

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا أَحْسَنْتُ فِي الْإِسْلَامِ أُؤَاخَذُ بِمَا عَمِلْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ إِذَا أَحْسَنْتَ فِي الْإِسْلَامِ لَمْ تُؤَاخَذْ بِمَا عَمِلْتَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَإِذَا أَسَأْتَ فِي الْإِسْلَامِ أُخِذْتَ بِالْأَوَّلِ وَالْآخِرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে বললো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি ইসলাম গ্রহণ করি এবং ভালো কাজ করি, তাহলে কি জাহিলিয়াতের সময় আমি যা করেছি, তার জন্যে আমাকে দোষারোপ করা হবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যখন তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছো এবং নেক আমল করেছো, তখন জাহেলিয়াতের আমলের জন্যে তোমাকে দোষারোপ করা হবে না। তবে তুমি যদি ইসলাম গ্রহণের পর খারাপ কাজ করো, তবে তোমাকে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল খারাপ কাজের জন্যে দায়ী করা হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৭৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ حَسَنٍ الْأَشْقَرُ حَدَّثَنَا أَبُو كُدَيْنَةَ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ يَهُودِيٌّ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ جَالِسٌ قَالَ كَيْفَ تَقُولُ يَا أَبَا الْقَاسِمِ يَوْمَ يَجْعَلُ اللَّهُ السَّمَاءَ عَلَى ذِهْ وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ وَالْأَرْضَ عَلَى ذِهْ وَالْمَاءَ عَلَى ذِهْ وَالْجِبَالَ عَلَى ذِهْ وَسَائِرَ الْخَلْقِ عَلَى ذِهْ كُلُّ ذَلِكَ يُشِيرُ بِأَصَابِعِهِ قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ইহুদি পাদরী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, যখন তিনি বসে ছিলেন। ঐ ইহুদি পাদরী বললো, “হে আবুল কাসিম, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা আকাশ মণ্ডলীকে এক আঙ্গুলে, জমিন সমূহকে এক আঙ্গুলে, পাহাড় ও গাছপালাকে এক আঙ্গুলে; পানি ও মাটি এক আঙ্গুলে এবং সকল প্রকার সৃষ্টিকে এক আঙ্গুলে তুলে ধরবেন। তারপর এগুলো দুলিয়ে বলবেন, আমিই বাদশাহ, আমিই অধিপতি।” আর সে প্রতিবার তার আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলো। পাদরীর কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিস্ময়ের সাথে তার সত্যায়ন স্বরূপ হাসলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি অবতীর্ণ করলেন,
وَمَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦ وَٱلۡأَرۡضُ جَمِيعٗا قَبۡضَتُهُۥ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَٱلسَّمَٰوَٰتُ مَطۡوِيَّٰتُۢ بِيَمِينِهِۦۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ٦٧
তারা আল্লাহকে যথার্থ রূপে সম্মান করে না। অথচ কিয়ামতের দিনে সব ভূমন্ডল থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং নভোমন্ডল ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে থাকবে। আল্লাহ পবিত্র আর তারা যাকে আল্লাহর সাথে অংশীদার করে, তা থেকে আল্লাহ অনেক উর্ধ্বে। [৩৯ : ৬৭]
[মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৭৮]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ وُلَاةً وَإِنَّ وَلِيِّي مِنْهُمْ أَبِي وَخَلِيلُ رَبِّي إِبْرَاهِيمُ قَالَ ثُمَّ قَرَأَ إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِإِبْرَاهِيمَ إِلَى آخِرِ الْآيَةَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নবীগণের মধ্য হতে প্রত্যেক নবীরই কিছু সংখ্যক বন্ধু থাকেন। আমার বন্ধু হচ্ছেন, আমার বাবা ও আমার প্রতিপালকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইবরাহীম (আঃ)।” তারপর তিনি পাঠ করলেন,
إِنَّ أَوۡلَى ٱلنَّاسِ بِإِبۡرَٰهِيمَ لَلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُ وَهَٰذَا ٱلنَّبِيُّ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْۗ وَٱللَّهُ وَلِيُّ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ٦٨
নিশ্চয় তাঁরাই ইব্রাহীমের নিকটতম লোক ছিলেন, যাঁরা ইব্রাহীমকে অনুসরণ করে চলতেন। আর মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে এরা সবাই ইব্রাহীমকে অনুসরণ করে চলে। বস্তুত আল্লাহ হচ্ছেন বিশ্বাসীদের অভিভাবক। (৩. আল ইমরান : ৬৮) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৭৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ فَقَالَ نَاوِلْنِي أَحْجَارًا قَالَ فَنَاوَلْتُهُ سَبْعَةَ أَحْجَارٍ فَقَالَ لِي خُذْ بِزِمَامِ النَّاقَةِ قَالَ ثُمَّ عَادَ إِلَيْهَا فَرَمَى بِهَا مِنْ بَطْنِ الْوَادِي بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ وَهُوَ رَاكِبٌ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ وَقَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ حَجًّا مَبْرُورًا وَذَنْبًا مَغْفُورًا ثُمَّ قَالَ هَاهُنَا كَانَ يَقُومُ الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
