(২৬) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৩৩৬৮-৪২১৬), সর্বমোট হাদিসঃ ৮৪৯টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ২১৯টি]



3997 OK

(৩৯৯৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৭৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنِي زُبَيْدٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ وَشَقَّ الْجُيُوبَ وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ


হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “ঐ ব্যক্তি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি (মৃত ব্যক্তির জন্যে শোক প্রকাশে) গাল চাপড়িয়ে কাঁদে, জামা ছিঁড়ে চিৎকার করে কাঁদে ও জাহেলিয়াতের মতো চিৎকার করে কাঁদে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৯৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3998 OK

(৩৯৯৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৮৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجَنَّةُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ وَالنَّارُ مِثْلُ ذَلِكَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কারো জন্যে, জান্নাত তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটবর্তী এবং জাহান্নামও অনুরূপ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৯৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3999 OK

(৩৯৯৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪১৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ يَأْتِي بَعْدَ ذَلِكَ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَاتُهُمْ أَيْمَانَهُمْ وَأَيْمَانُهُمْ شَهَادَاتِهِمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সর্বোত্তম লোক আমার যুগের লোক (অর্থ্যাৎ সাহাববীগণ)। তারপর তাদের পরবর্তীগণ (অর্থ্যাৎ তাবিঈগণ), তারপর তার পরবর্তীগণ (অর্থ্যাৎ তাবি তাবিঈগণ)। তারপর এরূপ ব্যক্তিদের আগমন ঘটবে, যারা সাক্ষী দেবার আগে শপথ করবে অথবা শপথের আগে সাক্ষ্য দিবে। (অর্থাৎ, তারা তাদের শপথ এবং সাক্ষ্যকে একত্রিত করবে, কখনও কখনও একটিকে অন্যটির আগে রাখবে, যার অর্থ তারা সাক্ষ্য এবং শপথের বিষয়ে উদাসীন থাকবে।)” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯৯৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4000 OK

(৪০০০)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫১৪] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ خُمَيْرِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَرَأْتُ مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْعِينَ سُورَةً وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ لَهُ ذُؤَابَةٌ فِي الْكُتَّابِ


হজরত আবূ ওয়ায়ল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, “তোমরা আমাকে হজরত যায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো কুরআন পড়তে বলছো কি করে? অথচ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বরকতময় মুখ থেকে শুনে সওরেরও (৭০) অধিক সূরা পাঠ শিখেছি, অথচো হজরত যায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তখনো ছোট ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করতো ও তখন তার মাথায় দুইটি চুলের ঝুঁটি ছিলো। (অর্থাৎ সে তখন নিতান্তই শিশু, আর তোমরা আমাকে সেই সেদিনের যায়দের মতো করে কুরআন পড়তে বলছো?)” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০০০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4001 OK

(৪০০১)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫১৩] view_link


সহিহ হাদিস

(حديث مرفوع) حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، حَدَّثَنِي بَشِيرُ بْنُ سَلْمَانَ ، عَنْ سَيَّارٍ أَبِي حَمْزَةَ ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:" مَنْ نَزَلَ بِهِ حَاجَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ، كَانَ قَمِنًا مِنْ أَنْ لَا تَسْهُلَ حَاجَتُهُ، وَمَنْ أَنْزَلَهَا بِاللَّهِ، آتَاهُ بِرِزْقٍ عَاجِلٍ، أَوْ بِمَوْتٍ آجِلٍ".


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মানুষের কাছে তার প্রয়োজনের কথা বলে, অথচো মানুষ তার প্রয়োজন পূরণের যোগ্য নয়। তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তার প্রয়োজনের কথা বলে, আল্লাহ তাকে সাথে সাথেই রিজিক দান করবেন অথবা বিলম্বিত মৃত্যু দান করবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০০১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4002 OK

(৪০০২)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৩২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنْتُ مُسْتَتِرًا بِسِتَارِ الْكَعْبَةِ فَجَاءَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ قُرَشِيٌّ وَخَتَنَاهُ ثَقَفِيَّانِ أَوْ ثَقَفِيٌّ وَخَتَنَاهُ قُرَشِيَّانِ كَثِيرٌ شَحْمُ بُطُونِهِمْ قَلِيلٌ فِقْهُ قُلُوبِهِمْ فَتَكَلَّمُوا بِكَلَامٍ لَمْ أَسْمَعْهُ فَقَالَ أَحَدُهُمْ أَتَرَوْنَ اللَّهَ يَسْمَعُ كَلَامَنَا هَذَا فَقَالَ الْآخَرُ أُرَانَا إِذَا رَفَعْنَا أَصْوَاتَنَا سَمِعَهُ وَإِذَا لَمْ نَرْفَعْهَا لَمْ يَسْمَعْ فَقَالَ الْآخَرُ إِنْ سَمِعَ مِنْهُ شَيْئًا سَمِعَهُ كُلَّهُ قَالَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَا أَبْصَارُكُمْ وَلَا جُلُودُكُمْ إِلَى قَوْلِهِ ذَلِكُمْ ظَنُّكُمْ الَّذِي ظَنَنْتُمْ بِرَبِّكُمْ أَرْدَاكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ مِنْ الْخَاسِرِينَق


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমি কাবার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে ছিলাম। আর তিনজন লোক এলো। দুইজন সাকাফী ও একজন কুরাইশী অথবা দুইজন কুরাইশী ও একজন সাকাফী। তাদের পেটে চর্বি ছিলো বেশি, কিন্তু তাদের অন্তরে বুঝার ক্ষমতা ছিলো কম। তাদের একজন বললো, “তোমাদের অভিমত কী? আমরা যা বলছি, আল্লাহ কি সবই শুনতে পান?” দ্বিতীয় ব্যক্তি বললো, “হ্যাঁ শোনেন, যদি আমরা উচ্চৈঃস্বরে বলি। আমরা চুপি চুপি বললে তিনি শোনেন না।” তৃতীয় জন বললো, “যদি তিনি উচ্চৈঃস্বরে বললে শোনেন, তবে নিচু স্বরে বললেও শুনবেন।” আমি তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেএর কাছে উল্লেখ করেছিলাম এবং এরই প্রক্ষিতে আল্লাহ নিম্মোক্ত আয়াত নাযিল করলেন,

وَمَا كُنتُمۡ تَسۡتَتِرُونَ أَن يَشۡهَدَ عَلَيۡكُمۡ سَمۡعُكُمۡ وَلَآ أَبۡصَٰرُكُمۡ وَلَا جُلُودُكُمۡ وَلَٰكِن ظَنَنتُمۡ أَنَّ ٱللَّهَ لَا يَعۡلَمُ كَثِيرٗا مِّمَّا تَعۡمَلُونَ٢٢
আর তোমরা পাপ কাজ করার সময় কোনো কিছু গোপন করতে না, এ ধারণার বশবর্তী হয়ে যে, তোমাদের কান, তোমাদের চোখ ও তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না। বরং তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করো তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না। (৪১. হা-মীম সেজদাহ / ফুসসিলাত : ২২)
وَذَٰلِكُمۡ ظَنُّكُمُ ٱلَّذِي ظَنَنتُم بِرَبِّكُمۡ أَرۡدَىٰكُمۡ فَأَصۡبَحۡتُم مِّنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ٢٣
তোমাদের প্রভু সম্পর্কে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছো। (৪১. হা-মীম সেজদাহ / ফুসসিলাত : ২৩) [মুসনাদে আহমাদ : ৪০০২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4003 OK

(৪০০৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬৯৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي الْوَلِيدُ بْنُ الْعَيْزَارِ بْنِ حُرَيْثٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو الشَّيْبَانِيَّ قَالَ حَدَّثَنَا صَاحِبُ هَذِهِ الدَّارِ وَأَشَارَ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللَّهِ وَلَمْ يُسَمِّهِ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ قَالَ الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا قَالَ قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ قَالَ قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ ثُمَّ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ فَحَدَّثَنِي بِهِنَّ وَلَوْ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, “কোন আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সময়মত নামায পড়া।” আমি বললাম, “তারপর কোনটি?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তারপর পিতা-মাতার সম্মান করা।” আমি বললাম, “তারপর কোনটি?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তারপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে জিহাদ?” আমি যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরো জিজ্ঞাসা করতাম, তবে তিনি আমাকে আরো বলতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০০৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4004 OK

(৪০০৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৭৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ زُهَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنِ الْأَسْوَدِ وَعَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَنَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ خَفْضٍ وَرَفْعٍ وَقِيَامٍ وَقُعُودٍ وَيُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدَّيْهِ أَوْ خَدِّهِ وَرَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ يَفْعَلَانِ ذَلِكَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি যতবার রুকু করতেন, ততবার তিনি উঠে দাঁড়াতে। দাঁড়িয়ে ও বসা অবস্থায় তিনি তাকবীর বলতেন এবং ডানে-বামে এমন ভাবে সালাম দিতেন যে, তাতে তাঁর বরকতময় মুখমণ্ডলের শুভ্রতা দেখা যেতো। আর আমি আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকেও তাই করতে দেখেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০০৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4005 OK

(৪০০৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৭৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ زُهَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنِ الْأَسْوَدِ وَعَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَنَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ خَفْضٍ وَرَفْعٍ وَقِيَامٍ وَقُعُودٍ وَيُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدَّيْهِ أَوْ خَدِّهِ وَرَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ يَفْعَلَانِ ذَلِكَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি যতবার রুকু করতেন, ততবার তিনি উঠে দাঁড়াতে। দাঁড়িয়ে ও বসা অবস্থায় তিনি তাকবীর বলতেন এবং ডানে-বামে এমন ভাবে সালাম দিতেন যে, তাতে তাঁর বরকতময় মুখমণ্ডলের শুভ্রতা দেখা যেতো। আর আমি আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকেও তাই করতে দেখেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০০৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4006 OK

(৪০০৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫৫৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ وَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ خَدِّهِ وَقَالَ اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর বিছানায় শুয়ে পড়তেন, তখন তিনি তার ডান হাতের তালুর উলটা পিঠ গালের নিচে রেখে দোয়া করতেন,

اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ

“হে আল্লাহ! আমাকে সেই দিনের শাস্তি থেকে রক্ষা করো, যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে একত্র করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০০৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4007 OK

(৪০০৭)

হাদিস দেখুন [৩১:২০৫৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْعَالِيَةِ يَقُولُ حَدَّثَنِي ابْنُ عَمِّ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَقُولَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى وَنَسَبَهُ إِلَى أَبِيهِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো ব্যক্তির জন্য এটা বলা ঠিক নয় যে, আমি হজরত ইউনুস ইবনে মাত্তার চেয়ে উত্তম।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০০৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4008 OK

(৪০০৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪০০] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سُلَيْمَانُ سَمِعْتُ شَقِيقًا يَقُولُ كُنَّا نَنْتَظِرُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ فِي الْمَسْجِدِ يَخْرُجُ عَلَيْنَا فَجَاءَنَا يَزِيدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ يَعْنِي النَّخَعِيَّ قَالَ فَقَالَ أَلَا أَذْهَبُ فَأَنْظُرَ فَإِنْ كَانَ فِي الدَّارِ لَعَلِّي أَنْ أُخْرِجَهُ إِلَيْكُمْ فَجَاءَنَا فَقَامَ عَلَيْنَا فَقَالَ إِنَّهُ لَيُذْكَرُ لِي مَكَانُكُمْ فَمَا آتِيكُمْ كَرَاهِيَةَ أَنْ أُمِلَّكُمْ لَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَوَّلُنَا بِالْمَوْعِظَةِ فِي الْأَيَّامِ كَرَاهِيَةَ السَّآمَةِ عَلَيْنَا


হজরত শাকিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদিন আমরা মসজিদে আমাদের কাছে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর আগমনের অপেক্ষায় ছিলাম। ইয়াযীদ বিন মুআবিয়া-অর্থাৎ আন-নাখায়ী- আমাদের কাছে এসে বললেন, “আমি কি গিয়ে দেখবো যে, তিনি ঘরে আছেন কিনা? হয়তো আমি তাকে আপনাদে কাছে নিয়ে আসতে পারবো।” কিছুক্ষণ পর হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে আমাদের কাছে দাঁড়ালেন এবং বললেন, “আমাকে বলা হয়েছে যে, আপনারা আমার জন্যে অপেক্ষা করছেন। আমি আপনাদের কাছে এ জন্য আসিনি যে, আমি আপনাদেরকে বিরক্ত করা ভালো মনে করিনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বিরক্তির আশঙ্কায় তাঁর খুতবা ও উপদেশ দানের জন্যে উপযুক্ত সময় বেছে নিতেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০০৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4009 OK

(৪০০৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪২৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُبَاشِرْ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ حَتَّى تَصِفَهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّمَا يَنْظُرُ إِلَيْهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো মহিলা যেনো, অন্য কোনো মহিলার সম্পর্কে তার স্বামীর কাছে এমন ভাবে তার শারীরিক গঠন বর্ণনা না করে, যেনো সে তাকে নিজের চোখে দেখছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০০৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4010 OK

(৪০১০)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৭৪৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ أَنْبَأَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَزْرَةَ عَنِ الْحَسَنِ الْعُرَنِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ الجَزَّارِ عَنْ مَسْرُوقٍ أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ إِلَى ابْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَتْ أُنْبِئْتُ أَنَّكَ تَنْهَى عَنْ الْوَاصِلَةِ قَالَ نَعَمْ فَقَالَتْ أَشَيْءٌ تَجِدُهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ أَمْ سَمِعْتَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَجِدُهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَعَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ وَاللَّهِ لَقَدْ تَصَفَّحْتُ مَا بَيْنَ دَفَّتَيْ الْمُصْحَفِ فَمَا وَجَدْتُ فِيهِ الَّذِي تَقُولُ قَالَ فَهَلْ وَجَدْتِ فِيهِ مَا آتَاكُمْ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا قَالَتْ نَعَمْ قَالَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ النَّامِصَةِ وَالْوَاشِرَةِ وَالْوَاصِلَةِ وَالْوَاشِمَةِ إِلَّا مِنْ دَاءٍ قَالَتْ الْمَرْأَةُ فَلَعَلَّهُ فِي بَعْضِ نِسَائِكَ قَالَ لَهَا ادْخُلِي فَدَخَلَتْ ثُمَّ خَرَجَتْ فَقَالَتْ مَا رَأَيْتُ بَأْسًا قَالَ مَا حَفِظْتُ إِذًا وَصِيَّةَ الْعَبْدِ الصَّالِحِ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَى مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহ লানাত করেছেন ঐ সমস্ত নারীর প্রতি, যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকণ করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকণ করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্যে ভূরু-চুল উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। সে সব নারী আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি আনয়ন করে। এরপর বানী আসাদ গোত্রের উম্মু ইয়াকূব নামের এক মহিলার কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে সে এসে বললো, “আমি জানতে পারলাম, আপনি এ ধরনের মহিলাদের প্রতি লানত করেছেন।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার প্রতি লানাত করেছেন, আল্লাহর কিতাবে যার প্রতি লানাত করা হয়েছে, আমি তার প্রতি লানাত করবো না কেনো?” তখন মহিলা বললো, “আমি দুই ফলকের মাঝে যা আছে তা (অর্থাৎ পূর্ণ কুরআন) পড়েছি। কিন্তু আপনি যা বলেছেন, তা তো এতে পাইনি।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “যদি তুমি ভালো ভাবে কুরআন পড়তে, তাহলে অবশ্যই তা পেতে, তুমি কি পড়নি, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে যা দেন, তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন, তা হতে তোমরা বিরত থাকো।”

مَّآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡقُرَىٰ فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَٱبۡنِ ٱلسَّبِيلِ كَيۡ لَا يَكُونَ دُولَةَۢ بَيۡنَ ٱلۡأَغۡنِيَآءِ مِنكُمۡۚ وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ٧
আল্লাহ জনপদ বাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ দিয়েছেন, সুতরাং তা আল্লাহর, রসূলের, রসূলের নিকট-আ‌ত্মীয়দের, পিতৃহীনদের, নিঃস্বদের ও পথচারীদের জন্যে। যেনো সম্পদ কেবল মাত্র তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়। রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তবে তোমরা তা গ্রহণ করো আর যা নিষেধ করেন, তবে তোমরা তা থেকে বিরত থাকো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিফল দানে কঠোর। (৫৯. আল হাশর : ৭)

মহিলাটি বললো, “হাঁ, নিশ্চয়ই পড়েছি।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজ করতে নিষেধ করেছেন।” তখন মহিলা বললো, “আমার মনে হয় আপনার পরিবারও এ কাজ করে।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি যাও এবং ভালমতো দেখে এসো।” এরপর মহিলা গেলো এবং ভালভাবে দেখে এলো। কিন্তু তার দেখার কিছুই দেখতে পেলো না। তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “যদি আমার স্ত্রী এমন করতো, তবে সে আমার সঙ্গে একত্র থাকতে পারতো না। আমি চাই না যে, আমি তোমাদের পিছনে আড়ালে গিয়ে, এমন কাজ করি, যে কাজের প্রতি আমি তোমাদেরকে নিষেধ করে থাকি। আমি যতটুকু সাধ্যমত করতে পারি, ততটুকু তোমাদেরকে সংস্কার করতে চাই, এ ছাড়া আমি অন্য কিছুই চাই না।”

قَالَ يَٰقَوۡمِ أَرَءَيۡتُمۡ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٖ مِّن رَّبِّي وَرَزَقَنِي مِنۡهُ رِزۡقًا حَسَنٗاۚ وَمَآ أُرِيدُ أَنۡ أُخَالِفَكُمۡ إِلَىٰ مَآ أَنۡهَىٰكُمۡ عَنۡهُۚ إِنۡ أُرِيدُ إِلَّا ٱلۡإِصۡلَٰحَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُۚ وَمَا تَوۡفِيقِيٓ إِلَّا بِٱللَّهِۚ عَلَيۡهِ تَوَكَّلۡتُ وَإِلَيۡهِ أُنِيبُ٨٨
শুআইব বললেন, “হে আমার জাতি! তোমরা কি ভেবে দেখেছো যে, আমি যদি আমার প্রভু আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম জীবিকা আমাকে দান করে থাকেন, তবে কি আমি আল্লাহর অবাধ্য হবো? আমি চাই না যে, আমি তোমাদের পিছনে আড়ালে গিয়ে, এমন কাজ করি, যে কাজের প্রতি আমি তোমাদেরকে নিষেধ করে থাকি। আমি যতটুকু সাধ্যমত করতে পারি, ততটুকু তোমাদেরকে সংস্কার করতে চাই, এ ছাড়া আমি অন্য কিছুই চাই না। কেবল মাত্র আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত আমার কাজ করার কোনো সামর্থ্য নাই। আমি তাঁর উপরেই নির্ভর করি আর আমি তাঁর দিকেই অভিমুখী। (১১. হুদ : ৮৮) [মুসনাদে আহমাদ : ৪০১০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4011 OK

(৪০১১)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৭১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا سَيَّارٌ وَمُغِيرَةُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ خَصْلَتَانِ يَعْنِي إِحْدَاهُمَا سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْأُخْرَى مِنْ نَفْسِي مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَجْعَلُ لِلَّهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ وَأَنَا أَقُولُ مَنْ مَاتَ وَهُوَ لَا يَجْعَلُ لِلَّهِ نِدًّا وَلَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

দুটি কথা এমন আছে, যার একটি আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি এবং অন্যটি আমি নিজের পক্ষ থেকে বলেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো, তাহলে তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” আর আমি বলেছি, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০১১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4012 OK

(৪০১২)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫০৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعِفَّةَ وَالْغِنَى


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করতেন,


اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعِفَّةَ وَالْغِنَى


“হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পথনির্দেশ, আল্লাহভীতি, চারিত্রিক উৎকর্ষতা ও সচ্ছলতার জন্যে প্রার্থনা করছি।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৪০১২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4013 OK

(৪০১৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৯৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ شِمْرٍ عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ سَعْدِ بْنِ الْأَخْرَمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَتَّخِذُوا الضَّيْعَةَ فَتَرْغَبُوا فِي الدُّنْيَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুনিয়ায় বেশি সম্পত্তি নির্মাণ করো না। নতুবা দুনিয়ার প্রতি তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০১৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4014 OK

(৪০১৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৯৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ بِالنَّجْمِ وَسَجَدَ الْمُسْلِمُونَ إِلَّا رَجُلًا مِنْ قُرَيْشٍ أَخَذَ كَفًّا مِنْ تُرَابٍ فَرَفَعَهُ إِلَى جَبْهَتِهِ فَسَجَدَ عَلَيْهِ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَرَأَيْتُهُ بَعْدُ قُتِلَ كَافِرًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা নাজমের শেষে সিজদা করলেন এবং সকল মুসলমানও সেজদা করলেন। কুরাইশের একজন ব্যক্তি ব্যতীত, যে এক মুঠো মাটি নিয়ে তার কপালের দিকে উঠলো এবং তার উপর সিজদা করলো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, পরে আমি তাকে কাফির হিসাবে নিহত হতে দেখেছি।

[মুসনাদে আহমাদ : ৪০১৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4015 OK

(৪০১৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৯৭] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاءً إِلَّا قَدْ أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা যত প্রকারের রোগ সৃষ্টি করেছেন, তিনি প্রতিটি রোগেরই প্রতিষেধক সৃষ্টি করেছেন। যারা তা জানে, তারা তা জানে আর যারা তা জানে না, তারা তা জানে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০১৫]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



4016 OK

(৪০১৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৮৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْهَيْثَمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى الظُّهْرَ خَمْسًا فَقِيلَ زِيدَ فِي الصَّلَاةِ قِيلَ صَلَّيْتَ خَمْسًا فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যোহরের নামায চার রাকাতের পরিবর্তে পাঁচ রাকাত পড়ালেন। কেউ জিজ্ঞেস করলো যে, “আপনি পাঁচ রাকাত নামায পড়ালেন, নামাযের রাকাত বেড়েছে কি না?” এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুটি সাহু সিজদা করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০১৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4017 OK

(৪০১৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৩২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنْتُ مُسْتَتِرًا بِسِتَارِ الْكَعْبَةِ فَجَاءَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ قُرَشِيٌّ وَخَتَنَاهُ ثَقَفِيَّانِ أَوْ ثَقَفِيٌّ وَخَتَنَاهُ قُرَشِيَّانِ كَثِيرٌ شَحْمُ بُطُونِهِمْ قَلِيلٌ فِقْهُ قُلُوبِهِمْ فَتَكَلَّمُوا بِكَلَامٍ لَمْ أَسْمَعْهُ فَقَالَ أَحَدُهُمْ أَتَرَوْنَ اللَّهَ يَسْمَعُ كَلَامَنَا هَذَا فَقَالَ الْآخَرُ أُرَانَا إِذَا رَفَعْنَا أَصْوَاتَنَا سَمِعَهُ وَإِذَا لَمْ نَرْفَعْهَا لَمْ يَسْمَعْ فَقَالَ الْآخَرُ إِنْ سَمِعَ مِنْهُ شَيْئًا سَمِعَهُ كُلَّهُ قَالَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَا أَبْصَارُكُمْ وَلَا جُلُودُكُمْ إِلَى قَوْلِهِ ذَلِكُمْ ظَنُّكُمْ الَّذِي ظَنَنْتُمْ بِرَبِّكُمْ أَرْدَاكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ مِنْ الْخَاسِرِينَق


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমি কাবার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে ছিলাম। আর তিনজন লোক এলো। দুইজন সাকাফী ও একজন কুরাইশী অথবা দুইজন কুরাইশী ও একজন সাকাফী। তাদের পেটে চর্বি ছিলো বেশি, কিন্তু তাদের অন্তরে বুঝার ক্ষমতা ছিলো কম। তাদের একজন বললো, “তোমাদের অভিমত কী? আমরা যা বলছি, আল্লাহ কি সবই শুনতে পান?” দ্বিতীয় ব্যক্তি বললো, “হ্যাঁ শোনেন, যদি আমরা উচ্চৈঃস্বরে বলি। আমরা চুপি চুপি বললে তিনি শোনেন না।” তৃতীয় জন বললো, “যদি তিনি উচ্চৈঃস্বরে বললে শোনেন, তবে নিচু স্বরে বললেও শুনবেন।” আমি তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেএর কাছে উল্লেখ করেছিলাম এবং এরই প্রক্ষিতে আল্লাহ নিম্মোক্ত আয়াত নাযিল করলেন,

وَمَا كُنتُمۡ تَسۡتَتِرُونَ أَن يَشۡهَدَ عَلَيۡكُمۡ سَمۡعُكُمۡ وَلَآ أَبۡصَٰرُكُمۡ وَلَا جُلُودُكُمۡ وَلَٰكِن ظَنَنتُمۡ أَنَّ ٱللَّهَ لَا يَعۡلَمُ كَثِيرٗا مِّمَّا تَعۡمَلُونَ٢٢
আর তোমরা পাপ কাজ করার সময় কোনো কিছু গোপন করতে না, এ ধারণার বশবর্তী হয়ে যে, তোমাদের কান, তোমাদের চোখ ও তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না। বরং তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করো তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না। (৪১. হা-মীম সেজদাহ / ফুসসিলাত : ২২)
وَذَٰلِكُمۡ ظَنُّكُمُ ٱلَّذِي ظَنَنتُم بِرَبِّكُمۡ أَرۡدَىٰكُمۡ فَأَصۡبَحۡتُم مِّنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ٢٣
তোমাদের প্রভু সম্পর্কে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছো। (৪১. হা-মীম সেজদাহ / ফুসসিলাত : ২৩) [মুসনাদে আহমাদ : ৪০১৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4018 OK

(৪০১৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُهُ مَرَّةً رَفَعَهُ ثُمَّ تَرَكَهُ رَأَى أَمِيرًا أَوْ رَجُلًا سَلَّمَ تَسْلِيمَتَيْنِ فَقَالَ أَنَّى عَلِقَهَا


হজরত আবু মুয়াম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন গভর্নরকে বা একজন সাধারণ লোককে দুবার সালাম দিতে দেখে বললেন, “তুমি কোথা থেকে এটা শিখেছো?” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০১৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4019 OK

(৪০১৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪০৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ شَقَّ ذَلِكَ عَلَى النَّاسِ وَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَيُّنَا لَا يَظْلِمُ نَفْسَهُ قَالَ إِنَّهُ لَيْسَ الَّذِي تَعْنُونَ أَلَمْ تَسْمَعُوا مَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ إِنَّمَا هُوَ الشِّرْكُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো,
ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَلَمۡ يَلۡبِسُوٓاْ إِيمَٰنَهُم بِظُلۡمٍ أُوْلَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلۡأَمۡنُ وَهُم مُّهۡتَدُونَ٨٢
যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে আর তাদের বিশ্বাসকে শিরক দ্বারা মিশ্রিত করে না, সুতরাং এদের জন্যেই আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা রয়েছে আর এরাই হচ্ছে সুপথগামী। (৬. আল আন-আম : ৮২)

তখন আমরা বললাম, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে নিজের উপর যুলম করেনি?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা যা ভাবছো, ব্যাপারটি আসলে তা নয়। বরং তাদের ঈমানকে ‘যুলম’ অর্থাৎ শিরক দ্বারা কলূষিত করেনি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি? তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন,”
وَإِذۡ قَالَ لُقۡمَٰنُ لِٱبۡنِهِۦ وَهُوَ يَعِظُهُۥ يَٰبُنَيَّ لَا تُشۡرِكۡ بِٱللَّهِۖ إِنَّ ٱلشِّرۡكَ لَظُلۡمٌ عَظِيمٞ١٣
যখন লুকমান তাঁর পুত্রকে উপদেশ দিচ্ছিলেন ও লুকমান তাঁর পুত্রকে বললেন, “হে আমার পুত্র, তুমি আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার করা মহা অন্যায়।” (৩১. লোকমান : ১৩) [মুসনাদে আহমাদ : ৪০১৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4020 OK

(৪০২০)

হাদিস দেখুন [৩১:১৪০৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ وَأَبُو سَعِيدٍ قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدِّهِ وَعَنْ يَسَارِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدِّهِ


হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন ভাবে সালাম দিতেন যে, যখন তিনি ডান দিকে সালাম দিতেন তখন তার ডান মুখের শুভ্রতা দেখা যেতো এবং যখন তিনি বাম দিকে সালাম দিতেন, তখন তার বাম মুখের শুভ্রতা দেখা যেতো। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০২০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4021 OK

(৪০২১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ رَجُلٍ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ امْشُوا إِلَى الْمَسْجِدِ فَإِنَّهُ مِنْ الْهَدْيِ وَسُنَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

তোমরা মসজিদের দিকে হেঁটে যাও, কারণ এটাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা ও সুন্নাতের অংশ। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০২১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4022 OK

(৪০২২)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬৯৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي الْوَلِيدُ بْنُ الْعَيْزَارِ بْنِ حُرَيْثٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو الشَّيْبَانِيَّ قَالَ حَدَّثَنَا صَاحِبُ هَذِهِ الدَّارِ وَأَشَارَ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللَّهِ وَلَمْ يُسَمِّهِ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ قَالَ الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا قَالَ قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ قَالَ قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ ثُمَّ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ فَحَدَّثَنِي بِهِنَّ وَلَوْ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, “কোন আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সময়মত নামায পড়া।” আমি বললাম, “তারপর কোনটি?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তারপর পিতা-মাতার সম্মান করা।” আমি বললাম, “তারপর কোনটি?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তারপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে জিহাদ?” আমি যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরো জিজ্ঞাসা করতাম, তবে তিনি আমাকে আরো বলতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০২২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4023 OK

(৪০২৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪২১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ خَيْثَمَةَ عَنْ رَجُلٍ مِنْ قَوْمِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا سَمَرَ بَعْدَ الصَّلَاةِ يَعْنِي الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ إِلَّا لِأَحَدِ رَجُلَيْنِ مُصَلٍّ أَوْ مُسَافِرٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এশার নামাজের পরে কারো কথা বলার কোনো অনুমতি নেই। শুধু মাত্র ঐ দুইজন ব্যক্তি ছাড়া, যে ব্যক্তি নামাজ পড়ছে বা যে ব্যক্তি ভ্রমণ করছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০২৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4024 OK

(৪০২৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৩৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ الثَّيِّبُ الزَّانِي وَالنَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। এমন মুসলিম ব্যক্তিকে, এই ​​তিনটি ক্ষেত্রের কোনো একটি ছাড়া হত্যা করা বৈধ নয়, (১) যে ব্যক্তি বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচার করে, অথবা (২) কোনো ব্যক্তিকে হত্যার বিনিময়ে তাকে হত্যা করা, অথবা (৩) যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে, মুসলিমদের প্রধান জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪০২৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4025 OK

(৪০২৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ انْتَهَيْتُ إِلَى أَبِي جَهْلٍ يَوْمَ بَدْرٍ وَقَدْ ضُرِبَتْ رِجْلُهُ وَهُوَ صَرِيعٌ وَهُوَ يَذُبُّ النَّاسَ عَنْهُ بِسَيْفٍ لَهُ فَقُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَخْزَاكَ يَا عَدُوَّ اللَّهِ فَقَالَ هَلْ هُوَ إِلَّا رَجُلٌ قَتَلَهُ قَوْمُهُ قَالَ فَجَعَلْتُ أَتَنَاوَلُهُ بِسَيْفٍ لِي غَيْرِ طَائِلٍ فَأَصَبْتُ يَدَهُ فَنَدَرَ سَيْفُهُ فَأَخَذْتُهُ فَضَرَبْتُهُ بِهِ حَتَّى قَتَلْتُهُ قَالَ ثُمَّ خَرَجْتُ حَتَّى أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَأَنَّمَا أُقَلُّ مِنْ الْأَرْضِ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ آللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ قَالَ فَرَدَّدَهَا ثَلَاثًا قَالَ قُلْتُ آللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ قَالَ فَخَرَجَ يَمْشِي مَعِي حَتَّى قَامَ عَلَيْهِ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَخْزَاكَ يَا عَدُوَّ اللَّهِ هَذَا كَانَ فِرْعَوْنَ هَذِهِ الْأُمَّةِ قَالَ وَزَادَ فِيهِ أَبِي عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَنَفَّلَنِي سَيْفَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি বদর যুদ্ধে আবু জেহেলের কাছে পৌঁছলাম এবং সে আহত অবস্থায় পড়ে ছিলো। তার পা কেটে ফেলা হয়েছিলো এবং সে তার তরবারি দিয়ে লোকদের তাড়িয়ে দিচ্ছিলো। আমি তাকে বললাম, “আল্লাহর শুকরিয়া, হে আল্লাহর শত্রু, সে তোমাকে অপদস্থ করেছে।” আবু জেহেল বললো, “কোনো ব্যক্তি কি কখনো তার নিজের লোকদের হাতে নিহত হয়েছে?” আমি আমার ভোঁতা তরবারি দিয়ে তাকে আঘাত করতে লাগলাম। এটি তার হাতে আঘাত করে এবং তার তলোয়ার পড়ে যায়। আমি তার তরবারি ধরে তাকে ছুরিকাঘাত করি, যতক্ষণ না আমি তাকে হত্যা করি। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললাম যে, “আবু জেহেল নিহত হয়েছে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর নামে শপথ করো, যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।” আমি তিনবার আল্লাহর নামে শপথ করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর শুকরিয়া, যিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং এককভাবে সমস্ত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।” অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার সাথে হাঁটলেন, আবু জেহেলের কাছে গেলেন ও দাঁড়ালেন এবং বললেন, “আল্লাহর শুকরিয়া, হে আল্লাহর শত্রু, সে তোমাকে অপদস্থ করেছে। তুমি এই উম্মতের ফেরাউন ছিলো।” এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর তরবারি আমাকে পুরস্কার হিসেবে দিয়েছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০২৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



4026 OK

(৪০২৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৪০২৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ انْتَهَيْتُ إِلَى أَبِي جَهْلٍ يَوْمَ بَدْرٍ وَقَدْ ضُرِبَتْ رِجْلُهُ وَهُوَ صَرِيعٌ وَهُوَ يَذُبُّ النَّاسَ عَنْهُ بِسَيْفٍ لَهُ فَقُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَخْزَاكَ يَا عَدُوَّ اللَّهِ فَقَالَ هَلْ هُوَ إِلَّا رَجُلٌ قَتَلَهُ قَوْمُهُ قَالَ فَجَعَلْتُ أَتَنَاوَلُهُ بِسَيْفٍ لِي غَيْرِ طَائِلٍ فَأَصَبْتُ يَدَهُ فَنَدَرَ سَيْفُهُ فَأَخَذْتُهُ فَضَرَبْتُهُ بِهِ حَتَّى قَتَلْتُهُ قَالَ ثُمَّ خَرَجْتُ حَتَّى أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَأَنَّمَا أُقَلُّ مِنْ الْأَرْضِ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ آللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ قَالَ فَرَدَّدَهَا ثَلَاثًا قَالَ قُلْتُ آللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ قَالَ فَخَرَجَ يَمْشِي مَعِي حَتَّى قَامَ عَلَيْهِ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَخْزَاكَ يَا عَدُوَّ اللَّهِ هَذَا كَانَ فِرْعَوْنَ هَذِهِ الْأُمَّةِ قَالَ وَزَادَ فِيهِ أَبِي عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَنَفَّلَنِي سَيْفَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি বদর যুদ্ধে আবু জেহেলের কাছে পৌঁছলাম এবং সে আহত অবস্থায় পড়ে ছিলো। তার পা কেটে ফেলা হয়েছিলো এবং সে তার তরবারি দিয়ে লোকদের তাড়িয়ে দিচ্ছিলো। আমি তাকে বললাম, “আল্লাহর শুকরিয়া, হে আল্লাহর শত্রু, সে তোমাকে অপদস্থ করেছে।” আবু জেহেল বললো, “কোনো ব্যক্তি কি কখনো তার নিজের লোকদের হাতে নিহত হয়েছে?” আমি আমার ভোঁতা তরবারি দিয়ে তাকে আঘাত করতে লাগলাম। এটি তার হাতে আঘাত করে এবং তার তলোয়ার পড়ে যায়। আমি তার তরবারি ধরে তাকে ছুরিকাঘাত করি, যতক্ষণ না আমি তাকে হত্যা করি। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললাম যে, “আবু জেহেল নিহত হয়েছে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর নামে শপথ করো, যিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।” আমি তিনবার আল্লাহর নামে শপথ করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর শুকরিয়া, যিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং এককভাবে সমস্ত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।” অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার সাথে হাঁটলেন, আবু জেহেলের কাছে গেলেন ও দাঁড়ালেন এবং বললেন, “আল্লাহর শুকরিয়া, হে আল্লাহর শত্রু, সে তোমাকে অপদস্থ করেছে। তুমি এই উম্মতের ফেরাউন ছিলো।” এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর তরবারি আমাকে পুরস্কার হিসেবে দিয়েছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০২৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস