
حَدَّثَنَا يَزِيدُ عَنْ الْحَجَّاجِ عَنِ الْحَكَمِ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا عَنْ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَتْ سَلْ عَلِيًّا فَإِنَّهُ أَعْلَمُ بِهَذَا مِنِّي كَانَ يُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَسَأَلْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْمُسَافِرِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ وَلِلْمُقِيمِ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ حَدَّثَنَا يَزِيدُ عَنِ الْحَجَّاجِ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِثْلِهِ
শুরাইহ ইবনে হানী থেকে বর্ণিতঃ
আমি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু কে মোজার ওপর মাসিহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ আলীকে জিজ্ঞাসা কর। তিনি এ বিষয়ে আমার চেয়ে বেশী জানেন। (কারণ) তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে (প্রায়ই) সফর করতেন। অতঃপর আমি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসাফির তিন দিন তিন রাত এবং মুকীম এক দিন ও এক রাত মোজার ওপর মাসিহ করবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৭১০]
[মুসলিম ২৭৬, ইবনু খুযাইমা ১৯৪, ১৯৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي الصَّعْبَةِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُرَيْرٍ الْغَافِقِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَهَبًا بِيَمِينِهِ وَحَرِيرًا بِشِمَالِهِ ثُمَّ رَفَعَ بِهِمَا يَدَيْهِ فَقَالَ هَذَانِ حَرَامٌ عَلَى ذُكُورِ أُمَّتِي
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা ডান হাতে স্বর্ণ ও বাম হাতে রেশম নিলেন। তারপর বললেন, আমার উম্মাতের পুরুষদের জন্যে এই দুটো জিনিস হারাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৭১১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي آخِرِ وِتْرِهِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَأَعُوذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের শেষে (এই দু’আ) পড়তেনঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
হে আল্লাহ, তোমার ক্রোধ থেকে তোমার সন্তষ্টির, তোমার শান্তি থেকে তোমার নিরাপত্তার এবং তোমার থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাইছি। তোমার প্রশংসা করে শেষ করতে পারি না। তুমি তেমনই যেমন নিজের প্রশংসা নিজে করেছ। [মুসনাদে আহমাদ : ৭১২]
[আবু দাউদ ১৪২৭, ইবনু মাজাহ ১১৭৯, তিরমিযী ৩৫৬৬, নাসায়ী ২৪৮/৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يَجْهَرَ الْقَوْمُ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِالْقُرْآنِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে একজন আরেকজনকে জোরে শুনিয়ে কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৭১৩]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَنْبَأَنَا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَيْهَا قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ثُمَّ حَمِدَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَكَبَّرَ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ سُبْحَانَكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي ثُمَّ ضَحِكَ فَقُلْتُ مِمَّ ضَحِكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ مِثْلَ مَا فَعَلْتُ ثُمَّ ضَحِكَ فَقُلْتُ مِمَّ ضَحِكْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ يَعْجَبُ الرَّبُّ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَيَقُولُ عَلِمَ عَبْدِي أَنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرِي
আলী বিন রাবি’আ থেকে বর্ণিতঃ
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট একটি জন্তু আনা হলো, যার ওপর তিনি আরোহণ করবেন। তিনি যখন জিনে পা রাখলেন, বললেন, বিসমিল্লাহ। যখন উঠে বসলেন তখন বললেনঃ আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাজী সাখখারা লানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরীনীন ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লা মুনকালিবুন। তারপর তিনবার আলহামদুলিল্লাহ ও তিন বার আল্লাহু আকবার বললেন। তারপর বললেনঃ সুবহানাকা লা-ইলাহা ইল্লা আনতা, কাদ যালামতু নাফছী ফাগাফির লী। তারপর হাসলেন। আলী বিন রাবি’আ বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আমীরুল মুমিনীন, হাসলেন কেন? তিনি বললেনঃ আমি যা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অদ্রপ করতে দেখেছি। তারপর তিনি হেসেছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, হাসলেন কেন? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাঁর বান্দাকে দেখে অবাক হন, যখন সে বলে, হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা কর এবং বলেনঃ আমার বান্দা জানে আমি ছাড়া কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৭১৪]
[ইবনু হিব্বান ২৬৯৭, আল হাকেম ২/৯৮-৯৯, আবু দাউদ ২৬০২, তিরমিযী ৩৪৪৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ عَمْرَو بْنَ حُرَيْثٍ عَادَ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ أَتَعُودُ الْحَسَنَ وَفِي نَفْسِكَ مَا فِيهَا فَقَالَ لَهُ عَمْرٌو إِنَّكَ لَسْتَ بِرَبِّي فَتَصْرِفَ قَلْبِي حَيْثُ شِئْتَ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَمَا إِنَّ ذَلِكَ لَا يَمْنَعُنَا أَنْ نُؤَدِّيَ إِلَيْكَ النَّصِيحَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ مُسْلِمٍ عَادَ أَخَاهُ إِلَّا ابْتَعَثَ اللَّهُ لَهُ سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يُصَلُّونَ عَلَيْهِ مِنْ أَيِّ سَاعَاتِ النَّهَارِ كَانَ حَتَّى يُمْسِيَ وَمِنْ أَيِّ سَاعَاتِ اللَّيْلِ كَانَ حَتَّى يُصْبِحَ قَالَ لَهُ عَمْرٌو وَكَيْفَ تَقُولُ فِي الْمَشْيِ مَعَ الْجِنَازَةِ بَيْنَ يَدَيْهَا أَوْ خَلْفَهَا فَقَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ فَضْلَ الْمَشْيِ مِنْ خَلْفِهَا عَلَى بَيْنِ يَدَيْهَا كَفَضْلِ صَلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ فِي جَمَاعَةٍ عَلَى الْوَحْدَةِ قَالَ عَمْرٌو فَإِنِّي رَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا يَمْشِيَانِ أَمَامَ الْجِنَازَةِ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّهُمَا إِنَّمَا كَرِهَا أَنْ يُحْرِجَا النَّاسَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
আমর বিন হুরাইছ অসুস্থ হাসান বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখতে এলেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আপনার মনে যা আছে, তা সত্ত্বেও হাসানকে দেখতে এলেন? আমর বললেনঃ আপনি তো আমার প্রতিপালক নন যে, আমার মনকে যেদিকে ইচ্ছা সরিয়ে দেবেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ শুনুন, মনে যাই থাক, তা আমাদেরকে পরস্পরের শুভাকাঙ্খী হতে বাধা দেয় না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলিম তার অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে গেলে আল্লাহ তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা পাঠান, যারা তার জন্য দিনের যে কোন সময় থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং রাতের যে কোন সময় থেকে সকাল পর্যন্ত তার জন্য দু’আ করতে থাকে। আমর তাঁকে বললেনঃ মৃত ব্যক্তির সাথে চলা সম্পর্কে কী বলেন? সামনে চলা উচিত না পেছনে চলা উচিত? আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ যারা পেছনে চলে, সামনে চলা লোকদের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব তেমনি, যেমন জামায়াতে ফরয নামায পড়া একাকী পড়ার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আমর বললেনঃ আমি আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মৃত ব্যক্তির আগে আগে চলতে দেখেছি। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তারা মানুষকে অসুবিধায় ফেলা অপছন্দ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৭১৫]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ سَمِعَ زَيْدَ بْنَ وَهْبٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُهْدِيَتْ لَهُ حُلَّةٌ سِيَرَاءُ فَأَرْسَلَ بِهَا إِلَيَّ فَرُحْتُ بِهَا فَعَرَفْتُ فِي وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْغَضَبَ قَالَ فَقَسَمْتُهَا بَيْنَ نِسَائِي
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একসেট রেশম মিশ্রিত নতুন পোশাক উপহার দেয়া হলো। তিনি সেটি আমার কাছে পাঠালেন। আমি তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হলাম। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখমণ্ডলে ক্রোধের লক্ষণ পরিস্ফুট দেখতে পেলাম। তাই আমি সেটটি আমার মহিলাদের মধ্যে বণ্টন করে দিলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৭১৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَقِيقٍ كَانَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَنْهَى عَنْ الْمُتْعَةِ وَعَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَأْمُرُ بِهَا فَقَالَ عُثْمَانُ لِعَلِيٍّ إِنَّكَ كَذَا وَكَذَا ثُمَّ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّا قَدْ تَمَتَّعْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَجَلْ وَلَكِنَّا كُنَّا خَائِفِينَ
আবদুল্লাহ বিন শাকীক থেকে বর্ণিতঃ
উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু মুত’আ বিয়ে করতে নিষেধ করতেন, আর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পক্ষে ফতোয়া দিতেন। এরপর উসমানরাদিয়াল্লাহু আনহু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে কী যেন বললেন। তারপর তাকে আলীরাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তুমিতো জানো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা করেছেন? উসমানরাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হ্যাঁ, তবে আমরা ভয় পেতাম।
এ হাদীসের অন্যতম বর্ণনাকারী শু’বা বলেন, আমি কাতাদাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ তারা কিসের ভয় পেতেন? কাতাদা বললেনঃ জানি না। [মুসনাদে আহমাদ : ৭১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي حَرْبِ بْنِ أَبِي الْأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَوْلُ الْغُلَامِ يُنْضَحُ عَلَيْهِ وَبَوْلُ الْجَارِيَةِ يُغْسَلُ قَالَ قَتَادَةُ هَذَا مَا لَمْ يَطْعَمَا فَإِذَا طَعِمَا غُسِلَ بَوْلُهُمَا
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ছেলে শিশুর পেশাবের ওপর পানি ছিটিয়ে দিতে হবে এবং মেয়ে শিশুর পেশাব ধুয়ে ফেলতে হবে।
কাতাদাহ বলেনঃ এ রকম হবে তখন পর্যন্ত, যখন পর্যন্ত তারা কোন শক্ত খাবার খায় না। শক্ত খাবার খেলে উভয়ের পেশাবে ধুতে হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৭১৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لَا يُؤْمِنُ عَبْدٌ حَتَّى يُؤْمِنَ بِأَرْبَعٍ حَتَّى يَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ بَعَثَنِي بِالْحَقِّ وَحَتَّى يُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَحَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না, যতক্ষণ না সে চারটি বিষয়ে ঈমান আনবে। সে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, আমাকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন, সে ঈমান আনবে মৃত্যুর পরে পুনরুজ্জীবিত হবার ওপর এবং ঈমান আনবে অদৃষ্টর ওপর। [মুসনাদে আহমাদ : ৭১৯]
[ইবনু মাজাহ ৮১, তিরমিযী ২১৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ نَاجِيَةَ بْنَ كَعْبٍ يُحَدِّثُ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أَبَا طَالِبٍ مَاتَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اذْهَبْ فَوَارِهِ فَقَالَ إِنَّهُ مَاتَ مُشْرِكًا فَقَالَ اذْهَبْ فَوَارِهِ قَالَ فَلَمَّا وَارَيْتُهُ رَجَعْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِي اغْتَسِلْ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, আবু তালিব মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ যাও, তাকে দাফন করে এস। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ উনি তো মুশরিক অবস্থায় মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (তা হোক) তুমি যাও, তাকে কবর দিয়ে এস। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এরপর যখন তাকে কবর দিলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে এলাম, তখন তিনি আমাকে বললেনঃ গোসল কর। [মুসনাদে আহমাদ : ৭২০]
[আবু দাউদ ৩২১৪, নাসায়ী ৭৯/৪, ১১০/১]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ يَعْنِي ابْنَ أَبِي عَرُوبَةَ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَبِيعَ غُلَامَيْنِ أَخَوَيْنِ فَبِعْتُهُمَا وَفَرَّقْتُ بَيْنَهُمَا فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَدْرِكْهُمَا فَأَرْجِعْهُمَا وَلَا تَبِعْهُمَا إِلَّا جَمِيعًا
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ দিলেন সহোদর দুই গোলামকে বিক্রি করে দিতে। আমি তাদেরকে আলাদাভাবে দু’জনের কাছে বিক্রি করলাম। অতঃপর এ খবর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালাম। তিনি আমাকে বললেনঃ ওদেরকে খুঁজে বের কর ও ফেরত আন। তারপর দু’জনকে একই সাথে একই জায়গায় ব্যতীত বিক্রি করো না। [মুসনাদে আহমাদ : ৭২১]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ الْوَتْرُ لَيْسَ بِحَتْمٍ مِثْلَ الصَّلَاةِ وَلَكِنَّهُ سُنَّةٌ سَنَّهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
বিতর ফরয নামাযের মত বাধ্যতামূলক নয়। তবে এটা সুন্নাত- যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চালু করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৭২২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَشُعْبَةُ وَإِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ هُبَيْرَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوقِظُ أَهْلَهُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশ দিনে তার পরিবার পরিজনকে রাতে জাগাতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৭২৩]
[তিরমিযী ৭৯৫]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ أَنَّهُ سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُعْطِيتُ مَا لَمْ يُعْطَ أَحَدٌ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هُوَ قَالَ نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ الْأَرْضِ وَسُمِّيتُ أَحْمَدَ وَجُعِلَ التُّرَابُ لِي طَهُورًا وَجُعِلَتْ أُمَّتِي خَيْرَ الْأُمَمِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাকে এমন কয়েকটা জিনিস দেয়া হয়েছে, যা আর কাউকে দেয়া হয়নি। আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, কী কী? তিনি বললেনঃ আমাকে ভয় দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে (অর্থাৎ ইসলামের শত্রুরা আমাকে ও আমার উম্মাতকে ভয় পায়), আমাকে পৃথিবীর চাবিকাঠি দেয়া হয়েছে (অর্থাৎ পৃথিবীর প্রচুর সম্পদ আমার উম্মাতকে দেয়া হয়েছে)। আমার নাম রাখা হয়েছে আহমাদ, মাটিকে আমার জন্য পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ বানানো হয়েছে এবং আমার উম্মাতকে শ্রেষ্ঠ জাতি বানানো হয়েছে। [মুসনাদে আহমাদ : ৭২৪]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ وَحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْ الْفَجْرِ عِنْدَ الْإِقَامَةِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’রাকাআত (সুন্নাত) নামায ইকামাতের সময় (অর্থাৎ পূর্ব মুহুর্তে) পড়তেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৭২৫]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

أَنْبَأَنَا أَبُو النَّضْرِ حَدَّثَنَا الْأَشْجَعِيُّ عَنْ شَيْبَانَ عَنْ جَابِرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُجَيٍّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَكَرْنَا الدَّجَّالَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ نَائِمٌ فَاسْتَيْقَظَ مُحْمَرًّا لَوْنُهُ فَقَالَ غَيْرُ ذَلِكَ أَخْوَفُ لِي عَلَيْكُمْ ذَكَرَ كَلِمَةً
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসে আমরা দাজ্জালের বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। সহসা তিনি জেগে উঠলেন। তখন তাঁর সমগ্র মুখমণ্ডল লাল হয়ে গেছে। তিনি বললেনঃ ওটা (দাজ্জাল) ছাড়া অন্য একটা জিনিস আমার কাছে তোমাদের জন্য অধিকতর ভয়াবহ মনে হয়। অতঃপর তিনি একটি কালেমার উল্লেখ করলেন। (সম্ভবত এ দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, ঈমানের ওপর অবিচল থাকাই মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হবে।) [মুসনাদে আহমাদ : ৭২৬]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَلْقَمَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أُهْدِيَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَغْلٌ أَوْ بَغْلَةٌ فَقُلْتُ مَا هَذَا قَالَ بَغْلٌ أَوْ بَغْلَةٌ قُلْتُ وَمِنْ أَيِّ شَيْءٍ هُوَ قَالَ يُحْمَلُ الْحِمَارُ عَلَى الْفَرَسِ فَيَخْرُجُ بَيْنَهُمَا هَذَا قُلْتُ أَفَلَا نَحْمِلُ فُلَانًا عَلَى فُلَانَةَ قَالَ لَا إِنَّمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি খচ্চর বা খচ্চরী উপঢৌকন দেয়া হলো। আমি বললামঃ এটা কী? তিনি বললেনঃ খচ্চর বা খচ্চরী। আমি বললামঃ এটা কোথা থেকে জন্মে? তিনি বললেনঃ গাধাকে ঘোড়ার ওপর ওঠানো হয়। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে এটির প্রজনন হয়। আমি বললামঃ আমরা কি অমুক জন্তুর নরকে অমুক জন্তুর মাদীর ওপর ওঠিয়ে এ ধরনের আরো শঙ্কর জন্তুর প্রজনন করাবো না? তিনি বললেনঃ না। এ কাজ কেবল মূর্খ লোকেরাই করে থাকে। (অর্থাৎ শংকর প্রজনন বাঞ্ছনীয় নয়। তবে কঠোরভাবে নিষিদ্ধও করা হয়নি।) [মুসনাদে আহমাদ : ৭২৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي أَبُو كُرَيْبٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ عَنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كُنْتُ آتِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسْتَأْذِنُ فَإِنْ كَانَ فِي صَلَاةٍ سَبَّحَ وَإِنْ كَانَ فِي غَيْرِ صَلَاةٍ أَذِنَ لِي
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসতাম এবং অনুমতি চাইতাম। তিনি নামাযে থাকলে বলতেন সুবহানাল্লাহ। আর নামাযে না থাকলে অনুমতি দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৭২৮]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَرَفَةَ فَقَالَ هَذَا الْمَوْقِفُ وَعَرَفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ وَأَفَاضَ حِينَ غَابَتْ الشَّمْسُ ثُمَّ أَرْدَفَ أُسَامَةَ فَجَعَلَ يُعْنِقُ عَلَى بَعِيرِهِ وَالنَّاسُ يَضْرِبُونَ يَمِينًا وَشِمَالًا يَلْتَفِتُ إِلَيْهِمْ وَيَقُولُ السَّكِينَةَ أَيُّهَا النَّاسُ ثُمَّ أَتَى جَمْعًا فَصَلَّى بِهِمْ الصَّلَاتَيْنِ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ ثُمَّ بَاتَ حَتَّى أَصْبَحَ ثُمَّ أَتَى قُزَحَ فَوَقَفَ عَلَى قُزَحَ فَقَالَ هَذَا الْمَوْقِفُ وَجَمْعٌ كُلُّهَا مَوْقِفٌ ثُمَّ سَارَ حَتَّى أَتَى مُحَسِّرًا فَوَقَفَ عَلَيْهِ فَقَرَعَ نَاقَتَهُ فَخَبَّتْ حَتَّى جَازَ الْوَادِيَ ثُمَّ حَبَسَهَا ثُمَّ أَرْدَفَ الْفَضْلَ وَسَارَ حَتَّى أَتَى الْجَمْرَةَ فَرَمَاهَا ثُمَّ أَتَى الْمَنْحَرَ فَقَالَ هَذَا الْمَنْحَرُ وَمِنًى كُلُّهَا مَنْحَرٌ قَالَ وَاسْتَفْتَتْهُ جَارِيَةٌ شَابَّةٌ مِنْ خَثْعَمَ فَقَالَتْ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ قَدْ أَفْنَدَ وَقَدْ أَدْرَكَتْهُ فَرِيضَةُ اللَّهِ فِي الْحَجِّ فَهَلْ يُجْزِئُ عَنْهُ أَنْ أُؤَدِّيَ عَنْهُ قَالَ نَعَمْ فَأَدِّي عَنْ أَبِيكِ قَالَ وَقَدْ لَوَى عُنُقَ الْفَضْلِ فَقَالَ لَهُ الْعَبَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ لَوَيْتَ عُنُقَ ابْنِ عَمِّكَ قَالَ رَأَيْتُ شَابًّا وَشَابَّةً فَلَمْ آمَنْ الشَّيْطَانَ عَلَيْهِمَا قَالَ ثُمَّ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَنْحَرَ قَالَ انْحَرْ وَلَا حَرَجَ ثُمَّ أَتَاهُ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَفَضْتُ قَبْلَ أَنْ أَحْلِقَ قَالَ احْلِقْ أَوْ قَصِّرْ وَلَا حَرَجَ ثُمَّ أَتَى الْبَيْتَ فَطَافَ بِهِ ثُمَّ أَتَى زَمْزَمَ فَقَالَ يَا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ سِقَايَتَكُمْ وَلَوْلَا أَنْ يَغْلِبَكُمْ النَّاسُ عَلَيْهَا لَنَزَعْتُ بِهَا
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ এটা হচ্ছে অবস্থানের জায়গা। সমগ্র আরাফাতই অবস্থানের জায়গা। সূর্য অস্ত যাওয়া মাত্রই তিনি সেখান থেকে রওনা হলেন। উসামা বিন যায়িদকে পেছনে বসালেন এবং নিজের উটটাকে জোরে জোরে চালালেন। অন্য লোকেরা ডানে বামে চলতে লাগলো। তিনি তাদের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন, “হে জনতা, প্রশান্তি!” অতঃপর একদল লোকের কাছে এলেন এবং মাগরিব ও ইশার নামাযে তাদের ইমামতি করলেন। অতঃপর রাত গিয়ে যখন ভোর হলো, তিনি কুযাহতে এলেন এবং কুযাহতে অবস্থান করলেন। তখন তিনি বললেনঃ এটা অবস্থানের জায়গা এবং একটি সমাবেশের জায়গা। পুরো কুযাহাই অবস্থানের জায়গা।
এরপর তিনি আবার চলা শুরু করলেন এবং মুহাসসার উপত্যকায় এলেন ও সেখানে (কিছু সময়) অবস্থান করলেন। তারপর তাঁর উটনীকে ধাক্কা দিয়ে তুললেন। উটটি দুলকি চালে চলে উপত্যকা পার হয়ে গেল। অতঃপর উটনীকে থামালেন এবং ফযলকে পেছনে বসালেন। অতঃপর জামরায় এলেন ও পাথর নিক্ষেপ করলেন। তারপর কুরবানীর জায়গায় এলেন। তারপর বললেন, এটা কুরবানীর জায়গা এবং সমগ্র মিনাই কুরবানীর জায়গা। বর্ণনাকারী বলেন, এই সময় খাসিয়াম গোত্রের এক যুবতী মেয়ে তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করলো যে, আমার বাবা এত বৃদ্ধ যে, চলৎশক্তি রহিত। অথচ তার ওপর হজ্জ ফরয হয়েছে। আমি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করলে কি তার হজ্জ আদায় হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তুমি তোমার বাবার পক্ষ থেকে হজ্জ কর।”
এই সময় তিনি ফযলের ঘাড় ঘুরিয়ে দিলেন। আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল, আপনি আপনার চাচাতো ভাইয়ের ঘাড় ঘুরিয়ে দিলেন কেন? তিনি বললেন, আমি একজন যুবক ও যুবতীকে পাশাপাশি দেখলাম। তাদেরকে শয়তান থেকে নিরাপদ মনে করলাম না। এরপর তার নিকট আর এক ব্যক্তি এল। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি তো কুরবানীর আগেই চুল কামিয়েছি। তিনি বললেন, কোন অসুবিধা নেই, কুরবানী কর। এরপর তাঁর নিকট আর একজন এল। সে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি চুল কামানোর আগেই রওনা হয়েছি। তিনি বললেনঃ কোন সমস্যা নেই, চুল কামাও অথবা ছাটাও। তারপর তিনি বাইতুল্লায় এলেন ও তাওয়াফ করলেন। তারপর যমযমে এলেন এবং বললেনঃ হে আবদুল মুত্তালিবের গোত্র, তোমাদের পানির উৎসকে রক্ষা কর। লোকেরা এর ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়বে এই আশঙ্কা না থাকলে আমি নিজে তা থেকে পানি টেনে তুলতাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৭২৯]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ هَانِئِ بْنِ هَانِئٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا وُلِدَ الْحَسَنُ سَمَّيْتُهُ حَرْبًا فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَرُونِي ابْنِي مَا سَمَّيْتُمُوهُ قَالَ قُلْتُ حَرْبًا قَالَ بَلْ هُوَ حَسَنٌ فَلَمَّا وُلِدَ الْحُسَيْنُ سَمَّيْتُهُ حَرْبًا فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَرُونِي ابْنِي مَا سَمَّيْتُمُوهُ قَالَ قُلْتُ حَرْبًا قَالَ بَلْ هُوَ حُسَيْنٌ فَلَمَّا وُلِدَ الثَّالِثُ سَمَّيْتُهُ حَرْبًا فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَرُونِي ابْنِي مَا سَمَّيْتُمُوهُ قُلْتُ حَرْبًا قَالَ بَلْ هُوَ مُحَسِّنٌ ثُمَّ قَالَ سَمَّيْتُهُمْ بِأَسْمَاءِ وَلَدِ هَارُونَ شَبَّرُ وَشَبِيرُ وَمُشَبِّرٌ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
যখন হাসানের জন্ম হলো আমি তার নাম রাখলাম, হারব। (অর্থাৎ যুদ্ধ।) এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। বললেনঃ আমার নাতিকে দেখাও। ওর কী নাম রেখেছ? আমি বললামঃ হারব। তিনি বললেনঃ না, বরং ওর নাম হাসান। এরপর যখন হুসাইন ভূমিষ্ঠ হলো, তখন তার নাম রাখলাম হারব। এবারও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বললেনঃ আমার নাতিকে দেখাও তো। কী নাম রেখেছ ওর? বললামঃ হারব। তিনি বললেনঃ বরং ওর নাম হুসাইন। এরপর যখন তৃতীয় সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো, তখন আবার তার নাম রাখলাম হারব। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং বললেনঃ আমার নাতীকে দেখাও। কী নাম রেখেছ ওর? বললামঃ হারব। তিনি বললেনঃ বরং ওর নাম মুহাস্সিন। তারপর বললেনঃ ওদের নাম রেখেছি হারুন (আঃ)-এর সন্তানদের নামেঃ শাব্বার, শাব্বীর, মুশাব্বার (অর্থাৎ এগুলোর সমার্থক হলো হাসান, হুসাইন ও মুহাস্সিন) [মুসনাদে আহমাদ : ৭৩০]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ هَانِئِ بْنِ هَانِئٍ وَهُبَيْرَةَ بْنِ يَرِيمَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَمَّا خَرَجْنَا مِنْ مَكَّةَ اتَّبَعَتْنَا ابْنَةُ حَمْزَةَ تُنَادِي يَا عَمِّ وَيَا عَمِّ قَالَ فَتَنَاوَلْتُهَا بِيَدِهَا فَدَفَعْتُهَا إِلَى فَاطِمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَقُلْتُ دُونَكِ ابْنَةَ عَمِّكِ قَالَ فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ اخْتَصَمْنَا فِيهَا أَنَا وَجَعْفَرٌ وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ فَقَالَ جَعْفَرٌ ابْنَةُ عَمِّي وَخَالَتُهَا عِنْدِي يَعْنِي أَسْمَاءَ بِنْتَ عُمَيْسٍ وَقَالَ زَيْدٌ ابْنَةُ أَخِي وَقُلْتُ أَنَا أَخَذْتُهَا وَهِيَ ابْنَةُ عَمِّي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَّا أَنْتَ يَا جَعْفَرُ فَأَشْبَهْتَ خَلْقِي وَخُلُقِي وَأَمَّا أَنْتَ يَا عَلِيُّ فَمِنِّي وَأَنَا مِنْكَ وَأَمَّا أَنْتَ يَا زَيْدُ فَأَخُونَا وَمَوْلَانَا وَالْجَارِيَةُ عِنْدَ خَالَتِهَا فَإِنَّ الْخَالَةَ وَالِدَةٌ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تَزَوَّجُهَا قَالَ إِنَّهَا ابْنَةُ أَخِي مِنْ الرَّضَاعَةِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
আমরা যখন মক্কা থেকে রওনা হলাম, তখন হামযার মেয়ে “চাচা, চাচা” বলতে বলতে আমাদের পেছনে ছুটলো। আমি তার হাত ধরলাম এবং ফাতিমার কাছে তাকে সমর্পণ করে বললামঃ তোমার চাচাতো বোনকে সামলাও। তারপর যখন আমরা মদীনায় পৌছে গেলাম, তখন আমি, জাফর ও যায়িদ বিন হারিসা হামযার মেয়েকে নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হলাম। জাফর তাঁর দাবীর পক্ষে যুক্তি দেখালেন, সে আমার চাচাতো বোন এবং তার খালা অর্থাৎ আসমা বিনতে উমাইস আমার কাছে রয়েছে। যায়িদ বললো, সে আমার ভাই-এর মেয়ে। আর আমি বললামঃ আমি তাকে গ্রহণ করেছি এবং সে আমার চাচাতো বোন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে জাফর। তুমি দেখতেও আমার মত, তোমার স্বভাবও আমার মত। আর হে আলী, তুমি তো আমারই আওতাভুক্ত আর আমিও তোমার আওতাভুক্ত। আর হে যায়িদ, তুমি আমাদের ভাই এবং মুক্ত গোলাম। আর মেয়েটি তার খালার কাছেই। কেননা খালা মায়ের সমান। আমি বললাম, আপনি ওকে বিয়ে করতে পারেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, কারণ সে আমার দুধ ভাই-এর মেয়ে। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৩১]
[আবু দাউদ ২২৮০]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَجُلًا يَسْتَغْفِرُ لِأَبَوَيْهِ وَهُمَا مُشْرِكَانِ فَقُلْتُ أَيَسْتَغْفِرُ الرَّجُلُ لِأَبَوَيْهِ وَهُمَا مُشْرِكَانِ فَقَالَ أَوَلَمْ يَسْتَغْفِرْ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَزَلَتْ مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ إِلَى قَوْلِهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ قَالَ لَمَّا مَاتَ فَلَا أَدْرِي قَالَهُ سُفْيَانُ أَوْ قَالَهُ إِسْرَائِيلُ أَوْ هُوَ فِي الْحَدِيثِ لَمَّا مَاتَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
আমি এক ব্যক্তিকে তার মুশরিক মা বাবার জন্য ক্ষমা চাইতে শুনলাম। আমি বললামঃ কোন ব্যক্তি কি তার মুশরিক মা বাবার জন্য ক্ষমা চাইতে পারে? সে বললোঃ ইবরাহীম (আঃ) কি তাঁর বাবার জন্য ক্ষমা চাননি? ব্যাপারটা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উল্লেখ করলাম। তখন সূরা আত-তাওবার এ আয়াত নাযিল হলোঃ “নবী ও মুমিনদের জন্য শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য গুনাহ মাফ চাইবে। চাই সে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ই হোকনা কেন। তাদের জাহান্নামবাসী হওয়া সুনিশ্চিত জেনেও এ কাজ তারা কিছুতেই করতে পারে না। ইবরাহীম (আঃ) যে তার পিতার জন্য গুনাহ মাফ চেয়েছিল সেটা এ জন্য যে, ইতিপূর্বে সে তাকে এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারপর যখন ইবরাহীম নিশ্চিত হলো যে, সে আল্লাহর শত্রু, তখন তার দায়ভার থেকে মুক্ত হয়ে গেল।” [মুসনাদে আহমাদ : ৭৩২]
[তিরমিযী ৩১০১, নাসায়ী ১১/৪]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنِي عَمِّي إِيَاسُ بْنُ عَامِرٍ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَبِّحُ مِنْ اللَّيْلِ وَعَائِشَةُ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এমন অবস্থায় তাসবীহ করতেন (অর্থাৎ নামায পড়তেন) যে, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর ও কিবলার মাঝখানে আড় হয়ে (শুয়ে) থাকতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৩৩]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ وَأَبُو نُعَيْمٍ قَالَا حَدَّثَنَا فِطْرٌ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ قَالَ حَجَّاجٌ سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ لَمْ يَبْقَ مِنْ الدُّنْيَا إِلَّا يَوْمٌ لَبَعَثَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ رَجُلًا مِنَّا يَمْلَؤُهَا عَدْلًا كَمَا مُلِئَتْ جَوْرًا قَالَ أَبُو نُعَيْمٍ رَجُلًا مِنَّا قَالَ وَسَمِعْتُهُ مَرَّةً يَذْكُرُهُ عَنْ حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়া ধ্বংস হতে যদি মাত্র একদিনও বাকী থাকে, তথাপি আল্লাহ আমাদের মধ্য থেকে এমন একজনকে পাঠাবেন, যিনি সারা পৃথিবীকে সুবিচার দিয়ে সেইভাবে পরিপূর্ণ করে দেবেন, যেভাবে তাকে ইতিপূর্বে যুলমে পরিপূর্ণ করে দেয়া হয়েছিল। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৩৪]
[আবু দাউদ ৪২৮৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنِي إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ هَانِئٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ الْحَسَنُ أَشْبَهُ النَّاسِ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَيْنَ الصَّدْرِ إِلَى الرَّأْسِ وَالْحُسَيْنُ أَشْبَهُ النَّاسِ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا كَانَ أَسْفَلَ مِنْ ذَلِكَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বুক থেকে মাথা পর্যন্ত সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল হাসান। আর বুক থেকে নীচের অংশে হুসাইন ছিল তাঁর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৩৫]
[তিরমিযী ৩৭৭৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ قَالَ يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ أَخْبَرَنِي عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَذْنَبَ فِي الدُّنْيَا ذَنْبًا فَعُوقِبَ بِهِ فَاللَّهُ أَعْدَلُ مِنْ أَنْ يُثَنِّيَ عُقُوبَتَهُ عَلَى عَبْدِهِ وَمَنْ أَذْنَبَ ذَنْبًا فِي الدُّنْيَا فَسَتَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَفَا عَنْهُ فَاللَّهُ أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يَعُودَ فِي شَيْءٍ قَدْ عَفَا عَنْهُ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন গুনাহর কাজ করে ও তার শাস্তি ভোগ করে, আল্লাহ এত ন্যায়বিচারক যে, সেই বান্দাকে পুনরায় আর শাস্তি দেবেন না। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন গুনাহর কাজ করেছে এবং আল্লাহ তা লুকিয়ে রেখেছেন ও ক্ষমা করেছেন, আল্লাহ এত মহানুভব যে, তার যে গুনাহ ইতিপূর্বে মাফ করেছেন তার জন্য তাকে পুনরায় পাকড়াও করবেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৩৬]
[তিরমিযী ২৬২৬, ইবনু মাজাহ ২৬০৪]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَلَمَةَ يَعْنِي ابْنَ كُهَيْلٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ عَنْ حَبَّةَ الْعُرَنِيِّ قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ضَحِكَ عَلَى الْمِنْبَرِ لَمْ أَرَهُ ضَحِكَ ضَحِكًا أَكْثَرَ مِنْهُ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ ثُمَّ قَالَ ذَكَرْتُ قَوْلَ أَبِي طَالِبٍ ظَهَرَ عَلَيْنَا أَبُو طَالِبٍ وَأَنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ نُصَلِّي بِبَطْنِ نَخْلَةَ فَقَالَ مَاذَا تَصْنَعَانِ يَا ابْنَ أَخِي فَدَعَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْإِسْلَامِ فَقَالَ مَا بِالَّذِي تَصْنَعَانِ بَأْسٌ أَوْ بِالَّذِي تَقُولَانِ بَأْسٌ وَلَكِنْ وَاللَّهِ لَا تَعْلُوَنِي اسْتِي أَبَدًا وَضَحِكَ تَعَجُّبًا لِقَوْلِ أَبِيهِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ لَا أَعْتَرِفُ أَنَّ عَبْدًا لَكَ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ عَبَدَكَ قَبْلِي غَيْرَ نَبِيِّكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ لَقَدْ صَلَّيْتُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ النَّاسُ سَبْعًا
হাব্বা আল-উরানী থেকে বর্ণিতঃ
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আমি একদিন মিম্বারের ওপর হাসতে দেখলাম। তার আগে তাঁকে কখনো এত হাসতে দেখিনি। হাসতে হাসতে তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত বেরিয়ে গিয়েছিল। তারপর বললেনঃ আবু তালিবের কথা আমার মনে পড়ে গেল। আমি আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতনে নাখলায় (গোপনে) নামায পড়ছিলাম। সহসা সেখানে আবু তালিব উপস্থিত হলেন। বললেনঃ হে ভাতিজা, তোমরা দু’জনে কী করছ? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা দু’জনে যা করছো বা যা বলছো, তাতে কোন আপত্তি নেই। তবে তুমি কখনো আমাকে আমার ভিত্তি থেকে উচ্ছেদ করবে না।” আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতার এ কথায় বিস্ময় প্রকাশার্থে হাসলেন। তারপর বললেনঃ হে আল্লাহ, আমি স্বীকার করি না যে, তোমার নবী ব্যতীত আর কেউ আমার আগে তোমার ইবাদত করেছে। এ কথা তিনবার বললেন। অন্য মানুষ নামায পড়ার আগে আমি নামায পড়েছি সাত বছর বয়সে। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৩৭]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُرَيْرٍ الْغَافِقِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نُصَلِّي إِذْ انْصَرَفَ وَنَحْنُ قِيَامٌ ثُمَّ أَقْبَلَ وَرَأْسُهُ يَقْطُرُ فَصَلَّى لَنَا الصَّلَاةَ ثُمَّ قَالَ إِنِّي ذَكَرْتُ أَنِّي كُنْتُ جُنُبًا حِينَ قُمْتُ إِلَى الصَّلَاةِ لَمْ أَغْتَسِلْ فَمَنْ وَجَدَ مِنْكُمْ فِي بَطْنِهِ رِزًّا أَوْ كَانَ عَلَى مِثْلِ مَا كُنْتُ عَلَيْهِ فَلْيَنْصَرِفْ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ حَاجَتِهِ أَوْ غُسْلِهِ ثُمَّ يَعُودُ إِلَى صَلَاتِهِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زُرَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَذَكَرَ مِثْلَهُ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নামায পড়ছিলাম। সহসা তিনি চলে গেলেন। আমরা তখনো নামাযে দাঁড়িয়ে। তারপর তিনি ফিরে এলেন। তার মাথা দিয়ে তখনও পানি টপকাচ্ছিল। তারপর তিনি আমাদের নামায পড়ালেন। তারপর বললেন, আমার মনে পড়লো, আমি যখন নামাযে দাড়াই, তখন “জানাবাত” (বীর্যপাত জনিত অপবিত্রতা) অবস্থায় ছিলাম। অথচ গোসল করিনি। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি পেটে কোন ব্যথা অনুভব করে, অথবা আমার যে অবস্থা ছিল, সে অবস্থায় থাকে, তাহলে তার বেরিয়ে গিয়ে প্রয়োজন সেরে অথবা গোসল করে এসে পুনরায় নামায পড়া উচিত। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৩৮]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى عَنِ الْمِنْهَالِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ كَانَ أَبِي يَسْمُرُ مَعَ عَلِيٍّ وَكَانَ عَلِيٌّ يَلْبَسُ ثِيَابَ الصَّيْفِ فِي الشِّتَاءِ وَثِيَابَ الشِّتَاءِ فِي الصَّيْفِ فَقِيلَ لَهُ لَوْ سَأَلْتَهُ فَسَأَلَهُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ إِلَيَّ وَأَنَا أَرْمَدُ الْعَيْنِ يَوْمَ خَيْبَرَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَرْمَدُ الْعَيْنِ قَالَ فَتَفَلَ فِي عَيْنِي وَقَالَ اللَّهُمَّ أَذْهِبْ عَنْهُ الْحَرَّ وَالْبَرْدَ فَمَا وَجَدْتُ حَرًّا وَلَا بَرْدًا مُنْذُ يَوْمِئِذٍ وَقَالَ لَأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلًا يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ لَيْسَ بِفَرَّارٍ فَتَشَرَّفَ لَهَا أَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَانِيهَا
আবদুর রহমান ইবনে আবু লাইলা থেকে বর্ণিতঃ
আমার পিতা গভীর রাত পর্যন্তও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে কথা বলতেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু শীতকালে গ্রীষ্মের পোশাক এবং গ্রীষ্মকালে শীতের পোশাক পরতেন। আব্বাকে বলা হলোঃ এ বিষয়ে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যদি জিজ্ঞাসা করতেন। অতঃপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাবে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারের দিন আমাকে ডেকে পাঠালেন। তখন আমার চোখ উঠেছিল। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার চোখ উঠেছে। তখন তিনি আমার চোখে থুথু দিলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ, আলীকে ঠাণ্ডা ও গরম থেকে অব্যাহতি দাও। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত আমার আর ঠাণ্ডা ও গরম অনুভূত হয় না। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (খাইবারের যুদ্ধের এক পর্যায়ে) বললেনঃ আজ আমি এমন একজনকে পতাকা দেব (সেনাপতি নিয়োগ করবো) যে আল্লাহ ও রাসূলকে ভালোবাসে, আল্লাহ ও রাসূল তাকে ভালোবাসেন এবং সে পলায়নপর হয় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহু সাহাবী পতাকার জন্য আগ্রহী হলো। কিন্তু তিনি পতাকা আমাকে দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৩৯]
[ইবনু মাজাহ ১১৭]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস