(২৭) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (৪২১৭-৬৮০৭), সর্বমোট হাদিসঃ ২৫৯১টি]

[মোট হাদিসঃ ৩০টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ৬১১টি]



6196 OK

(৬১৯৬)

হাদিস দেখুন [৩১:২৫১৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ قَالَ فَأَوْمَأَ بِيَدِهِ وَقَالَ لَا حَرَجَ وَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَبَحْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ قَالَ فَأَوْمَأَ بِيَدِهِ وَقَالَ لَا حَرَجَ قَالَ فَمَا سُئِلَ يَوْمَئِذٍ عَنْ شَيْءٍ مِنْ التَّقْدِيمِ وَالتَّأْخِيرِ إِلَّا أَوْمَأَ بِيَدِهِ وَقَالَ لَا حَرَجَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

বিদায় হজ্জের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি কোরবানি করার পূর্বে, আমার মাথা মুন্ডন করেছি।” তিনি হাতের ইশারায় বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই। এখন কোরবানি করো।” আরেক ব্যক্তি বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি জামরাকে পাথর মারার আগেই, আমার কোরবানি দিয়েছি।” তিনি হাতের ইশারায় বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই।” কোরবানি দেওয়া, জামরায় পাথর মেরে মাথা মুণ্ডন করা এবং হজ্জের বিভিন্ন নিয়মে মধ্যে অন্য কোনো পরিবর্তন থাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৯৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6197 OK

(৬১৯৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْمُقْسِطِينَ فِي الدُّنْيَا عَلَى مَنَابِرَ مِنْ لُؤْلُؤٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بَيْنَ يَدَيْ الرَّحْمَنِ بِمَا أَقْسَطُوا فِي الدُّنْيَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যারা দুনিয়াতে ন্যায়বিচার করে, তাদের ন্যায়বিচারের বরকতের কারণে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে মুক্তার মিম্বরে করুণাময়ের সামনে দাঁড় করানো হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৯৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6198 OK

(৬১৯৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ أَخْبَرَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ حَدَّثَنِي أَبُو كَبْشَةَ السَّلُولِيُّ أَنُّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي يَقُولُ بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “তোমরা আমার পক্ষ থেকে লোকদের কাছে হাদিস পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি বাক্যই হয়। তোমরা যদি বনী ইসরাঈলদের থেকে কোনো কথা, কারো কাথে উল্লেখ করো, তবে এতে কোনো ক্ষতি নেই। যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে কোনো মিথ্যা কথা বলবে, সে যেনো তার বাসস্থান জাহান্নামে তৈরি করে নিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৯৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6199 OK

(৬১৯৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَإِيَّاكُمْ وَالْفُحْشَ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفُحْشَ وَلَا التَّفَحُّشَ وَإِيَّاكُمْ وَالشُّحَّ فَإِنَّ الشُّحَّ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ أَمَرَهُمْ بِالْقَطِيعَةِ فَقَطَعُوا وَأَمَرَهُمْ بِالْبُخْلِ فَبَخِلُوا وَأَمَرَهُمْ بِالْفُجُورِ فَفَجَرُوا قَالَ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْإِسْلَامِ أَفْضَلُ قَالَ أَنْ يَسْلَمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِكَ وَيَدِكَ فَقَامَ ذَاكَ أَوْ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ قَالَ أَنْ تَهْجُرَ مَا كَرِهَ رَبُّكَ وَالْهِجْرَةُ هِجْرَتَانِ هِجْرَةُ الْحَاضِرِ وَالْبَادِي فَهِجْرَةُ الْبَادِي أَنْ يُجِيبَ إِذَا دُعِيَ وَيُطِيعَ إِذَا أُمِرَ وَالْحَاضِرِ أَعْظَمُهُمَا بَلِيَّةً وَأَفْضَلُهُمَا أَجْرًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, “কিয়ামতের দিন অবিচার অন্ধত্বের আকারে থাকবে। অশ্লীলতা থেকে নিজেদের রক্ষা করো, কারণ আল্লাহ কোন ধরণের অশ্লীলতা পছন্দ করেন না, তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য। কৃপণতা থেকে নিজেদের রক্ষা করো, কারণ কৃপণতা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছিলো। এই কৃপণতাই তাদেরকে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার পথ দেখিয়েছিলো, তাই তারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলো। এই কৃপণতাই তাদেরকে তাদের সম্পদ ও সম্পদ জমা করে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলো। এই কৃপণতাই তাদেরকে পাপের পথ দেখিয়েছিলো, তাই তারা পাপ করতে শুরু করেছিলো।” ইতিমধ্যে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কোন ইসলাম ভালো?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যাতে অন্য মুসলিমরা তোমার জিহ্বা এবং হাত থেকে নিরাপদ থাকে।” আরেকজন লোক দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কোন পরহেযগারীতা ভালো?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের পালনকর্তাকে অসন্তুষ্ট করে এমন কাজ ত্যাগ করা। আর হিজরত দুই প্রকার, নগরবাসীর হিজরত এবং গ্রামবাসীর হিজরত। গ্রামবাসীর হিজরত হলো, যখন তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, তখন সে তা গ্রহণ করে এবং যখন তাকে আদেশ করা হয়, তখন সে তা পালন করে। আর নগরবাসীর পরীক্ষা অনেক বড় এবং তার প্রতিদানও অনেক বড়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬১৯৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6200 OK

(৬২০০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ حَدَّثَنَا أَبُو كَبْشَةَ السَّلُولِيُّ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ حَدَّثَهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَرْبَعُونَ حَسَنَةً أَعْلَاهَا مِنْحَةُ الْعَنْزِ لَا يَعْمَلُ عَبْدٌ أَوْ قَالَ رَجُلٌ بِخَصْلَةٍ مِنْهَا رَجَاءَ ثَوَابِهَا أَوْ تَصْدِيقَ مَوْعُودِهَا إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ بِهَا الْجَنَّةَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “চল্লিশটি নেক আমল রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো একটি ছাগল দান করা। যে ব্যক্তি এর যে কোনো একটি আমল করে, তার প্রতিদানের আশায় এবং আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য বলে বিশ্বাস করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২০০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6201 OK

(৬২০১)

হাদিস দেখুন [৩১:২৫১৬] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ قَالَ فَأَوْمَأَ بِيَدِهِ وَقَالَ لَا حَرَجَ وَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَبَحْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ قَالَ فَأَوْمَأَ بِيَدِهِ وَقَالَ لَا حَرَجَ قَالَ فَمَا سُئِلَ يَوْمَئِذٍ عَنْ شَيْءٍ مِنْ التَّقْدِيمِ وَالتَّأْخِيرِ إِلَّا أَوْمَأَ بِيَدِهِ وَقَالَ لَا حَرَجَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

বিদায় হজ্জের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি কোরবানি করার পূর্বে, আমার মাথা মুন্ডন করেছি।” তিনি হাতের ইশারায় বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই। এখন কোরবানি করো।” আরেক ব্যক্তি বললো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমি জামরাকে পাথর মারার আগেই, আমার কোরবানি দিয়েছি।” তিনি হাতের ইশারায় বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই।” কোরবানি দেওয়া, জামরায় পাথর মেরে মাথা মুণ্ডন করা এবং হজ্জের বিভিন্ন নিয়মে মধ্যে অন্য কোনো পরিবর্তন থাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, “কোনো অসুবিধা নেই।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২০১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6202 OK

(৬২০২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُبَايِعُهُ قَالَ جِئْتُ لِأُبَايِعَكَ عَلَى الْهِجْرَةِ وَتَرَكْتُ أَبَوَيَّ يَبْكِيَانِ قَالَ فَارْجِعْ إِلَيْهِمَا فَأَضْحِكْهُمَا كَمَا أَبْكَيْتَهُمَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আনুগত্য করার জন্যে এসে বললো, “আমি হিজরতের সময় আপনার কাছে বাইয়াত করতে এসেছি এবং (আমি বড় কুরবানী করেছি যে,) আমি আমার পিতা-মাতাকে কাঁদাতে কাঁদাতে রেখে এসেছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি পুনরায় তোমার পিতা-মাতার কাছে ফিরে যাও। আর যেভাবে তাদেরকে কাঁদিয়ে এসেছো, সেভাবে তাদেরকে হাসাও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২০২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6203 OK

(৬২০৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ سَمِعْتُ عَمْرًا أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ أَوْسٍ سَمِعَهُ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ صِيَامُ دَاوُدَ وَأَحَبُّ الصَّلَاةِ إِلَى اللَّهِ صَلَاةُ دَاوُدَ كَانَ يَنَامُ نِصْفَهُ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ وَكَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় রোজা হলো, হযরত দাউদ আলাইহি ওয়া সাল্লামের রোজা। আর হযরত দাউদ আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তিনি রাতের অর্ধেক পর্যন্ত ঘুমাতেন, রাতের এক তৃতীয়াংশ দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং তারপর এক ষষ্ঠাংশ বিশ্রাম নিতেন। একই ভাবে তিনি একদিন রোজা রাখতেন এবং একদিন সালাত আদায় করতেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২০৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6204 OK

(৬২০৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُقْسِطُونَ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عَزَّ وَجَلَّ وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ الَّذِينَ يَعْدِلُونَ فِي حُكْمِهِمْ وَأَهْلِيهِمْ وَمَا وَلُوا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যারা দুনিয়াতে ন্যায়বিচার করে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে পরম করুণাময়ের ডান হাতে মুক্তার মিম্বরে রাখা হবে এবং পরম করুণাময়ের উভয় হাত সোজা থাকবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২০৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6205 OK

(৬২০৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَكَانَ عَلَى رَحْلِ وَقَالَ مَرَّةً عَلَى ثَقَلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كِرْكِرَةُ فَمَاتَ فَقَالَ هُوَ فِي النَّارِ فَنَظَرُوا فَإِذَا عَلَيْهِ عَبَاءَةٌ قَدْ غَلَّهَا وَقَالَ مَرَّةً أَوْ كِسَاءٌ قَدْ غَلَّهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

কারকারাহ নামে এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সরঞ্জামাদি পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে ছিলো। যখন সে মারা যায়, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সে জাহান্নামে আছে।” সাহাবীরা তাকে খুঁজতে লাগলেন এবং একটি চাদর খুঁজে পেলেন, যা সে যুদ্ধের গনীমত থেকে চুরি করেছিলো। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২০৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6206 OK

(৬২০৬)

হাদিস দেখুন [৩১:১৫৮৯] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا الرَّدَّادِ اللَّيْثِيَّ أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَا الرَّحْمَنُ خَلَقْتُ الرَّحِمَ وَشَقَقْتُ لَهَا مِنْ اسْمِي اسْمًا فَمَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُّهُ


হজরত আবদ আল-রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ বলেছেন, “আমি আর-রহমান এবং আমি আর-রহিম (আত্মীয়তার বন্ধন) সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম থেকে এ নামটি তৈরি করেছি, যে ব্যক্তি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবো এবং যে ব্যক্তি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে, আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবো এবং আমি ঐ ব্যক্তিকে টুকরো টুকরো করে দিবো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২০৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6207 OK

(৬২০৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ وَهْبِ بْنِ جَابِرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْن عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْمًا أَنْ يُضَيِّعَ مَنْ يَقُوتُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন ব্যক্তির পাপী হওয়ার জন্যে এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যাদের দায়িত্বে আছে, তাদের জীবিকা নষ্ট করে।” (উদাহরণ স্বরূপ, দুর্বল বাবা-মা, স্ত্রী এবং সন্তান।) [মুসনাদে আহমাদ : ৬২০৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6208 OK

(৬২০৮)

হাদিস দেখুন [৩১:৫৩২০] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ أَنْهُ سَمِعَ أَبَاهُ مُحَمَّدًا يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا زَالَ جِبْرِيلُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ أَوْ قَالَ خَشِيتُ أَنْ يُوَرِّثَهُ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জিব্রাইল আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে আমার প্রতিবেশীর ব্যাপারে অবিচল ভাবে এতো বেশি অসিয়ত করেছেন যে, আমি মনে করতে লাগলাম যে, প্রতিবেশীকে আমার সম্পদের উত্তরাধিকারী করা হবে।”

[মুসনাদে আহমাদ : ৬২০৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6209 OK

(৬২০৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَحْوَلِ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي عِيَاضٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ لَمَّا نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْأَوْعِيَةِ قَالُوا لَيْسَ كُلُّ النَّاسِ يَجِدُ سِقَاءً فَأَرْخَصَ فِي الْجَرِّ غَيْرِ الْمُزَفَّتِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানীয় পাত্র নিষিদ্ধ করলেন, তখন লোকেরা বললো, “প্রত্যেক মানুষের কি একটি করে মশক থাকে না?” এর পর, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “মুজফাত” এর পরিবর্তে মাটির পাত্র ব্যবহারের অনুমতি দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২০৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6210 OK

(৬২১০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَلَّتَانِ مَنْ حَافَظَ عَلَيْهِمَا أَدْخَلَتَاهُ الْجَنَّةَ وَهُمَا يَسِيرٌ وَمَنْ يَعْمَلُ بِهِمَا قَلِيلٌ قَالُوا وَمَا هُمَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ أَنْ تَحْمَدَ اللَّهَ وَتُكَبِّرَهُ وَتُسَبِّحَهُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ عَشْرًا عَشْرًا وَإِذَا أَتَيْتَ إِلَى مَضْجَعِكَ تُسَبِّحُ اللَّهَ وَتُكَبِّرُهُ وَتَحْمَدُهُ مِائَةَ مَرَّةٍ فَتِلْكَ خَمْسُونَ وَمِائَتَانِ بِاللِّسَانِ وَأَلْفَانِ وَخَمْسُ مِائَةٍ فِي الْمِيزَانِ فَأَيُّكُمْ يَعْمَلُ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ أَلْفَيْنِ وَخَمْسَ مِائَةِ سَيِّئَةٍ قَالُوا كَيْفَ مَنْ يَعْمَلُ بِهَا قَلِيلٌ قَالَ يَجِيءُ أَحَدَكُمْ الشَّيْطَانُ فِي صَلَاتِهِ فَيُذَكِّرُهُ حَاجَةَ كَذَا وَكَذَا فَلَا يَقُولُهَا وَيَأْتِيهِ عِنْدَ مَنَامِهِ فَيُنَوِّمُهُ فَلَا يَقُولُهَا قَالَ وَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْقِدُهُنَّ بِيَدِهِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুটি গুণ জান্নাতে নিয়ে যাবে, সেগুলো উচ্চারণে খুবই সহজ এবং আমলে খুবই কম।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ওই দুটি জিনিস কী?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “একটি হলো, প্রতিটি ফরজ নামাজের পর দশবার আলহামদু লিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, সুবহান আল্লাহ বলা। আর দ্বিতীয়টি হলো, যখন তুমি ঘুমাতে যাবে, তখন একশবার সুবহান আল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদু লিল্লাহ বলা। যদি তুমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এবং রাতে এই শব্দগুলোর সংখ্যা যোগ করো, তাহলে তুমি তোমার জিহ্বা দিয়ে আড়াইশ বার এই শব্দগুলো বলবে, কিন্তু আমলের পাল্লায় তা আড়াই হাজারের সমান হবে। এখন, তোমাদের মধ্যে কে দিনরাত দশ হাজার পাপ করবে?” সাহাবাগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম জিজ্ঞাসা করলেন, “এই কথাগুলো কীভাবে আমলকারীর জন্যে খুব কম?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “শয়তান তোমাদের কারো কাছে নামাযের সময় আসে এবং তাকে বিভিন্ন কাজের কথা স্বরণ করায়, কিন্তু সে সেগুলোতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং এই শব্দগুলো বলতে পারে না। একইভাবে, সে ঘুমন্ত অবস্থায় তার কাছে আসে এবং তাকে এভাবে ঘুম পাড়িয়ে দেয়, আর সে তখন এই শব্দগুলোও বলতে পারে না।” সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই শব্দগুলো আঙুলে গুনতে এবং সেগুলো পড়তে দেখেছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২১০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6211 OK

(৬২১১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ إِنِّي لَأَسِيرُ مَعَ مُعَاوِيَةَ فِي مُنْصَرَفِهِ مِنْ صِفِّينَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَا أَبَتِ مَا سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لِعَمَّارٍ وَيْحَكَ يَا ابْنَ سُمَيَّةَ تَقْتُلُكَ الْفِئَةُ الْبَاغِيَةُ قَالَ فَقَالَ عَمْرٌو لِمُعَاوِيَةَ أَلَا تَسْمَعُ مَا يَقُولُ هَذَا فَقَالَ مُعَاوِيَةُ لَا تَزَالُ تَأْتِينَا بِهَنَةٍ أَنَحْنُ قَتَلْنَاهُ إِنَّمَا قَتَلَهُ الَّذِينَ جَاءُوا بِهِ حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ مِثْلَهُ أَوْ نَحْوَهُ


হজরত ইবনে হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

যখন সাইয়্যিদুনা আমীর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সিফফিনের যুদ্ধ থেকে ফিরে আসছিলেন, তখন আমি তাঁর এবং সাইয়্যিদুনা আমর বিন আল-আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাঝখানে হেঁটে যাচ্ছিলাম। সাইয়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার বাবাকে বললেন, “পিতা, তুমি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাইয়্যিদুনা আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহুর সম্পর্কে বলতে শুনেছো যে, ‘তোমার জন্যে দুর্ভোগ! হে সুমায়ার পুত্র, বিদ্রোহী দল তোমাকে হত্যা করবে’?” সাইয়্যিদুনা আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু, সাইয়্যিদুনা আমীর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, “তুমি কি তার কথা শুনছো?” সাইয়্যিদা আমির মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি সবসময় এমন বিরক্তিকর খবর নিয়ে আসো। আমরা কি তাদের শহীদ করেছি? যারা তাদের এনেছিলো, তাদের হাতেই তারা শহীদ হয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২১১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6212 OK

(৬২১২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ رَبِّ الْكَعْبَةِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ بَايَعَ إِمَامًا فَأَعْطَاهُ صَفْقَةَ يَدِهِ وَثَمَرَةَ قَلْبِهِ فَلْيُطِعْهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنْ جَاءَ آخَرُ يُنَازِعُهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَ الْآخَرِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন ইমামের প্রতি আনুগত্য করে এবং তাকে তার হাতের কাজ এবং তার হৃদয় দিয়ে সমর্থন করে, তার উচিত যথাসম্ভব তার আনুগত্য করা। আর যদি অন্য কেউ তার সাথে তর্ক করতে আসে, তাহলে অন্য ব্যক্তির মাথা কেটে ফেলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২১২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6213 OK

(৬২১৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي السَّفَرِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ مَرَّ بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ نُصْلِحُ خُصًّا لَنَا فَقَالَ مَا هَذَا قُلْنَا خُصًّا لَنَا وَهَى فَنَحْنُ نُصْلِحُهُ قَالَ فَقَالَ أَمَا إِنَّ الْأَمْرَ أَعْجَلُ مِنْ ذَلِكَ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমরা যখন আমাদের কুঁড়েঘর মেরামত করছিলাম, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “কি হচ্ছে?” আমরা বললাম, “আমাদের কুঁড়েঘরটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং আমরা এখন এটি মেরামত করছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “বিষয়টি তার চেয়েও জরুরি (মৃত্যু সম্পর্কে কেউ জানে না)।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২১৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6214 OK

(৬২১৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ رَبِّ الْكَعْبَةِ قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ بَيْنَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ إِذْ نَزَلَ مَنْزِلًا فَمِنَّا مَنْ يَضْرِبُ خِبَاءَهُ وَمِنَّا مَنْ هُوَ فِي جَشَرِهِ وَمِنَّا مَنْ يَنْتَضِلُ إِذْ نَادَى مُنَادِيهِ الصَّلَاةُ جَامِعَةٌ قَالَ فَاجْتَمَعْنَا قَالَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخَطَبَنَا فَقَالَ إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ قَبْلِي إِلَّا دَلَّ أُمَّتَهُ عَلَى مَا يَعْلَمُهُ خَيْرًا لَهُمْ وَيُحَذِّرُهُمْ مَا يَعْلَمُهُ شَرًّا لَهُمْ وَإِنَّ أُمَّتَكُمْ هَذِهِ جُعِلَتْ عَافِيَتُهَا فِي أَوَّلِهَا وَإِنَّ آخِرَهَا سَيُصِيبُهُمْ بَلَاءٌ شَدِيدٌ وَأُمُورٌ تُنْكِرُونَهَا تَجِيءُ فِتَنٌ يُرَقِّقُ بَعْضُهَا لِبَعْضٍ تَجِيءُ الْفِتْنَةُ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ مُهْلِكَتِي ثُمَّ تَنْكَشِفُ ثُمَّ تَجِيءُ الْفِتْنَةُ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ ثُمَّ تَنْكَشِفُ فَمَنْ سَرَّهُ مِنْكُمْ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنْ النَّارِ وَأَنْ يُدْخَلَ الْجَنَّةَ فَلْتُدْرِكْهُ مَوْتَتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ وَمَنْ بَايَعَ إِمَامًا فَأَعْطَاهُ صَفْقَةَ يَدِهِ وَثَمَرَةَ قَلْبِهِ فَلْيُطِعْهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنْ جَاءَ آخَرُ يُنَازِعُهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَ الْآخَرِ قَالَ فَأَدْخَلْتُ رَأْسِي مِنْ بَيْنِ النَّاسِ فَقُلْتُ أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ آنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى أُذُنَيْهِ فَقَالَ سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ وَوَعَاهُ قَلْبِي قَالَ فَقُلْتُ هَذَا ابْنُ عَمِّكَ مُعَاوِيَةُ يَعْنِي يَأْمُرُنَا بِأَكْلِ أَمْوَالِنَا بَيْنَنَا بِالْبَاطِلِ وَأَنْ نَقْتُلَ أَنْفُسَنَا وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ قَالَ فَجَمَعَ يَدَيْهِ فَوَضَعَهُمَا عَلَى جَبْهَتِهِ ثُمَّ نَكَسَ هُنَيَّةً ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ أَطِعْهُ فِي طَاعَةِ اللَّهِ وَاعْصِهِ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ


হজরত আব্দুর রহমান বিন আব্দু-রব্ব আল-কাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমি সাইয়্যিদিনা ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলাম, যিনি কাবার ছায়ায় বসে ছিলেন। আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, একবার আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর সাথে এক সফরে ছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি স্থানে পৌঁছালেন এবং তাঁবু স্থাপন করলেন। আমাদের মধ্যে কেউ তাঁবু স্থাপন করলেন, কেউ তৃণভূমিতে গেলেন, আবার কেউ তীর ছুঁড়তে লাগলেন। হঠাৎ একজন আহবানকারী ডাক দিলেন যে, নামাজ প্রস্তুত। আমরা সেই মুহূর্তে জড়ো হলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে খুতবার সময় বললেন, “আমার পূর্বে আগত সকল নবী তাদের উম্মতকে তাদের জন্যে যা ভালো বলে মনে করেছিলেন, তা বলেছিলেন এবং তাদের মন্দ মনে করেছিলেন, ঐ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই উম্মতের কল্যাণ তার প্রথম অংশে রয়েছে এবং এই উম্মতের শেষ লোকেরা কঠোর, কষ্ট ও অদ্ভুত এবং অদ্ভুত জিনিসের মুখোমুখি হবে। এমন পরীক্ষা আসবে, যা একে অপরের জন্যে নরম করে তুলবে। যখন একজন মুসলিমকে পরীক্ষা করা হবে, তখন সে বলবে, ‘এটি আমার মৃত্যুর কারণ হতে চলেছে।’ এবং কিছুক্ষণ পরে, এটিও শেষ হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পেতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চায়, সে যেনো আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে। আর যে ব্যক্তি কোন ইমামের প্রতি আনুগত্য করে এবং তাকে তার হাতের কাজ এবং তার হৃদয় দিয়ে স্বমর্থন করে, সে যেনো যথাসম্ভব তার আনুগত্য করে। আর যদি অন্য কেউ তার সাথে তর্ক করতে আসে, তাহলে সে যেনো অন্যের ঘাড় কেটে ফেলে।” বর্ণনাকারী বলেন, আমি লোকদের মধ্যে মাথা রেখে সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললাম, “আল্লাহর কসম, আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এটি শুনেছেন?” তিনি তার হাত দিয়ে তার কানের দিকে ইশারা করে বললেন, “আমার কান এটা শুনেছে এবং আমার হৃদয় এটা সংরক্ষণ করেছে।” আমি বললাম, তোমার এই চাচাতো ভাই (তিনি তার ধারণা অনুযায়ী সাইয়েদা আমির মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা বলছিলেন, অথচ বাস্তবতা ছিল এর বিপরীত) আমাদের একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে খাওয়ার এবং একে অপরকে হত্যা করার আদেশ দেয়, অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেও না।” এই কথা শুনে সাইয়েদুনা আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাত একত্র করে কপালে রাখলেন এবং কিছুক্ষণ মাথা নিচু করলেন, তারপর মাথা তুলে বললেন, “আল্লাহর আনুগত্যের কাজে তার আনুগত্য করো এবং আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে তার অবাধ্যতা করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২১৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6215 OK

(৬২১৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا وَكَانَ يَقُولُ مِنْ خِيَارِكُمْ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজ করার লোক ছিলেন না এবং তিনি বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম, যাদের চরিত্র সর্বোত্তম।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২১৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6216 OK

(৬২১৬)

হাদিস দেখুন [৩১:১৮৬৭] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا رَجُلًا خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ قَالَ وَحَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُجَاهِدٍ لَيْسَ فِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ يَعْنِي مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ فِيهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যুল-হিজ্জার প্রথম দশ দিনের চেয়ে কোনো নেক আমল আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়ো নয়, যেমনটি এই দশ দিনে প্রিয়ো।” সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে জিহাদও নয়?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এমনকি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে জিহাদও নয়। তবে হ্যাঁ, যে ব্যক্তি নিজের জান-মাল নিয়ে বের হয় এবং তার কোনো একটি নিয়েও ফিরে আসে না, সে প্রিয়ো হতে পারে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২১৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6217 OK

(৬২১৭)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي شَهْرٍ ثُمَّ نَاقَصَنِي وَنَاقَصْتُهُ حَتَّى صَارَ إِلَى سَبْعٍ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা মাসে একবার কুরআন খতম করো, তারপর ধীরে ধীরে তা কমিয়ে সাত দিনে পৌঁছাও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২১৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6218 OK

(৬২১৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ عَنْ أَسْلَمَ الْعِجْلِيِّ عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ أَعْرَابِيٌّ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الصُّورُ قَالَ قَرْنٌ يُنْفَخُ فِيهِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

এক গ্রামবাসী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলো, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহা-শব্দ কী?” তিনি বললেন, “একটি শিঙ্গা যার মধ্যে কিয়ামতের সময় ফুঁ দেওয়া হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২১৮]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6219 OK

(৬২১৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ عَنْ يُونُسَ عَنِ الْحَسَنِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ أَنْتَ إِذَا بَقِيتَ فِي حُثَالَةٍ مِنْ النَّاسِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ ذَلِكَ قَالَ إِذَا مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَأَمَانَاتُهُمْ وَكَانُوا هَكَذَا وَشَبَّكَ يُونُسُ بَيْنَ أَصَابِعِهِ يَصِفُ ذَاكَ قَالَ قُلْتُ مَا أَصْنَعُ عِنْدَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ اتَّقِ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَخُذْ مَا تَعْرِفُ وَدَعْ مَا تُنْكِرُ وَعَلَيْكَ بِخَاصَّتِكَ وَإِيَّاكَ وَعَوَامَّهُمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার আমাকে বললেন, “যখন তুমি অকেজো ও নিকৃষ্ট লোকদের মধ্যে থাকবে, তখন তোমার কী হবে?” আমি বললাম, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটা কিভাবে হবে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন প্রতিশ্রুতি ও আমানত ভঙ্গ করা হবে এবং লোকেরা এইরকম হয়ে যায় (বর্ণনাকারী ইশারা করে দেখিয়েছেন যে, লোকদেরকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলা হবে এবং কেবল ময়লা অবশিষ্ট থাকবে।)।” আমি বললাম, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই মুহূর্তে আমার জন্যে কী আদেশ?” তিনি বললেন, “আল্লাহকে ভয় করা, সৎকর্ম করা, মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা, অভিজাতদের সাথে মেলামেশা করা এবং জনসাধারণের কাছ থেকে নিজেকে রক্ষা করা।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২১৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6220 OK

(৬২২০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ عَنْ شُعْبَةَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ سَمِعْتُ رَجُلًا فِي بَيْتِ أَبِي عُبَيْدَةَ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو يُحَدِّثُ ابْنَ عُمَرَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ سَمَّعَ النَّاسَ بِعَمَلِهِ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ سَامِعَ خَلْقِهِ وَصَغَّرَهُ وَحَقَّرَهُ قَالَ فَذَرَفَتْ عَيْنَا عَبْدِ اللَّهِ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার কর্মের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে খ্যাতি অর্জন করতে চায়, আল্লাহ তাকে তার অবস্থায় ছেরে দেন এবং তাকে অপমানিত করেন।” সাইয়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এই কথাটি বললেন, আর তার চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগলো। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২২০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6221 OK

(৬২২১)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَخْنَسِ أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ كُنْتُ أَكْتُبُ كُلَّ شَيْءٍ أَسْمَعُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرِيدُ حِفْظَهُ فَنَهَتْنِي قُرَيْشٌ فَقَالُوا إِنَّكَ تَكْتُبُ كُلَّ شَيْءٍ تَسْمَعُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَشَرٌ يَتَكَلَّمُ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَا فَأَمْسَكْتُ عَنْ الْكِتَابِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ اكْتُبْ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا خَرَجَ مِنِّي إِلَّا حَقٌّ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর কাছ থেকে যা শুনতেন তা লিখে রাখতেন, যাতে তিনি তা মনে রাখতে পারেন। কুরাইশরা আমাকে তা করতে নিষেধ করেছিলো এবং বলেছিলো, “তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে যা কিছু শুনতে পাও, তা লিখে রাখো, যদিও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও একজন মানুষ। কখনও তিনি রাগের সাথে কথা বলেন, কখনও আনন্দের সাথে।” এই লোকেরা এই কথা বলার পর, আমি লেখা বন্ধ করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর কাছে এটি উল্লেখ করি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তুমি লিখতে থাকো। যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার শপথ, আমার জিহ্বা থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২২১]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6222 OK

(৬২২২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ هِشَامٍ أَمْلَاهُ عَلَيْنَا حَدَّثَنِي أَبِي سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو مِنْ فِيهِ إِلَى فِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنْ النَّاسِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يَتْرُكْ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُؤَسَاءَ جُهَّالًا فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে জ্ঞান কেড়ে নিয়ে, ইলম কেড়ে নিবেন না, বরং তিনি আলেমদের কেড়ে নিয়ে ইলম কেড়ে নিবেন। যাতে যখন কোন আলেম অবশিষ্ট না থাকে, তখন লোকেরা অজ্ঞদের তাদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাদের সমস্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। কিন্তু তারা জ্ঞান ছাড়াই তাদের ফতোয়া দিবে, যার ফলে তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২২২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6223 OK

(৬২২৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ عَنْ هِلَالِ بْنِ يَسَافٍ عَنْ أَبِي يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي جَالِسًا قُلْتُ لَهُ حُدِّثْتُ أَنَّكَ تَقُولُ صَلَاةُ الْقَاعِدِ عَلَى نِصْفِ صَلَاةِ الْقَائِمِ قَالَ إِنِّي لَيْسَ كَمِثْلِكُمْ


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বসে নফল নামাজ পড়তে দেখেছি। আমি বললাম, “আমাকে বলা হয়েছে যে, আপনি বলেন যে, বসে নামাজ পড়ার সওয়াব দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার অর্ধেক।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি তোমাদের মতো নই।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২২৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6224 OK

(৬২২৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيِّ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى عَلَيْهِ ثَوْبَيْنِ مُعَصْفَرَيْنِ قَالَ هَذِهِ ثِيَابُ الْكُفَّارِ لَا تَلْبَسْهَا


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার শরীরে জাফরান রঞ্জিত দুটি পোশাক দেখে বললেন, “এগুলো কাফেরদের পোশাক; এগুলো খুলে ফেলো, এগুলো পরো না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৬২২৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



6225 OK

(৬২২৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِي سَبْرَةَ قَالَ كَانَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ زِيَادٍ يَسْأَلُ عَنْ الْحَوْضِ حَوْضِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ يُكَذِّبُ بِهِ بَعْدَمَا سَأَلَ أَبَا بَرْزَةَ وَالْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ وَعَائِذَ بْنَ عَمْرٍو وَرَجُلًا آخَرَ وَكَانَ يُكَذِّبُ بِهِ فَقَالَ أَبُو سَبْرَةَ أَنَا أُحَدِّثُكَ بِحَدِيثٍ فِيهِ شِفَاءُ هَذَا إِنَّ أَبَاكَ بَعَثَ مَعِي بِمَالٍ إِلَى مُعَاوِيَةَ فَلَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو فَحَدَّثَنِي مِمَّا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَمْلَى عَلَيَّ فَكَتَبْتُ بِيَدِي فَلَمْ أَزِدْ حَرْفًا وَلَمْ أَنْقُصْ حَرْفًا حَدَّثَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفُحْشَ أَوْ يُبْغِضُ الْفَاحِشَ وَالْمُتَفَحِّشَ


হজরত আবু সাবরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ বিভিন্ন ব্যক্তিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাউস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং যদিও তিনি এই প্রশ্নটি সাইয়্যিদুনা আবু বারযা আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু, বারা বিন আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু, আয়েদ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং অন্য একজন সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তবুও তিনি কাউসার হাউসের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিলেন। একদিন আমি তাকে বললাম, “আমি তোমাকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করবো, যাতে এই সমস্যার সম্পূর্ণ নিরাময় রয়েছে। তোমার বাবা একবার আমাকে সাইয়্যিদুনা আমীর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে কিছু টাকা দিয়ে পাঠিয়েছিলেন। আমি সাইয়্যিদুনা আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে দেখা করি। তিনি আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে শোনা একটি হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি আমাকে সেই হাদিসটি লিখে দেন এবং আমি একটি অক্ষরও যোগ বা বিয়োগ না করেই তা নিজের হাতে লিখে ফেলি। তিনি আমাকে এই হাদিসটি বর্ণনা করলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা কোনো ধরণের অশ্লীলতা পছন্দ করেন না, তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য হোক। আর কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবে না, যতক্ষণ না সর্বত্র অনৈতিকতা ছড়িয়ে পড়ে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা সাধারণ হয়ে যায়, খারাপ পাড়া-প্রতিবেশ সাধারণ হয়ে যায় এবং যতক্ষণ না বিশ্বাসঘাতককে বিশ্বস্ত এবং বিশ্বস্তকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তোমরা মনে রেখো, তোমাদের প্রতিশ্রুতির স্থান হলো আমার হাউস, যার প্রস্থ এবং দৈর্ঘ্য একই, অর্থাৎ এলা থেকে মক্কা পর্যন্ত, যা প্রায় এক মাসের দূরত্ব। এর ঝর্ণা গুলি তারার সংখ্যার সমান হবে। এর জল হবে রূপার চেয়েও সাদা। যে কেউ এটি থেকে পান করবে সে কখনও পিপাসার্ত হবে না।” এই হাদিসটি শুনে উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ বললেন, “আমি কাউসার হাউস সম্পর্কে এর চেয়ে শক্তিশালী হাদিস আর কখনও শুনিনি।” তাই তিনি এটি নিশ্চিত করতে শুরু করলেন এবং পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে নিজের কাছে রাখলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২২৫]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস