

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَجُلٍ نَسْتَأْذِنُهُ أَنْ نَكْوِيَهُ فَسَكَتَ ثُمَّ سَأَلْنَاهُ مَرَّةً أُخْرَى فَسَكَتَ ثُمَّ سَأَلْنَاهُ الثَّالِثَةَ فَقَالَ ارْضِفُوهُ إِنْ شِئْتُمْ كَأَنَّهُ غَضْبَانُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার কিছু লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে বললো, “আমাদের এক বন্ধু অসুস্থ হয়েছে। আমরা কি তাকে দাগ দিয়ে চিকিৎসা করাতে পারি?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ থাকলেন। তারা আবার জিজ্ঞেস করলো। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার চুপ থাকলেন এবং কিছুক্ষণ পর বললেন, “তাকে গরম পাথর দিয়ে একটা দাগ দাও।” আমার মনে হলো যেনো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাগান্বিত হয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَصْدُقُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صِدِّيقًا وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ كَذَّابًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে সত্যবাদী হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। কেননা সত্যবাদিতা কল্যাণের পথে নিয়ে যায় এবং কল্যাণ জান্নাতের পথে নিয়ে যায়। একজন মানুষ সত্য কথা বলতে থাকে, যতক্ষণ না সে আল্লাহর কাছে সত্যবাদী হিসেবে লেখা হয়। তোমরা নিজেদেরকে মিথ্যা থেকে বাঁচাও। কেননা মিথ্যাবাদিতা পাপের পথে নিয়ে যায় এবং পাপ জাহান্নামের পথে নিয়ে যায়। একজন মানুষ মিথ্যা কথা বলতে থাকে, যতক্ষণ না সে আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী হিসেবে লেখা হয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَبَابًا لَيْسَ لَنَا شَيْءٌ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা যুবকরা একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। আমাদের কিছুই ছিলো না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন যে, “হে যুবকরা! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেনো বিয়ে করে নেয়, কেননা তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং চরিত্র রক্ষায় অধিক কার্যকরী। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেনো রোজা রাখে, কেননা তা তার জন্যে ঢাল স্বরূপ হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى وَابْنُ أَبِي زَائِدَةَ قَالَا حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ دَخَلَ الْأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَهُوَ يَتَغَدَّى فَقَالَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ ادْنُ لِلْغَدَاءِ قَالَ أَوَلَيْسَ الْيَوْمُ عَاشُورَاءَ قَالَ وَتَدْرِي مَا يَوْمُ عَاشُورَاءَ إِنَّمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُهُ قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ رَمَضَانُ فَلَمَّا أُنْزِلَ رَمَضَانُ تُرِكَ
হজরত আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার মহররমের ১০ তারিখে আশুরার দিনে আল-আশআত বিন কায়স, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসেন। হজরত আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। হজরত আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হে আবু মুহাম্মাদ, এসো দুপুরের খাবার খাও।” আশআস বললেন, “আজ কি আশুরার দিন নয়?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি কি জানো আশুরার দিন কী? রমজানের রোজা রাখার হুকুম নাযিল হওয়ার পূর্বে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দিনে রোজা রাখতেন। যখন রমজানের রোজা রাখার হুকুম নাযিল হয়, তখন এই রোজা অচল হয়ে যায়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮২০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ وَمَعَنَا زَيْدُ بْنُ حُدَيْرٍ فَدَخَلَ عَلَيْنَا خَبَّابٌ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَكُلُّ هَؤُلَاءِ يَقْرَأُ كَمَا تَقْرَأُ فَقَالَ إِنْ شِئْتَ أَمَرْتَ بَعْضَهُمْ فَقَرَأَ عَلَيْكَ قَالَ أَجَلْ فَقَالَ لِي اقْرَأْ فَقَالَ ابْنُ حُدَيْرٍ تَأْمُرُهُ يَقْرَأُ وَلَيْسَ بِأَقْرَئِنَا فَقَالَ أَمَا وَاللَّهِ إِنْ شِئْتَ لَأُخْبِرَنَّكَ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِقَوْمِكَ وَقَوْمِهِ قَالَ فَقَرَأْتُ خَمْسِينَ آيَةً مِنْ مَرْيَمَ فَقَالَ خَبَّابٌ أَحْسَنْتَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَا أَقْرَأُ شَيْئًا إِلَّا هُوَ قَرَأَهُ ثُمَّ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ لِخَبَّابٍ أَمَا آنَ لِهَذَا الْخَاتَمِ أَنْ يُلْقَى قَالَ أَمَا إِنَّكَ لَا تَرَاهُ عَلَيَّ بَعْدَ الْيَوْمِ وَالْخَاتَمُ ذَهَبٌ
হজরত আলকামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে বসা ছিলাম এবং যায়েদ বিন হুদাইর আমাদের সাথে ছিলেন। হজরত খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের কাছে এসে বললেন, “হে আবূ আবদুর রহমান, আপনি যেভাবে কোরআন পাঠ করেন, তারা সবাই কি সেইভাবে কোরআন পাঠ করে?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি যদি চাও তবে তাদের কাউকে বলতে পারো, তোমার কাছে তেলাওয়াত করতে।” হজরত খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হ্যাঁ (আমি করবো)।” তারপর হজরত খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেন, “তেলাওয়াত করো।” ইবনে হুদাইর বললেন, “তুমি কি তাকে তিলাওয়াত করতে বলছো, যখন সে আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তিলাওয়াতকারী নয়?” হজরত খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর কসম, আপনি যদি চান আমি আপনাকে বলবো যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার সম্প্রদায় ও তার সম্প্রদায় সম্পর্কে কি বলেছেন।” অতঃপর আমি (সূরা) মরিয়ম থেকে পঞ্চাশটি আয়াত পাঠ করলাম। হজরত খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি ভালো করেছো।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমি কোরআন সম্পর্কে যা কিছু জানি, ঐ ব্যাপারে হজরত আলকামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও জ্ঞান রাখে।” তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু, হজরত খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, “এই আংটিটি ফেলে দেবার সময় কি তোমার এখনো হয়নি?” হজরত খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আজকের পর তুমি এই সোনার আংটিটি আমাকে আর পরতে দেখবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮২১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنِ الرُّكَيْنِ بْنِ الرَّبِيعِ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الرِّبَا وَإِنْ كَثُرَ فَإِنَّ عَاقِبَتَهُ تَصِيرُ إِلَى قُلٍّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সুদ যত ইচ্ছাই বাড়ুক না কেনো, তা অভাবের মধ্যেই শেষ হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮২২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ الْمَسْعُودِيِّ عَنْ عُثْمَانَ الثَقَفِيِّ أَوْ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ شَكَّ الْمَسْعُودِيُّ عَنِ عَبْدَةَ النَّهْدِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ لَمْ يُحَرِّمْ حُرْمَةً إِلَّا وَقَدْ عَلِمَ أَنَّهُ سَيَطَّلِعُهَا مِنْكُمْ مُطَّلِعٌ أَلَا وَإِنِّي آخِذٌ بِحُجَزِكُمْ أَنْ تَهَافَتُوا فِي النَّارِ كَتَهَافُتِ الْفَرَاشِ أَوْ الذُّبَابِ حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عَبْدَةَ النَّهْدِيِّ فَذَكَرَهُ وَكَذَا قَالَ يَزِيدُ وَأَبَو كَامِلٍ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ رَوْحٌ حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ وَقَالَ الْفَرَاشِ أَوْ الذُّبَابِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ যা হারাম করেছেন, (তা তোমাদের মঙ্গলের জন্যেই হারাম করেছেন,) কিন্তু তিনি আগেই জানতেন যে, তোমাদের মধ্যে অনেকেই ঐ হারামের মধ্যে জড়িয়ে যাবে। তোমরা মনে রেখো যে, আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পতিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্যে, তোমাদের কোমর ধরে টেনে আছি, অথচো তোমরা পতঙ্গ বা মাছির মতো জাহান্নামের আগুনে মধ্যে পড়ে যেতে চাচ্ছো।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮২৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ كُنَّا يَوْمَ بَدْرٍ كُلُّ ثَلَاثَةٍ عَلَى بَعِيرٍ كَانَ أَبُو لُبَابَةَ وَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ زَمِيلَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَكَانَتْ عُقْبَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَقَالَا نَحْنُ نَمْشِي عَنْكَ فَقَالَ مَا أَنْتُمَا بِأَقْوَى مِنِّي وَلَا أَنَا بِأَغْنَى عَنْ الْأَجْرِ مِنْكُمَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
বদর যুদ্ধের দিন আমরা তিনজন লোক এক উটে চড়ে ছিলাম। আর আবু লুবাবা ও আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন এমন দুইজন ব্যক্তি, যারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আরোহণ করেছিলাম। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাঁটার পালা এলো, তখন তারা উভয়ে বললো, “আমরা আপনার বদলে হাঁটবো এবং আপনাকে উটে চড়তে দিবো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা আমার চেয়ে বেশি শক্তিশালী নও এবং তোমাদের চেয়ে পুরস্কারের প্রয়োজন আমারও কম নয়।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮২৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ زِرٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَلَّكُمْ سَتُدْرِكُونَ أَقْوَامًا يُصَلُّونَ صَلَاةً لِغَيْرِ وَقْتِهَا فَإِذَا أَدْرَكْتُمُوهُمْ فَصَلُّوا فِي بُيُوتِكُمْ فِي الْوَقْتِ الَّذِي تَعْرِفُونَ ثُمَّ صَلُّوا مَعَهُمْ وَاجْعَلُوهَا سُبْحَةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সম্ভবত (অদূর ভবিষ্যতে) তোমরা এমন কোনো জাতিকে পাবে, যারা নির্ধারিত সময়ের পরে বা নির্ধারিত সময়ের আগে সালাত আদায় করবে। যদি তোমরা তাদের খুঁজে পাও, তাহলে তোমরা নিজেদের বাড়িতে নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করবে। অতঃপর, যখন তারা সালাত আদায় করবে, তখন তাদের সাথে সালাতে যোগ দিবে এবং পরের সালাতটিকে নফল সালাত হিসাবে বিবেচনা করবে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ৩৮২৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ شَقَّ ذَلِكَ عَلَى النَّاسِ وَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَيُّنَا لَا يَظْلِمُ نَفْسَهُ قَالَ إِنَّهُ لَيْسَ الَّذِي تَعْنُونَ أَلَمْ تَسْمَعُوا مَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ إِنَّمَا هُوَ الشِّرْكُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো,
ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَلَمۡ يَلۡبِسُوٓاْ إِيمَٰنَهُم بِظُلۡمٍ أُوْلَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلۡأَمۡنُ وَهُم مُّهۡتَدُونَ٨٢
যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে আর তাদের বিশ্বাসকে শিরক দ্বারা মিশ্রিত করে না, সুতরাং এদের জন্যেই আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা রয়েছে আর এরাই হচ্ছে সুপথগামী। (৬. আল আন-আম : ৮২)
তখন আমরা বললাম, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে নিজের উপর যুলম করেনি?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা যা ভাবছো, ব্যাপারটি আসলে তা নয়। বরং তাদের ঈমানকে ‘যুলম’ অর্থাৎ শিরক দ্বারা কলূষিত করেনি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি? তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন,”
وَإِذۡ قَالَ لُقۡمَٰنُ لِٱبۡنِهِۦ وَهُوَ يَعِظُهُۥ يَٰبُنَيَّ لَا تُشۡرِكۡ بِٱللَّهِۖ إِنَّ ٱلشِّرۡكَ لَظُلۡمٌ عَظِيمٞ١٣
যখন লুকমান তাঁর পুত্রকে উপদেশ দিচ্ছিলেন ও লুকমান তাঁর পুত্রকে বললেন, “হে আমার পুত্র, তুমি আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে অংশীদার করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার করা মহা অন্যায়।” (৩১. লোকমান : ১৩) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮২৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةً فَلَا أَدْرِي زَادَ أَمْ نَقَصَ فَلَمَّا سَلَّمَ قِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ حَدَثَ فِي الصَّلَاةِ شَيْءٌ قَالَ لَا وَمَا ذَاكَ قَالُوا صَلَّيْتَ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَثَنَى رِجْلَيْهِ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْ السَّهْوِ فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ وَإِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَتَحَرَّ الصَّلَاةَ فَإِذَا سَلَّمَ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নামায পড়ালেন এবং আমি জানি না, তিনি নামাযে কোনো রাকাত যোগ করেছেন, নাকি বাদ দিয়েছেন। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, তখন তাঁকে বলা হলো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নামাযে কি নতুন কিছু যোগ করা হয়েছে?” তিনি বললেন, “না। তোমরা কেনো তা জিজ্ঞেস করছো?” সাহাবীরা বললো, “আপনি নামাযে অমুক অমুক করেছেন।” তিনি কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন, তারপর তিনি দুইবার সাহু সিজদা করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তারপর বললেন, “আমি মানুষ, আমিও ভুলে যাই, যেমন তোমরা ভুলে যাও। যদি তোমাদের কেউ তার নামাযের ব্যাপারে অনিশ্চিত হয়, তাহলে সে যেনো, সঠিকটা বের করার চেষ্টা করে। এবং সেই ভিত্তিতেই এগিয়ে যায়, তারপর দুইবার সাহু সেজদা করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮২৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَرَأَ سُورَةَ يُوسُفَ بِحِمْصَ فَقَالَ رَجُلٌ مَا هَكَذَا أُنْزِلَتْ فَدَنَا مِنْهُ عَبْدُ اللَّهِ فَوَجَدَ مِنْهُ رِيحَ الْخَمْرِ فَقَالَ أَتُكَذِّبُ بِالْحَقِّ وَتَشْرَبُ الرِّجْسَ لَا أَدَعُكَ حَتَّى أَجْلِدَكَ حَدًّا قَالَ فَضَرَبَهُ الْحَدَّ وَقَالَ وَاللَّهِ لَهَكَذَا أَقْرَأَنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হজরত আল-কামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হোমস শহরে সূরা ইউসুফ পাঠ করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি বললো যে, “এই সূরাটি এভাবে অবতীর্ণ হয়নি।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কাছে গেলেন এবং তার মুখ থেকে মদের গন্ধ পেলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তুমি কি সত্যকে প্রত্যাখ্যান করছো এবং মদ পান করেছো?” তিনি শাস্তি হিসেবে তাকে বেত্রাঘাত করলেন এবং এরপরে বললেন, “আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এই সূরাটি এভাবেই শিখিয়েছিলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮২৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا رَوْحٌ وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَارَةَ بْنَ عُمَيْرٍ يُحَدِّثُ قَالَ ابْنُ جَعْفَرٍ أَوْ إِبْرَاهِيمَ شُعْبَةُ شَكَّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ رَكْعَتَيْنِ فَلَيْتَ حَظِّي مِنْ أَرْبَعٍ رَكْعَتَانِ مُتَقَبَّلَتَانِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি মিনায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দুই রাকাত, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে দুই রাকাত এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে দুই রাকাত নামায পড়েছি। আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি যদি এই চার রাকাতের পরিবর্তে, ঐ দুই রাকাতের মতো কবুল দুই রাকাত পেতাম। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮২৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَبَابًا لَيْسَ لَنَا شَيْءٌ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমরা যুবকরা একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। আমাদের কিছুই ছিলো না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন যে, “হে যুবকরা! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেনো বিয়ে করে নেয়, কেননা তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং চরিত্র রক্ষায় অধিক কার্যকরী। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেনো রোজা রাখে, কেননা তা তার জন্যে ঢাল স্বরূপ হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৩০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ عَنِ الْعَيْزَارِ مِنْ تِنْعَةَ أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا وُجِّهَتْ اللَّعْنَةُ تَوَجَّهَتْ إِلَى مَنْ وُجِّهَتْ إِلَيْهِ فَإِنْ وَجَدَتْ فِيهِ مَسْلَكًا وَوَجَدَتْ سَبِيلًا حَلَّتْ بِهِ وَإِلَّا جَاءَتْ إِلَى رَبِّهَا فَقَالَتْ يَا رَبِّ إِنَّ فُلَانًا وَجَّهَنِي إِلَى فُلَانٍ وَإِنِّي لَمْ أَجِدْ عَلَيْهِ سَبِيلًا وَلَمْ أَجِدْ فِيهِ مَسْلَكًا فَمَا تَأْمُرُنِي فَقَالَ ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “যদি কাউকে অভিশাপ দেওয়া হয়, যদি এটি তার কাছে পৌঁছানোর উপায় খুঁজে না পায়, তবে তা থেমে যাবে। অন্যথায় এটি বলবে, ‘হে আমার প্রভু, আমাকে অমুকের কাছে পাঠানো হয়েছিলো, কিন্তু আমি তার কাছে পৌঁছানোর কোনো উপায় খুঁজে পাইনি।’ অতঃপর তাকে বলা হয়, ‘তুমি যেখান থেকে এসেছো, সেখানেই ফিরে যাও’।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৩১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ ذَرٍّ عَنْ وَائِلِ بْنِ مَهَانَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَصَدَّقْنَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ فَقَامَتْ امْرَأَةٌ لَيْسَتْ مِنْ عِلْيَةِ النِّسَاءِ فَقَالَتْ لِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لِأَنَّكُنَّ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হে নারীগণ, তোমরা দান করো, যদিও তা তোমাদের গহনা থেকেও হয়, কেননা তোমরাই জাহান্নামীদের মধ্যে অধিকাংশ হবে।” একজন মহিলা যে বিশিষ্ট মহিলাদের মধ্যে ছিলো না, সে দাঁড়িয়ে বললো, “হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তা কেনো হলো?” তিনি বললেন, “কারণ তোমরা তামাদের স্বামীদেরকে প্রচুর অভিশাপ দিয়ে থাকো এবং তোমার স্বামীদের প্রতি অকৃতজ্ঞ হও।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৩২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا سَيَّارٌ وَمُغِيرَةُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ خَصْلَتَانِ يَعْنِي إِحْدَاهُمَا سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْأُخْرَى مِنْ نَفْسِي مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَجْعَلُ لِلَّهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ وَأَنَا أَقُولُ مَنْ مَاتَ وَهُوَ لَا يَجْعَلُ لِلَّهِ نِدًّا وَلَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
দুটি কথা এমন আছে, যার একটি আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি এবং অন্যটি আমি নিজের পক্ষ থেকে বলেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো, তাহলে তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” আর আমি বলেছি, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৩৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ صَاحِبِهِمَا فَإِنَّ ذَلِكَ يَحْزُنُهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি তোমরা কখনো তিনজন ব্যক্তি একত্রে থাকো, তবে তোমাদের দুইজন ব্যক্তি, তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে (একান্তে) কথা বলবে না, কারণ এটি তাকে দুঃখ দিবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৩৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ صَاحِبِهِمَا فَإِنَّ ذَلِكَ يَحْزُنُهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি তোমরা কখনো তিনজন ব্যক্তি একত্রে থাকো, তবে তোমাদের দুইজন ব্যক্তি, তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে (একান্তে) কথা বলবে না, কারণ এটি তাকে দুঃখ দিবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৩৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سُلَيْمَانُ سَمِعْتُ شَقِيقًا يَقُولُ كُنَّا نَنْتَظِرُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ فِي الْمَسْجِدِ يَخْرُجُ عَلَيْنَا فَجَاءَنَا يَزِيدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ يَعْنِي النَّخَعِيَّ قَالَ فَقَالَ أَلَا أَذْهَبُ فَأَنْظُرَ فَإِنْ كَانَ فِي الدَّارِ لَعَلِّي أَنْ أُخْرِجَهُ إِلَيْكُمْ فَجَاءَنَا فَقَامَ عَلَيْنَا فَقَالَ إِنَّهُ لَيُذْكَرُ لِي مَكَانُكُمْ فَمَا آتِيكُمْ كَرَاهِيَةَ أَنْ أُمِلَّكُمْ لَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَخَوَّلُنَا بِالْمَوْعِظَةِ فِي الْأَيَّامِ كَرَاهِيَةَ السَّآمَةِ عَلَيْنَا
হজরত শাকিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদিন আমরা মসজিদে আমাদের কাছে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর আগমনের অপেক্ষায় ছিলাম। ইয়াযীদ বিন মুআবিয়া-অর্থাৎ আন-নাখায়ী- আমাদের কাছে এসে বললেন, “আমি কি গিয়ে দেখবো যে, তিনি ঘরে আছেন কিনা? হয়তো আমি তাকে আপনাদে কাছে নিয়ে আসতে পারবো।” কিছুক্ষণ পর হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এসে আমাদের কাছে দাঁড়ালেন এবং বললেন, “আমাকে বলা হয়েছে যে, আপনারা আমার জন্যে অপেক্ষা করছেন। আমি আপনাদের কাছে এ জন্য আসিনি যে, আমি আপনাদেরকে বিরক্ত করা ভালো মনে করিনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বিরক্তির আশঙ্কায় তাঁর খুতবা ও উপদেশ দানের জন্যে উপযুক্ত সময় বেছে নিতেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৩৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ وَلَأُنَازَعَنَّ أَقْوَامًا ثُمَّ لَأُغْلَبَنَّ عَلَيْهِمْ فَأَقُولُ يَا رَبِّ أَصْحَابِي فَيَقُولُ إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আমি হাউজে কাউসারে তোমাদের আগে থাকবো এবং তোমাদের জন্যে অপেক্ষা করবো। কিছু লোককে আমার কাছে আনা হবে, তারপর আমাকে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। আমি বলবো, “হে আমার প্রভু! এরা আমার অনুসারী।” আমাকে বলা হবে, “আপনি জানেন না, তারা আপনার পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার পরে কী বিদআত উদ্ভাবন করেছে (ইসলাম বিরোধী কী কাজ করেছে)। আপনি তাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তারা মুরতাদ হয়ে গেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৩৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَنْبَأَنَا سَيَّارٌ وَمُغِيرَةُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ خَصْلَتَانِ يَعْنِي إِحْدَاهُمَا سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْأُخْرَى مِنْ نَفْسِي مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَجْعَلُ لِلَّهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ وَأَنَا أَقُولُ مَنْ مَاتَ وَهُوَ لَا يَجْعَلُ لِلَّهِ نِدًّا وَلَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
দুটি কথা এমন আছে, যার একটি আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি এবং অন্যটি আমি নিজের পক্ষ থেকে বলেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যদি তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো, তাহলে তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” আর আমি বলেছি, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৩৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا أَحَدَ أَغْيَرُ مِنْ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَلِذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا أَحَدَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنْ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর চেয়ে বেশি অহঙ্কারী আর কেউ হতে পারে না। তাই তিনি প্রকাশ্য ও গোপন উভয় প্রকার অশ্লীল কাজকে হারাম করেছেন এবং আল্লাহর চেয়ে প্রশংসা প্রিয় আর কেউ হতে পারে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৩৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَسْوَدُ أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ ابْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَلْقَمَةَ وَالْأَسْوَدِ أَنَّهُمَا كَانَا مَعَ ابْنِ مَسْعُودٍ فَحَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَتَأَخَّرَ عَلْقَمَةُ وَالْأَسْوَدُ فَأَخَذَ ابْنُ مَسْعُودٍ بِأَيْدِيهِمَا فَأَقَامَ أَحَدَهُمَا عَنْ يَمِينِهِ وَالْآخَرَ عَنْ يَسَارِهِ ثُمَّ رَكَعَا فَوَضَعَا أَيْدِيَهُمَا عَلَى رُكَبِهِمَا وَضَرَبَ أَيْدِيَهُمَا ثُمَّ طَبَّقَ بَيْنَ يَدَيْهِ وَشَبَّكَ وَجَعَلَهُمَا بَيْنَ فَخِذَيْهِ وَقَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَهُ حَدَّثَنَاه حُسَيْنٌ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ وَعَلْقَمَةَ بْنِ قَيْسٍ فَذَكَرَهُ
হজরত আলকামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হজরত আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আলকামাহ ও আসওয়াদ উভয়েই হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেদমতে উপস্থিত ছিলেন। নামাযের সময় হলে আলকামাহ ও আসওয়াদ পিছনে দাঁড়ালো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের হাত ধরে একজনকে তার ডান পাশে এবং অন্যজনকে তার বাম পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। অতঃপর যখন তারা উভয়ে রুকু করলো, তখন তারা তাদের হাঁটুর উপর হাত রাখলো। এটা দেখে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের দুই হাতে আঘাত করলেন এবং আঙ্গুলগুলো পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ করালেন এবং উভয় হাত তার উরুর মাঝে রেখে বললেন, “আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন আচরণ করতে দেখেছি।”
[টীকাঃ এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় উলাফ। পরবর্তীতে এই রায় রহিত করা হয়। কিন্তু হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু শেষ পর্যন্ত এর প্রত্যাখ্যানে বিশ্বাসী হননি।] [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৪০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى صَلَاةً إِلَّا لِمِيقَاتِهَا إِلَّا صَلَاتَيْنِ صَلَاةَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِجَمْعٍ وَصَلَاةَ الْفَجْرِ يَوْمَئِذٍ قَبْلَ مِيقَاتِهَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাধারণত যে সময়ে সালাত আদায় করতেন, ঐ নির্ধারিত সময় ব্যতীত আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কখনোই অন্য কোনো সময়ে সালাত আদায় করতে দেখিনি। তবে একমাত্র মাগরিব ও ইশার সালাত ব্যতীত, যা তিনি মুয্দালিফায় আদায় করেছিলেন। আর সেই দিন তিনি (পূর্ব) নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই ফজরের সালাত আদায় করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৪১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنْتُ مُسْتَتِرًا بِسِتَارِ الْكَعْبَةِ فَجَاءَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ قُرَشِيٌّ وَخَتَنَاهُ ثَقَفِيَّانِ أَوْ ثَقَفِيٌّ وَخَتَنَاهُ قُرَشِيَّانِ كَثِيرٌ شَحْمُ بُطُونِهِمْ قَلِيلٌ فِقْهُ قُلُوبِهِمْ فَتَكَلَّمُوا بِكَلَامٍ لَمْ أَسْمَعْهُ فَقَالَ أَحَدُهُمْ أَتَرَوْنَ اللَّهَ يَسْمَعُ كَلَامَنَا هَذَا فَقَالَ الْآخَرُ أُرَانَا إِذَا رَفَعْنَا أَصْوَاتَنَا سَمِعَهُ وَإِذَا لَمْ نَرْفَعْهَا لَمْ يَسْمَعْ فَقَالَ الْآخَرُ إِنْ سَمِعَ مِنْهُ شَيْئًا سَمِعَهُ كُلَّهُ قَالَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلَا أَبْصَارُكُمْ وَلَا جُلُودُكُمْ إِلَى قَوْلِهِ ذَلِكُمْ ظَنُّكُمْ الَّذِي ظَنَنْتُمْ بِرَبِّكُمْ أَرْدَاكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ مِنْ الْخَاسِرِينَق
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি কাবার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে ছিলাম। আর তিনজন লোক এলো। দুইজন সাকাফী ও একজন কুরাইশী অথবা দুইজন কুরাইশী ও একজন সাকাফী। তাদের পেটে চর্বি ছিলো বেশি, কিন্তু তাদের অন্তরে বুঝার ক্ষমতা ছিলো কম। তাদের একজন বললো, “তোমাদের অভিমত কী? আমরা যা বলছি, আল্লাহ কি সবই শুনতে পান?” দ্বিতীয় ব্যক্তি বললো, “হ্যাঁ শোনেন, যদি আমরা উচ্চৈঃস্বরে বলি। আমরা চুপি চুপি বললে তিনি শোনেন না।” তৃতীয় জন বললো, “যদি তিনি উচ্চৈঃস্বরে বললে শোনেন, তবে নিচু স্বরে বললেও শুনবেন।” আমি তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেএর কাছে উল্লেখ করেছিলাম এবং এরই প্রক্ষিতে আল্লাহ নিম্মোক্ত আয়াত নাযিল করলেন,
وَمَا كُنتُمۡ تَسۡتَتِرُونَ أَن يَشۡهَدَ عَلَيۡكُمۡ سَمۡعُكُمۡ وَلَآ أَبۡصَٰرُكُمۡ وَلَا جُلُودُكُمۡ وَلَٰكِن ظَنَنتُمۡ أَنَّ ٱللَّهَ لَا يَعۡلَمُ كَثِيرٗا مِّمَّا تَعۡمَلُونَ٢٢
আর তোমরা পাপ কাজ করার সময় কোনো কিছু গোপন করতে না, এ ধারণার বশবর্তী হয়ে যে, তোমাদের কান, তোমাদের চোখ ও তোমাদের চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে না। বরং তোমরা মনে করতে যে, তোমরা যা করো তার অনেক কিছুই আল্লাহ জানেন না। (৪১. হা-মীম সেজদাহ / ফুসসিলাত : ২২)
وَذَٰلِكُمۡ ظَنُّكُمُ ٱلَّذِي ظَنَنتُم بِرَبِّكُمۡ أَرۡدَىٰكُمۡ فَأَصۡبَحۡتُم مِّنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ٢٣
তোমাদের প্রভু সম্পর্কে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছো। (৪১. হা-মীম সেজদাহ / ফুসসিলাত : ২৩) [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৪২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ شِمْرٍ عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ سَعْدِ بْنِ الْأَخْرَمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَتَّخِذُوا الضَّيْعَةَ فَتَرْغَبُوا فِي الدُّنْيَا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দুনিয়ায় বেশি সম্পত্তি নির্মাণ করো না। নতুবা দুনিয়ার প্রতি তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৪৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ هُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَقِيَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ فَقَالَ الْأَشْعَثُ فِيَّ وَاللَّهِ كَانَ ذَلِكَ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنْ الْيَهُودِ أَرْضٌ فَجَحَدَنِي فَقَدَّمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَكَ بَيِّنَةٌ قُلْتُ لَا فَقَالَ لِلْيَهُودِيِّ احْلِفْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَنْ يَحْلِفَ فَيَذْهَبَ مَالِي فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا إِلَى آخِرِ الْآيَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে লোক মাল আত্মসাৎ করার জন্যে মিথ্যা শপথ করে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার উপর অত্যন্ত রাগান্বিত থাকবেন।” এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেছেন,
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَشۡتَرُونَ بِعَهۡدِ ٱللَّهِ وَأَيۡمَٰنِهِمۡ ثَمَنٗا قَلِيلًا أُوْلَٰٓئِكَ لَا خَلَٰقَ لَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيۡهِمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمۡ وَلَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٞ٧٧
নিশ্চয় যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও তাদের প্রতিশ্রুতিকে তুচ্ছ মূল্যের বিনিময়ে বিক্রী করে দেয়, এরাই তারা, যাদের জন্যে পরকালে কল্যাণের কোনো অংশ থাকবে না আর আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথাও বলবেন না। কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তাদের দিকে সদয় দৃষ্টিতে তাকাবেন না আর আল্লাহ তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। আর তাদের জন্যে কঠোর শাস্তি রয়েছে। (৩. আল ইমরান : ৭৭)
(রাবী বলেন) পরে আশআস ইবনু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “আবূ আবদুর রহমান (ইবনু মাসঊদ) তোমাদের কী হাদীস শুনালেন?” (রাবী বলেন), আমরা তাকে হাদীসটি শুনালে, তিনি বললেন, “তিনি নির্ভুল হাদীস শুনিয়েছেন। আমাকে কেন্দ্র করেই তো আয়াতটি নাযিল হয়েছিলো। কুয়া (এর মালিকানা) নিয়ে আমার সাথে এক ইহুদী লোকের ঝগড়া চলছিলো। পরে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে বিরোধটি উত্থাপন করলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, ‘তুমি দুইজন সাক্ষী উপস্থিত করবে, নতুবা সে হলফ করবে।’ আমি বললাম, তবে তো ইহুদী লোকটি নির্দ্বিধায় হলফ করে বসবে। তখন রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা হলফ করে অর্থ-সম্পদ হস্তগত করবে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন।’ তখন আল্লাহ তাআলা এর সমর্থনে আয়াতটি নাযিল করলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৪৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ حَدَّثَنَا أَبَانُ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ قَتَلَهُ نَبِيٌّ أَوْ قَتَلَ نَبِيًّا وَإِمَامُ ضَلَالَةٍ وَمُمَثِّلٌ مِنْ الْمُمَثِّلِينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে, সেই ব্যক্তির, যে কোনো নবীকে হত্যা করেছে, অথবা কোনো নবী তাকে হত্যা করেছে। এমন নেতা যে মানুষকে গোমরাহের পথে পরিচালিত করে এবং এমন ব্যক্তি, যে চিত্র নির্মান করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৪৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَنَامُ مُسْتَلْقِيًا حَتَّى يَنْفُخَ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي وَلَا يَتَوَضَّأُ حَدَّثَنَاه إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ عَنْ فُضَيْلٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাদুরের উপর শুয়ে ঘুমাতেন যতক্ষণ না তিনি নাক ডাকতে শুরু করেন। অতঃপর নতুন করে ওযু না করে ঘুম থেকে উঠে সালাত আদায় করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৩৮৪৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস