
حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ وَاحِدَةً فَتِلْكَ وَظِيفَةُ الْوُضُوءِ الَّتِي لَا بُدَّ مِنْهَا وَمَنْ تَوَضَّأَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُ كِفْلَانِ وَمَنْ تَوَضَّأَ ثَلَاثًا فَذَلِكَ وُضُوئِي وَوُضُوءُ الْأَنْبِيَاءِ قَبْلِي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার করে ওযুর অঙ্গগুলো ধৌত করার পর বললেন, “এটা হলো সেই ওযু, যা ছাড়া আল্লাহ কারো সলাত কবুল করেন না।” অতঃপর তিনি দুই বার করে ওযুর অঙ্গগুলো ধৌত করেন এবং বললেন, “এই ওযুই যথেষ্ট।” অতঃপর তিনি তিনবার করে ওযুর অঙ্গগুলো ধৌত করেন এবং বললেন, “এটা হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ ওযু। এটা হলো আমার ওযু এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণও এই ওযু করেছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৭৬]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ أَبِي قُرَّةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ يَعْنِي ابْنَ بِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلَا يَحْلِفْ إِلَّا بِاللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَكَانَتْ قُرَيْشٌ تَحْلِفُ بِآبَائِهَا فَقَالَ لَا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি শপথ করতে চায়, সে যেনো আল্লাহর নামে শপথ করে। তোমার পূর্ব-পুরুষদের নামে শপথ করো না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৭৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا طَافَ الطَّوَافَ الْأَوَّلَ خَبَّ ثَلَاثًا وَمَشَى أَرْبَعًا وَكَانَ يَسْعَى بِبَطْنِ الْمَسِيلِ إِذَا طَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওয়াফের প্রথম তিন চক্কর রমল করতেন এবং বাকি চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতেন। আর তিনি সাফা মারওয়ার মধ্যে সায়ী করার সময় “বাতান মুসায়েলে” দৌড়াতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৭৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ أَنَّ يَحْيَى بْنَ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا قِلَابَةَ حَدَّثَهُ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ تَخْرُجُ نَارٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ أَوْ بِحَضْرَمَوْتَ فَتَسُوقُ النَّاسَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تَأْمُرُنَا قَالَ عَلَيْكُمْ بِالشَّامِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “সিরিয়ার একটি অঞ্চল হাদরামাউত থেকে একটি আগুন বের হবে, যা লোকদেরকে গ্রাস করবে।” আমরা জিজ্ঞেস করলাম, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে ঐ সময়ের জন্যে, আপনি আমাদেরকে কি আদেশ করেন?” তিনি বললেন, “সিরিয়া দেশকে তোমাদের উপর ওয়াজিব করা (সেখানে যাওয়া)।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৭৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ سَلْمَانَ قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ حَفِظْتُ مِنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشْرَ صَلَوَاتٍ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلَاةِ الصُّبْحِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلَاةِ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ صَلَاةِ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে দশ রাকাত নামাজ সংরক্ষণ করেছি। যোহরের নামাযের আগে দুই রাকাত এবং তার পরে দুই রাকাত, মাগরিবের নামাযের পরে দুই রাকাত, ইশার নামাযের পরে দুই রাকাত এবং দুই রাকাত ফজরের নামাজের আগে। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৮০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ هَذَا حَفِظْنَاهُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ ظَلَمَ مِنْ الْأَرْضِ شِبْرًا طُوِّقَهُ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ
হজরত সাঈদ বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ। যে ব্যক্তি অবৈধভাবে কারো এক হাত জমি দখল করবে, কিয়ামতের দিন তার গলায় সাত হাত জমি ঝুলানো হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৮১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِكْرِمَةَ عَنْ أَبِي الْمُغِيرَةِ بْنِ حُنَيْنٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ رَأَيْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَذْهَبًا مُوَاجِهَ الْقِبْلَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কেবলার দিকে মুখ করে হাঁটতে দেখেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৮২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ وَالرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ بِضْعًا وَعِشْرِينَ مَرَّةً أَوْ بِضْعَ عَشْرَةَ مَرَّةً قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের আগে এবং মাগরিবের পরে দুই রাকাত সুন্নত নামাযে, সূরা আল-কাফিরুন এবং সূরা আল-ইখলাস বিশবার বা দশবার করে পাঠ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৮৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْأَعْمَشُ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ اسْتَعَاذَ بِاللَّهِ فَأَعِيذُوهُ وَمَنْ سَأَلَكُمْ بِاللَّهِ فَأَعْطُوهُ وَمَنْ دَعَاكُمْ فَأَجِيبُوهُ وَمَنْ أَتَى إِلَيْكُمْ مَعْرُوفًا فَكَافِئُوهُ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِئُوهُ فَادْعُوا لَهُ حَتَّى تَعْلَمُوا أَنْ قَدْ كَافَأْتُمُوهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে তামাদের কাছে আশ্রয় চায়, তোমরা তাকে আশ্রয় দাও। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে তামাদের কাছে কিছু চায়, তোমরা তাকে তা দাও। যে ব্যক্তি তামাদেরকে দাওয়াত দেয়, তোমরা তা গ্রহণ করো। যে ব্যক্তি তামাদের কোনো ভালো করে, তোমরা তাকে পুরস্কৃত করো। যদি তোমাদের কাছে তাকে প্রতিদান দেওয়ার মতো কিছু না থাকে, তবে তার জন্যে এতো বেশি দোয়া করো যে, যেনো তোমরা নিশ্চিত হয়ে যাও যে, তোমরা তাকে পুরস্কৃত করেছো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৮৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ صَالِحٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا فِئَةُ الْمُسْلِمِينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি মুসলিমদের একটি দলের সমান।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৮৫]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا زَائِدَةُ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَخَّمَنَّ تُجَاهَ الْقِبْلَةِ فَإِنَّ تُجَاهَهُ الرَّحْمَنُ وَلَا عَنْ يَمِينِهِ وَلَكِنْ عَنْ شِمَالِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ الْيُسْرَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন সালাতে থাকে, তখন আল্লাহ তার মুখের সামনে থাকেন। সুতরাং তোমাদের কেউ তার নামাযে তার মুখের সামনে, তার নাক পরিষ্কার করবে না এবং ডান দিকেও করবে না। তবে সে তা বাম পাশে বা বাম পায়ের নিচে করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৮৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي يُونُسَ حَاتِمِ بْنِ مُسْلِمٍ سَمِعْتُ رَجُلًا مِنْ قُرَيْشٍ يَقُولُ رَأَيْتُ امْرَأَةً جَاءَتْ إِلَى ابْنِ عُمَرَ بِمِنًى عَلَيْهَا دِرْعُ حَرِيرٍ فَقَالَتْ مَا تَقُولُ فِي الْحَرِيرِ فَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْهُ
হজরত হাতেম বিন মুসলিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি কুরাইশদের এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, আমি এক মহিলাকে মিনার ময়দানে সাইয়্যেদনা ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসতে দেখেছি, সে একটি রেশমি জামা পড়েছিলো। ঐ মহিলা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে জানতে চায় যে, “রেশম সম্পর্কে তার মতামত কি?” তিনি বলেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা (পুরুষদের জন্যে) নিষেধ করেছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৮৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدةَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ عَمِّهِ وَاسِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَقِيتُ يَوْمًا فَوْقَ بَيْتِ حَفْصَةَ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حَاجَتِهِ مُسْتَقْبِلَ الشَّامِ مُسْتَدْبِرَ الْقِبْلَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি একদা আমার বোন হাফসার ঘরের ছাদে উঠলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইস্তিঞ্জায় বসা অবস্থায় দেখতে পেলাম। তিনি সিরিয়ার দিকে মুখ করে এবং কিবলার দিকে পিঠ করে বসেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৮৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ أَنْبَأَنَا شُعَيْبٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ أَعْطِهِ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّي حَتَّى أَعْطَانِي مَرَّةً مَالًا فَقُلْتُ أَعْطِهِ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُذْهُ فَتَمَوَّلْهُ وَتَصَدَّقْ بِهِ فَمَا جَاءَكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلَا سَائِلٍ فَخُذْهُ وَمَا لَا فَلَا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ حَدَّثَنَا هَارُونُ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ
আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, “আল্লাহর রাসূল আমাকে বিভিন্ন দানের জিনিস দিতেন। আমি বলতাম, যে ব্যক্তি এর প্রতি আমার চেয়েও বেশি মুখাপেক্ষী, তাকে দিন। একবার তিনি আমাকে কিছু জিনিস দিলেন। আমি বললাম, যে ব্যক্তি আমার চেয়েও এ জিনিসের মুখাপেক্ষী, তাকে দিন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘এটি নিয়ে নাও, একে বিনিয়োগ করো, অতঃপর তা থেকে সাদাকা করো। তোমার চাওয়া বা আগ্রহ প্রকাশ করা ব্যতিরেকে তোমাকে এই মাল (সরকারী সাহায্য সামগ্রী) থেকে যা কিছু দেয়া হয়, তা নিয়ে নিও। আর যা দেয়া হয় না, তার জন্যে লালায়িত হয়ো না’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৮৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا الْحَارِثِ بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ قُلْتُ مَا تَقُولُ فِي الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ قَالَ تَأْخُذُ إِنْ حَدَّثْتُكَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَرَجَ مِنْ هَذِهِ الْمَدِينَةِ قَصَرَ الصَّلَاةَ وَلَمْ يَصُمْ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْهَا
হজরত বিশর ইবনে হারব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি সাইয়্যিদুনা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি সফরে রোজা রাখার ব্যাপারে কি বলেন?” তিনি বললেন, “আমি যদি তোমাকে একটি হাদীস বর্ণনা করি, তুমি কি তা অনুসরণ করবে?” আমি বললাম, “হ্যাঁ!” তিনি বলেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনা শহর থেকে বের হতেন, তখন তিনি নামায সংক্ষিপ্ত করতেন এবং ফিরে না আসা পর্যন্ত রোযা রাখতেন না (পরে এর রোযা কাযা আদায় করতেন)।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৯০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ عَطَاءٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ سُهَيْلِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْمِيثَرَةِ وَالْقَسِّيَّةِ وَحَلْقَةِ الذَّهَبِ وَالْمُفْدَمِ قَالَ يَزِيدُ وَالْمِيثَرَةُ جُلُودُ السِّبَاعِ وَالْقَسِّيَّةُ ثِيَابٌ مُضَلَّعَةٌ مِنْ إِبْرَيْسَمٍ يُجَاءُ بِهَا مِنْ مِصْرَ وَالْمُفْدَمُ الْمُشَبَّعُ بِالْعُصْفُرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মায়থিরা, কাসিয়া, সোনার আংটি এবং মুফাদামকে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেছেন যে, মায়থিরা বলতে পশুর চামড়া বোঝায়, কাসিয়া বলতে সিল্কের তৈরি কাপড় বোঝায়, যা মিশর থেকে আনা হয়েছিলো এবং মুফাদাম বলতে হলুদ রঙ করা কাপড়কে বোঝায়।
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৯১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا حَسَنٌ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ كُنْتُ فِي سَرِيَّةٍ مِنْ سَرَايَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَاصَ النَّاسُ حَيْصَةً وَكُنْتُ فِيمَنْ حَاصَ فَقُلْنَا كَيْفَ نَصْنَعُ وَقَدْ فَرَرْنَا مِنْ الزَّحْفِ وَبُؤْنَا بِالْغَضَبِ ثُمَّ قُلْنَا لَوْ دَخَلْنَا الْمَدِينَةَ فَبِتْنَا ثُمَّ قُلْنَا لَوْ عَرَضْنَا أَنْفُسَنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنْ كَانَتْ لَهُ تَوْبَةٌ وَإِلَّا ذَهَبْنَا فَأَتَيْنَاهُ قَبْلَ صَلَاةِ الْغَدَاةِ فَخَرَجَ فَقَالَ مَنْ الْقَوْمُ قَالَ فَقُلْنَا نَحْنُ الْفَرَّارُونَ قَالَ لَا بَلْ أَنْتُمْ الْعَكَّارُونَ أَنَا فِئَتُكُمْ وَأَنَا فِئَةُ الْمُسْلِمِينَ قَالَ فَأَتَيْنَاهُ حَتَّى قَبَّلْنَا يَدَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে একটি এলাকায় যুদ্ধের জন্যে পাঠালেন। যখন আমরা শত্রুর মুখোমুখি হলাম, তখন আমরা প্রথম পর্যায়ে পালিয়ে গিয়ে, কিছু লোকের সঙ্গে লুকিয়ে মদিনায় ফিরে আসি। আমরা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করলাম এবং আল্লাহর গজব নিয়ে ফিরে এলাম। তখন আমরা ভাবলাম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর কাছে গিয়ে আমাদের অজুহাত বর্ণনা করা উচিত। তারপর আমরা বললাম যে, “আমরা মদীনায় যাবো এবং সেখানে রাত্রি যাপন করবো। যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে শাস্তি দিতে চান, তবে খুব ভালো, নইলে আমরা আবার যুদ্ধের জন্যে ফিরে যাবো।” তাই আমরা ফজরের নামাজের আগে নবীজির খেদমতে হাজির হলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা কারা?” আমরা বললাম, “আমরা পলায়নকারী দল।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “না, বরং তোমরা পিছন ফিরে আক্রমনকারী দল। আর আমি তোমাদেরই একটি দল, বরং আমি সমগ্র মুসলিমদের একটি দল।” তারপর আমরা এগিয়ে গেলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বরকতময় হাতে চুম্বন করলাম।
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৯২]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ امْرَأَةً مَقْتُولَةً فَنَهَى عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন যুদ্ধে একজন নারীকে নিহত হতে দেখলেন, তখন তিনি নারী ও শিশুদের হত্যা বন্ধ করে দেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৯৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ رَقَبَةَ عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سُمَيْرَةَ قَالَ كُنْتُ أَمْشِي مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَإِذَا نَحْنُ بِرَأْسٍ مَنْصُوبٍ عَلَى خَشَبَةٍ قَالَ فَقَالَ شَقِيَ قَاتِلُ هَذَا قَالَ قُلْتُ أَنْتَ تَقُولُ هَذَا يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ فَشَدَّ يَدَهُ مِنْ يَدِي وَقَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا مَشَى الرَّجُلُ مِنْ أُمَّتِي إِلَى الرَّجُلِ لِيَقْتُلَهُ فَلْيَقُلْ هَكَذَا فَالْمَقْتُولُ فِي الْجَنَّةِ وَالْقَاتِلُ فِي النَّارِ
হজরত আব্দুর রহমান ইবনু সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাত ধরে মদিনাহর কোনো এক রাস্তায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ তিনি একটি ঝুলন্ত মাথার নিকট এসে বললেন, “এর হত্যাকারী বড়ই দুর্ভাগা!” তিনি যেতে যেতে বললেন, “আমার মতে সে অত্যন্ত দুর্ভাগা। কেননা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যদি আমার উম্মতের কাউকে হত্যা করার জন্যে, কোনো লোক অগ্রসর হয়, তাহলে তাকে এভাবে বলো, হত্যাকারী জাহান্নামে যাবে, আর নিহত ব্যাক্তি জান্নাতে যাবে’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৯৪]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَحِيرٍ الصَّنْعَانِيُّ الْقَاصُّ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَزِيدَ الصَّنْعَانِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُ رَأْيُ عَيْنٍ فَلْيَقْرَأْ إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ وَإِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ وَإِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ وَأَحْسَبُهُ أَنَّهُ قَالَ سُورَةَ هُودٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কিয়ামতের দৃশ্য নিজ চোখে দেখতে চায়, সে যেনো সূরা ৮১.আত তাকউয়ীর, সূরা ৮২.আল ইনফিতার এবং সূরা ৮৪.আল ইনশিক্বাক্ব পাঠ করে।” তিনি সম্ভবত সূরা ১১.হুদও উল্লেখ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৯৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِالْبَطْحَاءِ ثُمَّ هَجَعَ بِهَا هَجْعَةً ثُمَّ دَخَلَ مَكَّةَ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘বাথা’ নামক স্থানে যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামায পড়লেন। সেখানে রাত্রি যাপন করলেন। তারপর মক্কায় প্রবেশ করেন। বর্ণনাকারী বলেন, হজরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুও একই কাজ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৯৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا مَطَرٌ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَافَرْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَ عُمَرَ فَكَانَا لَا يَزِيدَانِ عَلَى رَكْعَتَيْنِ وَكُنَّا ضُلَّالًا فَهَدَانَا اللَّهُ بِهِ فَبِهِ نَقْتَدِي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাইয়্যিদুনা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সফর করেছি। তাঁরা উভয়েই সফরেরে সময় দুই রাকাত নামায পড়েছেন। আমরা গুমরাহ ছিলাম, এরপর আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে হেদায়েত দান করেছেন, রহমত, শান্তি ও বরকত দান করেছেন। সুতরাং এখন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথকেই অনুসরণ করবো।
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৯৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ فِي بَيْتِهِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ فِي بَيْتِهِ قَالَ وَحَدَّثَتْنِي حَفْصَةُ أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ حِينَ يَطْلُعُ الْفَجْرُ وَيُنَادِي الْمُنَادِي بِالصَّلَاةِ قَالَ أَيُّوبُ أُرَاهُ قَالَ خَفِيفَتَيْنِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْجُمُعَةِ فِي بَيْتِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি যোহরের নামাযের পূর্বে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দুই রাকাত নামায পড়লাম এবং এর সাথে আরো দুই রাকাত নামায আদায় করেছি। আমার ঘরে মাগরিবের পর দুই রাকাত এবং এশার পর আমি আমার ঘরে দুই রাকাত নামায আদায় করেছি। সাইয়্যেদা হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেছেন যে, “এমনকি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সময়ও দুই রাকাত নামায পড়তেন, যখন মোয়াযজিন ফজরের ফরজ নামাযের ঘোষণা দিতো। আর তিনি জুমার পরেও ঘরে দুই রাকাত নামায পড়তেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৯৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صَلَاةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى وَالْوِتْرُ رَكْعَةٌ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রাতের নামায হলো দুই রাকাত, দুই রাকাত করে। আর বিতর নামায হলো, রাতের শেষ অংশে এক রাকাত। আর যখন তোমরা ফজরের আশঙ্কা করো, তখন তোমরা বিতর পড়ে নাও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৯৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ أَخْضَرَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَرْمُلُ مِنْ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ وَيُخْبِرُنَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَذَكَرُوا لِنَافِعٍ أَنَّهُ كَانَ يَمْشِي مَا بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ قَالَ مَا كَانَ يَمْشِي إِلَّا حِينَ يُرِيدُ أَنْ يَسْتَلِمَ
হজরত নাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হাজরে আসওয়াদ থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত (প্রথম তিন চক্কর) রমল করতেন এবং আমাদেরকে বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাই করতেন। আর হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রুকুনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যে (শেষের চার চক্কর) স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতেন, যাতে তাওয়াফ করা সহজ হয়ে যায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫০০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عَائِشَةَ أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ بَرِيرَةَ فَأَبَى أَهْلُهَا أَنْ يَبِيعُوهَا إِلَّا أَنْ يَكُونَ لَهُمْ وَلَاؤُهَا فَذَكَرَتْ ذَلِكَ عَائِشَةُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اشْتَرِيهَا فَأَعْتِقِيهَا فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْطَى الثَّمَنَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সাইয়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বারিরাকে কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বারিরার মালিক তাকে বিক্রি করতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, “যদি আমরা তার সম্পদের মালিকানা পাই, তবে আমরা তাকে বিক্রি করবো।” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এ কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট জানালে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি তাকে ক্রয় করো এবং তাকে মুক্ত করে দাও। তার সম্পদের মালিকানা তারই থাকবে, যে তাকে মুক্ত করে দিবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫০১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ وَبَعْدَمَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ وَأَكْثَرُ مَا كَانَ يَقُولُ وَبَعْدَمَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ وَلَا يَرْفَعُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, সালাতের শুরুতে কাঁধের সমতলে হাত দিয়ে রফে ইয়াদীন করতে। পাশাপাশি রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে মাথা উঠানোর পরও আমি তাঁকে রফে ইয়াদ্দীন করতে দেখেছি। কিন্তু দুই সেজদার মাঝে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রফে ইয়াদ্দীন করেননি। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫০২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ حَدَّثَنِي أَبُو مَطَرٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَمِعَ الرَّعْدَ وَالصَّوَاعِقَ قَالَ اللَّهُمَّ لَا تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلَا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনতেন, তখন তিনি দুআ করতেন,
اللَّهُمَّ لَا تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلَا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ
“হে আল্লাহ! তোমার গযব দিয়ে আমাদেরকে মেরে ফেলো না, তোমার শাস্তি দিয়ে আমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করো না, বরং তার আগেই আমাদেরকে মাফ করে দাও”। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫০৩]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ حُرَيْثٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْجَرِّ وَالدُّبَّاءِ وَالْمُزَفَّتِ وَأَمَرَ أَنْ يُنْتَبَذَ فِي الْأَسْقِيَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাউয়ের খোসা ও তৈলাক্ত পাত্র বিশেষে নাবীজ তৈরি করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু মাটির পাত্রে নাবীজ বানানোর অনুমতি দিয়েছে। [মুসনাদে আহমাদ : ৫৫০৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ فِي أَوَّلِ أَمْرِهِ إِنَّهَا لَا تَنْفِرُ قَالَ ثُمَّ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَهُنَّ
হজরত তাউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
শুরুতে সাইয়্যিদুনা ইবনে উমরের মতামত ছিলো যে, একজন নারী জিহাদে যেতে পারবে না। কিন্তু পরে আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও নারীদেরকে জিহাদে যেতে অনুমতি দিয়েছেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ৫৫০৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস