَنْ يُضَمِّدَهُمَا بِالصَّبِرِ فَإِنِّي سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يُحَدِّثُ ذَلِكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


নুবাইহ বিন ওয়াহব থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনে উবাইদুল্লাহ উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ছেলে আবানের নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে, ইহরাম অবস্থায় চোখে সুরমা লাগাতে পারবে কি? অথবা, ইহরাম অবস্থায় চোখে কী ব্যবহার করবো? আবান এর জবাবে জানালেন যে, সাবির নামক উদ্ভিদ দ্বারা চোখে পট্টি বাঁধবেন। কেননা আমি উসমান বিন আফফানকে একথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরাত দিয়ে বলতে শুনেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৬]


[মুসলিম-১২০৪, ইবনু খুযাইমা-২৬৫৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



397 OK

(৩৯৭)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ حُدَيْرٍ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ عَلِمَ أَنَّ الصَّلَاةَ حَقٌّ وَاجِبٌ دَخَلَ الْجَنَّةَ


হুমরান বিন আবান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যে ব্যক্তি বিশ্বাস করবে যে, নামায একটা অপরিহার্য দায়িত্ব, সে জান্নাতে যাবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৭]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



398 OK

(৩৯৮)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ حَدَّثَنِي أَبُو مَعْشَرٍ يَعْنِي الْبَرَّاءَ وَاسْمُهُ يُوسُفُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا ابْنُ حَرْمَلَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ حَجَّ عُثْمَانُ حَتَّى إِذَا كَانَ فِي بَعْضِ الطَّرِيقِ أُخْبِرَ عَلِيٌّ أَنَّ عُثْمَانَ نَهَى أَصْحَابَهُ عَنْ التَّمَتُّعِ بِالْعُمْرَةِ وَالْحَجِّ فَقَالَ عَلِيٌّ لِأَصْحَابِهِ إِذَا رَاحَ فَرُوحُوا فَأَهَلَّ عَلِيٌّ وَأَصْحَابُهُ بِعُمْرَةٍ فَلَمْ يُكَلِّمْهُمْ عُثْمَانُ فَقَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ نَهَيْتَ عَنْ التَّمَتُّعِ أَلَمْ يَتَمَتَّعْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَمَا أَدْرِي مَا أَجَابَهُ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ


সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব থেকে বর্ণিতঃ

উসমান হজ্জে যাত্রা করলেন। কিছু দূর অগ্রসর হলে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জানানো হলো যে, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তার সাথীদেরকে তামাত্তু’র মাধ্যমে হজ্জ ও উমরা এক সাথে করতে নিষেধ করেছেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার সাথীদেরকে বললেন, উসমান যদি যায়, (অর্থাৎ তামাত্তু’র মাধ্যমে হজ্জ ও উমরা করতে রওনা হয়) তবে তোমরা যাও। এরপর আলী ও তার সাথীরা উমরার আয়োজন শুরু করলেন। উসমান তাদেরকে কিছু বললেন না। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমাকে কি জানানো হয়নি যে, আপনি তামাত্তু’ করতে নিষেধ করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তামাত্তু’ করেননি? এরপর উসমান কী জবাব দিয়েছেন জানিনা। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৮]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



399 OK

(৩৯৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ قَالَ أَرْسَلَ إِلَيَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَبَيْنَا أَنَا كَذَلِكَ إِذْ جَاءَهُ مَوْلَاهُ يَرْفَأُ فَقَالَ هَذَا عُثْمَانُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ وَسَعْدٌ وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ قَالَ وَلَا أَدْرِي أَذَكَرَ طَلْحَةَ أَمْ لَا يَسْتَأْذِنُونَ عَلَيْكَ قَالَ ائْذَنْ لَهُمْ ثُمَّ مَكَثَ سَاعَةً ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ هَذَا الْعَبَّاسُ وَعَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا يَسْتَأْذِنَانِ عَلَيْكَ قَالَ ائْذَنْ لَهُمَا فَلَمَّا دَخَلَ الْعَبَّاسُ قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَ هَذَا وَهُمَا حِينَئِذٍ يَخْتَصِمَانِ فِيمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَمْوَالِ بَنِي النَّضِيرِ فَقَالَ الْقَوْمُ اقْضِ بَيْنَهُمَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَأَرِحْ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْ صَاحِبِهِ فَقَدْ طَالَتْ خُصُومَتُهُمَا فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنْشُدُكُمْ اللَّهَ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ قَالُوا قَدْ قَالَ ذَلِكَ وَقَالَ لَهُمَا مِثْلَ ذَلِكَ فَقَالَا نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي سَأُخْبِرُكُمْ عَنْ هَذَا الْفَيْءِ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ خَصَّ نَبِيَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهُ بِشَيْءٍ لَمْ يُعْطِهِ غَيْرَهُ فَقَالَ وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ وَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاصَّةً وَاللَّهِ مَا احْتَازَهَا دُونَكُمْ وَلَا اسْتَأْثَرَ بِهَا عَلَيْكُمْ لَقَدْ قَسَمَهَا بَيْنَكُمْ وَبَثَّهَا فِيكُمْ حَتَّى بَقِيَ مِنْهَا هَذَا الْمَالُ فَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ مِنْهُ سَنَةً ثُمَّ يَجْعَلُ مَا بَقِيَ مِنْهُ مَجْعَلَ مَالِ اللَّهِ فَلَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَهُ أَعْمَلُ فِيهَا بِمَا كَانَ يَعْمَلُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا


মালিক বিন আওস বিন হাদছান থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি তাঁর দরবারে এলাম। এই সময়ে তার মুক্ত গোলাম ইয়ারফা এলো তাঁর কাছে। সে বললো, এই যে উসমান, আবদুর রহমান, সা’দ ও যুবাইর ইবনুল আওয়াম উপস্থিত। (আমার মনে নেই তালহার কথাও বলেছিল কিনা) ওঁরা সবাই আপনার কাছে আসবার অনুমতি চাইছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ওদেরকে অনুমতি দাও। এরপর ইয়ারফা কিছুক্ষণ কাটিয়ে আবার এলো এবং বললো, আব্বাস ও আলী আপনার নিকট আসবার অনুমতি চাইছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ওদের দু’জনকে আসতে দাও। আব্বাস এসেই বললেনঃ হে আমীরুল মুমিনীন, আমার ও এই ব্যক্তির মধ্যে ফায়সালা করে দিন। তারা উভয়ে (অর্থাৎ আব্বাস ও আলী) বনু নাযীরের যে সম্পত্তি আল্লাহ তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিয়েছিলেন তা নিয়ে বিবাদে লিপ্ত ছিলেন।

উপস্থিত লোকেরা বললো, হে আমীরুল মুমিনীন, ওদের বিবাদ মিটিয়ে দিন এবং একজনকে অপর জন থেকে নিষ্কৃতি দিন। কেননা তাদের উভয়ের বিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে গেছে। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যে আল্লাহর অনুমতিতে আকাশ ও পৃথিবী টিকে আছে, সেই আল্লাহর শপথ দিয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করছি, তোমরা কি জান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে বণ্টিত হয় না এবং আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকা? সকলে বললোঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছেন। তিনি ওঁদের দু’জনকে লক্ষ্য করেও একই কথা বললেন। তারা উভয়ে বললেনঃ হ্যাঁ।

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তাহলে আমি তোমাদেরকে এই ফাই’ (বিজয়ার্জিত ভূ-সম্পত্তি) সম্পর্কে অবহিত করছি। মহান আল্লাহ তার নবীকে নিজের পক্ষ থেকে এমন কিছু জিনিস দিয়ে বিশেষভাবে গৌরবান্বিত করেছেন, যা আর কাউকে দেননি। আল্লাহ বলেনঃ

وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ

“আর আল্লাহ তাদের (ইহুদীদের) কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যে সম্পত্তি দান করেছেন, তার জন্য তোমরা সেখানে ঘোড়া বা উট দাবড়াওনি।” [হাশরঃ ৬]

