

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَابِقٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ نُعَيْمِ بْنِ دِجَاجَةَ أَنَّهُ قَالَ دَخَلَ أَبُو مَسْعُودٍ عُقْبَةُ بْنُ عَمْرٍو الْأَنْصَارِيُّ عَلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ أَنْتَ الَّذِي تَقُولُ لَا يَأْتِي عَلَى النَّاسِ مِائَةُ سَنَةٍ وَعَلَى الْأَرْضِ عَيْنٌ تَطْرِفُ إِنَّمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَأْتِي عَلَى النَّاسِ مِائَةُ سَنَةٍ وَعَلَى الْأَرْضِ عَيْنٌ تَطْرِفُ مِمَّنْ هُوَ حَيٌّ الْيَوْمَ وَاللَّهِ إِنَّ رَجَاءَ هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْدَ مِائَةِ عَامٍ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
একবার আবু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এলেন। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন, আপনিই কি সেই ব্যক্তি, যে বলে, মানুষের ওপর একশো বছর এমন অবস্থায় অতিক্রম করবে না। যখন পৃথিবীতে কোন ব্যক্তি জীবিত থাকবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন ঠিকই যে, মানুষের ওপর একশো বছর এমন অবস্থায় অতিক্রম করবে না যখন পৃথিবীতে কেউ জীবিত থাকবে। তবে সেটা বলেছিলেন আজ যারা জীবিত তাদের সম্পর্কে। আল্লাহর কসম, এ জাতির আশা ভরসা একশো বছর পর।” (অর্থাৎ সাধারণতঃ এ উম্মাতের লোকেরা একশো বছরের কম আয়ুষ্কাল পাবে এবং প্রতি একশো বছর পর তাদের জীবনে শুভ পরিবর্তন আসবে।) [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ مَوْلَى امْرَأَتِهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ خَرَجَ الشَّيَاطِينُ يُرَبِّثُونَ النَّاسَ إِلَى أَسْوَاقِهِمْ وَمَعَهُمْ الرَّايَاتُ وَتَقْعُدُ الْمَلَائِكَةُ عَلَى أَبْوَابِ الْمَسَاجِدِ يَكْتُبُونَ النَّاسَ عَلَى قَدْرِ مَنَازِلِهِمْ السَّابِقَ وَالْمُصَلِّيَ وَالَّذِي يَلِيهِ حَتَّى يَخْرُجَ الْإِمَامُ فَمَنْ دَنَا مِنْ الْإِمَامِ فَأَنْصَتَ أَوْ اسْتَمَعَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ كِفْلَانِ مِنْ الْأَجْرِ وَمَنْ نَأَى عَنْهُ فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ كِفْلٌ مِنْ الْأَجْرِ وَمَنْ دَنَا مِنْ الْإِمَامِ فَلَغَا وَلَمْ يُنْصِتْ وَلَمْ يَسْتَمِعْ كَانَ عَلَيْهِ كِفْلَانِ مِنْ الْوِزْرِ وَمَنْ نَأَى عَنْهُ فَلَغَا وَلَمْ يُنْصِتْ وَلَمْ يَسْتَمِعْ كَانَ عَلَيْهِ كِفْلٌ مِنْ الْوِزْرِ وَمَنْ قَالَ صَهٍ فَقَدْ تَكَلَّمَ وَمَنْ تَكَلَّمَ فَلَا جُمُعَةَ لَهُ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا سَمِعْتُ نَبِيَّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
জুমুআর দিন হলে শয়তানরা দলে দলে বের হয় এবং মানুষকে তাদের বাজারে আটকে রাখে। তখন তাদের হাতে পতাকা থাকে। আর ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় বসে, মানুষের উপস্থিতির ধারাবাহিকতা অনুযায়ী তাদের নাম লেখে। যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম আসে প্রথমে তার নাম, তার পরে যে নামাযে আসে তার নাম, তারপরে পরবর্তী জনের নাম। অবশেষে যখন ইমাম বের হন, তখন যে ব্যক্তি ইমামের কাছে অবস্থান করে, চুপ করে শ্রবণ করে এবং কোন বেহুদা কাজ করে না, তার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি ইমাম থেকে দূরে অবস্থান করে; কিন্তু চুপ করে শ্রবণ করে ও কোন বেহুদা কাজ করে না, সে একগুণ সাওয়াব পায়। আর যে ব্যক্তি ইমামের নিকটে অবস্থান করে, অথচ নীরবতা অবলম্বন করে না, শ্রবণ করে না এবং বেহুদা কাজ করে, তার দ্বিগুণ গুনাহ হবে। আর যে ইমাম থেকে দূরে থাকবে; কিন্তু নীরবে শুনবে না, উপরন্তু বেহুদা কাজ করবে, তার এক গুণ গুনাহ হবে। আর যে ব্যক্তি বলবেঃ “চুপ কর”, সে কথা বলেছে বলে ধরে নেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি জুমুআর সময় কথা বলে, তার জুমুআ আদায় হয় না। তারপর বললেনঃ তোমাদের নবীর কাছ থেকে এ রকমই আমি শুনেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮১]
[আবু দাউদ ১০৫১]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُلْتَمَسَ الرَّجُلُ مِنْ أَصْحَابِي كَمَا تُلْتَمَسُ الضَّالَّةُ فَلَا يُوجَدُ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ আমার একজন সাহাবীকে হারানো জিনিস খোঁজার মত হন্যে হয়ে খোঁজা হবে, কিন্তু পাওয়া যাবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮২]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مُجَالِدٍ حَدَّثَنِي عَامِرٌ عَنْ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَشَرَةً آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَالْحَالَّ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ وَمَانِعَ الصَّدَقَةِ وَالْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
দশ ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশাপ দিয়েছেন, সুদখোর, সুদদাতা, সুদ সংক্রান্ত বিষয়ের লেখক, সুদের দুইজন সাক্ষী, হিল্লাকারী, যার জন্যে হিল্লা করা হয়, যে ব্যক্তি যাকাত দেয় না, উল্কি অঙ্কনকারী, যে উল্কি করায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৩]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ الشَّاعِرُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ مُوسَى بْنِ سَالِمٍ أَبِي جَهْضَمٍ أَنَّ أَبَا جَعْفَرٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حَدَّثَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَانِي عَنْ ثَلَاثَةٍ قَالَ فَمَا أَدْرِي لَهُ خَاصَّةً أَمْ لِلنَّاسِ عَامَّةً نَهَانِي عَنْ الْقَسِّيِّ وَالْمِيثَرَةِ وَأَنْ أَقْرَأَ وَأَنَا رَاكِعٌ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটে কাজ করতে নিষেধ করেছেনঃ (বর্ণনাকারী বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা শুধু তাঁর জন্য না। সবার জন্য তা আমি জানি না)। রেশমের জামা পরতে, রেশমে তৈরী জিন বা গদি ব্যবহার করতে এবং (নামাযে) রুকু’ অবস্থায় কুরআন পড়তে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৪]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُودَى الْمُكَاتَبُ بِقَدْرِ مَا أَدَّى
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুকাতাব (মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি লাভের চুক্তি সম্পাদনকারী দাস) যতটা মুক্তিপণ পরিশোধ করবে, ততটুকু স্বাধীনতা লাভ করবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَرِيَّةً وَاسْتَعْمَلَ عَلَيْهِمْ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ قَالَ فَلَمَّا خَرَجُوا قَالَ وَجَدَ عَلَيْهِمْ فِي شَيْءٍ فَقَالَ قَالَ لَهُمْ أَلَيْسَ قَدْ أَمَرَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تُطِيعُونِي قَالَ قَالُوا بَلَى قَالَ فَقَالَ اجْمَعُوا حَطَبًا ثُمَّ دَعَا بِنَارٍ فَأَضْرَمَهَا فِيهِ ثُمَّ قَالَ عَزَمْتُ عَلَيْكُمْ لَتَدْخُلُنَّهَا قَالَ فَهَمَّ الْقَوْمُ أَنْ يَدْخُلُوهَا قَالَ فَقَالَ لَهُمْ شَابٌّ مِنْهُمْ إِنَّمَا فَرَرْتُمْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ النَّارِ فَلَا تَعْجَلُوا حَتَّى تَلْقَوْا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنْ أَمَرَكُمْ أَنْ تَدْخُلُوهَا فَادْخُلُوا قَالَ فَرَجَعُوا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرُوهُ فَقَالَ لَهُمْ لَوْ دَخَلْتُمُوهَا مَا خَرَجْتُمْ مِنْهَا أَبَدًا إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও একটি সেনাদল পাঠিয়েছিলেন। তাদের সেনাপতি হিসাবে আনসারদের একজনকে নিযুক্ত করে দিয়েছেন। সফরে বের হওয়ার পর সেনাপতি তাদের ওপর কোন কারণে রেগে গেলেন। তখন সেনাপতি তাদেরকে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে আমার আনুগত্য করতে বলেছেন, তাই নয় কি? তারা বললোঃ হ্যাঁ, বলেছেন। তখন তিনি বললেনঃ কিছু কাষ্ঠ যোগাড় কর। তারপর তাতে আগুন ধরাতে আদেশ দিলেন। তারপর বললেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তোমরা এই আগুনের ভেতর ঢুকবে। সঙ্গে সঙ্গে তারা আগুনে ঢুকতে প্রস্তুত হয়ে গেল।
সহসা তাদের মধ্যকার এক যুবক বললোঃ তোমরা তো আগুন থেকে বাঁচার জন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আশ্রয় নিয়েছ। কাজেই তাড়াহুড়ো করো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাত করা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। তিনি যদি আগুনে ঢুকবার আদেশ দেন তাহলে ঢুকো। অতঃপর সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে গেল এবং তাকে পুরো ঘটনা জানালো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা যদি আগুনে ঢুকতে, তবে আর কখনো তা থেকে বের হতে পারতে না। (অর্থাৎ তোমাদের চিরতরে জাহান্নামের অধিবাসী হতে হতো।) মনে রেখ, আনুগত্য শুধু সৎকাজে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا أَبِي سَمِعْتُ الْأَعْمَشَ يُحَدِّثُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لِلنَّاسِ مَا تَرَوْنَ فِي فَضْلٍ فَضَلَ عِنْدَنَا مِنْ هَذَا الْمَالِ فَقَالَ النَّاسُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَدْ شَغَلْنَاكَ عَنْ أَهْلِكَ وَضَيْعَتِكَ وَتِجَارَتِكَ فَهُوَ لَكَ فَقَالَ لِي مَا تَقُولُ أَنْتَ فَقُلْتُ قَدْ أَشَارُوا عَلَيْكَ فَقَالَ لِي قُلْ فَقُلْتُ لِمَ تَجْعَلُ يَقِينَكَ ظَنًّا فَقَالَ لَتَخْرُجَنَّ مِمَّا قُلْتَ فَقُلْتُ أَجَلْ وَاللَّهِ لَأَخْرُجَنَّ مِنْهُ أَتَذْكُرُ حِينَ بَعَثَكَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاعِيًا فَأَتَيْتَ الْعَبَّاسَ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَمَنَعَكَ صَدَقَتَهُ فَكَانَ بَيْنَكُمَا شَيْءٌ فَقُلْتَ لِي انْطَلِقْ مَعِي إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَجَدْنَاهُ خَاثِرًا فَرَجَعْنَا ثُمَّ غَدَوْنَا عَلَيْهِ فَوَجَدْنَاهُ طَيِّبَ النَّفْسِ فَأَخْبَرْتَهُ بِالَّذِي صَنَعَ فَقَالَ لَكَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوُ أَبِيهِ وَذَكَرْنَا لَهُ الَّذِي رَأَيْنَاهُ مِنْ خُثُورِهِ فِي الْيَوْمِ الْأَوَّلِ وَالَّذِي رَأَيْنَاهُ مِنْ طِيبِ نَفْسِهِ فِي الْيَوْمِ الثَّانِي فَقَالَ إِنَّكُمَا أَتَيْتُمَانِي فِي الْيَوْمِ الْأَوَّلِ وَقَدْ بَقِيَ عِنْدِي مِنْ الصَّدَقَةِ دِينَارَانِ فَكَانَ الَّذِي رَأَيْتُمَا مِنْ خُثُورِي لَهُ وَأَتَيْتُمَانِي الْيَوْمَ وَقَدْ وَجَّهْتُهُمَا فَذَاكَ الَّذِي رَأَيْتُمَا مِنْ طِيبِ نَفْسِي فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ صَدَقْتَ وَاللَّهِ لَأَشْكُرَنَّ لَكَ الْأُولَى وَالْآخِرَةَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছে উপস্থিত লোকদেরকে বললেনঃ আমাদের নিকট জনগণের সম্পদের কিছু যে উদ্ধৃত্ত রয়ে গেছে, সে সম্পর্কে তোমাদের মত কী? লোকেরা বললোঃ হে আমীরুল মুমিনীন, আমরা আপনাকে আপনার পরিবার থেকে, আপনার জমিজমা থেকে এবং আপনার ব্যবসায় থেকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছি। কাজেই এই উদ্ধৃত্ত সম্পদটুকু আপনার থাকুক। অতঃপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেনঃ আপনি কি বলেন? আমি বললামঃ লোকেরা তো আপনার দিকেই ইঙ্গিত করেছে। তিনি বললেনঃ আপনি বলুন। আমি বললামঃ আপনি আপনার নিশ্চিত বিশ্বাসকে ধারণায় পরিণত করলেন কেন? উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আপনি যা বলেছেন, তা থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসবেন। (অর্থাৎ পরিবর্তন করবেন।) আমি বললামঃ বেশ, আল্লাহর কসম, আমি এ মত থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসবো। আপনার কি মনে পড়ে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আপনাকে যাকাত আদায়কারী হিসাবে পাঠিয়েছিলেন, তখন আপনি আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিবের কাছে উপস্থিত হলেন, তিনি তাঁর যাকাত আপনার কাছে দিলেন না, ফলে আপনাদের দু’জনের মধ্যে কিছু তর্ক হয়েছিল।
তখন আপনি আমাকে বললেনঃ আমার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে চলুন। আমরা গেলাম এবং তাকে খানিকটা বিব্রত দেখতে পেলাম। তা দেখে আমরা ফিরে এলাম। পুনরায় পরদিন সকালে তার কাছে গেলাম। দেখলাম, তার মন প্রফুল্প আছে। আপনি তাকে ইতিপূর্বে তিনি যা যা করেছেন তা জানালেন। তিনি আপনাকে বললেনঃ তুমি কি জানোনা, চাচা বাপের সহোদর ভাই? আর আমরা তাকে প্রথম দিন যে বিব্রত অবস্থায় দেখেছি, তার উল্লেখ করলাম, আর দ্বিতীয় দিন যে প্রফুল্ল অবস্থায় দেখলাম তারও উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা দু’জন যখন প্রথম দিন আমার কাছে এসেছিলে, তখন আমার নিকট যাকাতের দুই দিনার বণ্টন করা বাকী ছিল। সেটাই ছিল আমাকে বিব্রত অবস্থায় দেখার কারণ। আর আজকে যখন তোমরা আমাকে দেখছ, তখন আমি ঐ দুটো দিনার বণ্টন করে ফেলেছি। সেজন্যই আজ আমাকে প্রফুল্ল দেখছি। তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আপনি সত্য বলেছেন। আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে প্রথম দিন ও দ্বিতীয় দিন- উভয় দিনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। (অর্থাৎ উদ্বৃত্ত সম্পদ বণ্টন করাই জরুরী।) [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৭]
[তিরমিযী ৩৭৬০]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস


حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نَزَلَ بِي كَرْبٌ أَنْ أَقُولَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিখিয়েছেন, যখন আমার ওপর কোন কঠিন বিপদ আসে, তখন যেন (এই দু’আ) পড়িঃ
لَا إِلَهَ إِلا اللهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللهِ، وَتَبَارَكَ اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি পরম সহনশীল ও দয়ালু, আল্লাহ সব দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত। আল্লাহ পরম বরকতময়, তিনি মহান আরশের অধিপতি এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমস্ত জগতের পালনকর্তা।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ زَاذَانَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَرَكَ مَوْضِعَ شَعَرَةٍ مِنْ جَنَابَةٍ لَمْ يُصِبْهَا مَاءٌ فَعَلَ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ كَذَا وَكَذَا مِنْ النَّارِ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَمِنْ ثَمَّ عَادَيْتُ شَعْرِي
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি একটি পশমের জায়গাও জানাবাতের গোসলে পানি পৌছাতে বাদ রাখবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জাহান্নামে এরূপ এরূপ শাস্তি দেবেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এ কারণেই আমি আমার প্রতিটি চুল ও পশমকে কঠোরভাবে কচলাই। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮৯]
[আবু দাউদ ২৪৯, ইবনু মাজাহ ৫৯৯]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُفِّنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَبْعَةِ أَثْوَابٍ
মুহাম্মাদ বিন আলী ইবনুল হানাফিয়া তাঁর পিতা থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাতটি কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিলো। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৯০]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَاجِشُونُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْفَضْلِ وَالْمَاجِشُونُ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ عَنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا كَبَّرَ اسْتَفْتَحَ ثُمَّ قَالَ وَجَّهْتُ وَجْهِي لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا أَنَا مِنْ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنْ الْمُسْلِمِينَ قَالَ أَبُو النَّضْرِ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ وَكَانَ إِذَا رَكَعَ قَالَ اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَمُخِّي وَعِظَامِي وَعَصَبِي وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرَّكْعَةِ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ وَإِذَا سَجَدَ قَالَ اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ فَصَوَّرَهُ فَأَحْسَنَ صُوَرَهُ فَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ فَإِذَا سَلَّمَ مِنْ الصَّلَاةِ قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবীর তাহরীমা বলতেন, তখন শুরুর দু’আ (সানা) পড়তেন, তারপর বলতেনঃ
"যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তাঁর দিকে একমুখী ও আত্মসমর্পণকারী হয়ে ফিরলাম, আমি মুশরিক নই, আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সর্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোন শরীক নেই, আমাকে এরই নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং আমিই প্রথম আত্মসমর্পণকারী। হে আল্লাহ, (তুমিই বাদশাহ) তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তুমি আমার প্রতিপালক, আমি তোমার দাস, আমি নিজের ওপর যুলম করেছি, আমি নিজের গুনাহর কথা স্বীকার করছি। সুতরাং আমার সকল গুনাহ মাফ করে দাও, তুমি ছাড়া তো কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না। আমাকে সর্বোত্তম চরিত্র অর্জনের পথ দেখাও। তুমি ছাড়া তো সর্বোত্তম চরিত্রের পথ আর কেউ দেখাতে পারে না। আমার কাছ থেকে খারাপ চরিত্র দূর করে দাও। আমার কাছ থেকে খারাপ চরিত্র তুমি ছাড়া আর কেউ দূর করতে পারে না। তুমি বরকতময় ও মহান। তোমার নিকট ক্ষমা চাই ও তাওবা করি।"
আর যখন তিনি রুকু দিতেন বলতেনঃ
হে আল্লাহ্, তোমার জন্যই রুকু করলাম, তোমার উপরই ঈমান আনলাম তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম, আমার কান, চোখ, মগজ, হাড়গোড় ও ধমনী সবই তোমার অনুগত।
আর রুকু থেকে মাথা তুলে বলতেনঃ
সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ। হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার জন্য আকাশ, পৃথিবী ও তার মাঝখানে যত জায়গা রয়েছে, তার পূর্তি পরিমাণ এবং তারপর আর যে জিনিস তোমার ইচ্ছা তার পূর্তি পরিমাণ প্রশংসা।
আর যখন সিজদায় যেতেন বলতেনঃ
হে আল্লাহ, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম। আমার মুখমণ্ডল আল্লাহর সামনে সিজদায় নত হলো, যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, তাকে রূপ দান করেছেন এবং সুন্দর রূপ দান করেছেন। তার কান ও চোখ খুলে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা বরকতময়।”
তারপর সালাম ফিরিয়ে যখন নামায শেষ করতেন তখন বলতেনঃ
হে আল্লাহ, আমার আগের গুনাহ, পরের গুনাহ, গোপন গুনাহ, প্রকাশ্য গুনাহ, অপচয়ের গুনাহ এবং যে গুনাহ তুমি আমার চেয়েও ভালো জান- সবই মাফ করে দাও। তুমি অনাদি, তুমি অনন্ত। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৯১]
[মুসলিম ৭৭১, ইবনু খুযাইমা 8৬২, ৪৬৩, ৪৬8, ৫৮8, ৬০৭, ৬১২, ৬৭৩, ৭২৩, ৭8৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا فِطْرٌ عَنِ الْمُنْذِرِ عَنِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ قَالَ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ وُلِدَ لِي بَعْدَكَ وَلَدٌ أُسَمِّيهِ بِاسْمِكَ وَأُكَنِّيهِ بِكُنْيَتِكَ قَالَ نَعَمْ فَكَانَتْ رُخْصَةً مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَلِيٍّ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাকে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার পরে যদি আমার কোন পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তবে কি তার নাম আপনার নামে ও তার ডাকনাম আপনার ডাকনামে রাখবো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, রেখো? এভাবে আলীর জন্য এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে একটা অনুমতি হিসাবে বিবেচিত। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৯২]
[আবু দাউদ ৪৯৬৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ عَهِدَ إِلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ لَا يُحِبُّكَ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَلَا يُبْغِضُكَ إِلَّا مُنَافِقٌ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, মুমিন ছাড়া কেউ তোমাকে ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ব্যতীত কেউ তোমাকে ঘূণা করবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৯৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سَلَمَةَ عَنْ حُجَيَّةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَسْتَشْرِفَ الْعَيْنَ وَالْأُذُنَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন, যেন কুরবানীর জন্তুর চোখ ও কানে খুঁত আছে কিনা ভালোভাবে দেখে নেই। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৯৪]
[ইবনু খুযাইমা ২৯১৪, ২৯১৫; ইবনু মাজা ৩১৪৩; তিরমিযী ১৫০৩, নাসায়ী ২১৭/৭]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ قَالَ كُنَّا نَسِيرُ مَعَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَإِذَا رَجُلٌ يُلَبِّي بِهِمَا جَمِيعًا فَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَنْ هَذَا فَقَالُوا عَلِيٌّ فَقَالَ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنِّي قَدْ نَهَيْتُ عَنْ هَذَا قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لَمْ أَكُنْ لِأَدَعَ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِقَوْلِكَ
মারওয়ান বিন হাকাম থেকে বর্ণিতঃ
আমরা উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ভ্রমণ করছিলাম। সহসা এক ব্যক্তিকে দেখলাম, হজ্জ ও উমরা উভয়ের জন্য তালবিয়া পড়ছে। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ এই ব্যক্তি কে? লোকেরা বললোঃ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তুমি কি জানতে না আমি এক সাথে হজ্জ ও উমরার তালবিয়া পড়তে নিষেধ করেছি? আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ জানতাম। কিন্তু আপনার কথার জন্য আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বর্জন করতে প্রস্তুত নই। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৯৫]
[বুখারী ১৫৬৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ حُجَيَّةَ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ الْبَقَرَةِ فَقَالَ عَنْ سَبْعَةٍ فَقَالَ مَكْسُورَةُ الْقَرْنِ فَقَالَ لَا يَضُرُّكَ قَالَ الْعَرْجَاءُ قَالَ إِذَا بَلَغَتْ الْمَنْسَكَ فَاذْبَحْ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَسْتَشْرِفَ الْعَيْنَ وَالْأُذُنَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলো গরু কুরবানী সম্পর্কে। তিনি বললেন, একটা গরু সাত ব্যক্তির পক্ষ থেকে জবাই করা যাবে। সে বললোঃ শিং ভাঙ্গা হলে? তিনি বললেনঃ ক্ষতি নেই। সে বললোঃ যদি খোঁড়া হয়? তিনি বললেনঃ গরুটি যদি যাবাইখানা পর্যন্ত যেতে পারে তাহলে যাবাই কর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জন্তুর চোখ ও কান দেখে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৯৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ وَأَبُو عَمْرِو بْنِ الْعَلَاءِ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ سَمِعَاهُ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ قَوْمٌ فِيهِمْ رَجُلٌ مُودَنُ الْيَدِ أَوْ مَثْدُونُ الْيَدِ أَوْ مُخْدَجُ الْيَدِ وَلَوْلَا أَنْ تَبْطَرُوا لَأَنْبَأْتُكُمْ بِمَا وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ يَقْتُلُونَهُمْ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَبِيدَةُ قُلْتُ لِعَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَأَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক শ্রেণীর লোকের আবির্ভাব ঘটবে যাদের হাত খাটো বা অসম্পূর্ণ হবে। তোমরা যদি অহংকার না করতে, তবে আমি তোমাদেরকে জানাতাম, যারা তাদেরকে হত্যা করবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাঁর নবীর মুখ দিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সে সম্পর্কে। আবিদা বলেনঃ আমি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে এ কথা শুনেছেন? তিনি বললেনঃ কাবার প্রভুর কসম, হ্যাঁ, কা’বার প্রভুর কসম, হ্যাঁ। কা’বার প্রভুর কসম, হ্যাঁ। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৯৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى الثَّعْلَبِيِّ عَنْ أَبِي جَمِيلَةَ الطُّهَوِيِّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ خَادِمًا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْدَثَتْ فَأَمَرَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أُقِيمَ عَلَيْهَا الْحَدَّ فَأَتَيْتُهَا فَوَجَدْتُهَا لَمْ تَجِفَّ مِنْ دَمِهَا فَأَتَيْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ إِذَا جَفَّتْ مِنْ دَمِهَا فَأَقِمْ عَلَيْهَا الْحَدَّ أَقِيمُوا الْحُدُودَ عَلَى مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈকা দাসী সন্তান প্রসব করলো (অর্থাৎ ব্যভিচার জনিত)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ দিলেন, তার ওপর শাস্তি কার্যকর করতে। আমি তার কাছে গেলাম। জানতে পারলাম, তার প্রসবোত্তর রক্তপাত তখনো থামেনি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে এ খবর জানালাম। তিনি বললেনঃ যখন রক্ত বন্ধ হবে তখন শাস্তি কার্যকর কর। তোমাদের দাসদাসীর ওপরও শরিয়াতের শাস্তি কার্যকর কর। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৯৮]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ أَرَى أَنَّ بَاطِنَ الْقَدَمَيْنِ أَحَقُّ بِالْمَسْحِ مِنْ ظَاهِرِهِمَا حَتَّى رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُ ظَاهِرَهُمَا
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
আমি মনে করতাম, পায়ের পিঠের চেয়ে পায়ের তলা মাসেহ করা বেশি যুক্তিসংগত। কিন্তু পরে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’পায়ের পিঠে মাসেহ করছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৯৯]
[আবু দাউদ ১৬২, ১৬৩, ১৬৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عُثْمَانَ الثَّقَفِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نُنْزِيَ حِمَارًا عَلَى فَرَسٍ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাধাকে ঘোড়ার ওপর প্রজনন ক্রিয়া করাতে আমাদেরকে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৭০০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنِ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ اسْتَخْلَفْتُ أَحَدًا عَنْ غَيْرِ مَشُورَةٍ لَاسْتَخْلَفْتُ ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যদি পরামর্শ ছাড়া কাউকে খালীফা নিযুক্ত করতাম তাহলে ইবনে উম্মে আবদকে নিযুক্ত করতাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৭০১]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى حَدَّثَنَا عَلِيٌّ أَنَّ فَاطِمَةَ شَكَتْ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَثَرَ الْعَجِينِ فِي يَدَيْهَا فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْيٌ فَأَتَتْهُ تَسْأَلُهُ خَادِمًا فَلَمْ تَجِدْهُ فَرَجَعَتْ قَالَ فَأَتَانَا وَقَدْ أَخَذْنَا مَضَاجِعَنَا قَالَ فَذَهَبْتُ لِأَقُومَ فَقَالَ مَكَانَكُمَا فَجَاءَ حَتَّى جَلَسَ حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَ قَدَمَيْهِ فَقَالَ أَلَا أَدُلُّكُمَا عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ لَكُمَا مِنْ خَادِمٍ إِذَا أَخَذْتُمَا مَضْجَعَكُمَا سَبَّحْتُمَا اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَحَمِدْتُمَاهُ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَكَبَّرْتُمَاهُ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
ফাতিমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে ফরিয়াদ জানালেন যে, আটা বানাতে বানাতে তাঁর হাতে দাগ পড়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আগত দাসদাসীর মধ্য থেকে তাঁকে একটা দাসী দিতে তিনি অনুরোধ করলেন কিন্তু পেলেন না। অগত্যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু ফিরে গেলেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমরা যখন বিছানায় গিয়েছি, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। আমি উঠে তাঁর কাছে যেতে উদ্যত হলে তিনি বললেনঃ তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাক। তিনি এলেন এবং বসলেন। আমি তাঁর পায়ের শীতলতাও অনুভব করলাম। তারপর বললেনঃ একজন দাসী পাওয়ার চেয়ে তোমাদের জন্য যেটা বেশি উপকারী ও লাভজনক তা কি আমি বলে দেব না? যখন তোমরা বিছানায় যাবে তখন তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আল হামদুলিল্লাহ এবং চৌত্রিশ বার আল্লাহু আকবার বলবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৭০২]
[বুখারী ৩১১৩, মুসলিম ২৭২৭, ইবনু হিব্বান ৫৫২৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَبِيبٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الْأَسَدِيِّ قَالَ قَالَ لِي عَلِيٌّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ لَا تَدَعَ تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتَهُ وَلَا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ
আবুল হাইয়ায আসাদী থেকে বর্ণিতঃ
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যে কাজ করতে পাঠিয়েছিলেন, আমি তোমাকে সেই কাজ করতে পাঠাবো। প্রত্যেকটি মূর্তি তুমি বিকৃত করবে এবং প্রত্যেকটি উঁচু কবরকে সমান করে দেবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৭০৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ ثُوَيْرِ بْنِ أَبِي فَاخِتَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ هَذِهِ السُّورَةَ سَبِّحْ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা” এ সূরাটি খুব ভালোবাসতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৭০৪]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَحَدُهُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَانَتْ لِي مِائَةُ دِينَارٍ فَتَصَدَّقْتُ مِنْهَا بِعَشَرَةِ دَنَانِيرَ وَقَالَ الْآخَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَانَ لِي عَشَرَةُ دَنَانِيرَ فَتَصَدَّقْتُ مِنْهَا بِدِينَارٍ وَقَالَ الْآخَرُ كَانَ لِي دِينَارٌ فَتَصَدَّقْتُ بِعُشْرِهِ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّكُمْ فِي الْأَجْرِ سَوَاءٌ كُلُّكُمْ تَصَدَّقَ بِعُشْرِ مَالِهِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
তিন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এল। এক ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার কাছে একশো দিনার ছিল, আমি তা থেকে দশ দিনার সাদাকা করেছি। আরেকজন বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার দশ দিনার ছিল, তা থেকে এক দিনার সাদাকা করেছি। আরেকজন বললোঃ আমার এক দিনার ছিল, তার দশভাগের এক ভাগ সাদাকা করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সবাই সমান সাওয়াব পাবে। সকলেই নিজের সম্পদের এক দশমাংশ সাদাকা করেছ। [মুসনাদে আহমাদ : ৭০৫]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ وَمِسْعَرٌ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هُرْمُزَ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَثْنَ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ ضَخْمَ الْكَرَادِيسِ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বরকতময় মাথা ছিল লাল-সাদা এবং তাঁর দাড়ি ছিল ঘন, তাঁর হাড় ছিল অত্যন্ত মজবুত, তাঁর হাতের তালুদ্বয় ও পা দ্বয় হৃষ্ট-পুষ্ট ও গ্রন্থিগুলো মাংসে পূর্ণ ছিল এবং তাঁর চুলের লম্বা লাইন ছিল। সামান্য কোঁকড়ানো চুল ছিল, হাঁটতে হাঁটতে ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতেন, মনে হতো যেন একটি গিরিখাত থেকে নেমে আসছেন, খুব লম্বা এবং খুব ছোট ছিল না, আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি। [মুসনাদে আহমাদ : ৭০৬]
[তিরমিযী ৩৬৩৭]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস


حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ زَائِدَةَ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ حَنَشٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا تَقَدَّمَ إِلَيْكَ خَصْمَانِ فَلَا تَسْمَعْ كَلَامَ الْأَوَّلِ حَتَّى تَسْمَعَ كَلَامَ الْآخَرِ فَسَوْفَ تَرَى كَيْفَ تَقْضِي قَالَ فَقَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَمَا زِلْتُ بَعْدَ ذَلِكَ قَاضِيًا
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে ইয়েমেনে পাঠানোর ইচ্ছা করেছিলেন, তাই আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে এমন লোকের কাছে পাঠাচ্ছেন যারা আমার চেয়ে বড় এবং আমি একজন কিশোর, আমি হৃদয়কে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারি না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ হে আলী! তোমার কাছে যখন দুই ব্যক্তি বাদী ও বিবাদী হয়ে আসবে, তখন একজনকে বাদ দিয়ে অপরজনের বক্তব্য শুনো না। দু’জনেরই বক্তব্য শুনলে বুঝবে কিভাবে বিচার করতে হয়। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এরপর থেকে আমি বিচারক হিসাবে কাজ করতে লাগলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৭০৭]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا وَكِيعٌ أَنْبَأَنَا الْمَسْعُودِيُّ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هُرْمُزَ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ بِالطَّوِيلِ وَلَا بِالْقَصِيرِ ضَخْمُ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ شَثْنُ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ مُشْرَبٌ وَجْهُهُ حُمْرَةً طَوِيلُ الْمَسْرُبَةِ ضَخْمُ الْكَرَادِيسِ إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ تَكَفُّؤًا كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ مِنْ صَبَبٍ لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ مِثْلَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি খাটোও ছিলেন না, বেশি লম্বাও ছিলেন না, মাথা ও দাড়ি ছিল বড়, হাতের তালু ও পায়ের পাতা হৃষ্ট-পুষ্ট। চেহারায় লালিমা মিশ্রিত ছিল। দীর্ঘ লোমশ বুক এবং গ্রন্থিগুলো মাংসে পরিপূর্ণ ছিল। যখন হাঁটতেন, থেমে থেমে হাঁটতেন যেন কোন উঁচু জায়গা থেকে নামছেন, তাঁর পূর্বে বা পরে তাঁর মত মানুষ আমি আর দেখিনি। [মুসনাদে আহমাদ : ৭০৮]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَنْبَأَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ ثُوَيْرِ بْنِ أَبِي فَاخِتَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَهْدَى كِسْرَى لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَبِلَ مِنْهُ وَأَهْدَى لَهُ قَيْصَرُ فَقَبِلَ مِنْهُ وَأَهْدَتْ لَهُ الْمُلُوكُ فَقَبِلَ مِنْهُمْ
আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিতঃ
পারস্য সম্রাট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। রোম সম্রাট তাকে হাদিয়া পাঠিয়েছেন, তাও তিনি গ্রহণ করেছেন, বহু রাজা বাদশাহ তাকে উপহার উপটৌকন পাঠাতেন এবং তিনি তা গ্রহণ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৭০৯]
[তিরমিযী ১৫৭৬]
হাদিসের মান : যঈফ হাদিস