(৩) হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৩৭৬-৫০৫), সর্বমোট হাদিসঃ ১৩০টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ১০০টি]



406 OK

(৪০৬)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ ثَابِتٍ عَنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ قَالَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ يَخْطُبُ عَلَى مِنْبَرِهِ إِنِّي مُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا كَانَ يَمْنَعُنِي أَنْ أُحَدِّثَكُمْ إِلَّا الضِّنُّ عَلَيْكُمْ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ حَرَسُ لَيْلَةٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ لَيْلَةٍ يُقَامُ لَيْلُهَا وَيُصَامُ نَهَارُهَا


আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণিতঃ

উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু মিম্বারে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে বললেনঃ আমি তোমাদেরকে সেই হাদীসটি শুনাচ্ছি, যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি। এতদিন শুনাইনি শুধু এজন্য যে, আমি তোমাদের প্রতি কার্পণ্য করছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর পথে এক রাত পাহারা দেয়া এমন এক হাজার রাতের চেয়ে ভালো, যার রাতগুলো জেগে ইবাদাত করে কাটানো হয় এবং দিনগুলোতে রোযা রাখা হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৬]


[ইবনু মাজাহ-২৭৬৬ সানাদ দুর্বল কিন্তু হাদিসটি হাসান]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



407 OK

(৪০৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَبِيرِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بَنَى اللَّهُ لَهُ مِثْلَهُ فِي الْجَنَّةِ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ বানাবে, আল্লাহ তার জন্য অনুরূপ একটি ঘর বানাবেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৭]


[বুখারী-৪৫০, মুসলিম-৫৩৩, ইবনু খুযাইমা-১২৯১, ইবনু হিব্বান-১৬৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



408 OK

(৪০৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَارِظٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَزْهَرَ قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَعُثْمَانَ يُصَلِّيَانِ يَوْمَ الْفِطْرِ وَالْأَضْحَى ثُمَّ يَنْصَرِفَانِ يُذَكِّرَانِ النَّاسَ قَالَ وَسَمِعْتُهُمَا يَقُولَانِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ صِيَامِ هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ


আবদুর রহমান বিন আযহারের মুক্ত গোলাম আবু উবাইদ থেকে বর্ণিতঃ

আমি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে দেখেছি, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামায পড়তেন, তারপর পেছনের দিকে ফিরে জনগণকে উপদেশ দিতেন। আবু উবাইদ আরো বলেন, আমি উক্ত দু’জনকেই বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’দিন রোযা থাকতে নিষেধ করেছেন। আবু উবাইদ বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি যে, তিন দিন পরে তোমাদের কুরবানীর কিছু অবশিষ্ট রাখতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



409 OK

(৪০৯)

সহিহ হাদিস

قَالَ و سَمِعْت عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَبْقَى مِنْ نُسُكِكُمْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ بَعْدَ ثَلَاثٍ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আর আমি হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কেও বলতে শুনেছি যে, নবী করীম (সঃ) তিন দিন পর কোরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪০৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



410 OK

(৪১০)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৯৩] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ قَالَ دَعَا عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمَاءٍ وَهُوَ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَسَكَبَ عَلَى يَمِينِهِ فَغَسَلَهَا ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْإِنَاءِ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثَ مِرَارٍ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثَلَاثَ مِرَارٍ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَا يُحَدِّثُ نَفْسَهُ فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ دَعَا بِإِنَاءٍ فَذَكَرَ نَحْوَهُ


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের আসনে বসা অবস্থায় পানি আনতে বললেন। তারপর পাত্র থেকে পানি ঢেলে ডান হাত ধুলেন। তারপর ডান হাত পাত্রে ঢুকিয়ে নিজের দুই হাতের তালু তিনবার করে ধুলেন। তারপর নিজের মুখমণ্ডল তিনবার করে ধুলেন, তিনবার করে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধুলেন তিনবার করে। তারপর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার এই ওযূর মত ওযূ করবে, তারপর দু’রাকআত নামায এমনভাবে পড়বে যে, নামাযের ভেতরে নিজের সাথে কোন কথা বলবে না, (অর্থাৎ অন্য কোন বিষয়ে চিন্তা করবে না।) তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



411 OK

(৪১১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ وَعَفَّانُ الْمَعْنَى قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ قَالَ كُنَّا مَعَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ مَحْصُورٌ فِي الدَّارِ فَدَخَلَ مَدْخَلًا كَانَ إِذَا دَخَلَهُ يَسْمَعُ كَلَامَهُ مَنْ عَلَى الْبَلَاطِ قَالَ فَدَخَلَ ذَلِكَ الْمَدْخَلَ وَخَرَجَ إِلَيْنَا فَقَالَ إِنَّهُمْ يَتَوَعَّدُونِي بِالْقَتْلِ آنِفًا قَالَ قُلْنَا يَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ وَبِمَ يَقْتُلُونَنِي إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ رَجُلٌ كَفَرَ بَعْدَ إِسْلَامِهِ أَوْ زَنَى بَعْدَ إِحْصَانِهِ أَوْ قَتَلَ نَفْسًا فَيُقْتَلُ بِهَا فَوَاللَّهِ مَا أَحْبَبْتُ أَنَّ لِي بِدِينِي بَدَلًا مُنْذُ هَدَانِي اللَّهُ وَلَا زَنَيْتُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلَا فِي إِسْلَامٍ قَطُّ وَلَا قَتَلْتُ نَفْسًا فَبِمَ يَقْتُلُونَنِي حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُمَامَةَ بْنُ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ قَالَ إِنِّي لَمَعَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي الدَّارِ وَهُوَ مَحْصُورٌ وَقَالَ كُنَّا نَدْخُلُ مَدْخَلًا فَذَكَرَ الْحَدِيثَ مِثْلَهُ وَقَالَ قَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ مِثْلَهُ أَوْ نَحْوَهُ


আবু উমামা বিন সাহল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

উসমান যখন তাঁর বাড়িতে অবরুদ্ধ, তখন আমরা তাঁর সাথে ছিলাম। অতঃপর তিনি এমন একটা কক্ষে প্রবেশ করলেন, যেখানে তিনি প্রবেশ করলে তাঁর আওয়ায প্রাসাদের ওপর অবস্থানকারীরা শুনতে পেত। তিনি সেখানে প্রবেশ করে আবার আমাদের কাছে বেরিয়ে এলেন। তিনি বললেন, অবরোধকারীরা আমাকে হত্যারও হুমকি দিচ্ছে। আমরা বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনার পক্ষে আল্লাহই ওদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। (অর্থাৎ প্রতিহত করবেন।) উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমাকে কোন অপরাধে তারা হত্যা করবে? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তিনটি কারণের যে কোন একটি ব্যতীত কোন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়ঃ মুসলিম হওয়ার পর কাফির হওয়া, বিয়ে করার পর ব্যভিচার করা এবং কাউকে হত্যা করা। আল্লাহর কসম, আল্লাহ যেদিন আমাকে হিদায়াত করেছেন, তারপর থেকে আমি কখনো পছন্দ করিনি যে, আমার এই দীনের পরিবর্তে অন্য কোন দীন আমার হোক। জাহিলিয়াতে বা ইসলামে কখনো আমি ব্যভিচার করিনি, আর কাউকে আমি হত্যাও করিনি। তাহলে তারা কী কারণে আমাকে হত্যা করবে? [মুসনাদে আহমাদ : ৪১১]


[আল হাকেম-৪/৩৫০, আবু দাউদ-৪৫০২, ইবনু মাজাহ-২৫৩৩, তিরমিযী-২১৫৮, নাসায়ী ৯১/৭, মুসনাদে আহমাদ-৪৩৮, ৪৬৮, ৫০৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



412 OK

(৪১২)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ قَالَ دَعَا عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِمْ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ فَقَالَ إِنِّي سَائِلُكُمْ وَإِنِّي أُحِبُّ أَنْ تَصْدُقُونِي نَشَدْتُكُمْ اللَّهَ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُؤْثِرُ قُرَيْشًا عَلَى سَائِرِ النَّاسِ وَيُؤْثِرُ بَنِي هَاشِمٍ عَلَى سَائِرِ قُرَيْشٍ فَسَكَتَ الْقَوْمُ فَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لَوْ أَنَّ بِيَدِي مَفَاتِيحَ الْجَنَّةِ لَأَعْطَيْتُهَا بَنِي أُمَيَّةَ حَتَّى يَدْخُلُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ فَبَعَثَ إِلَى طَلْحَةَ وَالزُّبَيْرِ فَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَلَا أُحَدِّثُكُمَا عَنْهُ يَعْنِي عَمَّارًا أَقْبَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آخِذًا بِيَدِي نَتَمَشَّى فِي الْبَطْحَاءِ حَتَّى أَتَى عَلَى أَبِيهِ وَأُمِّهِ وَعَلَيْهِ يُعَذَّبُونَ فَقَالَ أَبُو عَمَّارٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ الدَّهْرَ هَكَذَا فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اصْبِرْ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِآلِ يَاسِرٍ وَقَدْ فَعَلْتُ


সালেম বিন আবিল জা’দ থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় সাহাবীকে ডেকে আনলেন। তাঁদের মধ্যে আম্মার বিন ইয়াসির ছিলেন। তারপর বললেন, আমি তোমাদের নিকট জিজ্ঞাসা করতে চাই, আমি চাই তোমরা আমাকে সমর্থন কর। আমি তোমাদেরকে শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করি, তোমরা কি জান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মানুষের ওপর কুরাইশকে এবং কুরাইশদের সকলের ওপর বনু হাশিম গোত্র কে অগ্রাধিকার দিতেন? উপস্থিত সকলে নীরব রইল। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমার হাতে যদি জান্নাতের চাবিকাঠি থাকতো, তাহলে তা বনু উমাইয়াকে দিতাম, যাতে তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করে।

এরপর তিনি তালহা ও যুবাইরকে ডেকে পাঠালেন। তাঁদের উভয়কে উসমান বললেন, আমি কি তার সম্পর্কে অর্থাৎ আম্মার সম্পর্কে তোমাদেরকে সঠিক খবর জানাবো না? আমি মক্কার নিম্নাঞ্চলের সমতল ভূমিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এগিয়ে গেলাম। তিনি আমার হাত ধরে চলছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আম্মার, তার পিতা ও মাতার নিকট পৌছলেন, তখন তাদের ওপর নির্যাতন চলছিল। আম্মারের পিতা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ, যুগ কি এ রকম? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বললেনঃ সবর কর। তারপর বললেনঃ “হে আল্লাহ, ইয়াসারের পরিবারকে ক্ষমা কর।” ইয়াসিরের প্রকৃত ঘটনা আমি তোমাদেরকে জানালাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১২]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



413 OK

(৪১৩)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا حُرَيْثُ بْنُ السَّائِبِ قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ حَدَّثَنِي حُمْرَانُ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ شَيْءٍ سِوَى ظِلِّ بَيْتٍ وَجِلْفِ الْخُبْزِ وَثَوْبٍ يُوَارِي عَوْرَتَهُ وَالْمَاءِ فَمَا فَضَلَ عَنْ هَذَا فَلَيْسَ لِابْنِ آدَمَ فِيهِ حَقٌّ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একটা ঘরের ছায়া, যেন তেন একটা রুটি, ছতর ঢাকার মত পোশাক এবং পানি- এ ক’টি জিনিসের অতিরিক্ত যা কিছু, তাতে আদম সন্তানের কোন অধিকার নেই। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৩]


[আল হাকেম-৩১২/৪, তিরমিযী-২৩৪১]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



414 OK

(৪১৪)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ عَنْ شَيْخٍ مِنْ ثَقِيفٍ ذَكَرَهُ حُمَيْدٌ بِصَلَاحٍ ذَكَرَ أَنَّ عَمَّهُ أخْبَرَهُ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ جَلَسَ عَلَى الْبَابِ الثَّانِي مِنْ مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَعَا بِكَتِفٍ فَتَعَرَّقَهَا ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ثُمَّ قَالَ جَلَسْتُ مَجْلِسَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَكَلْتُ مَا أَكَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصَنَعْتُ مَا صَنَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


সাকীফ গোত্রের এক বৃদ্ধ থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর চাচা বলেছেন, তিনি দেখলেন, উসমান বিন আফফান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদের দ্বিতীয় দরজার ওপর এসে বসলেন, অতঃপর একটি কাঁধের মাংস চেয়ে পাঠালেন এবং তা আনা হলে তিনি তার সম্পূর্ণ মাংস হাড় থেকে তুলে খেলেন। তারপর তিনি উঠে নামায পড়লেন, ওযূ করলেন না। তারপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসতাম, তিনি যা খেতেন আমি তা খেতাম এবং তিনি যা যা করতেন, আমি তা করতাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৪]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



415 OK

(৪১৫)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّهُ حَدَّثَهُ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ بِمِنًى يَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ فَلْيُرَابِطْ امْرُؤٌ كَيْفَ شَاءَ هَلْ بَلَّغْتُ قَالُوا نَعَمْ قَالَ اللَّهُمَّ اشْهَدْ


উসমানের মুক্ত গোলাম আবু সালেহ থেকে বর্ণিতঃ

আমি মীনায় উসমানকে বলতে শুনেছি, হে জনতা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে একটি হাদীস শুনেছি, সেটি তোমাদেরকে শুনাচ্ছি। তিনি বলেন, আল্লাহর পথে একদিন পাহারা দেয়া অন্য ক্ষেত্রে এক হাজার দিন পাহারা দেয়ার চেয়ে উত্তম। অতএব, প্রত্যেক মানুষের যেভাবে ইচ্ছা পাহারা দেয়া উচিত। আমি কথাটা পৌছে দিয়েছি তো? সবাই বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থাক। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৫]


[তিরমিযী-১৬৬৭, নাসায়ী-৩৯, ৪০/৬]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



416 OK

(৪১৬)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ يَعْنِي مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَاهِلِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ صَلَّى بِمِنًى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فَأَنْكَرَهُ النَّاسُ عَلَيْهِ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي تَأَهَّلْتُ بِمَكَّةَ مُنْذُ قَدِمْتُ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ تَأَهَّلَ فِي بَلَدٍ فَلْيُصَلِّ صَلَاةَ الْمُقِيمِ


আবু যুবাব তাঁর পিতা থেকে বর্ণিতঃ

উসমান বিন আফফান মীনায় চার রাকআত করে নামায পড়তেন, (অর্থাৎ কসর করতেন না)। লোকেরা এ ব্যাপারে তার নিকট অসন্তোষ ব্যক্ত করলো। তখন উসমান বললেন, হে জনতা, আমি যেদিন মক্কায় এসেছি, সেদিন থেকেই এখানকার স্থায়ী অধিবাসী হয়েছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন শহরে স্থায়ী হয়ে যায়, সে যেন স্থায়ী বসবাসকারীর মত নামায পড়ে। (মীনাকে মক্কার অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়।) [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৬]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



417 OK

(৪১৭)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ وَرْدَانَ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يَقُولُ سَمِعْتُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَخْطُبُ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَقُولُ كُنْتُ أَبْتَاعُ التَّمْرَ مِنْ بَطْنٍ مِنْ الْيَهُودِ يُقَالُ لَهُمْ بَنُو قَيْنُقَاعَ فَأَبِيعُهُ بِرِبْحٍ فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا عُثْمَانُ إِذَا اشْتَرَيْتَ فَاكْتَلْ وَإِذَا بِعْتَ فَكِلْ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ وَرْدَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَذَكَرَ مِثْلَهُ


সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব থেকে বর্ণিতঃ

উসমান বিন আফফানকে মসজিদের মিম্বারে ভাষণ দিতে শুনেছি। তিনি বলছিলেনঃ আমি বনু কাইনুকা নামক ইহুদী গোত্রের কাছ থেকে খুরমা কিনতাম, অতঃপর তা মুনাফা নিয়ে বিক্রি করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা জানতে পেরে বললেনঃ হে উসমান, যখন কিনবে মেপে কিনবে, আর যখন বিক্রি করবে মেপে বিক্রি করবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৭]


[ইবনু মাজাহ-২২৩০]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



418 OK

(৪১৮)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ أَبِي قُرَّةَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ


উসমানের ছেলে আবান তার পিতা থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই দুআ পাঠ করবে, কোন কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।

بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

“সেই আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আকাশ ও পৃথিবীতে কোন কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্ব শ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৮]


[আল হাকেম-৫৪১/১, আবু দাউদ-৫০৮৯, ইবনু মাজাহ-৩৮৬৯, তিরমিযী-৩৩৮৮]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



419 OK

(৪১৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الْخَفَّافُ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنِّي لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَا يَقُولُهَا عَبْدٌ حَقًّا مِنْ قَلْبِهِ إِلَّا حُرِّمَ عَلَى النَّارِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَا أُحَدِّثُكَ مَا هِيَ هِيَ كَلِمَةُ الْإِخْلَاصِ الَّتِي أَعَزَّ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى بِهَا مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابَهُ وَهِيَ كَلِمَةُ التَّقْوَى الَّتِي أَلَاصَ عَلَيْهَا نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَمَّهُ أَبَا طَالِبٍ عِنْدَ الْمَوْتِ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আমি এমন একটা কথা জানি, যা কোন ব্যক্তি আন্তরিকভাবে বললে সে জাহান্নামের জন্য হারাম হয়ে যাবে। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তৎক্ষণাত বললেন, আমি তোমাকে বলবো সেটি কী? তা হচ্ছে, একত্বের বাণী, যা দ্বারা আল্লাহ তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ও তাঁর সাহাবীদেরকে সম্মানিত করেছেন? সেটি হচ্ছে সেই তাকওয়ার বাণী, যা আল্লাহর নবী তার চাচা আবু তালিবকে মৃত্যুর সময়ে অত্যন্ত আগ্রহের সাথে শেখাতে চেয়েছিলেন। সেটি হচ্ছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই) বলে সাক্ষ্য দান। [মুসনাদে আহমাদ : ৪১৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



420 OK

(৪২০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ يَعْنِي الْمُعَلِّمَ عَنْ يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ أَبِي كَثِيرٍ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ أخْبَرَهُ أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ الْجُهَنِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَأَلَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قُلْتُ أَرَأَيْتَ إِذَا جَامَعَ امْرَأَتَهُ وَلَمْ يُمْنِ فَقَالَ عُثْمَانُ يَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلَاةِ وَيَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَالزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ وَطَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ وَأُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ فَأَمَرُوهُ بِذَلِكَ


যায়িদ বিন খালিদ আল জুহানী থেকে বর্ণিতঃ

যায়িদ বিন খালিদ আল জুহানী উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞাসা করেন, যদি কেউ স্ত্রী সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাত না করে, তবে সে কী করবে? উসমান বললেন, নামাযের ওযুর মত ওযু করবে এবং পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে। উসমান আরো বলেন, আমি এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি। পরে আলী বিন আবি তালিব, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, তালহা বিন আবদুল্লাহ ও উবাই বিন কাবকেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। তারাও একই আদেশ দেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২০]


[বুখারী-২৯২, মুসলিম-৩৪৭, ইবনু খুযাইমা-২২৪ ইসলামের প্রথম দিকে এ অবকাশ ছিলো। পরবর্তীতে এটি রহিত হয়ে গেছে এবং বলা হয়েছে, সঙ্গমে রত হলেই গোসল করতে হবে যদিও বীর্যপাত না হয়। যেমন হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ إذا جاوز الختان الختان وجب الغسل যখন (পুরুষের) খতনার স্থল (স্ত্রীর) খতনার স্থলে প্রবেশ করবে তখন উভয়ের ওপর গোসল ফারয হয়ে যাবে (বীর্যপাত হোক বা না হোক)। তিরমিযী, ইবনু মাজাহ –সম্পাদক]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



421 OK
View Quran

(৪২১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ أَبِي قُرَّةَ قَالَ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ يَقُولُ نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ قَالَ بِالْعِلْمِ قُلْتُ مَنْ حَدَّثَكَ قَالَ زَعَمَ ذَاكَ زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ


উবাইদ বিন আবি কুররা থেকে বর্ণিতঃ

মালিক বিন আনাসকে বলতে শুনেছি, "আমি যাকে চাই উচ্চতর মর্যাদা দান করি" (সূরা ইউসুফ) এর অর্থ হলো, জ্ঞান দ্বারা উচ্চতর মর্যাদা দান করি। আমি বললাম, এ কথা আপনাকে কে বলেছে? মালিক বললেনঃ এটা যায়িদ বিন আসলামের দাবী। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



422 OK

(৪২২)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا مَسَرَّةُ بْنُ مَعْبَدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي كَبْشَةَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي صَلَّيْتُ فَلَمْ أَدْرِ أَشَفَعْتُ أَمْ أَوْتَرْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِيَّايَ وَأَنْ يَتَلَعَّبَ بِكُمْ الشَّيْطَانُ فِي صَلَاتِكُمْ مَنْ صَلَّى مِنْكُمْ فَلَمْ يَدْرِ أَشَفَعَ أَوْ أَوْتَرَ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ فَإِنَّهُمَا تَمَامُ صَلَاتِهِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَزِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ قَالَا حَدَّثَنَا سَوَّارٌ أَبُو عُمَارَةَ الرَّمْلِيُّ عَنْ مَسِيرَةَ بْنِ مَعْبَدٍ قَالَ صَلَّى بِنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي كَبْشَةَ الْعَصْرَ فَانْصَرَفَ إِلَيْنَا بَعْدَ صَلَاتِهِ فَقَالَ إِنِّي صَلَّيْتُ مَعَ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَسَجَدَ مِثْلَ هَاتَيْنِ السَّجْدَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَيْنَا فَأَعْلَمَنَا أَنَّهُ صَلَّى مَعَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَحَدَّثَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ مِثْلَهُ نَحْوَهُ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললোঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আমি নামায পড়েছি। কিন্তু জোড় রাকআত পড়লাম, না বেজোড় রাকআত পড়লাম ভুলে গেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সাবধান থাক, নামাযে যেন শয়তান তোমাদেরকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। যে ব্যক্তি নামায পড়ে মনে রাখতে পারে না সে জোড় রাকআত পড়েছে না বেজোড় রাকআত পড়েছে, সে যেন দুটো সিজদা দিয়ে দেয় (সাহু সিজদা)। এতেই তার নামায পূর্ণতা প্রাপ্ত হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২২]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



423 OK

(৪২৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ مُغِيرَةَ بْنَ مُسْلِمٍ أَبَا سَلَمَةَ يَذْكُرُ عَنْ مَطَرٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَشْرَفَ عَلَى أَصْحَابِهِ وَهُوَ مَحْصُورٌ فَقَالَ عَلَامَ تَقْتُلُونِي فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ رَجُلٌ زَنَى بَعْدَ إِحْصَانِهِ فَعَلَيْهِ الرَّجْمُ أَوْ قَتَلَ عَمْدًا فَعَلَيْهِ الْقَوَدُ أَوْ ارْتَدَّ بَعْدَ إِسْلَامِهِ فَعَلَيْهِ الْقَتْلُ فَوَاللَّهِ مَا زَنَيْتُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلَا إِسْلَامٍ وَلَا قَتَلْتُ أَحَدًا فَأُقِيدَ نَفْسِي مِنْهُ وَلَا ارْتَدَدْتُ مُنْذُ أَسْلَمْتُ إِنِّي أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ


হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

যে দিনগুলোতে হজরত উসমান গনি (রা.) নিজ ঘরে বন্দি ছিলেন, তিনি লোকদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা আমাকে কী অপরাধে হত্যা করবে? যদিও আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তিনটি ঘটনা ছাড়া একজন মুসলিমের রক্তপাত করা হালাল নয়, (১) যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর ধর্মত্যাগ করে, (২) অথবা বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ব্যভিচার করে (৩) অথবা কাউকে অন্যায় ভাবে হত্যা করে, আল্লাহর কসম! যখন থেকে আল্লাহ আমাকে হেদায়েত করেছেন, তখন থেকে আমি কখনো ধর্মত্যাগ করিনি, জাহেলিয়াতের যুগেও আমি কোনো অন্যায় করিনি, কাউকে কখনো হত্যা করিনি, যে আমার থেকে প্রতিশোধ নেয়া হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



424 OK

(৪২৪)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ حَدَّثَنَا أَبُو قَبِيلٍ قَالَ سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْبَرْدَادِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّهُ جَاءَ يَسْتَأْذِنُ عَلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَأَذِنَ لَهُ وَبِيَدِهِ عَصَاهُ فَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَا كَعْبُ إِنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ تُوُفِّيَ وَتَرَكَ مَالًا فَمَا تَرَى فِيهِ فَقَالَ إِنْ كَانَ يَصِلُ فِيهِ حَقَّ اللَّهِ فَلَا بَأْسَ عَلَيْهِ فَرَفَعَ أَبُو ذَرٍّ عَصَاهُ فَضَرَبَ كَعْبًا وَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا أُحِبُّ لَوْ أَنَّ لِي هَذَا الْجَبَلَ ذَهَبًا أُنْفِقُهُ وَيُتَقَبَّلُ مِنِّي أَذَرُ خَلْفِي مِنْهُ سِتَّ أَوَاقٍ أَنْشُدُكَ اللَّهَ يَا عُثْمَانُ أَسَمِعْتَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَ نَعَمْ


আবু যার থেকে বর্ণিতঃ

তিনি উসমান বিন আফফানের কাছে এসে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। উসমান তাকে অনুমতি দিলেন। তখন তার হাতে তার লাঠি ছিল। উসমান বললেন, হে কা’ব, (কাব সম্ভবতঃ আগে থেকে ভেতরে ছিলেন) আবদুর রহমান মারা গেছে। সে কিছু সম্পত্তি রেখে গেছে। এখন তুমি সে বিষয়ে কী করণীয় মনে কর? কা’ব বললেন, সে যদি ঐ সম্পত্তি থেকে আল্লাহর হক প্রদান করে থাকে তাহলে তার ওপর আর কোন দাবী নেই। আবু যার তার লাঠি তুললেন এবং কা’বকে প্রহার করলেন। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আমার যদি এই পাহাড় সমান সম্পত্তি থাকে যা আমি খরচ করতে পারি এবং আমার কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়, তবে তা থেকে ছয় উকিয়া পরিমাণও রেখে যাওয়া আমি পছন্দ করি না। হে উসমান, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি এ কথা শুনেছেন। (আবু যার তিন বার বললেন) উসমান জবাব দিলেন, হ্যাঁ। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৪]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



425 OK

(৪২৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَحِيرٍ الْقَاصُّ عَنْ هَانِئٍ مَوْلَى عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ بَكَى حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ فَقِيلَ لَهُ تَذْكُرُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ فَلَا تَبْكِي وَتَبْكِي مِنْ هَذَا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْقَبْرُ أَوَّلُ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ فَإِنْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ مَنْظَرًا قَطُّ إِلَّا وَالْقَبْرُ أَفْظَعُ مِنْهُ


উসমানের মুক্ত গোলাম হানী থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যখনই কোন কবরের কাছে দাড়াতেন, কাঁদতেন এবং কাঁদতে কাঁদতে তার দাড়ি ভিজে যেত। তাকে বলা হলো, জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করেও আপনি এত কাঁদেন না, যতটা কবরের কাছে এসে কাঁদেন। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবর হচ্ছে আখিরাতের প্রথম মানযিল। কেউ যদি এখান থেকে অব্যাহতি পায়, তবে পরবর্তী ধাপগুলো এর চেয়েও সহজ। আর এখান থেকে অব্যাহতি না পেলে পরবর্তী ধাপগুলো আরো কষ্টকর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ আমি যত দৃশ্য দেখেছি, তার মধ্যে কবরের দৃশ্যই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



426 OK

(৪২৬)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مَرْوَانَ وَمَا إِخَالُهُ يُتَّهَمُ عَلَيْنَا قَالَ أَصَابَ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ رُعَافٌ سَنَةَ الرُّعَافِ حَتَّى تَخَلَّفَ عَنْ الْحَجِّ وَأَوْصَى فَدَخَلَ عَلَيْهِ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَ اسْتَخْلِفْ قَالَ وَقَالُوهُ قَالَ نَعَمْ قَالَ مَنْ هُوَ قَالَ فَسَكَتَ قَالَ ثُمَّ دَخَلَ عَلَيْهِ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لَهُ الْأَوَّلُ وَرَدَّ عَلَيْهِ نَحْوَ ذَلِكَ قَالَ فَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالُوا الزُّبَيْرَ قَالَ نَعَمْ قَالَ أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنْ كَانَ لَخَيْرَهُمْ مَا عَلِمْتُ وَأَحَبَّهُمْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَاه سُوَيْدٌ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ


মারওয়ান থেকে বর্ণিতঃ

যে বছর নাক দিয়ে রক্তপড়ার রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল সে বছর উসমানেরও নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। ফলে তিনি হজ্জ থেকে বিরত থাকেন এবং তিনি ওয়াসিয়াত করেন। এই সময়ে কুরাইশ বংশোদ্ভুত এক ব্যক্তি তার দরবারে প্রবেশ করে। সে বললো আপনি আপনার স্থলাভিষিক্ত নিয়োগ করুন। তিনি বললেন, সকলেই কি এ কথা বলেছে? সে বললো, হ্যাঁ, বলেছে। তিনি বললেন, লোকেরা যাকে মনোনীত করতে বলছে, তিনি কে? লোকটি চুপ করে রইল। এরপর উসমানের নিকট আরেক ব্যক্তি এল। সেও তাকে প্রথম ব্যক্তির মত কথা বললো। উসমানও তাকে আগের মতই জবাব দিলেন। এরপর উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ তারা যুবাইরকে মনোনীত করতে বলেছেন? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেন, মহান আল্লাহর কসম, যার হাতে আমার জীবন, নিশ্চয়ই সে আমার জানামতে সকলের চেয়ে উত্তম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সর্বাধিক প্রিয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৬]


[বুখারী-৩৭১৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



427 OK

(৪২৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৪০০] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْد اللَّهِ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَبُو مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ الطَّائِفِيُّ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ بْنِ مَنَّاحٍ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ رَأَى جَنَازَةً فَقَامَ إِلَيْهَا وَقَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى جَنَازَةً فَقَامَ لَهَا


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ছেলে আবান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি জানাযার আয়োজন দেখা মাত্রই সেদিকে ছুটে গেলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, একটি জানাযার আয়োজন দেখেই সেদিকে ছুটে গেলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৭]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



428 OK

(৪২৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৪২০] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ يَعْنِي الْمُعَلِّمَ عَنْ يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ أَبِي كَثِيرٍ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ أخْبَرَهُ أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ الْجُهَنِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَأَلَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قُلْتُ أَرَأَيْتَ إِذَا جَامَعَ امْرَأَتَهُ وَلَمْ يُمْنِ فَقَالَ عُثْمَانُ يَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلَاةِ وَيَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَالزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ وَطَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ وَأُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ فَأَمَرُوهُ بِذَلِكَ


যায়িদ বিন খালিদ আল জুহানী থেকে বর্ণিতঃ

যায়িদ বিন খালিদ আল জুহানী উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞাসা করেন, যদি কেউ স্ত্রী সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাত না করে, তবে সে কী করবে? উসমান বললেন, নামাযের ওযুর মত ওযু করবে এবং পুরুষাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে। উসমান আরো বলেন, আমি এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি। পরে আলী বিন আবি তালিব, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, তালহা বিন আবদুল্লাহ ও উবাই বিন কাবকেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। তারাও একই আদেশ দেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



429 OK

(৪২৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي مُعَاذُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ حُمْرَانَ بْنَ أَبَانَ أَخْبَرَهُ قَالَ أَتَيْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ جَالِسٌ فِي الْمَقَاعِدِ فَتَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي هَذَا الْمَجْلِسِ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ مِثْلَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ أَتَى الْمَسْجِدَ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا تَغْتَرُّوا


হুমরান থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের আসনে বসা অবস্থায় পানি আনতে বললেন। তারপর পাত্র থেকে পানি ঢেলে ডান হাত ধুলেন। তারপর ডান হাত পাত্রে ঢুকিয়ে নিজের দুই হাতের তালু তিনবার করে ধুলেন। তারপর নিজের মুখমণ্ডল তিনবার করে ধুলেন, তিনবার করে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং কনুই পর্যন্ত হাত ধুলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর গোড়ালি পর্যন্ত পা ধুলেন তিনবার করে। তারপর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার এই ওযূর মত ওযূ করবে, তারপর দু’রাকআত নামায এমনভাবে পড়বে যে, নামাযের ভেতরে নিজের সাথে কোন কথা বলবে না, (অর্থাৎ অন্য কোন বিষয়ে চিন্তা করবে না।) তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আত্মম্ভরী হয়ো না। [মুসনাদে আহমাদ : ৪২৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



430 OK

(৪৩০)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَفْصٍ بْنِ عُمَرَ التَّيْمِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ سَمِعْتُ عَمِّي عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ بْنِ مُوسَى يَقُولُ كُنْتُ عِنْدَ سُلَيْمَانَ بْنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَدَخَلَ شَيْخٌ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَ سُلَيْمَانُ انْظُرْ إِلَى الشَّيْخِ فَأَقْعِدْهُ مَقْعَدًا صَالِحًا فَإِنَّ لِقُرَيْشٍ حَقًّا فَقُلْتُ أَيُّهَا الْأَمِيرُ أَلَا أُحَدِّثُكَ حَدِيثًا بَلَغَنِي عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَلَى قَالَ قُلْتُ لَهُ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَهَانَ قُرَيْشًا أَهَانَهُ اللَّهُ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ مَا أَحْسَنَ هَذَا مَنْ حَدَّثَكَ هَذَا قَالَ قُلْتُ حَدَّثَنِيهِ رَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي أَبِي يَا بُنَيَّ إِنْ وَلِيتَ مِنْ أَمْرِ النَّاسِ شَيْئًا فَأَكْرِمْ قُرَيْشًا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ أَهَانَ قُرَيْشًا أَهَانَهُ اللَّهُ


উবাইদুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিতঃ

আমি সুলাইমান বিন আলীর নিকট ছিলাম। এ সময় কুরাইশের জনৈক প্রবীণ ব্যক্তি প্রবেশ করলো। সুলাইমান বললেনঃ এই প্রবীণ ব্যক্তির দিকে দৃষ্টি দাও, তাকে উপযুক্ত আসনে বসাও। কেননা কুরাইশের বিশেষ অধিকার রয়েছে। আমি বললামঃ হে আমীর, আমি কি আপনাকে একটি হাদীস শুনাবো, যা আমার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পৌছেছে। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, শুনাও। আমি বললামঃ আমি জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরাইশকে অপমান করবে, আল্লাহ তাকে অপমান করবেন। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ, কত সুন্দর হাদীস! এটি তুমি কার কাছ থেকে পেয়েছ? আমি বললামঃ রাবীয়া বিন আবি আবদুর রহমান থেকে, রাবীয়া পেয়েছে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব থেকে। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব পেয়েছে আমর বিন উসমান থেকে। আমর বলেছেন, আমার আব্বা উসমান আমাকে বলেছেন, হে আমার ছেলে, জনগণের কোন দায়িত্ব যদি তোমার ওপর অর্পিত হয়, তবে কুরাইশকে শ্রদ্ধা করবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কুরাইশকে অপমান করবে, তাকে আল্লাহ অপমান করবেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৩০]


[ইবনু হিব্বান-৬২৬৯, আল হাকেম-৭৪/৪]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



431 OK

(৪৩১)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ الْوَرَّاقُ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ عَنِ ابْنِ أَبْزَى عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ حِينَ حُصِرَ إِنَّ عِنْدِي نَجَائِبَ قَدْ أَعْدَدْتُهَا لَكَ فَهَلْ لَكَ أَنْ تَحَوَّلَ إِلَى مَكَّةَ فَيَأْتِيَكَ مَنْ أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَكَ قَالَ لَا إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يُلْحَدُ بِمَكَّةَ كَبْشٌ مِنْ قُرَيْشٍ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ عَلَيْهِ مِثْلُ نِصْفِ أَوْزَارِ النَّاسِ


ইবনে আবযা থেকে বর্ণিতঃ

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন অবরুদ্ধ তখন তাঁকে আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর বললেনঃ আমার নিকট সম্ভ্রান্ত বংশীয় কিছু লোক রয়েছে, যাদেরকে আমি আপনার জন্য প্রস্তুত করেছি। আপনি কি মক্কায় চলে যেতে রাজি আছেন? তাহলে যারা আপনার কাছে আসতে চায় তারা আসবে। উসমান বললেনঃ না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মক্কায় কুরাইশের জনৈক নেতা সমাহিত হবে, তার নাম হবে আবদুল্লাহ, জনগণের সকল পাপের অর্ধেকের সমান তার ওপর আবর্তিত হবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৩১]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



432 OK

(৪৩২)

হাদিস দেখুন [৩১:৩৭৮] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مَالِكٍ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُحْرِمُ لَا يَنْكِحُ وَلَا يُنْكِحُ وَلَا يَخْطُبُ


উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইহরাম বেঁধেছে, সে বিয়ে করবে না, করাবেও না এবং বিয়ের প্রস্তাবও পাঠাবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৩২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



433 OK

(৪৩৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৪০৬] view_link


হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ ثَابِتٍ عَنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ قَالَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ يَخْطُبُ عَلَى مِنْبَرِهِ إِنِّي مُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا كَانَ يَمْنَعُنِي أَنْ أُحَدِّثَكُمْ إِلَّا الضِّنُّ عَلَيْكُمْ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ حَرَسُ لَيْلَةٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ لَيْلَةٍ يُقَامُ لَيْلُهَا وَيُصَامُ نَهَارُهَا


আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণিতঃ

উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু মিম্বারে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে বললেনঃ আমি তোমাদেরকে সেই হাদীসটি শুনাচ্ছি, যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি। এতদিন শুনাইনি শুধু এজন্য যে, আমি তোমাদের প্রতি কার্পণ্য করছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর পথে এক রাত পাহারা দেয়া এমন এক হাজার রাতের চেয়ে ভালো, যার রাতগুলো জেগে ইবাদাত করে কাটানো হয় এবং দিনগুলোতে রোযা রাখা হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৩৩]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



434 OK

(৪৩৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَمِعْتُ خَالِدًا عَنْ أَبِي بِشْرٍ الْعَنْبَرِيِّ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ


উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই বিশ্বাসসহ মারা যায় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৩৪]


[মুসলিম-২৬, ইবনু হিব্বান-২০১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



435 OK

(৪৩৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنِي نُبَيْهُ بْنُ وَهْبٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْمَرٍ رَمِدَتْ عَيْنُهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَأَرَادَ أَنْ يُكَحِّلَهَا فَنَهَاهُ أَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَمَرَهُ أَنْ يُضَمِّدَهَا بِالصَّبِرِ وَزَعَمَ أَنَّ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حَدَّثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ فَعَلَ ذَلِكَ


বাইহ বিন ওহাব থেকে বর্ণিতঃ

উমার বিন উবাইদুল্লাহ বিন মা’মারের চোখ দিয়ে পানি পড়ার রোগ দেখা দিল। তখন তিনি ইহরাম বাঁধা অবস্থায় ছিলেন। এজন্য তিনি চোখে সুরমা লাগাতে চাইলেন। উসমানের ছেলে আবান তাঁকে সুরমা লাগাতে নিষেধ করলেন এবং তাঁকে সাবির নামক উদ্ভিদ দিয়ে চোখে পট্টি বাধার উপদেশ দিলেন। তিনি দাবী করলেন যে, উসমান বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৩৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস