তিনি আবু মান বা সাদ বা উমর এর কুনিয়াতের সাথে পরিচিত। তিনি মিশরে মুসলিমদের বিজয়ে অংশ নিয়েছিলেন। বিজয়ের পরে এবং তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মিশরে থেকে গেছেন। তিনি তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফফানের অনুগামী ছিলেন এবং উসমানের হত্যার পরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামাতা আলীর উত্তরাধিকারে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছিলেন। ফলস্বরূপ তিনি মুয়াবিয়া ইবনে হুদায়জের নেতৃত্বে উসমানপন্থী দলের অন্যতম নেতা ছিলেন এবং ৬৫৭ সালে সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া ইবনে আবী সুফিয়ানের পুনর্নির্বাচিত আদেশ না হওয়া পর্যন্ত গভর্নর মুহাম্মদ ইবনে আবু হুদায়ফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন। ৬৫৮ সালে, মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের নেতৃত্বে আলী এবং সিরিয়া ভিত্তিক উমাইয়াদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি যখন প্রকাশ্য হয়ে ওঠে, তিনি আলি মোহাম্মদ ইবনে আবি বকরকে মিশরের গভর্নর হিসাবে নিয়োগের বিরোধিতা করেন এবং সম্ভবত তিনি সিরিয়ার আগ্রাসনে আমর ইবনে আল-আস এর অধীনে অংশ নিয়েছিলেন। যার ফলে সে বছরের গ্রীষ্মে ইবনে আবী বকরের পরাজয়, ধরা পড়া এবং ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল।
আরো দেখুনমাহজা ইবনে সালেহ (প্রতিবর্ণীকৃত: মাহজায়া বিন সালিহ) তাঁকে বদর যুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তার পিতার নাম সালেহ। তিনি বন্দি দাস হিসেবে আরবে আসেন। পরবর্তীতে উমর তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দেন। এ কারণে মাহজাকে মাহজা মাওলা উমর ফারুক বা মাহজা মাওলা উমর ইবনুল খাত্তাব (অর্থাৎ, উমরের অনুগত বা বিশ্বস্ত মাহজা) বলা হয়। তিনি ছিলেন মক্কা থেকে মদিনায় হিযরতকারী মুহাজির সাহাবিদের একজন।
আরো দেখুন তিনি অন্যতম ওহী লেখক ছিলেন। মুয়ায বনু খাজরাজের আনসার ছিলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত থাকাকালীন পাঁচ জন সঙ্গীর সাথে কুরআন সংকলন করেছিলেন।
মুয়ায ইবনে জাবালকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়েমেনে সেখানকার লোকদের ইসলাম শিক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলেন। তিনি যখন ফিরে আসেন তখন আবু বকর খলিফা দায়িত্ব পালন করছিলেন। এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দশটি উপদেশ দিয়েছিলেন যেগুলো তার জীবনীতে বর্ণনা হয়েছে।
তিনি উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। মিহরায ইবনে নাদলা এর মূলনাম মিহরায এবং ডাকনাম আবু ফাদলাহ। তবে তিনি আখরাম আল আসাদী উপাধিতে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তার পিতার নাম নাদলা।
আরো দেখুনতিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাতনী উমামা বিনতে আবিল আসকে বিবাহ করেছিলেন। এই ঘরে ইয়াহইয়া নামে একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এই জন্য মুগীরা, আবু ইয়াহইয়া নামেও পরিচিত ছিলেন। মুগীরা ইবনে নাওফালের পিতার নাম নাওফাল ইবনে আল হারিস এবং মাতার নাম যাওজে দাদার নাম আল হারিস ইবনে আবদুল মুত্তালিব।
আরো দেখুনউমর ইবনে খাত্তাবের আদেশে মুগীরা বাহরাইন, বসরা এবং কুফার গভর্নর নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে আমীরে মুয়াবীয়ার শাসনকালে তিনি কুফার গভর্নর পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। মসজিদে আল-কুফায় মুগীরা আলী ইবনে আবু তালিব এবং তার শিয়াদের অভিশাপ দিয়েছিলেন। উমর ইবনে খাত্তাবের হত্যাকারী আবু ললু ছিলেন মুগীরার একজন দাস। মুগীরা ইবনে শুবা বিন আবু আমীর বিন মাসুদ ছিলেন সাকিফ উপজাতির এক সদস্য। আবু ইসা অথবা আবু আব্দুল্লাহ্ মুগীরার উপনাম ছিল। আল-মুগীরা একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি হিসেবে বর্ণিত।
আরো দেখুনতিনি মুসআব আল খায়ের নামেও পরিচিত। ৬১৪ সালে তরুন বয়সেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি কুরাইশ বংশের বনু আব্দুর দার শাখায় জন্মগ্রহণ করেন। মুসআবের পিতা উমাইর ইবনে হাশিম এবং মাতা খুন্নাস বিনতে মালিক। তারা পিতামাতা বিত্তশালী ছিলেন। তরুন বয়সেই তিনি কুরাইশ বংশের বড়দের জমায়েতে অংশগ্রহণের জন্যে অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন।
আরো দেখুনতিনি আবু বকর আস-সিদ্দিকের পুত্র ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন আসমা বিনতে উমাইস, যিনি আবু বকরের সাথে দ্বিতীয় বিবাহের আগে জাফর ইবনে আবী তালিবের বিধবা ছিলেন। তিনি চতুর্থ খলিফা আলীর দত্তক পুত্র ছিলেন এবং শিয়া মুসলিমদের নিকট অত্যন্ত সম্মানীয় ব্যাক্তি। আবু বকর মারা গেলে আসমা বিনতে উমাইস আলী বিন আবি তালিবকে বিয়ে করেন। মুহাম্মদ ইবনে আবু বকরের একটি পুত্র ছিলো যার নাম ছিল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ।
আরো দেখুনইমাম মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আবি আমির আল-আসবাহি একজন বিখ্যাত হাদিস বিশারদ এবং ফিকহের অত্যন্ত সম্মানিত পণ্ডিতদের একজন ছিলেন। তিনি মুসলমানদের প্রধান চার ইমামের একজন। মালেকী মাযহাব তারই প্রণীত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। তার সংকলিত মুয়াত্তা বিখ্যাত এবং প্রাচীনতম হাদীসগ্রন্থ।
আরো দেখুনতিনি ছিলেন প্রাক-ইসলামিক সময়ে বাহরাইন ও নজদের মধ্যবর্তী উত্তরপূর্ব আরব অঞ্চলের বনু তামিম গোত্রের বনু ইয়ারবু নামক উপগোত্রের সর্দার। ইসলাম আগমনের পূর্বে গোত্রটি পৌত্তলিক ছিল। মালিকের গোত্রের কেন্দ্রীয় কার্যস্থলের নাম ছিল বুতাহ। দানশীলতা ও অতিথিপরায়ণতার জন্য সুপরিচিত মালিকের সম্পর্কে বলা হতো যে তিনি সারারাত বাড়ির বাইরে একটি বাতি জ্বালিয়ে রেখে দিতেন যেন কোন পথচারী মুসাফির জানতে পারে কোথায় তাকে আশ্রয় ও খাবারের খোঁজে যেতে হবে। রাতে তিনি ওই বাতিটি পরখ করতে বাইরে যেতেন। তিনি অত্যন্ত ঘন চুলবিশিষ্ট এক সুদর্শন যুবক ছিলেন যার সম্পর্কে বলা হতো যে তিনি চাঁদের মত সুন্দর। তিনি অস্ত্র ব্যবহারে পারদর্শী ছিলেন, নিজ সাহস ও বীরত্বের জন্য পরিচিত ছিলেন, এবং একজন জনপ্রিয় কবি ছিলেন। সাহসিকতা, দানশীলতা এবং কবিত্ব সে সময়ে আরবের সবচেয়ে প্রশংসনীয় গুণাবলি ছিল। তিনি লায়লা বিনতে মিনহালকে বিয়ে করেন যিনি সে সময়ে আরবের অন্যতম সুন্দরী মহিলা বলে কথিত ছিলেন।
আরো দেখুনউপনাম যায়েদ বিন হারিসা। তাঁর উপাধি হিববু রাসূলিল্লাহ (রাসূলুল্লাহর প্রীতিভাজন), তিনি ছিলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পালিত পুত্র। তিনিই একমাত্র সাহাবি যার নাম আল-কুরআনে এসেছে। যায়েদ সম্পর্কে বলা হয় তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ১০ বছরের ছোট। তিনি মধ্য আরবে বনু-কালব গোত্রের উধ্রা বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
আরো দেখুন যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল ছিলেন একজন একেশ্বরবাদী যিনি ইসলাম আগমনের কিছুদিন পূর্বে মক্কায় মারা যান। তিনি ছিলেন কুরাইশ গোত্রের আদি গোত্রের সদস্য আমর ইবনে নুফাইলের পুত্র। জায়েদের মায়ের আগে তার দাদা নুফাইল ইবনে আবদুলুজ্জার সাথে বিয়ে হয়েছিল, তাই এই বিয়ে থেকে তার ছেলে আল-খাত্তাব ইবনে নুফাইল একই সাথে জায়েদের সৎ ভাই এবং সৎ-চাচা ছিলেন।
যায়েদ খুজাআ গোত্রের ফাতিমা বিনতে বাজাকে বিয়ে করেন এবং তাদের পুত্র ছিলেন সাঈদ ইবনে যায়িদ। পরবর্তী স্ত্রী, উম্মে কুরজ সাফিয়া বিনতে আল-হাদরামি, তার কন্যা আতিকার জন্ম দেন।
তিনি আবু বকর কর্তৃক মুক্ত করে দেয়া দাসীদের একজন ছিলেন। যুনাইরাহ বনু মাখজুম গোত্রের একজন উপপত্নী ছিলেন এবং উমর এর দাসী ছিলেন। তিনি মক্কায় ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রথম ছিলেন। তার ইসলাম গ্রহণের খবর শুনে আবু জাহল তাকে মারধোর করে। আবু বকর তাকে তার সঙ্গীসহ কিনে মুক্ত করে দেন।
জুনাইরাহ তার চোখের দৃষ্টিশক্তি হারালে কুরাইশগণ বলাবলি করতে থাকে যে আল-লাত এবং আল-উজ্জা তার দৃষ্টি শক্তি কেড়ে নিয়েছে। তখন সে উত্তর করে, “না, আল্লাহর ঘরের নামে, তোমরা মিথ্যা বলছো। আল লাত ও আল উজ্জা ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না। তারা আমার কিছু করেনি। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে।” পরবর্তীকালে সে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। তখন কুরাইশরা বলাবলি করতে থাকে “এটা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন জাদু।” (নাউজুবিল্লাহ)
উপনাম: আবু ওমর। তিনি খাজরাজ উপজাতির অন্তর্ভুক্ত। বংশধারা: যায়েদ ইবনে আরকাম ইবনে যায়েদ ইবনে কায়েস ইবনে নুমান ইবনে মালিক আগার ইবনে সালাবা ইবনে কাব ইবনে খাজরাজ ইবনে হারিস ইবনে খাজরাজ আকবার।
আরো দেখুনউম্মু আল মিসকিন, "গরীবদের মা" হিসাবে পরিচিত, আরবের সুলাইম গোত্রের মেয়ে। তার প্রথম স্বামীর নাম আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ। তিনি তৃতীয় হিজরির শাওয়াল মাসের ৭ তারিখে সংঘটিত উহুদের যুদ্ধে শহিদ হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জয়নবকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। জয়নব প্রস্তাবে সম্মত হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ৪০০ দিরহাম মোহরানা দিয়ে এ বছরই জিলহজ্জ মাসের শেষদিকে বিয়ে করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সঙ্গে বিয়ে হওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে জান্নাতুল বাকিতে সমাহিত করা হয়।
আরো দেখুনতিনি মাক্কি যুগে প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে একজন। জাহিলি যুগে তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সত্য বলে সাক্ষ্য দান করেন। যিমাদের পুরো নাম যিমাদ বিন ছালাবা আযদি। যিমাদ ছিলেন ইয়েমেনের আযদ শানুয়া গোত্রের লোক। তবে কেউ বলেন, সাঈদ বিন বকর গোত্রের। তিনি জাহিলি যুগে বাতাসে অমঙ্গলের ঝাড়ফুঁক করতেন। কেউ বলেন, জিন-ভূতের সমস্যাদির জন্যও ঝাড়ফুঁক করতেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন চিকিৎসাদিও করতেন।
আরো দেখুনতিনি বনু হারেসার গোত্রপ্রধান ছিলেন। নাম: রাফে। উপনাম: আবু আবদুল্লাহ। তিনি আউস গোত্রের। বংশধারা: রাফে ইবনে খাদিজ ইবনে রাফে ইবনে আদী ইবনে যায়েদ জাসম ইবনে হারেসা ইবনে হারেস ইবনে খাজরায ইবনে আমর ইবনে মালিক ইবনে আউস। মাতা: হালিমা বিনতে উরওয়া ইবনে মাসউদ ইবনে সিনান ইবনে আমের ইবনে আদী ইবনে উমাইয়া ইবনে বায়াদাহ। রাফের পিতা, পিতামহ বনু হারেসার সরদার ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তার উপর ন্যস্ত হয় বনু হারেসার নেতৃত্বের ভার। তিনি জীবনভর সেই পদে বহাল ছিলেন। হিজরতের সময় তিনি ছোট ছিলেন।
আরো দেখুন তিনি ছিলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাতো ভাই এবং সহচর। তিনি মক্কার কুরাইশ বংশের হাশিম গোত্রের আল-হারিস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের পুত্র ছিলেন।
তিনি তার চাচাতো বোন উম আল-হাকাম বিনতে আল-জুবায়েরকে বিয়ে করেন এবং তাদের দশটি সন্তান ছিল।
১. মুহাম্মদ
২. আব্দুল্লাহ
৩. আব্বাস। তার আব্দুল রেহমান নামে একটি পুত্র সন্তান ছিল, যাকে আহমেদ পুর সিয়াল, ঝাং-এ সমাহিত করা হয়েছিল।
৪. আরেক পুত্র আব্দুল্লাহ যিনি মদিনা থেকে হালাব (দামেস্ক) এ চলে আসেন।
৫. আল হারিস
৬. আব্দুর শামস
৭. আব্দুলমুত্তালিব, যিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছিলেন এবং সিরিয়ায় বসতি স্থাপন করেছিলেন।
৮. উমাইয়া
৯. আরেক পুত্র যাকে আদম,তাম্মাম বা ইয়াস নামে ডাকা হতো।
১০. আরওয়া
উম্মে হাবিবা নামে অধিক পরিচিত। তিনি ছিলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী এবং উম্মুল মুমিনিন (মুমিনদের মা)। তিনি ছিলেন আবু সুফিয়ান ইবনে হার্ব এবং সাফিয়া বিনতে আবি আল-আস এর কন্যা। উম্মে হাবিবা প্রাথমিক জীবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহাশের স্ত্রী ছিলেন। উবায়দুল্লাহ হাবশায় হিজরতের পর ইসলাম পরিত্যাগ করলে তাদের বিবাহ বিছিন্ন হয়ে যায়।
আরো দেখুনতিনি ছিলেন বনু নাদির গোত্রের একজন ইহুদী নারী। তিনি বনু কুরায়জার আব্দুল হাকেমকে বিয়ে করেছিলেন। বনু কুরায়জা, বনু কুরায়জা অবরোধের পর হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহিস সাল্লামের সৈন্যদের দ্বারা পরাজিত হওয়ার পর হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহিস সাল্লাম তাঁকে বিয়ে করেন।
আরো দেখুনতিনি ছিলেন প্রথম মহিলা মুসলিম সেবিকা হিসাবে স্বীকৃত একজন মুসলিম নার্স, শল্যচিকিৎসক এবং সমাজ কর্মী। রুফাইদা আহতদের সেবায় মসজিদে একটি তাঁবু করেছিলেন, খন্দকের যুদ্ধে সাদ বিন মুয়াজ বনু মখজুম গোত্রের আবু ওসামা জাশমী কর্তৃক নিক্ষিপ্ত একটি তীর দ্বারা আহত হন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন তাকে দ্রুত রুফাইদার তাঁবুতে নিয়ে যাও। খাইবার যুদ্ধে আহত মুসলিম মুজাহিদদের সুস্থ করতে তিনি মাতৃত্বের মমতাময়ী হাত বাড়িয়ে দেন। তার এই অবিস্মরণীয় কুরবানী এবং সেবা-শুশ্রূষার স্বীকৃতি স্বরূপ রাসূল পুরুষ মুজাহিদদের সাথে তাকেও গনিমতের মালের হিস্যা দেন।
আরো দেখুনতিনি ছিলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের কন্যা। তিনি প্রথমে উতবাহ ইবনে আবু লাহাবকে বিয়ে করেন কিন্তু তিনি ইসলামে রূপান্তরের পরে তালাকপ্রাপ্ত হন, এরপর তিনি উসমান ইবনে আফফানের এর সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত লাভের ৭ বছর পূর্বে মক্কায় খাদিজার গর্ভে মেঝো মেয়ে রুকাইয়া জন্মগ্রহণ করেন। যুবাইর, মুসআব ও জুরজানির ধারণা মতে, রুকাইয়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছোট মেয়ে। তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদগণ বলেছেন, জয়নাব বড়, আর রুকাইয়া মেঝো মেয়ে। ইবন হিশামের মতে, রুকাইয়া মেয়েদের মধ্যে বড়।
আরো দেখুনতিনি আনাস ইবনে মালিকে(রাঃ)র আম্মা ছিলেন। রুমাইসা বিনতে মিলহান এর ডাকনাম উম্মে সুলাইম। আর এ নামেই তিনি প্রসিদ্ধ লাভ করেছেন। এছাড়াও তার আসল নাম সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে,সেগুলো হলঃ রুমাইসা, সাহলা, রুমাইলা, মুলাইকা। এর মধ্যে রুমাইসা নাম সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। উম্মে সুলাইম মদীনার খাজরাজ গোত্রের সম্ভ্রান্ত শাখা আদি বিন নাজ্জার শাখার মেয়ে। তার পিতার নাম মিলহান ইবনে খালিদ এবং মাতার নাম মুলাইকা বিনতে মালিক।
আরো দেখুনতিনি ছিলেন একজন আরব্য কবি। জন্ম আরবের হাওয়াঝিন গ্রোত্রের অন্তর্গত বানু আমির বংশে। অল্প বয়স থেকে ছিলেন একজন সক্রিয় যোদ্ধা। তার কবিতার বিষয়বস্তু ছিল মুলত সে সময়কার আন্ত:গ্রোত্রীয় বিরোধ।
আরো দেখুনএকজন নারী মুসলিম বিশ্বাসী যিনি মালিক ইবনে নুয়ায়রাহর স্ত্রী। লায়লা আল মিনহালের কন্যা ছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি উম্মে তামিম নামেও পরিচিতি পান। তাকে সে সময়ের আরবের সবচেয়ে সুন্দরী নারীদের মধ্যে একজন হিসেবে গণ্য করা হতো। যখন তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হলেন, বহু পুরুষ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তিনি সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেন। অবশেষে, মালিক ইবনে নুয়ায়রাহর সাথে তার পরিচয় হয় এবং তাকেই তিনি বিয়ে করেন।
আরো দেখুনতিনি উম্মে ফাদল নামে অধিক পরিচিত ছিলেন। ইনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একাধিক সম্পর্কে আত্মীয়া ছিলেন। তার দুই বোন মায়মুনা বিনতে আল-হারিস ও জয়নব বিনতে খুযায়মাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিবাহ করেছিলেন। অপরদিকে তার চাচা আব্বাস উম্মে ফাদলকে বিয়ে করেছিলেন। সেই ক্ষেত্রে উম্মে ফাদল ছিলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচি। লুবাবা বিনতে আল হারিসের অনেকগুলো সহোদর, বৈপিত্রেয় ও বৈমাত্রেয় ভাই-বোন ছিলেন এই জন্য তিনি ইতিহাসে খ্যাত হয়ে রয়েছেন।
আরো দেখুনতিনি আবু বকর কর্তৃক মুক্তিপ্রাপ্ত দাসদের একজন ছিলেন। তিনি কুরাইশের আদি গোত্রের মুয়াম্মিল শাখার মালিকানায় ছিলেন। দাসত্বের ক্ষেত্রে তাঁর সহকর্মী ছিলেন যুনাইরাহ। তারা উভয়ই মক্কায় ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী সাহাবী ছিলেন। ৬১৪ খ্রিস্টাব্দে কুরাইশরা নিম্নবিত্তের মুসলমানদের ইসলাম ত্যাগ করার প্রয়াসে চাপ দেয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে নির্যাতনের কৌশল শুরু করেছিল। উমর আদি গোত্রের সদস্য ছিলেন যিনি লুবায়নাহ্কে নির্যাতন করেছিলেন। একদিন আবু বকর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন ওমর লুবায়নাহ্কে শাস্তি দেওয়ার কাজ করছিলেন। তখন উমর মুসলমান হন নি। তিনি ক্লান্ত না হওয়া অবধি তাকে মারধর করেছিলেন, তখন উমর বলেছিলেন: “আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি বলেই আপনাকে মারধর বন্ধ করেছি।” তিনি জবাব দিলেন, “আল্লাহও আপনার প্রতি একই রকম করুন!” এরপরে আবু বকর কাছে আসলেন এবং উমরের কাছ থেকে লুবায়না কিনে নেন এবং তাকে মুক্ত করে দেন।
আরো দেখুনতিনি ছিলেন হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবা। তার পিতার নাম ছিলো আওস ইবনে সাবিত, তিনিও একজন সাহাবা ছিলেন। তিনি নেক আমল, নৈতিকতা ও আল-শাম সম্পর্কিত হাদিসের বর্ণনার জন্য বিখ্যাত। তিনি তার নিজস্ব বিবৃতিগুলোর জন্যও পরিচিত, যা বেশ কিছু দিক নির্দেশনা সরবরাহ করে।
আরো দেখুনতিনি আরবের একজন সুদর্শন যুবক ছিলেন। তিনি উহুদের যুদ্ধে রাসুলের উপর আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মূলনাম শাম্মাস তবে হিশাম কালবী বলেছেন তার প্রকৃত নাম ছিল উসমান। শাম্মাস অর্থ অতিরিক্ত সূর্য কিরণ বিচ্ছুরণকারী। শাম্মাস ইবনে উসমান এর পিতার নাম উসমান এবং মাতার নাম সাফিয়া বিনতু রাবিয়া। শাম্মাস কুরাইশ গোত্রের বনু মাখযুম শাখার সন্তান।
আরো দেখুন তিনি চর্মরোগ চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। শিফা বিনতে আবদুল্লাহ (রদিআল্লাহু আনহা) কুরাইশ বংশের বনু আদি গোত্রের মহিলা ছিলেন, খলিফা উমর (রদিআল্লাহু আনহু) ও সাহাবী সাঈদ ইবনে যায়িদ (র) ও এই গোত্রের সদস্য ছিলেন। শিফার ডাকনাম উম্মে সুলায়মান। অনেকে বলেছেন, তার আসল নাম লায়লা এবং পরবর্তীতে তার উপাধি আশ-শিফা নামে পরিচিতি লাভ করেন। তার পিতার নাম আবদুল্লাহ ইবনে আবদে শামস, মাতার নাম ফাতিমা বিনতে আবি ওয়াহাব, যিনি একই বংশের আমর ইবনে মাখযুম শাখার কন্যা।
আশ শিফার বিয়ে হয় আবু হুসমা ইবনে হুযায়ফা আল আদাবীর সঙ্গে। এবং এই ঘরে একটি সুলায়মান নামে একটি পুত্র সন্তান ও কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। তার কন্যা প্রখ্যাত সাহাবা শুরাহবিল ইবনে হাসানা (র)-এর স্ত্রী ছিলেন।