(৭) আপনি কি ভেবে দেখেননি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, আল্লাহ ঐ সম্পর্কে ভালো ভাবেই জানেন। তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, যেখানে আল্লাহ তাদের চতুর্থ জন হয়ে যান না। আর পাঁচ ব্যক্তিরও এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, যেখানে আল্লাহ তাদের ষষ্ঠ জন হয়ে যান না। অথবা তারা এর চেয়ে কম হোক অথবা বেশী হোক, তারা যেখানেই থাকুক না কেনো, আল্লাহ তাদের সাথে আছেন। তারপর তিনি কিয়ামতের দিনে তাদেরকে ঐ সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন, যা তারা করেছিলো। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু সম্পর্কে জানেন। (৫৮. আল মুজাদালাহ : ৭)
- ব্যাখ্যা
(৮) আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করেননি, যাদেরকে গোপন পরামর্শ করা থেকে নিষেধ করা হয়েছিলো? তারপর তারা সেই দিকেই ফিরে গিয়েছিলো, যা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিলো। তারা পাপ, শত্রুতা ও রসূলের অবাধ্যতা করার জন্যে গোপন পরামর্শ করে। যখন তারা আপনার কাছে আসে, তখন তারা আপনাকে এমন ভাবে সম্ভাষণ করে, যেভাবে আল্লাহ আপনাকে সম্ভাষণ করেননি। তারা তাদের নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে, “আমরা যা বলি, ঐ কারণে আল্লাহ আমাদেরকে শাস্তি দেন না কেনো?” দোযখই তাদের জন্যে যথেষ্ট। তারা তাতে প্রবেশ করবে। সুতরাং দোযখ কতই না নিকৃষ্ট ঠিকানা। (৫৮. আল মুজাদালাহ : ৮)
- ব্যাখ্যা
, হাদিস
(৯) ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো, তোমরা যখন গোপন পরামর্শের জন্যে কানাকানি করো, তখন তোমরা পাপ, শত্রুতা ও রসূলের অবাধ্যতা করার জন্যে গোপন পরামর্শ করো না। বরং তোমরা সৎকর্ম ও পরহেযগারীতার ব্যাপারে গোপন পরামর্শ করো। তোমরা ঐ আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। (৫৮. আল মুজাদালাহ : ৯)
- ব্যাখ্যা
(১০) কেবল মাত্র শয়তানের পক্ষ থেকেই এই গোপন পরামর্শ হয়ে থাকে; যেনো সে বিশ্বাসীদেরকে যন্ত্রণা দিতে পারে। তবে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত শয়তান বিশ্বাসীদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। কাজেই বিশ্বাসীদের উচিত আল্লাহর উপরেই ভরসা করা। (৫৮. আল মুজাদালাহ : ১০)
- ব্যাখ্যা
(১১) ওহে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেছো! যখন তোমাদেরকে বলা হয় যে, তোমরা বৈঠকের মধ্যে স্থান প্রশস্ত করে দাও, তখন তোমরা স্থান প্রশস্ত করে দিয়ো। তাহলে আল্লাহ তোমাদের জন্যে স্বীয় অনুগ্রহ প্রশস্ত করে দিবেন। আর যখন বলা হয় যে, তোমরা উঠে যাও, তখন তোমরা উঠে যেয়ো। আল্লাহ তোমাদের মধ্যে তাদের মর্যাদাকে উচ্চ করে দিবেন, যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে ও যাদেরকে কুরআনের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে। বস্তুত তোমরা যা কিছু করো, ঐ সম্পর্কে আল্লাহ অবগত আছেন। (৫৮. আল মুজাদালাহ : ১১)
- ব্যাখ্যা
, হাদিস