(৩৪) আপনি বলুন, “তোমাদের অংশীদের মধ্যে কেউ কি এমন আছে, যে দেবতা কোনো কিছুর সৃষ্টির সূচনা করতে পারে, এরপর তার মৃত্যুর পরে তাকে পুনরায় অস্তিত্ব দান করতে পারে?” আপনি বলুন, “আল্লাহই সর্ব প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেন, এরপর তার মৃত্যুর পরে তাকে পুনরায় অস্তিত্ব দান করেন। সুতরাং তোমরা কোথায় ঘুরপাক খাচ্ছো?” (১০. ইউনুস : ৩৪)
- ব্যাখ্যা
(৩৫) আপনি বলুন, “তোমাদের অংশীদের মধ্যে কেউ কি এমন আছে, যে দেবতা সত্যের পথ দেখায়?” আপনি বলুন, “আল্লাহই সত্যের পথ দেখান। সুতরাং যিনি সত্যের পথ দেখান, তিনি কি অনুসরণের বেশি হকদার; না কি যে দেবতা পথপ্রাপ্ত হয় না, যদি না তাকে পথ দেখানো হয়, এমন দেবতা অনুসরণের বেশি হকদার? সুতরাং তোমাদের কি হয়েছে? কিভাবে তোমরা বিচার করো?” (১০. ইউনুস : ৩৫)
- ব্যাখ্যা
(৩৬) তাদের মধ্যে অধিকাংশ ব্যক্তিই অনুমান অনুসরণ করে। নিশ্চয় সত্যের বিপরীতে অনুমান কোনো উপকারে আসে না। নিশ্চয় আল্লাহ ঐ সম্পর্কে ভালো করেই জানেন, যা কিছু তারা করে। (১০. ইউনুস : ৩৬)
- ব্যাখ্যা
(৩৭) এই কুরআন এমন নয় যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তা রচনা করতে পারে। বরং এ কুরআন সমর্থন করে ঐ সকল গ্রন্থের, যা এর পূর্বে ছিলো। এ কুরআন লাওহে মাহফূজে রক্ষিত গ্রন্থের এক বিস্তারিত বর্ণনা। এর মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ কুরআন বিশ্বজগতের প্রভু আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (১০. ইউনুস : ৩৭)
- ব্যাখ্যা
(৩৮) অথবা তারা কি বলে যে, “মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কুরআন রচনা করেছেন?” আপনি বলুন, “তাহলে তোমরা এ কুরআনের মতো একটি সূরা নিয়ে এসো। যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে এ কাজের জন্যে তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে পারো সাহায্যকারী হিসেবে ডেকে নাও।” (১০. ইউনুস : ৩৮)
- ব্যাখ্যা
(৩৯) বরং কুরআনের মধ্যে যে বিষয়ের জ্ঞান তারা আয়ত্ত্ব করতে পারেনি, সেই বিষয়কে তারা মিথ্যা বলে। অথচ এখনো সেই বিষয়ের বিশ্লেষণ তাদের কাছে আসেনি। এইভাবে ওরাও মিথ্যা বলেছিলো, যারা তাদের পূর্বে ছিলো। সুতরাং আপনি লক্ষ্য করে দেখুন, জালেমদের পরিণাম কেমন হয়েছে। (১০. ইউনুস : ৩৯)
- ব্যাখ্যা
(৪০) তাদের মধ্যে অনেকে এমন আছে, যে ব্যক্তি এ কুরআনের প্রতি বিশ্বাস করে এবং তাদের মধ্যে অনেকে এমন আছে, যে ব্যক্তি এ কুরআনের প্রতি বিশ্বাস করে না। আপনার প্রভু গন্ডগোল সৃষ্টিকারীদেরকে ভালো ভাবেই জানেন। (১০. ইউনুস : ৪০)
- ব্যাখ্যা
(৪১) তারা যদি আপনাকে মিথ্যাবাদী বলে, তাহলে আপনি তাদেরকে বলুন যে, “আমার জন্যে আমার কাজের পরিণতি ও তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজের পরিণতি। তোমরা ঐ বিষয় থেকে দায়মুক্ত, যা আমি করি। আর আমিও ঐ বিষয় থেকে দায়মুক্ত, যা তোমরা করো।” (১০. ইউনুস : ৪১)
- ব্যাখ্যা
(৪২) তাদের মধ্যে অনেকেই এমন আছে, যে ব্যক্তি আপনার কথা শুনতে আপনার প্রতি কান পাতে। সুতরাং আপনি কি বধিরকে শুনাতে পারবেন, যদিও তারা এমন হয় যে, তারা কুরআনকে বুঝতে পায় না? (১০. ইউনুস : ৪২)
- ব্যাখ্যা