
حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ خَالِدٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ذُؤَيْبٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَلَيْهِمْ وَهُمْ جُلُوسٌ فَقَالَ أَلَا أُحَدِّثُكُمْ بِخَيْرِ النَّاسِ مَنْزِلَةً فَقَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَجُلٌ مُمْسِكٌ بِعِنَانِ فَرَسِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَمُوتَ أَوْ يُقْتَلَ أَفَأُخْبِرُكُمْ بِالَّذِي يَلِيهِ قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ امْرُؤٌ مُعْتَزِلٌ فِي شِعْبٍ يُقِيمُ الصَّلَاةَ وَيُؤْتِي الزَّكَاةَ وَيَعْتَزِلُ شُرُورَ النَّاسِ أَفَأُخْبِرُكُمْ بِشَرِّ النَّاسِ مَنْزِلَةً قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الَّذِي يُسْأَلُ بِاللَّهِ وَلَا يُعْطِي بِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে বের হয়ে আসলেন, যখন তারা বসা ছিলো এবং বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে বলবো না যে, মানুষের মধ্যে কার অবস্থান সবচেয়ে ভালো?” তারা বললো, “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসুল।” তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি তার ঘোড়ার মাথা ধরে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়, যতক্ষণ না সে মারা যায় বা শহীদ হয়।” তারপর তিনি বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে তার পরের লোকটির ঠিকানা বলবো না?” তারা বললো, “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসুল।” তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি উপত্যকায় লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, মানুষের মন্দ থেকে দূরে থাকে (অর্থাৎ, খারাপ লোকদের থেকে দূরে থাকে)। এবং আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে খারাপ লোকদের সম্পর্কে বলবো না?” তারা বললো, “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসুল।” তিনি বললেন, “যে ব্যক্তিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করার জন্য অনুরোধ করা হয়, কিন্তু সে কিছুই দেয় না।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০১১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا مِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ أَخِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جُلُودِ الْمَيْتَةِ قَالَ إِنَّ دِبَاغَهُ قَدْ ذَهَبَ بِخَبَثِهِ أَوْ رِجْسِهِ أَوْ نَجَسِهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত পশুর চামড়া সম্পর্কে বলেছেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে চামড়ার ময়লা ও অপবিত্রতা দূর হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২০১২]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا مِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ أَخِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ طَافَ بِالْبَيْتِ عَلَى نَاقَتِهِ يَسْتَلِمُ الْحَجَرَ بِمِحْجَنِهِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَقَالَ يَزِيدُ مَرَّةً عَلَى رَاحِلَتِهِ يَسْتَلِمُ الْحَجَرَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটে চড়ে কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করলেন, তাঁর কাছে থাকা লাঠি দিয়ে কালো পাথর স্পর্শ করলেন এবং তিনি সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০১৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا حُسَيْنُ بْنُ ذَكْوَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ طَاوُسٍ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ وَابْنَ عَبَّاسٍ رَفَعَاهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يُعْطِيَ الْعَطِيَّةَ فَيَرْجِعَ فِيهَا إِلَّا الْوَالِدَ فِيمَا يُعْطِي وَلَدَهُ وَمَثَلُ الَّذِي يُعْطِي الْعَطِيَّةَ فَيَرْجِعُ فِيهَا كَمَثَلِ الْكَلْبِ أَكَلَ حَتَّى إِذَا شَبِعَ قَاءَ ثُمَّ رَجَعَ فِي قَيْئِهِ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ فَذَكَرَ مِثْلَهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “একজন পিতা তার পুত্রকে যা দান করে তা ছাড়া, কোনো ব্যক্তির জন্যে কিছু দান করার পরে তা ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ নয়। যে ব্যক্তি কিছু দান করে, তারপর তা ফিরিয়ে নেয়, তার দৃষ্টান্ত হলো একটি কুকুরের মতো, যে পেট পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত খায়, তারপর বমি করে, তারপর সে ঐ বমি চেটে খায়।”
[মুসনাদে আহমাদ : ২০১৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ شُعْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ بِنِصْفِ دِينَارٍ وَلَمْ يَرْفَعْهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَلَا بَهْزٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঋতুস্রাব অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাসকারী ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, “সে যেনো এক দিনার বা অর্ধ দিনার সদকা করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০১৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُخَنَّثِينَ مِنْ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلَاتِ مِنْ النِّسَاءِ وَقَالَ أَخْرِجُوهُمْ مِنْ بُيُوتِكُمْ فَأَخْرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فُلَانًا وَأَخْرَجَ عُمَرُ فُلَانًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই সব নারীরূপী পুরুষদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন, যারা মহিলা হিজরা সাজে বা হয়ে যায় এবং সেইসব পুরুষরূপী নারীদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন, যারা পুরুষ হিজরা সাজে বা হয়ে যায়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এ ধরনের লোকদেরকে তোমরা তোমাদের ঘর থেকে বের করে দাও।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ব্যক্তিকে বহিষ্কার করেছেন এবং হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-ও এমন ব্যক্তিকে বহিষ্কার করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০১৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ حَدَّثَنَا بُكَيْرُ بْنُ الْأَخْنَسِ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَرَضَ الصَّلَاةَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ عَلَى الْمُقِيمِ أَرْبَعًا وَعَلَى الْمُسَافِرِ رَكْعَتَيْنِ وَعَلَى الْخَائِفِ رَكْعَةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
মহান আল্লাহ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে তোমাদের ওপর নামায ফরজ করেছেন, অ-মুসাফিরদের জন্য চার রাকাত, মুসাফিরের জন্য দুই রাকাত এবং যুদ্ধের সময় ভয়ের নামায এক রাকাত। [মুসনাদে আহমাদ : ২০১৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنِي يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ أَخْبَرَنَا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ التَّمِيمِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمِرْتُ بِالسِّوَاكِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَوْ حَسِبْتُ أَنْ سَيَنْزِلُ فِيهِ قُرْآنٌ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাকে এতো বেশি মেসওয়াক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো যে, আমি ভয় করতে লাগলাম যে, আমার ওপর (মেসওয়াক করার ব্যাপারে ) কুরআনের একটি আয়াত নাজিল হবে। (আর তখন আমার উম্মত এই আদেশ পালন করতে পারবে না)।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০১৮]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَطَاءٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكَعْبَةَ وَفِيهَا سِتُّ سَوَارٍ فَقَامَ عِنْدَ كُلِّ سَارِيَةٍ وَلَمْ يُصَلِّ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবার ভিতরে প্রবেশ করলেন, তখন কাবায় ছয়টি স্তম্ভ ছিলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিটি স্তম্ভের পাশে দাঁড়িয়ে দুয়া করলেন, কিন্তু সালাত আদায় করলেন না। [মুসনাদে আহমাদ : ২০১৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا مَاتَ عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ قَالَتْ امْرَأَةٌ هَنِيئًا لَكَ الْجَنَّةُ عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهَا نَظَرَ غَضْبَانَ فَقَالَ وَمَا يُدْرِيكِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَارِسُكَ وَصَاحِبُكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاللَّهِ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَمَا أَدْرِي مَا يُفْعَلُ بِي فَأَشْفَقَ النَّاسُ عَلَى عُثْمَانَ فَلَمَّا مَاتَتْ زَيْنَبُ ابْنَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَقِي بِسَلَفِنَا الصَّالِحِ الْخَيْرِ عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ فَبَكَتْ النِّسَاءُ فَجَعَلَ عُمَرُ يَضْرِبُهُنَّ بِسَوْطِهِ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ وَقَالَ مَهْلًا يَا عُمَرُ ثُمَّ قَالَ ابْكِينَ وَإِيَّاكُنَّ وَنَعِيقَ الشَّيْطَانِ ثُمَّ قَالَ إِنَّهُ مَهْمَا كَانَ مِنْ الْعَيْنِ وَالْقَلْبِ فَمِنْ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَمِنْ الرَّحْمَةِ وَمَا كَانَ مِنْ الْيَدِ وَاللِّسَانِ فَمِنْ الشَّيْطَانِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন উসমান বিন মাযূন মারা গেলো, তখন তার স্ত্রী বললো, “অভিনন্দন হে উসমান বিন মাযূন, জান্নাত আপনার জন্য।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং রাগান্বিত ভাবে বললেন, “তুমি কিভাবে জানো যে, সে জান্নাতী?” মহিলা বললো, “হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সে ছিলো আপনার ঘোড়সওয়ার এবং আপনার সাহাবী।” রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর রসুল, কিন্তু আমি নিজেও জানি যে, আমার কি হবে।” লোকেরা উসমান বিন মাযূনকে নিয়ে চিন্তিত হলো। তারপর যখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা জয়নাব মারা গেলেন, তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমাদের আগে যে উসমান ইবনে মাযূন চলে গিয়েছিলো, তুমি তার সাথে যোগ দাও।” মহিলারা কাঁদতে লাগলো এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে চাবুক দিয়ে আঘাত করতে লাগলো। কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাত ধরে বললেন, “হে উমর, শান্ত হও।” অতঃপর তিনি মহিলাদেরকে বললেন, “তোমরা কাঁদো, কিন্তু শয়তানের কান্না থেকে সাবধান হও।” তারপর তিনি বললেন, “চোখ ও অন্তর থেকে যা আসে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে এবং এটি একটি করুণার নিদর্শন। কিন্তু হাত ও জিহ্বা থেকে যা আসে তা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।” এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জয়নাবের কবরের পাশে বসলেন। ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পাশে কাঁদছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রতি মমতায় ফাতিমার চোখ তাঁর পোশাক দিয়ে মুছতে লাগলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০২০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ وَقَّتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ وَلِأَهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةَ وَلِأَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمَ وَلِأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنًا وَقَالَ هُنَّ وَقْتٌ لِأَهْلِهِنَّ وَلِمَنْ مَرَّ بِهِنَّ مِنْ غَيْرِ أَهْلِهِنَّ يُرِيدُ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَمَنْ كَانَ مَنْزِلُهُ مِنْ وَرَاءِ الْمِيقَاتِ فَإِهْلَالُهُ مِنْ حَيْثُ يُنْشِئُ وَكَذَلِكَ حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ إِهْلَالُهُمْ مِنْ حَيْثُ يُنْشِئُونَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্যে যুল-হুলাইফাহ, সিরিয়াবাসীদের জন্যে আল-জুহফাহ, ইয়েমেনের অধিবাসীদের জন্যে ইয়ালামলাম এবং নজদের অধিবাসীদের জন্যে কর্ণকে মীকাত নির্ধারণ করেছেন এবং বলেছেন যে, “এই মীকাতগুলো ঐসব লোকদের জন্যে, যারা এর বাইরে থাকে এবং হজ ও ওমরাহ করার নিয়তে ঐ স্থানগুলোর মধ্য দিয়ে যায়। যারা এই সীমানার মধ্যে থাকে, তারা ঐ স্থান থেকেই ইহরাম বাঁধতে পারে। আর মক্কার লোকেরা যেখানে থাকে, সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধতে পারে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০২১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ عَنْ يَعْلَى بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ حِينَ أَتَاهُ فَأَقَرَّ عِنْدَهُ بِالزِّنَا لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ أَوْ لَمَسْتَ قَالَ لَا قَالَ فَنِكْتَهَا قَالَ نَعَمْ فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
হজরত মাআয ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু তার অপরাধ স্বীকার করার জন্যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাজির হলো এবং বললো যে, সে যিনা করেছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “সম্ভবত তুমি তাকে চুম্বন করেছো বা তুমি তাকে শুধু স্পর্শ করেছো?” সে তা প্রত্যাখ্যান করে বললো, “না।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি কি তার সাথে সহবাস করেছো?” সে বললো, “হ্যাঁ!” অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে তাকে পাথর ছুড়ে মেরে ফেলা হলো। [মুসনাদে আহমাদ : ২০২২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ رُسْتُمَ أَبُو عَامِرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أُقِيمَتْ صَلَاةُ الصُّبْحِ فَقَامَ رَجُلٌ يُصَلِّي الرَّكْعَتَيْنِ فَجَذَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثَوْبِهِ فَقَالَ أَتُصَلِّي الصُّبْحَ أَرْبَعًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার ফজরের নামায শেষ হলে এক ব্যক্তি দুই রাকাত সালাত আদায় করার জন্যে দাঁড়ালো এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাপড় ধরে টেনে বললেন, “তুমি কি চার রাকাত করে ফজরের নামায আদায় করবে নাকি?” [মুসনাদে আহমাদ : ২০২৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا قَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ وَهُوَ سَيِّدُ الْأَنْصَارِ أَهَكَذَا نَزَلَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا مَعْشَرَ الْأَنْصَارِ أَلَا تَسْمَعُونَ إِلَى مَا يَقُولُ سَيِّدُكُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَا تَلُمْهُ فَإِنَّهُ رَجُلٌ غَيُورٌ وَاللَّهِ مَا تَزَوَّجَ امْرَأَةً قَطُّ إِلَّا بِكْرًا وَمَا طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ قَطُّ فَاجْتَرَأَ رَجُلٌ مِنَّا عَلَى أَنْ يَتَزَوَّجَهَا مِنْ شِدَّةِ غَيْرَتِهِ فَقَالَ سَعْدٌ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّهَا حَقٌّ وَأَنَّهَا مِنْ اللَّهِ تَعَالَى وَلَكِنِّي قَدْ تَعَجَّبْتُ أَنِّي لَوْ وَجَدْتُ لَكَاعًا تَفَخَّذَهَا رَجُلٌ لَمْ يَكُنْ لِي أَنْ أَهِيجَهُ وَلَا أُحَرِّكَهُ حَتَّى آتِيَ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَوَاللَّهِ لَا آتِي بِهِمْ حَتَّى يَقْضِيَ حَاجَتَهُ قَالَ فَمَا لَبِثُوا إِلَّا يَسِيرًا حَتَّى جَاءَ هِلَالُ بْنُ أُمَيَّةَ وَهُوَ أَحَدُ الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ تِيبَ عَلَيْهِمْ فَجَاءَ مِنْ أَرْضِهِ عِشَاءً فَوَجَدَ عِنْدَ أَهْلِهِ رَجُلًا فَرَأَى بِعَيْنَيْهِ وَسَمِعَ بِأُذُنَيْهِ فَلَمْ يَهِجْهُ حَتَّى أَصْبَحَ فَغَدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي جِئْتُ أَهْلِي عِشَاءً فَوَجَدْتُ عِنْدَهَا رَجُلًا فَرَأَيْتُ بِعَيْنَيَّ وَسَمِعْتُ بِأُذُنَيَّ فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا جَاءَ بِهِ وَاشْتَدَّ عَلَيْهِ وَاجْتَمَعَتْ الْأَنْصَارُ فَقَالُوا قَدْ ابْتُلِينَا بِمَا قَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ الْآنَ يَضْرِبُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هِلَالَ بْنَ أُمَيَّةَ وَيُبْطِلُ شَهَادَتَهُ فِي الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ هِلَالٌ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ يَجْعَلَ اللَّهُ لِي مِنْهَا مَخْرَجًا فَقَالَ هِلَالٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ أَرَى مَا اشْتَدَّ عَلَيْكَ مِمَّا جِئْتُ بِهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنِّي لَصَادِقٌ وَ وَاللَّهِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُرِيدُ أَنْ يَأْمُرَ بِضَرْبِهِ إِذْ أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَحْيَ وَكَانَ إِذَا نَزَلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ عَرَفُوا ذَلِكَ فِي تَرَبُّدِ جِلْدِهِ يَعْنِي فَأَمْسَكُوا عَنْهُ حَتَّى فَرَغَ مِنْ الْوَحْيِ فَنَزَلَتْ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ الْآيَةَ فَسُرِّيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَبْشِرْ يَا هِلَالُ فَقَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَكَ فَرَجًا وَمَخْرَجًا فَقَالَ هِلَالٌ قَدْ كُنْتُ أَرْجُو ذَاكَ مِنْ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْسِلُوا إِلَيْهَا فَأَرْسَلُوا إِلَيْهَا فَجَاءَتْ فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهِمَا وَذَكَّرَهُمَا وَأَخْبَرَهُمَا أَنَّ عَذَابَ الْآخِرَةِ أَشَدُّ مِنْ عَذَابِ الدُّنْيَا فَقَالَ هِلَالٌ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ صَدَقْتُ عَلَيْهَا فَقَالَتْ كَذَبَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَاعِنُوا بَيْنَهُمَا فَقِيلَ لِهِلَالٍ اشْهَدْ فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنْ الصَّادِقِينَ فَلَمَّا كَانَ فِي الْخَامِسَةِ قِيلَ يَا هِلَالُ اتَّقِ اللَّهَ فَإِنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الْآخِرَةِ وَإِنَّ هَذِهِ الْمُوجِبَةُ الَّتِي تُوجِبُ عَلَيْكَ الْعَذَابَ فَقَالَ وَاللَّهِ لَا يُعَذِّبُنِي اللَّهُ عَلَيْهَا كَمَا لَمْ يَجْلِدْنِي عَلَيْهَا فَشَهِدَ فِي الْخَامِسَةِ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنْ الْكَاذِبِينَ ثُمَّ قِيلَ لَهَا اشْهَدِي أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنْ الْكَاذِبِينَ فَلَمَّا كَانَتْ الْخَامِسَةُ قِيلَ لَهَا اتَّقِ اللَّهَ فَإِنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الْآخِرَةِ وَإِنَّ هَذِهِ الْمُوجِبَةُ الَّتِي تُوجِبُ عَلَيْكِ الْعَذَابَ فَتَلَكَّأَتْ سَاعَةً ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ لَا أَفْضَحُ قَوْمِي فَشَهِدَتْ فِي الْخَامِسَةِ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ فَفَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَهُمَا وَقَضَى أَنَّهُ لَا يُدْعَى وَلَدُهَا لِأَبٍ وَلَا تُرْمَى هِيَ بِهِ وَلَا يُرْمَى وَلَدُهَا وَمَنْ رَمَاهَا أَوْ رَمَى وَلَدَهَا فَعَلَيْهِ الْحَدُّ وَقَضَى أَنْ لَا بَيْتَ لَهَا عَلَيْهِ وَلَا قُوتَ مِنْ أَجْلِ أَنَّهُمَا يَتَفَرَّقَانِ مِنْ غَيْرِ طَلَاقٍ وَلَا مُتَوَفًّى عَنْهَا وَقَالَ إِنْ جَاءَتْ بِهِ أُصَيْهِبَ أُرَيْسِحَ حَمْشَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِهِلَالٍ وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَوْرَقَ جَعْدًا جُمَالِيًّا خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ سَابِغَ الْأَلْيَتَيْنِ فَهُوَ لِلَّذِي رُمِيَتْ بِهِ فَجَاءَتْ بِهِ أَوْرَقَ جَعْدًا جُمَالِيًّا خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ سَابِغَ الْأَلْيَتَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْلَا الْأَيْمَانُ لَكَانَ لِي وَلَهَا شَانٌ قَالَ عِكْرِمَةُ فَكَانَ بَعْدَ ذَلِكَ أَمِيرًا عَلَى مِصْرٍ وَكَانَ يُدْعَى لِأُمِّهِ وَمَا يُدْعَى لِأَبِيهِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
যখন এই আয়াত নাজিল হলো,
وَٱلَّذِينَ يَرۡمُونَ ٱلۡمُحۡصَنَٰتِ ثُمَّ لَمۡ يَأۡتُواْ بِأَرۡبَعَةِ شُهَدَآءَ فَٱجۡلِدُوهُمۡ ثَمَٰنِينَ جَلۡدَةٗ وَلَا تَقۡبَلُواْ لَهُمۡ شَهَٰدَةً أَبَدٗاۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡفَٰسِقُونَ٤
যারা সতী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারপর চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তবে তোমরা তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে ও কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না। বস্তুত এরাই হচ্ছে প্রকৃত অশান্তিকামী। [২৪ : ৪]
তখন আনসারদের নেতা সাদ বিন উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো যে, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই আয়াতটা কি এভাবেই নাযিল হয়েছে?” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “হে আনসারগণ, তোমরা কি শুনতে পাচ্ছো না, তোমাদের নেতা কি বলছে?” আনসারগণ বললো যে, “হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তাকে দোষারোপ করবেন না, কারণ তিনি একজন প্রতিরক্ষামূলক ঈর্ষান্বিত মানুষ। আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি একজন কুমারী ছাড়া কোনো নারীকে বিয়ে করেননি এবং তিনি কখনোই তার কোনো স্ত্রীকে তালাক দেননি। আর আমাদের মধ্যে কোনো পুরুষ এমন নারীকে বিয়ে করার সাহস করবে না, সাদ বিন উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর শক্তিশালীতার কারণে। সাদ বিন উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললো যে, “আল্লাহর কসম, হে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি জানি এই আয়াত সত্য এবং এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। কিন্তু আমি অবাক হচ্ছি যে, আমি যদি এই বোকা মহিলাকে তার উপরে একজন পুরুষের সাথে পাই। আমি তাকে বিরক্ত করবো না বা তাকে সরানোর চেষ্টা করবো না, যতক্ষণ না আমি চারজন সাক্ষী নিয়ে আসি। অথচ, সে যা করছে তা শেষ করার আগে, আমি কখনোই চারজন সাক্ষী আনতে পারবো না।” কিছুক্ষণ পরে, হিলাল বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু, যিনি সেই তিনজনের একজন ছিলেন যাদের তওবা কবুল হয়েছিলো, রাতে তার দেশ থেকে ফিরে এসে একজন লোককে তার স্ত্রীর সাথে দেখতে পেলেন। তিনি নিজের চোখে দেখেছেন এবং নিজের কানে শুনেছেন, কিন্তু তিনি সকাল না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিরক্ত করলেন না। তারপর তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন, “হে আল্লাহর রসূল, আমি গত রাতে আমার স্ত্রীর কাছে এসেছিলাম এবং তার সাথে একজন পুরুষকে পেয়েছি। নিজের চোখে দেখেছি এবং নিজের কানে শুনেছি।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা বললেন তা অপছন্দ করলেন এবং খুবই কষ্ট পেলেন। আনসাররা একত্রিত হয়ে বললো, “এখন আমরা সেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি যা সাদ বিন উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আশা করেছিলেন। এখন তো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিলাল ইবনে উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অপছন্দ করবেন এবং মুসলমানদের মধ্যে তার সাক্ষ্যকে বাতিল ঘোষণা করবেন।” হিলাল বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি আশা করি আল্লাহ আমাকে মুক্তির পথ দেখাবেন। হে আল্লাহর রাসুল, আমি দেখতে পাচ্ছি যে আমি যা বলেছি তাতে আপনি খুবই কষ্ট পেয়েছেন, কিন্তু আল্লাহ জানেন যে, আমি সত্য কথা বলছি।” আল্লাহর কসম, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রহার করার নির্দেশ দিতে যাচ্ছিলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওহী আসে। যখন তাঁর কাছে ওহী আসতো, সাহাবীরা তা বলতে পারতো, কারণ তাঁর মুখের রঙ পরিবর্তিত হয়ে যেতো। তাই তারা তাঁকে একা রেখেছিলো, যতক্ষণ না ওহী নাযিল শেষ হয় এবং এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিলো,
وَٱلَّذِينَ يَرۡمُونَ أَزۡوَٰجَهُمۡ وَلَمۡ يَكُن لَّهُمۡ شُهَدَآءُ إِلَّآ أَنفُسُهُمۡ فَشَهَٰدَةُ أَحَدِهِمۡ أَرۡبَعُ شَهَٰدَٰتِۭ بِٱللَّهِ إِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ٦
যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের জন্যে অন্য কোনো সাক্ষী পায় না, তাহলে ঐ ব্যক্তি আল্লাহর নামে চার বার এভাবে সাক্ষ্য দিবে যে, অবশ্যই সে সত্যবাদী। [২৪ : ৬]
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহীর অবস্থা থেকে স্বাভাবিক হয়ে উঠলেন এবং বললেন, “হে হিলাল, প্রফুল্ল হও, কেননা আল্লাহ তোমাকে মুক্তির পথ দিয়েছেন।” হিলাল বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আমি আমার রবের কাছে এটাই আশা করেছিলাম।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা ঐ মহিলাকে ডেকে নিয়ে এসো।” তাই তারা তাকে ডেকে আনলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের উভয়ের কাছে আয়াতটি পাঠ করলেন এবং তাদেরকে বললেন যে, “দুনিয়ার শাস্তি অপেক্ষা আখেরাতের শাস্তির অনেক ভয়াবহ।” হিলাল বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল, আমি তার সম্পর্কে সত্য বলেছি।” মহিলা বললো, “সে মিথ্যা বলছে।” রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা একে অপরের প্রতি অভিশাপ দাও। (তোমরা লিয়ান করো)” হিলালকে বলা হলো, তিনি যেনো সাক্ষ্য দান করেন। সুতরাং হিলাল বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু চারবার সাক্ষ্য দিলেন যে, তিনি সত্যবাদীদের একজন। যখন তা পঞ্চমবার উপস্থিত হয়, তখন তাকে বলা হয়, হে হিলাল, তুমি এ শাস্তির জন্যে আল্লাহকে ভয় করো। আখেরাতের শাস্তির চেয়ে দুনিয়ার শাস্তি সহজ। আর এটাই তোমাদের জন্য শাস্তির কারণ হবে। হিলাল বিন উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “আল্লাহর কসম, এর জন্যে আল্লাহ আমাকে যেভাবে বেত্রাঘাত করেননি, সেভাবেই আল্লাহ আমাকে শাস্তি দিবেন না। এবং পঞ্চমবার সাক্ষ্য দিলো যে, যদি সে মিথ্যা বলে তার উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। তারপর ঐ মহিলাকে বলা হলো, সে যেনো সাক্ষ্য দান করে। সুতরাং ঐ মহিলা চারবার সাক্ষ্য দিলো যে, পুরুষটি মিথ্যাবাদী এবং সে সত্য কথা বলছে। যখন তা পঞ্চমবার উপস্থিত হয়, তখন তাকে বলা হয়, তুমি এ শাস্তির জন্যে আল্লাহকে ভয় করো। আখেরাতের শাস্তির চেয়ে দুনিয়ার শাস্তি সহজ। আর এটাই তোমাদের জন্য শাস্তির কারণ হবে। তখন ঐ মহিলা সাক্ষ্য দিতে কিছুটা ইতস্ত করলো এবং বললো যে, আল্লাহর কসম, আমি আমার উম্মতের উপর অপমানিত হবো না এবং সে পঞ্চমবার সাক্ষ্য দিলো যে, যদি পুরুষটি সত্যবাদী হয় তবে, আমার উপর আল্লাহর গজব হবে। অতঃপর আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে আলাদা করে দিলেন এবং আদেশ দিলেন যে, তার সন্তানের নাম যেনো পিতার নামে রাখা না হয়। মহিলাকে ব্যভিচারের অভিযুক্ত করা হবে না এবং বাচ্চাকেও (অবৈধ হওয়ার জন্যে) অভিযুক্ত করা হবে না। যে কেউ মহিলাকে বা তার সন্তানকে অভিযুক্ত করবে তাকে শক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি রায় দিয়েছিলেন যে, মহিলার কোন অধিকার নেই যে, পুরুষটির কাছ থেকে বাসস্থান বা ভরণপোষণের দাবি করবে, কারণ তারা উভয়ে তালাক ব্যতীত লিয়ানের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং পুরুষটি মারা যায়নি যে, ফলে মহিলাটি বিধবা হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি মহিলাটি একটি লাল রঙের, ছোট নিতম্ব এবং পাতলা পা বিশিষ্ট একটি সন্তানের জন্ম দেয়, তবে সে হিলালের সন্তান। যদি মহিলাটি কালো চামড়া, কোঁকড়ানো চুল, মোটা পা এবং বড় নিতম্ব বিশিষ্ট একটি সন্তানের জন্ম দেয়, তাহলে সে সেই ব্যক্তির সন্তান যার সাথে মহিলাটির ব্যভিচারের অভিযোগ ছিলো।” অবশেষে মহিলাটি কালো চামড়া, কোঁকড়ানো চুল, মোটা পা এবং বড় নিতম্ব বিশিষ্ট একটি সন্তানের জন্ম দেয়। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি শপথ না করা হতো, তাহলে মহিলাটির ব্যাপারে আমি শক্ত মীমাংসা করতাম।” ইকরিমা বলেন, এরপর ঐ সন্তানটি একটি শহরের গভর্নর হয়েছিলো। তার নাম তার মায়ের নামে রাখা হয়েছিলো, তার পিতার নামে নয়। [মুসনাদে আহমাদ : ২০২৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَّامٍ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ مِينَاءَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُمَا شَهِدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ وَهُوَ عَلَى أَعْوَادِ الْمِنْبَرِ لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمْ الْجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَلَيُكْتَبَنَّ مِنْ الْغَافِلِينَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে থাকা অবস্থায় বলেছেন, “লোকেরা যেনো জুমআর নামায বর্জন করা থেকে বিরত থাকে, নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিবেন এবং তাদেরকে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত করে দিবেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০২৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ فَرْقَدٍ السَّبَخِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ بِوَلَدِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ بِهِ لَمَمًا وَإِنَّهُ يَأْخُذُهُ عِنْدَ طَعَامِنَا فَيُفْسِدُ عَلَيْنَا طَعَامَنَا قَالَ فَمَسَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدْرَهُ وَدَعَا لَهُ فَتَعَّ تَعَّةً فَخَرَجَ مِنْ فِيهِ مِثْلُ الْجَرْوِ الْأَسْوَدِ فَشُفِيَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক মহিলা তার সন্তানকে নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! খাওয়ার সময় শিশুটির কিছু ব্যথা অনুভব হয় আর সে আমাদের সব খাবার নষ্ট করে ফেলে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুটির বুকে হাত রেখে তার জন্যে দোয়া করলেন। হঠাৎ শিশুটি বমি করলো এবং তার মুখ দিয়ে কালো বাদুড়ের মতো কিছু একটা বের হয়ে পালিয়ে গেলো। [মুসনাদে আহমাদ : ২০২৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا بَهْزٌ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أُخْتَهُ نَذَرَتْ أَنْ تَمْشِيَ إِلَى الْبَيْتِ وَشَكَا إِلَيْهِ ضَعْفَهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْ نَذْرِ أُخْتِكَ فَلْتَرْكَبْ وَلْتُهْدِ بَدَنَةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত উকবা ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন যে, তাঁর বোন মানত করেছিলো যে, সে পায়ে হেঁটে বায়তুল্লাহ শরীফে যাবে, কিন্তু এখন সে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার বোনের মানতের আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। সে যেনো সওয়ারীর উপর আরোহণ করে যায় এবং একটি উট কুরবানী করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০২৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا حَاجِبُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنِي عَمِّي الْحَكَمُ بْنُ الْأَعْرَجِ قَالَ أَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ وَهُوَ مُتَّكِئٌ عِنْدَ زَمْزَمَ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ وَكَانَ نِعْمَ الْجَلِيسُ فَقُلْتُ أَخْبِرْنِي عَنْ يَوْمِ عَاشُورَاءَ قَالَ عَنْ أَيِّ بَالِهِ تَسْأَلُ قُلْتُ عَنْ صَوْمِهِ قَالَ إِذَا رَأَيْتَ هِلَالَ الْمُحَرَّمِ فَاعْدُدْ فَإِذَا أَصْبَحْتَ مِنْ تَاسِعَةٍ فَأَصْبِحْ مِنْهَا صَائِمًا قُلْتُ أَكَذَاكَ كَانَ يَصُومُهُ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ
হজরত আল-হাকাম ইবনে আল আরজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার আমি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেদমতে গিয়েছিলাম, তখন তিনি যমযম কুপের কাছে হেলান দিয়ে বসেছিলেন। আমিও তাঁর পাশে গিয়ে বসলাম, তিনি সর্বোত্তম সাহাবী ছিলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “আমাকে আশুরার দিন সম্পর্কে কিছু বলুন।” তিনি বলেন, “আপনি আশুরার কোন বিষয়ে সম্পর্কে জানতে চান?” আমি বললাম, “রোজা সম্পর্কে জানতে চাই, কোন দিনে রোজা রাখবো?” তিনি বললেন, “যখন তুমি মুহাররমের চাঁদ দেখবে, তখন তার তারিখ গণনা করবে এবং যখন নবম তারিখের সকাল হবে তখন রোজা রাখবে।” আমি বললাম, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি ঐ তারিখে রোজা ছিলেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০২৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَمِعْتُ لَيْثًا سَمِعْتُ طَاوُسًا يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ عَلِّمُوا وَيَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا وَإِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْكُتْ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা লোকদেরকে ইসলামের জ্ঞান শিক্ষা দাও। শিক্ষা দানে সহজতা সৃষ্টি করো, কাঠিন্যতা সৃষ্টি করো না।” তারপর তিনি তিনবার বললেন যে, “যখন তোমাদের কেউ রাগান্বিত হয়, তখন সে যেনো চুপ থাকে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০২৯]
হাদিসের মান : হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَزِيدَ أَبِي خَالِدٍ قَالَ سَمِعْتُ الْمِنْهَالَ بْنَ عَمْرٍو يُحَدِّثُ عَنْ سَعَيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يَعُودُ مَرِيضًا لَمْ يَحْضُرْ أَجَلُهُ فَيَقُولُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ إِلَّا عُوفِيَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি এমন কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাছে যায়, যার মৃত্যুর সময় এখনো নিকটবর্তী হয়নি এবং সাতবার এই দুয়া বলে, তবে ঐ অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাবে।”
أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ
“আমি সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী আরশের অধিপতি আল্লাহর কাছে আপনাকে আরোগ্য দান করার জন্য প্রার্থনা করছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৩০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَزِيدَ أَبِي خَالِدٍ قَالَ سَمِعْتُ الْمِنْهَالَ بْنَ عَمْرٍو يُحَدِّثُ عَنْ سَعَيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يَعُودُ مَرِيضًا لَمْ يَحْضُرْ أَجَلُهُ فَيَقُولُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ إِلَّا عُوفِيَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি এমন কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাছে যায়, যার মৃত্যুর সময় এখনো নিকটবর্তী হয়নি এবং সাতবার এই দুয়া বলে, তবে ঐ অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাবে।”
أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ
“আমি সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী আরশের অধিপতি আল্লাহর কাছে আপনাকে আরোগ্য দান করার জন্য প্রার্থনা করছি।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৩১]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا بَهْزٌ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أُخْتَهُ نَذَرَتْ أَنْ تَمْشِيَ إِلَى الْبَيْتِ وَشَكَا إِلَيْهِ ضَعْفَهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْ نَذْرِ أُخْتِكَ فَلْتَرْكَبْ وَلْتُهْدِ بَدَنَةً
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত উকবা ইবনে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন যে, তাঁর বোন মানত করেছিলো যে, সে পায়ে হেঁটে বায়তুল্লাহ শরীফে যাবে, কিন্তু এখন সে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমার বোনের মানতের আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। সে যেনো সওয়ারীর উপর আরোহণ করে যায় এবং একটি উট কুরবানী করে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৩২]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي بِشْرٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ فَمَاتَتْ فَأَتَى أَخُوهَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ عَلَى أُخْتِكَ دَيْنٌ أَكُنْتَ قَاضِيَهُ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَاقْضُوا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَهُوَ أَحَقُّ بِالْوَفَاءِ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
এক মহিলা হজ্জ করার মানত করলো, অতঃপর সে তা সম্পন্ন করার আগেই মারা গেলো। তার ভাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, “তুমি কি মনে করো যে, তোমার বোনের কোনো ঋণ থাকলে তুমি কি তার ঋণ পরিশোধ করতে না?” সে বললো, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাহলে তুমি আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করো। কারণ আল্লাহর ঋণ পরিশোধ হওয়ার ব্যাপারে, আল্লাহ অধিকতর যোগ্য ও হকদার।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৩৩]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ وَرَوْحٌ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ رَوْحٌ سَمِعْتُ مُسْلِمًا الْقُرِّيَّ قَالَ مُحَمَّدٌ عَنْ مُسْلِمٍ الْقُرِّيِّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ أَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْعُمْرَةِ وَأَهَلَّ أَصْحَابُهُ بِالْحَجِّ قَالَ رَوْحٌ أَهَلَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ بِالْحَجِّ فَمَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْيٌ أَحَلَّ وَكَانَ مِمَّنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْيٌ طَلْحَةُ وَرَجُلٌ آخَرُ فَأَحَلَّا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন এবং তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। অন্য একজন বর্ণনাকারী বলেছেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। এবং যাদের সাথে কোরবানির পশু ছিলো না, তারা ওমরা করার মাধ্যমে ইহরাম খুলে ফেললো। যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিলো না, তাদের মধ্যে হজরত তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং অন্য একজন লোকও ছিলো, তাই তারা ওমরা করার মাধ্যমে ইহরাম খুলে ফেললো। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৩৪]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস


حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمَّارٍ عَنْ سَالِمٍ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ رَجُلٍ قَتَلَ مُؤْمِنًا ثُمَّ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى قَالَ وَيْحَكَ وَأَنَّى لَهُ الْهُدَى سَمِعْتُ نَبِيَّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَجِيءُ الْمَقْتُولُ مُتَعَلِّقًا بِالْقَاتِلِ يَقُولُ يَا رَبِّ سَلْ هَذَا فِيمَ قَتَلَنِي وَاللَّهِ لَقَدْ أَنْزَلَهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا نَسَخَهَا بَعْدَ إِذْ أَنْزَلَهَا قَالَ وَيْحَكَ وَأَنَّى لَهُ الْهُدَى
হজরত সেলিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এমন এক ব্যক্তির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, যে ব্যক্তি একজন মুসলমানকে হত্যা করে, তারপর তাওবা করে এবং ঈমান গ্রহণ করে, সৎকাজ করে এবং সঠিক পথে চলে। তিনি বললেন, তোমার প্রতি আফসোস! সে কিভাবে সত্য পথের অনুসরণ করতে পারে? আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “মৃত ব্যক্তিকে এমন অবস্থায় আনা হবে যে, সে তার হত্যাকারীকে আঁকড়ে ধরে বলবে, হে আমার প্রভু! তাকে জিজ্ঞাসা করুন, কি অপরাধে সে আমাকে হত্যা করেছে?” আল্লাহর কসম, আল্লাহ এই আয়াত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর নাযিল করেছেন এবং তিনি নাযিল করার পর এই আয়াত রহিত করেননি। তোমার প্রতি আফসোস! সে কিভাবে সঠিক পথের অনুসরণ করবে?
وَمَن يَقۡتُلۡ مُؤۡمِنٗا مُّتَعَمِّدٗا فَجَزَآؤُهُۥ جَهَنَّمُ خَٰلِدٗا فِيهَا وَغَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِ وَلَعَنَهُۥ وَأَعَدَّ لَهُۥ عَذَابًا عَظِيمٗا٩٣
যে কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে একজন বিশ্বাসীকে হত্যা করে, তবে তার প্রতিদান হচ্ছে দোযখ। এ দোযখের মধ্যে সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার উপরে ক্রুদ্ধ হবেন ও তাকে অভিশাপ করবেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত করবেন। [৪ : ৯৩]
ফায়দা: এটি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর অভিমত, জাহমুরের উম্মত একমত যে, খুনি যদি তাওবা করার পর ঈমান ও সৎকাজ দ্বারা সুশোভিত হয়, তাহলে তার তওবা কবুল হয়। বান্দার হক আদায় বা শাস্তির পরেও কালেমার বরকতে সে কোন না কোন সময় জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাবে। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৩৫]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَحْيَى أَبِي عُمَرَ قَالَ ذَكَرُوا النَّبِيذَ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُنْبَذُ لَهُ فِي السِّقَاءِ قَالَ شُعْبَةُ مِثْلَ لَيْلَةِ الِاثْنَيْنِ فَيَشْرَبُهُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالثُّلَاثَاءِ إِلَى الْعَصْرِ فَإِنْ فَضَلَ مِنْهُ شَيْءٌ سَقَاهُ الْخُدَّامَ أَوْ صَبَّهُ قَالَ شُعْبَةُ وَلَا أَحْسِبُهُ إِلَّا قَالَ وَيَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ إِلَى الْعَصْرِ فَإِنْ فَضَلَ مِنْهُ شَيْءٌ سَقَاهُ الْخُدَّامَ أَوْ صَبَّهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্যে একটি চামড়ার মশকে সোমবারের আগের রাতে খেজুর ভিজিয়ে নাবীজ তৈরি করে রাখা হতো। তিনি সোমবার ও মঙ্গলবার আছর পর্যন্ত তা পান করতেন। বর্ণনাকারী বলেছেন, এবং আমি মনে করি, তিনি বুধবার আছর পর্যন্তও বলেছেন। অতঃপর বুধবার আছরের সময় হলে নাবীজের কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকলে তিনি তা চাকরদের দিতেন বা ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ : ২০৩৬]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ وَعَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رَفَعَهُ أَحَدُهُمَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ جِبْرِيلَ كَانَ يَدُسُّ فِي فَمِ فِرْعَوْنَ الطِّينَ مَخَافَةَ أَنْ يَقُولَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছে, “ফেরাউন যখন ডুবে যাচ্ছিলো, তখন হজরত জিব্রাইল (আঃ) তার মুখে কাদা ভরতে লাগলেন, এই ভয়ে যে, হয়তো সে (শাস্তি থেকে বাঁচতে) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে ফেলবে।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৩৭]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ فِي السَّلَفِ فِي حَبَلِ الْحَبَلَةِ رِبًا
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “গর্ভবতী পশুর জরায়ুতে যা আছে, তার সন্তানকে অগ্রিম অর্থ দিয়ে বিক্রি করা বা ঋণে বিক্রি করা হলো সুদের অন্তর্ভুক্ত।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৩৮]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ حَبِيبٍ يَعْنِي ابْنَ الشَّهِيدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ شَهِدْتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ وَابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ لِابْنِ عَبَّاسٍ أَتَذْكُرُ حِينَ اسْتَقْبَلْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ جَاءَ مِنْ سَفَرٍ فَقَالَ نَعَمْ فَحَمَلَنِي وَفُلَانًا غُلَامًا مِنْ بَنِي هَاشِمٍ وَتَرَكَكَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, “তোমার কি মনে আছে যে একবার আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে দেখা করেছিলাম, যখন তিনি কোনো এক সফর থেকে ফিরে এসেছিলেন?” হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “হ্যাঁ! তিনি আমাকে এবং বনু হাশিমের একটি ছেলেকে তাঁর সওয়ারীর উপর নিলেন এবং আপনাকে রেখে গেলেন।” [মুসনাদে আহমাদ : ২০৩৯]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُ عَلَيْكُمْ رَجُلٌ يَنْظُرُ بِعَيْنِ شَيْطَانٍ أَوْ بِعَيْنَيْ شَيْطَانٍ قَالَ فَدَخَلَ رَجُلٌ أَزْرَقُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ عَلَامَ سَبَبْتَنِي أَوْ شَتَمْتَنِي أَوْ نَحْوَ هَذَا قَالَ وَجَعَلَ يَحْلِفُ قَالَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي الْمُجَادَلَةِ وَيَحْلِفُونَ عَلَى الْكَذِبِ وَهُمْ يَعْلَمُونَ وَالْآيَةُ الْأُخْرَى
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ
একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমাদের কাছে এমন এক ব্যক্তি আসবে যে শয়তানের দুই চোখ দিয়ে দেখে।” কিছুক্ষণ পর নীলবর্ণের এক ব্যক্তি এসে বললো, “হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কেনো আমাকে গালি দিলেন বা আপনি কেনো আমাকে অপমান করলেন?” সে শপথ করে ঐ কথাগুলো বলতে লাগলো, তখন এই ঝগড়ার ব্যাপারে এই আয়াত নাযিল হলো,
۞أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ تَوَلَّوۡاْ قَوۡمًا غَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِم مَّا هُم مِّنكُمۡ وَلَا مِنۡهُمۡ وَيَحۡلِفُونَ عَلَى ٱلۡكَذِبِ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ١٤
আপনি কি দ্বিমুখীদের প্রতি লক্ষ্য করেননি, যারা এমন এক জাতির সাথে বন্ধুত্ব করে, যে ইহুদীদের উপরে আল্লাহ রাগান্নিত হয়েছেন? দ্বিমুখীরা তোমাদের মুসলমানদের দলভুক্ত নয় আর ঐ ইহুদীদেরও দলভূক্ত নয়। আর তারা জেনে-শুনে মিথ্যা বিষয়ের উপর শপথ করে। [৫৮ : ১৪] [মুসনাদে আহমাদ : ২০৪০]
হাদিসের মান : সহিহ হাদিস