(১৫০) যখন মূসা ত্রুদ্ধ ও অনুতপ্ত অবস্থায় তাঁর জাতির কাছে ফিরে এলেন, তখন মূসা বললেন, “আমার অনুপস্থিতিতে, তোমরা আমার খুবই নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্ব করেছো! তোমরা কি এতটা তাড়াহুড়া করলে যে, তোমরা তোমাদের প্রভুর আদেশের অপেক্ষা করলে না?” আর মূসা ফলকগুলো ফেলে দিলেন ও তাঁর নিজের দিকে তাঁর ভাইয়ের মাথার চুল ধরে টেনে আনলেন। মূসার ভাই হারূন বললেন, “হে আমার সহোদর ভাই! নিশ্চয় লোকেরা আমাকে দুর্বল মনে করলো ও তারা আমাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিলো। সুতরাং তুমি আমার প্রতি শত্রুদেরকে আনন্দিত করো না। আর তুমি আমাকে অন্যায়কারী জাতির সঙ্গে দলভুক্ত করো না।” (৭. আল আরাফ : ১৫০)
- ব্যাখ্যা
(১৫১) মূসা বললেন, “হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করুন। আপনি আমাদেরকে আপনার দয়ার মধ্যে দাখিল করুন। কেননা আপনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।” (৭. আল আরাফ : ১৫১)
- ব্যাখ্যা
(১৫২) আল্লাহ বললেন, নিশ্চয় যারা বাছুরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে, শীঘ্রই তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে ক্রোধ ও পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা তাদেরকে পাকড়াও করবে। এইভাবেই আমি মিথ্যা রচনাকারীদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি। (৭. আল আরাফ : ১৫২)
- ব্যাখ্যা
(১৫৩) আর যারা মন্দ কাজ করে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, সুতরাং আপনার প্রভু এ মন্দ কাজের পরেও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। (৭. আল আরাফ : ১৫৩)
- ব্যাখ্যা
(১৫৪) যখন মূসার কাছ থেকে রাগ পড়ে গেলো, তখন মূসা ফলকগুলো তুলে নিলেন। যারা তাদের প্রভু আল্লাহকে ভয় করে, তাদের জন্যে ঐ ফলকগুলোর মধ্যে পথ-নির্দেশ ও রহমতের বিষয় সমূহ লিখা ছিলো। (৭. আল আরাফ : ১৫৪)
- ব্যাখ্যা
(১৫৫) মূসা তাঁর জাতির মধ্যে থেকে সত্তর জন লোককে আমার প্রতিশ্রুত সময়ের জন্যে বাছাই করলেন। সুতরাং যখন ভূমিকম্প তাদেরকে পাকড়াও করলো, তখন মূসা বললেন, “হে আমার প্রভু! আপনি যদি ইচ্ছা করতেন, তবে এর আগেই আপনি তাদেরকে ও আমাকেও ধ্বংস করতে পারতেন। আপনি কি আমাদেরকে ঐ অপরাধের কারণে ধ্বংস করবেন, যে অপরাধ আমাদের মধ্যে নির্বোধরা করেছে? এ নিশ্চয় আপনার পরীক্ষা ব্যতীত অন্য কিছুই নয়। এর দ্বারা আপনি যাকে ইচ্ছা বিপথগামী করেন ও যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন ও আপনি আমাদের প্রতি দয়া করুন। কেননা আপনিই সর্বোত্তম ক্ষমাশীল। (৭. আল আরাফ : ১৫৫)
- ব্যাখ্যা