

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كَانُوا يَتَبَايَعُونَ الطَّعَامَ جُزَافًا عَلَى السُّوقِ فَنَهَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَبِيعُوهُ حَتَّى يَنْقُلُوهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় লোক বাজারের উঁচু স্থানে স্তুপে স্তুপে খাদ্য সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করতো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে তা বিক্রয় করতে নিষেধ করতেন, যতক্ষণ না, তা সেই স্থান হতে অন্য স্থানে সরানো হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৮৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَفَلَ مِنْ حَجٍّ أَوْ غَزْوٍ فَعَلَا فَدْفَدًا مِنْ الْأَرْضِ أَوْ شَرَفًا قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ آيِبُونَ تَائِبُونَ سَاجِدُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হজ্জ, জিহাদ বা ওমরাহ থেকে ফিরে আসতেন, তখন তিনি এই দুআ পাঠ করতেন।
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ آيِبُونَ تَائِبُونَ سَاجِدُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللَّهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ
“আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। সত্যিকার অর্থে আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শারীক নেই। সকল রাজত্ব এবং প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। সব বিষয়ে তিনিই সর্বশক্তিমান। আমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাহ্কারী, তাঁরই ইবাদাতকারী। আমরা আমাদের প্রভুর কাছে সাজদাহ্কারী, তাঁরই প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন। তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই তিনি সকল শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৮৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “একজন মুমিন এক পেটে খায় এবং একজন অবিশ্বাসী সাত পেটে খায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৮৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحُمَّى مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ فَأَبْرِدُوهَا بِالْمَاءِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জ্বর হচ্ছে জাহান্নামের উত্তাপের প্রভাব, তাই তোমরা একে পানি দিয়ে ঠান্ডা করো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৮৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْأَهْلِيَّةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষিদ্ধ করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৯০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ وَاصَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ فَوَاصَلَ النَّاسُ فَقَالُوا نَهَيْتَنَا عَنْ الْوِصَالِ وَأَنْتَ تُوَاصِلُ قَالَ إِنِّي لَسْتُ كَأَحَدٍ مِنْكُمْ إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসে একটি সাহরী খেয়ে পরপর একাধিক রোজা পালন করতেন। যখন লোকেরাও তা পালন করতে লাগলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে তা করতে নিষেধ করেন। তারা বললো যে, “আপনি আমাদেরকে একটানা অনেক দিন রোজা রাখতে নিষেধ করছেন, অথচো আপনি নিজেই তা পালন করছেন?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি তোমাদের মতো নই, আমাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে খাওয়ানো ও পান করানো হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৯১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَبِعْ أَحَدُكُمْ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ وَلَا يَخْطُبْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ إِلَّا أَنْ يَأْذَنَ لَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “শহরবাসী গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রয় করবে না। আর তোমরা (মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশে) দালালী করবে না। তোমাদের কেউ যেনো তার ভাইয়ের ক্রয়ের উপরে দাম না বাড়ায় এবং কেউ যেনো তার ভাইয়ের (বিবাহের) প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। আর কোনো স্ত্রীলোক যেনো তার বোনের (সতীনের) পাত্রের অধিকারী হওয়ার উদ্দেশে, তার তালাকের চেষ্টা না করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৯২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ أَمَامَكُمْ حَوْضًا مَا بَيْنَ جَرْبَاءَ وَأَذْرُحَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “(আখিরাতে) তোমাদের সম্মুখে আমার এমন একটি হাওয থাকবে, যার প্রশস্ততা জারবা এবং আযরুহার মাঝামাঝি ব্যবধানের সমান। আর তার বাটিগুলো আকাশের তারার সমান হবে। যে ব্যক্তি একবার এর পানি পান করবে, সে কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৯৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ أَخْبَرَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ الْوَاصِلَةَ وَالْمَوْصُولَةَ وَالْمُتَشَبِّهِينَ مِنْ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنْ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সকল নারীদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন, যারা পরচুলা ব্যবহার করে এবং যারা তা পরিয়ে দেয়। তিনি আরো অভিশাপ দিয়েছেন, নারী ছদ্মবেশ ধারণকারী পুরুষদেরকে ও পুরুষ ছদ্মবেশ ধারণকারী নারীদেরকে। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৯৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ مَكَّةَ دَخَلَ مِنْ الثَّنِيَّةِ الْعُلْيَا وَإِذَا خَرَجَ خَرَجَ مِنْ الثَّنِيَّةِ السُّفْلَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কায় প্রবেশ করতেন, তখন তিনি ‘সানিয়্যাতুল উলয়া’ (হারমের উত্তর-পূর্বদিকে কাদা নামক স্থান) দিয়ে প্রবেশ করতেন এবং যখন মক্কায় থেকে বের হতেন, তখন তিনি ‘সানিয়্যা সুফলা’ (হারমের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে কুদা নামক স্থান) দিয়ে বের হতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৯৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ مَالِكٍ يَعْنِي ابْنَ مِغْوَلٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَجْلِسِ يَقُولُ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ مِائَةَ مَرَّةٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা এক মজলিসে গণনা করলাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বাক্যটি একশত বার বলেছেন।
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ
“হে আমার পালনকর্তা, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী, ক্ষমাশীল।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৯৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا فُضَيْلٌ يَعْنِي ابْنَ غَزْوَانَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى فَاطِمَةَ فَوَجَدَ عَلَى بَابِهَا سِتْرًا فَلَمْ يَدْخُلْ عَلَيْهَا وَقَلَّمَا كَانَ يَدْخُلُ إِلَّا بَدَأَ بِهَا قَالَ فَجَاءَ عَلِيٌّ فَرَآهَا مُهْتَمَّةً فَقَالَ مَا لَكِ فَقَالَتْ جَاءَ إِلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَدْخُلْ عَلَيَّ فَأَتَاهُ عَلِيٌّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَاطِمَةَ اشْتَدَّ عَلَيْهَا أَنَّكَ جِئْتَهَا فَلَمْ تَدْخُلْ عَلَيْهَا فَقَالَ وَمَا أَنَا وَالدُّنْيَا وَمَا أَنَا وَالرَّقْمُ قَالَ فَذَهَبَ إِلَى فَاطِمَةَ فَأَخْبَرَهَا بِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ فَقُلْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا تَأْمُرُنِي بِهِ فَقَالَ قُلْ لَهَا تُرْسِلُ بِهِ إِلَى بَنِي فُلَانٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট এসে দরজায় পর্দা ঝুলানো দেখতে পেয়ে, তিনি ভেতরে ঢুকলেন না। অধিকাংশ সময় তিনি ভেতরে ঢুকেই সর্বপ্রথম ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গে সাক্ষাত করতেন। এসময় আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে চিন্তিত দেখে বললেন, “তোমার কি হয়েছে?” ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নিকট আসতে চেয়েও আসেননি।” অতঃপর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গিয়ে বললেন, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা নিকট গিয়েও প্রবেশ না করায়, এটা তার জন্যে অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “দুনিয়াদারী ও চাকচিক্যতার সাথে আমার কী সম্পর্ক।” একথা শুনে আলী ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট গিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য বর্ণনা করলেন। ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলুন, তিনি আমাকে এটাকে কি করতে আদেশ দেন?” (আলীর বর্ণনা শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলো, পর্দাটি যেনো অমুক গোত্রে পাঠিয়ে দেয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৯৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا فُضَيْلٌ يَعْنِي ابْنَ غَزْوَانَ حَدَّثَنِي أَبُو دُهْقَانَةَ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَقَالَ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَيْفٌ فَقَالَ لِبِلَالٍ ائْتِنَا بِطَعَامٍ فَذَهَبَ بِلَالٌ فَأَبْدَلَ صَاعَيْنِ مِنْ تَمْرٍ بِصَاعٍ مِنْ تَمْرٍ جَيِّدٍ وَكَانَ تَمْرُهُمْ دُونًا فَأَعْجَبَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التَّمْرُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَيْنَ هَذَا التَّمْرُ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ أَبْدَلَ صَاعًا بِصَاعَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رُدَّ عَلَيْنَا تَمْرَنَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি আবদুল্লাহ ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে বসা ছিলাম। তিনি বললেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একজন মেহমান এসেছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, “আমাদের জন্যে খাবার নিয়ে এসো।” বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু গিয়ে দুই সা নিম্ন মানের খেজুরের বিনিময়ে, এক সা উত্তম খেজুর নিয়ে এলো। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুরের প্রশংসা করে বললেন, “এই খেজুর গুলো কোথা থেকে এলো?” বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো, “আমি দুই সা নিম্ন মানের খেজুরের বিনিময়ে, এক সা উত্তম খেজুর নিয়ে এসেছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমাদের খেজুর গুলো আমাদের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে এসো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৯৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِكٍ حَدَّثَنَا نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فِي الدُّنْيَا وَلَمْ يَتُبْ مِنْهَا حُرِمَهَا فِي الْآخِرَةِ لَمْ يُسْقَهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করে এবং তা থেকে তওবা করে না। সে আখিরাতে তা থেকে বঞ্চিত হবে এবং তাকে আখিরাতে মদ দেওয়া হবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৪৯৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نُودِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى وَلِيمَةٍ فَلْيَأْتِهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন সে যেনো তাতে উপস্থিত হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫০০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ قَالَ لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ الْعَبَّاسَ اسْتَأْذَنَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَنْ يَبِيتَ بِمَكَّةَ أَيَّامَ مِنًي مِنْ أَجْلِ السِّقَايَةِ فَرَخَّصَ لَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
সাইয়্যিদুনা আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু মীনার দিন গুলোতে মক্কায় হাজীদের পানি দেওয়ার খেদমতে থাকার অনুমতি চায়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অনুমতি দেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ৪৫০১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَلَ أَهْلَ خَيْبَرَ بِشَطْرِ مَا خَرَجَ مِنْ زَرْعٍ أَوْ تَمْرٍ فَكَانَ يُعْطِي أَزْوَاجَهُ كُلَّ عَامٍ مِائَةَ وَسْقٍ وَثَمَانِينَ وَسْقًا مِنْ تَمْرٍ وَعِشْرِينَ وَسْقًا مِنْ شَعِيرٍ فَلَمَّا قَامَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَسَمَ خَيْبَرَ فَخَيَّرَ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُقْطِعَ لَهُنَّ مِنْ الْأَرْضِ أَوْ يَضْمَنَ لَهُنَّ الْوُسُوقَ كُلَّ عَامٍ فَاخْتَلَفُوا فَمِنْهُنَّ مَنْ اخْتَارَ أَنْ يُقْطِعَ لَهَا الْأَرْضَ وَمِنْهُنَّ مَنْ اخْتَارَ الْوُسُوقَ وَكَانَتْ حَفْصَةُ وَعَائِشَةُ مِمَّنْ اخْتَارَ الْوُسُوقَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাইবার বাসীর সাথে একমত হলেন যে, তোমরা আমাদের ফল বা ফসলের অর্ধেক দিবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর তাঁর স্ত্রীদেরকে একশত (১০০) ওয়াসক ফসল দিতেন, যার মধ্যে আশি (৮০) ওয়াসক ছিলো খেজুর এবং বিশ (২০) ওয়াসক ছিলো অন্যান্য ফসল। হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন খিলাফতের পদে আরোহণ করেন, তখন তিনি খায়বারকে বিভক্ত করেন এবং রসূলের স্ত্রীদেরকে এখতিয়ার দেন যে, তারা চাইলে এক টুকরো জমি নিতে পারেন অথবা তারা চাইলে সাইয়্যিদুনা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে অতীতের নিয়ম অনুযায়ি প্রতি বছর একশত ওয়াসক ফসল প্রদান করবেন। হজরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা ও হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা একশত ওয়াসক ফসল নিতে পছন্দ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫০২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ غَدَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى عَرَفَاتٍ مِنَّا الْمُكَبِّرُ وَمِنَّا الْمُلَبِّي
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে গেলাম, তখন আমাদের মধ্যে কেউ তাকবীর বলছিলো এবং কেউ তালবিয়া পড়ছিলো। (কিন্তু একদল অন্যদলকে এমন করতে অপছন্দ করেনি বা নিষেধো করেনি।) [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫০৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ اتَّخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ فَكَانَ فِي يَدِهِ ثُمَّ كَانَ فِي يَدِ أَبِي بَكْرٍ مِنْ بَعْدِهِ ثُمَّ كَانَ فِي يَدِ عُمَرَ ثُمَّ كَانَ فِي يَدِ عُثْمَانَ نَقْشُهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি রূপার আংটি ব্যবহার করেন। লোকেরাও রূপার আংটি পরা শুরু করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে আবূ বাকর , তারপর উমার ও তারপর উসমান তা ব্যবহার করেছেন। শেষে উসমানের হাত থেকে আংটিটি ‘আরীস’ নামক কূপের মধ্যে পড়ে যায়। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫০৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُقِيمُ الرَّجُلُ الرَّجُلَ مِنْ مَجْلِسِهِ فَيَجْلِسَ فِيهِ وَلَكِنْ تَفَسَّحُوا وَتَوَسَّعُوا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো মজলিসে তোমাদের কেউ যেনো, কাউকে তার স্থান থেকে তুলে দিয়ে, নিজে সেই স্থানে না বসে। বরং সে যেনো নিজের জায়গাকে ছড়িয়ে দেয় এবং উন্মুক্ততা সৃষ্টি করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫০৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يَبِيعَ الرَّجُلُ طَعَامًا حَتَّى يَسْتَوْفِيَهُ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ كَيْفَ ذَلِكَ قَالَ ذَلِكَ دَرَاهِمُ بِدَرَاهِمَ وَالطَّعَامُ مُرْجَأٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য বা কোনো শস্য ক্রয় করে, সে যেনো তা পুরোপুরি দখল করার আগে বিক্রি না করে।” আমি [বর্ণনাকারী] তাকে বললাম, “কেনো এমন হলো?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “এটা হবে দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম বিক্রি করার মতো, অথচ খাদ্যদ্রব্য এখনো স্থগিত রয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫০৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَابْنُ عَوْنٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ مَا يَقْتُلُ الْمُحْرِمُ قَالَ يَقْتُلُ الْعَقْرَبَ وَالْفُوَيْسِقَةَ وَالْحِدَأَةَ وَالْغُرَابَ وَالْكَلْبَ الْعَقُورَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
কেউ একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো, “মুহাররাম ব্যক্তি কোন কোন প্রাণীকে হত্যা করতে পারে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “পাঁচ ধরনের প্রাণী হত্যা করা যাবে। ইঁদুর, বিচ্ছু, ঈগল, পাগলা কুকুর এবং কাক।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫০৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تُتَلَقَّى السِّلَعُ حَتَّى تَدْخُلَ الْأَسْوَاقَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাজারে পণ্য আসার আগে, শহরের বাইরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা করে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মালামাল নিতে নিষেধ করেছেন। আর প্রতারণা করতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫০৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ امْرَأَةً مَقْتُولَةً فَنَهَى عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন যুদ্ধে একজন নারীকে নিহত হতে দেখলেন, তখন তিনি নারী ও শিশুদের হত্যা বন্ধ করে দেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫০৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى النِّسَاءَ فِي الْإِحْرَامِ عَنْ الْقُفَّازِ وَالنِّقَابِ وَمَا مَسَّ الْوَرْسُ وَالزَّعْفَرَانُ مِنْ الثِّيَابِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তিনি মহিলাদেরকে ইহরাম অবস্থায় হাত মুজা ও নেকাব পরিধান করতে এবং জাফরান মাখানো পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫১০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي مَجْلِسِهِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَلْيَتَحَوَّلْ إِلَى غَيْرِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ জুমার দিনে নিজের জায়গায় বসে ঘুমিয়ে পড়ে, তখন সে যেনো তার জায়গা পরিবর্তন করে নেয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫১১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الَّذِي يَكْذِبُ عَلَيَّ يُبْنَى لَهُ بَيْتٌ فِي النَّارِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে মিথ্যা বলবে, তার জন্যে জাহান্নামে একটি ঘর তৈরি করা হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫১২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ حَنْظَلَةَ عَنْ سَالِمٍ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَأَيْتُ عِنْدَ الْكَعْبَةِ رَجُلًا آدَمَ سَبْطَ الرَّأْسِ وَاضِعًا يَدَهُ عَلَى رَجُلَيْنِ يَسْكُبُ رَأْسُهُ أَوْ يَقْطُرُ رَأْسُهُ فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالُوا عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ أَوْ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ وَلَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَ وَرَأَيْتُ وَرَاءَهُ رَجُلًا أَحْمَرَ جَعْدَ الرَّأْسِ أَعْوَرَ عَيْنِ الْيُمْنَى أَشْبَهُ مَنْ رَأَيْتُ بِهِ ابْنُ قَطَنٍ فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا فَقَالُوا الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি একবার ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন আমি স্বপ্নে নিজেকে কাবা গৃহ তাওয়াফরত অবস্থায় দেখতে পেলাম। এমন সময় সোজা চুলওয়ালা একজন পুরুষকে দুইজন পুরুষের মাঝে দেখলাম, যার মাথা থেকে পানি ঝরছিলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “ইনি কে?” তারা বললো, “ইনি হচ্ছেন ইবনে মারইয়াম ইসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” এরপর আমি ফিরে আসতে লাগলাম। এ সময় একজন লাল রঙ্গের মোটাসোটা, কোঁকড়ানো চুলওয়ালা, ডান চোখ কানা ব্যক্তিকে দেখলাম। তার চোখটি যেনো ভাসমান আঙুর। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “এ ব্যক্তি কে?” তারা বললো, “এ হচ্ছে দাজ্জাল।” তার সঙ্গে সবচেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ লোক হলো ইবনে কাতান। আর ইবনে কাতান হলো বনু মুসতালিক গোত্রের খুযাআ বংশের একজন লোক।
[মুসনাদে আহমাদ : ৪৫১৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ إِسْمَاعِيلَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلَابِ حَتَّى قَتَلْنَا كَلْبَ امْرَأَةٍ جَاءَتْ مِنْ الْبَادِيَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দেন। এক মহিলা গ্রাম থেকে এসেছিলেন এবং আমরা তার কুকুরটিকেও হত্যা করেছিলাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫১৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا فُضَيْلٌ يَعْنِي ابْنَ غَزْوَانَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّمَا رَجُلٍ كَفَّرَ رَجُلًا فَإِنْ كَانَ كَمَا قَالَ وَإِلَّا فَقَدْ بَاءَ بِالْكُفْرِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কাউকে কাফের বলে, সে যদি সত্যিই কাফের হয়, তবে সে ভালো কথা বলেছে। অন্যথায় সে নিজেই কাফের হয়ে যাবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৪৫১৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস