(২৭) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৪২১৭-৬৮০৭), সর্বমোট হাদিসঃ ২৫৯১টি]

[মোট হাদিসঃ ১১টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ১১টি]



6796 OK

(৬৭৯৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا شَدَّادٌ أَبُو طَلْحَةَ الرَّاسِبِيُّ سَمِعْتُ أَبَا الْوَازِعِ جَابِرَ بْنَ عَمْرٍو يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ قَوْمٍ جَلَسُوا مَجْلِسًا لَمْ يَذْكُرُوا اللَّهَ فِيهِ إِلَّا رَأَوْهُ حَسْرَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যারা মজলিসে বসে আল্লাহকে স্মরণ করে না, তারা কিয়ামতের দিন অনুতপ্ত হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৭৯৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6797 OK

(৬৭৯৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الرَّجُلِ يَدْخُلُ الْحَائِطَ قَالَ يَأْكُلُ غَيْرَ مُتَّخِذٍ خُبْنَةً


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কেউ যদি ডাল থেকে ফল ছিঁড়ে চুরি করে, তাহলে তার বিধান কী?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সে যে ফল খায় এবং গোপন করে না, তার জন্যে তার উপর কোনো শাস্তি নেই, তবে যে ফল সে নিয়ে যায়, তার জন্যে তাকে তার মূল্য দ্বিগুণ করতে হবে, প্রহার এবং জরিমানা করতে হবে। যদি সে এমন স্থান থেকে চুরি করে, যেখানে ফল শুকানো হয় এবং এর পরিমাণ কমপক্ষে ঢালের মূল্যের সমান হয়, তাহলে তার হাত কেটে ফেলা হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৭৯৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6798 OK

(৬৭৯৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৬৫৯৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُلَاثَةَ الْقَاضِي أَبُو سَهْلٍ حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ رَافِعٍ عَنِ الْفَرَزْدَقِ بْنِ حَنَانٍ الْقَاصِّ قَالَ أَلَا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ وَوَعَاهُ قَلْبِي لَمْ أَنْسَهُ بَعْدُ خَرَجْتُ أَنَا وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ حَيْدَةَ فِي طَرِيقِ الشَّامِ فَمَرَرْنَا بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ فَقَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِكُمَا أَعْرَابِيٌّ جَافٍ جَرِيءٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ الْهِجْرَةُ إِلَيْكَ حَيْثُمَا كُنْتَ أَمْ إِلَى أَرْضٍ مَعْلُومَةٍ أَوْ لِقَوْمٍ خَاصَّةً أَمْ إِذَا مُتَّ انْقَطَعَتْ قَالَ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ الْهِجْرَةِ قَالَ هَا أَنَا ذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِذَا أَقَمْتَ الصَّلَاةَ وَآتَيْتَ الزَّكَاةَ فَأَنْتَ مُهَاجِرٌ وَإِنْ مُتَّ بِالْحَضْرَمَةِ قَالَ يَعْنِي أَرْضًا بِالْيَمَامَةِ قَالَ ثُمَّ قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ ثِيَابَ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَتُنْسَجُ نَسْجًا أَمْ تُشَقَّقُ مِنْ ثَمَرِ الْجَنَّةِ قَالَ فَكَأَنَّ الْقَوْمَ تَعَجَّبُوا مِنْ مَسْأَلَةِ الْأَعْرَابِيِّ فَقَالَ مَا تَعْجَبُونَ مِنْ جَاهِلٍ يَسْأَلُ عَالِمًا قَالَ فَسَكَتَ هُنَيَّةً ثُمَّ قَالَ أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ ثِيَابِ الْجَنَّةِ قَالَ أَنَا قَالَ لَا بَلْ تُشَقَّقُ مِنْ ثَمَرِ الْجَنَّةِ


হজরত ফারজাদাক বিন হানান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

ফারজাদাক বিন হানান একবার তার সাহাবীদের বললেন, আমি কি তোমাদের এমন একটি হাদিস বলবো না, যা আমার কান শুনেছে, আমার হৃদয় সংরক্ষণ করেছে এবং আজও আমি তা ভুলিনি? একবার আমি উবাইদুল্লাহ বিন হায়দাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সিরিয়ার পথে বের হলাম। আমরা সায়্যিদুনা ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পাশ দিয়ে গেলাম। এরপর তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করে বললেন, তোমার জাতির একজন কঠোর স্বভাবের গ্রামবাসী এসে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার কোথায় স্থানান্তরিত হওয়া উচিত? এটা কি আপনি যেখানেই থাকুন, না কোনো নির্দিষ্ট এলাকায়? নাকি এই আদেশটি কোনো নির্দিষ্ট জাতির জন্যে, নাকি আপনার মৃত্যুর পর হিজরত বন্ধ হয়ে যাবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন, “তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হিজরত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারী ব্যক্তি কোথায়?” সে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এখানে আছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যতক্ষণ তুমি নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দিবে, ততক্ষণ তুমি একজন মুহাজির, যদিও তোমার মৃত্যু ইয়ামামার হাদরামাউতে হয়।” তারপর লোকটি দাঁড়িয়ে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বলুন তো, জান্নাতীদের পোশাক কি তৈরি করা হবে, নাকি জান্নাতের ফলমূল থেকে ছিঁড়ে বের করে নেওয়া হবে?” গ্রামবাসীর প্রশ্ন শুনে লোকেরা অবাক হয়ে গেলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের কী এটা অবাক করছে যে, একজন অজ্ঞ ব্যক্তি একজন পণ্ডিতকে প্রশ্ন করছে।” তারপর, কিছুক্ষণ নীরবতার পর, তিনি বললেন, “যে পোশাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলো সে কোথায়?” সে বললো, “আমি এখানে আছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “জান্নাতীদের পোশাক জান্নাতের ফলমূল থেকে ছিঁড়ে বের করে নেওয়া হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৭৯৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6799 OK

(৬৭৯৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৬৫৯৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُلَاثَةَ الْقَاضِي أَبُو سَهْلٍ حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ رَافِعٍ عَنِ الْفَرَزْدَقِ بْنِ حَنَانٍ الْقَاصِّ قَالَ أَلَا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ وَوَعَاهُ قَلْبِي لَمْ أَنْسَهُ بَعْدُ خَرَجْتُ أَنَا وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ حَيْدَةَ فِي طَرِيقِ الشَّامِ فَمَرَرْنَا بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ فَقَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِكُمَا أَعْرَابِيٌّ جَافٍ جَرِيءٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ الْهِجْرَةُ إِلَيْكَ حَيْثُمَا كُنْتَ أَمْ إِلَى أَرْضٍ مَعْلُومَةٍ أَوْ لِقَوْمٍ خَاصَّةً أَمْ إِذَا مُتَّ انْقَطَعَتْ قَالَ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ الْهِجْرَةِ قَالَ هَا أَنَا ذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِذَا أَقَمْتَ الصَّلَاةَ وَآتَيْتَ الزَّكَاةَ فَأَنْتَ مُهَاجِرٌ وَإِنْ مُتَّ بِالْحَضْرَمَةِ قَالَ يَعْنِي أَرْضًا بِالْيَمَامَةِ قَالَ ثُمَّ قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ ثِيَابَ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَتُنْسَجُ نَسْجًا أَمْ تُشَقَّقُ مِنْ ثَمَرِ الْجَنَّةِ قَالَ فَكَأَنَّ الْقَوْمَ تَعَجَّبُوا مِنْ مَسْأَلَةِ الْأَعْرَابِيِّ فَقَالَ مَا تَعْجَبُونَ مِنْ جَاهِلٍ يَسْأَلُ عَالِمًا قَالَ فَسَكَتَ هُنَيَّةً ثُمَّ قَالَ أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ ثِيَابِ الْجَنَّةِ قَالَ أَنَا قَالَ لَا بَلْ تُشَقَّقُ مِنْ ثَمَرِ الْجَنَّةِ


হজরত ফারজাদাক বিন হানান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

ফারজাদাক বিন হানান একবার তার সাহাবীদের বললেন, আমি কি তোমাদের এমন একটি হাদিস বলবো না, যা আমার কান শুনেছে, আমার হৃদয় সংরক্ষণ করেছে এবং আজও আমি তা ভুলিনি? একবার আমি উবাইদুল্লাহ বিন হায়দাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সিরিয়ার পথে বের হলাম। আমরা সায়্যিদুনা ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পাশ দিয়ে গেলাম। এরপর তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করে বললেন, তোমার জাতির একজন কঠোর স্বভাবের গ্রামবাসী এসে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার কোথায় স্থানান্তরিত হওয়া উচিত? এটা কি আপনি যেখানেই থাকুন, না কোনো নির্দিষ্ট এলাকায়? নাকি এই আদেশটি কোনো নির্দিষ্ট জাতির জন্যে, নাকি আপনার মৃত্যুর পর হিজরত বন্ধ হয়ে যাবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন, “তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হিজরত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারী ব্যক্তি কোথায়?” সে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এখানে আছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যতক্ষণ তুমি নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দিবে, ততক্ষণ তুমি একজন মুহাজির, যদিও তোমার মৃত্যু ইয়ামামার হাদরামাউতে হয়।” তারপর লোকটি দাঁড়িয়ে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বলুন তো, জান্নাতীদের পোশাক কি তৈরি করা হবে, নাকি জান্নাতের ফলমূল থেকে ছিঁড়ে বের করে নেওয়া হবে?” গ্রামবাসীর প্রশ্ন শুনে লোকেরা অবাক হয়ে গেলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের কী এটা অবাক করছে যে, একজন অজ্ঞ ব্যক্তি একজন পণ্ডিতকে প্রশ্ন করছে।” তারপর, কিছুক্ষণ নীরবতার পর, তিনি বললেন, “যে পোশাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলো সে কোথায়?” সে বললো, “আমি এখানে আছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “জান্নাতীদের পোশাক জান্নাতের ফলমূল থেকে ছিঁড়ে বের করে নেওয়া হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৭৯৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6800 OK

(৬৮০০)

হাদিস দেখুন [৩১:৬৪২৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنِي مَعْمَرٌ أَنَّ ابْنَ جُرَيْجٍ أَخْبَرَهُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي أَنَّ زِنْبَاعًا أَبَا رَوْحٍ وَجَدَ غُلَامًا لَهُ مَعَ جَارِيَةٍ لَهُ فَجَدَعَ أَنْفَهُ وَجَبَّهُ فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَنْ فَعَلَ هَذَا بِكَ قَالَ زِنْبَاعٌ فَدَعَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى هَذَا فَقَالَ كَانَ مِنْ أَمْرِهِ كَذَا وَكَذَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْعَبْدِ اذْهَبْ فَأَنْتَ حُرٌّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَوْلَى مَنْ أَنَا قَالَ مَوْلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَأَوْصَى بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُسْلِمِينَ قَالَ فَلَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ وَصِيَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ نُجْرِي عَلَيْكَ النَّفَقَةَ وَعَلَى عِيَالِكَ فَأَجْرَاهَا عَلَيْهِ حَتَّى قُبِضَ أَبُو بَكْرٍ فَلَمَّا اسْتُخْلِفَ عُمَرُ جَاءَهُ فَقَالَ وَصِيَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ أَيْنَ تُرِيدُ قَالَ مِصْرَ فَكَتَبَ عُمَرُ إِلَى صَاحِبِ مِصْرَ أَنْ يُعْطِيَهُ أَرْضًا يَأْكُلُهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদা একটি লোক চিৎকার করতে করতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! অমুকের দাসী!” তিনি বললেন, “দুর্ভাগা! তোমার কি হয়েছে বলো।” সে বললো, “আমার অনিষ্ট হয়েছে। সে তার মালিকের দাসীর প্রতি তাকানোর কারণে, সে তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তার লিঙ্গ কেটে দিয়েছে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “লোকটিকে আমার নিকট নিয়ে আসো।” তাকে খুঁজে না পাওয়া গেলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি দাসত্বমুক্ত; তুমি চলে যাও।” লোকটি বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কে আমাকে সাহায্য করবে?” তিনি বললেন, “(তোমায় সাহায্য করা) প্রত্যেক মুসলিম বা মুমিনের দায়িত্ব।” ইমাম আবূ দাঊদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাসত্বমুক্ত ব্যক্তির নাম ছিলো, রাওহ ইবনু দীনার। ইমাম আবূ দাঊদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তার লিঙ্গ কর্তনকারীর নাম ছিল যিন্বা। ইমাম আবূ দাঊদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এই যিন্বা আবূ রাওহ ছিলো দাসটির মনিব। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মারা গেলেন, দাসটি সায়াইদুনা সিদ্দিক আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলো ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা উল্লেখ করলো। তাই সাইয়্যিদুনা সিদ্দিক আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর ভরণ-পোষণ পরিশোধ করলেন। তারপর যখন সাইয়্যিদুনা সিদ্দিক আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইন্তেকাল করলেন এবং সাইয়্যিদুনা ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু খলিফা নিযুক্ত হলেন, তখন সে আবার এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসিয়ত উল্লেখ করলেন। সাইয়্যিদুনা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হ্যাঁ! মনে আছে তুমি কোথায় যেতে চাও?” দাসটি মিশরের কথা উল্লেখ করলো। সাইয়্যিদুনা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মিশরের গভর্নরের কাছে একটি চিঠি লিখে অনুরোধ করেন যে, তাকে খাওয়া-দাওয়ার জন্যে পর্যাপ্ত জমি দেওয়া হোক। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮০০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6801 OK

(৬৮০১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مَعْمَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يَغِيبُ لَا يَقْدِرُ عَلَى الْمَاءِ أَيُجَامِعُ أَهْلَهُ قَالَ نَعَمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, একজন লোক অসুস্থ, তার পানি ব্যবহার করার ক্ষমতাও নেই, সে কি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ!” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮০১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6802 OK

(৬৮০২)

হাদিস দেখুন [৩১:৬৫৮২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ أَخْبَرَنِي الْجُرَيْرِيُّ عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِصِيَامٍ قَالَ صُمْ يَوْمًا وَلَكَ أَجْرُ تِسْعَةٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً فَزِدْنِي قَالَ صُمْ يَوْمَيْنِ وَلَكَ أَجْرُ ثَمَانِيَةِ أَيَّامٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً فَزِدْنِي قَالَ فَصُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَكَ أَجْرُ سَبْعَةِ أَيَّامٍ قَالَ فَمَا زَالَ يَحُطُّ لِي حَتَّى قَالَ إِنَّ أَفْضَلَ الصَّوْمِ صَوْمُ أَخِي دَاوُدَ أَوْ نَبِيِّ اللَّهِ دَاوُدَ شَكَّ الْجُرَيْرِيُّ صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَمَّا ضَعُفَ لَيْتَنِي كُنْتُ قَنَعْتُ بِمَا أَمَرَنِي بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললাম, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! রোজা সম্পর্কে আমাকে কিছু পরামর্শ দিন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “একদিন রোজা রাখো, তুমি নয় দিনের সওয়াব পাবে।” আমি আরও চেয়েছিলাম, তাই তিনি বললেন, “দুই দিন রোজা রাখো, তুমি আট দিনের সওয়াব পাবে।” আমি আরও চেয়েছিলাম, তাই তিনি বললেন, “তিন দিন রোজা রাখো, তুমি সাত দিনের সওয়াব পাবে।” তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা কমিয়ে দিতে থাকলেন, অবশেষে তিনি বললেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ রোজা হলো সায়্যিদুনা দাউদ আলাইহিস সালামের, তাই একদিন রোজা রাখো এবং একদিন রোজা রাখো না।” যখন সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বৃদ্ধ হলেন, তখন তিনি বললেন, “আমি যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে সন্তুষ্ট থাকতাম।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮০২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6803 OK

(৬৮০৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৬১৯২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَارِمٌ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ أَبِي حَدَّثَنَا الْحَضْرَمِيُّ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَجُلًا مِنْ الْمُسْلِمِينَ اسْتَأْذَنَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي امْرَأَةٍ يُقَالُ لَهَا أُمُّ مَهْزُولٍ وَكَانَتْ تُسَافِحُ وَتَشْتَرِطُ لَهُ أَنْ تُنْفِقَ عَلَيْهِ قَالَ فَاسْتَأْذَنَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ ذَكَرَ لَهُ أَمْرَهَا قَالَ فَقَرَأَ عَلَيْهِ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

উম্মে মাহযুল নামে এক মহিলা ব্যভিচার করেছিলো এবং ব্যভিচারীর কাছ থেকে তার খোরপোশ আদায় করতো। এক মুসলিম ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে তাকে বিয়ে করার জন্যে অনুমতি চাইতে এসেছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে এই আয়াতটি তেলাওয়াত করে শুনালেন,
ٱلزَّانِي لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوۡ مُشۡرِكَةٗ وَٱلزَّانِيَةُ لَا يَنكِحُهَآ إِلَّا زَانٍ أَوۡ مُشۡرِكٞۚ وَحُرِّمَ ذَٰلِكَ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ٣
ব্যভিচারী পুরুষ ব্যভিচারিণী নারীকে অথবা অংশীবাদীণী নারীকে ব্যতীত অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবে না। আর ব্যভিচারিণী নারীকে ব্যভিচারী পুরুষ অথবা অংশীবাদী পুরুষ ব্যতীত অন্য কেউ বিয়ে করতে পারবে না। এদেরকে বিয়ে করা বিশ্বাসীদের জন্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। (২৪. আন নূর : ৩) [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮০৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6804 OK

(৬৮০৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৬২৯৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنِ الصَّقْعَبِ بْنِ زُهَيْرٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ قَالَ حَمَّادٌ أَظُنُّهُ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ عَلَيْهِ جُبَّةٌ سِيجَانٍ مَزْرُورَةٌ بِالدِّيبَاجِ فَقَالَ أَلَا إِنَّ صَاحِبَكُمْ هَذَا قَدْ وَضَعَ كُلَّ فَارِسٍ ابْنِ فَارِسٍ قَالَ يُرِيدُ أَنْ يَضَعَ كُلَّ فَارِسٍ ابْنِ فَارِسٍ وَيَرْفَعَ كُلَّ رَاعٍ ابْنِ رَاعٍ قَالَ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَجَامِعِ جُبَّتِهِ وَقَالَ أَلَا أَرَى عَلَيْكَ لِبَاسَ مَنْ لَا يَعْقِلُ ثُمَّ قَالَ إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ نُوحًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ لِابْنِهِ إِنِّي قَاصٌّ عَلَيْكَ الْوَصِيَّةَ آمُرُكَ بِاثْنَتَيْنِ وَأَنْهَاكَ عَنْ اثْنَتَيْنِ آمُرُكَ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَإِنَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعَ وَالْأَرْضِينَ السَّبْعَ لَوْ وُضِعَتْ فِي كِفَّةٍ وَوُضِعَتْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فِي كِفَّةٍ رَجَحَتْ بِهِنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَلَوْ أَنَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعَ وَالْأَرْضِينَ السَّبْعَ كُنَّ حَلْقَةً مُبْهَمَةً قَصَمَتْهُنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فَإِنَّهَا صَلَاةُ كُلِّ شَيْءٍ وَبِهَا يُرْزَقُ الْخَلْقُ وَأَنْهَاكَ عَنْ الشِّرْكِ وَالْكِبْرِ قَالَ قُلْتُ أَوْ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الشِّرْكُ قَدْ عَرَفْنَاهُ فَمَا الْكِبْرُ قَالَ أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِنَا نَعْلَانِ حَسَنَتَانِ لَهُمَا شِرَاكَانِ حَسَنَانِ قَالَ لَا قَالَ هُوَ أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِنَا حُلَّةٌ يَلْبَسُهَا قَالَ لَا قَالَ الْكِبْرُ هُوَ أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِنَا دَابَّةٌ يَرْكَبُهَا قَالَ لَا قَالَ أَفَهُوَ أَنْ يَكُونَ لِأَحَدِنَا أَصْحَابٌ يَجْلِسُونَ إِلَيْهِ قَالَ لَا قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا الْكِبْرُ قَالَ سَفَهُ الْحَقِّ وَغَمْصُ النَّاسِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বসা ছিলাম। তখন বনভূমি থেকে সীজান (এক প্রকার মাছ) রঙ্গের জুব্বা পরিহিত এক ব্যক্তি এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথার কাছে দাঁড়ালো এবং বললো, “তোমাদের সাথী প্রত্যেক আরোহীকে অবদমিত করেছে বা আরোহীদেরকে অবদমিত করার সংকল্প করেছে এবং প্রত্যেক রাখালকে সমুন্নত করেছে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জুব্বার হাতা ধরে বলেন, “আমি কি তোমাকে নির্বোধের পোশাক পরিহিত দেখছি না?” অতঃপর তিনি বলেন, “আল্লাহর নবী হযরত নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তিকালের সময় উপস্থিত হলে তিনি তাঁর পুত্রকে বলেন, আমি তোমাকে একটি উপদেশ দিচ্ছি। আমি তোমাকে দুটি বিষয়ের আদেশ দিচ্ছি এবং দুটি বিষয় নিষেধ করছি। আমি তোমাকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর’ নির্দেশ দিচ্ছি। কেননা, সাত আসমান ও সাত জমিনকে যদি এক পাল্লায় তোলা হয় এবং অপর পাল্লায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তোলা হয়, তবে সেই তাওহীদের পাল্লাই ভারী হবে। সাত আসমান ও সাত জমিন যদি একটি জটিল গ্রন্থির রূপ ধারণ করে, তবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী’ তা চুরমার করে দিবে। কেননা তা প্রত্যেক বস্তুর নামায এবং সকলেই এর বদৌলতে রিযিক লাভ করে থাকে। আর আমি তোমাকে বারণ করছি শিরক এবং অহঙ্কারে লিপ্ত হতে।” আমি বললাম অথবা বলা হলো, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! শিরক তো আমরা বুঝলাম, তবে অহঙ্কার কি? আমাদের মধ্যকার কারো যদি কারুকার্য খচিত চাদর থাকে, আর তা পরিধান করে?” তিনি বলেন, “না।” সে আবার বললো, “যদি আমাদের কারো সুন্দর ফিতাযুক্ত সুন্দর একজোড়া জুতা থাকে?” তিনি বলেন, “না।” সে পুনরায় বললো, “যদি আমাদের কারো আরোহণের একটি জন্তুযান থাকে?” তিনি বলেন, “না।” সে বললো, “যদি আমাদের কারো বন্ধু-বান্ধব থাকে এবং তারা তার সাথে ওঠা-বসাও করে (তবে তা কি অহঙ্কার হবে)?” তিনি বলেন, “না।” সে বললো, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে অহঙ্কার কি?” তিনি বলেন, “অহঙ্কার হলো, সত্য থেকে বিমুখ থাকা এবং মানুষকে হেয় জ্ঞান করা।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮০৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6805 OK

(৬৮০৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৬৪১১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَاشِدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَجُوزُ شَهَادَةُ خَائِنٍ وَلَا خَائِنَةٍ وَرَدَّ شَهَادَةَ الْقَانِعِ الْخَادِمِ وَالتَّابِعِ لِأَهْلِ الْبَيْتِ وَأَجَازَهَا لِغَيْرِهِمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বিশ্বাসঘাতক পুরুষ বা মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।” আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মনিবের বিরুদ্ধে দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ করেননি, বরং অন্যদের বিরুদ্ধে তা গ্রহণ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮০৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6806 OK

(৬৮০৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৬৬৮১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ تَخَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفْرَةٍ سَافَرْنَاهَا فَأَدْرَكَنَا وَقَدْ أَرْهَقَتْنَا صَلَاةُ الْعَصْرِ وَنَحْنُ نَتَوَضَّأُ فَجَعَلْنَا نَمْسَحُ عَلَى أَرْجُلِنَا فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সফরে পিছনে থেকে গেলেন এবং যখন আসরের নামাযের সময় ঘনিয়ে আসলো, তখন তিনি আমাদের কাছে এলেন। আমরা অজু করছিলাম এবং পা মুছছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উচ্চস্বরে দুই বা তিনবার বললেন, “পায়ের গোড়ালি জন্যে জাহান্নামের আগুন রয়েছে, সুতরাং তা ভালো ভাবে ধৌত করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮০৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস