
حَدَّثَنَا يُونُسُ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ اعْتَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعًا عُمْرَةً مِنْ الْحُدَيْبِيَةِ وَعُمْرَةَ الْقَضَاءِ فِي ذِي الْقَعْدَةِ مِنْ قَابِلٍ وَعُمْرَةَ الثَّالِثَةِ مِنْ الْجِعِرَّانَةِ وَالرَّابِعَةَ الَّتِي مَعَ حَجَّتِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাত্র চারবার ওমরাহ করেছেন। প্রথমবার ওমরাহ করেছেন হুদায়বিয়া থেকে, দৃত্বীয়বার ওমরাহ করেছেন পরের বছর যুলকায়দা মাসে, যে ওমরাহটি পূর্বে সম্পন্ন হয়নি, তৃতীয়বার ওমরাহ করেছেন আল-জিরানা থেকে এবং চতুর্থবার তিনি তার বিদায় হজ্জের সাথে একটি ওমরাহ করেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২১০১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي الْعَبَّاسِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَنْزَلَ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الْكَافِرُونَ وَ أُولَئِكَ هُمْ الظَّالِمُونَ وَ أُولَئِكَ هُمْ الْفَاسِقُونَ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنْزَلَهَا اللَّهُ فِي الطَّائِفَتَيْنِ مِنْ الْيَهُودِ وَكَانَتْ إِحْدَاهُمَا قَدْ قَهَرَتْ الْأُخْرَى فِي الْجَاهِلِيَّةِ حَتَّى ارْتَضَوْا أَوْ اصْطَلَحُوا عَلَى أَنَّ كُلَّ قَتِيلٍ قَتَلَهُ الْعَزِيزَةُ مِنْ الذَّلِيلَةِ فَدِيَتُهُ خَمْسُونَ وَسْقًا وَكُلَّ قَتِيلٍ قَتَلَهُ الذَّلِيلَةُ مِنْ الْعَزِيزَةِ فَدِيَتُهُ مِائَةُ وَسْقٍ فَكَانُوا عَلَى ذَلِكَ حَتَّى قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ فَذَلَّتْ الطَّائِفَتَانِ كِلْتَاهُمَا لِمَقْدَمِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَوْمَئِذٍ لَمْ يَظْهَرْ وَلَمْ يُوطِئْهُمَا عَلَيْهِ وَهُوَ فِي الصُّلْحِ فَقَتَلَتْ الذَّلِيلَةُ مِنْ الْعَزِيزَةِ قَتِيلًا فَأَرْسَلَتْ الْعَزِيزَةُ إِلَى الذَّلِيلَةِ أَنْ ابْعَثُوا إِلَيْنَا بِمِائَةِ وَسْقٍ فَقَالَتْ الذَّلِيلَةُ وَهَلْ كَانَ هَذَا فِي حَيَّيْنِ قَطُّ دِينُهُمَا وَاحِدٌ وَنَسَبُهُمَا وَاحِدٌ وَبَلَدُهُمَا وَاحِدٌ دِيَةُ بَعْضِهِمْ نِصْفُ دِيَةِ بَعْضٍ إِنَّا إِنَّمَا أَعْطَيْنَاكُمْ هَذَا ضَيْمًا مِنْكُمْ لَنَا وَفَرَقًا مِنْكُمْ فَأَمَّا إِذْ قَدِمَ مُحَمَّدٌ فَلَا نُعْطِيكُمْ ذَلِكَ فَكَادَتْ الْحَرْبُ تَهِيجُ بَيْنَهُمَا ثُمَّ ارْتَضَوْا عَلَى أَنْ يَجْعَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ ذَكَرَتْ الْعَزِيزَةُ فَقَالَتْ وَاللَّهِ مَا مُحَمَّدٌ بِمُعْطِيكُمْ مِنْهُمْ ضِعْفَ مَا يُعْطِيهِمْ مِنْكُمْ وَلَقَدْ صَدَقُوا مَا أَعْطَوْنَا هَذَا إِلَّا ضَيْمًا مِنَّا وَقَهْرًا لَهُمْ فَدُسُّوا إِلَى مُحَمَّدٍ مَنْ يَخْبُرُ لَكُمْ رَأْيَهُ إِنْ أَعْطَاكُمْ مَا تُرِيدُونَ حَكَّمْتُمُوهُ وَإِنْ لَمْ يُعْطِكُمْ حَذِرْتُمْ فَلَمْ تُحَكِّمُوهُ فَدَسُّوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَاسًا مِنْ الْمُنَافِقِينَ لِيَخْبُرُوا لَهُمْ رَأْيَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَ اللَّهُ رَسُولَهُ بِأَمْرِهِمْ كُلِّهِ وَمَا أَرَادُوا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنْ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا إِلَى قَوْلِهِ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمْ الْفَاسِقُونَ ثُمَّ قَالَ فِيهِمَا وَاللَّهِ نَزَلَتْ وَإِيَّاهُمَا عَنَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহ তাআলা ইহুদীদের দুটি দলের (বনু নাযীর গোত্র ও বনু কুরাইযাহ গোত্র) ব্যাপারে (৫). আল মায়েদার ৪১ থেকে ৪৭ পর্যন্ত আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। জাহিলিয়াতের সময় তাদের একজন অপরজনকে পরাজিত করেছিলো। যতক্ষণ না তারা একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছিলো। সে অনুসারে পরাজিত দলের মধ্যে কোন ব্যক্তির দিয়াহ নির্ধারন করা হবে। শীর্ষস্থানীয় দলের দ্বারা নিহত পরাজিত দলের মধ্যে যে কোন ব্যক্তির দিয়াহ হবে পঞ্চাশ ওয়াসক। আর পরাজিত দলের দ্বারা নিহত শীর্ষস্থানীয় দলের মধ্যে যে কোন ব্যক্তির দিয়াহ হবে একশত ওয়াসক। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় না আসা পর্যন্ত তারা তা মেনে চলে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনে উভয় দলকেই দমন করা হয় এবং তখনও তিনি তাদের উপর জয়লাভ করেননি এবং উভয় দলের সাথেই তাঁর শান্তির চুক্তি ছিলো। অতঃপর পরাজিত দলটি শীর্ষস্থানীয় দলের (বনু নাযীর গোত্রের) একজন সদস্যকে হত্যা করে এবং যে দলটি শীর্ষস্থানীয় ছিলো তারা পরাজিত দলের (বনু কুরাইযাহ গোত্রের) কাছে এই বলে বার্তা পাঠায়, আমাদেরকে একশত ওয়াসক দিয়াহ পাঠাও। পরাজিত দলটি (বনু কুরাইযাহ গোত্র) বললো, একই ধর্মের অনুসারী এবং একই বংশের অংশীদার এবং একই শহরে বসবাসকারী দুটি উপজাতির মধ্যে কি কখনো কোনো চুক্তি হয়েছিলো যে, সে অনুসারে কারো দিয়াহ অন্যের দিয়াহর অর্ধেক হবে? আমরা শুধুমাত্র এই চুক্তি মেনে নিয়েছিলাম কারণ তোমরা আমাদের উপর এটি বাধ্য করেছিলেন এবং আমরা তোমাদেরকে ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন এবং আমরা আর এই চুক্তি মেনে নেবো না। তাদের মধ্যে প্রায় যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিলো, তারপর তারা তাদের মধ্যে বিচার করার জন্যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়োগ করতে রাজি হলো। অতঃপর যে দলটির শীর্ষস্থানীয় (বনু নাযীর গোত্র) ছিলো তারা বুঝতে পেরেছিলো, আল্লাহর কসম, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদেরকে এমন কোনো ফয়সালা দেবেন না, যাতে তারা তাদেরকে যা দিয়েছে, তার দ্বিগুণ দিতে হবে। আর তারা ঠিক ছিলো। তারা কেবল এই চুক্তিটি গ্রহণ করেছিলো, কারণ আমরা তাদের উপর এটি বাধ্যতামূলক করেছি। সুতরাং তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এই বিচার পাঠাও যাতে তিনি কী ফয়সালা করেন, আমরা তা জানতে পারি। তিনি যদি তোমাদেরকে তা দেন, যা তোমরা চাও, তবে তাঁকে বিচারক মেনে নিবে। আর তিনি যদি তোমাদেরকে তা না দেন, যা তোমরা চাও, তবে তাঁকে বিচারক মেনে নিবে না। তারা একজন মুনাফিককে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পাঠালো যাতে তারা জানতে পারে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মতামত কি। ঐ মুনাফিক যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলেন, তখন আল্লাহ তাঁর রসূলকে অবহিত করলেন যে, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি এবং আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত গুলো অবতীর্ণ করলেন,
۞يَٰٓأَيُّهَا ٱلرَّسُولُ لَا يَحۡزُنكَ ٱلَّذِينَ يُسَٰرِعُونَ فِي ٱلۡكُفۡرِ مِنَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓاْ ءَامَنَّا بِأَفۡوَٰهِهِمۡ وَلَمۡ تُؤۡمِن قُلُوبُهُمۡۛ وَمِنَ ٱلَّذِينَ هَادُواْۛ سَمَّٰعُونَ لِلۡكَذِبِ سَمَّٰعُونَ لِقَوۡمٍ ءَاخَرِينَ لَمۡ يَأۡتُوكَۖ يُحَرِّفُونَ ٱلۡكَلِمَ مِنۢ بَعۡدِ مَوَاضِعِهِۦۖ يَقُولُونَ إِنۡ أُوتِيتُمۡ هَٰذَا فَخُذُوهُ وَإِن لَّمۡ تُؤۡتَوۡهُ فَٱحۡذَرُواْۚ وَمَن يُرِدِ ٱللَّهُ فِتۡنَتَهُۥ فَلَن تَمۡلِكَ لَهُۥ مِنَ ٱللَّهِ شَيۡـًٔاۚ أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَمۡ يُرِدِ ٱللَّهُ أَن يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمۡۚ لَهُمۡ فِي ٱلدُّنۡيَا خِزۡيٞۖ وَلَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٞ٤١
হে প্রিয় রসূল! যারা অবিশ্বাসের মধ্যে দ্রুত ধাবিত হয়, তারা যেনো আপনাকে দুঃখ না দেয়। তাদের মধ্যে যারা তাদের মুখ দিয়ে বলে যে, “আমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করি”, কিন্তু তাদের হৃদয় আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেনি। আর তাদের মধ্যে যারা ইহুদী, তারা মিথ্যার জন্যে শ্রবণকারী। তারা অন্য এমন এক জাতির জন্যে শ্রবণকারী, যে জাতি আপনার কাছে আসে না। তারা আল্লাহর কথাগুলোকে তার প্রকৃত স্থান থেকে সরিয়ে দেয়, সেগুলোকে তার প্রকৃত স্থানে স্থাপনের পরেও। ইহুদীরা বলে, “তোমাদেরকে যদি বিচারের রায় এই দেওয়া হয়, তবে তোমরা তা গ্রহণ করো আর যদি তোমাদেরকে এই দেওয়া না হয়, তবে তা থেকে তোমরা বিরত থেকো।” আল্লাহ যাকে পরীক্ষায় ফেলতে চান, তাহলে তাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাচানোর জন্যে আপনার কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই। এরাই তারা, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ চান না যে, তাদের হৃদয় সমূহ পবিত্র হোক। এদের জন্যে এই দুনিয়ার মধ্যে লাঞ্ছনা রয়েছে আর পরকালে এদের জন্যে আরো কঠোর শাস্তি রয়েছে। [৫ : ৪১]
سَمَّٰعُونَ لِلۡكَذِبِ أَكَّٰلُونَ لِلسُّحۡتِۚ فَإِن جَآءُوكَ فَٱحۡكُم بَيۡنَهُمۡ أَوۡ أَعۡرِضۡ عَنۡهُمۡۖ وَإِن تُعۡرِضۡ عَنۡهُمۡ فَلَن يَضُرُّوكَ شَيۡـٔٗاۖ وَإِنۡ حَكَمۡتَ فَٱحۡكُم بَيۡنَهُم بِٱلۡقِسۡطِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ٤٢
ইহুদীরা অতি আগ্রহের সাথে মিথ্যা শোনে এবং প্রাণভরে হারাম খায়। সুতরাং তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে আপনি তাদের মধ্যে বিচার করুন অথবা আপনি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকুন তাতে আপনার কোনো অপরাধ হবে না। আপনি যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তারা কখনোই আপনার সামান্যতম ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি আপনি তাদের মধ্যে বিচার করেন, তবে ন্যায় ভাবে বিচার করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালোবাসেন। [৫ : ৪২]
وَكَيۡفَ يُحَكِّمُونَكَ وَعِندَهُمُ ٱلتَّوۡرَىٰةُ فِيهَا حُكۡمُ ٱللَّهِ ثُمَّ يَتَوَلَّوۡنَ مِنۢ بَعۡدِ ذَٰلِكَۚ وَمَآ أُوْلَٰٓئِكَ بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ٤٣
কেমন করে তারা আপনাকে বিচারক মানবে অথচ তাদের কাছে তাওরাত রয়েছে, যার মধ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে সকল বিষয়ের বিচার করার বিধান আছে? তবুও তারা এসবের পরেও সত্য থেকে ফিরে যায়! বস্তুত এরাই তারা, যারা আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী নয়। [৫ : ৪৩]
إِنَّآ أَنزَلۡنَا ٱلتَّوۡرَىٰةَ فِيهَا هُدٗى وَنُورٞۚ يَحۡكُمُ بِهَا ٱلنَّبِيُّونَ ٱلَّذِينَ أَسۡلَمُواْ لِلَّذِينَ هَادُواْ وَٱلرَّبَّٰنِيُّونَ وَٱلۡأَحۡبَارُ بِمَا ٱسۡتُحۡفِظُواْ مِن كِتَٰبِ ٱللَّهِ وَكَانُواْ عَلَيۡهِ شُهَدَآءَۚ فَلَا تَخۡشَوُاْ ٱلنَّاسَ وَٱخۡشَوۡنِ وَلَا تَشۡتَرُواْ بِـَٔايَٰتِي ثَمَنٗا قَلِيلٗاۚ وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡكَٰفِرُونَ٤٤
নিশ্চয় আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যার মধ্যে পথ প্রদর্শন ও আলো রয়েছে। যারা ইহুদী ছিলো, তাদেরকে আল্লাহর অনুগত নবীগণ তাওরাত দ্বারা বিধান দিতেন। আল্লাহ ভক্ত ও আলেমরা তাওরাত দ্বারা মানুষদেরকে বিধান দিতেন, যা তারা আল্লাহর গ্রন্থ থেকে নিজেদের হৃদয়ের মধ্যে সংরক্ষণ করতো। আর ইহুদীরা এসবের সাক্ষী ছিলো। সুতরাং হে ইহুদীরা, তোমরা মানুষকে ভয় করো না বরং তোমরা আমাকে ভয় করো। আর তোমরা আমার বাণী সমূহের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য ক্রয় করো না। আল্লাহ যে বিধান অবতীর্ণ করেছেন, তার দ্বারা যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে বিচার করে না, তবে এরাই তারা, যারা আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী। [৫ : ৪৪]
وَكَتَبۡنَا عَلَيۡهِمۡ فِيهَآ أَنَّ ٱلنَّفۡسَ بِٱلنَّفۡسِ وَٱلۡعَيۡنَ بِٱلۡعَيۡنِ وَٱلۡأَنفَ بِٱلۡأَنفِ وَٱلۡأُذُنَ بِٱلۡأُذُنِ وَٱلسِّنَّ بِٱلسِّنِّ وَٱلۡجُرُوحَ قِصَاصٞۚ فَمَن تَصَدَّقَ بِهِۦ فَهُوَ كَفَّارَةٞ لَّهُۥۚ وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ٤٥
আমি ইহুদীদের জন্যে তাওরাতের মধ্যে লিখে দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চোখের বিনিময়ে চোখ, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং জখম সমূহের বিনিময়ে সমান জখম। আর যে কেউ এ বিনিময়কে ক্ষমা করে দেয়, তবে তা তার জন্যে পাপের প্রায়শ্চিত্ত হবে। আল্লাহ যে বিধান অবতীর্ণ করেছেন, যে ব্যক্তি ঐ বিধান দ্বারা বিচার করে না, তাহলে এরাই হচ্ছে অন্যায়কারী। [৫ : ৪৫]
وَقَفَّيۡنَا عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِم بِعِيسَى ٱبۡنِ مَرۡيَمَ مُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ مِنَ ٱلتَّوۡرَىٰةِۖ وَءَاتَيۡنَٰهُ ٱلۡإِنجِيلَ فِيهِ هُدٗى وَنُورٞ وَمُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ مِنَ ٱلتَّوۡرَىٰةِ وَهُدٗى وَمَوۡعِظَةٗ لِّلۡمُتَّقِينَ٤٦
নবীগণের পরে আমি মারইয়ামের পুত্র ঈসাকে পাঠিয়ে ছিলাম, ঈসার পূর্বে তাওরাতের মধ্যে যা ছিলো তার সত্যায়নকারী রূপে। তাঁকে আমি ইঞ্জীল দিয়েছিলাম, যার মধ্যে পথ প্রদর্শন ও আলো ছিলো। ইঞ্জীল ছিলো এমন যে, এর পূর্বে তাওরাতের সত্যায়নকারী আর পরহেযগারদের জন্যে পথ প্রদর্শন ও উপদেশ স্বরূপ। [৫ : ৪৬]
وَلۡيَحۡكُمۡ أَهۡلُ ٱلۡإِنجِيلِ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فِيهِۚ وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡفَٰسِقُونَ٤٧
যারা ইঞ্জীলের অধিকারী তাদের উচিত যে, আল্লাহ ইঞ্জীলের মধ্যে যে বিধান অবতীর্ণ করেছেন, ঐ বিধান দ্বারা তারা যেনো মানুষের মধ্যে বিচার করে। আল্লাহ যে বিধান অবতীর্ণ করেছেন, ঐ বিধান দ্বারা যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে বিচার করে না, তাহলে এরাই হচ্ছে আল্লাহর প্রতি অবাধ্য। [৫ : ৪৭]
[মুসনাদে আহমাদ : ২১০২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَوَّرَ صُورَةً عُذِّبَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يَنْفُخَ فِيهَا وَلَيْسَ بِنَافِخٍ وَمَنْ تَحَلَّمَ عُذِّبَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يَعْقِدَ شَعِيرَتَيْنِ وَلَيْسَ عَاقِدًا وَمَنْ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ يَفِرُّونَ بِهِ مِنْهُ صُبَّ فِي أُذُنَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَذَابٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ছবি আঁকে বা মূর্তি তৈরি করে, তাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাকে বলা হবে তার মধ্যে প্রাণ ফুঁকে দিতে, কিন্তু সে তা পারবে না। যে ব্যক্তি তার স্বপ্ন সম্পর্কে মিথ্যা বর্ণনা করবে, তাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাকে যবের দুই দানার মধ্যে গিরো দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে, কিন্তু সে তা পারবে না। আর যে ব্যক্তি কোন দলের কথা শুনবে, যা তারা তার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে চায়, কিয়ামতের দিন তার উভয় কানে শাস্তি ঢেলে দেওয়া হবে।”
[মুসনাদে আহমাদ : ২১০৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا حَاجِبُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنِي عَمِّي الْحَكَمُ بْنُ الْأَعْرَجِ قَالَ أَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ وَهُوَ مُتَّكِئٌ عِنْدَ زَمْزَمَ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ وَكَانَ نِعْمَ الْجَلِيسُ فَقُلْتُ أَخْبِرْنِي عَنْ يَوْمِ عَاشُورَاءَ قَالَ عَنْ أَيِّ بَالِهِ تَسْأَلُ قُلْتُ عَنْ صَوْمِهِ قَالَ إِذَا رَأَيْتَ هِلَالَ الْمُحَرَّمِ فَاعْدُدْ فَإِذَا أَصْبَحْتَ مِنْ تَاسِعَةٍ فَأَصْبِحْ مِنْهَا صَائِمًا قُلْتُ أَكَذَاكَ كَانَ يَصُومُهُ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ
হজরত আল-হাকাম ইবনে আল আরজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেদমতে গিয়েছিলাম, তখন তিনি যমযম কুপের কাছে হেলান দিয়ে বসেছিলেন। আমিও তাঁর পাশে গিয়ে বসলাম, তিনি সর্বোত্তম সাহাবী ছিলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “আমাকে আশুরার দিন সম্পর্কে কিছু বলুন।” তিনি বলেন, “আপনি আশুরার কোন বিষয়ে সম্পর্কে জানতে চান?” আমি বললাম, “রোজা সম্পর্কে জানতে চাই, কোন দিনে রোজা রাখবো?” তিনি বললেন, “যখন তুমি মুহাররমের চাঁদ দেখবে, তখন তার তারিখ গণনা করবে এবং যখন নবম তারিখের সকাল হবে তখন রোজা রাখবে।” আমি বললাম, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি ঐ তারিখে রোজা ছিলেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১০৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْتِي هَذَا الْحَجَرُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَهُ عَيْنَانِ يُبْصِرُ بِهِمَا وَلِسَانٌ يَنْطِقُ بِهِ يَشْهَدُ لِمَنْ اسْتَلَمَهُ بِحَقٍّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন এই কালো পাথরটি এমনভাবে আসবে যে, এর দুটি চোখ থাকবে, যা দিয়ে সে দেখতে পাবে এবং একটি জিহ্বা থাকবে, যা দিয়ে সে কথা বলবে এবং সে ঐ ব্যক্তির পক্ষে সাক্ষ্য দিবে, যে তাকে সত্যের সাথে চুম্বন করেছে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১০৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ قَالَ قَالَ دَاوُدُ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ نَاسٌ مِنْ الْأَسْرَى يَوْمَ بَدْرٍ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ فِدَاءٌ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِدَاءَهُمْ أَنْ يُعَلِّمُوا أَوْلَادَ الْأَنْصَارِ الْكِتَابَةَ قَالَ فَجَاءَ يَوْمًا غُلَامٌ يَبْكِي إِلَى أَبِيهِ فَقَالَ مَا شَأْنُكَ قَالَ ضَرَبَنِي مُعَلِّمِي قَالَ الْخَبِيثُ يَطْلُبُ بِذَحْلِ بَدْرٍ وَاللَّهِ لَا تَأْتِيهِ أَبَدًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
বদরের যুদ্ধের দিনে কিছু বন্দীর কাছে কোনো মুক্তিপণ ছিলো না, তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারদের সন্তানদের লিখা-পড়া শেখানোর বিনিময়ে তাদের মুক্তিপণ দিয়েছিলেন। একদিন এক ছেলে কাঁদতে কাঁদতে তার বাবার কাছে আসলো। তার বাবা বললো, “তোমার কি হয়েছে?” ছেলেটি বললো, “আমার শিক্ষক আমাকে আঘাত করেছেন।” তার বাবা বললো, “এই দুষ্ট ব্যক্তি বদরের কূপের মধ্যে কাফিরদেরকে নিক্ষিপ্ত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে চাইছে! আল্লাহর কসম, তুমি আর কখনো তার কাছে যাবে না।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১০৬]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ أُحُدٍ بِالشُّهَدَاءِ أَنْ يُنْزَعَ عَنْهُمْ الْحَدِيدُ وَالْجُلُودُ وَقَالَ ادْفِنُوهُمْ بِدِمَائِهِمْ وَثِيَابِهِمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উহুদ যুদ্ধের দিন শহীদদের শরীল থেকে তাদের অস্ত্র ও চামড়ার বর্ম খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাদের রক্ত মাখানো পোশাক দিয়েই তাদেরকে দাফন দিতে বলেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২১০৭]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ ارْتَدَّ عَنْ الْإِسْلَامِ وَلَحِقَ بِالْمُشْرِكِينَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ إِلَى آخِرِ الْآيَةِ فَبَعَثَ بِهَا قَوْمُهُ فَرَجَعَ تَائِبًا فَقَبِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَلِكَ مِنْهُ وَخَلَّى عَنْهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক আনসারী ব্যক্তি মুরতাদ হয়ে মুশরিকদের সাথে যোগ দেয়, তখন আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতটি নাযিল করেন,
كَيۡفَ يَهۡدِي ٱللَّهُ قَوۡمٗا كَفَرُواْ بَعۡدَ إِيمَٰنِهِمۡ وَشَهِدُوٓاْ أَنَّ ٱلرَّسُولَ حَقّٞ وَجَآءَهُمُ ٱلۡبَيِّنَٰتُۚ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّٰلِمِينَ٨٦
আল্লাহ কেমন করে ঐ জাতিকে পথ প্রদর্শন করবেন, যারা আল্লাহর প্রতি তাদের বিশ্বাস স্থাপনের পরেও পুনরায় আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস করে আর তাদের এই সাক্ষ্য দেওয়ার পরে যে, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর সত্য রসূল আর স্পষ্ট নিদর্শন সমূহ তাদের কাছে আসার পরেও? বস্তুত আল্লাহ অন্যায়কারী জাতিকে পথ প্রদর্শন করেন না। [৩ : ৮৬]
তার গোত্রের লোকেরা তাকে আয়াতটি পড়ে শুনালো এবং সে তওবা করে পুনরায় ইসলাম ধর্মে ফিরে এলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার তওবা কবুল করলেন এবং তাকে শাস্তি দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন।
[মুসনাদে আহমাদ : ২১০৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَلِيٌّ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمْ الْبَيَاضَ فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ وَإِنَّ مِنْ خَيْرِ أَكْحَالِكُمُ الْإِثْمِدَ يَجْلُو الْبَصَرَ وَيُنْبِتُ الشَّعَرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করবে, কারণ সাদা কাপড়ই সবচেয়ে ভাল। আর তোমরা মুর্দাকে সাদা কাপড় দিয়েই কাফন দিবে। তোমাদের জন্যে সুরমা হলো এক ধরনের উপকারী ধাতু, যা ব্যবহারে তোমাদের চোখের পাপড়ি নতুন করে গজায় ও চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায়।”
[মুসনাদে আহমাদ : ২১০৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ عَنِ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ كِلَاهُمَا عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةَ أَشْوَاطٍ بِالْبَيْتِ إِذَا انْتَهَى إِلَى الرُّكْنِ الْيَمَانِي وَمَشَى حَتَّى يَأْتِيَ الْحَجَرَ ثُمَّ يَرْمُلُ وَمَشَى أَرْبَعَةَ أَطْوَافٍ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَكَانَتْ سُنَّةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবা ঘরের তিন চক্কর রমল করলেন। যখন তিনি ইয়েমেনী কোণে পৌঁছলেন, তখন তিনি হাঁটতে লাগলেন, যতক্ষণ না তিনি কালো পাথরে পৌঁছলেন, তারপর তিনি চার চক্কর স্বাভাবিক ভাবে কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এটাই সুন্নত। [মুসনাদে আহমাদ : ২১১০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ أَخْبَرَنَا الْحَذَّاءُ عَنْ بَرَكَةَ أَبِي الْوَلِيدِ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدًا فِي الْمَسْجِدِ مُسْتَقْبِلًا الْحُجَرَ قَالَ فَنَظَرَ إِلَى السَّمَاءِ فَضَحِكَ ثُمَّ قَالَ لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ حُرِّمَتْ عَلَيْهِمْ الشُّحُومُ فَبَاعُوهَا وَأَكَلُوا أَثْمَانَهَا وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا حَرَّمَ عَلَى قَوْمٍ أَكْلَ شَيْءٍ حَرَّمَ عَلَيْهِمْ ثَمَنَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে কালো পাথরের দিকে মুখ করে বসে ছিলেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসলেন, তারপর বললেন, “আল্লাহ ইহুদীদের উপর অভিসম্পাত করুন; পশুর চর্বি তাদের জন্যে হারাম ছিলো, কিন্তু তারা তা গলিয়ে তা থেকে তেল তৈরি করে বিক্রি করতে লাগলো। যদিও আল্লাহ তায়ালা যখন মানুষকে কিছু খেতে নিষেধ করেন, তখন তিনি তাদের জন্য তার মূল্যও হারাম করেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১১১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُعَلَّى الْعَطَّارُ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ الْعُرَنِيُّ قَالَ ذُكِرَ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ يَقْطَعُ الصَّلَاةَ الْكَلْبُ وَالْحِمَارُ وَالْمَرْأَةُ قَالَ بِئْسَمَا عَدَلْتُمْ بِامْرَأَةٍ مُسْلِمَةٍ كَلْبًا وَحِمَارًا لَقَدْ رَأَيْتُنِي أَقْبَلْتُ عَلَى حِمَارٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِالنَّاسِ حَتَّى إِذَا كُنْتُ قَرِيبًا مِنْهُ مُسْتَقْبِلَهُ نَزَلْتُ عَنْهُ وَخَلَّيْتُ عَنْهُ وَدَخَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي صَلَاتِهِ فَمَا أَعَادَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاتَهُ وَلَا نَهَانِي عَمَّا صَنَعْتُ وَلَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَجَاءَتْ وَلِيدَةٌ تَخَلَّلُ الصُّفُوفَ حَتَّى عَاذَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا أَعَادَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاتَهُ وَلَا نَهَاهَا عَمَّا صَنَعَتْ وَلَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي مَسْجِدٍ فَخَرَجَ جَدْيٌ مِنْ بَعْضِ حُجُرَاتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَهَبَ يَجْتَازُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَمَنَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَفَلَا تَقُولُونَ الْجَدْيُ يَقْطَعُ الصَّلَاةَ
হজরত আল-হাসান আল-উরানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর উপস্থিতিতে বলা হয়েছিলো যে, “একটি কুকুর, একটি গাধা বা একজন মহিলা দ্বারা নামায ভঙ্গ হয়।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “একজন মুসলিম নারীকে কুকুর বা গাধার সমতুল্য করা কি খারাপ বিষয় নয়! আমার মনে আছে, যখন আমি একটি গাধায় চড়ে আসি, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদের নামাযের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। যখন আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম, তখন তাঁর সামনে আমি নেমে গেলাম এবং গাধাকে ছেড়ে দিলাম এবং আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামাযে যোগ দিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নামাযের পুনরাবৃত্তি করেননি এবং তিনি আমাকে বলেননি যে, আমি যা করেছি তা না করতে। একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদের নামায পড়াচ্ছিলেন, তখন একটি ছোট মেয়ে এসে নামাযের সারি দিকে ধাক্কা মারছিলো, যতক্ষণ না সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জড়িয়ে ধরলো। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নামাযের পুনরাবৃত্তি করলেন না এবং সে যা করেছে, তার জন্য তিনি তাকে কিছু বলেনি। একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে সালাত আদায় করছিলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি ঘর থেকে একটি ভেড়ার বাচ্চা বের হয়ে তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বাধা দিলেন।” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তাহলে তুমি কেনো বলছো না যে, একটি ভেড়া দ্বারা নামায ভঙ্গ হয়?” [মুসনাদে আহমাদ : ২১১২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَيْمُونٍ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرَّقِّيُّ قَالَ أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ يَعْنِي أَبَا الْمَلِيحِ عَنْ حَبِيبٍ يَعْنِي ابْنَ أَبِي مَرْزُوقٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَنْ قَدِمَ حَاجًّا وَطَافَ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَقَدْ انْقَضَتْ حَجَّتُهُ وَصَارَتْ عُمْرَةً كَذَلِكَ سُنَّةُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَسُنَّةُ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যে ব্যক্তি হজের জন্যে এসেছে, আল্লাহর ঘর প্রদক্ষিণ করেছে, সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী করেছে, সুতরাং তার হজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তার ওমরাহও সম্পন্ন হয়েছে। এটাই আল্লাহর সুন্নত এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরও সুন্নাত। [মুসনাদে আহমাদ : ২১১৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ أَخْبَرَنَا سَيْفٌ أَخْبَرَنَا قَيْسُ بْنُ سَعْدٍ الْمَكِّيُّ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى بِشَاهِدٍ وَيَمِينٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন ব্যক্তির সাক্ষী ও ঐ ব্যক্তির শপথের ভিত্তিতে একটি বিচারের রায় দিয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২১১৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَزِيدَ الرَّقِّيُّ أَبُو يَزِيدَ حَدَّثَنَا فُرَاتٌ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ أَبُو جَهْلٍ لَئِنْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي عِنْدَ الْكَعْبَةِ لَآتِيَنَّهُ حَتَّى أَطَأَ عَلَى عُنُقِهِ قَالَ فَقَالَ لَوْ فَعَلَ لَأَخَذَتْهُ الْمَلَائِكَةُ عِيَانًا وَلَوْ أَنَّ الْيَهُودَ تَمَنَّوْا الْمَوْتَ لَمَاتُوا وَرَأَوْا مَقَاعِدَهُمْ فِي النَّارِ وَلَوْ خَرَجَ الَّذِينَ يُبَاهِلُونَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَرَجَعُوا لَا يَجِدُونَ مَالًا وَلَا أَهْلًا حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ أَبُو جَهْلٍ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আবু জাহেল বললো, “আমি যদি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাবা ঘরে সালাত আদায় করতে দেখি, তবে আমি তাঁর কাছে আসবো এবং তাঁর ঘাড়ে পা রাখবো।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি সে এমন করতো, তবে ফেরেশতারা তাকে এমন ভাবে পাকড়াও করতো যে, সকলেই সেই দৃশ্য দেখতে পেতো। আর যদি ইহুদীরা মৃত্যু কামনা করতো, তবে তারা মরে যেতো এবং জাহান্নামে তাদের স্থান দেখতে পেতো। আর যারা আল্লাহর রসূলকে চ্যালেঞ্জ করেছিলো, তারা যদি বাইরে গিয়ে মুবাহালাহতে লিপ্ত হতো, [যেমনটি করার চ্যালেঞ্জ আল ইমরানে (৩:৬১) করা হয়েছে] তাহলে তারা ঘরে ফিরে গিয়ে, তাদের কোনো সম্পদ বা পরিবারকে দেখতে পেতো না।”
فَمَنۡ حَآجَّكَ فِيهِ مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَكَ مِنَ ٱلۡعِلۡمِ فَقُلۡ تَعَالَوۡاْ نَدۡعُ أَبۡنَآءَنَا وَأَبۡنَآءَكُمۡ وَنِسَآءَنَا وَنِسَآءَكُمۡ وَأَنفُسَنَا وَأَنفُسَكُمۡ ثُمَّ نَبۡتَهِلۡ فَنَجۡعَل لَّعۡنَتَ ٱللَّهِ عَلَى ٱلۡكَٰذِبِينَ٦١
সুতরাং আপনার কাছে জ্ঞানের যে বাণী এসেছে এর পরেও, যারা আপনার সাথে কুরআন নিয়ে তর্ক করে, তাহলে আপনি তাদেরকে বলুন, “তোমরা এসো, আমরা ডেকে আনি আমাদের সন্তানদেরকে ও তোমাদের সন্তানদেরকে, আমাদের স্ত্রীদেরকে ও তোমাদের স্ত্রীদেরকে, আমাদের লোকদেরকে ও তোমাদের লোকদেরকে, তারপর একান্ত ভাবে আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যেনো মিথ্যাবাদীদের উপরে আল্লাহর অভিশাপ পড়ে।” [৩ : ৬১] [মুসনাদে আহমাদ : ২১১৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ بَابٍ أَبُو سَهْلٍ فِي شَوَّالٍ سَنَةَ إِحْدَى وَثَمَانِينَ وَمِائَةٍ عَنِ الْحَجَّاجِ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ طَافَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْبَيْتِ وَجَعَلَ يَسْتَلِمُ الْحَجَرَ بِمِحْجَنِهِ ثُمَّ أَتَى السِّقَايَةَ بَعْدَمَا فَرَغَ وَبَنُو عَمِّهِ يَنْزِعُونَ مِنْهَا فَقَالَ نَاوِلُونِي فَرُفِعَ لَهُ الدَّلْوُ فَشَرِبَ ثُمَّ قَالَ لَوْلَا أَنَّ النَّاسَ يَتَّخِذُونَهُ نُسُكًا وَيَغْلِبُونَكُمْ عَلَيْهِ لَنَزَعْتُ مَعَكُمْ ثُمَّ خَرَجَ فَطَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উটে চড়ে কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করলেন এবং তার কাছে থাকা লাঠিটি নিয়ে কালো পাথরটি স্পর্শ করতে লাগলেন। তারপর তিনি জমজমের কূপের কাছে এলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাতো ভাইয়েরা তা থেকে পানি তুলছিলো। তিনি বললেন, “আমাকে কিছু পানি দাও।” তাঁকে এক বালতি পানি তুলে দেওয়া হলো এবং তিনি তা পান করলেন। তারপর তিনি বললেন, “লোকেরা যদি এটাকে হজ্জের অংশ হিসাবে মনে না করতো এবং আমি যদি তোমাদের উপরে বিজয়ী হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে আমি তোমাদের সাথে বালতি ভরে ভরে পানি তুলতাম।” অতঃপর তিনি বের হলেন এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২১১৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ بَابٍ عَنِ الْحَجَّاجِ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ صَائِمًا مُحْرِمًا فَغُشِيَ عَلَيْهِ قَالَ فَلِذَلِكَ كَرِهَ الْحِجَامَةَ لِلصَّائِمِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রোযা ও ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, তখন তাকে শিঙ্গা লাগানো হয়েছিলো এবং তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলেন। এ কারণেই একজন রোযাদারকে শিঙ্গা লাগানো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অপছন্দনীয় মনে করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২১১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ بَابٍ عَنِ الْحَجَّاجِ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الطَّائِفِ مَنْ خَرَجَ إِلَيْنَا مِنْ الْعَبِيدِ فَهُوَ حُرٌّ فَخَرَجَ عَبِيدٌ مِنْ الْعَبِيدِ فِيهِمْ أَبُو بَكْرَةَ فَأَعْتَقَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
তায়েফের যুদ্ধের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছিলেন যে, আমাদের কাছে যে কোনো ক্রীতদাস মুসলমান হয়ে আসবে, সে দাসত্ব থেকে মুক্ত হবে। তখন হজরত আবু বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও অন্য একজন ক্রীতদাস বেরিয়ে এলো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে মুক্ত করে দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২১১৮]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ بَابٍ قَالَ ثَنَا الْحَجَّاجُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ قَتَلَ الْمُسْلِمُونَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ رَجُلًا مِنْ الْمُشْرِكِينَ فَأَعْطَوْا بِجِيفَتِهِ مَالًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ادْفَعُوا إِلَيْهِمْ جِيفَتَهُمْ فَإِنَّهُ خَبِيثُ الْجِيفَةِ خَبِيثُ الدِّيَةِ فَلَمْ يَقْبَلْ مِنْهُمْ شَيْئًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
খন্দকের যুদ্ধের দিনে মুসলমানরা মুশরিকদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে, মুশরিকরা তার লাশ পাওয়ার জন্য ধন-সম্পদ দিতে শুরু করে। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাদের দেহ তাদের কাছে ফিরিয়ে দাও, কারণ এটি একটি মন্দ দেহ এবং মন্দ মুক্তিপণ।” এবং তিনি তাদের কাছ থেকে কিছুই গ্রহণ করেননি। [মুসনাদে আহমাদ : ২১১৯]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ بَابٍ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رَمَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجِمَارَ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ أَوْ بَعْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্যাস্তের সময় বা পরে জামরাহকে পাথর মেরেছিলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২১২০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ بَابٍ عَنِ الْحَجَّاجِ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ إِنَّ أَهْلَ بَدْرٍ كَانُوا ثَلَاثَ مِائَةٍ وَثَلَاثَةَ عَشَرَ رَجُلًا وَكَانَ الْمُهَاجِرُونَ سِتَّةً وَسَبْعِينَ وَكَانَ هَزِيمَةُ أَهْلِ بَدْرٍ لِسَبْعَ عَشْرَةَ مَضَيْنَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
বদরের যুদ্ধে লোক ছিলো তিনশত তেরো (৩১৩) জন। যার মধ্যে মুহাজিরগণ ছিলো ছিয়াত্তর (৭৬) জন। বদরের যুদ্ধে রমজানের সতেরো (১৭) তারিখ শুক্রবার মুশরিকদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছিলো। [মুসনাদে আহমাদ : ২১২১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

قَالَ عَبْد اللَّهِ وَجَدْتُ فِي كِتَابِ أَبِي بِخَطِّ يَدِهِ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّمْلِيُّ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْمَحْ يُسْمَحْ لَكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সহজ-সরল হও, তাহলে সকল বিষয় তোমার জন্যে সহজ-সরল করা হবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১২২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

قَالَ عَبْد اللَّهِ وَجَدْتُ فِي كِتَابِ أَبِي بِخَطِّ يَدِهِ حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّمْلِيُّ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْمَحْ يُسْمَحْ لَكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তার জন্যে সব দুশ্চিন্তা ও কষ্ট থেকে মুক্তির পথ করে দিবেন এবং আল্লাহ তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করবেন, যা সে কল্পনাও করেনি।”
[মুসনাদে আহমাদ : ২১২৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ أَخْبَرَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ أَخْبَرَنَا قَيْسُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ قَالَ كَتَبَ نَجْدَةُ بْنُ عَامِرٍ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ أَشْيَاءَ فَشَهِدْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ حِينَ قَرَأَ كِتَابَهُ وَحِينَ كَتَبَ جَوَابَهُ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَاللَّهِ لَوْلَا أَنْ أَرُدَّهُ عَنْ شَرٍّ يَقَعُ فِيهِ مَا كَتَبْتُ إِلَيْهِ وَلَا نَعْمَةَ عَيْنٍ قَالَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ إِنَّكَ سَأَلْتَنِي عَنْ سَهْمِ ذَوِي الْقُرْبَى الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ هُمْ وَإِنَّا كُنَّا نُرَى قَرَابَةَ رَسُولِ اللَّهِ هُمْ فَأَبَى ذَلِكَ عَلَيْنَا قَوْمُنَا وَسَأَلَهُ عَنْ الْيَتِيمِ مَتَى يَنْقَضِي يُتْمُهُ وَإِنَّهُ إِذَا بَلَغَ النِّكَاحَ وَأُونِسَ مِنْهُ رُشْدٌ دُفِعَ إِلَيْهِ مَالُهُ وَقَدْ انْقَضَى يُتْمُهُ وَسَأَلَهُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْتُلُ مِنْ صِبْيَانِ الْمُشْرِكِينَ أَحَدًا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَقْتُلْ مِنْهُمْ أَحَدًا وَأَنْتَ فَلَا تَقْتُلْ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تَعْلَمُ مَا عَلِمَ الْخَضِرُ مِنْ الْغُلَامِ الَّذِي قَتَلَهُ وَسَأَلَهُ عَنْ الْمَرْأَةِ وَالْعَبْدِ هَلْ كَانَ لَهُمَا سَهْمٌ مَعْلُومٌ إِذَا حَضَرُوا الْبَأْسَ وَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ سَهْمٌ مَعْلُومٌ إِلَّا أَنْ يُحْذَيَا مِنْ غَنَائِمِ الْمُسْلِمِينَ
হজরত ইয়াযীদ বিন হুরমুজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
নাজদাহ বিন আমীর রাদিয়াল্লাহু আনহু হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কিছু প্রশ্ন করে চিঠি লিখেছিলেন। আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি তাঁর চিঠি পড়েছেন এবং যখন তিনি তাঁর উত্তর লিখেছেন। তখন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি যদি তাকে পাপাচারে পতিত হওয়া থেকে বিরত করতে না চাইতাম, তবে আমি তাকে চিঠি লিখতাম না। তিনি যেনো কখনো সম্মানিত না হন।” তিনি তাকে লিখেছিলেন (বলেছিলেন), “আপনি আত্মীয়দের অংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যাদের আল্লাহ উল্লেখ করেছেন - তারা কারা? আমরা মনে করতাম, যে আত্মীয়দের কথা বলা হয়েছে তারা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আত্মীয়, কিন্তু আমাদের লোকেরা তা অস্বীকার করেছে। আপনি এতিম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং কখন তাকে আর এতিম গণ্য করা হয় না। যখন সে বিবাহের বয়সে পৌঁছে এবং মানসিক পরিপক্কতা অর্জন করে, তখন তার সম্পদ তাকে দেওয়া যেতে পারে এবং তাকে আর এতিম হিসাবে গণ্য করা হয় না। আপনি জিজ্ঞেস করলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি মুশরিকদের কোন শিশুকে হত্যা করেছেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাউকে হত্যা করেননি। তাই আপনি তাদের কাউকে হত্যা করবেন না, যদি না আপনি তাদের সম্পর্কে জানতে পারেন যে, হযরত খিজীর (আঃ) যে শিশুটিকে হত্যা করেছিলেন, তার সম্পর্কে তিনি কি জানতেন। আপনি নারী এবং ক্রীতদাসদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং যদি তারা যুদ্ধে উপস্থিত থাকে, তবে তাদের গনীমতের কোন অংশ ছিল কিনা? তাদের কোন গনীমতের অংশ দেওয়া হয়নি, তবে তাদেরকে গনীমতের কিছু সম্পদ হাদিয়া হিসেবে দেওয়া হয়েছিলো।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১২৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ أَخْبَرَنَا حَمَّادٌ عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَخْطُبُ إِلَى جِذْعٍ قَبْلَ أَنْ يَتَّخِذَ الْمِنْبَرَ فَلَمَّا اتَّخَذَ الْمِنْبَرَ وَتَحَوَّلَ إِلَيْهِ حَنَّ عَلَيْهِ فَأَتَاهُ فَاحْتَضَنَهُ فَسَكَنَ قَالَ وَلَوْ لَمْ أَحْتَضِنْهُ لَحَنَّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
মিম্বর স্থাপনের পূর্বে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি খেজুর গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে খুতবা দিতেন। যখন মিম্বর স্থাপন করা হলো এবং তিনি তা সরিয়ে দিলেন, তখন গাছের গুঁড়িটি বিচ্ছেদের দুঃখে কাঁদতে লাগলো। তাই তিনি এটির কাছে এসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং এটি শান্ত হয়ে গেলো। তিনি বললেন, “আমি যদি একে আলিঙ্গন না করতাম, তবে তা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত কাঁদতে থাকতো।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১২৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ سَالِمٍ أَبُو جَهْضَمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَفِتْيَةٌ مِنْ قُرَيْشٍ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ فَسَأَلُوهُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ قَالَ لَا قَالَ فَقَالُوا فَلَعَلَّهُ كَانَ يَقْرَأُ فِي نَفْسِهِ قَالَ خَمْشًا هَذِهِ شَرٌّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عَبْدًا مَأْمُورًا بَلَّغَ مَا أُرْسِلَ بِهِ وَإِنَّهُ لَمْ يَخُصَّنَا دُونَ النَّاسِ إِلَّا بِثَلَاثٍ أَمَرَنَا أَنْ نُسْبِغَ الْوُضُوءَ وَلَا نَأْكُلَ الصَّدَقَةَ وَلَا نُنْزِيَ حِمَارًا عَلَى فَرَسٍ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একদা আমি ও কুরাইশের কিছু যুবক হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলাম, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি যোহর ও আসরে নামাযের সময় কুরআন তিলাওয়াত করেছেন?” তিনি বললেন, “না।” আমরা বললাম, “সম্ভবত তিনি নিচু স্বরে তেলাওয়াত তেলাওয়াত করছিলেন।” তিনি বললেন, “তোমার জন্যে আফসোস! এটা প্রথমে (তুমি যা বলেছো) তার চেয়েও খারাপ। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবলমাত্র আল্লাহর একজন বান্দা ছিলেন। আল্লাহর কসম! তিনি ঐ নির্দেশাবলীর অনুসরণ করতেন, যা দিয়ে তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন। সকল মানুষকে তিনি যা বলেছেন, তা ব্যতীত তিনি আমাদেরকে এই তিনটি বিষয় ছাড়া বিশেষভাবে কিছু বলেননি। তিনি আমাদেরকে বলেছেন, (১) সঠিকভাবে অযু করতে, (২)যাকাত না খেতে (৩) এবং একটি গাধাকে একটি ঘোড়ার উপর সঙ্গম না করাতে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১২৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَحَّلَ نَاسًا مِنْ بَنِي هَاشِمٍ بِلَيْلٍ قَالَ شُعْبَةُ أَحْسَبُهُ قَالَ ضَعَفَتَهُمْ وَأَمَرَهُمْ أَنْ لَا يَرْمُوا الْجَمْرَةَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ شُعْبَةُ شَكَّ فِي ضَعَفَتَهُمْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুযদালিফার রাতে বনু হাশিমের কিছু দুর্বল লোকদেরকে আগেই পাঠালেন এবং তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সূর্যোদয়ের আগে জামরাকে পাথর মারবে না। [মুসনাদে আহমাদ : ২১২৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ وَقَّتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ وَلِأَهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةَ وَلِأَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمَ وَلِأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنًا وَقَالَ هُنَّ وَقْتٌ لِأَهْلِهِنَّ وَلِمَنْ مَرَّ بِهِنَّ مِنْ غَيْرِ أَهْلِهِنَّ يُرِيدُ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَمَنْ كَانَ مَنْزِلُهُ مِنْ وَرَاءِ الْمِيقَاتِ فَإِهْلَالُهُ مِنْ حَيْثُ يُنْشِئُ وَكَذَلِكَ حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ إِهْلَالُهُمْ مِنْ حَيْثُ يُنْشِئُونَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্যে যুল-হুলাইফাহ, সিরিয়াবাসীদের জন্যে আল-জুহফাহ, ইয়েমেনের অধিবাসীদের জন্যে ইয়ালামলাম এবং নজদের অধিবাসীদের জন্যে কর্ণকে মীকাত নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন যে, “এই মীকাতগুলো ঐসব লোকদের জন্যে, যারা এর বাইরে থাকে এবং হজ ও ওমরাহ করার নিয়তে ঐ স্থানগুলোর মধ্য দিয়ে যায়। যারা এই সীমানার মধ্যে থাকে, তারা ঐ স্থান থেকেই ইহরাম বাঁধতে পারে। আর মক্কার লোকেরা যেখানে থাকে, সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধতে পারে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২১২৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصِيبُ مِنْ الرُّءُوسِ وَهُوَ صَائِمٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযা অবস্থায় তাঁর স্ত্রীদের মাথায় চুম্বন করতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২১২৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أُنْزِلَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعِينَ وَكَانَ بِمَكَّةَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرًا فَمَاتَ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ওহী আসে, যখন তাঁর বয়স চল্লিশ (৪০) বছর। তিনি তেরো (১৩) বছর মক্কায় এবং দশ (১০) বছর মদীনায় ছিলেন এবং তেষট্টি (৬৩) বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২১৩০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস