(৩০) যেভাবে অন্য নবীদেরকে পাঠানো হয়েছিলো, সেভাবেই আমি আপনাকে একটি জাতির কাছে প্রেরণ করেছি। অবশ্যই এই জাতির পূর্বে অনেক জাতি গত হয়ে গেছে। যেনো আপনি তাদের কাছে ঐ কুরআনকে পাঠ করেন, যে কুরআনকে আমি আপনার কাছে ওহী করেছি। তবুও তারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে। আপনি বলুন, “তিনিই আমার প্রভু। তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁর উপরেই ভরসা করছি আর তাঁর কাছেই আমাকে ফিরে যেতে হবে।” (১৩. আর রাদ : ৩০)
- ব্যাখ্যা
(৩১) যদি কোনো কুরআন এমন হতো যে, যার সাহায্যে পাহাড় চলমান করা যেতো, অথবা তার দ্বারা পৃথিবীকে বিদীর্ণ করা যেতো, অথবা মৃতদেরকে কথা বলানো যেতো, তবুও অবিশ্বাসীরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করতো না। বরং সব কাজ আল্লাহর হাতে ন্যাস্ত। বিশ্বাসীরা কি নিশ্চিত নয় যে, যদি আল্লাহ ইচ্ছে করতেন, তবে সব মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করতে পারতেন? অবিশ্বাসীদের কৃতকর্মের কারণে তাদের উপরে সর্বদাই বিপদ পতিত হতে থাকবে অথবা তাদের ঘরের নিকটেই বিপদ পতিত হতে থাকবে, যে পর্যন্ত না, আল্লাহর অঙ্গীকার আসে। নিশ্চয় আল্লাহ স্বীয় অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না। (১৩. আর রাদ : ৩১)
- ব্যাখ্যা
(৩২) অবশ্যই আপনার পূর্বে অনেক রসূলের সাথে ঠাট্টা করা হয়েছিলো। সুতরাং যারা আল্লাহকে অবিশ্বাস করেছিলো, তাদেরকে আমি কিছুকাল অবকাশ দিয়েছিলাম। তারপর তাদেরকে আমি পাকড়াও করেছিলাম। সুতরাং আপনি লক্ষ্য করে দেখুন যে, তাদের উপরে আমার শাস্তি কেমন হয়েছিলো! (১৩. আর রাদ : ৩২)
- ব্যাখ্যা
(৩৩) তবে কি আল্লাহ সেই একক সত্ত্বা নন, যিনি প্রত্যেক সত্ত্বার কাজকে পর্যবেক্ষণ করেন? অথচ তারা এরপরও আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে। আপনি বলুন, “তোমরা আমাকে ঐসকল অংশীদারদের নাম বলো অথবা তোমরা কি আল্লাহকে পৃথিবীর মধ্যে এমন কিছু জিনিস সম্পর্কে জানাতে চাও, যা তিনি জানেন না? অথবা তোমরা কি অসার কথাবার্তা প্রকাশ করছো?” বরং যারা আল্লাহকে অবিশ্বাস করে, তাদের জন্যে তাদের প্রতারণাকে সুশোভিত করা হয়েছে আর তাদেরকে সৎ পথ থেকে বাধা দান করা হয়েছে। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, সুতরাং তার জন্যে কোনো পথ প্রদর্শক নেই। (১৩. আর রাদ : ৩৩)
- ব্যাখ্যা
(৩৪) পার্থিব জীবনের মধ্যেই তাদের জন্যে শাস্তি রয়েছে আর পরকালের শাস্তি অবশ্যই আরো কঠোর। আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। (১৩. আর রাদ : ৩৪)
- ব্যাখ্যা