(২৬) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৩৩৬৮-৪২১৬), সর্বমোট হাদিসঃ ৮৪৯টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৪২৯টি]



3787 OK

(৩৭৮৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ قَالَ حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَتَلَ حَيَّةً فَلَهُ سَبْعُ حَسَنَاتٍ وَمَنْ قَتَلَ وَزَغًا فَلَهُ حَسَنَةٌ وَمَنْ تَرَكَ حَيَّةً مَخَافَةَ عَاقِبَتِهَا فَلَيْسَ مِنَّا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি একটি সাপ মেরে ফেলবে, সে সাতটি নেকী পাবে। যে ব্যক্তি একটি ব্যাঙ মারবে, সে একটি নেকী পাবে। আর যে ব্যক্তি একটি সাপকে তার ক্ষতির ভয়ে, তাকে মারা থেকে বিরত থাকে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৮৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3788 OK
View Quran

(৩৭৮৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ حَدَّثَنَا أَشْعَثُ عَنْ كُرْدُوسٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ مَرَّ الْمَلَأُ مِنْ قُرَيْشٍ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعِنْدَهُ خَبَّابٌ وَصُهَيْبٌ وَبِلَالٌ وَعَمَّارٌ فَقَالُوا يَا مُحَمَّدُ أَرَضِيتَ بِهَؤُلَاءِ فَنَزَلَ فِيهِمْ الْقُرْآنُ وَأَنْذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْ يُحْشَرُوا إِلَى رَبِّهِمْ إِلَى قَوْلِهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالظَّالِمِينَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার কুরাইশ নেতাদের একটি দল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। এ সময় খাব্বাব, সুহাইব, বিলাল ও আম্মার, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। কুরাইশ নেতারা তাদের দেখে বললো, “হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি এই লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট?” অতঃপর তাদের সম্পর্কে পবিত্র কোরানের এই আয়াত গুলো অবতীর্ণ হয়,

وَأَنذِرۡ بِهِ ٱلَّذِينَ يَخَافُونَ أَن يُحۡشَرُوٓاْ إِلَىٰ رَبِّهِمۡ لَيۡسَ لَهُم مِّن دُونِهِۦ وَلِيّٞ وَلَا شَفِيعٞ لَّعَلَّهُمۡ يَتَّقُونَ٥١
আপনি এ কুরআনের দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করুন, যারা ভয় করে যে, তাদেরকে তাদের প্রভুর কাছে সমবেত করা হবে। তাদের জন্যে তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো অভিভাবক ও কোনো সুপারিশকারী নেই। সুতরাং তারা যেনো আল্লাহকে ভয় করে। (৬. আল আন-আম : ৫১)

وَلَا تَطۡرُدِ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُۥۖ مَا عَلَيۡكَ مِنۡ حِسَابِهِم مِّن شَيۡءٖ وَمَا مِنۡ حِسَابِكَ عَلَيۡهِم مِّن شَيۡءٖ فَتَطۡرُدَهُمۡ فَتَكُونَ مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ٥٢
যারা তাদের প্রভুর সন্তুষ্টি পাওয়ার জন্যে সকালে ও সন্ধ্যায় তাঁকে ডাকে, আপনি তাদেরকে তাড়িয়ে দিবেন না। আপনার উপরে তাদের হিসাবের সামান্যতম কোনো দায়িত্ব নেই। আর তাদের উপরেও আপনার হিসাবের সামান্যতম কোনো দায়িত্ব নেই। সুতরাং আপনি যদি তাদেরকে তাড়িয়ে দেন, তবে আপনি অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন। (৬. আল আন-আম : ৫২)

وَكَذَٰلِكَ فَتَنَّا بَعۡضَهُم بِبَعۡضٖ لِّيَقُولُوٓاْ أَهَٰٓؤُلَآءِ مَنَّ ٱللَّهُ عَلَيۡهِم مِّنۢ بَيۡنِنَآۗ أَلَيۡسَ ٱللَّهُ بِأَعۡلَمَ بِٱلشَّٰكِرِينَ٥٣
এইভাবে আমি তাদের এক দলকে অন্য দলের দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি, যেনো অবিশ্বাসীরা বলে যে, “এরাই কি ঐ সকল গরীব বিশ্বাসীগণ, যাদেরকে আমাদের মধ্যে থেকে আল্লাহ অনুগ্রহ করলেন?” তাহলে তাদের ধারনা কি এই যে, আল্লাহ কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে ভালো জানেন না? (৬. আল আন-আম : ৫৩)

وَإِذَا جَآءَكَ ٱلَّذِينَ يُؤۡمِنُونَ بِـَٔايَٰتِنَا فَقُلۡ سَلَٰمٌ عَلَيۡكُمۡۖ كَتَبَ رَبُّكُمۡ عَلَىٰ نَفۡسِهِ ٱلرَّحۡمَةَ أَنَّهُۥ مَنۡ عَمِلَ مِنكُمۡ سُوٓءَۢا بِجَهَٰلَةٖ ثُمَّ تَابَ مِنۢ بَعۡدِهِۦ وَأَصۡلَحَ فَأَنَّهُۥ غَفُورٞ رَّحِيمٞ٥٤
যারা আমার বাণী সমূহের প্রতি বিশ্বাস করে, তারা যখন আপনার কাছে আসে, তখন আপনি তাদেরকে বলুন, “তোমাদের উপরে শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের প্রভু তোমাদের প্রতি করুণা করাকে, তাঁর নিজের উপরে লিখে নিয়েছেন; যে ব্যক্তি তোমাদের মধ্যে অজ্ঞতার কারনে পাপ কাজ করে, তারপর ঐ পাপ কাজ করার পরে তওবা করে নেয় ও সৎকাজ করে, তবে আল্লাহ তো তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল, করুণাময়।” (৬. আল আন-আম : ৫৪)

وَكَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ ٱلۡأٓيَٰتِ وَلِتَسۡتَبِينَ سَبِيلُ ٱلۡمُجۡرِمِينَ٥٥
এইভাবে আমি আমার বাণী সমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি, যেনো অপরাধীদের পথ ও বিশ্বাসীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে উঠে। (৬. আল আন-আম : ৫৫)

قُلۡ إِنِّي نُهِيتُ أَنۡ أَعۡبُدَ ٱلَّذِينَ تَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِۚ قُل لَّآ أَتَّبِعُ أَهۡوَآءَكُمۡ قَدۡ ضَلَلۡتُ إِذٗا وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلۡمُهۡتَدِينَ٥٦
আপনি বলুন, “আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে তোমরা উপাসনা করো, নিশ্চয় তাদেরকে উপাসনা করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।” আপনি বলুন, “আমি তোমাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করি না, কেননা তখন আমি অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবো ও আমি সুপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত থাকবো না।” (৬. আল আন-আম : ৫৬)

قُلۡ إِنِّي عَلَىٰ بَيِّنَةٖ مِّن رَّبِّي وَكَذَّبۡتُم بِهِۦۚ مَا عِندِي مَا تَسۡتَعۡجِلُونَ بِهِۦٓۚ إِنِ ٱلۡحُكۡمُ إِلَّا لِلَّهِۖ يَقُصُّ ٱلۡحَقَّۖ وَهُوَ خَيۡرُ ٱلۡفَٰصِلِينَ٥٧
আপনি বলুন, “নিশ্চয় আমি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপরে রয়েছি, অথচ তোমরা সেই বিষয়কে মিথ্যা বলছো। আমার কাছে ঐ শাস্তি নেই, যে শাস্তি তোমরা দ্রুত ঘটাতে চাচ্ছো। নিশ্চয় সিদ্ধান্ত কেবল মাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো অধিকারে নয়। আল্লাহ সত্য বর্ণনা করেন আর তিনিই শ্রেষ্ঠ মীমাংসাকারী।” (৬. আল আন-আম : ৫৭)

قُل لَّوۡ أَنَّ عِندِي مَا تَسۡتَعۡجِلُونَ بِهِۦ لَقُضِيَ ٱلۡأَمۡرُ بَيۡنِي وَبَيۡنَكُمۡۗ وَٱللَّهُ أَعۡلَمُ بِٱلظَّٰلِمِينَ٥٨
আপনি বলুন, “যদি এমন হতো যে, আমার কাছে ঐ শাস্তি থাকতো, যা তোমরা দ্রুত ঘটাতে চাচ্ছো, তাহলে অবশ্যই আমার মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সব বিষয়ের মীমাংসা হয়ে যেতো। আল্লাহ অন্যায়কারীদের সম্পর্কে ভালোই জানেন।” (৬. আল আন-আম : ৫৮) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৮৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3789 OK
View Quran

(৩৭৮৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ عَنْ قَيْسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَيْسَ لَنَا نِسَاءٌ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا نَسْتَخْصِي فَنَهَانَا عَنْهُ ثُمَّ رُخِّصَ لَنَا بَعْدُ فِي أَنْ نَتَزَوَّجَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ إِلَى أَجَلٍ ثُمَّ قَرَأَ عَبْدُ اللَّهِ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে জিহাদে অংশ গ্রহণ করতাম। ঐ সময় আমরা তরুণ ছিলাম। আমাদের সঙ্গে আমাদের বিবিগণ থাকতো না। তাই আমরা বললাম, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা কি খাসি হয়ে যাবো?” তিনি আমাদেরকে তা করতে নিষেধ করলেন। আর তিনি আমাদেরকে কোনো মহিলার সঙ্গে একটি কাপড়ের বদলে হলেও বিয়ে করার অনুমতি দিলেন এবং আমাদেরকে এই আয়াত পাঠ করে শোনালেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تُحَرِّمُواْ طَيِّبَٰتِ مَآ أَحَلَّ ٱللَّهُ لَكُمۡ وَلَا تَعۡتَدُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُعۡتَدِينَ٨٧
ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! তোমরা ঐ সব ভালো বিষয়গুলো নিষিদ্ধ করো না, যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে বৈধ করেছেন এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘন-কারীদেরকে ভালোবাসেন না। (৫. আল মায়েদাহ : ৮৭) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৮৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3790 OK

(৩৭৯০)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬১৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ أَكْثَرْنَا الْحَدِيثَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ ثُمَّ غَدَوْنَا إِلَيْهِ فَقَالَ عُرِضَتْ عَلَيَّ الْأَنْبِيَاءُ اللَّيْلَةَ بِأُمَمِهَا فَجَعَلَ النَّبِيُّ يَمُرُّ وَمَعَهُ الثَّلَاثَةُ وَالنَّبِيُّ وَمَعَهُ الْعِصَابَةُ وَالنَّبِيُّ وَمَعَهُ النَّفَرُ وَالنَّبِيُّ لَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ حَتَّى مَرَّ عَلَيَّ مُوسَى مَعَهُ كَبْكَبَةٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَأَعْجَبُونِي فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ فَقِيلَ لِي هَذَا أَخُوكَ مُوسَى مَعَهُ بَنُو إِسْرَائِيلَ قَالَ قُلْتُ فَأَيْنَ أُمَّتِي فَقِيلَ لِيَ انْظُرْ عَنْ يَمِينِكَ فَنَظَرْتُ فَإِذَا الظِّرَابُ قَدْ سُدَّ بِوُجُوهِ الرِّجَالِ ثُمَّ قِيلَ لِيَ انْظُرْ عَنْ يَسَارِكَ فَنَظَرْتُ فَإِذَا الْأُفُقُ قَدْ سُدَّ بِوُجُوهِ الرِّجَالِ فَقِيلَ لِي أَرَضِيتَ فَقُلْتُ رَضِيتُ يَا رَبِّ رَضِيتُ يَا رَبِّ قَالَ فَقِيلَ لِي إِنَّ مَعَ هَؤُلَاءِ سَبْعِينَ أَلْفًا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِدًا لَكُمْ أَبِي وَأُمِّي إِنْ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَكُونُوا مِنْ السَّبْعِينَ الْأَلْفِ فَافْعَلُوا فَإِنْ قَصَّرْتُمْ فَكُونُوا مِنْ أَهْلِ الظِّرَابِ فَإِنْ قَصَّرْتُمْ فَكُونُوا مِنْ أَهْلِ الْأُفُقِ فَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ ثَمَّ نَاسًا يَتَهَاوَشُونَ فَقَامَ عُكَّاشَةُ بْنُ مِحْصَنٍ فَقَالَ ادْعُ اللَّهَ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْ السَّبْعِينَ فَدَعَا لَهُ فَقَامَ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ ادْعُ اللَّهَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَقَالَ قَدْ سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ قَالَ ثُمَّ تَحَدَّثْنَا فَقُلْنَا مَنْ تَرَوْنَ هَؤُلَاءِ السَّبْعُونَ الْأَلْفُ قَوْمٌ وُلِدُوا فِي الْإِسْلَامِ لَمْ يُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا حَتَّى مَاتُوا فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ هُمْ الَّذِينَ لَا يَكْتَوُونَ وَلَا يَسْتَرْقُونَ وَلَا يَتَطَيَّرُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদা রাতে আমরা লোকেরা দীর্ঘ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কথা বললাম। যখন সকাল হলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আজ রাতে বিভিন্ন নবীগণকে তাদের উম্মতসহ আমার সামনে পেশ করা হয়েছে। অতঃপর তখন কোন কোন নবীকে দেখলাম যে, তাঁর সঙ্গে ছোট্ট একটি দল রয়েছে; আর কাউকে দেখলাম, তাঁর সঙ্গে একজন কিংবা দুজন লোক আবার কেউ এমনও ছিলেন যে, তাঁর সাথে কেউ নেই। হঠাৎ আমার সামনে এক বিরাট দল দেখা গেলো। মনে হলো, এরা আমার উম্মাত। যা দেখে আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? আমাকে বলা হলো, ইনি আপনার ভাই মূসা এবং তার সাথে বনী ইসরাঈলের লোকেরা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমার উম্মত কোথায়? আমাকে আমার ডানদিকে তাকাতে বলা হলো। তখন একটা ঢিবি মানুষের মুখে পূর্ণ হয়ে উঠলো। আমাকে তখন আমার বাম দিকে তাকাতে বলা হলো। আমি বাম দিকে তাকিয়ে দেখলাম দিগন্ত ভরা মানুষের মুখে। তারপর আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি সন্তুষ্ট? আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমি সন্তুষ্ট, আমি সন্তুষ্ট। তখন আমাকে বলা হলো, এদের মধ্যে সত্তর হাজার এমন লোক আছে, যারা শাস্তি ব্যতীত ও হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে।” এ বলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়ালেন, অতঃপর তাঁর ঘরে চলে গেলেন। তারা উপস্থিত সহাবাগণ তখন এ হিসাব ও আযাব বিহীন জান্নাতে প্রবেশকারী কারা হবেন? এ নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। কেউ বললেন, তাঁরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহাবা। কেউ বললেন, তারা সে সব লোক যারা ইসলামের উপর জন্মলাভ করেছে এবং আল্লাহর সঙ্গে কোন প্রকার শিরক করেনি এবং তাঁরা বহু জিনিসের উল্লেখ করলেন। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের কাছে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন, “তোমরা কী নিয়ে আলোচনা করছিলে?” সবাই বিষয়টি খুলে বললেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের বললেন, “এরা সে সব লোক যারা ঝাড়ফুঁক করে না বা তা গ্রহণও করে না, পাখি উড়িয়ে শুভা-শুভের লক্ষণ মানে না বরং সর্বদাই আল্লাহর উপর নির্ভর করে।” তখন উক্কাশাহ ইবনু মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললো, “হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্যে দুআ করুন, আল্লাহ যেনো আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি তাদেরই একজন থাকবে।” তারপর আরেক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, “হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্যও দুআ করুন, আল্লাহ যেনো আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এ সুযোগ লাভে উক্কাশাহ ইবনু মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহু তোমার চাইতে অগ্রগামী হয়ে গেছে।”

[মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৯০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3791 OK

(৩৭৯১)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا حَفْصٌ يَعْنِي ابْنَ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِقَتْلِ حَيَّةٍ بِمِنًى


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনার ময়দানে একটি সাপ দেখে, সাপটিকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৯১]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



3792 OK

(৩৭৯২)

হাদিস দেখুন [৩১:৮৭৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا مُغِيرَةُ عَنْ أُمِّ مُوسَى قَالَتْ سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ابْنَ مَسْعُودٍ فَصَعِدَ عَلَى شَجَرَةٍ أَمَرَهُ أَنْ يَأْتِيَهُ مِنْهَا بِشَيْءٍ فَنَظَرَ أَصْحَابُهُ إِلَى سَاقِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ حِينَ صَعِدَ الشَّجَرَةَ فَضَحِكُوا مِنْ حُمُوشَةِ سَاقَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا تَضْحَكُونَ لَرِجْلُ عَبْدِ اللَّهِ أَثْقَلُ فِي الْمِيزَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ أُحُدٍ


আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশত্রুমে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু একটা গাছে উঠেছিলেন। তিনি তাঁকে গাছ থেকে একটা জিনিস আনতে বলেছিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু গাছে আরোহণের সময় সাহাবীগণ তার পায়ের গোছার দিকে তাকালেন। তার পায়ের গোছার শীর্ণতা দেখে তারা হাসতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা হাসছ কেনো? নিশ্চয়ই আব্দুল্লাহর পায়ের গোছা কিয়ামতের দিন দাঁড়িপাল্লায় উহুদ পাহাড়ের চেয়ে ভারি হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৯২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3793 OK

(৩৭৯৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫৩৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ عَنِ النَّزَّالِ بْنِ سَبْرَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَجُلًا يَقْرَأُ آيَةً وَسَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرَهَا فَأَتَيْتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَغَيَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ عَرَفْتُ فِي وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكَرَاهِيَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كِلَاكُمَا مُحْسِنٌ إِنَّ مَنْ قَبْلَكُمْ اخْتَلَفُوا فِيهِ فَأَهْلَكَهُمْ قَالَ شُعْبَةُ وَحَدَّثَنِي مِسْعَرٌ عَنْهُ وَرَفَعَهُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَا تَخْتَلِفُوا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমি এক ব্যক্তিকে সূরা আহকাফ পাঠ করতে শুনলাম। অথচ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অন্যভাবে তা পড়তে শুনেছি। আমি তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে গেলাম। তাঁকে এ খবর জানালাম। আমি তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারায় বিরক্তির ভাব লক্ষ্য করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা দুজনেই শুদ্ধ ভাবে পড়েছো। এ নিয়ে তোমরা কলহ বিবাদ করো না। তোমাদের পূর্বেকার জাতিগুলো তাদের পারস্পরিক বিভেদের জন্যেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৯৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3794 OK

(৩৭৯৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬৫০] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَحِقَ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدٌ أَسْوَدُ فَمَاتَ فَأُوذِنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ انْظُرُوا هَلْ تَرَكَ شَيْئًا فَقَالُوا تَرَكَ دِينَارَيْنِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيَّتَانِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

সুফফাবাসীর মধ্যে থেকে একজন কালো দাস এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলো। কিছুক্ষণ পর ঐ দাসটি মারা গেলো। এই বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানানো হলো। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা দেখো সে কিছু রেখে গেছে কি না?” লোকেরা বললো, “সে তার চাদরের মধ্যে দুই দিনার রেখে গেছে।” রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এ দুটি দিনার জাহান্নামের দুটি কয়লা।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৯৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3795 OK

(৩৭৯৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ النِّسَاءَ فَقَالَ لَهُنَّ مَا مِنْكُنَّ امْرَأَةٌ يَمُوتُ لَهَا ثَلَاثَةٌ إِلَّا أَدْخَلَهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْجَنَّةَ فَقَالَتْ أَجَلُّهُنَّ امْرَأَةً يَا رَسُولَ اللَّهِ وَصَاحِبَةُ الِاثْنَيْنِ فِي الْجَنَّةِ قَالَ وَصَاحِبَةُ الِاثْنَيْنِ فِي الْجَنَّةِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার নারীদেরকে সম্বোধন করে বললেন, “তোমাদের মধ্যে যে নারীর তিনটি সন্তান মারা গেছে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” নারীদের মধ্যে মর্যাদাবান এক মহিলা বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যার দুইটি সন্তান মারা গেছে, সেও কি বেহেশতে যাবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এমনকি যার দুইটি সন্তান মারা গেছে, সেও কি বেহেশতে যাবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৯৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3796 OK

(৩৭৯৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫৫৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزيِدَ وَيُونُسُ قَالَا حَدَّثَنَا دَاوُدُ يَعْنِي ابْنَ الْفُرَاتِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَبِي الْأَعْيَنِ الْعَبْدِيِّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ الْجُشَمِيِّ قَالَ بَيْنَمَا ابْنُ مَسْعُودٍ يَخْطُبُ ذَاتَ يَوْمٍ فَإِذَا هُوَ بِحَيَّةٍ تَمْشِي عَلَى الْجِدَارِ فَقَطَعَ خُطْبَتَهُ ثُمَّ ضَرَبَهَا بِقَضِيبِهِ أَوْ بِقَصَبَةٍ قَالَ يُونُسُ بِقَضِيبِهِ حَتَّى قَتَلَهَا ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ قَتَلَ حَيَّةً فَكَأَنَّمَا قَتَلَ رَجُلًا مُشْرِكًا قَدْ حَلَّ دَمُهُ


হজরত আবু আল-হুস জাশমী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদিন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু খুতবা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি দেয়ালে একটি সাপ দেখতে পেলেন। তখন তিনি তার খুতবা বন্ধ করে লাঠি বা বেত দিয়ে আঘাত করে সাপটি মেরে ফেললেন। অতঃপর হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি একটি সাপকে হত্যা করলো, সে যেনো একজন মুশরিক ব্যক্তিকে হত্যা করলো, যার রক্তপাত করা বৈধ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৯৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3797 OK

(৩৭৯৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৫৬০] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ وَيُونُسُ قَالَا حَدَّثَنَا دَاوُدُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَبِي الْأَعْيَنِ الْعَبْدِيِّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ الْجُشَمِيِّ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ سَأَلْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْقِرَدَةِ وَالْخَنَازِيرِ أَهِيَ مِنْ نَسْلِ الْيَهُودِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَلْعَنْ قَوْمًا قَطُّ فَمَسَخَهُمْ فَكَانَ لَهُمْ نَسْلٌ حِينَ يُهْلِكُهُمْ وَلَكِنْ هَذَا خَلْقٌ كَانَ فَلَمَّا غَضِبَ اللَّهُ عَلَى الْيَهُودِ مَسَخَهُمْ فَجَعَلَهُمْ مِثْلَهُمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, “এই বানর ও শূকরগুলো কি ইহুদিদের বংশধর?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন যে, “বানর ও শূকর আগে থেকেই পৃথিবীতে ছিলো। কিন্তু ইহুদীদের উপর যখন আল্লাহর গজব নাজিল করলেন, তখন তিনি তাদের আকার বিকৃত করে বানর ও শূকরে পরিনত করেছিলেন। আল্লাহ যে জাতিকে অভিশপ্ত করেন এবং তাদের আকার বিকৃত করেন, তিনি ঐ বিকৃত মানুষের সবাইকে পৃথিবী থেকে মিটিয়ে দেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৯৭]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



3798 OK

(৩৭৯৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬৯৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي الْوَلِيدُ بْنُ الْعَيْزَارِ بْنِ حُرَيْثٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو الشَّيْبَانِيَّ قَالَ حَدَّثَنَا صَاحِبُ هَذِهِ الدَّارِ وَأَشَارَ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللَّهِ وَلَمْ يُسَمِّهِ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ قَالَ الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا قَالَ قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ قَالَ قُلْتُ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ ثُمَّ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ فَحَدَّثَنِي بِهِنَّ وَلَوْ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, “কোন আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সময়মত নামায পড়া।” আমি বললাম, “তারপর কোনটি?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তারপর পিতা-মাতার সম্মান করা।” আমি বললাম, “তারপর কোনটি?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তারপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে জিহাদ?” আমি যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরো জিজ্ঞাসা করতাম, তবে তিনি আমাকে আরো বলতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৯৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3799 OK

(৩৭৯৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৭৬২] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ حُصَيْنٍ قَالَ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ عَنْ نَهِيكِ بْنِ سِنَانٍ السُّلَمِيِّ أَنَّهُ أَتَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ فَقَالَ قَرَأْتُ الْمُفَصَّلَ اللَّيْلَةَ فِي رَكْعَةٍ فَقَالَ هَذًّا مِثْلَ هَذِّ الشِّعْرِ أَوْ نَثْرًا مِثْلَ نَثْرِ الدَّقَلِ إِنَّمَا فُصِّلَ لِتُفَصِّلُوا لَقَدْ عَلِمْتُ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرُنُ عِشْرِينَ سُورَةً الرَّحْمَنُ وَالنَّجْمُ عَلَى تَأْلِيفِ ابْنِ مَسْعُودٍ كُلُّ سُورَتَيْنِ فِي رَكْعَةٍ وَذَكَرَ الدُّخَانَ وَعَمَّ يَتَسَاءَلُونَ فِي رَكْعَةٍ


হজরত ইবরাহীম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার (বনু বাজিলার এক ব্যক্তি) যার নাম ছিলো নাহেক বিন সিনান, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললো, “গত রাতে আমি এক রাকাতে আল-মুফাস্সাল সূরা গুলি পড়েছি।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “গরীব কবিতার মতো? নাকি নোংরা গদ্যের মতো? যদিও সেগুলো বিভক্ত করে নাযিল করা হয়েছে, যাতে আপনি সেগুলো আলাদা ভাবে পড়তে পারেন। আমি এমন ঘটনাও জানি যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাকাতে দুটি সূরা পাঠ করেছেন। তারপর বিশ (২০) রাকাতে প্রতি রাকাতে দুটি সূরা করে আল-মুফাস্সাল সূরা পাঠ করতেন।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক আদেশ অনুসারে, এটি আল-মুফাস্সাল সূরা গুলির প্রথম বিশটি সূরাকে নির্দেশ করে, যার মধ্যে রয়েছে, সূরা রহমান ও নাজম, এই দুটি সূরা এক রাকাতে আর সূরা দুখান ও সূরা নাবা এক রাকাতে। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৭৯৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3800 OK

(৩৮০০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عَشِيَّةَ الْجُمُعَةِ فِي الْمَسْجِدِ قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ أَحَدُنَا رَأَى مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا فَقَتَلَهُ قَتَلْتُمُوهُ وَإِنْ تَكَلَّمَ جَلَدْتُمُوهُ وَإِنْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى غَيْظٍ وَاللَّهِ لَئِنْ أَصْبَحْتُ صَالِحًا لَأَسْأَلَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَسَأَلَهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَحَدُنَا رَأَى مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا فَقَتَلَهُ قَتَلْتُمُوهُ وَإِنْ تَكَلَّمَ جَلَدْتُمُوهُ وَإِنْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى غَيْظٍ اللَّهُمَّ احْكُمْ قَالَ فَأُنْزِلَتْ آيَةُ اللِّعَانِ قَالَ فَكَانَ ذَاكَ الرَّجُلُ أَوَّلَ مَنْ ابْتُلِيَ بِهِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একদা আমরা শুক্রবার সন্ধ্যায় মসজিদে নববীতে বসেছিলাম। এমন সময় এক আনসারী (আজলান গোত্রের ওয়াইমির আজলানী) এসে বললো, “কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে অপর কোনো ব্যক্তিকে (অপকর্মে লিপ্ত) পেয়ে তাকে হত্যা করে, তাহলে তোমরা তাকে হত্যা করবে! আর যদি যেনার অপবাদ দেয়, তাহলে তোমরা তাকে অবশ্যই বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর শপথ! আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে বিষয়টি তুলে ধরবো।” অতএব সে তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে পেশ করলে আল্লাহ তাআলা লিয়ান সংক্রান্ত আয়াত নাযিল করেন। সর্বপ্রথম এই ব্যক্তিই এই ধরনের পরীক্ষায় পতিত হয়েছিলো। অতঃপর লোকটি তার স্ত্রীর প্রতি যেনার অপবাদসহ হাযির হলে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের উভয়কে লিয়ান করান। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হয়তো সে একটি কৃষ্ণকায় সন্তান প্রসব করবে।” পরে সে একটি কৃষ্ণকায় ও কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট একটি বাচ্চা প্রসব করে। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮০০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3801 OK

(৩৮০১)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৬৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا مُغِيرَةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ قَالَ رَأَيْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ رَمَى الْجَمْرَةَ جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ مِنْ بَطْنِ الْوَادِي ثُمَّ قَالَ هَذَا وَالَّذِي لَا إِلَهَ غَيْرُهُ مَقَامُ الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ


হজরত আবদুর-রহমান বিন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু মুযদালিফা থেকে অগ্রসর হওয়ার সময় তালবিয়া পাঠ করলেন এবং তাকে বলা হলো, “এই ব্যক্তি কি গ্রাম্য লোক?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “মানুষ কি (সব কিছু) ভুলে গেছে, নাকি পথভ্রষ্ট হয়েছে? সেই সত্তার কসম, যিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই! এটি সেই স্থান, যেখানে সূরা বাকারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে উপর নাযিল হয়েছিলো। আর আমি তাঁকে এই স্থানেই বলতে শুনেছি, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮০১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3802 OK

(৩৮০২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ رَكْعَتَيْنِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি মিনায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে দুই রাকাত নামায পড়েছিলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮০২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3803 OK
View Quran

(৩৮০৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَارٍ فَنَزَلَتْ وَالْمُرْسَلَاتِ عُرْفًا قَالَ فَإِنَّا نَتَلَقَّاهَا مِنْ فِيهِ فَخَرَجَتْ حَيَّةٌ مِنْ جُحْرِهَا فَابْتَدَرْنَاهَا فَسَبَقَتْنَا فَدَخَلَتْ جُحْرَهَا فَقَالَ وُقِيَتْ شَرَّكُمْ وَوُقِيتُمْ شَرَّهَا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ مِثْلَهُ قَالَ وَإِنَّا لَنَتَلَقَّاهَا مِنْ فِيهِ رَطْبَةً


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

মিনাতে পাহাড়ের কোনো এক গুহায় আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে অবস্থান করছিলাম। এমতাবস্থায় তাঁর উপর সূরা আল মুরসালাত অবতীর্ণ হলো।

وَٱلۡمُرۡسَلَٰتِ عُرۡفٗا١
শপথ বাতাসের, যা একের পর এক কল্যাণের জন্যে প্রেরিত হয়। (৭৭. আল মুরসালাত : ১)

তিনি সূরাটি তিলাওয়াত করছিলেন। আর আমি তাঁর পবিত্র মুখ হতে গ্রহণ করছিলাম। তাঁর মুখ (তিলাওয়াতের ফলে) সিক্ত ছিলো। এমতাবস্থায় আমাদের সম্মুখে একটি সাপ লাফিয়ে পড়ল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা সাপটিকে হত্যা করো।” আমরা দৌঁড়িয়ে গেলে সাপটি চলে গেলো। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের অনিষ্ট হতে সাপটি যেমন রক্ষা পেলো, তেমনি তোমরাও এর অনিষ্ট হতে রক্ষা পেলে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৩৮০৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3804 OK

(৩৮০৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৮১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ حَدَّثَنَا خُصَيْفٌ الْجَزَرِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ عَلَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التَّشَهُّدَ وَأَمَرَهُ أَنْ يُعَلِّمَ النَّاسَ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তাশাহহুদ শিখিয়েছিলেন এবং লোকদেরকে শেখাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন,

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“সকল সম্ভাষণ (মৌখিক ইবাদত), সকল (শারিরিক) ইবাদত ও সকল পবিত্রতা (আর্থিক ইবাদত) আল্লাহর জন্যে। হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো প্রভু নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রসূল।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮০৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3805 OK

(৩৮০৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬২৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِقَوْمٍ يَتَخَلَّفُونَ عَنْ الْجُمُعَةِ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رَجُلًا يُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ أُحَرِّقَ عَلَى رِجَالٍ يَتَخَلَّفُونَ عَنْ الْجُمُعَةِ بُيُوتَهُمْ قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقُ أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْ أَبِي الْأَحْوَصِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার ইচ্ছা হয় যে, এক ব্যক্তিকে আদেশ করি যেনো, সে লোকদের জুম্মার নামাযের ইমামতি করে। অতঃপর লাকড়ি বহনকারী কিছু লোককে সাথে নিয়ে আমি বেরিয়ে পড়ি, তারপর আমি সেগুলো দ্বারা ঐসব লোকের ঘর-বাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দেই, যারা জুম্মার নামাযের জামাআতে উপস্থিত হয়নি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮০৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3806 OK

(৩৮০৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৬৬৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ قَدْ قَتَلَ أَبَا جَهْلٍ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَصَرَ عَبْدَهُ وَأَعَزَّ دِينَهُ وَقَالَ مَرَّةً يَعْنِي أُمَيَّةَ صَدَقَ عَبْدَهُ وَأَعَزَّ دِينَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললাম, “আল্লাহ আবু জেহেলকে হত্যা করেছেন।” রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর শুকরিয়া যিনি তাঁর বান্দার প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন ও তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করেছেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮০৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3807 OK

(৩৮০৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৭০৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ كُنَّا يَوْمَ بَدْرٍ كُلُّ ثَلَاثَةٍ عَلَى بَعِيرٍ كَانَ أَبُو لُبَابَةَ وَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ زَمِيلَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَكَانَتْ عُقْبَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَقَالَا نَحْنُ نَمْشِي عَنْكَ فَقَالَ مَا أَنْتُمَا بِأَقْوَى مِنِّي وَلَا أَنَا بِأَغْنَى عَنْ الْأَجْرِ مِنْكُمَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

বদর যুদ্ধের দিন আমরা তিনজন লোক এক উটে চড়ে ছিলাম। আর আবু লুবাবা ও আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন এমন দুইজন ব্যক্তি, যারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আরোহণ করেছিলাম। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাঁটার পালা এলো, তখন তারা উভয়ে বললো, “আমরা আপনার বদলে হাঁটবো এবং আপনাকে উটে চড়তে দিবো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা আমার চেয়ে বেশি শক্তিশালী নও এবং তোমাদের চেয়ে পুরস্কারের প্রয়োজন আমারও কম নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮০৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3808 OK

(৩৮০৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৮৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ عَنْ طَلْحَةَ عَنْ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَمَّا أُسْرِيَ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْتُهِيَ بِهِ إِلَى سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى وَهِيَ فِي السَّمَاءِ السَّادِسَةِ إِلَيْهَا يُنْتَهَ مَا يُعْرَجُ بِهِ مِنْ الْأَرْضِ فَيُقْبَضُ مِنْهَا وَإِلَيْهَا يُنْتَهَ مَا يُهْبَطُ بِهِ مِنْ فَوْقِهَا فَيُقْبَضُ مِنْهَا قَالَ إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى قَالَ فِرَاشٌ مِنْ ذَهَبٍ قَالَ فَأُعْطِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثًا وَأُعْطِيَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَأُعْطِيَ خَوَاتِيمَ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَغُفِرَ لِمَنْ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ مِنْ أُمَّتِهِ شَيْئًا الْمُقْحِمَاتُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মিরাজ রজনীতে ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হলো। এটি ষষ্ঠ আসমানে অবস্থিত। জমিন থেকে যা কিছু উত্থিত হয়, তা সে পর্যন্ত এসে পৌছে এবং সেখানে থেকে তা গ্রহণ করা হয়। তদ্রূপ ঊর্ধ্বলোক থেকে যা কিছু অবতরণ হয়, তাও এ পর্যন্ত এসে পৌছে এবং সেখান থেকে তা গ্রহণ করা হয়। এরপর আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তিলাওয়াত করলেন,

إِذۡ يَغۡشَى ٱلسِّدۡرَةَ مَا يَغۡشَىٰ١٦
যখন গাছটি ফেরেশতাগণ দ্বারা আচ্ছন্ন ছিলো, যে ফেরেশতাগণ দ্বারা গাছটিকে আচ্ছন্ন করা হয়। (৫৩. আন নাজম : ১৬)

এবং বলেন, এখানে ‘যা দ্বারা’ কথাটির অর্থ সোনার পতঙ্গ সমূহ। তিনি বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তিনটি বিষয় দান করা হলো, (১) পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, (২) সূরাহ আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত এবং (৩) উম্মাতের শিরক মুক্ত প্রত্যেক মারাত্মক গুনাহ সমূহ তাওবার মাধ্যমে ক্ষমার সুসংবাদ। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮০৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3809 OK

(৩৮০৯)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৮৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ قَالَ أَخْبَرَنِي زِيَادُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْقِلِ بْنِ مُقَرِّنٍ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أَبِي عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَ أَنْتَ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ النَّدَمُ تَوْبَةٌ قَالَ نَعَمْ وَقَالَ مَرَّةً سَمِعْتُهُ يَقُولُ النَّدَمُ تَوْبَةٌ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাকিল ইবনে মুকাররিন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমি এবং আমার পিতা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে উপস্থিত হলাম। “আমার পিতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, ‘অনুশোচনা করাও হলো তওবা’?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮০৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3810 OK

(৩৮১০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا كَثِيرٌ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحُبِسْنَا عَنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَيَّ ثُمَّ قُلْتُ نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَالًا فَأَقَامَ الصَّلَاةَ فَصَلَّى بِنَا الظُّهْرَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى بِنَا الْعَصْرَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى بِنَا الْمَغْرِبَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى بِنَا الْعِشَاءَ ثُمَّ طَافَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ مَا عَلَى الْأَرْضِ عِصَابَةٌ يَذْكُرُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ غَيْرُكُمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

খন্দকের যুদ্ধের দিন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। মুশরিকরা আমাদেরকে চার ওয়াক্ত সালাত (যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার সালাত) থেকে বিরত রেখেছিলো। আর এটি আমাকে খুব বিরক্ত করেছিলো। তারপর আমি বললাম, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আছি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে যুদ্ধ করছি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইকামা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে জোহরের নামায পড়ালেন। তারপর হজরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু ইকামত দিলো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আসরের সালাতের নেতৃত্ব দিলেন। অতঃপর হজরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু ইকামত দিলো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর হজরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু ইকামত দিলো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে এশার সালাত আদায় করলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে এসে বললেন, “নিশ্চয়ই, এই মুহুর্তে তোমরা ছাড়া এই দুনিয়ায় অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের কেউই নামাযের জন্যে অপেক্ষা করছে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3811 OK

(৩৮১১)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৮৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ قَالَ أَخْبَرَنِي زِيَادُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْقِلِ بْنِ مُقَرِّنٍ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أَبِي عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَ أَنْتَ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ النَّدَمُ تَوْبَةٌ قَالَ نَعَمْ وَقَالَ مَرَّةً سَمِعْتُهُ يَقُولُ النَّدَمُ تَوْبَةٌ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাকিল ইবনে মুকাররিন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমি এবং আমার পিতা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে উপস্থিত হলাম। “আমার পিতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, ‘অনুশোচনা করাও হলো তওবা’?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3812 OK

(৩৮১২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي حَصِينٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ وَثَّابٍ عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ يَوْمًا فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَرُعِدَ حَتَّى رُعِدَتْ ثِيَابُهُ ثُمَّ قَالَ نَحْوَ ذَا أَوْ شَبِيهًا بِذَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে কিছু বললেন। অতঃপর তিনি এমন ভাবে কাঁপতে লাগলেন যে, যেনো তার জামা কাঁপছে। তারপর তিনি অনুরূপ, বা অনুরূপ কিছু বললেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3813 OK

(৩৮১৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৩৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ قُلْنَا السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ قَبْلَ عِبَادِهِ السَّلَامُ عَلَى جِبْرِيلَ السَّلَامُ عَلَى مِيكَائِيلَ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ فَسَمِعَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلَامُ فَإِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَقُلْ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِذَا قَالَهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ يَتَخَيَّرُ بَعْدُ مِنْ الدُّعَاءِ مَا شَاءَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমরা যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামাযে বসতাম, তখন আমরা বলতাম, “আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তাঁর বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, জিবরীলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, মিকাঈলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, অমুকের উপর, অমুকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।” অতঃপর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ স্বয়ং শান্তি, সুতরাং তোমাদের কেউ যখন নামাযে বসে, তখন সে যেনো এই দুয়া বলে, অতঃপর সে যে দুয়া করতে চায়, সে তা করতে পারে।”

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِذَا قَالَهَا أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“সকল সম্ভাষণ (মৌখিক ইবাদত), সকল (শারিরিক) ইবাদত ও সকল পবিত্রতা (আর্থিক ইবাদত) আল্লাহর জন্যে। হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো প্রভু নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রসূল।”

[মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3814 OK

(৩৮১৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيِّ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَرَرْنَا بِقَرْيَةِ نَمْلٍ فَأُحْرِقَتْ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَنْبَغِي لِبَشَرٍ أَنْ يُعَذِّبَ بِعَذَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। আমরা এমন একটা জায়গার পাশ দিয়ে গেলাম যেখানে পিঁপড়ার আধিক্য ছিলো। একজন লোক পিঁপড়ার বিলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো। তখন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর শাস্তি দিয়ে কোনো মানুষকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3815 OK

(৩৮১৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৩৮৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ ذَرٍّ عَنْ وَائِلِ بْنِ مَهَانَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَصَدَّقْنَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ فَقَامَتْ امْرَأَةٌ لَيْسَتْ مِنْ عِلْيَةِ النِّسَاءِ فَقَالَتْ لِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لِأَنَّكُنَّ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হে নারীগণ, তোমরা দান করো, যদিও তা তোমাদের গহনা থেকেও হয়, কেননা তোমরাই জাহান্নামীদের মধ্যে অধিকাংশ হবে।” একজন মহিলা যে বিশিষ্ট মহিলাদের মধ্যে ছিলো না, সে দাঁড়িয়ে বললো, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তা কেনো হলো?” তিনি বললেন, “কারণ তোমরা তামাদের স্বামীদেরকে প্রচুর অভিশাপ দিয়ে থাকো এবং তোমার স্বামীদের প্রতি অকৃতজ্ঞ হও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



3816 OK

(৩৮১৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৪৩৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ تَعَاهَدُوا هَذِهِ الْمَصَاحِفَ وَرُبَّمَا قَالَ الْقُرْآنَ فَلَهُوَ أَشَدُّ تَفَصِّيًا مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ مِنْ النَّعَمِ مِنْ عُقُلِهِ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَقُلْ أَحَدُكُمْ إِنِّي نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ بَلْ هُوَ نُسِّيَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এই কোরআনকে কীভাবে রক্ষা করা উচিত, কারণ এটি মানুষের বুক থেকে এতো দ্রুত বেরিয়ে আসে যে, একটি উটও তার দড়ি ছেড়ে দিয়ে এতো দ্রুত পালিয়ে যায় না। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেনো না বলে যে, ‘আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি’; বরং তাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস