হজরত মাসরূক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমরা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের মাঝে এক পার্শ্বদেশ হয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে জনৈক লোক এসে বললো, “হে আবূ আবদুর রহমান! কিনদা দ্বারপ্রান্তে এক বক্তা বলছেন, ‘কুরআনে বর্ণিত ধোঁয়ার কাহিনীটি ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে। তা প্রবাহিত হয়ে কাফিরদের শ্বাসরুদ্ধ করে দিবে এবং এতে মুমিনদের সর্দির মতো অবস্থা হবে’।” এ কথা শুনে তিনি গোস্বা হয়ে বসলেন এবং বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। তোমাদের কেউ কোনো কথার জ্ঞান থাকলে, সে যেন তাই বলে। আর যে না জানে, সে যেনো বলে, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। কেননা প্রকৃত জ্ঞানের কথা হচ্ছে এই যে, যে বিষয়ে তার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে বলবে, আল্লাহই অধিক ভালো জানেন। কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছেন,”
قُلۡ مَآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ أَجۡرٖ وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلۡمُتَكَلِّفِينَ٨٦আপনি বলুন, “আমি এ আহবানের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না আর আমি ছলনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই। (৩৮. ছোয়াদ : ৮৬)
“প্রকৃত অবস্থা তো এই যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন লোকেদের মাঝে দীনবিমুখতা দেখলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! ইউসূফ (আঃ)-এর সময়ের ন্যায় অভাব-অনটনের সাতটি বছর তাদের উপর আপতিত করুন।’ তারপর তাদের উপর অভাব-অনটন এমনভাবে পতিত হলো যে, তা সব কিছুকে নিঃশেষ করে দিলো। ফলে ক্ষুধার জ্বালায় তারা চামড়া ও মৃত দেহ খাদ্য উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করলো। এমনকি তাদের কোনো লোক আকাশের দিকে তাকালে শুধূ ধোঁয়ার মতই দেখতে পেতো। অতঃপর আবূ সুফিয়ান (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, ‘হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তো আল্লাহর আদেশ মেনে চলেন এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, ভালো আদেশ দান করেন। কিন্তু আপনার কওমের লোকেরা তো মরে যাচ্ছে। আপনি তাদের জন্যে আল্লাহর নিকট দুআ করুন।’ এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বললেন,
”
فَٱرۡتَقِبۡ يَوۡمَ تَأۡتِي ٱلسَّمَآءُ بِدُخَانٖ مُّبِينٖ١٠অতএব আপনি সেই দিনের অপেক্ষা করুন, যখন আকাশ প্রকাশ্য ধোঁয়া নিয়ে নেমে আসবে, (৪৪. আদ দুখান : ১০)
يَغۡشَى ٱلنَّاسَۖ هَٰذَا عَذَابٌ أَلِيمٞ١١যা মানুষকে ঘিরে ফেলবে। এটা এক বেদনাদায়ক শাস্তি হবে। (৪৪. আদ দুখান : ১১)
رَّبَّنَا ٱكۡشِفۡ عَنَّا ٱلۡعَذَابَ إِنَّا مُؤۡمِنُونَ١٢সেই দিন মানুষ বলবে, “হে আমাদের প্রভু, আপনি আমাদের উপর থেকে শাস্তি সরিয়ে নিন, নিশ্চয় আমরা এখন বিশ্বাসী হয়ে গেছি।” (৪৪. আদ দুখান : ১২)
إِنَّا كَاشِفُواْ ٱلۡعَذَابِ قَلِيلًاۚ إِنَّكُمۡ عَآئِدُونَ١٥যদি আমি তোমাদের উপর থেকে শাস্তি কিছুটা সরিয়ে দেই, নিশ্চয় তোমরা পুনরায় পূর্বের অস্থায় ফিরে যাবে। (৪৪. আদ দুখান : ১৫)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আখিরাতের শাস্তি কি লাঘব করা হবে? আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন,”
يَوۡمَ نَبۡطِشُ ٱلۡبَطۡشَةَ ٱلۡكُبۡرَىٰٓ إِنَّا مُنتَقِمُونَ١٦যেদিন আমি প্রবলভাবে পাকড়াও করবো, নিশ্চয় সেই দিন আমি কঠোর প্রতিশোধ গ্রহণ করবো। (৪৪. আদ দুখান : ১৬)
“অনুরূপ এ আয়াতে
نَبۡطِشُ দ্বারা বাদরের যুদ্ধ উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কাজেই দুখান (ধোয়ার নিদর্শন), আল বাত্বশাহ (পাকড়াও), লিযাম (আবশ্যিক শাস্তি) এবং রূম (রোমকদের পরাজয়ের কাহিনী) এসব অতীত হয়ে গেছে।”