বস্তুত সে সম্পত্তি ছিল নিরংকুশভাবে শুধুই আল্লাহর রাসূলের জন্য। আল্লাহর কসম, তিনি তোমাদেরকে বাদ দিয়ে শুধু নিজের জন্যই তা রেখে দেননি, তোমাদের ওপর অগ্রাধিকার হিসাবেও তা গ্রহণ করেননি। বরঞ্চ তিনি তা তোমাদেরকে সকলের মধ্যে বণ্টন করেছেন এবং তোমাদের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তা থেকে শুধু এইটুকু সম্পত্তি অবশিষ্ট রয়েছে। এ থেকে তিনি তার পরিবার পরিজনের সারা বছরের ব্যয় নির্বাহ করতেন। আর যা অবশিষ্ট থাকতো, তাকে আল্লাহর সম্পত্তি গণ্য করতেন। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করলেন, তখন আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর আমি তার অভিভাবক। এই সম্পত্তিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করতেন, আমি তাই করবো। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



400 OK

(৪০০)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَبُو مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ الطَّائِفِيُّ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ بْنِ مَنَّاحٍ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ رَأَى جَنَازَةً فَقَامَ إِلَيْهَا وَقَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى جَنَازَةً فَقَامَ لَهَا


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ছেলে আবান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি জানাযার আয়োজন দেখা মাত্রই সেদিকে ছুটে গেলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, একটি জানাযার আয়োজন দেখেই সেদিকে ছুটে গেলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০০]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



401 OK

(৪০১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَارِظٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ قَالَ شَهِدْتُ عَلِيًّا وَعُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فِي يَوْمِ الْفِطْرِ وَالنَّحْرِ يُصَلِّيَانِ ثُمَّ يَنْصَرِفَانِ فَيُذَكِّرَانِ النَّاسَ فَسَمِعْتُهُمَا يَقُولَانِ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَوْمِ هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ حَدَّثَنِي ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ الْجُنْدَعِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ رَأَيْتُ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانَ يَتَوَضَّأُ فَأَهْرَاقَ عَلَى يَدَيْهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ اسْتَنْثَرَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَمَضْمَضَ ثَلَاثًا وَذَكَرَ الْحَدِيثَ مِثْلَ مَعْنَى حَدِيثِ مَعْمَرٍ


আবু উবাইদ থেকে বর্ণিতঃ

আমি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে দেখেছি, তারা উভয়ে নামায পড়েই ঘুরে দাঁড়াতেন এবং জনগণকে উপদেশ দিতেন। তাদের উভয়কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



402 OK

(৪০২)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ قَالَ دَعَا عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمَاءٍ وَهُوَ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَسَكَبَ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَهَا ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْإِنَاءِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مِرَارٍ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلَاثَ مِرَارٍ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ دَعَا بِإِنَاءٍ فَذَكَرَ نَحْوَهُ


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের আসনে বসা অবস্থায় পানি আনতে বললেন। তারপর পাত্র থেকে পানি ঢেলে ডান হাত ধুলেন। তারপর ডান হাত পাত্রে ঢুকিয়ে নিজের দুই হাতের তালু তিনবার করে ধুলেন। তারপর নিজের মুখমণ্ডল তিনবার করে ধুলেন, তিনবার করে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধুলেন তিনবার করে। তারপর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার এই ওযূর মত ওযূ করবে, তারপর দু’রাকআত নামায এমনভাবে পড়বে যে, নামাযের ভেতরে নিজের সাথে কোন কথা বলবে না, (অর্থাৎ অন্য কোন বিষয়ে চিন্তা করবে না।) তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



403 OK

(৪০৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ دَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَذِرَاعَيْهِ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَظَهْرِ قَدَمَيْهِ ثُمَّ ضَحِكَ فَقَالَ لِأَصْحَابِهِ أَلَا تَسْأَلُونِي عَمَّا أَضْحَكَنِي فَقَالُوا مِمَّ ضَحِكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَا بِمَاءٍ قَرِيبًا مِنْ هَذِهِ الْبُقْعَةِ فَتَوَضَّأَ كَمَا تَوَضَّأْتُ ثُمَّ ضَحِكَ فَقَالَ أَلَا تَسْأَلُونِي مَا أَضْحَكَنِي فَقَالُوا مَا أَضْحَكَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا دَعَا بِوَضُوءٍ فَغَسَلَ وَجْهَهُ حَطَّ اللَّهُ عَنْهُ كُلَّ خَطِيئَةٍ أَصَابَهَا بِوَجْهِهِ فَإِذَا غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ كَانَ كَذَلِكَ وَإِنْ مَسَحَ بِرَأْسِهِ كَانَ كَذَلِكَ وَإِذَا طَهَّرَ قَدَمَيْهِ كَانَ كَذَلِكَ


হুমরান বিন আবান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু পানি চাইলেন, তারপর তা দিয়ে ওযূ করলেন, কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, অতঃপর তিনবার তার মুখ ধুলেন, হাত দুখানাও তিনবার করে ধুলেন, তার মাথা ও পায়ের পিঠ মাসেহ করলেন, তারপর হাসলেন। তারপর তার সাথীদেরকে বললেনঃ আমি হাসলাম কেন, তা তোমরা জিজ্ঞাসা করলেনা? তারা বললোঃ হে আমীরুল মুমিনীন, কেন হাসলেন? তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, এই জায়গার নিকটবর্তী জায়গা থেকে পানি চাইলেন, অতঃপর আমি যেভাবে ওযূ করেছি, সেভাবে ওযূ করলেন। তারপর হাসলেন। অতঃপর বললেনঃ তোমরা জিজ্ঞাসা করছনা আমি কেন হাসলাম? লোকেরা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, কেন হাসলেন? তিনি বললেনঃ কোন বান্দা যখন ওযূর পানি চেয়ে নিয়ে মুখ ধোয়, তখন আল্লাহ তার মুখমণ্ডল দ্বারা অর্জিত সমস্ত গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেন। তারপর যখন সে তার হাত ধোয় তখনো তদ্রুপ হয়, যখন মাথা মাসেহ করে তখনো তদ্রুপ হয় এবং যখন পা দু’খানাকে পবিত্র করে তখনো তদ্রুপ হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



404 OK

(৪০৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ شَقِيقٍ يَقُولُ كَانَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَنْهَى عَنْ الْمُتْعَةِ وَعَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يُفْتِي بِهَا فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَوْلًا فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ ذَلِكَ قَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَجَلْ وَلَكِنَّا كُنَّا خَائِفِينَ قَالَ شُعْبَةُ فَقُلْتُ لِقَتَادَةَ مَا كَانَ خَوْفُهُمْ قَالَ لَا أَدْرِي


আবদুল্লাহ বিন শাকীক থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু মুত’আ বিয়ে করতে নিষেধ করতেন, আর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পক্ষে ফতোয়া দিতেন। এরপর উসমানরাদিয়াল্লাহু আনহু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে কী যেন বললেন। তারপর তাকে আলীরাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তুমিতো জানো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা করেছেন? উসমানরাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হ্যাঁ, তবে আমরা ভয় পেতাম। (মুসনাদে আহমাদ-৪৩২, ৭৫৬)

এ হাদীসের অন্যতম বর্ণনাকারী শু’বা বলেন, আমি কাতাদাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ তারা কিসের ভয় পেতেন? কাতাদা বললেনঃ জানি না। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৪]


[মুসলিম-১২২৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



405 OK

(৪০৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৪০৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ شَقِيقٍ يَقُولُ كَانَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَنْهَى عَنْ الْمُتْعَةِ وَعَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يُفْتِي بِهَا فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَوْلًا فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ ذَلِكَ قَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَجَلْ وَلَكِنَّا كُنَّا خَائِفِينَ قَالَ شُعْبَةُ فَقُلْتُ لِقَتَادَةَ مَا كَانَ خَوْفُهُمْ قَالَ لَا أَدْرِي


আবদুল্লাহ বিন শাকীক থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু মুত’আ বিয়ে করতে নিষেধ করতেন, আর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পক্ষে ফতোয়া দিতেন। এরপর উসমানরাদিয়াল্লাহু আনহু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে কী যেন বললেন। তারপর তাকে আলীরাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তুমিতো জানো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা করেছেন? উসমানরাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হ্যাঁ, তবে আমরা ভয় পেতাম। (মুসনাদে আহমাদ-৪৩২, ৭৫৬)

এ হাদীসের অন্যতম বর্ণনাকারী শু’বা বলেন, আমি কাতাদাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ তারা কিসের ভয় পেতেন? কাতাদা বললেনঃ জানি না। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস