(১১) আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আদি স্রষ্টা। তিনি তোমাদের নিজেদের মধ্যে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। তিনি চতুষ্পদ জন্তুদের মধ্যেও জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এ পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোনো কিছুই আল্লাহর অনুরূপ নয়। তিনি সব কিছু শুনেন, সব কিছু দেখেন। (৪২. আশ শুরা : ১১)
- ব্যাখ্যা
(১২) নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের চাবি সমূহ তাঁর কাছেই রয়েছে। তিনি যার জন্যে ইচ্ছা জীবিকা বৃদ্ধি করেন এবং পরিমিত করেন। নিশ্চয় তিনি সকল বিষয়ে জ্ঞানী। (৪২. আশ শুরা : ১২)
- ব্যাখ্যা
(১৩) তিনি তোমাদের জন্যে ধর্মের মধ্যে ঐ বিধানই দিচ্ছেন, তিনি যার নির্দেশ দিয়েছিলেন নূহকে আর যা আমি আপনার কাছে ওহী করেছি আর আমি যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে, এই বলে যে, “তোমরা ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করো আর তোমরা ধর্মের মধ্যে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” আপনি অংশিবাদীদেরকে যে বিষয়ের প্রতি আহবান করছেন, তা তাদের জন্যে বড় কঠিন বিষয় মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন, তাকে নিজের জন্যে মনোনীত করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ অভিমুখী হয়, আল্লাহ তাকে নিজের দিকে পথ প্রদর্শন করেন। (৪২. আশ শুরা : ১৩)
- ব্যাখ্যা
(১৪) মানুষ তাদের কাছে সত্যের জ্ঞান আসার পরেও তারা নিজেদের মধ্যে শত্রুতার কারণে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে। যদি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে একটি শাস্তির বাণী পূর্বেই নির্ধারিত না হতো, তাহলে তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেতো। নিশ্চয় তাদের পরে যারা গ্রন্থপ্রাপ্ত হয়েছে, তারা এ শাস্তি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। (৪২. আশ শুরা : ১৪)
- ব্যাখ্যা
(১৫) সুতরাং আপনি কুরআনের প্রতিই মানুষকে আহবান করুন ও যেমন আপনাকে আদেশ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী অটল থাকুন। আপনি তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না। আপনি বলুন, “আল্লাহ যে গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন, আমি ঐ গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস করেছি। আমাকে তোমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে আদেশ করা হয়েছে। আল্লাহ হচ্ছেন আমাদের প্রভু ও তোমাদেরও প্রভু। আমাদের জন্যে আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ। আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে এখন কোনো বিতর্ক নেই। আল্লাহ আমাদেরকে একত্রিত করবেন আর তাঁর কাছেই আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।” (৪২. আশ শুরা : ১৫)
- ব্যাখ্যা