(৩) হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৩৭৬-৫০৫), সর্বমোট হাদিসঃ ১৩০টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৭০টি]



436 OK

(৪৩৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৭৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مَالِكٍ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُحْرِمُ لَا يَنْكِحُ وَلَا يُنْكِحُ وَلَا يَخْطُبُ


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইহরাম বেঁধেছে, সে বিয়ে করবে না, করাবেও না এবং বিয়ের প্রস্তাবও পাঠাবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৩৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



437 OK

(৪৩৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯২] view_link


যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ أَخْبَرَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ مَوْلَى حَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ رَبَاحٍ قَالَ زَوَّجَنِي أَهْلِي أَمَةً لَهُمْ رُومِيَّةً فَوَقَعْتُ عَلَيْهَا فَوَلَدَتْ لِي غُلَامًا أَسْوَدَ مِثْلِي فَسَمَّيْتُهُ عَبْدَ اللَّهِ ثُمَّ وَقَعْتُ عَلَيْهَا فَوَلَدَتْ لِي غُلَامًا أَسْوَدَ مِثْلِي فَسَمَّيْتُهُ عُبَيْدَ اللَّهِ ثُمَّ طَبِنَ لَهَا غُلَامٌ لِأَهْلِي رُومِيٌّ يُقَالُ لَهُ يُوحَنَّسُ فَرَاطَنَهَا بِلِسَانِهِ قَالَ فَوَلَدَتْ غُلَامًا كَأَنَّهُ وَزَغَةٌ مِنْ الْوَزَغَاتِ فَقُلْتُ لَهَا مَا هَذَا قَالَتْ هُوَ لِيُوحَنَّسَ قَالَ فَرُفِعْنَا إِلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مَهْدِيٌّ أَحْسَبُهُ قَالَ سَأَلَهُمَا فَاعْتَرَفَا فَقَالَ أَتَرْضَيَانِ أَنْ أَقْضِيَ بَيْنَكُمَا بِقَضَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى أَنَّ الْوَلَدَ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرَ قَالَ مَهْدِيٌّ وَأَحْسَبُهُ قَالَ جَلَدَهَا وَجَلَدَهُ وَكَانَا مَمْلُوكَيْنِ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ أَبُو مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ رَبَاحٍ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ فَرَفَعْتُهُمَا إِلَى أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى أَنَّ الْوَلَدَ لِلْفِرَاشِ فَذَكَرَ مِثْلَهُ


রাবাহ থেকে বর্ণিতঃ

আমার পরিবার আমাকে তাদের জনৈক রোমক দাসীর সাথে বিয়ে দিল। তার গর্ভে আমারই মত কালো একটা ছেলে জন্ম নিল। আমি তার নাম রাখলাম আবদুল্লাহ। এরপরে পুনরায় তার গর্ভে আমার মত কালো আরো একটা ছেলে ভূমিষ্ঠ হলো। আমি তার নাম রাখলাম উবাইদুল্লাহ। এরপর আমার পরিবারের আর একটি রোমক গোলাম- যার নাম ইউহান্‌স- দাসীটির কাছে সুদর্শন ও উজ্জ্বল মনে হলো। (অর্থাৎ ভালো লাগলো।) গোলামটি দাসীটির সাথে তার ভাষায় কথা বললো। (অর্থাৎ রোমক ভাষায়) এরপর দাসীটি এমন একটি সন্তান জন্ম দিল যেন তা একটি গিরগিটি। আমি বললাম, এ কী? সে বললোঃ এ সন্তান ইউহানসের। এরপর আমরা আমীরুল মুমিনীন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট বিষয়টি নিয়ে গেলাম।

(বর্ণনাকারী বলেনঃ আমার মনে হয়, তিনি গোলাম ও দাসীটিকে জিজ্ঞাসা করলে তারা উভয়ে (ব্যভিচারের কথা) স্বীকার করলো। তখন আমীরুল মুমিনীন বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিচার অনুসারে তোমাদের দু’জনের বিচার করি, এতে রাজী আছ? অতঃপর তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিচার করেছেন এভাবে যে, বিছানা যার সন্তান তার (অর্থাৎ বিবাহিত স্বামীর) আর ব্যভিচারীর জন্য পাথর। (বর্ণনাকারী বলেনঃ আমার যতদূর মনে হয় তিনি উভয়কে বেত্রাঘাত করেছেন। তারা উভয়েই ছিল দাস ও দাসী।)

[অর্থাৎ বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচার প্রমাণিত হলে তাকে রজম করতে হবে। কিন্তু ব্যভিচারজনিত সন্তানের দায়িত্ব স্বামীর ঘাড়েই অপিত হবে অন্যান্য বৈধ সন্তানের মতই। -অনুবাদক।] [মুসনাদে আহমাদ : ৪৩৭]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



438 OK

(৪৩৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৪১১] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ وَعَفَّانُ الْمَعْنَى قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ قَالَ كُنَّا مَعَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ مَحْصُورٌ فِي الدَّارِ فَدَخَلَ مَدْخَلًا كَانَ إِذَا دَخَلَهُ يَسْمَعُ كَلَامَهُ مَنْ عَلَى الْبَلَاطِ قَالَ فَدَخَلَ ذَلِكَ الْمَدْخَلَ وَخَرَجَ إِلَيْنَا فَقَالَ إِنَّهُمْ يَتَوَعَّدُونِي بِالْقَتْلِ آنِفًا قَالَ قُلْنَا يَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ وَبِمَ يَقْتُلُونَنِي إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ رَجُلٌ كَفَرَ بَعْدَ إِسْلَامِهِ أَوْ زَنَى بَعْدَ إِحْصَانِهِ أَوْ قَتَلَ نَفْسًا فَيُقْتَلُ بِهَا فَوَاللَّهِ مَا أَحْبَبْتُ أَنَّ لِي بِدِينِي بَدَلًا مُنْذُ هَدَانِي اللَّهُ وَلَا زَنَيْتُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلَا فِي إِسْلَامٍ قَطُّ وَلَا قَتَلْتُ نَفْسًا فَبِمَ يَقْتُلُونَنِي حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُمَامَةَ بْنُ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ قَالَ إِنِّي لَمَعَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي الدَّارِ وَهُوَ مَحْصُورٌ وَقَالَ كُنَّا نَدْخُلُ مَدْخَلًا فَذَكَرَ الْحَدِيثَ مِثْلَهُ وَقَالَ قَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ مِثْلَهُ أَوْ نَحْوَهُ


আবু উমামা বিন সাহল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

উসমান যখন তাঁর বাড়িতে অবরুদ্ধ, তখন আমরা তাঁর সাথে ছিলাম। অতঃপর তিনি এমন একটা কক্ষে প্রবেশ করলেন, যেখানে তিনি প্রবেশ করলে তাঁর আওয়ায প্রাসাদের ওপর অবস্থানকারীরা শুনতে পেত। তিনি সেখানে প্রবেশ করে আবার আমাদের কাছে বেরিয়ে এলেন। তিনি বললেন, অবরোধকারীরা আমাকে হত্যারও হুমকি দিচ্ছে। আমরা বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনার পক্ষে আল্লাহই ওদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। (অর্থাৎ প্রতিহত করবেন।) উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমাকে কোন অপরাধে তারা হত্যা করবে? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তিনটি কারণের যে কোন একটি ব্যতীত কোন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়ঃ মুসলিম হওয়ার পর কাফির হওয়া, বিয়ে করার পর ব্যভিচার করা এবং কাউকে হত্যা করা। আল্লাহর কসম, আল্লাহ যেদিন আমাকে হিদায়াত করেছেন, তারপর থেকে আমি কখনো পছন্দ করিনি যে, আমার এই দীনের পরিবর্তে অন্য কোন দীন আমার হোক। জাহিলিয়াতে বা ইসলামে কখনো আমি ব্যভিচার করিনি, আর কাউকে আমি হত্যাও করিনি। তাহলে তারা কী কারণে আমাকে হত্যা করবে? [মুসনাদে আহমাদ : ৪৩৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



439 OK

(৪৩৯)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ ح وَسُرَيْجٌ وَحُسَيْنٌ قَالَا حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ حُسَيْنُ ابْنُ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ مَا يَمْنَعُنِي أَنْ أُحَدِّثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ لَا أَكُونَ أَوْعَى أَصْحَابِهِ عَنْهُ وَلَكِنِّي أَشْهَدُ لَسَمِعْتُهُ يَقُولُ مَنْ قَالَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ وَقَالَ حُسَيْنٌ أَوْعَى صَحَابَتِهِ عَنْهُ


আমের ইবনে সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে সর্বাধিক স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলাম না বলে তার হাদীস বর্ণনায় বিরত থাকিনি। তবে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি অবশ্যই বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি আমি যা বলিনি, তা আমার ওপর আরোপ করবে, (অর্থাৎ মনগড়া হাদীস বলবে) সে জাহান্নামে তার ঠিকানা করে নিবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৩৯]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



440 OK

(৪৪০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمٌ حَدَّثَنَا لَيْثٌ حَدَّثَنِي زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ الْقُرَشِيُّ عَنْ أَبِي صَالِحٍ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي كَتَمْتُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَرَاهِيَةَ تَفَرُّقِكُمْ عَنِّي ثُمَّ بَدَا لِي أَنْ أُحَدِّثَكُمُوهُ لِيَخْتَارَ امْرُؤٌ لِنَفْسِهِ مَا بَدَا لَهُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ مِنْ الْمَنَازِلِ


হজরত উসমান গণি রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর আযাদকৃত ক্রীতদাস আবু সালেহ থেকে বর্ণিতঃ

মিম্বরে খুতবা দেওয়ার সময় হজরত উসমান গণি (রা.)-কে আমি বলতে শুনেছি: লোকেরা! এখন পর্যন্ত আমি তোমাদের কাছে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করিনি যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি যাতে তোমরা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন না হও, কিন্তু এখন আমি মনে করি তোমাদের কাছে তা বর্ণনা করা যথাযথ হবে যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি যা মনে করে তা গ্রহণ করতে পারে। একথা বলতে শোনা যায় যে, আল্লাহর পথে এক দিনের জাগরণ অন্য স্থানে হাজার দিনের জাগ্রত থেকে উত্তম। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



441 OK

(৪৪১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمٌ حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ رَجُلٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ يُرِيدُ سَفَرًا أَوْ غَيْرَهُ فَقَالَ حِينَ يَخْرُجُ بِسْمِ اللَّهِ آمَنْتُ بِاللَّهِ اعْتَصَمْتُ بِاللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ إِلَّا رُزِقَ خَيْرَ ذَلِكَ الْمَخْرَجِ وَصُرِفَ عَنْهُ شَرُّ ذَلِكَ الْمَخْرَجِ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি সফর বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হবার সময় এই দু’আ পড়লে সেই যাত্রার সর্বোত্তম ফল লাভ করবে এবং সেই যাত্রার নিকৃষ্ট ফল থেকে অব্যাহতি লাভ করবেঃ

بِسْمِ اللهِ، آمَنْتُ بِاللهِ، اعْتَصَمْتُ بِاللهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، لَا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ

“আল্লাহর নামে (যাত্রা করলাম), আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম, আল্লাহকে আঁকড়ে ধরলাম, আল্লাহর ওপর নির্ভর করলাম, আল্লাহ ব্যতীত আর কারো কাছ থেকে কল্যাণ লাভ ও অকল্যাণ থেকে রক্ষা পাওয়ার শক্তি পাওয়া যায় না”। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



442 OK

(৪৪২)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ قَالَ دَعَا عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمَاءٍ وَهُوَ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَسَكَبَ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَهَا ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْإِنَاءِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مِرَارٍ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلَاثَ مِرَارٍ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ دَعَا بِإِنَاءٍ فَذَكَرَ نَحْوَهُ


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের আসনে বসা অবস্থায় পানি আনতে বললেন। তারপর পাত্র থেকে পানি ঢেলে ডান হাত ধুলেন। তারপর ডান হাত পাত্রে ঢুকিয়ে নিজের দুই হাতের তালু তিনবার করে ধুলেন। তারপর নিজের মুখমণ্ডল তিনবার করে ধুলেন, তিনবার করে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধুলেন তিনবার করে। তারপর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার এই ওযূর মত ওযূ করবে, তারপর দু’রাকআত নামায এমনভাবে পড়বে যে, নামাযের ভেতরে নিজের সাথে কোন কথা বলবে না, (অর্থাৎ অন্য কোন বিষয়ে চিন্তা করবে না।) তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



443 OK

(৪৪৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৮৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ قَالَ سَمِعْتُ حُمْرَانَ بْنَ أَبَانَ يُحَدِّثُ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَتَمَّ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَالصَّلَوَاتُ الْمَكْتُوبَاتُ كَفَّارَاتٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ অনুসারে পূর্ণাঙ্গভাবে ওযূ করে, তার (পাঁচ ওয়াক্ত) ফারয নামাযসমূহ তার মধ্যবর্তী সকল গুনাহর জন্য কাফফারা স্বরূপ। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



444 OK

(৪৪৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৪১৮] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ أَبِي قُرَّةَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ


উসমানের ছেলে আবান তার পিতা থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই দুআ পাঠ করবে, কোন কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।

بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

“সেই আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আকাশ ও পৃথিবীতে কোন কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্ব শ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৪]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



445 OK

(৪৪৫)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَنْبَأَنَا أَبُو سِنَانٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ مَوْهَبٍ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لِابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اقْضِ بَيْنَ النَّاسِ فَقَالَ لَا أَقْضِي بَيْنَ اثْنَيْنِ وَلَا أَؤُمُّ رَجُلَيْنِ أَمَا سَمِعْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ عَاذَ بِاللَّهِ فَقَدْ عَاذَ بِمَعَاذٍ قَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بَلَى قَالَ فَإِنِّي أَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تَسْتَعْمِلَنِي فَأَعْفَاهُ وَقَالَ لَا تُخْبِرْ بِهَذَا أَحَدًا


ইয়াযীদ বিন মাওহাব থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললেনঃ জনগণের মধ্যে বিচার ফায়সালা কর। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি কোন দুই ব্যক্তির মধ্যে বিচার ফায়সালা করতে পারবো না, এমনকি দু’ব্যক্তির ইমামতিও করতে পারবো না। আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেননি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট আশ্রয় নিয়েছে, সে যথার্থ আশ্রয় নিয়েছে? উসমান বললেন, হ্যাঁ শুনেছি। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ কাজেই আমি আল্লাহর আশ্রয় নিচ্ছি যেন আপনি আমাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করতে না পারেন। অতঃপর উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে অব্যাহতি দিলেন এবং বললেন, এ ব্যাপারটা কাউকে জানাবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৫]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



446 OK

(৪৪৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ عَنْ حُمْرَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সুষ্ঠুভাবে ওযূ করবে, তার শরীর থেকে তার সমস্ত গুনাহ বের হয়ে যাবে, এমনকি তার নখের নিচে থেকেও বের হয়ে যাবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৬]


[মুসলিম-২৪৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



447 OK

(৪৪৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৪১৫] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بِمِنًى يَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ فَلْيُرَابِطْ امْرُؤٌ كَيْفَ شَاءَ هَلْ بَلَّغْتُ قَالُوا نَعَمْ قَالَ اللَّهُمَّ اشْهَدْ


উসমানের মুক্ত গোলাম আবু সালেহ থেকে বর্ণিতঃ

আমি মীনায় উসমানকে বলতে শুনেছি, হে জনতা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে একটি হাদীস শুনেছি, সেটি তোমাদেরকে শুনাচ্ছি। তিনি বলেন, আল্লাহর পথে একদিন পাহারা দেয়া অন্য ক্ষেত্রে এক হাজার দিন পাহারা দেয়ার চেয়ে উত্তম। অতএব, প্রত্যেক মানুষের যেভাবে ইচ্ছা পাহারা দেয়া উচিত। আমি কথাটা পৌছে দিয়েছি তো? সবাই বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৭]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



448 OK

(৪৪৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ قَالَ دَعَا عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمَاءٍ وَهُوَ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَسَكَبَ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَهَا ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْإِنَاءِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مِرَارٍ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلَاثَ مِرَارٍ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ دَعَا بِإِنَاءٍ فَذَكَرَ نَحْوَهُ


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের আসনে বসা অবস্থায় পানি আনতে বললেন। তারপর পাত্র থেকে পানি ঢেলে ডান হাত ধুলেন। তারপর ডান হাত পাত্রে ঢুকিয়ে নিজের দুই হাতের তালু তিনবার করে ধুলেন। তারপর নিজের মুখমণ্ডল তিনবার করে ধুলেন, তিনবার করে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধুলেন তিনবার করে। তারপর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার এই ওযূর মত ওযূ করবে, তারপর দু’রাকআত নামায এমনভাবে পড়বে যে, নামাযের ভেতরে নিজের সাথে কোন কথা বলবে না, (অর্থাৎ অন্য কোন বিষয়ে চিন্তা করবে না।) তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



449 OK

(৪৪৯)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا أَرْطَاةُ يَعْنِي ابْنَ الْمُنْذِرِ أَخْبَرَنِي أَبُو عَوْنٍ الْأَنْصَارِيُّ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لِابْنِ مَسْعُودٍ هَلْ أَنْتَ مُنْتَهٍ عَمَّا بَلَغَنِي عَنْكَ فَاعْتَذَرَ بَعْضَ الْعُذْرِ فَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَيْحَكَ إِنِّي قَدْ سَمِعْتُ وَحَفِظْتُ وَلَيْسَ كَمَا سَمِعْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَيُقْتَلُ أَمِيرٌ وَيَنْتَزِي مُنْتَزٍ وَإِنِّي أَنَا الْمَقْتُولُ وَلَيْسَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّمَا قَتَلَ عُمَرَ وَاحِدٌ وَإِنَّهُ يُجْتَمَعُ عَلَيَّ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

উসমান ইবন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু ইবনে মাসউদকে বললেন, তোমার সম্পর্কে আমার নিকট যে খবর এসেছে, তুমি তা পরিত্যাগ করবে? ইবনে মাসউদ কিছু ওযর পেশ করলেন। উসমান বললেনঃ তোমার জন্য দুঃখ হয়। আমি একটা কথা শুনেছি এবং মনে রেখেছি। তুমি যেমন শুনেছ, তেমন নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন আমীর নিহত হবে, আরেকজন আহত হয়ে রক্তক্ষরণে মারা যাবে। আমিই নিহত হব উমার নয়। উমারকে হত্যা করেছিল এক ব্যক্তি। আর আমার ওপর চড়াও হবে একটি দল। (উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আহত হয়ে রক্তক্ষরণে মারা যান) [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৯]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



450 OK

(৪৫০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ شُعَيْبٍ حَدَّثَنِي أَبِي عَنِ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لَهُ ابْنَ أَخِي أَدْرَكْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ لَا وَلَكِنْ خَلَصَ إِلَيَّ مِنْ عِلْمِهِ وَالْيَقِينِ مَا يَخْلُصُ إِلَى الْعَذْرَاءِ فِي سِتْرِهَا قَالَ فَتَشَهَّدَ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ بَعَثَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَقِّ فَكُنْتُ مِمَّنْ اسْتَجَابَ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ وَآمَنَ بِمَا بُعِثَ بِهِ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ هَاجَرْتُ الْهِجْرَتَيْنِ كَمَا قُلْتُ وَنِلْتُ صِهْرَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَاللَّهِ مَا عَصَيْتُهُ وَلَا غَشَشْتُهُ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু উবাইদুল্লাহ বিন আদী ইবনুল খিয়ারকে বললেন, হে ভাতিজা, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জীবিত পেয়েছ? সে বললো, না, তবে তাঁর জ্ঞান ও বিশ্বাস আমার নিকট এমন নির্ভেজাল ও খাঁটিভাবে পৌছেছে, যেমন খাঁটি ও নির্ভেজাল থাকে কুমারীর কুমারীত্ব তার নির্জন কক্ষে। এরপর উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কালেমা শাহাদাত পাঠ করলেন। তারপর বললেনঃ এখন তোমরা শোন, আল্লাহ তা’আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন, আমি (সেই সত্যকে গ্রহণের জন্য) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দাওয়াত গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি, এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যে বাণী এসেছে তার প্রতি ঈমান আনয়নকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি। তারপর উভয় হিজরতে (হাবশায় ও মদীনায়) শরীক হয়েছি যেমন আগে বলেছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামাতাও হয়েছি। এবং তাঁর নিকট বাইয়াতও করেছি। আল্লাহর কসম, আল্লাহ তাঁকে যেদিন তুলে নিয়েছেন, সেদিন পর্যন্ত আমি কখনো তাঁর নির্দেশ অমান্যও করিনি, তাকে ধোঁকাও দিইনি। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫০]


[বুখারী-৩৬৯৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



451 OK

(৪৫১)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ وَأَخْبَرَنِي الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ مَحْصُورٌ فَقَالَ إِنَّكَ إِمَامُ الْعَامَّةِ وَقَدْ نَزَلَ بِكَ مَا تَرَى وَإِنِّي أَعْرِضُ عَلَيْكَ خِصَالًا ثَلَاثًا اخْتَرْ إِحْدَاهُنَّ إِمَّا أَنْ تَخْرُجَ فَتُقَاتِلَهُمْ فَإِنَّ مَعَكَ عَدَدًا وَقُوَّةً وَأَنْتَ عَلَى الْحَقِّ وَهُمْ عَلَى الْبَاطِلِ وَإِمَّا أَنْ نَخْرِقَ لَكَ بَابًا سِوَى الْبَابِ الَّذِي هُمْ عَلَيْهِ فَتَقْعُدَ عَلَى رَوَاحِلِكَ فَتَلْحَقَ بِمَكَّةَ فَإِنَّهُمْ لَنْ يَسْتَحِلُّوكَ وَأَنْتَ بِهَا وَإِمَّا أَنْ تَلْحَقَ بِالشَّامِ فَإِنَّهُمْ أَهْلُ الشَّامِ وَفِيهِمْ مُعَاوِيَةُ فَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَمَّا أَنْ أَخْرُجَ فَأُقَاتِلَ فَلَنْ أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ خَلَفَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أُمَّتِهِ بِسَفْكِ الدِّمَاءِ وَأَمَّا أَنْ أَخْرُجَ إِلَى مَكَّةَ فَإِنَّهُمْ لَنْ يَسْتَحِلُّونِي بِهَا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يُلْحِدُ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ بِمَكَّةَ يَكُونُ عَلَيْهِ نِصْفُ عَذَابِ الْعَالَمِ فَلَنْ أَكُونَ أَنَا إِيَّاهُ وَأَمَّا أَنْ أَلْحَقَ بِالشَّامِ فَإِنَّهُمْ أَهْلُ الشَّامِ وَفِيهِمْ مُعَاوِيَةُ فَلَنْ أُفَارِقَ دَارَ هِجْرَتِي وَمُجَاوَرَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَنَاه عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَقَالَ يُلْحِدُ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন, তখন মুগীরা বিন শু’বা তার নিকট উপস্থিত হলেন। তারপর উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললেন, আপনি জনগণের নেতা ও শাসক। এখন আপনার ওপর কী বিপদ আপতিত হয়েছে, তাতো দেখতেই পাচ্ছেন। আমি আপনার নিকট তিনটি কর্ম পন্থার প্রস্তাব দিচ্ছি। এর যে কোন একটি গ্রহণ করুনঃ হয় আপনি বেরিয়ে পড়ুন এবং অবরোধকারীদের সাথে যুদ্ধ করুন। আপনার পর্যাপ্ত সংখ্যক বাহিনী ও শক্তি রয়েছে, আপনি ন্যায়ের ওপর এবং ওরা বাতিলের ওপর আছে। অন্যথায়, অবরোধকারীরা যে দরজার ওপর অবস্থান গ্রহণ করেছে, সেটি ছাড়া অন্য একটি দরজা নিজের জন্য বানিয়ে নিন, তারপর বের হয়ে নিজের সওয়ারীর ওপর চড়ে বসুন এবং মক্কায় চলে যান। আপনি মক্কায় থাকা অবস্থায় ওরা কখনোই আপনার রক্তপাত করার সুযোগ পাবে না, অন্যথায়, আপনি (মক্কার পরিবর্তে) সিরিয়ায় চলে যান। কেননা অবরোধকারীরা সিরিয়ার অধিবাসী এবং তাদের মধ্যে মুয়াবিয়াও রয়েছেন। (যিনি উসমানের আস্থাভাজন ছিলেন।)

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হবার যে প্রস্তাব দিয়েছ, সেটা অসম্ভব। আমি এমন ব্যক্তি হতে চাইনা, যে সর্ব প্রথম রক্তপাতের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাতের জন্য খলীফা হবে। আর মক্কায় গেলে তারা আমার রক্তপাত করার সুযোগ পাবে না -একথা সত্য। তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, কুরাইশের এক ব্যক্তি মক্কায় সমাহিত হবে, যার ওপর আপতিত হবে সমগ্র বিশ্বের অর্ধেক আযাব। আমি সেই ব্যক্তি হতে চাই না। আর সিরিয়ায় গেলে, আমি জানি, ওরা সিরিয়ারই লোক এবং মুয়াবিয়া তাদের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু আমি আমার হিজরতের স্থান (মদীনা) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিবেশীত্ব কখনো হাত ছাড়া করবো না। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫১]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



452 OK

(৪৫২)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ قَالَ دَعَا عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمَاءٍ وَهُوَ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَسَكَبَ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَهَا ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْإِنَاءِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مِرَارٍ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلَاثَ مِرَارٍ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ دَعَا بِإِنَاءٍ فَذَكَرَ نَحْوَهُ


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের আসনে বসা অবস্থায় পানি আনতে বললেন। তারপর পাত্র থেকে পানি ঢেলে ডান হাত ধুলেন। তারপর ডান হাত পাত্রে ঢুকিয়ে নিজের দুই হাতের তালু তিনবার করে ধুলেন। তারপর নিজের মুখমণ্ডল তিনবার করে ধুলেন, তিনবার করে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধুলেন তিনবার করে। তারপর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার এই ওযূর মত ওযূ করবে, তারপর দু’রাকআত নামায এমনভাবে পড়বে যে, নামাযের ভেতরে নিজের সাথে কোন কথা বলবে না, (অর্থাৎ অন্য কোন বিষয়ে চিন্তা করবে না।) তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



453 OK

(৪৫৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ حُمْرَانَ قَالَ كَانَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَغْتَسِلُ كُلَّ يَوْمٍ مَرَّةً مِنْ مُنْذُ أَسْلَمَ فَوَضَعْتُ وَضُوءًا لَهُ ذَاتَ يَوْمٍ لِلصَّلَاةِ فَلَمَّا تَوَضَّأَ قَالَ إِنِّي أَرَدْتُ أَنْ أُحَدِّثَكُمْ بِحَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ بَدَا لِي أَنْ لَا أُحَدِّثَكُمُوهُ فَقَالَ الْحَكَمُ بْنُ أَبِي الْعَاصِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنْ كَانَ خَيْرًا فَنَأْخُذُ بِهِ أَوْ شَرًّا فَنَتَّقِيهِ قَالَ فَقَالَ فَإِنِّي مُحَدِّثُكُمْ بِهِ تَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذَا الْوُضُوءَ ثُمَّ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ هَذَا الْوُضُوءَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ فَأَتَمَّ رُكُوعَهَا وَسُجُودَهَا كَفَّرَتْ عَنْهُ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ الصَّلَاةِ الْأُخْرَى مَا لَمْ يُصِبْ مَقْتَلَةً يَعْنِي كَبِيرَةً


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রতিদিন একবার গোসল করতেন। ইসলাম গ্রহণের পর থেকে কখনো এর ব্যতিক্রম করেননি। একদিন আমি তার নামাযের জন্য ওযূর পানি রেখে দিলাম। যখন তিনি ওযূ করলেন, বললেন, আমি তোমাদেরকে একটি হাদীস শুনাতে চাই, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শুনেছি। তারপর বললেনঃ এখন আমার মন চাইছে, শুনাবো না। হাকাম বিন আবিল আস বললেন, আমীরুল মুমিনীন, হাদীসটা শুনান। যদি ভালো হয়, আমরা মেনে চলবো, ভালো না হলে তা এড়িয়ে চলবো। এবার উসমান বললেনঃ তাহলে হাদীসটা তোমাদেরকে শুনাচ্ছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার এই ওযূর মতই ওযূ করেছিলেন। তারপর বললেন : যে ব্যক্তি এভাবে ওযূ করবে এবং সুষ্ঠুভাবে তা সম্পন্ন করবে, তারপর নামাযে দাঁড়াবে, তারপর রুকু ও সাজদা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করবে, তার সেই নামায ও আরেক নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত সমস্ত গুনাহ- কবীরা গুনাহ ব্যতীত মাফ করে দেয়া হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



454 OK

(৪৫৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৮৭] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا يُونُسُ يَعْنِي ابْنَ عُبَيْدٍ حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ فَرُّوخَ مَوْلَى الْقُرَشِيِّينَ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اشْتَرَى مِنْ رَجُلٍ أَرْضًا فَأَبْطَأَ عَلَيْهِ فَلَقِيَهُ فَقَالَ لَهُ مَا مَنَعَكَ مِنْ قَبْضِ مَالِكَ قَالَ إِنَّكَ غَبَنْتَنِي فَمَا أَلْقَى مِنْ النَّاسِ أَحَدًا إِلَّا وَهُوَ يَلُومُنِي قَالَ أَوَ ذَلِكَ يَمْنَعُكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَاخْتَرْ بَيْنَ أَرْضِكَ وَمَالِكَ ثُمَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَدْخَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْجَنَّةَ رَجُلًا كَانَ سَهْلًا مُشْتَرِيًا وَبَائِعًا وَقَاضِيًا وَمُقْتَضِيًا


কুরাইশদের স্বাধীনকৃত দাস আতা থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তির নিকট থেকে জমি কিনলেন। এরপর ঐ ব্যক্তি বিলম্ব করলো। অগত্যা উসমান তার সাথে দেখা করে বললেন, তুমি কী কারণে তোমার অর্থ গ্রহণ করছনা? সে বললো, আপনি আমাকে ঠকিয়েছেন। এখন আমি যার সাথেই দেখা করি, সে আমাকে ভৎসনা করে। উসমান বললেন, এ জন্য তুমি অর্থ গ্রহণ করতে আসনা? সে বললো, হ্যাঁ। উসমান বললেন, তাহলে তুমি তোমার জমি কিংবা অর্থ এই দুটোর একটা গ্রহণ কর। তারপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যে ক্রেতা, বিক্রেতা, পাওনা পরিশোধকারী ও পাওনা দাবীকারী যাই হোক, সর্বাবস্থায় বিনম্র ও উদার হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫৪]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



455 OK

(৪৫৫)

সহিহ হাদিস

قَالَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُهَاجِرِ عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ أَنَّ الْمُؤَذِّنَ أَذَّنَ لِصَلَاةِ الْعَصْرِ قَالَ فَدَعَا عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِطَهُورٍ فَتَطَهَّرَ قَالَ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَطَهَّرَ كَمَا أُمِرَ وَصَلَّى كَمَا أُمِرَ كُفِّرَتْ عَنْهُ ذُنُوبُهُ فَاسْتَشْهَدَ عَلَى ذَلِكَ أَرْبَعَةً مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَشَهِدُوا لَهُ بِذَلِكَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


আবু আনাস থেকে বর্ণিতঃ

একদা মুয়াজ্জিন আসরের আযান দিলে হজরত উসমান (রা.) ওযুর জন্য পানি ডেকে ওযু করলেন এবং বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকুম মোতাবেক অজু করবে। তার সমস্ত গুনাহ মুছে ফেলা হবে, এরপর তিনি চারজন সাহাবীকে এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বললেন এবং তারা চারজনই সাক্ষ্য দিলেন যে এটিই রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



456 OK

(৪৫৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ قَالَ دَعَا عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمَاءٍ وَهُوَ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَسَكَبَ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَهَا ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْإِنَاءِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مِرَارٍ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلَاثَ مِرَارٍ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ دَعَا بِإِنَاءٍ فَذَكَرَ نَحْوَهُ


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের আসনে বসা অবস্থায় পানি আনতে বললেন। তারপর পাত্র থেকে পানি ঢেলে ডান হাত ধুলেন। তারপর ডান হাত পাত্রে ঢুকিয়ে নিজের দুই হাতের তালু তিনবার করে ধুলেন। তারপর নিজের মুখমণ্ডল তিনবার করে ধুলেন, তিনবার করে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধুলেন তিনবার করে। তারপর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার এই ওযূর মত ওযূ করবে, তারপর দু’রাকআত নামায এমনভাবে পড়বে যে, নামাযের ভেতরে নিজের সাথে কোন কথা বলবে না, (অর্থাৎ অন্য কোন বিষয়ে চিন্তা করবে না।) তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



457 OK

(৪৫৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنِي سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ دَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ عِنْدَ الْمَقَاعِدِ فَتَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ لِأَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ رَأَيْتُمْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ هَذَا قَالُوا نَعَمْ قَالَ أَبِي هَذَا الْعَدَنِيُّ كَانَ بِمَكَّةَ مُسْتَمْلِيَ ابْنِ عُيَيْنَةَ


বাসর ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণিতঃ

হজরত উসমান (রা.) এসে বেঞ্চের কাছে বসলেন, ওযুর জন্য পানি চাইলেন এবং সব অঙ্গ তিনবার ধৌত করলেন এবং সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাহাবী (রা.) তাদেরকে বললেন, এটা কি তাই? তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



458 OK

(৪৫৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ قَالَ دَعَا عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمَاءٍ وَهُوَ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَسَكَبَ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَهَا ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْإِنَاءِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مِرَارٍ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلَاثَ مِرَارٍ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ دَعَا بِإِنَاءٍ فَذَكَرَ نَحْوَهُ


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের আসনে বসা অবস্থায় পানি আনতে বললেন। তারপর পাত্র থেকে পানি ঢেলে ডান হাত ধুলেন। তারপর ডান হাত পাত্রে ঢুকিয়ে নিজের দুই হাতের তালু তিনবার করে ধুলেন। তারপর নিজের মুখমণ্ডল তিনবার করে ধুলেন, তিনবার করে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধুলেন তিনবার করে। তারপর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার এই ওযূর মত ওযূ করবে, তারপর দু’রাকআত নামায এমনভাবে পড়বে যে, নামাযের ভেতরে নিজের সাথে কোন কথা বলবে না, (অর্থাৎ অন্য কোন বিষয়ে চিন্তা করবে না।) তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



459 OK

(৪৫৯)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ شَقِيقٍ قَالَ لَقِيَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ الْوَلِيدَ بْنَ عُقْبَةَ فَقَالَ لَهُ الْوَلِيدُ مَا لِي أَرَاكَ قَدْ جَفَوْتَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ أَبْلِغْهُ أَنِّي لَمْ أَفِرَّ يَوْمَ عَيْنَيْنِ قَالَ عَاصِمٌ يَقُولُ يَوْمَ أُحُدٍ وَلَمْ أَتَخَلَّفْ يَوْمَ بَدْرٍ وَلَمْ أَتْرُكْ سُنَّةَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ فَانْطَلَقَ فَخَبَّرَ ذَلِكَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ فَقَالَ أَمَّا قَوْلُهُ إِنِّي لَمْ أَفِرَّ يَوْمَ عَيْنَيْنَ فَكَيْفَ يُعَيِّرُنِي بِذَنْبٍ وَقَدْ عَفَا اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ إِنَّ الَّذِينَ تَوَلَّوْا مِنْكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ إِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمْ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا وَلَقَدْ عَفَا اللَّهُ عَنْهُمْ وَأَمَّا قَوْلُهُ إِنِّي تَخَلَّفْتُ يَوْمَ بَدْرٍ فَإِنِّي كُنْتُ أُمَرِّضُ رُقَيَّةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ مَاتَتْ وَقَدْ ضَرَبَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَهْمِي وَمَنْ ضَرَبَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَهْمِهِ فَقَدْ شَهِدَ وَأَمَّا قَوْلُهُ إِنِّي لَمْ أَتْرُكْ سُنَّةَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَإِنِّي لَا أُطِيقُهَا وَلَا هُوَ فَأْتِهِ فَحَدِّثْهُ بِذَلِكَ


ওয়ালীদ থেকে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান বিন আওফের সাথে ওয়ালীদ বিন উকবার সাক্ষাত হলো। ওয়ালীদ তাকে বললেন, ব্যাপার কী? দেখতে পাচ্ছি, তুমি আমীরুল মুমিনীন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে রূঢ় আচরণ করেছ? আবদুর রহমান বললেন, তাকে জানাও যে, আমি উহুদের দিন পালাইনি, বদরেও অনুপস্থিত থাকিনি এবং উমারের সুন্নাত (রীতি) বর্জন করেনি। এরপর ওয়ালীদ চলে গেলেন এবং উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বিষয়টি জানালেন। তখন উসমান বললেন, সে বলেছেঃ আমি উহুদের দিন পালাইনি। তাহলে আমাকে সে কিভাবে এমন গুনাহর জন্য লজ্জা দেয় যা আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন? আল্লাহ তো বলেছেনঃ “তোমাদের মধ্য থেকে যারা উভয় দলের মুখোমুখি হবার দিন পালিয়েছিল, তাদেরকে তো শয়তানই তাদের কিছু গুনাহর কারণে পদস্থলন ঘটিয়েছিল। আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করেছেন। আর সে বলেছে যে, আমি বদরের দিন অনুপস্থিত ছিলাম। সেদিন তো আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেয়ে রুকাইয়ার সেবা সুশ্রুষা করছিলাম। শেষ পর্যন্ত সে মারা গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য গনীমাতের অংশ নির্ধারণ করেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার জন্য গনীমাতের অংশ নির্ধারণ করেন, সে তো (যুদ্ধের ময়দানে) উপস্থিতদের অন্তর্ভুক্ত। আর সে বলেছেঃ “আমি উমারের রীতি বর্জন করিনি” এ ব্যাপারে আমার কথা হলো, এটা করা আমার পক্ষেও সম্ভব নয়। তার পক্ষেও নয়। যাও তার কাছে, তাকে এ কথাগুলো জানিয়ে দাও। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫৯]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



460 OK

(৪৬০)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৮৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ صَلَّى صَلَاةَ الْعِشَاءِ وَالصُّبْحِ فِي جَمَاعَةٍ فَهُوَ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَهُوَ كَقِيَامِ نِصْفِ لَيْلَةٍ وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَهُوَ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইশা ও ফজরের নামায জামায়াতে পড়বে, সে যেন পুরো রাত জেগে ইবাদাত করলো। আর যে ব্যক্তি ইশার নামায জামায়াতে পড়বে সে যেন অর্ধরাত জেগে ইবাদাত করলো। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাযও জামায়াতে পড়বে, সে যেন গোটা রাত জেগে ইবাদাত করলো। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৬০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



461 OK

(৪৬১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ قَالَ أَرَادَ ابْنُ مَعْمَرٍ أَنْ يُنْكِحَ ابْنَهُ ابْنَةَ شَيْبَةَ بْنِ جُبَيْرٍ فَبَعَثَنِي إِلَى أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَوْسِمِ فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّ أَخَاكَ أَرَادَ أَنْ يُنْكِحَ ابْنَهُ فَأَرَادَ أَنْ يُشْهِدَكَ ذَاكَ فَقَالَ أَلَا أُرَاهُ عِرَاقِيًّا جَافِيًا إِنَّ الْمُحْرِمَ لَا يَنْكِحُ وَلَا يُنْكِحُ ثُمَّ حَدَّثَ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمِثْلِهِ يَرْفَعُهُ


নাবিয়্যা ইবনে ওয়াহিব থেকে বর্ণিতঃ

ইবনে মুয়াম্মার শায়বা ইবনে যুবায়ের কন্যার সাথে তার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে হজ করেছিলেন এবং তিনি আমাকে আবান ইবনে উসমান (রা.)-এর কাছে পাঠালেন, যিনি হজের আমীর ছিলেন, আমি তার কাছে গিয়ে বললাম: তোমার ভাই! তার ছেলেকে বিয়ে করতে চায় এবং সে চায় আপনি এতে অংশগ্রহণ করুন, তিনি বললেন যে আমি তাকে ইরাকি গ্রামবাসী ভাবিনি, মনে রাখবেন! মুহাররম বিয়ে করতে পারে না, আবার কাউকে বিয়ে করাতে পারে না, তারপর তিনি হযরত উসমান (রা.)-এর বরাত দিয়ে এই প্রবন্ধের হাদিস বর্ণনা করেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৬১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



462 OK

(৪৬২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ عُثْمَانَ تَوَضَّأَ بِالْمَقَاعِدِ فَغَسَلَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ سَقَطَتْ خَطَايَاهُ يَعْنِي مِنْ وَجْهِهِ وَيَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ وَرَأْسِهِ


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু পাথরের মেঝের ওপর ওযূ করেছেন। তারপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি এমন একটি হাদীস তোমাদেরকে শুনাবো। আল কুরআনে একটি আয়াত যদি না থাকতো তাহলে শুনাতাম না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি যথাযথভাবে ওযূ করবে, তারপর মসজিদে ঢুকে নামায পড়বে, তার ঐ নামায ও তার পরবর্তী নামাযের মধ্যবর্তী সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে, যতক্ষণ পরবর্তী নামায না পড়ে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৬২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



463 OK

(৪৬৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৪৩৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنِي نُبَيْهُ بْنُ وَهْبٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْمَرٍ رَمِدَتْ عَيْنُهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَأَرَادَ أَنْ يُكَحِّلَهَا فَنَهَاهُ أَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَمَرَهُ أَنْ يُضَمِّدَهَا بِالصَّبِرِ وَزَعَمَ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حَدَّثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ فَعَلَ ذَلِكَ


বাইহ বিন ওহাব থেকে বর্ণিতঃ

উমার বিন উবাইদুল্লাহ বিন মা’মারের চোখ দিয়ে পানি পড়ার রোগ দেখা দিল। তখন তিনি ইহরাম বাঁধা অবস্থায় ছিলেন। এজন্য তিনি চোখে সুরমা লাগাতে চাইলেন। উসমানের ছেলে আবান তাঁকে সুরমা লাগাতে নিষেধ করলেন এবং তাঁকে সাবির নামক উদ্ভিদ দিয়ে চোখে পট্টি বাধার উপদেশ দিলেন। তিনি দাবী করলেন যে, উসমান বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৬৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



464 OK

(৪৬৪)

হাদিস দেখুন [৩১:৪০০] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَبُو مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ الطَّائِفِيُّ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ بْنِ مَنَّاحٍ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ رَأَى جَنَازَةً فَقَامَ إِلَيْهَا وَقَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى جَنَازَةً فَقَامَ لَهَا


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ছেলে আবান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি জানাযার আয়োজন দেখা মাত্রই সেদিকে ছুটে গেলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, একটি জানাযার আয়োজন দেখেই সেদিকে ছুটে গেলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৬৪]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



465 OK

(৪৬৫)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৭৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مَالِكٍ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُحْرِمُ لَا يَنْكِحُ وَلَا يُنْكِحُ وَلَا يَخْطُبُ


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইহরাম বেঁধেছে, সে বিয়ে করবে না, করাবেও না এবং বিয়ের প্রস্তাবও পাঠাবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৬৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস