(৪৫) ঐ দুইজনের মধ্যে যে ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছিলো এবং দীর্ঘকাল পরে তার ইউসুফের কথা মনে পড়লো, সে বললো, “আমিই তোমাদেরকে এর তাৎপর্য জানিয়ে দিবো। সুতরাং তোমরা আমাকে ইউসুফের কাছে প্রেরণ করো।” (১২. ইউসূফ : ৪৫)
- ব্যাখ্যা
(৪৬) সে কারাগারে পৌঁছে বললো, “হে সত্যবাদী ইউসুফ! আমাদের জন্যে এই স্বপ্নের তাৎপর্য করে দিন যে, ‘সাতটি মোটা তাজা গরুকে সাতটি রোগা পাতলা গরু খেয়ে ফেললো। আর সাতটি সবুজ শীষকে অন্য সাতটি শুকনো শীষ খেয়ে ফেললো’। যেনো আমি লোকদের কাছে ফিরে যেতে পারি, যেনো তারা স্বপ্নের তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে পারে।” (১২. ইউসূফ : ৪৬)
- ব্যাখ্যা
(৪৭) ইউসুফ বললেন, “তোমরা সাত বছর উত্তম রূপে চাষাবাদ করবে। তারপর তোমরা যতটুকু শস্য কাটবে, ঐ শস্য থেকে সামান্য পরিমাণ শস্য তোমরা খাবে, এ ছাড়া বাকী সব শস্য তার শীষের মধ্যে জমা করে রেখে দিবে। (১২. ইউসূফ : ৪৭)
- ব্যাখ্যা
(৪৮) তারপর, এ সাত বছরের পরে আসবে কঠিন দূর্ভিক্ষের সাত বছর। তোমরা এ দিনের জন্যে যে শস্য জমা করে রেখেছিলে, ঐ শস্য থেকে অল্প পরিমাণ তোমরা তুলে রাখবে, এ ছাড়া বাকী সব শস্য তোমরা খেয়ে ফেলবে। (১২. ইউসূফ : ৪৮)
- ব্যাখ্যা
(৪৯) তারপর, এ সাত বছরের পরেই আসবে এক বছর, এ বছরের মধ্যে মানুষের উপরে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং এ বছরে তারা আঙ্গুরের রস নিংড়াবে।” (১২. ইউসূফ : ৪৯)
- ব্যাখ্যা
(৫০) বাদশাহ বললেন, “ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো।” সুতরাং যখন দূত ইউসুফের কাছে এলো, ইউসুফ বললেন, “তুমি তোমার প্রভু বাদশাহর কাছে ফিরে যাও এবং তারপর তাকে জিজ্ঞেস করো, সেই নারীদের কি অবস্থা হয়েছে, যারা তাদের হাত কেটেছিলো? নিশ্চয় আমার প্রভু আল্লাহ, তাদের ছলনা সম্পর্কে সবই জানেন।” (১২. ইউসূফ : ৫০)
- ব্যাখ্যা
, হাদিস
(৫১) বাদশাহ মহিলাদেরকে বললেন, “তোমাদের কি অবস্থা হয়েছিলো, যখন তোমরা ইউসুফের আত্মার সংযত হওয়া থেকে তাঁকে ফুসলিয়ে ছিলে?” তারা বললো, “সকল পবিত্রতা আল্লাহর জন্যেই! আমরা তার সম্পর্কে কোনো দোষের কথা জানি না।” আযীযের স্ত্রী জুলেয়খা বললো, “এখন সত্য প্রকাশ হয়েছে, আমিই তাঁর আত্মার সংযত হওয়া থেকে তাঁকে ফুসলিয়ে ছিলাম। নিশ্চয় ইউসুফ সত্যবাদী।” (১২. ইউসূফ : ৫১)
- ব্যাখ্যা
(৫২) তখন ইউসুফ বললেন “এটি এজন্যে যাচাই করা হলো, যেনো আযীয জানতে পারেন যে, আমি গোপনে তার প্রতি বিশ্বাস-ঘাতকতা করিনি। নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্বাস-ঘাতকদের প্রতারণাকে সফল হতে দেন না।” (১২. ইউসূফ : ৫২)
- ব্যাখ্যা