(২৬) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৩৩৬৮-৪২১৬), সর্বমোট হাদিসঃ ৮৪৯টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৭৮৯টি]



3427 OK

(৩৪২৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُبَاشِرْ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ حَتَّى تَصِفَهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّمَا يَنْظُرُ إِلَيْهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো মহিলা যেনো, অন্য কোনো মহিলার সম্পর্কে তার স্বামীর কাছে এমন ভাবে তার শারীরিক গঠন বর্ণনা না করে, যেনো সে তাকে নিজের চোখে দেখছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪২৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3428 OK

(৩৪২৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا نَمْشِي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَرَّ بِابْنِ صَيَّادٍ فَقَالَ إِنِّي قَدْ خَبَأْتُ لَكَ خَبْئًا قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ دُخٌّ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اخْسَأْ فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ دَعْنِي أَضْرِبْ عُنُقَهُ قَالَ لَا إِنْ يَكُنْ الَّذِي نَخَافُ فَلَنْ تَسْتَطِيعَ قَتْلَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হাঁটছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইবনু সাইয়্যাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “তোমার বিষয়ে আমি আমার হৃদয়ে একটি কথা লুক্কায়িত রেখেছি।” ইবনু সাইয়্যাদ বললো, “আপনার হৃদয়ে আরবি دُخٌّ (ধুয়া) শব্দটি লুক্কায়িত রয়েছে।” এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “চলে যা অভিশপ্ত, তুই তোর নিজের অবস্থান থেকে এগোতে পারবি না।” তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর! আমাকে ছেড়ে দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিবো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাকে ছাড়ো, যার সম্বন্ধে তুমি আশঙ্কা করছো, সে যদি ঐ (দাজ্জালই) হয়ে থাকে, তবে তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪২৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3429 OK

(৩৪২৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَنَائِمَ حُنَيْنٍ بِالْجِعِرَّانَةِ قَالَ فَازْدَحَمُوا عَلَيْهِ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِ اللَّهِ بَعَثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى قَوْمِهِ فَكَذَّبُوهُ وَشَجُّوهُ فَجَعَلَ يَمْسَحُ الدَّمَ عَنْ جَبِينِهِ وَيَقُولُ رَبِّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ جَبْهَتَهُ يَحْكِي الرَّجُلَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জারানা নামক স্থানে হুনাইনের অভিযানের গনীমতের মাল বণ্টন করছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক নবীর কথা বর্ণনা করছিলেন, যাকে তার সম্প্রদায়ের দ্বারা প্রহার করা হয়েছিলো এবং তিনি তার মুখ থেকে রক্ত ​​মুছে দিয়ে বলেছিলেন, “প্রভু আমার সম্প্রদায়কে ক্ষমা করুন, কারণ তারা আমাকে চেনে না।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “সেই দৃশ্য এখনও আমার চোখের সামনে রয়েছে যে, ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কপাল মুছছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪২৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3430 OK
View Quran

(৩৪৩০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الذَّنْبِ أَكْبَرُ قَالَ أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ قَالَ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ قَالَ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ أَنْ تُزَانِيَ حَلِيلَةَ جَارِكَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقَ ذَلِكَ وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, “আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি?” তিনি বললেন, “কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “এরপর কোনটি?” তিনি জবাব দিলেন, “তোমার সন্তানকে এ আশংকায় হত্যা করা যে, তারা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে।” আমি বললাম, “এরপর কোনটি?” তিনি বললেন, “এরপর হচ্ছে তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা।” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ কথার সমর্থনে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়,

وَٱلَّذِينَ لَا يَدۡعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقۡتُلُونَ ٱلنَّفۡسَ ٱلَّتِي حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلۡحَقِّ وَلَا يَزۡنُونَۚ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ يَلۡقَ أَثَامٗا٦٨
তারাই আল্লাহর প্রকৃত বান্দা, যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্যকে ডাকে না। তারা এমন কোনো লোককে হত্যা করে না, যাকে হত্যা করা আল্লাহ নিষেধ করেছেন, তবে এ ব্যতীত যে, ন্যায় সঙ্গত ভাবে তারা হত্যা করে ও তারা ব্যভিচার করে না। যে ব্যক্তি এ ধরনের কাজ করে, সে বড় ধরনের পাপ অর্জন করে। (২৫. আল ফুরকান : ৬৮) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৩০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3431 OK
View Quran

(৩৪৩১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ إِنِّي تَرَكْتُ فِي الْمَسْجِدِ رَجُلًا يُفَسِّرُ الْقُرْآنَ بِرَأْيِهِ يَقُولُ فِي هَذِهِ الْآيَةِ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ إِلَى آخِرِهَا يَغْشَاهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ دُخَانٌ يَأْخُذُ بِأَنْفَاسِهِمْ حَتَّى يُصِيبَهُمْ مِنْهُ كَهَيْئَةِ الزُّكَامِ قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَنْ عَلِمَ عِلْمًا فَلْيَقُلْ بِهِ وَمَنْ لَمْ يَعْلَمْ فَلْيَقُلْ اللَّهُ أَعْلَمُ فَإِنَّ مِنْ فِقْهِ الرَّجُلِ أَنْ يَقُولَ لِمَا لَا يَعْلَمُ اللَّهُ أَعْلَمُ إِنَّمَا كَانَ هَذَا لِأَنَّ قُرَيْشًا لَمَّا اسْتَعْصَتْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَا عَلَيْهِمْ بِسِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ فَأَصَابَهُمْ قَحْطٌ وَجَهِدُوا حَتَّى أَكَلُوا الْعِظَامَ وَجَعَلَ الرَّجُلُ يَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ فَيَنْظُرُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ السَّمَاءِ كَهَيْئَةِ الدُّخَانِ مِنْ الْجَهْدِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ يَغْشَى النَّاسَ هَذَا عَذَابٌ أَلِيمٌ فَأَتَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَسْقِ اللَّهَ لِمُضَرَ فَإِنَّهُمْ قَدْ هَلَكُوا قَالَ فَدَعَا لَهُمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ فَلَمَّا أَصَابَهُمْ الْمَرَّةَ الثَّانِيَةَ عَادُوا فَنَزَلَتْ يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَى إِنَّا مُنْتَقِمُونَ يَوْمَ بَدْرٍ


হজরত মাসরূক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমরা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের মাঝে এক পার্শ্বদেশ হয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে জনৈক লোক এসে বললো, “হে আবূ আবদুর রহমান! কিনদা দ্বারপ্রান্তে এক বক্তা বলছেন, ‘কুরআনে বর্ণিত ধোঁয়ার কাহিনীটি ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে। তা প্রবাহিত হয়ে কাফিরদের শ্বাসরুদ্ধ করে দিবে এবং এতে মুমিনদের সর্দির মতো অবস্থা হবে’।” এ কথা শুনে তিনি গোস্বা হয়ে বসলেন এবং বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। তোমাদের কেউ কোনো কথার জ্ঞান থাকলে, সে যেন তাই বলে। আর যে না জানে, সে যেনো বলে, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। কেননা প্রকৃত জ্ঞানের কথা হচ্ছে এই যে, যে বিষয়ে তার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে বলবে, আল্লাহই অধিক ভালো জানেন। কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছেন,”
قُلۡ مَآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ أَجۡرٖ وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلۡمُتَكَلِّفِينَ٨٦
আপনি বলুন, “আমি এ আহবানের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না আর আমি ছলনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই। (৩৮. ছোয়াদ : ৮৬)

