হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে লোক মাল আত্মসাৎ করার জন্যে মিথ্যা শপথ করে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার উপর অত্যন্ত রাগান্বিত থাকবেন।” এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেছেন,
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَشۡتَرُونَ بِعَهۡدِ ٱللَّهِ وَأَيۡمَٰنِهِمۡ ثَمَنٗا قَلِيلًا أُوْلَٰٓئِكَ لَا خَلَٰقَ لَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيۡهِمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمۡ وَلَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٞ٧٧নিশ্চয় যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ও তাদের প্রতিশ্রুতিকে তুচ্ছ মূল্যের বিনিময়ে বিক্রী করে দেয়, এরাই তারা, যাদের জন্যে পরকালে কল্যাণের কোনো অংশ থাকবে না আর আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথাও বলবেন না। কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তাদের দিকে সদয় দৃষ্টিতে তাকাবেন না আর আল্লাহ তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। আর তাদের জন্যে কঠোর শাস্তি রয়েছে। (৩. আল ইমরান : ৭৭)
(রাবী বলেন) পরে আশআস ইবনু কায়স রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “আবূ আবদুর রহমান (ইবনু মাসঊদ) তোমাদের কী হাদীস শুনালেন?” (রাবী বলেন), আমরা তাকে হাদীসটি শুনালে, তিনি বললেন, “তিনি নির্ভুল হাদীস শুনিয়েছেন। আমাকে কেন্দ্র করেই তো আয়াতটি নাযিল হয়েছিলো। কুয়া (এর মালিকানা) নিয়ে আমার সাথে এক ইহুদী লোকের ঝগড়া চলছিলো। পরে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে বিরোধটি উত্থাপন করলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, ‘তুমি দুইজন সাক্ষী উপস্থিত করবে, নতুবা সে হলফ করবে।’ আমি বললাম, তবে তো ইহুদী লোকটি নির্দ্বিধায় হলফ করে বসবে। তখন রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা হলফ করে অর্থ-সম্পদ হস্তগত করবে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন।’ তখন আল্লাহ তাআলা এর সমর্থনে আয়াতটি নাযিল করলেন।”