(৩১) সুতরাং যখন জুলেয়খা তাদের চক্রান্ত শুনলো, তখন সে তাদেরকে বার্তা প্রেরণ করে ডেকে পাঠালো এবং তাদের জন্যে গদির আসন বিশিষ্ট একটি ভোজ সভার আয়োজন করলো। সে তাদের প্রত্যেককে একটি করে ছুরি দিলো ও বললো, “হে ইউসুফ! তুমি কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসো ও এদের সামনে উপস্থিত হও।” সুতরাং যখন তারা তাঁকে দেখলো, তাঁকে অতুলনীয় ভাবলো এবং তাদের নিজেদের হাত কেটে ফেললো। তারা বললো, “সকল পবিত্রতা আল্লাহরই জন্যে! এ তো কোনো মানুষ নয়। এ তো একজন সম্মানিত ফেরেশতা ব্যতীত অন্য কিছুই নয়।” (১২. ইউসূফ : ৩১)
- ব্যাখ্যা
(৩২) জুলেয়খা বললো, “সুতরাং তোমরা ইউসুফকে চেয়ে দেখো, এ সেই ব্যক্তি, যার সম্পর্কে তোমরা আমাকে নিন্দা করেছো। আমি অবশ্যই ইউসুফের আত্মার সংযত হওয়া থেকে তাঁকে ফুসলিয়ে ছিলাম, কিন্তু সে নিজেকে সংযত রেখেছিলো। আমি তাকে যা আদেশ করি, তা যদি সে না করে, তবে সে অবশ্যই কারারুদ্ধ হবে এবং অবশ্যই সে লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (১২. ইউসূফ : ৩২)
- ব্যাখ্যা
(৩৩) ইউসুফ বললেন, “হে আমার প্রভু! যার প্রতি তারা আমাকে আহবান করে, তার চেয়ে কারাগারই আমার কাছে অধিক প্রিয়। তুমি যদি আমার উপর থেকে তাদের চক্রান্তকে দূর না করো, তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বো। ফলে আমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো।” (১২. ইউসূফ : ৩৩)
- ব্যাখ্যা
(৩৪) অতএব ইউসুফের প্রভু আল্লাহ তাঁর প্রতি সাড়া দিলেন। আর তাঁর কাছ থেকে তাদের চক্রান্তকে দূর করে দিলেন। নিশ্চয় আল্লাহ হচ্ছেন সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (১২. ইউসূফ : ৩৪)
- ব্যাখ্যা
(৩৬) ইউসুফের সঙ্গে কারাগারে দুইজন যুবক প্রবেশ করেছিলো। তাদের একজন বললো, “নিশ্চয় আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মদ নিংড়ে বের করছি।” আর অন্যজন বললো, “নিশ্চয় আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি আমার মাথার উপরে রুটি বহন করছি। তা থেকে পাখীরা ঠুকরিয়ে খাচ্ছে। আমাদেরকে এ স্বপ্নের তাৎপর্য বলুন। নিশ্চয় আমরা আপনাকে সৎকর্মশীল দেখতে পাচ্ছি।” (১২. ইউসূফ : ৩৬)
- ব্যাখ্যা
(৩৭) ইউসুফ বললেন, “কারাগারে যে খাদ্য তোমাদেরকে খেতে দেওয়া হয়, সেই খাদ্য তোমাদের কাছে এসে পৌঁছাবার আগেই আমি তোমাদেরকে এ স্বপ্নের তাৎপর্য বলে দিবো। এ জ্ঞান হচ্ছে তা থেকে, যা আমার প্রভু আমাকে শিখিয়েছেন। নিশ্চয় আমি ঐসব লোকদের ধর্ম পরিত্যাগ করেছি, যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে না এবং যারা পরকালের প্রতি অবিশ্বাসী। (১২. ইউসূফ : ৩৭)
- ব্যাখ্যা