“প্রকৃত অবস্থা তো এই যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন লোকেদের মাঝে দীনবিমুখতা দেখলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! ইউসূফ (আঃ)-এর সময়ের ন্যায় অভাব-অনটনের সাতটি বছর তাদের উপর আপতিত করুন।’ তারপর তাদের উপর অভাব-অনটন এমনভাবে পতিত হলো যে, তা সব কিছুকে নিঃশেষ করে দিলো। ফলে ক্ষুধার জ্বালায় তারা চামড়া ও মৃত দেহ খাদ্য উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করলো। এমনকি তাদের কোনো লোক আকাশের দিকে তাকালে শুধূ ধোঁয়ার মতই দেখতে পেতো। অতঃপর আবূ সুফিয়ান (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, ‘হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তো আল্লাহর আদেশ মেনে চলেন এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, ভালো আদেশ দান করেন। কিন্তু আপনার কওমের লোকেরা তো মরে যাচ্ছে। আপনি তাদের জন্যে আল্লাহর নিকট দুআ করুন।’ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বললেন,

فَٱرۡتَقِبۡ يَوۡمَ تَأۡتِي ٱلسَّمَآءُ بِدُخَانٖ مُّبِينٖ١٠
অতএব আপনি সেই দিনের অপেক্ষা করুন, যখন আকাশ প্রকাশ্য ধোঁয়া নিয়ে নেমে আসবে, (৪৪. আদ দুখান : ১০)
يَغۡشَى ٱلنَّاسَۖ هَٰذَا عَذَابٌ أَلِيمٞ١١
যা মানুষকে ঘিরে ফেলবে। এটা এক বেদনাদায়ক শাস্তি হবে। (৪৪. আদ দুখান : ১১)
رَّبَّنَا ٱكۡشِفۡ عَنَّا ٱلۡعَذَابَ إِنَّا مُؤۡمِنُونَ١٢
সেই দিন মানুষ বলবে, “হে আমাদের প্রভু, আপনি আমাদের উপর থেকে শাস্তি সরিয়ে নিন, নিশ্চয় আমরা এখন বিশ্বাসী হয়ে গেছি।” (৪৪. আদ দুখান : ১২)
إِنَّا كَاشِفُواْ ٱلۡعَذَابِ قَلِيلًاۚ إِنَّكُمۡ عَآئِدُونَ١٥
যদি আমি তোমাদের উপর থেকে শাস্তি কিছুটা সরিয়ে দেই, নিশ্চয় তোমরা পুনরায় পূর্বের অস্থায় ফিরে যাবে। (৪৪. আদ দুখান : ১৫)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আখিরাতের শাস্তি কি লাঘব করা হবে? আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন,”
يَوۡمَ نَبۡطِشُ ٱلۡبَطۡشَةَ ٱلۡكُبۡرَىٰٓ إِنَّا مُنتَقِمُونَ١٦
যেদিন আমি প্রবলভাবে পাকড়াও করবো, নিশ্চয় সেই দিন আমি কঠোর প্রতিশোধ গ্রহণ করবো। (৪৪. আদ দুখান : ১৬)

“অনুরূপ এ আয়াতে نَبۡطِشُ দ্বারা বাদরের যুদ্ধ উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কাজেই দুখান (ধোয়ার নিদর্শন), আল বাত্বশাহ (পাকড়াও), লিযাম (আবশ্যিক শাস্তি) এবং রূম (রোমকদের পরাজয়ের কাহিনী) এসব অতীত হয়ে গেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৩১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3432 OK
View Quran

(৩৪৩২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنْتُ مُسْتَتِرًا بِسِتَارِ الْكَعْبَةِ فَجَاءَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ قُرَشِيٌّ وَخَتَنَاهُ ثَقَفِيَّانِ أَوْ ثَقَفِيٌّ وَخَتَنَاهُ قُرَشِيَّانِ كَثِيرٌ شَحْمُ بُطُونِهِمْ قَلِيلٌ فِقْهُ قُلُوبِهِمْ فَتَكَلَّمُوا بِكَلَامٍ لَمْ أَسْمَعْهُ فَقَالَ أَحَدُهُمْ أَتَرَوْنَ اللَّهَ يَسْمَعُ كَلَامَنَا هَذَا فَقَالَ الْآخَرُ أُرَانَا إِذَا رَفَعْنَا أَصْوَاتَنَا سَمِعَهُ وَإِذَا لَمْ نَرْفَعْهَا لَمْ يَسْمَعْ فَقَالَ الْآخَرُ إِنْ سَمِعَ مِنْهُ شَيْئًا سَمِعَهُ كُلَّهُ قَالَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَا أَبْصَارُكُمْ وَلَا جُلُودُكُمْ إِلَى قَوْلِهِ ذَلِكُمْ ظَنُّكُمْ الَّذِي ظَنَنْتُمْ بِرَبِّكُمْ أَرْدَاكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ مِنْ الْخَاسِرِينَق


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমি কাবার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে ছিলাম। আর তিনজন লোক এলো। দুইজন সাকাফী ও একজন কুরাইশী অথবা দুইজন কুরাইশী ও একজন সাকাফী। তাদের পেটে চর্বি ছিলো বেশি, কিন্তু তাদের অন্তরে বুঝার ক্ষমতা ছিলো কম। তাদের একজন বললো, “তোমাদের অভিমত কী? আমরা যা বলছি, আল্লাহ কি সবই শুনতে পান?” দ্বিতীয় ব্যক্তি বললো, “হ্যাঁ শোনেন, যদি আমরা উচ্চৈঃস্বরে বলি। আমরা চুপি চুপি বললে তিনি শোনেন না।” তৃতীয় জন বললো, “যদি তিনি উচ্চৈঃস্বরে বললে শোনেন, তবে নিচু স্বরে বললেও শুনবেন।” আমি তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেএর কাছে উল্লেখ করেছিলাম এবং এরই প্রক্ষিতে আল্লাহ নিম্মোক্ত আয়াত নাযিল করলেন,

وَمَا كُنتُمۡ تَسۡتَتِرُونَ أَن يَشۡهَدَ عَلَيۡكُمۡ سَمۡعُكُمۡ وَلَآ أَبۡصَٰرُكُمۡ وَلَا جُلُودُكُمۡ وَلَٰكِن ظَنَنتُمۡ أَنَّ ٱللَّهَ لَا يَعۡلَمُ كَثِيرٗا مِّمَّا تَعۡمَلُونَ٢٢
আর তোমরা পাপ কাজ করার সময় কোনো কিছু গোপন করতে না, এ ধারণার বশবর্তী হয়ে যে, তোমাদের কান, তোমাদের চোখ ও তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না। বরং তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করো তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না। (৪১. হা-মীম সেজদাহ / ফুসসিলাত : ২২)
وَذَٰلِكُمۡ ظَنُّكُمُ ٱلَّذِي ظَنَنتُم بِرَبِّكُمۡ أَرۡدَىٰكُمۡ فَأَصۡبَحۡتُم مِّنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ٢٣
তোমাদের প্রভু সম্পর্কে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছো। (৪১. হা-মীম সেজদাহ / ফুসসিলাত : ২৩) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৩২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3433 OK

(৩৪৩৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْجَزَّارِ عَنْ ابْنِ أَخِي زَيْنَبَ عَنْ زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَتْ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ إِذَا جَاءَ مِنْ حَاجَةٍ فَانْتَهَى إِلَى الْبَابِ تَنَحْنَحَ وَبَزَقَ كَرَاهِيَةَ أَنْ يَهْجُمَ مِنَّا عَلَى شَيْءٍ يَكْرَهُهُ قَالَتْ وَإِنَّهُ جَاءَ ذَاتَ يَوْمٍ فَتَنَحْنَحَ قَالَتْ وَعِنْدِي عَجُوزٌ تَرْقِينِي مِنْ الْحُمْرَةِ فَأَدْخَلْتُهَا تَحْتَ السَّرِيرِ فَدَخَلَ فَجَلَسَ إِلَى جَنْبِي فَرَأَى فِي عُنُقِي خَيْطًا قَالَ مَا هَذَا الْخَيْطُ قَالَتْ قُلْتُ خَيْطٌ أُرْقِيَ لِي فِيهِ قَالَتْ فَأَخَذَهُ فَقَطَعَهُ ثُمَّ قَالَ إِنَّ آلَ عَبْدِ اللَّهِ لَأَغْنِيَاءُ عَنْ الشِّرْكِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ قَالَتْ فَقُلْتُ لَهُ لِمَ تَقُولُ هَذَا وَقَدْ كَانَتْ عَيْنِي تَقْذِفُ فَكُنْتُ أَخْتَلِفُ إِلَى فُلَانٍ الْيَهُودِيِّ يَرْقِيهَا وَكَانَ إِذَا رَقَاهَا سَكَنَتْ قَالَ إِنَّمَا ذَلِكَ عَمَلُ الشَّيْطَانِ كَانَ يَنْخُسُهَا بِيَدِهِ فَإِذَا رَقَيْتِهَا كَفَّ عَنْهَا إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكِ أَنْ تَقُولِي كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَذْهِبْ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর স্ত্রী যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এক বৃদ্ধা আমাদের এখানে আসতো এবং সে চর্ম প্রদাহের ঝাড়ফুঁক করতো। আমাদের একটি লম্বা পা-বিশিষ্ট খাট ছিলো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ঘরে প্রবেশের সময় সশব্দে কাশি দিতেন। একদিন তিনি আমার নিকট প্রবেশ করলেন। ঐ বৃদ্ধা তার গলার আওয়াজ শুনতে পেয়ে একটু আড়াল হলো। তিনি এসে আমার পাশে বসলেন এবং আমাকে স্পর্শ করলে, এক গাছি সুতার স্পর্শ পেলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, “এটা কি?” আমি বললাম, “চর্মপ্রদাহের জন্যে সূতা পড়া বেঁধেছি।” তিনি সেটা আমার গলা থেকে টেনে ছিঁড়ে ফেললেন এবং তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললেন, “আবদুল্লাহর পরিবার শিরক মুক্ত হলো। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘মন্ত্র, রক্ষাকবচ, গিটযুক্ত মন্ত্রপূত সূতা হলো শিরকের অন্তর্ভুক্ত’।” আমি বললাম, “আমি একদিন বাইরে যাচ্ছিলাম, তখন অমুক লোক আমাকে দেখে ফেললো। আমার যে চোখের দৃষ্টি তার উপর পড়লো, তা দিয়ে পানি ঝরতে লাগলো। আমি তার মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিলে, তা থেকে পানি ঝরা বন্ধ হলো এবং মন্ত্র পড়া বন্ধ করলেই আবার পানি পড়তে লাগলো।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “এটা শয়তানের কাজ। তুমি শয়তানের আনুগত্য করলে, সে তোমাকে রেহাই দেয় এবং তার আনুগত্য না করলে, সে তোমার চোখে তার আঙ্গুলের খোঁচা মারে। কিন্তু তুমি যদি তাই করতে, যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছিলেন, তবে তা তোমার জন্য উপকারী হতো এবং আরোগ্য লাভেও অধিক সহায়ক হতো। তুমি নিম্নোক্ত দুআ পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে, তা তোমার চোখে ছিটিয়ে দাও,”

أَذْهِبْ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا

“হে মানুষের প্রভু, দুঃখ কষ্ট দূর করে দাও। তুমি আরোগ্য দান করো, তুমিই তো আরোগ্য দাতা। তোমার আরোগ্য দান ব্যতীত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব নয়। তুমি এমন ভাবে আরোগ্য দান করো, যার পর আর কোন রোগ-ব্যাধি থাকে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৩৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3434 OK

(৩৪৩৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا أَحَدَ أَغْيَرُ مِنْ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَلِذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا أَحَدَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنْ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর চেয়ে বেশি অহঙ্কারী আর কেউ হতে পারে না। তাই তিনি প্রকাশ্য ও গোপন উভয় প্রকার অশ্লীল কাজকে হারাম করেছেন এবং আল্লাহর চেয়ে প্রশংসা প্রিয় আর কেউ হতে পারে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৩৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3435 OK

(৩৪৩৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَأَنْ أَحْلِفَ بِاللَّهِ تِسْعًا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُتِلَ قَتْلًا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ وَاحِدَةً وَذَلِك بِأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ اتَّخَذَهُ نَبِيًّا وَجَعَلَهُ شَهِيدًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি নয়বার শপথ করতে পছন্দ করি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শহীদ হয়েছেন। বরং আমি একবার শপথ করেছি এবং এর কারণ এই যে, আল্লাহ তাঁকে তার রসূল বানিয়েছেন এবং তাঁকে শহীদ ঘোষণা করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৩৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3436 OK

(৩৪৩৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُوعَكُ فَمَسِسْتُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ لَتُوعَكُ وَعْكًا شَدِيدًا قَالَ أَجَلْ إِنِّي أُوعَكُ كَمَا يُوعَكُ رَجُلَانِ مِنْكُمْ قُلْتُ إِنَّ لَكَ أَجْرَيْنِ قَالَ نَعَمْ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا عَلَى الْأَرْضِ مُسْلِمٌ يُصِيبُهُ أَذًى مِنْ مَرَضٍ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حَطَّ اللَّهُ عَنْهُ بِهِ خَطَايَاهُ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرُ وَرَقَهَا حَدَّثَنَاه يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ مِثْلَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘরে প্রবেশ করলাম, তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি আমার হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করে বললাম, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার তো প্রচন্ড জ্বর হয়েছে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ, তোমাদের দুই জনের মতো, আমার জ্বর হয়ে থাকে।” আমি বললাম, “তাহলে তো, এর জন্যে আপনি দ্বিগুণ সওয়াব পেয়ে থাকেন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ। সেই সত্তরা কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! পৃথিবীতে এমন কোনো মুসলমান নেই, যে কষ্ট পায়, অথবা অসুস্থ হয় বা অন্য কোনো বিপদ হয়, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার আশীর্বাদে তার গুনাহ গুলো এমন ভাবে ঝেড়ে ফেলবেন, যেভাবে গাছ থেকে পাতা ঝরে যায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৩৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3437 OK

(৩৪৩৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ تَعَاهَدُوا هَذِهِ الْمَصَاحِفَ وَرُبَّمَا قَالَ الْقُرْآنَ فَلَهُوَ أَشَدُّ تَفَصِّيًا مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ مِنْ النَّعَمِ مِنْ عُقُلِهِ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَقُلْ أَحَدُكُمْ إِنِّي نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ بَلْ هُوَ نُسِّيَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এই কোরআনকে কীভাবে রক্ষা করা উচিত, কারণ এটি মানুষের বুক থেকে এতো দ্রুত বেরিয়ে আসে যে, একটি উটও তার দড়ি ছেড়ে দিয়ে এতো দ্রুত পালিয়ে যায় না। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেনো না বলে যে, ‘আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি’; বরং তাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৩৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3438 OK

(৩৪৩৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ الثَّيِّبُ الزَّانِي وَالنَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। এমন মুসলিম ব্যক্তিকে, এই ​​তিনটি ক্ষেত্রের কোনো একটি ছাড়া হত্যা করা বৈধ নয়, (১) যে ব্যক্তি বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচার করে, অথবা (২) কোনো ব্যক্তিকে হত্যার বিনিময়ে তাকে হত্যা করা, অথবা (৩) যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে, মুসলিমদের প্রধান জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৩৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3439 OK

(৩৪৩৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ قُلْنَا السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ قَبْلَ عِبَادِهِ السَّلَامُ عَلَى جِبْرِيلَ السَّلَامُ عَلَى مِيكَائِيلَ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ فَسَمِعَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلَامُ فَإِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَقُلْ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِذَا قَالَهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ يَتَخَيَّرُ بَعْدُ مِنْ الدُّعَاءِ مَا شَاءَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমরা যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামাযে বসতাম, তখন আমরা বলতাম, “আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তাঁর বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, জিবরীলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, মিকাঈলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, অমুকের উপর, অমুকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।” অতঃপর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ স্বয়ং শান্তি, সুতরাং তোমাদের কেউ যখন নামাযে বসে, তখন সে যেনো এই দুয়া বলে, অতঃপর সে যে দুয়া করতে চায়, সে তা করতে পারে।”

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِذَا قَالَهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“সকল সম্ভাষণ (মৌখিক ইবাদত), সকল (শারিরিক) ইবাদত ও সকল পবিত্রতা (আর্থিক ইবাদত) আল্লাহর জন্যে। হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো প্রভু নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রসূল।”

[মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৩৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3440 OK

(৩৪৪০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُسْلِمٍ الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلَاءِ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ سُنَنَ الْهُدَى وَمَا مِنْكُمْ إِلَّا وَلَهُ مَسْجِدٌ فِي بَيْتِهِ وَلَوْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ وَلَقَدْ رَأَيْتُنِي وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلَّا مُنَافِقٌ مَعْلُومٌ نِفَاقُهُ وَلَقَدْ رَأَيْتُ الرَّجُلَ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ رَجُلٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَأْتِي مَسْجِدًا مِنْ الْمَسَاجِدِ فَيَخْطُو خُطْوَةً إِلَّا رُفِعَ بِهَا دَرَجَةً أَوْ حُطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ أَوْ كُتِبَتْ لَهُ بِهَا حَسَنَةٌ حَتَّى إِنْ كُنَّا لَنُقَارِبُ بَيْنَ الْخُطَى وَإِنَّ فَضْلَ صَلَاةِ الرَّجُلِ فِي جَمَاعَةٍ عَلَى صَلَاتِهِ وَحْدَهُ بِخَمْسٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আগামীকাল কিয়ামাতের দিন মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ পেতে আনন্দবোধ করে, সে যেনো ঐ সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করে, যেসব সালাতের জন্যে আযান দেওয়া হয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবীর জন্যে হিদায়াতের পন্থা বিধিবদ্ধ করেছেন। আর এসব সালাতও হিদায়াতের পন্থা, যেমন জনৈক ব্যক্তি সালাতের জামাআতে উপস্থিত না হয়ে, বাড়ীতে সালাত আদায় করে থাকে, অনুরূপ তোমরাও যদি তোমাদের বাড়ীতে সালাত আদায় করো, তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত বা পন্থা পরিত্যাগ করলে। আর তোমরা যদি এভাবে তোমাদের নবীর সুন্নাত বা পন্থা পরিত্যাগ করো, তাহলে অবশ্যই তোমরা পথ হারিয়ে ফেলবে। কেউ যদি অতি উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সালাত আদায় করার জন্যে) কোনো একটি মসজিদে উপস্থিত হয়, তাহলে মসজিদে যেতে, সে যতবার পদক্ষেপ ফেলবে, তার প্রতিটি পদক্ষেপের পরিবর্তে আল্লাহ তাআলা তার জন্যে একটি নেকী লিখে দেন, তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন এবং একটি করে পাপ দূর করে দেন।” হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “এজন্যে আমরা নামাযের জন্যে মসজিদে যাবার সময় ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতাম এবং জামাতের সাথে নামাজ পড়ার ফজিলত, একা নামাজ পড়ার চেয়ে পঁচিশ গুন বেশি। আমরা মনে করি যার মুনাফিক্বী সর্বজন বিদিত এমন মুনাফিক্ব ছাড়া কেউই জামাআতে সালাত আদায় করা ছেড়ে দেয় না। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যামানায় এমন ব্যক্তি জামাআতে উপস্থিত হতো, যাকে দুইজন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে এসে, সালাতের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হতো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৪০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3441 OK

(৩৪৪১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ الصَّادِقُ الْمُصَدَّقُ إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ فِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ يُرْسَلُ إِلَيْهِ الْمَلَكُ فَيَنْفُخُ فِيهِ الرُّوحَ وَيُؤْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ رِزْقِهِ وَأَجَلِهِ وَعَمَلِهِ وَشَقِيٌّ أَمْ سَعِيدٌ فَوَالَّذِي لَا إِلَهَ غَيْرُهُ إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلَّا ذِرَاعٌ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ فَيَدْخُلُهَا وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلَّا ذِرَاعٌ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَدْخُلُهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি ‘সত্যবাদী’ এবং ‘সত্যবাদী বলে স্বীকৃত’ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, “তোমাদের প্রত্যেকেই আপন আপন মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত (শুক্র হিসেবে) জমা থাকে। তারপর ঐরকম চল্লিশ দিন রক্তপিন্ড, তারপর ঐরকম চল্লিশ দিন গোশত পিন্ডাকারে থাকে। তারপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে রিযিক, মৃত্যু, দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য- এ চারটি বিষয় লিখার জন্যে আদেশ দেওয়া হয়। আল্লাহর কসম! তোমাদের মাঝে কোনো ব্যক্তি জাহান্নামীদের মতো আমাল করতে থাকে। এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র একহাত বা এক গজের তফাৎ থাকে। এমন সময় তাক্দীর তার ওপর প্রাধান্য লাভ করে আর তখন সে জান্নাতীদের আমাল করা শুরু করে দেয়। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর কোনো ব্যক্তি জান্নাতীদের আমাল করতে থাকে। এমন কি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত বা দুইহাত তফাৎ থাকে। এমন সময় তাক্দীর তার উপর প্রাধান্য লাভ করে আর অমনি সে জাহান্নামীদের আমাল শুরু করে দেয়। ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৪১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3442 OK

(৩৪৪২)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৭১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا سَيَّارٌ وَمُغِيرَةُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ خَصْلَتَانِ يَعْنِي إِحْدَاهُمَا سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْأُخْرَى مِنْ نَفْسِي مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَجْعَلُ لِلَّهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ وَأَنَا أَقُولُ مَنْ مَاتَ وَهُوَ لَا يَجْعَلُ لِلَّهِ نِدًّا وَلَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

দুটি কথা এমন আছে, যার একটি আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি এবং অন্যটি আমি নিজের পক্ষ থেকে বলেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো, তাহলে তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” আর আমি বলেছি, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৪২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3443 OK

(৩৪৪৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّكُمْ مَالُ وَارِثِهِ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِهِ قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا مِنَّا أَحَدٌ إِلَّا مَالُهُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِ وَارِثِهِ قَالَ اعْلَمُوا أَنَّهُ لَيْسَ مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلَّا مَالُ وَارِثِهِ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِهِ مَا لَكَ مِنْ مَالِكَ إِلَّا مَا قَدَّمْتَ وَمَالُ وَارِثِكِ مَا أَخَّرْتَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীগণকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি কে আছে যে, যার ওয়ারিসের মাল তার নিকট, তার নিজের মাল হতে অধিক প্রিয়?” সাহাবীগণ বললো, “ইয়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার নিকট তার ওয়ারিসের মাল, তার নিজের মাল হতে অধিক প্রিয়।” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার জেনে রেখো, তোমাদের প্রত্যেকের নিকট তার ওয়ারিসের মাল, তার নিজের মাল হতে অধিক প্রিয় নয়। তোমার মাল তো তাই, যা তুমি মৃত্যুর পূর্বেই পাঠিয়ে দিয়েছো। আর ওয়ারিসের মাল তো তাই, যা রেখে তুমি মারা যাও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৪৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3444 OK

(৩৪৪৪)

সহিহ হাদিস

قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا تَعُدُّونَ فِيكُمْ الصُّرَعَةَ قَالَ قُلْنَا الَّذِي لَا يَصْرَعُهُ الرِّجَالُ قَالَ قَالَ لَا وَلَكِنْ الصُّرَعَةُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীগণকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের মধ্যে কাকে তোমরা শক্তিশালী কুস্তিগীর বলে মনে করো?” সাহাবীগণ বললো, “যাকে অন্য মানুষ মাটিতে নিক্ষেপ করতে পারে না।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “না। শক্তিশালী লোক হলো সে, যে ব্যক্তি রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৪৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3445 OK

(৩৪৪৫)

সহিহ হাদিস

قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا تَعُدُّونَ فِيكُمْ الرَّقُوبَ قَالَ قُلْنَا الَّذِي لَا وَلَدَ لَهُ قَالَ لَا وَلَكِنْ الرَّقُوبُ الَّذِي لَمْ يُقَدِّمْ مِنْ وَلَدِهِ شَيْئًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীগণকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা তোমাদের মধ্যে কাকে নিঃসন্তান মনে করো? সাহাবীগণ বললো, “যার কোনো সন্তান নেই।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “না। নিঃসন্তান হলো সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তি তার কোনো সন্তানকে তার আগে পাঠায়নি (অর্থাৎ তার কোন সন্তান তার আগে মারা যায়নি)।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৪৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3446 OK

(৩৪৪৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ حَدِيثَيْنِ أَحَدَهُمَا عَنْ نَفْسِهِ وَالْآخَرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ فِي أَصْلِ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُبَابٍ وَقَعَ عَلَى أَنْفِهِ فَقَالَ لَهُ هَكَذَا فَطَارَ


হজরত হারিস ইবনে সুওয়াইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের কাছে দুটি হাদিস বর্ণনা করলেন। একটি তার নিজের পক্ষ থেকে এবং একটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “একজন মুমিন তার গুনাহকে মনে করে যেনো, সে একটি পাহাড়ের গুহায় আছে এবং সে ভয় করে যে, পাহাড় তার ওপর পতিত হবে। আর একজন মূর্খ তার গুনাহ গুলোকে মনে করে যেনো, সে একটি গুহায় রয়েছে এবং তার নাকে মাছি এসে পড়েছে, সে তার দিকে ইশারা করলো এবং মাছিটি সে উড়ে গেলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৪৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3447 OK

(৩৪৪৭)

সহিহ হাদিস

قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَلَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ أَحَدِكُمْ مِنْ رَجُلٍ خَرَجَ بِأَرْضٍ دَوِّيَّةٍ مَهْلَكَةٍ مَعَهُ رَاحِلَتُهُ عَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ وَزَادُهُ وَمَا يُصْلِحُهُ فَأَضَلَّهَا فَخَرَجَ فِي طَلَبِهَا حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْمَوْتُ فَلَمْ يَجِدْهَا قَالَ أَرْجِعُ إِلَى مَكَانِي الَّذِي أَضْلَلْتُهَا فِيهِ فَأَمُوتُ فِيهِ قَالَ فَأَتَى مَكَانَهُ فَغَلَبَتْهُ عَيْنُهُ فَاسْتَيْقَظَ فَإِذَا رَاحِلَتُهُ عِنْدَ رَأْسِهِ عَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ وَزَادُهُ وَمَا يُصْلِحُهُ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ مِثْلَهُ


হজরত হারিস ইবনে সুওয়াইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের কাছে দুটি হাদিস বর্ণনা করলেন। একটি তার নিজের পক্ষ থেকে এবং একটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই মুমিন বান্দার তওবা করায়, আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশী আনন্দিত হন, যে নির্জন ভূমিতে বের হয় এবং তার সাথে তার সওয়ারী উট থাকে। যার উপর তার খাদ্য, পানীয়, রিজিক এবং যা কিছু তার প্রয়োজন সবকিছুই থাকে। অতঃপর সে তার উটটিসহ সবকিছু হারিয়ে ফেলে। অতঃপর সে তার উটটির সন্ধানে বের হয় এবং যখন সে অনুভব করে যে, তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে, কিন্তু তার উটটি খুঁজে পাচ্ছেন না, তখন সে মনে মনে বলে যে, উটটি যেখান থেকে হারিয়ে গিয়েছিলো, আমি সেখানেই ফিরে যাই। আমি সেখানে গিয়েই মরবো। সে সেই জায়গায় ফিরে যায় এবং ঘুমিয়ে পড়ে। তারপর সে জেগে ওঠে এবং সে সেখানে তার উটটিকে দেখতে পায় যে, তা তার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার উটটির উপরে তার খাবার ও পানীয় এবং তার প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুই রয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৪৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3448 OK

(৩৪৪৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৪৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ حَدِيثَيْنِ أَحَدَهُمَا عَنْ نَفْسِهِ وَالْآخَرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ فِي أَصْلِ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُبَابٍ وَقَعَ عَلَى أَنْفِهِ فَقَالَ لَهُ هَكَذَا فَطَارَ


হজরত হারিস ইবনে সুওয়াইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের কাছে দুটি হাদিস বর্ণনা করলেন। একটি তার নিজের পক্ষ থেকে এবং একটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “একজন মুমিন তার গুনাহকে মনে করে যেনো, সে একটি পাহাড়ের গুহায় আছে এবং সে ভয় করে যে, পাহাড় তার ওপর পতিত হবে। আর একজন মূর্খ তার গুনাহ গুলোকে মনে করে যেনো, সে একটি গুহায় রয়েছে এবং তার নাকে মাছি এসে পড়েছে, সে তার দিকে ইশারা করলো এবং মাছিটি সে উড়ে গেলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৪৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3449 OK

(৩৪৪৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৪৭] view_link


সহিহ হাদিস

قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَلَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ أَحَدِكُمْ مِنْ رَجُلٍ خَرَجَ بِأَرْضٍ دَوِّيَّةٍ مَهْلَكَةٍ مَعَهُ رَاحِلَتُهُ عَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ وَزَادُهُ وَمَا يُصْلِحُهُ فَأَضَلَّهَا فَخَرَجَ فِي طَلَبِهَا حَتَّى إِذَا أَدْرَكَهُ الْمَوْتُ فَلَمْ يَجِدْهَا قَالَ أَرْجِعُ إِلَى مَكَانِي الَّذِي أَضْلَلْتُهَا فِيهِ فَأَمُوتُ فِيهِ قَالَ فَأَتَى مَكَانَهُ فَغَلَبَتْهُ عَيْنُهُ فَاسْتَيْقَظَ فَإِذَا رَاحِلَتُهُ عِنْدَ رَأْسِهِ عَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ وَزَادُهُ وَمَا يُصْلِحُهُ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ مِثْلَهُ


হজরত হারিস ইবনে সুওয়াইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের কাছে দুটি হাদিস বর্ণনা করলেন। একটি তার নিজের পক্ষ থেকে এবং একটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই মুমিন বান্দার তওবা করায়, আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশী আনন্দিত হন, যে নির্জন ভূমিতে বের হয় এবং তার সাথে তার সওয়ারী উট থাকে। যার উপর তার খাদ্য, পানীয়, রিজিক এবং যা কিছু তার প্রয়োজন সবকিছুই থাকে। অতঃপর সে তার উটটিসহ সবকিছু হারিয়ে ফেলে। অতঃপর সে তার উটটির সন্ধানে বের হয় এবং যখন সে অনুভব করে যে, তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে, কিন্তু তার উটটি খুঁজে পাচ্ছেন না, তখন সে মনে মনে বলে যে, উটটি যেখান থেকে হারিয়ে গিয়েছিলো, আমি সেখানেই ফিরে যাই। আমি সেখানে গিয়েই মরবো। সে সেই জায়গায় ফিরে যায় এবং ঘুমিয়ে পড়ে। তারপর সে জেগে ওঠে এবং সে সেখানে তার উটটিকে দেখতে পায় যে, তা তার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার উটটির উপরে তার খাবার ও পানীয় এবং তার প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুই রয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৪৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3450 OK

(৩৪৫০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا إِلَّا كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الْأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا لِأَنَّهُ كَانَ أَوَّلَ مَنْ سَنَّ الْقَتْلَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুনিয়াতে যখন কাউকে অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয়, তখন তার পাপের একটি অংশ হজরত আদম (আঃ)-এর প্রথম পুত্র কাবিলের উপরও বর্তায়, কারণ সেই হত্যার প্রথা প্রথম চালু করেছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৫০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3451 OK

(৩৪৫১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ وابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ الْأَعْمَشِ وَيَحْيَى عَنْ الْأَعْمَشِ حَدَّثَنِي عُمَارَةُ حَدَّثَنِي الْأَسْوَدُ الْمَعْنَى عَنْ عُمَارَةَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ لَا يَجْعَلُ أَحَدُكُمْ لِلشَّيْطَانِ مِنْ نَفْسِهِ جُزْءًا لَا يَرَى إِلَّا أَنَّ حَقًا عَلَيْهِ أَنْ لَا يَنْصَرِفَ إِلَّا عَنْ يَمِينِهِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنَّ أَكْثَرَ انْصِرَافِهِ لَعَلَى يَسَارِهِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

তোমাদের কেউ যেনো (নামায শেষ করার পর) ডান দিকে ফিরে যাওয়া ওয়াজিব মনে না করে। যারফলে সে শয়তানকে নিজের উপর ক্ষমতার একটি অংশ দিয়ে দেয়। আমি অধিকাংশ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (নামায শেষ করার পর) বাম দিকে ফিরে যেতে দেখেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৫১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3452 OK
View Quran

(৩৪৫২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا تَقُولُونَ فِي هَؤُلَاءِ الْأَسْرَى قَالَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَوْمُكَ وَأَهْلُكَ اسْتَبْقِهِمْ وَاسْتَأْنِ بِهِمْ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ قَالَ وَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْرَجُوكَ وَكَذَّبُوكَ قَرِّبْهُمْ فَاضْرِبْ أَعْنَاقَهُمْ قَالَ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ انْظُرْ وَادِيًا كَثِيرَ الْحَطَبِ فَأَدْخِلْهُمْ فِيهِ ثُمَّ أَضْرِمْ عَلَيْهِمْ نَارًا قَالَ فَقَالَ الْعَبَّاسُ قَطَعْتَ رَحِمَكَ قَالَ فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِمْ شَيْئًا قَالَ فَقَالَ نَاسٌ يَأْخُذُ بِقَوْلِ أَبِي بَكْرٍ وَقَالَ نَاسٌ يَأْخُذُ بِقَوْلِ عُمَرَ وَقَالَ نَاسٌ يَأْخُذُ بِقَوْلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَوَاحَةَ قَالَ فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ لَيُلِينُ قُلُوبَ رِجَالٍ فِيهِ حَتَّى تَكُونَ أَلْيَنَ مِنْ اللَّبَنِ وَإِنَّ اللَّهَ لَيَشُدُّ قُلُوبَ رِجَالٍ فِيهِ حَتَّى تَكُونَ أَشَدَّ مِنْ الْحِجَارَةِ وَإِنَّ مَثَلَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ كَمَثَلِ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَام قَالَ مَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَحِيمٌ وَمَثَلَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ كَمَثَلِ عِيسَى قَالَ إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ وَإِنَّ مَثَلَكَ يَا عُمَرُ كَمَثَلِ نُوحٍ قَالَ رَبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنْ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا وَإِنَّ مِثْلَكَ يَا عُمَرُ كَمَثَلِ مُوسَى قَالَ رَبِّ اشْدُدْ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوا حَتَّى يَرَوْا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ أَنْتُمْ عَالَةٌ فَلَا يَنْفَلِتَنَّ مِنْهُمْ أَحَدٌ إِلَّا بِفِدَاءٍ أَوْ ضَرْبَةِ عُنُقٍ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلَّا سُهَيْلُ ابْنُ بَيْضَاءَ فَإِنِّي قَدْ سَمِعْتُهُ يَذْكُرُ الْإِسْلَامَ قَالَ فَسَكَتَ قَالَ فَمَا رَأَيْتُنِي فِي يَوْمٍ أَخْوَفَ أَنْ تَقَعَ عَلَيَّ حِجَارَةٌ مِنْ السَّمَاءِ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ حَتَّى قَالَ إِلَّا سُهَيْلُ ابْنُ بَيْضَاءَ قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ إِلَى قَوْلِهِ لَوْلَا كِتَابٌ مِنْ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو حَدَّثَنَا زَائِدَةُ فَذَكَرَ نَحْوَهُ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ إِلَّا سُهَيْلُ ابْنُ بَيْضَاءَ وَقَالَ فِي قَوْلِ أَبِي بَكْرٍ قَالَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ عِتْرَتُكَ وَأَصْلُكَ وَقَوْمُكَ تَجَاوَزْ عَنْهُمْ يَسْتَنْقِذْهُمْ اللَّهُ بِكَ مِنْ النَّارِ قَالَ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْتَ بِوَادٍ كَثِيرِ الْحَطَبِ فَأَضْرِمْهُ نَارًا ثُمَّ أَلْقِهِمْ فِيهِ فَقَالَ الْعَبَّاسُ قَطَعَ اللَّهُ رَحِمَكَ حَدَّثَنَاه حُسَيْنٌ يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ يَعْنِي ابْنَ حَازِمٍ عَنْ الْأَعْمَشِ فَذَكَرَ نَحْوَهُ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَحْشٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْدَاءُ اللَّهِ كَذَّبُوكَ وَآذَوْكَ وَأَخْرَجُوكَ وَقَاتَلُوكَ وَأَنْتَ بِوَادٍ كَثِيرِ الْحَطَبِ فَاجْمَعْ لَهُمْ حَطَبًا كَثِيرًا ثُمَّ أَضْرِمْهُ عَلَيْهِمْ وَقَالَ سَهْلُ ابْنُ بَيْضَاءَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

বদরের যুদ্ধের দিন যুদ্ধ বন্দীদের আনা হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এই যুদ্ধ বন্দীদের বিষয়ে তোমাদের কি মত?” হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তারা আপনার লোক এবং আপনার পরিবার; তাদের বাঁচিয়ে রাখুন। এবং তাদের অবকাশ দিন, সম্ভবত আল্লাহ তাদেরকে তওবা করার সুযোগ করে দিবেন।” হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তারা আপনাকে স্বীয় দেশ থেকে বের করে দিয়েছে এবং আপনাকে অবিশ্বাস করেছে, তাদেরকে লোকদের সামনে বের করে এনে, তাদের ঘাড় উড়িয়ে দিন।” আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা বলেন, “অনেক কাঠ দিয়ে একটি উপত্যকা ভরে ফেলুন এবং সেখানে তাদেরকে রাখুন, তারপর তাদেরকে জ্বালিয়ে দিন।” আল-আব্বাস বললেন, “তাহলে তুমি তাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (তাবুর) ভিতরে গেলেন এবং তাদেরকে কোনো উত্তর দিলেন না। কিছু লোক বললো, “তিনি আবু বকরের পরামর্শ অনুসরণ করবেন।” অন্যরা বললো, “তিনি উমরের পরামর্শ অনুসরণ করবেন।” অন্যরা বললো, “তিনি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার পরামর্শ অনুসরণ করবেন।” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইরে এসে বললেন, “আল্লাহ কিছু মানুষের হৃদয়কে এমন কোমল করে দিতে পারেন যে, তা দুধের চেয়েও নরম হয় এবং কিছু মানুষের হৃদয়কে এমন কঠিন করে দেন যে, তারা পাথরের চেয়েও শক্ত হয়। হে আবু বকর, আপনার উপমা ইব্রাহীরম (আঃ) এর মতো যিনি বলেছিলেন,

رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضۡلَلۡنَ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلنَّاسِۖ فَمَن تَبِعَنِي فَإِنَّهُۥ مِنِّيۖ وَمَنۡ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٞ رَّحِيمٞ٣٦
হে আমার প্রভু! নিশ্চয় অবিশ্বাসীরা মানুষের মধ্যে অনেককে বিপথগামী করেছে। সুতরাং যে আমাকে অনুসরণ করে, তবে নিশ্চয় সে আমার দলের অন্তর্ভুক্ত। আর যে আমাকে অমান্য করে, তবে নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। (১৪. ইব্রাহীম : ৩৬)

এবং হে আবু বকর, আপনার উপমা ঈসার মতো যিনি বলেছিলেন,

إِن تُعَذِّبۡهُمۡ فَإِنَّهُمۡ عِبَادُكَۖ وَإِن تَغۡفِرۡ لَهُمۡ فَإِنَّكَ أَنتَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ١١٨
যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দান করেন, তবে তারা তো আপনারই দাস। আর যদি আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে আপনি হচ্ছেন পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (৫. আল মায়েদাহ : ১১৮)

আর হে উমর, তোমার দৃষ্টান্ত নূহের মতো যিনি বলেছিলেন,

وَقَالَ نُوحٞ رَّبِّ لَا تَذَرۡ عَلَى ٱلۡأَرۡضِ مِنَ ٱلۡكَٰفِرِينَ دَيَّارًا٢٦
নূহ বলেছিলেন, “হে আমার প্রভু! আপনি পৃথিবীর উপরে কোনো অবিশ্বাসী গৃহবাসীকে ছাড়বেন না। (৭১. নূহ : ২৬)

এবং হে উমর, তোমার দৃষ্টান্ত মূসার মতো যিনি বলেছিলেন,”

وَقَالَ مُوسَىٰ رَبَّنَآ إِنَّكَ ءَاتَيۡتَ فِرۡعَوۡنَ وَمَلَأَهُۥ زِينَةٗ وَأَمۡوَٰلٗا فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّواْ عَن سَبِيلِكَۖ رَبَّنَا ٱطۡمِسۡ عَلَىٰٓ أَمۡوَٰلِهِمۡ وَٱشۡدُدۡ عَلَىٰ قُلُوبِهِمۡ فَلَا يُؤۡمِنُواْ حَتَّىٰ يَرَوُاْ ٱلۡعَذَابَ ٱلۡأَلِيمَ٨٨
মূসা বললেন, “হে আমাদের প্রভু! নিশ্চয় আপনি ফিরআউন ও তার পরিষদবর্গকে পার্থিব জীবনে শোভা ও সম্পদ দান করেছেন। হে আমাদের প্রভু! আপনি কি তাদেরকে এজন্যেই সম্পদ দান করেছেন যে, তারা মানুষকে আপনার পথ থেকে পথভ্রষ্ট করবে। হে আমাদের প্রভু! আপনি তাদের সম্পদকে ধ্বংস করে দিন এবং তাদের অন্তরগুলোকে কাঠোর করে দিন, যাতে করে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার প্রতি বিশ্বাস না করে, যতক্ষণ পর্যন্ত না, তারা বেদনাদায়ক শাস্তি দেখে নেয়।” (১০. ইউনুস : ৮৮)

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “মুক্তিপণ আদায় বা শিরচ্ছেদ করা ছাড়া এদের মুক্তির বিকল্প কোনো পথ নেই।” আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, “ইয়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তবে সুহাইল ইবনু বাইযা ব্যতীত। যেহেতু আমি তাকে ইসলাম প্রসঙ্গে আলোচনা করতে শুনেছি।” আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার এ কথায় নীরব থাকলেন। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ঐ দিনের মতো এরকম মারত্মক অবস্থা আমার আর কোন দিন ছিলো না। ঐ দিন প্রতি মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছিলো, আমার মাথার উপর বুঝি আকাশ হতে পাথর বর্ষিত হবে। অবশেষে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সুহাইল ইবনু বাইযা ব্যতীত।” ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এদিকে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি মোতাবেক কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়,

مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَن يَكُونَ لَهُۥٓ أَسۡرَىٰ حَتَّىٰ يُثۡخِنَ فِي ٱلۡأَرۡضِۚ تُرِيدُونَ عَرَضَ ٱلدُّنۡيَا وَٱللَّهُ يُرِيدُ ٱلۡأٓخِرَةَۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٞ٦٧
যুদ্ধ বন্দীদেরকে নিজের কাছে বন্দী করে রাখা নবীর জন্যে উচিত নয়, যে পর্যন্ত না অবিশ্বাসীদের দেশের মধ্যে প্রচুর রক্তপাত ঘটানো হবে। তোমরা পার্থিব সম্পদ চাও, অথচ আল্লাহ পরকাল চান। আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (৮. আল আনফাল : ৬৭)

لَّوۡلَا كِتَٰبٞ مِّنَ ٱللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمۡ فِيمَآ أَخَذۡتُمۡ عَذَابٌ عَظِيمٞ٦٨
যদি ইতিপূর্বে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট লিখিত বিধান না থাকতো, তাহলে যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণ হিসেবে তোমরা যে সম্পদ গ্রহণ করেছো, ঐ কারণে তোমাদেরকে অবশ্যই মহা শাস্তি স্পর্শ করতো। (৮. আল আনফাল : ৬৮)
[মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৫২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3453 OK

(৩৪৫৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ عَنْ زَيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ خِشْفِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ الدِّيَةَ فِي الْخَطَإِ أَخْمَاسًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাসুলুল্লাহ দুর্ঘটনা বশত হত্যার রক্তপণ হিসেবে, একজন স্বাধীন ব্যক্তির হত্যার রক্তপণের এক পঞ্চমাংশ নির্ধারণ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৫৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3454 OK

(৩৪৫৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُسْلِمٍ الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ الْمِسْكِينُ بِالطَّوَّافِ وَلَا بِالَّذِي تَرُدُّهُ التَّمْرَةُ وَلَا التَّمْرَتَانِ وَلَا اللُّقْمَةُ وَلَا اللُّقْمَتَانِ وَلَكِنْ الْمِسْكِينُ الْمُتَعَفِّفُ الَّذِي لَا يَسْأَلُ النَّاسَ شَيْئًا وَلَا يُفْطَنُ لَهُ فَيُتَصَدَّقَ عَلَيْهِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ঐ ব্যক্তি প্রকৃত মিসকীন নয়, যে ব্যক্তি এক বা দুইটি খেজুর খেয়ে ভিক্ষা করে বেড়ায় অথবা এক বা দুইটি খেজুর খেয়ে খুশি হয়। বরং প্রকৃত মিসকীন হলো ঐ নম্র ব্যক্তি, যে ব্যক্তি মানুষের কাছে কিছু চাইতে অনিচ্ছুক। আর মানুষকে বুঝতে দেয় না যে, সে একজন অভাবী ব্যক্তি, যাতে কেউ তাকে দান করে।”

[মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৫৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3455 OK

(৩৪৫৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى صَلَاةً إِلَّا لِمِيقَاتِهَا إِلَّا صَلَاتَيْنِ صَلَاةَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِجَمْعٍ وَصَلَاةَ الْفَجْرِ يَوْمَئِذٍ قَبْلَ مِيقَاتِهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাধারণত যে সময়ে সালাত আদায় করতেন, ঐ নির্ধারিত সময় ব্যতীত আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কখনোই অন্য কোনো সময়ে সালাত আদায় করতে দেখিনি। তবে একমাত্র মাগরিব ও ইশার সালাত ব্যতীত, যা তিনি মুয্দালিফায় আদায় করেছিলেন। আর সেই দিন তিনি (পূর্ব) নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই ফজরের সালাত আদায় করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৫৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3456 OK

(৩৪৫৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدُقُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صِدِّيقًا وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ كَذَّابًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে সত্যবাদী হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। কেননা সত্যবাদিতা কল্যাণের পথে নিয়ে যায় এবং কল্যাণ জান্নাতের পথে নিয়ে যায়। একজন মানুষ সত্য কথা বলতে থাকে, যতক্ষণ না সে আল্লাহর কাছে সত্যবাদী হিসেবে লেখা হয়। তোমরা নিজেদেরকে মিথ্যা থেকে বাঁচাও। কেননা মিথ্যাবাদিতা পাপের পথে নিয়ে যায় এবং পাপ জাহান্নামের পথে নিয়ে যায়। একজন মানুষ মিথ্যা কথা বলতে থাকে, যতক্ষণ না সে আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী হিসেবে লেখা হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৪৫৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস