(১৪৪) আল্লাহ বললেন, “হে মূসা! নিশ্চয় আমি আমার বাণী প্রেরণের মাধ্যমে ও আমার কথা বলার মাধ্যমে সকল মানুষের উপরে তোমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। সুতরাং আমি তোমাকে যে বিধান দিয়েছি, তুমি ঐ বিধানকে শক্তভাবে ধারণ করো। আর তুমি কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও।” (৭. আল আরাফ : ১৪৪)
- ব্যাখ্যা
(১৪৫) আমি মূসার জন্যে তাওরাতের মধ্যে সর্বপ্রকার উপদেশ ও সব কিছুর ব্যাখ্যা লিপিবদ্ধ করেছিলাম। এবং আমি বলেছিলাম যে, “সুতরাং তুমি তাওরাতকে শক্তভাবে ধারণ করো। আর তোমার জাতিকে তাওরাতের কল্যাণকর বিষয় সমূহ পালন করতে নির্দেশ দাও। আমি শীঘ্রই তোমাদেরকে অবাধ্যদের বাসস্থান দেখাবো।” (৭. আল আরাফ : ১৪৫)
- ব্যাখ্যা
(১৪৬) যারা দেশের মধ্যে অন্যায় ভাবে অহঙ্কার করে, শীঘ্রই আমি তাদেরকে আমার নিদর্শন সমূহ থেকে বিমুখ করে রাখবো। যদিও তারা প্রত্যেকটি নিদর্শন দেখতে পায়, তবুও তারা এ নিদর্শন সমূহের প্রতি বিশ্বাস করবে না। যদি তারা সঠিক পথের দেখা পায়, তবে তারা সেই পথ গ্রহণ করবে না। আর যদি তারা ভ্রান্ত পথের দেখা পায়, তবে তারা সেই পথ গ্রহণ করবে। এটি এজন্যে যে, তারা আমার নিদর্শন সমূহকে মিথ্যা বলেছে আর তারা এই নিদর্শন সমূহ সম্পর্কে উদাসীন ছিলো। (৭. আল আরাফ : ১৪৬)
- ব্যাখ্যা
(১৪৭) যারা আমার নিদর্শন সমূহের প্রতি ও পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলেছিলো, সুতরাং তাদের সকল কর্ম সমূহ ধ্বংস হয়ে গেছে। যে অপরাধ তারা করেছিলো, ঐ কারণে তাদের কর্ম সমূহকে ধ্বংস করা ব্যতীত তাদেরকে আর কি প্রতিফল দেওয়া যায়? (৭. আল আরাফ : ১৪৭)
- ব্যাখ্যা
(১৪৮) মূসার জাতি তাঁর অনুপস্থিতিতে তাদের নিজেদের অলঙ্কার দিয়ে নির্মীত একটি বাছুরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করলো। যা ছিলো একটি প্রাণহীন দেহ, যার মধ্যে থেকে গরুর মতো ‘হাম্বা হাম্বা’ শব্দ হতো। তারা কি দেখলো না যে, এটি তো তাদের সঙ্গে কথা বলে না ও তাদেরকে সৎ পথেও পরিচালিত করে না? অথচ তারা এটিকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করলো। বস্তুত তারা ছিলো অন্যায়কারী জাতি। (৭. আল আরাফ : ১৪৮)
- ব্যাখ্যা
(১৪৯) যখন তাদের কাছে বিপদ এসে পড়লো, তখন তারা অনুতপ্ত হলো এবং তারা দেখলো যে, তারা অবশ্যই বিপথে চলে গেছে। তখন তারা বললো, “যদি আমাদের প্রভু আমাদের প্রতি দয়া না করেন ও আমাদেরকে ক্ষমা না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবো।” (৭. আল আরাফ : ১৪৯)
- ব্যাখ্যা