(২১) আপনি আদ জাতির ভাই হুদের কথা স্মরণ করুন, যখন হুদ বালুর উচ্চ উপত্যকায় অবস্থিত তাঁর জাতিকে সতর্ক করেছিলেন আর ইতিপূর্বে হুদের আগে ও পরে অনেক সতর্ককারী গত হয়েছিলো, এই বলে সতর্ক করেছিলেন যে, “তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্যে এক ভয়ঙ্কর দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি।” (৪৬. আল আহক্বাফ : ২১)
- ব্যাখ্যা
(২২) তারা বললো, “হে হুদ! তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছো যে, যেনো তুমি আমাদেরকে আমাদের উপাস্য দেবদেবী থেকে ফিরিয়ে রাখবে? সুতরাং তুমি আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাও, ঐ শাস্তি আমাদের কাছে নিয়ে এসো, যদি তুমি সত্যবাদী হও।” (৪৬. আল আহক্বাফ : ২২)
- ব্যাখ্যা
(২৩) হুদ বলেছিলেন, “ঐ শাস্তি কখন আসবে এর যথাযথ জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে। আমি যে বিষয় নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। কিন্তু আমি তো তোমাদেরকে দেখতে পাচ্ছি যে, তোমরা এক মুর্খ জাতি।” (৪৬. আল আহক্বাফ : ২৩)
- ব্যাখ্যা
(২৪) তারপর তারা যখন এক ঘন কালো মেঘ তাদের উপত্যকার অভিমুখী দেখলো, তখন তারা বললো, “এ তো এক ঘন কালো মেঘ, যা আমাদেরকে বৃষ্টি দিবে।” বরং এটা সেই শাস্তি, যা তোমরা দ্রুত চেয়েছিলে। বস্তুত এটা এমন বাতাস ছিলো, যার মধ্যে বেদনাদায়ক শাস্তি ছিলো। (৪৬. আল আহক্বাফ : ২৪)
- ব্যাখ্যা
, হাদিস
(২৫) তার প্রভুর আদেশে ঐ বাতাস সব কিছুকে ধ্বংস করে দিয়েছিলো। তারপর তারা এমন হয়ে গেলো যে, তাদের ঘরগুলো ব্যতীত আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এভাবেই আমি অপরাধী জাতিকে শাস্তি দিয়ে থাকি। (৪৬. আল আহক্বাফ : ২৫)
- ব্যাখ্যা
(২৬) আমি তাদেরকে সেই বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম, যে বিষয়ে আমি তোমাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করিনি। আমি তাদের জন্যে কান, চোখ ও হৃদয় দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের কান, চোখ ও হৃদয় কোনো ভাবেই তাদের জন্যে কোনো উপকারে আসলো না। যেহেতু তারা আল্লাহর বাণী সমূহ নিয়ে বিতর্ক করতো। আর তাদেরকে ঐ শাস্তি গ্রাস করে নিলো, যা নিয়ে তারা বিদ্রুপ করতো। (৪৬. আল আহক্বাফ : ২৬)
- ব্যাখ্যা
(২৭) আমি ঐসব জনপদ সমূহকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যারা তোমাদের আশেপাশে ছিলো। আমি আমার বাণী সমূহ তাদেরকে বার বার শুনিয়ে ছিলাম, যেনো তারা আমার কাছে ফিরে আসে। (৪৬. আল আহক্বাফ : ২৭)
- ব্যাখ্যা
(২৮) সুতরাং ঐসব উপাস্যরা কেনো তাদেরকে সাহায্য করলো না, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যাদেরকে সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলো? বরং ঐসব উপাস্যরা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলো। বস্তুত ঐসব উপাস্যরা ছিলো তাদের মিথ্যা উদ্ভাবন। (৪৬. আল আহক্বাফ : ২৮)
- ব্যাখ্যা