হজরত আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজ উপলক্ষে আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে ছিলাম। যখন তিনি জামরাহ আকাবার কাছে পৌঁছলেন, তিনি বললেন, “আমাকে কিছু নুড়ি দাও।” আমি তাকে সাতটি নুড়ি দিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, “উটের লাগাম ধরো।” অতঃপর তিনি পিছু হটলেন এবং বাতিন ওয়াদী থেকে জামরাহ আকাবার দিকে সওয়ারী অবস্থায় সাতটি নুড়ি নিক্ষেপ করলেন এবং প্রতিটি নুড়ির উপর তাকবীর বলতে থাকলেন। এবং দোয়া করতে থাকলেন, “হে আল্লাহ! এটাকে কবুল হজ্জ করুন এবং গুনাহ মাফ করুন।” তারপর বাম হাতের দিকে বাইতুল্লাহ এবং ডান হাতের দিকে মিনা রেখে বললেন, “এটি সেই স্থান, যেখানে সূরা বাকারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে উপর নাযিল হয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৮০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَعْوَرِ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ آكِلُ الرِّبَا وَمُوكِلُهُ وَكَاتِبُهُ وَشَاهِدَاهُ إِذَا عَلِمُوا بِهِ وَالْوَاشِمَةُ وَالْمُسْتَوْشِمَةُ لِلْحُسْنِ وَلَاوِي الصَّدَقَةِ وَالْمُرْتَدُّ أَعْرَابِيًّا بَعْدَ هِجْرَتِهِ مَلْعُونُونَ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ فَذَكَرْتُهُ لِإِبْرَاهِيمَ فَقَالَ حَدَّثَنِي عَلْقَمَةُ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ آكِلُ الرِّبَا وَمُوكِلُهُ سَوَاءٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক ঐ ব্যক্তির উপর, যে সুদ খায়, যে সুদ প্রদান করে, যে সুদ লিখায় সাক্ষী দেয় এবং যে সুদ লিখে রাখে (অর্থাৎ, সুদখোর, সুদদাতা, সুদের সাক্ষী, সুদের লেখক)। যে ব্যক্তি হিল্লা করে, যার জন্যে হিল্লা করা হয়, যে ব্যক্তি যাকাত দেয় না, যে ব্যক্তি উল্কি অঙ্কন করে, যে ব্যক্তি উল্কি করায়, যে মহিলা নিজ স্বামী ব্যতীত অন্যের নিকট সৌন্দর্য্য প্রকাশ করে এবং এমন গ্রামবাসী যারা হিজরতের পর মুরতাদ হয়ে যায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৮১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ الصَّادِقُ الْمُصَدَّقُ إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ فِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا ثُمَّ يَكُونُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ يَكُونُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ يُرْسَلُ إِلَيْهِ الْمَلَكُ فَيَنْفُخُ فِيهِ الرُّوحَ وَيُؤْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ رِزْقِهِ وَأَجَلِهِ وَعَمَلِهِ وَشَقِيٌّ أَمْ سَعِيدٌ فَوَالَّذِي لَا إِلَهَ غَيْرُهُ إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلَّا ذِرَاعٌ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ فَيَدْخُلُهَا وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلَّا ذِرَاعٌ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَدْخُلُهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি ‘সত্যবাদী’ এবং ‘সত্যবাদী বলে স্বীকৃত’ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, “তোমাদের প্রত্যেকেই আপন আপন মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত (শুক্র হিসেবে) জমা থাকে। তারপর ঐরকম চল্লিশ দিন রক্তপিন্ড, তারপর ঐরকম চল্লিশ দিন গোশত পিন্ডাকারে থাকে। তারপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তাকে রিযিক, মৃত্যু, দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য- এ চারটি বিষয় লিখার জন্যে আদেশ দেওয়া হয়। আল্লাহর কসম! তোমাদের মাঝে কোনো ব্যক্তি জাহান্নামীদের মতো আমাল করতে থাকে। এমনকি তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র একহাত বা এক গজের তফাৎ থাকে। এমন সময় তাক্দীর তার ওপর প্রাধান্য লাভ করে আর তখন সে জান্নাতীদের আমাল করা শুরু করে দেয়। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর কোনো ব্যক্তি জান্নাতীদের আমাল করতে থাকে। এমন কি তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত বা দুইহাত তফাৎ থাকে। এমন সময় তাক্দীর তার উপর প্রাধান্য লাভ করে আর অমনি সে জাহান্নামীদের আমাল শুরু করে দেয়। ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৮২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا إِلَّا كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الْأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا لِأَنَّهُ كَانَ أَوَّلَ مَنْ سَنَّ الْقَتْلَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুনিয়াতে যখন কাউকে অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয়, তখন তার পাপের একটি অংশ হজরত আদম (আঃ)-এর প্রথম পুত্র কাবিলের উপরও বর্তায়, কারণ সেই হত্যার প্রথা প্রথম চালু করেছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৮৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ صَاحِبِهِمَا فَإِنَّ ذَلِكَ يَحْزُنُهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি তোমরা কখনো তিনজন ব্যক্তি একত্রে থাকো, তবে তোমাদের দুইজন ব্যক্তি, তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে (একান্তে) কথা বলবে না, কারণ এটি তাকে দুঃখ দিবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৮৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنِ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَجُلًا أَصَابَ مِنْ امْرَأَةٍ قُبْلَةً فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُهُ عَنْ كَفَّارَتِهَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِي هَذِهِ فَقَالَ لِمَنْ عَمِلَ كَذَا مِنْ أُمَّتِي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমু দিলো। অতঃপর অনুতপ্ত হয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কাফফারা সম্পর্কে জানতে চাইলো। সে বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি বাগানে একজন মহিলাকে পেলাম। আমি ওকে আমার দিকে টেনে নিয়ে আমার বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছি। ব্যভিচার ছাড়া সব কিছুই করেছি, এখন আমার কি করা উচিত?” তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করলেন,
وَأَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ طَرَفَيِ ٱلنَّهَارِ وَزُلَفٗا مِّنَ ٱلَّيۡلِۚ إِنَّ ٱلۡحَسَنَٰتِ يُذۡهِبۡنَ ٱلسَّيِّـَٔاتِۚ ذَٰلِكَ ذِكۡرَىٰ لِلذَّٰكِرِينَ١١٤
হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ফজর ও আসর আর মাগরীব ও এশার সময় নামায প্রতিষ্ঠিত করুন। নিশ্চয় ভালো কাজ, মন্দ কাজকে দূর করে দেয়। এ কুরআন তাদের জন্যে একটি স্মরণীয় উপদেশ, যারা আল্লাহকে স্মরণ করে। (১১. হুদ : ১১৪)
লোকটি জিজ্ঞেস করলো, “হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই আদেশ কি শুধু মাত্র আমার জন্যে?” রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “না। বরং এই বিধান আমার উম্মতের এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যে, যে ব্যক্তি এ ধরনের কাজ করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৮৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدُقُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صِدِّيقًا وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ كَذَّابًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে সত্যবাদী হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। কেননা সত্যবাদিতা কল্যাণের পথে নিয়ে যায় এবং কল্যাণ জান্নাতের পথে নিয়ে যায়। একজন মানুষ সত্য কথা বলতে থাকে, যতক্ষণ না সে আল্লাহর কাছে সত্যবাদী হিসেবে লেখা হয়। তোমরা নিজেদেরকে মিথ্যা থেকে বাঁচাও। কেননা মিথ্যাবাদিতা পাপের পথে নিয়ে যায় এবং পাপ জাহান্নামের পথে নিয়ে যায়। একজন মানুষ মিথ্যা কথা বলতে থাকে, যতক্ষণ না সে আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী হিসেবে লেখা হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৮৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ مَنْ اشْتَرَى مُحَفَّلَةً وَرُبَّمَا قَالَ شَاةً مُحَفَّلَةً فَلْيَرُدَّهَا وَلْيَرُدَّ مَعَهَا صَاعًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যে ব্যক্তি এমন পশু কিনবে যেটিকে দুধ ছিলো। আর সে যদি ঐ দুধ দুয়ে ব্যবহার করে। এখন সে যদি ঐ পশুটি মালিককে পুনরায় ফিরত দিতে চায়, তাহলে সে যেনো এক সা গম দেয় (যাতে তা ব্যবহৃত দুধের পরিমাণের সমান হয়)। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৮৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

وَنَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ تَلَقِّي الْبُيُوعِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাজারে পণ্য আসার আগে, শহরের বাইরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা করে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মালামাল নিতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৮৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مُجَالِدٍ حَدَّثَنَا عَامِرٌ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ حَكَمٍ يَحْكُمُ بَيْنَ النَّاسِ إِلَّا حُبِسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَلَكٌ آخِذٌ بِقَفَاهُ حَتَّى يَقِفَهُ عَلَى جَهَنَّمَ ثُمَّ يَرْفَعَ رَأْسَهُ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَإِنْ قَالَ الْخَطَأَ أَلْقَاهُ فِي جَهَنَّمَ يَهْوِي أَرْبَعِينَ خَرِيفًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুনিয়ার এমন কোনো বিচারক নেই, যে মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তবে কিয়ামতের দিন তাকে আটক করা হবে এবং একজন ফেরেশতা তার মাথার পেছন ধরে তাকে জাহান্নামের প্রান্তে নিয়ে যাবে। অতঃপর সে মাথা তুলে আল্লাহর দিকে তাকাবে। সেখান থেকে যদি বলা হয় যে, সে পাপী, তাহলে সেই ফেরেশতা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে, যেখানে সে চল্লিশ বছরের গভীরে জাহান্নামে গড়িয়ে পড়বে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৮৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَلِيَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يُوَاطِئُ اسْمُهُ اسْمِي قَالَ أَبِي حَدَّثَنَا بِهِ فِي بَيْتِهِ فِي غُرْفَتِهِ أُرَاهُ سَأَلَهُ بَعْضُ وَلَدِ جَعْفَرِ بْنِ يَحْيَى أَوْ يَحْيَى بْنِ خَالِدِ بْنِ يَحْيَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ততক্ষণ পর্যন্ত এই পৃথিবী শেষ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না, আরবরা এমন একজন ব্যক্তির দ্বারা শাসিত হবে, যার নাম আমার নামের সঙ্গে মিলে যাবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৯০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

قَالَ قَرَأْتُ عَلَى يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ هِشَامٍ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ خِلَاسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ قَالَ أُتِيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ فَسُئِلَ عَنْ رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَلَمْ يَكُنْ سَمَّى لَهَا صَدَاقًا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَلَمْ يَقُلْ فِيهَا شَيْئًا فَرَجَعُوا ثُمَّ أَتَوْهُ فَسَأَلُوهُ فَقَالَ سَأَقُولُ فِيهَا بِجَهْدِ رَأْيِي فَإِنْ أَصَبْتُ فَاللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يُوَفِّقُنِي لِذَلِكَ وَإِنْ أَخْطَأْتُ فَهُوَ مِنِّي لَهَا صَدَاقُ نِسَائِهَا وَلَهَا الْمِيرَاثُ وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ أَشْجَعَ فَقَالَ أَشْهَدُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَضَى بِذَلِكَ قَالَ هَلُمَّ مَنْ يَشْهَدُ لَكَ بِذَلِكَ فَشَهِدَ أَبُو الْجَرَّاحِ بِذَلِكَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا هِشَامٌ الْمَعْنَى إِلَّا أَنَّهُ قَالَ فِي بَرْوَعَ بِنْتِ وَاشِقٍ فَقَالَ هَلُمَّ شَاهِدَاكَ عَلَى هَذَا فَشَهِدَ أَبُو سِنَانٍ وَالْجَرَّاحُ رَجُلَانِ مِنْ أَشْجَعَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার কিছু লোক আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো, যে একজন মহিলাকে বিয়ে করেছে এবং মহর নির্ধারন করেনি। তারপর তার সাথে সহবাস করার আগেই সে মারা গেলো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাতে কোনো সাড়া না দেওয়ায়, তারা চলে গেলো। অতঃপর তারা ফিরে এসে তাঁকে আবার জিজ্ঞাসা করলে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমি আমার নিজের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কথা বলবো। যদি আমি তা সঠিক হয়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, এবং যদি আমি ভুল করি, তবে তা আমার পক্ষ থেকে। সে তার সমবয়সীদের মতো মহরের অধিকারী হবে, তার মিরাছেরও অধিকার রয়েছে এবং তাকে ইদ্দাহ পালন করতে হবে।” আশজার এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এ ব্যাপারে একটি রায় দিয়েছেন।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমার কাছে এমন কাউকে নিয়ে এসো, যে তোমার সাথে এর সাক্ষ্য দেবে।” তখন আবুল জাররাহ এর সাক্ষ্য দিয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৯১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ قُلْنَا السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ قَبْلَ عِبَادِهِ السَّلَامُ عَلَى جِبْرِيلَ السَّلَامُ عَلَى مِيكَائِيلَ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ فَسَمِعَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلَامُ فَإِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَقُلْ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِذَا قَالَهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ يَتَخَيَّرُ بَعْدُ مِنْ الدُّعَاءِ مَا شَاءَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামাযে বসতাম, তখন আমরা বলতাম, “আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তাঁর বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, জিবরীলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, মিকাঈলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, অমুকের উপর, অমুকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।” অতঃপর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ স্বয়ং শান্তি, সুতরাং তোমাদের কেউ যখন নামাযে বসে, তখন সে যেনো এই দুয়া বলে, অতঃপর সে যে দুয়া করতে চায়, সে তা করতে পারে।”
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِذَا قَالَهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
“সকল সম্ভাষণ (মৌখিক ইবাদত), সকল (শারিরিক) ইবাদত ও সকল পবিত্রতা (আর্থিক ইবাদত) আল্লাহর জন্যে। হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো প্রভু নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রসূল।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৯২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الذَّنْبِ أَكْبَرُ قَالَ أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ قَالَ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ قَالَ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ أَنْ تُزَانِيَ حَلِيلَةَ جَارِكَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقَ ذَلِكَ وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, “আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি?” তিনি বললেন, “কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “এরপর কোনটি?” তিনি জবাব দিলেন, “তোমার সন্তানকে এ আশংকায় হত্যা করা যে, তারা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে।” আমি বললাম, “এরপর কোনটি?” তিনি বললেন, “এরপর হচ্ছে তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা।” তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ কথার সমর্থনে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়,
وَٱلَّذِينَ لَا يَدۡعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقۡتُلُونَ ٱلنَّفۡسَ ٱلَّتِي حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلۡحَقِّ وَلَا يَزۡنُونَۚ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ يَلۡقَ أَثَامٗا٦٨
তারাই আল্লাহর প্রকৃত বান্দা, যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য উপাস্যকে ডাকে না। তারা এমন কোনো লোককে হত্যা করে না, যাকে হত্যা করা আল্লাহ নিষেধ করেছেন, তবে এ ব্যতীত যে, ন্যায় সঙ্গত ভাবে তারা হত্যা করে ও তারা ব্যভিচার করে না। যে ব্যক্তি এ ধরনের কাজ করে, সে বড় ধরনের পাপ অর্জন করে। (২৫. আল ফুরকান : ৬৮) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৯৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا أَحْسَنْتُ فِي الْإِسْلَامِ أُؤَاخَذُ بِمَا عَمِلْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ إِذَا أَحْسَنْتَ فِي الْإِسْلَامِ لَمْ تُؤَاخَذْ بِمَا عَمِلْتَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَإِذَا أَسَأْتَ فِي الْإِسْلَامِ أُخِذْتَ بِالْأَوَّلِ وَالْآخِرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে বললো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি ইসলাম গ্রহণ করি এবং ভালো কাজ করি, তাহলে কি জাহিলিয়াতের সময় আমি যা করেছি, তার জন্যে আমাকে দোষারোপ করা হবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যখন তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছো এবং নেক আমল করেছো, তখন জাহেলিয়াতের আমলের জন্যে তোমাকে দোষারোপ করা হবে না। তবে তুমি যদি ইসলাম গ্রহণের পর খারাপ কাজ করো, তবে তোমাকে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল খারাপ কাজের জন্যে দায়ী করা হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৯৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ إِنِّي تَرَكْتُ فِي الْمَسْجِدِ رَجُلًا يُفَسِّرُ الْقُرْآنَ بِرَأْيِهِ يَقُولُ فِي هَذِهِ الْآيَةِ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ إِلَى آخِرِهَا يَغْشَاهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ دُخَانٌ يَأْخُذُ بِأَنْفَاسِهِمْ حَتَّى يُصِيبَهُمْ مِنْهُ كَهَيْئَةِ الزُّكَامِ قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَنْ عَلِمَ عِلْمًا فَلْيَقُلْ بِهِ وَمَنْ لَمْ يَعْلَمْ فَلْيَقُلْ اللَّهُ أَعْلَمُ فَإِنَّ مِنْ فِقْهِ الرَّجُلِ أَنْ يَقُولَ لِمَا لَا يَعْلَمُ اللَّهُ أَعْلَمُ إِنَّمَا كَانَ هَذَا لِأَنَّ قُرَيْشًا لَمَّا اسْتَعْصَتْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَا عَلَيْهِمْ بِسِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ فَأَصَابَهُمْ قَحْطٌ وَجَهِدُوا حَتَّى أَكَلُوا الْعِظَامَ وَجَعَلَ الرَّجُلُ يَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ فَيَنْظُرُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ السَّمَاءِ كَهَيْئَةِ الدُّخَانِ مِنْ الْجَهْدِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ يَغْشَى النَّاسَ هَذَا عَذَابٌ أَلِيمٌ فَأَتَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَسْقِ اللَّهَ لِمُضَرَ فَإِنَّهُمْ قَدْ هَلَكُوا قَالَ فَدَعَا لَهُمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ فَلَمَّا أَصَابَهُمْ الْمَرَّةَ الثَّانِيَةَ عَادُوا فَنَزَلَتْ يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَى إِنَّا مُنْتَقِمُونَ يَوْمَ بَدْرٍ
হজরত মাসরূক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমরা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের মাঝে এক পার্শ্বদেশ হয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে জনৈক লোক এসে বললো, “হে আবূ আবদুর রহমান! কিনদা দ্বারপ্রান্তে এক বক্তা বলছেন, ‘কুরআনে বর্ণিত ধোঁয়ার কাহিনীটি ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে। তা প্রবাহিত হয়ে কাফিরদের শ্বাসরুদ্ধ করে দিবে এবং এতে মুমিনদের সর্দির মতো অবস্থা হবে’।” এ কথা শুনে তিনি গোস্বা হয়ে বসলেন এবং বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। তোমাদের কেউ কোনো কথার জ্ঞান থাকলে, সে যেন তাই বলে। আর যে না জানে, সে যেনো বলে, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। কেননা প্রকৃত জ্ঞানের কথা হচ্ছে এই যে, যে বিষয়ে তার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে বলবে, আল্লাহই অধিক ভালো জানেন। কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছেন,”
قُلۡ مَآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ أَجۡرٖ وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلۡمُتَكَلِّفِينَ٨٦
আপনি বলুন, “আমি এ আহবানের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না আর আমি ছলনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই। (৩৮. ছোয়াদ : ৮৬)
“প্রকৃত অবস্থা তো এই যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন লোকেদের মাঝে দীনবিমুখতা দেখলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! ইউসূফ (আঃ)-এর সময়ের ন্যায় অভাব-অনটনের সাতটি বছর তাদের উপর আপতিত করুন।’ তারপর তাদের উপর অভাব-অনটন এমনভাবে পতিত হলো যে, তা সব কিছুকে নিঃশেষ করে দিলো। ফলে ক্ষুধার জ্বালায় তারা চামড়া ও মৃত দেহ খাদ্য উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করলো। এমনকি তাদের কোনো লোক আকাশের দিকে তাকালে শুধূ ধোঁয়ার মতই দেখতে পেতো। অতঃপর আবূ সুফিয়ান (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, ‘হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তো আল্লাহর আদেশ মেনে চলেন এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, ভালো আদেশ দান করেন। কিন্তু আপনার কওমের লোকেরা তো মরে যাচ্ছে। আপনি তাদের জন্যে আল্লাহর নিকট দুআ করুন।’ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বললেন,
”
فَٱرۡتَقِبۡ يَوۡمَ تَأۡتِي ٱلسَّمَآءُ بِدُخَانٖ مُّبِينٖ١٠
অতএব আপনি সেই দিনের অপেক্ষা করুন, যখন আকাশ প্রকাশ্য ধোঁয়া নিয়ে নেমে আসবে, (৪৪. আদ দুখান : ১০)
يَغۡشَى ٱلنَّاسَۖ هَٰذَا عَذَابٌ أَلِيمٞ١١
যা মানুষকে ঘিরে ফেলবে। এটা এক বেদনাদায়ক শাস্তি হবে। (৪৪. আদ দুখান : ১১)
رَّبَّنَا ٱكۡشِفۡ عَنَّا ٱلۡعَذَابَ إِنَّا مُؤۡمِنُونَ١٢
সেই দিন মানুষ বলবে, “হে আমাদের প্রভু, আপনি আমাদের উপর থেকে শাস্তি সরিয়ে নিন, নিশ্চয় আমরা এখন বিশ্বাসী হয়ে গেছি।” (৪৪. আদ দুখান : ১২)
إِنَّا كَاشِفُواْ ٱلۡعَذَابِ قَلِيلًاۚ إِنَّكُمۡ عَآئِدُونَ١٥
যদি আমি তোমাদের উপর থেকে শাস্তি কিছুটা সরিয়ে দেই, নিশ্চয় তোমরা পুনরায় পূর্বের অস্থায় ফিরে যাবে। (৪৪. আদ দুখান : ১৫)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আখিরাতের শাস্তি কি লাঘব করা হবে? আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন,”
يَوۡمَ نَبۡطِشُ ٱلۡبَطۡشَةَ ٱلۡكُبۡرَىٰٓ إِنَّا مُنتَقِمُونَ١٦
যেদিন আমি প্রবলভাবে পাকড়াও করবো, নিশ্চয় সেই দিন আমি কঠোর প্রতিশোধ গ্রহণ করবো। (৪৪. আদ দুখান : ১৬)
“অনুরূপ এ আয়াতে نَبۡطِشُ দ্বারা বাদরের যুদ্ধ উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কাজেই দুখান (ধোয়ার নিদর্শন), আল বাত্বশাহ (পাকড়াও), লিযাম (আবশ্যিক শাস্তি) এবং রূম (রোমকদের পরাজয়ের কাহিনী) এসব অতীত হয়ে গেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৯৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْأَسْوَدِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ أَقْرَأَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ فَقَالَ رَجُلٌ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُدَّكِرٍ أَوْ مُذَّكِّرٍ قَالَ أَقْرَأَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُدَّكِرٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এই আয়াতটি শিখিয়েছেন,
وَلَقَدۡ يَسَّرۡنَا ٱلۡقُرۡءَانَ لِلذِّكۡرِ فَهَلۡ مِن مُّدَّكِرٖ١٧
আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্যে সহজ করে দিয়েছি। অতএব, কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি? (৫৪. আল ক্বামার : ১৭)
এক ব্যক্তি বললো, হে আবু আবদ আল-রহমান! مُّدَّكِرٖ শব্দটি কি د না ذ -এর সাথে? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে مُّدَّكِرٖ বলা শিখিয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৯৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ صَاحِبِهِمَا فَإِنَّ ذَلِكَ يَحْزُنُهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি তোমরা কখনো তিনজন ব্যক্তি একত্রে থাকো, তবে তোমাদের দুইজন ব্যক্তি, তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে (একান্তে) কথা বলবে না, কারণ এটি তাকে দুঃখ দিবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৯৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا بَهْزٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَنَائِمَ حُنَيْنٍ بِالْجِعِرَّانَةِ قَالَ فَازْدَحَمُوا عَلَيْهِ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِ اللَّهِ بَعَثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى قَوْمِهِ فَكَذَّبُوهُ وَشَجُّوهُ فَجَعَلَ يَمْسَحُ الدَّمَ عَنْ جَبِينِهِ وَيَقُولُ رَبِّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ جَبْهَتَهُ يَحْكِي الرَّجُلَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জারানা নামক স্থানে হুনাইনের অভিযানের গনীমতের মাল বণ্টন করছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক নবীর কথা বর্ণনা করছিলেন, যাকে তার সম্প্রদায়ের দ্বারা প্রহার করা হয়েছিলো এবং তিনি তার মুখ থেকে রক্ত মুছে দিয়ে বলেছিলেন, “প্রভু আমার সম্প্রদায়কে ক্ষমা করুন, কারণ তারা আমাকে চেনে না।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “সেই দৃশ্য এখনও আমার চোখের সামনে রয়েছে যে, ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কপাল মুছছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৯৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدُقُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صِدِّيقًا وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ كَذَّابًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে সত্যবাদী হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। কেননা সত্যবাদিতা কল্যাণের পথে নিয়ে যায় এবং কল্যাণ জান্নাতের পথে নিয়ে যায়। একজন মানুষ সত্য কথা বলতে থাকে, যতক্ষণ না সে আল্লাহর কাছে সত্যবাদী হিসেবে লেখা হয়। তোমরা নিজেদেরকে মিথ্যা থেকে বাঁচাও। কেননা মিথ্যাবাদিতা পাপের পথে নিয়ে যায় এবং পাপ জাহান্নামের পথে নিয়ে যায়। একজন মানুষ মিথ্যা কথা বলতে থাকে, যতক্ষণ না সে আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী হিসেবে লেখা হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৯৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنِي قَيْسٌ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ حِكْمَةً فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا النَّاسَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুই জন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো ব্যাপারে হিংসা করা ঠিক নয়। (১) প্রথম ব্যক্তি, আল্লাহ তাকে সম্পদ দিয়েছেন এবং তাকে শক্তি দিয়েছেন সৎপথে উহা ব্যয় করতে। (২) আর দ্বিতীয় ব্যক্তি, আল্লাহ তাকে হিকমত তথা প্রজ্ঞা দিয়েছেন, সে তা দ্বারা বিচার ফায়সালা করে বা সিদ্ধান্ত নেয় এবং অন্যকে উহা শিক্ষা দান করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯০০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى الْجَابِرُ أَبُو الْحَارِثِ التَّيْمِيُّ أَنَّ أَبَا مَاجدٍ رَجُلٌ مِنْ بَنِي حَنِيفَةَ حَدَّثَهُ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ سَأَلْنَا نَبِيَّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ السَّيْرِ بِالْجِنَازَةِ فَقَالَ السَّيْرُ مَا دُونَ الْخَبَبِ فَإِنْ يَكُ خَيْرًا تُعْجَلْ إِلَيْهِ أَوْ قَالَ لِتُعْجَلْ إِلَيْهِ وَإِنْ يَكُ سِوَى ذَاكَ فَبُعْدًا لِأَهْلِ النَّارِ الْجِنَازَةُ مَتْبُوعَةٌ وَلَا تَتْبَعُ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَقَدَّمَهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানাজা নিয়ে হাঁটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “লোকেরা যেনো জানাজার অনুসরণ করে আর জানাজার অগ্রগামী হওয়া লোকদের উচিত নয়। ঐ ব্যক্তি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি জানাজার সামনে চলে যায়। জানাজা নিয়ে দ্রুত হাঁটা উচিত, কেননা মৃত ব্যক্তি যদি ভালো হয়, তবে তুমি তাকে তার কল্যাণের স্থানে দ্রুত এগিয়ে দিলে আর যদি সে ভালো না হয়, তবে সে একটি আপদ, যার থেকে তুমি দ্রুত মুক্তি পেলে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯০১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنِي زُبَيْدٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ وَشَقَّ الْجُيُوبَ وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ
হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “ঐ ব্যক্তি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি (মৃত ব্যক্তির জন্যে শোক প্রকাশে) গাল চাপড়িয়ে কাঁদে, জামা ছিঁড়ে চিৎকার করে কাঁদে ও জাহেলিয়াতের মতো চিৎকার করে কাঁদে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯০২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَبَابًا لَيْسَ لَنَا شَيْءٌ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা যুবকরা একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। আমাদের কিছুই ছিলো না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন যে, “হে যুবকরা! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেনো বিয়ে করে নেয়, কেননা তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং চরিত্র রক্ষায় অধিক কার্যকরী। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেনো রোজা রাখে, কেননা তা তার জন্যে ঢাল স্বরূপ হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯০৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ عَنْ قَيْسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَيْسَ لَنَا نِسَاءٌ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا نَسْتَخْصِي فَنَهَانَا عَنْهُ ثُمَّ رُخِّصَ لَنَا بَعْدُ فِي أَنْ نَتَزَوَّجَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ إِلَى أَجَلٍ ثُمَّ قَرَأَ عَبْدُ اللَّهِ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে জিহাদে অংশ গ্রহণ করতাম। ঐ সময় আমরা তরুণ ছিলাম। আমাদের সঙ্গে আমাদের বিবিগণ থাকতো না। তাই আমরা বললাম, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা কি খাসি হয়ে যাবো?” তিনি আমাদেরকে তা করতে নিষেধ করলেন। আর তিনি আমাদেরকে কোনো মহিলার সঙ্গে একটি কাপড়ের বদলে হলেও বিয়ে করার অনুমতি দিলেন এবং আমাদেরকে এই আয়াত পাঠ করে শোনালেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تُحَرِّمُواْ طَيِّبَٰتِ مَآ أَحَلَّ ٱللَّهُ لَكُمۡ وَلَا تَعۡتَدُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُعۡتَدِينَ٨٧
ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! তোমরা ঐ সব ভালো বিষয়গুলো নিষিদ্ধ করো না, যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে বৈধ করেছেন এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘন-কারীদেরকে ভালোবাসেন না। (৫. আল মায়েদাহ : ৮৭) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯০৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِي مُوسَى الْهِلَالِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَجُلًا كَانَ فِي سَفَرٍ فَوَلَدَتْ امْرَأَتُهُ فَاحْتُبِسَ لَبَنُهَا فَجَعَلَ يَمُصُّهُ وَيَمُجُّهُ فَدَخَلَ حَلْقَهُ فَأَتَى أَبَا مُوسَى فَقَالَ حُرِّمَتْ عَلَيْكَ قَالَ فَأَتَى ابْنَ مَسْعُودٍ فَسَأَلَهُ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُحَرِّمُ مِنْ الرَّضَاعِ إِلَّا مَا أَنْبَتَ اللَّحْمَ وَأَنْشَزَ الْعَظْمَ
হজরত আবূ মূসা আল-হিলালী থেকে তার পিতা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি সফরে ছিলো। ঐ সময় তার স্ত্রীর একটি সন্তানের জন্ম দেয়। কিন্তু তার দুধ আসে না। তাই স্বামী তার দুধ চুষতে শুরু করলো এবং দুধ থুথু দিয়ে বের করে দিচ্ছিলো, কিন্তু তার কিছু অংশ তার পেটে প্রবেশ করলো। ঐ ব্যক্তি আবূ মূসার কাছে এসে একথা জানালে, আবূ মূসা বললো, “সে তোমার জন্যে হারাম হয়ে গেছে।” ঐ ব্যক্তি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলো এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘স্তন্যপান করার কারনে কোনো ব্যক্তি মাহরাম হয় না, তবে যে দুধ পান করলে মাংস ও হাড়ের বৃদ্ধি ঘটায়, তা মাহরাম করে’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯০৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَلَّمَنَا خُطْبَةَ الْحَاجَةِ الْحَمْدُ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ يَقْرَأُ ثَلَاثَ آيَاتٍ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا ثُمَّ تَذْكُرُ حَاجَتَكَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ وَأَبِي الْأَحْوَصِ قَالَ وَهَذَا حَدِيثُ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُطْبَتَيْنِ خُطْبَةَ الْحَاجَةِ وَخُطْبَةَ الصَّلَاةِ الْحَمْدُ لِلَّهِ أَوْ إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে খুতবায়ে হাজাত শিক্ষা দিলেন ও বললেন, এই দুয়া পাঠ করার পর তোমরা তোমাদের প্রয়োজন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো।
الْحَمْدُ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, আমরা তাঁর সাহায্য ও তাঁর ক্ষমা চাই। আমরা নিজেদের আত্মার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ দেখান সে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না এবং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।”
এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনটি আয়াত পাঠ করলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ١٠٢
ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যেমন তাঁকে ভয় করা উচিত। আর তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (৩. আল ইমরান : ১০২)
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ وَخَلَقَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا وَبَثَّ مِنۡهُمَا رِجَالٗا كَثِيرٗا وَنِسَآءٗۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِي تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلۡأَرۡحَامَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيۡكُمۡ رَقِيبٗا١
ওহে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের প্রভু আল্লাহকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর আদম থেকে তার জোড়া হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন। তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামের দ্বারা তোমরা পরস্পরের নিকট অধিকারের দাবী করো ও রক্তের সর্ম্পকীয় আত্বীয়দের ব্যাপারেও তোমরা সতর্ক হও। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। (৪. আন নিসা : ১)
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَقُولُواْ قَوۡلٗا سَدِيدٗا٧٠
ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো ও তোমরা সঠিক কথা বলো। (৩৩. আল আহযাব : ৭০)
يُصۡلِحۡ لَكُمۡ أَعۡمَٰلَكُمۡ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۗ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدۡ فَازَ فَوۡزًا عَظِيمًا٧١
তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজকে সংশোধন করবেন ও তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের পাপ সমূহকে ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করে। (৩৩. আল আহযাব : ৭১) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৯০৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস