(২১) যখন মানুষকে কোনো কষ্ট স্পর্শ করার পরে, আমি তাদেরকে করুণা করি, তখন তারাই আমার নিদর্শন সমূহের ব্যাপারে চালাকি করে। আপনি বলুন, “আল্লাহ সবচেয়ে দ্রুত চালাকি করতে সক্ষম।” নিশ্চয় তোমরা যা চালাকি করো, আমার ফেরেশতারা ঐ সমস্ত চালাকি লিখে রাখে। (১০. ইউনুস : ২১)
- ব্যাখ্যা
(২২) তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদেরকে স্থলে ও সাগরে ভ্রমণ করান। এমনকি যখন তোমরা জাহাজের মধ্যে থাকো আর জাহাজ অনুকুল হাওয়ায় যাত্রা করে আর মানুষ ভ্রমণে আনন্দিত হয়, এমন সময় জাহাজে তীব্র বাতাস এসে পড়ে আর তাদের কাছে প্রত্যেক দিক থেকে ঢেউ আসতে থাকে আর তারা মনে করে যে, তারা বাতাসের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন তারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে তাঁকে ডাকে ও বলে যে, “হে আল্লাহ! আপনি যদি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তবে আমরা অবশ্যই আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ হবো।” (১০. ইউনুস : ২২)
- ব্যাখ্যা
(২৩) তারপর আল্লাহ যখন তাদেরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তখন তারাই অন্যায় ভাবে পৃথিবীতে অবাধ্যতা করতে থাকে। ওহে মানব জাতি! নিশ্চয় তোমাদের অবাধ্যতা কেবল মাত্র তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই, বস্তুত পার্থিব জীবন হচ্ছে সামান্য উপভোগ মাত্র। তারপর আমার কাছেই তোমাদের সকলকে ফিরে আসতে হবে, তখন আমি তোমাদেরকে ঐ সম্পর্কে জানিয়ে দিবো, যা কিছু তোমরা করছিলে। (১০. ইউনুস : ২৩)
- ব্যাখ্যা
(২৪) পার্থিব জীবনের তুলনা হচ্ছে বৃষ্টির ন্যায়, যে বৃষ্টিকে আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি। তখন তা মাটিতে সংমিশ্রিত হয় ও ঐ বৃষ্টির দ্বারা পৃথিবীর গাছপালা বাড়ে, যে গাছপালা থেকে মানুষ ও জীবজন্তু খেয়ে থাকে। এমনকি যখন পৃথিবী তার সোনালী শোভা ধারণ করে ও সৌন্দর্যে ভরে উঠে আর এর মালিকেরা ভাবে যে, এগুলো তাদের আয়ত্ত্বাধীন। তখন রাতে অথবা দিনে আমার আদেশ গাছপালার উপরে এসে পড়ে। ফলে আমি গাছপালাকে কাটা শস্যের মতো করেদেই। যেনো গতকালও এখানে গাছপালার কোনো অস্তিত্বই ছিলো না। এইভাবে আমি নিদর্শন সমূহ ঐ জাতির জন্যে বিস্তারিত বর্ণনা করি, যারা আমার বাণী সম্পর্কে চিন্তা করে। (১০. ইউনুস : ২৪)
- ব্যাখ্যা