(১) হযরত সিদ্দিক আকবর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা [হাদিসের সীমা (১-৭৭), সর্বমোট হাদিসঃ ৭৭টি]

[মোট হাদিসঃ ১৭টি] [অবশিষ্ট হাদিসঃ ১৭টি]



61 OK

(৬১)

হাদিস দেখুন [৩১:৫৬] view_link


যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا نَافِعٌ يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ قِيلَ لِأَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَا خَلِيفَةَ اللَّهِ فَقَالَ أَنَا خَلِيفَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا رَاضٍ بِهِ وَأَنَا رَاضٍ بِهِ وَأَنَا رَاضٍ


ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণিতঃ

আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলা হলো, হে আল্লাহর খলীফা! আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলীফা এবং আমি এতেই সন্তুষ্ট। [মুসনাদে আহমাদ : ৬১]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



62 OK

(৬২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُؤَمَّلِ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ كَانَ رُبَّمَا سَقَطَ الْخِطَامُ مِنْ يَدِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ فَيَضْرِبُ بِذِرَاعِ نَاقَتِهِ فَيُنِيخُهَا فَيَأْخُذُهُ قَالَ فَقَالُوا لَهُ أَفَلَا أَمَرْتَنَا نُنَاوِلُكَهُ فَقَالَ إِنَّ حَبِيبِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَنِي أَنْ لَا أَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا


ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণিতঃ

কখনো কখনো আবু বাকর আস্ সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাত থেকে লাগাম পড়ে যেত। তখন তিনি তাঁর উটনীর উরুতে আঘাত করতেন, আঘাত করে উটনীকে মাটিতে বসাতেন, তারপর লাগামটি তুলে নিতেন। একবার লোকেরা তাকে বললোঃ আপনি আমাদেরকে আদেশ করলেই তো পারতেন, আমরা আপনাকে লাগাম তুলে দিতাম। তিনি জবাব দিলেনঃ আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করেছেন যেন, মানুষের কাছে কিছু না চাই। [মুসনাদে আহমাদ : ৬২]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



63 OK

(৬৩)

হাদিস দেখুন [৩১:৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ عَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ عَنْ أَوْسَطَ قَالَ خَطَبَنَا أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامِي هَذَا عَامَ الْأَوَّلِ وَبَكَى أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ سَلُوا اللَّهَ الْمُعَافَاةَ أَوْ قَالَ الْعَافِيَةَ فَلَمْ يُؤْتَ أَحَدٌ قَطُّ بَعْدَ الْيَقِينِ أَفْضَلَ مِنْ الْعَافِيَةِ أَوْ الْمُعَافَاةِ عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّهُ مَعَ الْبِرِّ وَهُمَا فِي الْجَنَّةِ وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّهُ مَعَ الْفُجُورِ وَهُمَا فِي النَّارِ وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَلَا تَقَاطَعُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَكُونُوا إِخْوَانًا كَمَا أَمَرَكُمْ اللَّهُ تَعَالَى


আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

একবার আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর ভাষণে বলেন: গত বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার এই জায়গায় দাঁড়িয়ে নামায পড়িয়েছিলেন। এ কথা বলে আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কাঁদতে লাগলেন। তারপর বললেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট সুস্থতা কামনা কর। কেননা ইয়াকীনের (দৃঢ় বিশ্বাস বা মজবুত ঈমান) পর কেউ সুস্থতার চেয়ে উত্তম কোন জিনিস প্রাপ্ত হয়নি। (অর্থাৎ ঈমানের পর সুস্থতা আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত।) তোমরা সত্যবাদিতাকে আঁকড়ে ধর। কেননা তা পুণ্যের সাথে যুক্ত। এই দুটোই জান্নাতে যাওয়ার উপকরণ। তোমরা মিথ্যাচার থেকে সাবধান থাক। কেননা মিথ্যাচার পাপাচারের অন্তর্ভুক্ত। এই দুটোই জাহান্নামে যাওয়ার উপকরণ। তোমরা পরস্পরে হিংসা করো না, বিদ্বেষ পোষণ করো না, সম্পর্কচ্ছেদ করো না। একে অন্যের পেছনে লেগো না। বরঞ্চ আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক ভাই ভাই হয়ে থাক। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



64 OK

(৬৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى قَالَ فَلَمَّا كَانَتْ الرِّدَّةُ قَالَ عُمَرُ لِأَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تُقَاتِلُهُمْ وَقَدْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَاللَّهِ لَا أُفَرِّقُ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَلَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَهُمَا قَالَ فَقَاتَلْنَا مَعَهُ فَرَأَيْنَا ذَلِكَ رَشَدًا


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ যতক্ষণ আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই বলে ঘোষণা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে লড়াই চালিয়ে যেতে আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে। যখন তারা এ ঘোষণা করবে, তখন তারা আমার কাছ থেকে তাদের ধন ও প্রাণ রক্ষা করতে পারবে। তবে কোন বিশেষ কারণে ধন ও প্রাণে কারো প্রাপ্য থাকলে সে কথা স্বতন্ত্র। তাদের হিসাব নিকাশ নেয়ার দায়িত্ব একমাত্র আল্লাহর। পরবর্তীকালে যখন ইসলাম পরিত্যাগের হিড়িক পড়লো (এবং কিছু লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করলো, আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন) তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বললেনঃ আপনি ওদের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন, অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ এরূপ বলতে শুনেছি।

(উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরোক্ত উক্তির বরাত দিয়ে বলতে চাইছিলেন যে, লোকেরা এখনো ইসলামকে পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে উদ্যত হয়নি, কেবল কিছু লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেমাত্র। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখিত উক্তির আলোকে এখনই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় সমাগত হয়নি। -অনুবাদক) আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবো না। (অর্থাৎ নামাযের মত যাকাত ত্যাগ করাও ইসলাম ত্যাগের সমার্থক) যারা এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য করবে, আমি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর আমরা আবু বকরের সাথে (যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ করেছি এবং এটিকে সঠিক মনে করেছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৪]


[বুখারী-৬৯২৪, মুসলিম-২০]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



65 OK
View Quran

(৬৫)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ قَالَ أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي زُهَيْرٍ قَالَ أُخْبِرْتُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ الصَّلَاحُ بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ لَيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلَا أَمَانِيِّ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ فَكُلَّ سُوءٍ عَمِلْنَا جُزِينَا بِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ أَلَسْتَ تَمْرَضُ أَلَسْتَ تَنْصَبُ أَلَسْتَ تَحْزَنُ أَلَسْتَ تُصِيبُكَ اللَّأْوَاءُ قَالَ بَلَى قَالَ فَهُوَ مَا تُجْزَوْنَ بِهِ


আবু বাকর বিন আবু যুহাইর থেকে বর্ণিতঃ

আমি জানতে পেরেছি যে, আবু বাকর আস সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহ তো বলেছেনঃ “তোমাদের এবং আহলে কিতাবদের লম্বা লম্বা আশা আকাঙ্ক্ষা কোন কাজে আসবে না। যে-ই খারাপ কাজ করবে, সে-ই তার প্রতিফল ভোগ করবে।” (সূরা আন নিসা-১২৩) এ আয়াতের পর আর আত্মশুদ্ধির উপায় কী থাকে? এ দ্বারা তো বুঝা যায়, যে কোন খারাপ কাজই আমরা করবো, তার শাস্তি আমাদের ভোগ করতেই হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবু বাকর, আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। আচ্ছা, তোমার কি কখনো রোগ-ব্যাধি হয় না? তুমি কি কখনো দুঃখ কষ্ট ভোগ কর না? তুমি কি কখনো দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগে আক্রান্ত হওনা? তুমি কি কখনো পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হও না? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটাইতো সেই কর্মফল, যা তোমাদেরকে দেয়া হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৫]


[ ইবনু হিব্বান-২৮৯৯, আল হাকেম-৩/৭৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



66 OK

(৬৬)

হাদিস দেখুন [৩১:৬৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ قَالَ أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي زُهَيْرٍ قَالَ أُخْبِرْتُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ الصَّلَاحُ بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ لَيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلَا أَمَانِيِّ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ فَكُلَّ سُوءٍ عَمِلْنَا جُزِينَا بِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ أَلَسْتَ تَمْرَضُ أَلَسْتَ تَنْصَبُ أَلَسْتَ تَحْزَنُ أَلَسْتَ تُصِيبُكَ اللَّأْوَاءُ قَالَ بَلَى قَالَ فَهُوَ مَا تُجْزَوْنَ بِهِ


আবু বাকর বিন আবু যুহাইর থেকে বর্ণিতঃ

আমি জানতে পেরেছি যে, আবু বাকর আস সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহ তো বলেছেনঃ “তোমাদের এবং আহলে কিতাবদের লম্বা লম্বা আশা আকাঙ্ক্ষা কোন কাজে আসবে না। যে-ই খারাপ কাজ করবে, সে-ই তার প্রতিফল ভোগ করবে।” (সূরা আন নিসা-১২৩) এ আয়াতের পর আর আত্মশুদ্ধির উপায় কী থাকে? এ দ্বারা তো বুঝা যায়, যে কোন খারাপ কাজই আমরা করবো, তার শাস্তি আমাদের ভোগ করতেই হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবু বাকর, আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। আচ্ছা, তোমার কি কখনো রোগ-ব্যাধি হয় না? তুমি কি কখনো দুঃখ কষ্ট ভোগ কর না? তুমি কি কখনো দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগে আক্রান্ত হওনা? তুমি কি কখনো পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হও না? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটাইতো সেই কর্মফল, যা তোমাদেরকে দেয়া হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৬]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



67 OK

(৬৭)

হাদিস দেখুন [৩১:৬৫] view_link


সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ قَالَ أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي زُهَيْرٍ قَالَ أُخْبِرْتُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ الصَّلَاحُ بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ لَيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلَا أَمَانِيِّ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ فَكُلَّ سُوءٍ عَمِلْنَا جُزِينَا بِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ يَا أَبَا بَكْرٍ أَلَسْتَ تَمْرَضُ أَلَسْتَ تَنْصَبُ أَلَسْتَ تَحْزَنُ أَلَسْتَ تُصِيبُكَ اللَّأْوَاءُ قَالَ بَلَى قَالَ فَهُوَ مَا تُجْزَوْنَ بِهِ


আবু বাকর বিন আবু যুহাইর থেকে বর্ণিতঃ

আমি জানতে পেরেছি যে, আবু বাকর আস সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহ তো বলেছেনঃ “তোমাদের এবং আহলে কিতাবদের লম্বা লম্বা আশা আকাঙ্ক্ষা কোন কাজে আসবে না। যে-ই খারাপ কাজ করবে, সে-ই তার প্রতিফল ভোগ করবে।” (সূরা আন নিসা-১২৩) এ আয়াতের পর আর আত্মশুদ্ধির উপায় কী থাকে? এ দ্বারা তো বুঝা যায়, যে কোন খারাপ কাজই আমরা করবো, তার শাস্তি আমাদের ভোগ করতেই হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবু বাকর, আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। আচ্ছা, তোমার কি কখনো রোগ-ব্যাধি হয় না? তুমি কি কখনো দুঃখ কষ্ট ভোগ কর না? তুমি কি কখনো দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগে আক্রান্ত হওনা? তুমি কি কখনো পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হও না? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওটাইতো সেই কর্মফল, যা তোমাদেরকে দেয়া হয়। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৭]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



68 OK

(৬৮)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ أَخَذْتُ هَذَا الْكِتَابَ مِنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ كَتَبَ لَهُمْ إِنَّ هَذِهِ فَرَائِضُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَنْ سُئِلَهَا مِنْ الْمُسْلِمِينَ عَلَى وَجْهِهَا فَلْيُعْطِهَا وَمَنْ سُئِلَ فَوْقَ ذَلِكَ فَلَا يُعْطِهِ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ مِنْ الْإِبِلِ فَفِي كُلِّ خَمْسِ ذَوْدٍ شَاةٌ فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ فَفِيهَا ابْنَةُ مَخَاضٍ إِلَى خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ فَإِنْ لَمْ تَكُنِ ابْنَةُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَثَلَاثِينَ فَفِيهَا ابْنَةُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْفَحْلِ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَسِتِّينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتَّةً وَسَبْعِينَ فَفِيهَا بِنْتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْفَحْلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ فَإِذَا تَبَايَنَ أَسْنَانُ الْإِبِلِ فِي فَرَائِضِ الصَّدَقَاتِ فَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنْ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلَّا جَذَعَةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ وَعِنْدَهُ بِنْتُ لَبُونٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنْ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلَّا حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ ابْنَةُ لَبُونٍ وَعِنْدَهُ ابْنَةُ مَخَاضٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنْ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ صَدَقَتُهُ بِنْتَ مَخَاضٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلَّا ابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِنَّهُ يُقْبَلُ مِنْهُ وَلَيْسَ مَعَهُ شَيْءٌ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ إِلَّا أَرْبَعٌ مِنْ الْإِبِلِ فَلَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي صَدَقَةِ الْغَنَمِ فِي سَائِمَتِهَا إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ فَفِيهَا شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ زَادَتْ فَفِيهَا شَاتَانِ إِلَى مِائَتَيْنِ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةٌ فَفِيهَا ثَلَاثُ شِيَاهٍ إِلَى ثَلَاثِ مِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ فَفِي كُلِّ مِائَةٍ شَاةٌ وَلَا تُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلَا ذَاتُ عَوَارٍ وَلَا تَيْسٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ الْمُصَدِّقُ وَلَا يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلَا يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ وَإِذَا كَانَتْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ نَاقِصَةً مِنْ أَرْبَعِينَ شَاةً وَاحِدَةً فَلَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي الرِّقَةِ رُبْعُ الْعُشْرِ فَإِذَا لَمْ يَكُنْ الْمَالُ إِلَّا تِسْعِينَ وَمِائَةَ دِرْهَمٍ فَلَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا


আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের জন্য লেখেনঃ এগুলো হচ্ছে ফরয সাদাকা, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের ওপর ফারয করেছেন, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তা’আলা এর জন্য আদেশ দিয়েছেন। যে ব্যক্তি মুসলিমদের কাছ থেকে এগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণে চাইবে, তাকে যেন তা দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি চাইবে, তাকে যেন না দেয়া হয়। পঁচিশটির কম উটে যাকাতের হার এরূপ, প্রত্যেক পাঁচটি চরণশীল উটে দিতে হবে একটি ছাগল। যখন উটের সংখ্যা ২৫-এ পৌছবে, তখন একটি বিনতুল মাখায (এক বছর বয়স্কা উটনী) দিতে হবে ৩৫টি পর্যন্ত। বিনতুল মাখায না থাকলে একটি ইবনুল লাবুন (দু’বছর বয়স্ক পুরুষ উট) দিতে হবে। যখন ৩৬-এ পৌছবে, তখন ৪৫ পর্যন্ত একটি বিনতে লাবুন (দু’বছর বয়স্কা উটনী) দিতে হবে। যখন ৪৬-এ পৌছবে, ৪৬ থেকে ৬০ পর্যন্ত দিতে হবে একটি হিক্কা অর্থাৎ গর্ভধারণের যোগ্য তিন বছর পূর্ণ হওয়া উটনী। যখন উটের সংখ্যা ৬১ তে পৌছবে। তখন ৬১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত দিতে হবে একটি জাযা’য়া তথা চার বছর পূর্ণ হওয়া উটনী। যখন উটের সংখ্যা ৭৬ হবে, তখন ৯০ পর্যন্ত দু’বছর পূর্ণ হওয়া দুটি উটনী (বিনতে লাবুন) দিতে হবে। যখন ৯১ তে পৌছবে, তখন ১২০ পর্যন্ত দিতে হবে দুটো হিক্কা। ১২০ এর ওপরে প্রত্যেক ৪০ টিতে একটি করে বিনতে লাবুন এবং প্রত্যেক ৫০ টিতে একটি করে হিক্কা দিতে হবে।

সাদাকার ফরয হওয়া অংশ দিতে গিয়ে যখন উটের বয়সে গরমিল পাওয়া যায়, তখন জাযা’য়া ফরয হওয়া সত্ত্বেও যদি জাযা’য়া না থাকে এবং হিক্কা থাকে, তাহলে হিক্কাই গ্রহণ করা হবে, তবে সেই সাথে সম্ভব হলে দুটো ছাগল অথবা বিশ দিরহাম দিতে হবে। আর যার ওপর হিক্কা ফরয হয়, কিন্তু তার কাছে হিক্কা নেই, জাযা’য়া আছে, তার কাছ থেকে জাযা’য়াই গ্রহণ করা হবে এবং সাদাকা আদায়কারী তাকে ২০ দিরহাম অথবা দুটো ছাগল দেবে। আর যার ওপর হিক্কা ফরয হয় কিন্তু তার কাছে হিক্কা নেই, বিনতে লাবুন আছে,তার কাছ থেকে বিনতে লাবুন গ্রহণ করা হবে। তবে সেই সাথে সম্ভব হলে দুটো ছাগল কিংবা বিশ দিরহাম দিতে হবে। আর যার ওপর বিনতে লাবুন ফরয হবে, কিন্তু তার কাছে হিক্কা ছাড়া কিছু নেই। তার কাছ থেকে হিক্কা গ্রহণ করা হবে, তবে সাদাকা আদায়কারী তাকে বিশ দিরহাম অথবা দুটো ছাগল দেবে। আর যার ওপর একটি বিনতে লাবুন ফরয হবে, কিন্তু তার কাছে বিনতে লাবুন নেই, বিনতে মাখায (এক বছর পূর্ণ হওয়া উটনী) আছে, তার কাছ থেকে বিনতে মাখায গ্রহণ করা হবে, তবে সে সেই সাথে সম্ভব হলে দুটো ছাগল অথবা বিশ দিরহাম দেবে। আর যার ওপর একটা বিনতে মাখায ফারয হয়, কিন্তু তার কাছে একটা পুরুষ ইবনে লাবুন ছাড়া কিছু নেই, তার কাছ থেকে ইবনে লাবুন গ্রহণ করা হবে এবং তার সাথে আর কিছু দিতে হবে না। আর যার কাছে মাত্র চারটি উট আছে, তার ওপর কোন যাকাত ফরয নয়। তবে তার মালিক ইচ্ছে করলে কিছু দিতে পারে।

ছাগলের যাকাত শুধু বিচরণরত ছাগলের ওপরই প্রযোজ্য। বিচরণরত ছাগলের সংখ্যা চল্লিশ হলে ১২০ পর্যন্ত একটা ছাগল দিতে হবে। এর চেয়ে বেশি হলে ২০০ পর্যন্ত দুটো ছাগল দিতে হবে। এর ওপর একটা বেশি হলেও তিনশো পর্যন্ত তিনটে ছাগল দিতে হবে। আরো বেশি হলে প্রত্যেক একশোতে একটি করে ছাগল দিতে হবে। অত্যধিক বুড়ো ও দৈহিক ত্রুটিযুক্ত ছাগল ও পাঠা গ্রহণ করা হবে না।

তবে আদায়কারী যদি নিতে চায়, তবে নিতে পারে। যাকাত দেয়ার ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশুকে একত্র করা বা একত্রিত পশুকে বিচ্ছিন্ন করা চলবে না। আর যে পশু দুই শরীকের মালিকানাধীন হবে, সে পশুর যাকাত উভয় শরীক সমানভাবে পরস্পরের মধ্যে ধার্য করবে। আর যখন কোন ব্যক্তির বিচরণশীল ছাগল চল্লিশটির চেয়ে একটি কম হবে, তখন তাতে কোন যাকাত দিতে হবে না। তবে ছাগলের মালিক ইচ্ছা করলে কিছু (নফল সাদাকা হিসাবে) দিতে পারবে।

রূপার মধ্যে চল্লিশ ভাগের এক ভাগ দিতে হয়। যদি রূপা একশো নব্বই দিরহামের বেশি না হয়, তাহলে তাতে কোন যাকাত দিতে হবেনা। তবে যদি মালিক ইচ্ছা করে (নফল হিসাবে) কিছু দিতে পারে। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৮]


[বুখারী, ইবনে খুযাইমা, ইবনু হিব্বান]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



69 OK

(৬৯)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ أَهْلُ مَكَّةَ يَقُولُونَ أَخَذَ ابْنُ جُرَيْجٍ الصَّلَاةَ مِنْ عَطَاءٍ وَأَخَذَهَا عَطَاءٌ مِنْ ابْنِ الزُّبَيْرِ وَأَخَذَهَا ابْنُ الزُّبَيْرِ مِنْ أَبِي بَكْرٍ وَأَخَذَهَا أَبُو بَكْرٍ مِنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَحْسَنَ صَلَاةً مِنْ ابْنِ جُرَيْجٍ


আবদুর রাযযাক থেকে বর্ণিতঃ

ইবনে জুরাইজ নামায শিখেছেন আতা থেকে, আতা শিখেছেন ইবনে যুবাইর থেকে, ইবনে যুবাইর শিখেছেন আবু বাকর থেকে আর আবু বাকর শিখেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। ইবনে জুরাইজের চেয়ে উত্তম নামায আদায়কারী আর কাউকে আমি দেখিনি। [মুসনাদে আহমাদ : ৬৯]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



70 OK

(৭০)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ قَالَ تَأَيَّمَتْ حَفْصَةُ بِنْتُ عُمَرَ مِنْ خُنَيْسٍ أَوْ حُذَيْفَةَ بْنِ حُذَافَةَ شَكَّ عَبْدُ الرَّزَّاقِ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا فَتُوُفِّيَ بِالْمَدِينَةِ قَالَ فَلَقِيتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ حَفْصَةَ فَقُلْتُ إِنْ شِئْتَ أَنْكَحْتُكَ حَفْصَةَ قَالَ سَأَنْظُرُ فِي ذَلِكَ فَلَبِثْتُ لَيَالِيَ فَلَقِيَنِي فَقَالَ مَا أُرِيدُ أَنْ أَتَزَوَّجَ يَوْمِي هَذَا قَالَ عُمَرُ فَلَقِيتُ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقُلْتُ إِنْ شِئْتَ أَنْكَحْتُكَ حَفْصَةَ ابْنَةَ عُمَرَ فَلَمْ يَرْجِعْ إِلَيَّ شَيْئًا فَكُنْتُ أَوْجَدَ عَلَيْهِ مِنِّي عَلَى عُثْمَانَ فَلَبِثْتُ لَيَالِيَ فَخَطَبَهَا إِلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنْكَحْتُهَا إِيَّاهُ فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ لَعَلَّكَ وَجَدْتَ عَلَيَّ حِينَ عَرَضْتَ عَلَيَّ حَفْصَةَ فَلَمْ أَرْجِعْ إِلَيْكَ شَيْئًا قَالَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرْجِعَ إِلَيْكَ شَيْئًا حِينَ عَرَضْتَهَا عَلَيَّ إِلَّا أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُهَا وَلَمْ أَكُنْ لِأُفْشِيَ سِرَّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَوْ تَرَكَهَا لَنَكَحْتُهَا


উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

হাফসা বিনতে উমার, হুযাফা বা হুযাইফার ছেলে খুনাইস থেকে বিধবা হয়। খুনাইস রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী ও বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী ছিলেন। তিনি মদীনায় মারা যান। এরপর আমি উসমান বিন আফফানের সাথে দেখা করলাম এবং তার কাছে হাফসাকে পেশ করলাম। আমি বললাম, “আপনি চাইলে আমি আপনার সাথে হাফসার বিয়ে দেই।” উসমান বললেন, “এ বিষয়ে ভেবে দেখবো।” এরপর বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করলাম। তারপর তিনি আমার সাথে দেখা করলেন ও বললেন, “এখন আমি বিয়ে করতে ইচ্ছুক নই।” এরপর আমি আবু বাকরের সাথে দেখা করলাম। তাঁকে বললাম, “আপনি যদি ইচ্ছা করেন, হাফসা বিনতে উমারকে আপনার সাথে বিয়ে দেই।” তিনি আমাকে কোন জবাবই দিলেন না। এতে তার ওপর আমার উসমানের চেয়ে বেশি রাগ হলো। এরপর বেশ কিছু দিন অপেক্ষা করলাম। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নিকট হাফসাকে বিয়ে করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে প্রস্তাব পাঠালেন। ফলে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে হাফসাকে বিয়ে দিলাম। এরপর আবু বাকর আমার সাথে দেখা করে বললেন, “আপনি আমাকে হাফসার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি আপনাকে কোনো জবাব দেইনি। এতে আপনি হয়তো আমার ওপর রাগ করেছেন।” আমি বললাম, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “আপনি যখন আমার কাছে তার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তখন তার জবাব দিতে না পারার একমাত্র কারণ ছিলো এই যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হাফসার কথা বলতে শুনেছি। কিন্তু আমি রাসূলের গোপনীয়তা ফাঁস করতে প্রস্তুত ছিলাম না। তিনি যদি তাকে বিয়ে না করতেন, তাহলে আমি বিয়ে করতাম।” [মুসনাদে আহমাদ : ৭০]


[বুখারী, ইবনু হিব্বান]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



71 OK

(৭১)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ مُسْلِمٍ أَبَا سَلَمَةَ عَنْ فَرْقَدٍ السَّبَخِيِّ عَنْ مُرَّةَ الطَّيِّبِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ سَيِّئُ الْمَلَكَةِ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ أَخْبَرْتَنَا أَنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ أَكْثَرُ الْأُمَمِ مَمْلُوكِينَ وَأَيْتَامًا قَالَ بَلَى فَأَكْرِمُوهُمْ كَرَامَةَ أَوْلَادِكُمْ وَأَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ قَالُوا فَمَا يَنْفَعُنَا فِي الدُّنْيَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَرَسٌ صَالِحٌ تَرْتَبِطُهُ تُقَاتِلُ عَلَيْهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَمْلُوكٌ يَكْفِيكَ فَإِذَا صَلَّى فَهُوَ أَخُوكَ


আবু বাকর আস সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুর্ব্যবহারকারী জান্নাতে যাবে না। এক ব্যক্তি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি কি আমাদেরকে বলেননি যে, এই উম্মাতে দাসদাসী ও ইয়াতীমের সংখ্যা অন্যান্য উম্মাতের চেয়ে বেশি হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, সুতরাং তোমরা তাদেরকে তোমাদের সন্তানদের মত সম্মান দাও এবং তোমরা যা খাও, তা তাদেরকে খাওয়াও। লোকেরা বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, দুনিয়ার জীবনে কী কী জিনিস আমাদের উপকার সাধন করে? তিনি বললেন, উত্তম একটি ঘোড়া, যাকে তুমি বেঁধে রাখবে এবং তার ওপর আরোহণ করে আল্লাহর পথে লড়াই করবে এবং একজন দাস বা চাকর, যে তোমার যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ ও তোমার রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এই দাস বা চাকর নামায পড়লে তোমার ভাই, নামায পড়লে তোমার ভাই। [মুসনাদে আহমাদ : ৭১]


[ইবনু মাজাহ]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



72 OK

(৭২)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ قَالَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ السَّبَّاقِ قَالَ أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَرْسَلَ إِلَيْهِ مَقْتَلَ أَهْلِ الْيَمَامَةِ فَإِذَا عُمَرُ عِنْدَهُ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ عُمَرَ أَتَانِي فَقَالَ إِنَّ الْقَتْلَ قَدْ اسْتَحَرَّ بِأَهْلِ الْيَمَامَةِ مِنْ قُرَّاءِ الْقُرْآنِ مِنْ الْمُسْلِمِينَ وَأَنَا أَخْشَى أَنْ يَسْتَحِرَّ الْقَتْلُ بِالْقُرَّاءِ فِي الْمَوَاطِنِ فَيَذْهَبَ قُرْآنٌ كَثِيرٌ لَا يُوعَى وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَأْمُرَ بِجَمْعِ الْقُرْآنِ فَقُلْتُ لِعُمَرَ وَكَيْفَ أَفْعَلُ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ هُوَ وَاللَّهِ خَيْرٌ فَلَمْ يَزَلْ يُرَاجِعُنِي فِي ذَلِكَ حَتَّى شَرَحَ اللَّهُ بِذَلِكَ صَدْرِي وَرَأَيْتُ فِيهِ الَّذِي رَأَى عُمَرُ قَالَ زَيْدٌ وَعُمَرُ عِنْدَهُ جَالِسٌ لَا يَتَكَلَّمُ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّكَ شَابٌّ عَاقِلٌ لَا نَتَّهِمُكَ وَقَدْ كُنْتَ تَكْتُبُ الْوَحْيَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاجْمَعْهُ قَالَ زَيْدٌ فَوَاللَّهِ لَوْ كَلَّفُونِي نَقْلَ جَبَلٍ مِنْ الْجِبَالِ مَا كَانَ بِأَثْقَلَ عَلَيَّ مِمَّا أَمَرَنِي بِهِ مِنْ جَمْعِ الْقُرْآنِ فَقُلْتُ كَيْفَ تَفْعَلُونَ شَيْئًا لَمْ يَفْعَلْهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ


যায়িদ বিন ছাবিত থেকে বর্ণিতঃ

আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামামার শহীদদের নিহত হওয়ার স্থানে তার নিকট দূত পাঠালেন। এর অব্যবহিত পর তাঁর নিকট উমার এলেন। তারপর আবু বাকর বললেন, আমার নিকট উমার এসেছিলেন। তিনি বলেছেন, ইয়ামামাবাসীর লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড মুসলিমদের মধ্য থেকে কুরআন পাঠকদেরকে (হাফিযদেরকে) নিপাত করেছে। আমার আশঙ্কা হয় যে, আরো বহু জায়গায় অনুরূপভাবে কুরআন পাঠকদেরকে হত্যা করা হবে। এতে করে বহু কুরআন চলে যাবে। ফলে আল কুরআন সংরক্ষিত হবে না। আমি মনে করি, আপনার আল কুরআন সংকলনের আদেশ দেয়া উচিত। আমি (আবু বাকর) উমারকে বললামঃ এমন কাজ আমি কিভাবে করবো, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি? উমার বললেনঃ আল্লাহর কসম! এটি একটি মহৎ কাজ। এরপর উমার ক্রমাগত আমার কাছে এসে এ ব্যাপারে তাকিদ দিতে লাগলেন। অবশেষে আল্লাহ এ বিষয়ে আমার বুককে উম্মুক্ত করে দিলেন (কুরআন সংকলনের যৌক্তিকতা উপলব্ধি করালেন) এবং উমার যা সমীচীন মনে করেছেন, আমিও তা সমীচীন বলে উপলব্ধি করলাম।

যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এ সময় উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কাছে নীরবে বসেছিলেন। আবু বাকর আমাকে বললেনঃ তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক। তোমার মধ্যে আমরা আপত্তিকর কিছু পাইনি। তুমি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ওহী লিপিবদ্ধ করতে। অতএব তুমিই ওহী সংকলন কর। যায়িদ বলেনঃ আল্লাহর কসম! লোকেরা যদি আমাকে একটা পাহাড় স্থানান্তর করার দায়িত্ব অর্পণ করতো, তবে তাও আমার নিকট এই কাজের চেয়ে বেশি ভারী মনে হতো না, যার আদেশ তিনি আমাকে দিলেন। অর্থাৎ আল কুরআন সংকলনের। আমি শুধু বললামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেননি, তা আপনারা কিভাবে করছেন?* [মুসনাদে আহমাদ : ৭২]


[যায়িদ এই কথাটা সম্ভবত মনে মনে বলেছিলেন। কেননা প্রকাশ্যে বললে আনুগত্যের পরিপন্থী ও গুনাহর কাজ হতো, যা একজন সাহাবীর দ্বারা সংঘটিত হওয়ার কথা নয়। এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, সাহাবীদের বা মুসলিমদের সর্বসম্মত মত (ইজমা) দ্বারা এমন কাজ করা যায় যা ভালো কাজ বলে বিবেচিত হয়। যদিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করেননি বা করার আদেশ দেননি।]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



73 OK

(৭৩)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ عَنْ عُمَيْرٍ مَوْلَى الْعَبَّاسِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ خَاصَمَ الْعَبَّاسُ عَلِيًّا فِي أَشْيَاءَ تَرَكَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ شَيْءٌ تَرَكَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يُحَرِّكْهُ فَلَا أُحَرِّكُهُ فَلَمَّا اسْتُخْلِفَ عُمَرُ اخْتَصَمَا إِلَيْهِ فَقَالَ شَيْءٌ لَمْ يُحَرِّكْهُ أَبُو بَكْرٍ فَلَسْتُ أُحَرِّكُهُ قَالَ فَلَمَّا اسْتُخْلِفَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ اخْتَصَمَا إِلَيْهِ قَالَ فَأَسْكَتَ عُثْمَانُ وَنَكَسَ رَأْسَهُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَخَشِيتُ أَنْ يَأْخُذَهُ فَضَرَبْتُ بِيَدِي بَيْنَ كَتِفَيْ الْعَبَّاسِ فَقُلْتُ يَا أَبَتِ أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ إِلَّا سَلَّمْتَهُ لِعَلِيٍّ قَالَ فَسَلَّمَهُ لَهُ


ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তিকাল করলেন এবং আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু খালীফা হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেখে যাওয়া কিছু জিনিসের ব্যাপারে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আলীর মুকাবিলায় দাবী তুললেন। (এই দাবী আবু বাকরের নিকট পেশ করা হলে) আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ যে জিনিস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেখে গেছেন এবং হস্তান্তর করেন নি, আমিও তা হস্তান্তর করবো না। এরপর যখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু খালীফা হলেন, তখন তারা উভয়ে উমারের নিকট পুনরায় একে অপরের মুকাবিলায় দাবী পেশ করলেন।

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যে জিনিস আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু হস্তান্তর করেননি, তা আমি হস্তান্তর করবো না। এরপর যখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু খালীফা হলেন, তখন তাঁরা উভয়ে তাঁর কাছে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাবী পেশ করলেন। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নিরুত্তর হয়ে গেলেন এবং মাথা নিচু করলেন। ইবনু আব্বাস বলেনঃ আমি শঙ্কিত হলাম যে, আব্বাসই হয়তো জিনিসটি নিয়ে নেবেন। আমি তৎক্ষণাত আব্বাসের ঘাড়ে হাত রাখলাম এবং বললাম, আব্বা, আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, জিনিসটি আলীর নিকট সোপর্দ করুন। তখন তিনি তা আলীর হাতে সোপর্দ করলেন। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৩]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



74 OK

(৭৪)

সহিহ হাদিস

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ قَالَ حَدَّثَنِي شَيْخٌ مِنْ قُرَيْشٍ مِنْ بَنِي تَيْمٍ قَالَ حَدَّثَنِي فُلَانٌ وَفُلَانٌ وَقَالَ فَعَدَّ سِتَّةً أَوْ سَبْعَةً كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ فِيهِمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ قَالَ بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ عُمَرَ إِذْ دَخَلَ عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَدْ ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا فَقَالَ عُمَرُ مَهْ يَا عَبَّاسُ قَدْ عَلِمْتُ مَا تَقُولُ تَقُولُ ابْنُ أَخِي وَلِي شَطْرُ الْمَالِ وَقَدْ عَلِمْتُ مَا تَقُولُ يَا عَلِيُّ تَقُولُ ابْنَتُهُ تَحْتِي وَلَهَا شَطْرُ الْمَالِ وَهَذَا مَا كَانَ فِي يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ رَأَيْنَا كَيْفَ كَانَ يَصْنَعُ فِيهِ فَوَلِيَهُ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مِنْ بَعْدِهِ فَعَمِلَ فِيهِ بِعَمَلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ وَلِيتُهُ مِنْ بَعْدِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَأَحْلِفُ بِاللَّهِ لَأَجْهَدَنَّ أَنْ أَعْمَلَ فِيهِ بِعَمَلِ رَسُولِ اللَّهِ وَعَمَلِ أَبِي بَكْرٍ ثُمَّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَحَلَفَ بِأَنَّهُ لَصَادِقٌ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ النَّبِيَّ لَا يُورَثُ وَإِنَّمَا مِيرَاثُهُ فِي فُقَرَاءِ الْمُسْلِمِينَ وَالْمَسَاكِينِ و حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَحَلَفَ بِاللَّهِ إِنَّهُ صَادِقٌ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ لَا يَمُوتُ حَتَّى يَؤُمَّهُ بَعْضُ أُمَّتِهِ وَهَذَا مَا كَانَ فِي يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ رَأَيْنَا كَيْفَ كَانَ يَصْنَعُ فِيهِ فَإِنْ شِئْتُمَا أَعْطَيْتُكُمَا لِتَعْمَلَا فِيهِ بِعَمَلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَمَلِ أَبِي بَكْرٍ حَتَّى أَدْفَعَهُ إِلَيْكُمَا قَالَ فَخَلَوَا ثُمَّ جَاءَا فَقَالَ الْعَبَّاسُ ادْفَعْهُ إِلَى عَلِيٍّ فَإِنِّي قَدْ طِبْتُ نَفْسًا بِهِ لَهُ


আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইরসহ কুরাইশের ছয় থেকে সাতজন থেকে বর্ণিতঃ

আমরা উমারের নিকট বসে ছিলাম। সহসা আলী ও আব্বাস উচ্চস্বরে কথা বলতে বলতে ঢুকলেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আব্বাস, চুপ করুন। আমি জানি, আপনি কী বলতে চান। আপনি বলতে চান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ভাইয়ের ছেলে এবং অর্ধেক সম্পত্তি প্রাপ্য। আর হে আলী, আপনি কী বলতে চান তাও আমি জানি। আপনি বলতে চান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেয়ে আমার স্ত্রী এবং অর্ধেক সম্পত্তি তার প্রাপ্য। অথচ এই সম্পত্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে ছিল। তিনি এর ব্যাপারে কী নীতি অবলম্বন করেছেন তা আমরা দেখেছি। তার পরে আবু বাকর তার তত্ত্বাবধায়ক হয়েছেন এবং তিনিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসৃত নীতি অবলম্বন করেছেন। আবু বাকরের পরে আমি এর তত্ত্বাবধায়ক হয়েছি। আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, আমি এ সবের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বাকরের অনুসৃত নীতিই অবলম্বন করবো।

তারপর বললেন, আবু বাকর আমাকে জানিয়েছেন এবং হলফ করে বলেছেন যে, তিনি সত্য জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ নবীর পরিত্যক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী কেউ হয় না। তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় শুধু দরিদ্র ও সহায়সম্বলহীন মুসলিমরা। আবু বাকর আমাকে আরো জানিয়েছেন এবং আল্লাহর নামে হলফ করে বলেছেন যে, তিনি সত্য জানিয়েছেন যে, কোন নবী ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন না, যতক্ষণ তার উম্মাতের কোন ব্যক্তি তার ইমামতি না করেন। আর এই সম্পত্তি এভাবেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিল। এতে তিনি কী নীতি অবলম্বন করেছেন তা আমরা দেখেছি। তোমরা উভয়ে চাইলে এগুলো তোমাদেরকে দিতে পারি যাতে তোমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বাকরের নীতি অনুসারে তা ব্যবহার কর যতক্ষণ তা তোমাদের কাছে রাখি। ইবনে যুবাইর বলেনঃ এরপর তারা দু’জনেই চলে গেলেন। তারপর পুনরায় এলেন। অতঃপর আব্বাস বললেন, এগুলি আলীর নিকট সমর্পণ করুন। আমি সানন্দে তাকে দেয়ার অনুমতি দিচ্ছি। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৪]


হাদিসের মান : সহিহ হাদিস



75 OK

(৭৫)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ قَالَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ فَاطِمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا جَاءَتْ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا تَطْلُبُ مِيرَاثَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَا إِنَّا سَمِعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنِّي لَا أُورَثُ


আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু বাকর ও উমারের নিকট এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে তাঁর উত্তরাধিকার দাবী করেছেন। তাঁরা দু’জনেই জবাব দিয়েছিলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আমাদের (নবীদের) উত্তরাধিকারী কেউ হয় না। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৫]


[তিরমিযী ]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস



76 OK

(৭৬)

যঈফ হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ قَالَ حَدَّثَنَا عِيسَى يَعْنِي ابْنَ الْمُسَيَّبِ عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ قَالَ إِنِّي لَجَالِسٌ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ خَلِيفَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ وَفَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَهْرٍ فَذَكَرَ قِصَّةً فَنُودِيَ فِي النَّاسِ أَنَّ الصَّلَاةَ جَامِعَةٌ وَهِيَ أَوَّلُ صَلَاةٍ فِي الْمُسْلِمِينَ نُودِيَ بِهَا إِنَّ الصَّلَاةَ جَامِعَةٌ فَاجْتَمَعَ النَّاسُ فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ شَيْئًا صُنِعَ لَهُ كَانَ يَخْطُبُ عَلَيْهِ وَهِيَ أَوَّلُ خُطْبَةٍ خَطَبَهَا فِي الْإِسْلَامِ قَالَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ وَلَوَدِدْتُ أَنَّ هَذَا كَفَانِيهِ غَيْرِي وَلَئِنْ أَخَذْتُمُونِي بِسُنَّةِ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أُطِيقُهَا إِنْ كَانَ لَمَعْصُومًا مِنْ الشَّيْطَانِ وَإِنْ كَانَ لَيَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْيُ مِنْ السَّمَاءِ


কায়েস বিন হাযেম থেকে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের এক মাস পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খালীফা আবু বাকর আস সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট বসা ছিলাম। এরপর তিনি একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। এই সময় ঘোষণা করা হলোঃ “এক্ষুণি নামাযের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে।” ওটাই ছিল প্রথম নামায, যা “এক্ষুণি নামাযের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে” এই ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হচ্ছিল। লোকেরা সমবেত হলো। আবু বাকর মিম্বরে আরোহণ করলেন- যা তার খুতবা দেয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটাই ছিল, ইসলাম আগমনের পর তাঁর দেয়া প্রথম খুতবা। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। তারপর বললেনঃ হে জনতা, আমি অবশ্যই চেয়েছিলাম যে, আমি ছাড়া অন্য কেউ এ দায়িত্ব গ্রহণ করুক। তোমরা যদি তোমাদের নবীর সুন্নাতের নিরিখে আমাকে পাকড়াও কর, তবে আমি এ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হব না। তিনি তো শয়তান থেকে সুরক্ষিত ছিলেন। তাঁর নিকট আসমান থেকে ওহী নাযিল হতো। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৬]


হাদিসের মান : যঈফ হাদিস



77 OK

(৭৭)

হাসান হাদিস

حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ لَيْثٍ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَقُولَ إِذَا أَصْبَحْتُ وَإِذَا أَمْسَيْتُ وَإِذَا أَخَذْتُ مَضْجَعِي مِنْ اللَّيْلِ اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ رَبُّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكُهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءًا أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ آخِرُ مُسْنَدِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ


আবু বাকর আস সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সকালে, সন্ধ্যায় ও রাতে ঘুমানোর পূর্বে এই দু’আ পড়ার আদেশ দিয়েছেনঃ হে আল্লাহ, আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী, আপনি প্রতিটি জিনিসের অধিপতি ও সম্রাট, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আপনি এক ও অদ্বিতীয়, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার বান্দা ও রাসূল। আমি আপনার নিকট আমার নিজের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের অনিষ্ট ও তার ফাঁদ থেকে পানাহ চাই, আমি পানাহ চাই যেন আমি নিজের কোন ক্ষতি সাধন না করি এবং অন্য কোন মুসলিমের ওপরও কোন ক্ষতি চাপিয়ে না দিই। [মুসনাদে আহমাদ : ৭৭]


হাদিসের মান : হাসান হাদিস