(১০) নিশ্চয় যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, মূলত তারা আল্লাহর কাছেই আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি শপথ ভঙ্গ করে, তাহলে নিশ্চয় সে কেবল মাত্র তার নিজের ক্ষতির জন্যেই শপথ ভঙ্গ করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, সুতরাং আল্লাহ শীঘ্রই তাকে মহা পুরস্কার দান করবেন। (৪৮. আল ফাতহ : ১০)
- ব্যাখ্যা
, হাদিস
(১১) মরুবাসীদের মধ্যে যারা হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় ঘরে বসে পিছনে থেকে গিয়েছিলো, তারা আপনাকে শীঘ্রই বলবে, “আমরা আমাদের সম্পদ ও পরিবারের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। সুতরাং আপনি আমাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।” তারা তাদের জিহবা দিয়ে এমন কথা বলে, যা তাদের অন্তরের মধ্যে নেই। আপনি বলুন, “যদি আল্লাহ তোমাদের ক্ষতি করতে অথবা উপকার করতে ইচ্ছা করেন, তবে আল্লাহর শাস্তি থেকে তোমাদেরকে রক্ষার জন্যে কে সামান্যতম ক্ষমতা রাখে? বরং তোমরা যা করো, আল্লাহ হচ্ছেন ঐ বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞাত। (৪৮. আল ফাতহ : ১১)
- ব্যাখ্যা
(১২) বরং তোমরা ধারণা করেছিলে যে, হুদায়বিয়ার প্রান্তর থেকে রসূল ও বিশ্বাসীগণ তাদের পরিবারের কাছে কখনোই ফিরে আসতে পারবে না। তোমাদের এই ধারণা তোমাদের অন্তরের মধ্যে আনন্দদায়ক ছিলো। তোমরা খুবই মন্দ ধারণা করেছিলে। বস্তুত তোমরা ছিলে ধ্বংসমুখী এক জাতি।” (৪৮. আল ফাতহ : ১২)
- ব্যাখ্যা
(১৩) যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস করে না, সুতরাং নিশ্চয় আমি সেই সব অবিশ্বাসীদের জন্যে জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি। (৪৮. আল ফাতহ : ১৩)
- ব্যাখ্যা
(১৪) নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহর জন্যেই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। বস্তুত আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাশীল, অতি দয়াময়। (৪৮. আল ফাতহ : ১৪)
- ব্যাখ্যা
(১৫) যখন তোমরা খয়বার যুদ্ধের সময় যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের জন্যে যাবে, তখন যারা ইতিপূর্বে হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় ঘরে বসে পিছনে থেকে গিয়েছিলো, তারা শীঘ্রই বলবে, “আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও, যেনো আমরা তোমাদেরকে অনুসরন করতে পারি।” তারা চায় যে, আল্লাহর বাণীকে পরিবর্তন করতে। আপনি বলুন, “তোমরা কখনোই আমাদেরকে অনুসরন করতে পারবে না। আল্লাহ ইতিপূর্বেই তোমাদের জন্যে এরূপ বলে দিয়েছেন।” তখন শীঘ্রই তারা বলবে, “বরং তোমরা আমাদের প্রতি হিংসা করছো।” বরং তারা সামান্যই বুঝে। (৪৮. আল ফাতহ : ১৫)
- ব্যাখ্যা